- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর ওপর নতুন করে কঠোর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে তেল ও অন্যান্য বাণিজ্যে যুক্ত চীন, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো নতুন মার্কিন পদক্ষেপের আওতায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করতে বড় ধরনের সমন্বিত চাপ তৈরির পরিকল্পনা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের তেল বাণিজ্য। চীন ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় দেশটির ওপর মার্কিন চাপ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহন ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত চীনা প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বেসেন্ট এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টায় মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী—সব দেশকেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হতে পারে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎসগুলোকে সংকুচিত করা এবং দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই কৌশলগত নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। চীনসহ এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। চীনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে। ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর জন্য চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়লে তা ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে ভারতীয় কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু ইরানকে লক্ষ্য করে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা তৃতীয় দেশগুলোর ওপরও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানের অর্থনৈতিক যোগাযোগের পথ সংকুচিত করতে চাইছে। তবে চীন ও ভারতের মতো বড় অর্থনীতিকে একই নীতির আওতায় আনতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রকেও কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন অর্থনৈতিক অভিযান এখন শুধু ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই। চীন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মানুষের কর্মঘণ্টা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে ওয়ালেটহাব। তালিকায় দক্ষিণ ডাকোটা শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে উত্তর ডাকোটা, আলাস্কা, হাওয়াই ও ওয়াইওমিং। ওয়ালেটহাব ১০টি সূচকের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলোকে তুলনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গড় সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা, কর্মসংস্থানের হার, একাধিক চাকরি করা মানুষের সংখ্যা, অব্যবহৃত ছুটির দিন এবং প্রতিদিনের অবসর সময়। সূচকগুলোকে মূলত ‘প্রত্যক্ষ কর্ম-সূচক’ ও ‘পরোক্ষ কর্ম-সূচক’—এই দুই ভাগে বিবেচনা করা হয়েছে। শীর্ষে দক্ষিণ ডাকোটা দক্ষিণ ডাকোটা সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্য হিসেবে প্রথম স্থান পেয়েছে। রাজ্যটির প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মী একাধিক চাকরি করেন, যা সারা দেশের মধ্যে ১১তম সর্বোচ্চ হার। একাধিক চাকরি করার পেছনে আর্থিক প্রয়োজন যেমন থাকতে পারে, তেমনি অতিরিক্ত সময় কাজ করার আগ্রহও এর কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়ালেটহাব। দক্ষিণ ডাকোটা ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী এমন তরুণদের অনুপাতের দিক থেকেও শীর্ষস্থানীয়, যারা কাজ করেন না, পড়াশোনাও করেন না এবং উচ্চমাধ্যমিকের পর আর কোনো শিক্ষা নেননি। তবে রাজ্যটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কর্মসংস্থানের হার। দক্ষিণ ডাকোটায় কর্মসংস্থানের হার প্রায় ৯৮ শতাংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় উত্তর ডাকোটা, তৃতীয় আলাস্কা কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্যের তালিকায় উত্তর ডাকোটা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ওয়ালেটহাবের হিসাবে, সেখানে কর্মসংস্থানের হার ৯৭ শতাংশের বেশি, যা দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ। ১৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মীরা উত্তর ডাকোটায় গড়ে সপ্তাহে ৩৯ দশমিক ৪ ঘণ্টা কাজ করেন। এই হিসাবে অঙ্গরাজ্যটি সারা দেশে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে আলাস্কা সামগ্রিক তালিকায় তৃতীয় হলেও কর্মঘণ্টার দিক থেকে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে ১৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মীরা সপ্তাহে গড়ে ৪১ দশমিক ৪ ঘণ্টা কাজ করেন, যা দেশের সর্বোচ্চ। আলাস্কাই একমাত্র অঙ্গরাজ্য যেখানে গড় সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৪০ ঘণ্টার বেশি। তুলনায় ওয়াশিংটন ডিসিতে গড় কর্মঘণ্টা ৪০ ঘণ্টা। অর্থাৎ আলাস্কার কর্মীরা সপ্তাহে গড়ে আরও ১ দশমিক ৪ ঘণ্টা বেশি কাজ করেন। শীর্ষ পাঁচে হাওয়াই ও ওয়াইওমিং ওয়ালেটহাবের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে হাওয়াই এবং পঞ্চম অবস্থানে ওয়াইওমিং। কর্মঘণ্টা, কর্মসংস্থানের হার, একাধিক চাকরি এবং অবসর সময়সহ বিভিন্ন সূচকে তাদের অবস্থান বিবেচনা করেই সামগ্রিক র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতি কতটা কঠোর? ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, একজন মার্কিন কর্মী বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ঘণ্টা কাজ করেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য উদ্ধৃত করে ওয়ালেটহাব জানিয়েছে, এই সময় জার্মানির কর্মীদের তুলনায় বছরে প্রায় ৪৬৮ ঘণ্টা বেশি, তবে মেক্সিকোর কর্মীদের তুলনায় ৪০৫ ঘণ্টা কম। শুধু কর্মঘণ্টাই নয়, ছুটির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতিতে দীর্ঘ সময় কাজ করার প্রবণতা দেখা যায়। ওয়ালেটহাবের হিসাবে, দেশটির প্রায় অর্ধেক কর্মীই তাদের জন্য বরাদ্দ সব ছুটির দিন ব্যবহার করতে পারবেন বলে মনে করেন না। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, কঠোর পরিশ্রম করা প্রশংসনীয় হলেও সবচেয়ে বেশি কাজ করা অঙ্গরাজ্যগুলোর মানুষের মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত অবসর না থাকলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী ৫ অঙ্গরাজ্য ১. দক্ষিণ ডাকোটা ২. উত্তর ডাকোটা ৩. আলাস্কা ৪. হাওয়াই ৫. ওয়াইওমিং অর্থাৎ, শুধু বেশি ঘণ্টা কাজ করাই নয়—উচ্চ কর্মসংস্থানের হার, একাধিক চাকরি করার প্রবণতা, কম অবসর সময়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আর সেই সামগ্রিক বিচারে দক্ষিণ ডাকোটাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন পণ্য ও সেবা বর্জনের আন্দোলন নতুন করে জোরদার হচ্ছে কানাডায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের পর অনেক কানাডীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও মার্কিন পণ্য না কেনার আহ্বান জানাচ্ছেন। দুই দেশের কয়েক দফা আলোচনার পর গত শুক্রবার বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যায়। এর পরদিন যুক্তরাষ্ট্র কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করে। এর আওতায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্য পড়েছে। জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘটনায় কানাডীয়দের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব আরও তীব্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ভ্যাঙ্কুভারের শিশুমনোরোগ বিশেষজ্ঞ টাইলার ব্ল্যাক বলেন, তাঁর এলাকায় হাঁটতে বের হলে শুল্ক, ট্রাম্প ও কার্নির বাণিজ্যনীতি নিয়ে আলোচনা শুনতে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অনেক কানাডীয় মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আক্রমণাত্মক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ‘বয়কট ইউএসএ’ প্রচারণা আবার সক্রিয় হয়েছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কানাডীয় পণ্য কেনার আহ্বান জানিয়ে পোস্ট, তালিকা ও প্রচারমূলক বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ রাখার কথাও বলছেন। এমনকি ইউরোপের কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীও এই বর্জন কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। কানাডায় মার্কিন পণ্য বর্জনের প্রবণতা অবশ্য নতুন নয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অনেক কানাডীয় মার্কিন পণ্য কেনা কমিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ থেকেও বিরত থেকেছেন। টরন্টোর লেখক টিনা গ্যারেট বলেন, সাম্প্রতিক শুল্ক আরোপের কারণে যারা আগে বর্জন শুরু করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই আবার নতুন করে এতে সক্রিয় হতে পারেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও শুল্কসংঘাতকে জাতীয় ঐক্যের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, কানাডার নিজস্ব সম্পদ ও সক্ষমতা রয়েছে এবং কোনো দেশকে কানাডার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে দেওয়া হবে না। তাঁর সরকার আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যে ডলারের বিপরীতে ডলার হিসেবে পাল্টা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে। এরই মধ্যে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বিভিন্ন রপ্তানি নিয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ২০২৫ সালে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছিল। নতুন মার্কিন শুল্কের প্রভাব পড়ছে কানাডার বিভিন্ন পণ্যে। মধু, প্রসাধনী, ক্রিসমাসের সাজসজ্জার সামগ্রী, হকি সরঞ্জাম, পোশাক, আসবাব, দুগ্ধজাত পণ্যসহ ৫৫০টির বেশি কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এসব পণ্যের মোট মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট পণ্য রপ্তানির তুলনায় একটি সীমিত অংশ। তবে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব শুধু দুই দেশের সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। কানাডীয় ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘদিন শুল্ক বহাল থাকলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কানাডীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। একইভাবে মার্কিন আমদানিকারকরাও বাড়তি খরচের একটি অংশ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন। অর্থনৈতিক বর্জনের বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা অবশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোক্তাদের বড় পরিসরের বর্জন কোনো কোনো কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব নির্ভর করবে বর্জনের ব্যাপ্তি ও স্থায়িত্বের ওপর। তবে রাজনৈতিকভাবে এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে কানাডীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী মনোভাব আরও জোরালো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য আলোচনার ব্যর্থতার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক বাড়ানোর হুমকি, অন্যদিকে কানাডার পাল্টা শুল্ক ও মার্কিন পণ্য বর্জনের আহ্বান—সব মিলিয়ে উত্তর আমেরিকার দুই ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে অর্থনৈতিক সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দুই দেশ। সোমবার প্যারিসে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিস্তৃত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হতে হবে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান এবং সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা। ইরান ইস্যুতে দুই দেশ আরও উত্তেজনা এড়াতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স ইরানের পরমাণু কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তেহরানকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং নৌপথের নিরাপত্তার জন্য হুমকিরও নিন্দা জানিয়েছে দুই দেশ। বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে আগের স্বাভাবিক নৌচলাচল ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা, নিয়মিত বাণিজ্যিক পরিবহন এবং কোনো ধরনের সরাসরি বা পরোক্ষ কর কিংবা চলাচলে বাধা না থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে চুক্তির ঘোষণা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় টেকসই যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরি এবং বেসামরিক মানুষের কাছে দ্রুত, নিরাপদ ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে তারা। দুই দেশ ফিলিস্তিনি জনগণের ১৯৬৭ সালের সীমারেখার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কার্যক্রম ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার কর্মসূচির প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনে আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা স্বাগত জানিয়েছে দুই দেশ। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ সুগম করাই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। লেবানন, ইয়েমেন, সুদান ও সিরিয়ার পরিস্থিতিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। লেবাননের ক্ষেত্রে দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং সব অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দিয়েছে দুই দেশ। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং লেবাননের সব ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইয়েমেনে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির ভূখণ্ডে হামলার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি ও পূর্ণ সমর্থনের কথাও জানিয়েছে প্যারিস। সুদানের ক্ষেত্রে সংকট দ্রুত সমাধান, বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। সিরিয়ার ঐক্য, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে দুই দেশ। পাশাপাশি সৌদি-সিরীয়-ফরাসি ব্যবসায়ী পরিষদ গঠনের বিষয়টিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি সৌদি আরব ও ফ্রান্স অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের পরিকল্পনাও করেছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। এবার দুই দেশ পারস্পরিক বিনিয়োগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতেও নতুন সহযোগিতার ঘোষণা এসেছে। দুই দেশ অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণসহ ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও উদীয়মান প্রযুক্তিতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সৌদি আরবের আলউলা অঞ্চলের প্রত্নতত্ত্ব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে যৌথ সহযোগিতা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া ফ্রান্স রিয়াদ এক্সপো ২০৩০-এ অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দুই দেশের নেতারা মনে করছেন, এই আয়োজন সৌদি আরব ও ফ্রান্সের সম্পর্ক আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে। বৈঠকের সময় প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি ও বিনোদন খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি-ফরাসি বিনিয়োগ গোলটেবিল বৈঠক থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ২২টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের ঘোষণা এসেছে। সব মিলিয়ে, সৌদি আরব ও ফ্রান্সের নতুন যৌথ উদ্যোগ শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইরান, হরমুজ প্রণালি, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেন, সুদান ও সিরিয়ার মতো মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ইস্যুতেও দুই দেশ নিজেদের সমন্বয় আরও জোরদার করতে চাইছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জীবিত স্বামী বা স্ত্রী নিজস্ব আবেদনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণত ফর্ম আই-৩৬০ ব্যবহার করে আবেদন করতে হয়। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা—ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর বৈবাহিক সম্পর্ক, মৃত স্বামীর বা স্ত্রীর নাগরিকত্ব এবং পুনর্বিবাহের বিষয়সহ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রথম শর্ত হলো—মৃত স্বামী বা স্ত্রীকে মৃত্যুর সময় মার্কিন নাগরিক হতে হবে। ইউএসসিআইএসের নথি অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী নাগরিক, বিদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকের সন্তান হিসেবে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তি অথবা স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে নাগরিক হওয়া ব্যক্তি—যেকোনো একটি অবস্থানে থাকতে পারেন। এ বিষয়টি প্রমাণ করতে জন্মসনদ, নাগরিকত্বের সনদ বা বৈধ মার্কিন পাসপোর্টের মতো নথি দিতে হতে পারে। দ্বিতীয় শর্ত—আইনগতভাবে বিবাহিত স্বামী বা স্ত্রী হতে হবে। আবেদনকারীর সঙ্গে মৃত মার্কিন নাগরিকের বৈধ বিবাহের প্রমাণ দিতে হবে। এর জন্য বিবাহের সনদ প্রয়োজন হয়। আগে অন্য কোনো বিবাহ হয়ে থাকলে, সেই বিবাহ আইনগতভাবে শেষ হয়েছে—এমন প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে। তৃতীয় শর্ত—মৃত্যুর সময় স্বামী-স্ত্রী আইনগতভাবে আলাদা থাকা যাবে না। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মৃত মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে মৃত্যুর সময় আবেদনকারী আইনগতভাবে আলাদা থাকলে এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আবেদন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। ফর্ম আই-৩৬০-এ এ বিষয়ে সরাসরি তথ্য চাওয়া হয়। চতুর্থ শর্ত—আবেদনকারীকে পুনরায় বিয়ে করা যাবে না। স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর আবেদনকারী যদি অন্য কাউকে বিয়ে করে থাকেন, তাহলে মৃত মার্কিন নাগরিকের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নষ্ট হতে পারে। ইউএসসিআইএস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আবেদন করার সময় পুনর্বিবাহ না করা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। পঞ্চম শর্ত—স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। ইউএসসিআইএসের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে মৃত মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর দুই বছরের মধ্যে ফর্ম আই-৩৬০ জমা দিতে হয়। অর্থাৎ মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে আবেদন করলে এই বিশেষ ব্যবস্থার সুযোগ নাও থাকতে পারে। ষষ্ঠ শর্ত—বিয়েটি প্রকৃত বৈবাহিক সম্পর্ক হতে হবে এবং আবেদনকারীকে অভিবাসনের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে হবে। ইউএসসিআইএসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিয়েটি শুধু অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল—এমন হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের অন্যান্য প্রযোজ্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে। কীভাবে আবেদন করবেন? মৃত মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর পক্ষ থেকে আগে ফর্ম আই-১৩০ জমা দেওয়া হয়ে থাকলে এবং সেটি অনুমোদিত বা বিচারাধীন থাকলে, অনেক ক্ষেত্রে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিধবা বা বিপত্নীক স্বামী-স্ত্রীর ফর্ম আই-৩৬০ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নতুন করে আই-৩৬০ জমা দেওয়ার প্রয়োজন সব ক্ষেত্রে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যোগ্য আবেদনকারীরা পরিস্থিতি অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ ব্যবহার করে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, এ ধরনের বিধবা বা বিপত্নীক স্বামী-স্ত্রীর জন্য অভিবাসন ভিসা সাধারণত সরাসরি পাওয়া যায় যখন আই-৩৬০ অনুমোদিত হয়। তবে শুধু এই ছয়টি শর্ত পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অভিবাসন ইতিহাস, অপরাধমূলক রেকর্ড, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ইতিহাস এবং অন্যান্য আইনগত বিষয়ও বিবেচনায় আসতে পারে। তাই বাস্তব কোনো আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোট সীমিত করার নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের পথ কিছুটা খুলে দিয়েছে। তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রশাসন ঠিক কতটা পরিবর্তন কার্যকর করতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী প্রস্তুতিতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেও বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। নতুন করে আদালতে চ্যালেঞ্জের সুযোগ থাকায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় আদেশ বাস্তবায়ন আরও বিলম্বিত হতে পারে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি মার্চে স্বাক্ষর করা হয়। এতে প্রশাসনকে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য যোগ্য ভোটারদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগকে ওই তালিকায় থাকা ভোটারদের কাছেই ডাকযোগে ভোটের ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ডাকযোগে ভোটের সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর দাবি, এ পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচনে জালিয়াতির সুযোগ তৈরি হয়। তবে ডাকযোগে ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ট্রাম্প নিজেও বিভিন্ন সময়ে ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে ২৩টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসির ডেমোক্র্যাট কর্মকর্তারা মামলা করেন। তাঁদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা অঙ্গরাজ্য ও কংগ্রেসের হাতে। ফলে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ডাকযোগে ভোটের নিয়মে এত বড় পরিবর্তন আনা সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করতে পারে। মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনজীবীরা আদালতকে সতর্ক করে বলেন, আসন্ন শরতের নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে ভোট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারাও সুপ্রিম কোর্টের কাছে আদেশটি স্থগিত রাখার আহ্বান জানান। ম্যাসাচুসেটসের একজন বিচারক এর আগে ওই অঙ্গরাজ্যগুলোতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দেন। পরে একটি আপিল আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর একই বিচারক দেশজুড়ে আদেশটি কার্যকর হওয়া ঠেকাতে আরও একটি নির্দেশ দেন। ট্রাম্প প্রশাসন জুলাইয়ের শেষ দিকে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, অঙ্গরাজ্যগুলো মামলাটি করার ক্ষেত্রে আগেভাগেই আদালতে গিয়েছিল। একই সময়ে ওয়াশিংটনের একটি আদালতের ভিন্ন সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরা হয়, যেখানে ট্রাম্পের আদেশ বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হয়নি। ওয়াশিংটনের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল হলেও আপিল আদালত সেটি বহাল রাখে। তবে ভবিষ্যতে আদেশটি বাস্তবায়নের ফলে নতুন কোনো আইনি সমস্যা তৈরি হলে আদালতে আবার চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও রাখা হয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ গত সপ্তাহেই ট্রাম্পের আদেশ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। কিন্তু সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্য মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভোটারদের ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো শুরু করবে। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রশাসন বড় ধরনের পরিবর্তন বাস্তবে কতটা কার্যকর করতে পারবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত তাই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এটি চূড়ান্ত আইনি বিজয় নয়। ডাকযোগে ভোটের নিয়ম নিয়ে অঙ্গরাজ্য, নির্বাচন কর্মকর্তা ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে বিরোধ আরও আদালতে গড়াতে পারে। আর মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, এই আইনি লড়াইয়ের সময়সীমাও তত সংকুচিত হয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি হুমকিমূলক ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ব্যারনের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের চ্যানেল থ্রিতে প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর—আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় ও কীভাবে হত্যা করা হবে?’ এতে ব্যারনের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান, তাকে বহনকারী গাড়ি এবং নিরাপত্তায় থাকা সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, ব্যারনের চলাফেরা ‘সম্পূর্ণ নজরদারিতে’ রয়েছে। এমনকি তার ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিষয়েও বিভিন্ন তথ্য দেখানো হয়। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ইউরোনিউজও জানিয়েছে, ভিডিওতে করা দাবিগুলো তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। প্রচারিত ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, এক তরুণী সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা এড়িয়ে ব্যারনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছিলেন এবং পরে তার সম্পর্কে তথ্য ভিডিওটির নির্মাতাদের কাছে পৌঁছে দেন। ব্যারন ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য এক্সবক্স ব্যবহার করেন—এমন দাবিও করা হয়েছে। এসব তথ্যেরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ব্যারন ট্রাম্প বর্তমানে নিউইয়র্কে কলেজে পড়াশোনা করছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কনিষ্ঠ সন্তান। অন্যদের তুলনায় তিনি সাধারণত জনসম্মুখে কম থাকেন। তবে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা গেছে। এটি অবশ্য ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইরান-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রথম হুমকি নয়। এর আগে জুলাইয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়েও একই ধরনের একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছিল। সেই ভিডিওতে তাঁর চলাচল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ব্যারনকে ঘিরে প্রচারিত ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাদের সুরক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচিত যেকোনো বিষয় তারা তদন্ত করে। ফলে ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যারনের নিরাপত্তা নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র। ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকির পরও তেহরান কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একই সময়ে দুই দেশের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্প নিজেও অতীতে ইরানের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকি নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এর আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকটি মামলাও হয়েছে। সব মিলিয়ে, ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে এমন হুমকি দুই দেশের চলমান সংঘাতকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। তবে ভিডিওতে করা ১ কোটি ডলারের পুরস্কার, নজরদারি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করার দাবিগুলো এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়—এ বিষয়টি আলাদা করে মনে রাখা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের মকেনায় আটটি মলোটভ ককটেলসহ গ্রেপ্তার হওয়া ৩১ বছর বয়সী জর্ডানীয় নাগরিক হ্যামেদ মোহাম্মদ হ্যামেদ আলসাইদিকে আদালত থেকে মুক্তি দেওয়ার পর আবার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা—আইস। স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘিরে এখন অস্ত্র, অভিবাসন ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার সূত্রপাত ১ আগস্ট ভোরে। মকেনা পুলিশ ১৯১তম স্ট্রিট ও লা গ্রাঞ্জ রোড এলাকায় আলসাইদিকে রাস্তায় হাঁটতে দেখে। পুলিশ তাকে থামালে তিনি নিজের নাম হাকমাত সাইদি বলে পরিচয় দেন বলে কর্মকর্তারা জানান। পরে তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার ব্যাকপ্যাক থেকে আটটি কাচের বোতল পাওয়া যায়। বোতলগুলোতে দাহ্য তরল এবং কাপড়ের অংশ ছিল, যা তদন্তকারীরা মলোটভ ককটেল হিসেবে চিহ্নিত করেন। ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পায় যখন পুলিশ তার ব্যাকপ্যাকে একটি এলাকার হাতে আঁকা মানচিত্র এবং ‘মসজিদ’ শব্দ লেখা একটি কাগজ পায়। পুলিশের দাবি, মানচিত্রে অরল্যান্ড পার্ক এলাকার একটি মসজিদ বা প্রার্থনাকেন্দ্রের অবস্থানের ইঙ্গিত ছিল। এ কারণে তদন্তকারীরা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে আলসাইদি ওই স্থানে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন—এমন অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশের পাশাপাশি অ্যালকোহল, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণকারী ফেডারেল সংস্থা—এটিএফ, এফবিআই এবং ইলিনয় স্টেট ফায়ার মার্শালের কার্যালয় তদন্তে যুক্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলসাইদি এর আগে একটি গ্যাস স্টেশনের কাছেও সন্দেহজনক অবস্থায় ছিলেন। পরে তাকে অন্য একটি খোলা গ্যাস স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে আলসাইদির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং পুলিশের কাছে নিজের পরিচয় গোপন করার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অরল্যান্ড পার্ক এলাকার বাসিন্দা ও ঠিকানাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সুরক্ষা আদেশও ছিল। প্রসিকিউটররা তাকে পলাতক হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে ৩ আগস্ট উইল কাউন্টির এক বিচারক তাকে কারাগারে না রেখে ইলেকট্রনিক নজরদারির শর্তে মুক্তি দেন। এরপর ৪ আগস্ট আইস কর্মকর্তারা তাকে আবার আটক করেন। শিকাগো সান-টাইমসও জানিয়েছে, আদালত থেকে ইলেকট্রনিক নজরদারিতে মুক্তি পাওয়ার দুই দিন পর তাকে আইস হেফাজতে নেওয়া হয়। আইসের দাবি, আলসাইদির বিরুদ্ধে আগে থেকেই অভিবাসন-সংক্রান্ত আটকাদেশ ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেওয়ার পর আইস কর্মকর্তারা তাকে খুঁজে বের করে আটক করেন। তবে ‘অভয়-শহর নীতি’র কারণে তাকে ছাড়া হয়েছিল—এটি মূলত মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য; স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তির বিষয়টিকে সরাসরি ওই নীতির ফল হিসেবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এরই মধ্যে মামলাটি ফেডারেল পর্যায়ে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ১৭ আগস্ট ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি আলসাইদির বিরুদ্ধে নিবন্ধনহীন ধ্বংসাত্মক যন্ত্র রাখার আটটি অভিযোগ অনুমোদন করেছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। অর্থাৎ সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ সাজা ৮০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১ আগস্ট মকেনায় আলসাইদির কাছে প্রায় আটটি কাচের বোতল ছিল, যেগুলোতে দাহ্য তরল ও আগুন ধরানোর উপযোগী উপাদান ছিল। প্রতিটি বোতলকে আলাদা একটি ধ্বংসাত্মক যন্ত্র হিসেবে গণ্য করে আলাদা অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, আলসাইদি ইলিনয়ে বসবাস করতেন এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তাকে জর্ডানের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে। তবে তার অভিবাসন-ইতিহাস নিয়ে সরকারি বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিবেদনে অতিরিক্ত কিছু দাবি রয়েছে; এসব দাবিকে আলাদা করে যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই নিরাপদ। বর্তমানে আলসাইদি আইসের হেফাজতে রয়েছেন এবং ফেডারেল মামলায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা। একই সঙ্গে মলোটভ ককটেলগুলোর সম্ভাব্য ব্যবহার, মানচিত্রে মসজিদের অবস্থান কেন ছিল এবং তিনি কোনো হামলার পরিকল্পনা করছিলেন কি না—এসব বিষয়েও তদন্ত চলছে।
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী সেপ্টেম্বর প্রায় ৪০০ সদস্যের বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারত সফরে যেতে পারেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাত বছর পর তাঁর সম্ভাব্য এই ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত ও চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ভারতের একটি সূত্র জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের সফরকে ঘিরে চীনা কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে হোটেল ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত করার কাজ করছেন। ভারতের দুটি সূত্রের দাবি, চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা ভারত সফরে আসতে পারেন। ২০১৯ সালে তাঁর সর্বশেষ ভারত সফরের সময় প্রতিনিধিদলে কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল ২০০ জনেরও কম। ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভারত ও চীনের কর্মকর্তারা পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং সীমান্ত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কমানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করতে পারেন। তবে শি জিনপিংয়ের সফরের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময়সূচিও চূড়ান্ত করা হয়নি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ব্রিকস সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং এ বছরের সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতকে সমর্থন করে। তবে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে তাদের কাছে বর্তমানে জানানোর মতো কোনো তথ্য নেই বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়টি। সীমান্ত বিরোধ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর বড় একটি অংশ এখনো পুরোপুরি চিহ্নিত হয়নি। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষে ভারতের ২০ এবং চীনের চার সেনা নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রায় চার বছর ধরে চলা সামরিক অচলাবস্থার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে সীমান্তের কয়েকটি এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া ও বিচ্ছিন্নকরণ নিয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। এর ফলে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এদিকে সীমান্ত ইস্যুতে আলোচনার জন্য ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেছেন। সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর আলোচনার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের মধ্যে কিছু অভিন্ন স্বার্থ তৈরি হয়েছে। ফলে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর শুধু ব্রিকস সম্মেলনের জন্যই নয়, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সীমান্ত বিরোধ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো এখনো ভারত-চীন সম্পর্কের বড় চ্যালেঞ্জ। এসব মতপার্থক্য কতটা কমানো সম্ভব হবে, তার ওপরই সম্ভাব্য এই সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেকাংশে নির্ভর করবে।
নাসায় ইন্টার্নশিপ শুরুর মাত্র তিন দিনের মাথায় নতুন একটি গ্রহ শনাক্ত করে আলোচনায় আসেন ১৭ বছর বয়সী উলফ কুকিয়ার। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের স্কারসডেল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী কুকিয়ার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করার সময় নাসার টিইএসএস মহাকাশ টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণ করছিলেন। সেখানেই ধরা পড়ে পৃথিবী থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরের এক অদ্ভুত গ্রহের সংকেত। কুকিয়ারের কাজ ছিল এমন নক্ষত্রের তথ্য খতিয়ে দেখা, যেগুলো পরস্পরকে প্রদক্ষিণ করতে গিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর পর একে অপরের আলো আড়াল করে। এমন একটি নক্ষত্রজোড়ার তথ্য বিশ্লেষণের সময় তিনি উজ্জ্বলতায় অস্বাভাবিক হ্রাস দেখতে পান। প্রথমে তার ধারণা হয়েছিল, একটি নক্ষত্র অন্যটির সামনে চলে যাওয়ায় এই পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু সংকেতটির সময়ের হিসাব সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে মিলছিল না। আরও বিশ্লেষণের পর দেখা যায়, সেটি কোনো নক্ষত্রের গ্রহণ নয়। বরং নক্ষত্র দুটির চারপাশে একটি গ্রহ ঘুরছে। গ্রহটির নাম দেওয়া হয় টিওআই ১৩৩৮ বি। এই আবিষ্কারটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এটি নাসার টিইএসএস মিশনে শনাক্ত হওয়া প্রথম সার্কামবাইনারি গ্রহ। অর্থাৎ গ্রহটি একটি নয়, দুটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এমন গ্রহকে অনেক সময় ‘দুই সূর্যের গ্রহ’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়। টিওআই ১৩৩৮ বি পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৯ গুণ বড়। আকারের দিক থেকে এটি নেপচুন ও শনির মাঝামাঝি। গ্রহটি পিক্টর নক্ষত্রমণ্ডলের একটি নক্ষত্রজোড়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। ওই দুই নক্ষত্র একে অপরকে প্রায় ১৫ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে, আর গ্রহটি তাদের চারপাশে একবার ঘুরতে প্রায় ৯৫ দিন সময় নেয়। টিইএসএস গ্রহটির গতিবিধি শনাক্ত করতে পেরেছিল যখন এটি বড় নক্ষত্রটির সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিল। এই সময় নক্ষত্রটির আলো সামান্য কমে যায়। এমন আলোর পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেই দূরের গ্রহ শনাক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নাসার তথ্য অনুযায়ী, টিওআই ১৩৩৮ বি সম্ভবত একটি গ্যাসীয় গ্রহ। এটি বসবাসযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনাও কম বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দুটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণকারী সব গ্রহ যে প্রাণের জন্য অনুপযোগী হবে, এমন নয়। সঠিক দূরত্ব ও পরিবেশ থাকলে এ ধরনের কিছু গ্রহে বাসযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কুকিয়ারের আবিষ্কার পরে বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ হয় এবং তিনি ওই গ্রহ নিয়ে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সহলেখকও হন। নাসার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন দিনের ইন্টার্নশিপেই পাওয়া ওই সংকেত শেষ পর্যন্ত টিইএসএস মিশনের একটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারে পরিণত হয়। সাধারণত ইন্টার্নশিপের প্রথম কয়েক দিন নতুন পরিবেশ ও কাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই কেটে যায়। আর উলফ কুকিয়ারের ক্ষেত্রে সেই সময়টুকুই যথেষ্ট হয়েছিল মহাকাশের ১ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরের একটি নতুন পৃথিবীর সন্ধান পাওয়ার জন্য।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে শুধু ডিগ্রির বদলে প্রার্থীর বাস্তব দক্ষতার গুরুত্ব বাড়ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব কলেজেস অ্যান্ড এমপ্লয়ার্সের (এনএসিই) ২০২৬ সালের চাকরির বাজারবিষয়ক জরিপে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ নিয়োগদাতা জানিয়েছেন, তারা এন্ট্রি লেভেলের নিয়োগে দক্ষতাভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এক বছর আগে এই হার ছিল ৬৫ শতাংশ। এই পরিবর্তনের ফলে নতুন অভিবাসী, ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চাওয়া ব্যক্তি এবং সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও পেশাভিত্তিক সনদের গুরুত্ব বাড়ছে। তবে কোনো একটি সনদই চাকরি বা নির্দিষ্ট বেতন নিশ্চিত করে না। নিয়োগদাতারা সনদের পাশাপাশি প্রার্থীর বাস্তব দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রযুক্তি খাতে কম্পটিআইএ সিকিউরিটি প্লাস, এডব্লিউএস ক্লাউড প্র্যাকটিশনার এবং গুগলের ক্লাউডভিত্তিক বিভিন্ন সনদ এন্ট্রি লেভেলের চাকরিতে দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য এসব সনদ কাজে আসতে পারে। তবে চাকরির চাহিদা, বেতন ও নিয়োগের সুযোগ পদ এবং অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। আরও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের জন্য এডব্লিউএস সার্টিফায়েড সলিউশনস আর্কিটেক্ট, সিআইএসএসপি এবং পিএমপির মতো পেশাগত সনদ ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা খাতে পিএমপি দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত একটি পেশাগত সনদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের বেতন জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পিএমপি সনদধারী পেশাজীবীদের মধ্যম বেতন ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। একই জরিপে পিএমপি না থাকা পেশাজীবীদের মধ্যম বেতন ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ১৫৭ ডলার। অর্থাৎ দুই দলের বেতনের ব্যবধান ছিল প্রায় ২৪ শতাংশ। অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। ওই জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পিএমপি সনদ থাকা পেশাজীবীদের মধ্যম বেতন ১ লাখ ৭৩ হাজার ডলার। বিপরীতে পাঁচ বছরের কম সময় ধরে পিএমপি সনদধারীদের মধ্যম বেতন ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ডলার। তবে শুধু পরীক্ষায় পাস করে সনদ অর্জন করাই চাকরি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এনএসিইর তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগদাতারা বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা, ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং দক্ষতার বাস্তব প্রমাণকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই জীবনবৃত্তান্তে শুধু সনদের নাম উল্লেখ করার পরিবর্তে সেই সনদ থেকে অর্জিত দক্ষতা কীভাবে বাস্তব কাজে প্রয়োগ করা হয়েছে, তা তুলে ধরা বেশি কার্যকর। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সরকারি তথ্যেও দেখা যায়, সব চাকরির জন্য চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের পেশাগত প্রয়োজনীয়তা জরিপ অনুযায়ী, সব পেশা মিলিয়ে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়নি। ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে হাইস্কুল ডিপ্লোমা ছিল ন্যূনতম শিক্ষাগত শর্ত। আর ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে ব্যাচেলর ডিগ্রি ছিল ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে পেশাগত সনদকে ডিগ্রির সরাসরি বিকল্প হিসেবে দেখার চেয়ে নির্দিষ্ট চাকরির প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত। বিশেষ করে প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে সঠিক সনদের সঙ্গে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা যুক্ত করতে পারলে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করা সহজ হতে পারে।
জ্যামাইকার সুপার লোটোতে ১৮ কোটি ৯ লাখ জ্যামাইকান ডলার জেতার পর পুরস্কারের অর্থ নিতে বিশাল হলুদ উইঙ্কিং ইমোজি মাস্ক পরে হাজির হন এক নারী। ২০১৮ সালের মে মাসের ওই লটারি জয়ের পর নিজের পরিচয় গোপন রাখতে এমন অভিনব কৌশল নেন তিনি। তখনকার বিনিময় হারে পুরস্কারের অর্থের মূল্য ছিল প্রায় ১৪ লাখ মার্কিন ডলার। নারীটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। লটারি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম তাকে শুধু ‘এন. গ্রে’ নামে উল্লেখ করে। ৫ জুন ২০১৮ সালে নিউ কিংস্টনের একটি হোটেলে সুপ্রিম ভেঞ্চারস লিমিটেডের আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বিশাল চেক গ্রহণ করেন। পুরো সময়ই তার মুখ ঢেকে ছিল বড় একটি হলুদ ইমোজি মাস্কে। গ্রে ১১ মে অনুষ্ঠিত সুপার লোটোর ড্রয়ে জয়ী হন। তিনি জানান, ওই বছরের জানুয়ারি থেকেই লটারির টিকিট কেনা শুরু করেছিলেন এবং সাধারণত নিজের পছন্দের বদলে এলোমেলো নম্বর বেছে নিতেন। জয়ের খবর নিশ্চিত করেন তার ছেলে, যিনি লটারির নম্বরগুলো অনলাইনে মিলিয়ে দেখেছিলেন। লটারি জেতার আগে গ্রে ঋণের চাপে ছিলেন। পুরস্কারের অর্থ দিয়ে প্রথমে ব্যাংক ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের দেনা পরিশোধ করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি অর্থ বিনিয়োগ, ভ্রমণ এবং নিজের এলাকার তরুণদের জন্য একটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। তবে বিপুল অর্থ জেতার আনন্দের পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক ছিলেন গ্রে। তাই পুরস্কার নিতে এসে নিজের চেহারা প্রকাশ না করে বেছে নেন ইমোজি মাস্ক ও ছদ্মবেশ। জ্যামাইকায় লটারি বিজয়ীদের এমন ছদ্মবেশ নেওয়ার ঘটনা নতুন নয় বলে জানিয়েছে সুপ্রিম ভেঞ্চারস। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, বড় অঙ্কের অর্থ জেতার পর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক বিজয়ী নিজেদের পরিচয় আড়াল করেন। ফলে যেখানে সাধারণত লটারি বিজয়ীরা বড় চেক হাতে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করেন, সেখানে এন. গ্রের ছবিতে নজর কাড়ে তার মুখের জায়গায় বিশাল এক উইঙ্কিং ইমোজি। পুরস্কারের কোটি কোটি টাকা তিনি নিয়ে গেলেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকের কাছেই তার আসল পরিচয় রয়ে যায় অজানা।
ইউরোপের ভূগর্ভস্থ গুহায় বসবাসকারী ওলম পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত উভচর প্রাণীদের একটি। ফ্যাকাশে গোলাপি রঙের এই অন্ধ সালামান্ডার সারাজীবন পানির নিচে থাকে, শ্বাস নেওয়ার জন্য বাহ্যিক ফুলকার মতো গিল ধরে রাখে এবং খাবারের অভাবেও দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে। স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং ইতালির কার্স্ট অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জলাধার ও গুহায় ওলমের দেখা মেলে। সম্পূর্ণ অন্ধকার পরিবেশে দীর্ঘ বিবর্তনের ফলে প্রাণীটির চোখ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়নি এবং পরে চামড়ায় ঢাকা পড়ে যায়। তবে আলো অনুভব করার ক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি। দিক নির্ধারণ ও শিকার খুঁজতে এটি রাসায়নিক সংকেত, পানির প্রবাহ, শব্দ এবং অন্যান্য অদৃশ্য ইন্দ্রিয়ের ওপর নির্ভর করে। ওলমকে বিশেষ করে আলাদা করে তার জীবনচক্র। বেশিরভাগ উভচর প্রাণীর মতো পূর্ণাঙ্গ রূপে রূপান্তরিত হওয়ার বদলে এটি লার্ভা অবস্থার বৈশিষ্ট্য ধরে রাখে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও বাহ্যিক গিল থাকে এবং পুরো জীবন পানির নিচেই কাটায়। প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এই প্রাণী। ভূগর্ভস্থ গুহায় খাবারের উৎস খুবই সীমিত। সেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ওলম অত্যন্ত ধীর বিপাকক্রিয়া এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার সক্ষমতা অর্জন করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনুকূল পরিস্থিতিতে এটি বহু বছর খাবার ছাড়াই টিকে থাকতে পারে। কিছু গবেষণায় প্রায় এক দশক পর্যন্ত না খেয়ে বেঁচে থাকার সক্ষমতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর চলাফেরাও বিস্ময়করভাবে সীমিত। আট বছর ধরে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার একটি প্রাকৃতিক গুহা-জনসংখ্যার ওপর চালানো গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অনেক ওলম কয়েক বছর ধরে মাত্র কয়েক মিটারের মধ্যেই অবস্থান করেছে। গবেষণায় পর্যবেক্ষণ করা একটি ওলমকে ২ হাজার ৫৬৯ দিন পর আবার একই জায়গায় পাওয়া যায়, অর্থাৎ প্রায় সাত বছর পরও সেটি কার্যত একই অবস্থানে ছিল। এই গবেষণায় দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক ওলম সাধারণত অত্যন্ত স্থির জীবনযাপন করে। কয়েক বছর ধরে পর্যবেক্ষণে অনেক প্রাণীর চলাচল ছিল ১০ মিটারেরও কম। গবেষকদের মতে, খুব কম খাবারের পরিবেশে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা এবং কম শক্তি ব্যয়ের জীবনধারার সঙ্গে এই স্থির আচরণের সম্পর্ক থাকতে পারে। দীর্ঘায়ুও ওলমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গবেষণায় প্রাণীটির সম্ভাব্য আয়ু ১০০ বছরের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। একটি দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণে বন্দি ওলমের সর্বোচ্চ বয়স প্রায় ৪৮ থেকে ৫৮ বছর পাওয়া গেলেও, বেঁচে থাকার হার বিশ্লেষণ করে গবেষকরা সর্বোচ্চ আয়ু ১০০ বছরের বেশি হতে পারে বলে অনুমান করেছেন। বৃষ্টির পর গুহার ভূগর্ভস্থ পানি বেড়ে গেলে কখনও কখনও ওলম পানির স্রোতে বাইরে চলে আসে। এ কারণেই ইউরোপের স্থানীয় লোককথায় বহুদিন ধরে প্রাণীটিকে পাহাড়ের ভেতরে থাকা ড্রাগনের বাচ্চা বলে মনে করা হতো। স্লোভেনিয়ায় এখনো ওলমকে ঘিরে এই ‘বেবি ড্রাগন’ ধারণা জনপ্রিয়। তবে রহস্যময় এই প্রাণীটি এখন পরিবেশগত ঝুঁকির মুখেও রয়েছে। ওলমের ভূগর্ভস্থ আবাসস্থল ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পানি দূষণ তাদের জন্য বড় হুমকি। ইউরোপের উভচর প্রাণীদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নেও ভূগর্ভস্থ পানির দূষণকে ওলমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্ধকার গুহায় বসবাস, সারাজীবন লার্ভার বৈশিষ্ট্য ধরে রাখা, বছরের পর বছর না খেয়ে বেঁচে থাকা এবং প্রায় নড়াচড়া না করে দীর্ঘ সময় একই জায়গায় থাকার ক্ষমতা ওলমকে বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী উভচর প্রাণীতে পরিণত করেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান তাঁর দুই ছেলের একজনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে কথিত ওই হামলার সময়, স্থান, পদ্ধতি কিংবা কোন ছেলেকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি। খবরটি প্রকাশ্যে আসে সোমবার, ২৪ আগস্ট, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে। নেতানিয়াহু বলেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে লক্ষ্য করেছিল এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি এ ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ কারণেই তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো বিলাসিতা নয়। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য আসে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে। দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী গাদি আইজেনকটকে নিরাপত্তা দিতে সংস্থাটি অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নেতানিয়াহু বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। তবে ইরানের পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘে ইরানের মিশনও এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ইয়াইর ও আভনার। তাঁর বক্তব্যে কার বিরুদ্ধে কথিত হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছিল, তা স্পষ্ট হয়নি। ইয়াইর দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অবস্থান করছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কথিত এই হামলার তথ্য দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছে কয়েক মাস ধরে ছিল এবং সামরিক সেন্সরের কারণে তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে কোন ছেলেকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। জুলাইয়ে নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা এবং দুই ছেলের জন্য বর্ধিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুমোদন করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে দেশটিতে সরকারি অর্থে নেতানিয়াহু পরিবারের নিরাপত্তা ব্যয়ের বিষয়েও বিতর্ক রয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই নেতানিয়াহুর এই অভিযোগ সামনে এলো। একই সময়ে ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। নেতানিয়াহুর জোট জনমত জরিপে পিছিয়ে রয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাঙ্গার হাই স্কুলের ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত একটি কলেজ পর্যায়ের শিল্পকলা কোর্সে গর্ভপাত, যৌনতা ও ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ক গ্রাফিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনের ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রিডলি কলেজের সঙ্গে স্যাঙ্গার হাই স্কুলের দ্বৈত-ভর্তি কর্মসূচির আওতায় গ্রীষ্মকালীন এই কোর্সটি পরিচালিত হয়। জানা গেছে, ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা ‘দৃশ্যসংস্কৃতির পরিচিতি’ নামে ওই কোর্সে অংশ নেয়। কোর্সের অংশ হিসেবে তাদের এমন কিছু শিল্পকর্ম ও প্রদর্শনী দেখানো হয়, যেখানে গর্ভপাত, যৌন আচরণ এবং ট্রান্সজেন্ডার বিষয়কে অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে ‘নারী-পুরুষের ঘর ২০২২’ নামের একটি শিল্পস্থাপনার বিভিন্ন অংশও শিক্ষার্থীদের দেখানো হয়। এর একটি অংশে ‘বাড়িতে নিজে গর্ভপাত’ নামে একটি কক্ষে রক্তাক্ত অবস্থায় বসে থাকা এক নারীর ভাস্কর্য এবং তার পাশে গর্ভপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ধাতব হ্যাঙ্গার দেখানো হয়। আরেকটি অংশে ‘ট্রান্সজেন্ডার বাথরুম’ নামে একটি স্থাপনা ছিল। সেখানে টেস্টোস্টেরন ইনজেকশন দেওয়ার স্থান নির্দেশকারী একটি চিহ্ন এবং শরীরের আকৃতি পরিবর্তনে ব্যবহৃত বিশেষ চাপযুক্ত পোশাক প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনীর বিভিন্ন অংশে যৌনতা সম্পর্কিত স্পষ্ট ভাষার লেখা ও বার্তাও ছিল। এ ধরনের বিষয়বস্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের একটি কলেজ পর্যায়ের কোর্সে দেখানো কতটা উপযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকদের কেউ কেউ। তাদের উদ্বেগের মূল বিষয় হলো, শিক্ষার্থীদের এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়বস্তু দেখানোর আগে পরিবারগুলোকে যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না। ঘটনার পর স্যাঙ্গার ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট ডেনিস উইখম্যান জানান, কোর্সের পাঠ্যক্রম রিডলি কলেজ নির্ধারণ করে এবং হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য সেটি আলাদাভাবে পরিবর্তন করা হয় না। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোর্সে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার আগে অভিভাবকদের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আরও স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন বলে তিনি স্বীকার করেন। ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে দ্বৈত-ভর্তি কর্মসূচির কোনো কোর্সে প্রাপ্তবয়স্ক বা সংবেদনশীল বিষয়বস্তু থাকার সম্ভাবনা থাকলে ভর্তি প্রক্রিয়ার সময় অভিভাবকদের তা জানানো হবে। পাশাপাশি কোর্সের পাঠ্যসূচি পাওয়া গেলে তা দেখার সুযোগও আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্বৈত-ভর্তি কর্মসূচির মাধ্যমে স্যাঙ্গার হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা রিডলি কলেজ, ফ্রেসনো সিটি কলেজ ও ক্লোভিস কমিউনিটি কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কলেজ পর্যায়ের কোর্স করার সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে তারা হাই স্কুলে পড়ার পাশাপাশি কলেজের ক্রেডিট অর্জন করতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য এসব কোর্স বিনামূল্যে হওয়ায় কর্মসূচিটি অনেক পরিবারের কাছে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাটি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজ পর্যায়ের পাঠ্যক্রম নির্ধারণ, সংবেদনশীল বিষয়বস্তু সম্পর্কে অভিভাবকদের আগাম অবহিত করা এবং এ ধরনের কোর্সে পরিবারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কতটা থাকা উচিত, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নামে থাক বারাক ওবামা এলিমেন্টারি স্কুলে মোল্ডের নতুন উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর স্কুলটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবনটিতে ইঁদুরের উপস্থিতির খবরও পাওয়া গেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় এমন পরিস্থিতিতে স্কুলটির শিক্ষার্থীদের সাময়িকভাবে অন্য একটি স্কুলে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রিচমন্ড পাবলিক স্কুলস। সোমবার, ২৪ আগস্ট শিক্ষক ও স্টাফরা শ্রেণিকক্ষ প্রস্তুত করতে স্কুল ভবনে প্রবেশের পর নতুন কয়েকটি জায়গায় মোল্ড দেখতে পান। এর মধ্যে বুলেটিন বোর্ডের কাগজের পেছনেও মোল্ড পাওয়া যায়। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সবাইকে ভবন থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং নতুন করে পরিষ্কার ও মোল্ড পরীক্ষা শুরু করা হয়। রিচমন্ড পাবলিক স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন কামরাস জানিয়েছেন, ভবনটি পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে শিক্ষার্থী বা স্টাফদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে না। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে পরিষ্কার, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ট্রিটমেন্ট এবং প্রতিটি কক্ষের এয়ার কোয়ালিটি পরীক্ষা করা হবে। এর আগে স্কুলের এইচভিএসি সিস্টেমে সমস্যার পর ভবনের বেসমেন্ট ও কিছু আসবাবপত্রে মোল্ড শনাক্ত হয়েছিল। পরবর্তী এয়ার কোয়ালিটি পরীক্ষায়ও কিছু এলাকায় মোল্ড স্পোরের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেশাদার কন্ট্রাক্টর নিয়োগ করে এইচভিএসি ডাক্ট পরিষ্কার, এয়ার ফিল্টার পরিবর্তন এবং মোল্ড রিমিডিয়েশন শুরু করা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি কক্ষে ইঁদুর দেখা যাওয়ায় এক্সটারমিনেটরও নিয়োগ করা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, রিমিডিয়েশনের সময় একটি সাপ্লাই ক্লোজেটের সিলিংয়ের ওপরে লুকানো আর্দ্র পাইপকে মোল্ডের সম্ভাব্য প্রধান উৎস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই জায়গা পরিষ্কার করার পর মোল্ডের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তবে নতুন করে মোল্ড শনাক্ত হওয়ায় আবারও পুরো ভবনে পরীক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে। রিচমন্ড পাবলিক স্কুলস জানিয়েছে, বারাক ওবামা এলিমেন্টারি আপাতত এই সপ্তাহে চালু হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লার্ক স্প্রিংস এলিমেন্টারি স্কুলকে অস্থায়ী স্থান হিসেবে প্রস্তুত করার কাজ চলছে। তবে মূল স্কুল ভবনে শিক্ষার্থীরা কবে ফিরতে পারবে, তা নতুন পরীক্ষার ফল ও রিমিডিয়েশন কাজ শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করছে। স্কুলটি এর আগেও মোল্ড সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল। ২০২৪ সালের একটি রিপোর্টে সেখানে অল্প পরিমাণে মোল্ড বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া যায় এবং তখন সেটি পরিষ্কার করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্কুল ভবনের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
থাইল্যান্ডের বুয়েং কান প্রদেশের ফু লাংকা ন্যাশনাল পার্কের নাকা গুহায় বর্ষাকালে দেখা মিলছে এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক দৃশ্যের। বৃষ্টির পানি গুহার পাথরের প্রাকৃতিক গর্তে জমে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করলে পাথরের ওপর তৈরি হয় বিশাল এক চোখের মতো অবয়ব, যা স্থানীয়ভাবে ‘নাগার চোখ’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষও এই প্রাকৃতিক দৃশ্যকে বর্ষাকালের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরেছে। নাকা গুহা ফু লাংকা ন্যাশনাল পার্কের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। পুরো এলাকাজুড়ে থাকা বেলেপাথরের স্তরে দীর্ঘ সময়ের ক্ষয় ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে তৈরি হয়েছে সাপের শরীরের আঁশের মতো নানা নকশা। পাথরের বিভিন্ন অংশের আকৃতি দেখে অনেক দর্শনার্থীর কাছে পুরো পাহাড়টিই বিশাল এক কুণ্ডলী পাকানো সাপের মতো মনে হয়। তবে বর্ষাকালেই এই দৃশ্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। পাথরের একটি প্রাকৃতিক গর্তে প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ মিটার গভীর পর্যন্ত পানি জমতে পারে। বৃষ্টির মৌসুমে পানি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় সূর্যের আলো সেই পানিতে প্রতিফলিত হয়ে পাথরের ওপর চোখের মতো উজ্জ্বল অবয়ব তৈরি করে। থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়টিই এই দৃশ্য দেখার জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এই ‘চোখ’ কোনো জীবন্ত প্রাণীর চোখ নয়, বরং পাথরের গর্ত, জমে থাকা পানি এবং সূর্যের আলোর সমন্বয়ে তৈরি একটি প্রাকৃতিক আলোক-ভ্রম। বৃষ্টির পর ভেজা পাথরের গাঢ় অংশ এবং পানির প্রতিফলনের কারণে দূর থেকে এটি অনেকটা বিশাল সাপের চোখের মতো দেখায়। নাকা গুহাকে ঘিরে থাইল্যান্ডের নাগা সংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসেরও গভীর প্রভাব রয়েছে। দেশটির লোককথায় নাগাকে পৌরাণিক সর্প হিসেবে দেখা হয়, যার সঙ্গে মেকং নদী ও বিভিন্ন পবিত্র স্থানের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে নাকা গুহা শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান নয়, অনেক দর্শনার্থীর কাছে এটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের সঙ্গেও যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। প্রকৃতির এই অনন্য দৃশ্য দেখতে দর্শনার্থীদের পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটতে হয়। ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটকদের পাথরের ওপর হাত না দেওয়া, কোনো ধরনের দাগ বা লেখা না করা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। বর্ষার পানিতে পাথরের গায়ে তৈরি হওয়া এই ক্ষণস্থায়ী দৃশ্য এখন নাকা গুহার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন, আলো ও পানির প্রতিফলন কীভাবে মানুষের চোখে একটি জীবন্ত প্রাণীর অবয়ম তৈরি করতে পারে, ‘নাগার চোখ’ তারই এক চমকপ্রদ উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ায় দুই সপ্তাহের বিশেষ ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট অভিযানে ১ হাজার ৩২৮ জনকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। ১ থেকে ১৪ আগস্ট পরিচালিত ‘অপারেশন সেফ কমিউনিটি - ওয়াশিংটন, ডি.সি.’ অভিযানের তথ্য সোমবার জানিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জনের যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড অথবা চলমান ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, অপহরণ, ডাকাতি, পরিচয় চুরি, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং হিট অ্যান্ড রানসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ বা রেকর্ড রয়েছে। অভিযানটির মূল লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটন ডিসির আশপাশের মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার বিভিন্ন এলাকা। তবে আইসিই কর্মকর্তারা দুই অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য এলাকাতেও অভিযান চালান। ডিএইচএস জানিয়েছে, কিছু এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে স্যাংচুয়ারি নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও এসব আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে এমএস-১৩, ১৮থ স্ট্রিট গ্যাং এবং ট্রেন দে আরাগুয়া নামে পরিচিত ট্রান্সন্যাশনাল গ্যাংয়ের সদস্যরাও ছিলেন বলে ডিএইচএস দাবি করেছে। অভিযানে ভার্জিনিয়ার চেস্টারফিল্ড কাউন্টিতে এল সালভাদরের নাগরিক এয়গনার উইলফ্রেডো হুয়েজো-মোরানকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে রিচমন্ডে হত্যা ও আগ্নেয়াস্ত্রসংক্রান্ত মামলায় স্থানীয় পুলিশের ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তাকে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইসিই। মেরিল্যান্ডের উইকোমিকো কাউন্টিতে আটক হন হাইতির নাগরিক অ্যাকশনেল পিয়ের। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের আগের রেকর্ড রয়েছে। ভার্জিনিয়ার হ্যারিসনবার্গে আটক হন্ডুরাসের নাগরিক এসত্রেয়া রেয়েস-ফুনেজের বিরুদ্ধে ফেলোনি হিট অ্যান্ড রান মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। এ ছাড়া ম্যানাসাসে এল সালভাদরের নাগরিক জার্মান মেহিয়া-বাইরেসকে আটক করা হয়। তাকে এমএস-১৩-এর সদস্য বলে দাবি করেছে ডিএইচএস। হায়াটসভিলে আটক এল সালভাদরের নাগরিক মাউরিসিও আন্তোনিও বারেরা-নাভিদাদকেও এমএস-১৩-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশন্স বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক প্যাট্রিসিয়া হাইড বলেন, দুই সপ্তাহের অভিযানে কর্মকর্তারা ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত ও আটক করতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছেন। তবে অভিযান নিয়ে ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। অ্যাটর্নি কার্লোস জুরাদো বলেন, বড় আকারের অভিযান আগের তুলনায় কমলেও কিছু আটক অভিযান এখন কম দৃশ্যমানভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এসব ঘটনায় বলপ্রয়োগের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জুরাদো তার এক মক্কেল হোসে মেহিয়া হার্নান্দেজের ঘটনা তুলে ধরে দাবি করেন, আইসিই তাকে আটক করার সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে হার্নান্দেজ হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে পান এবং তার মুখে গুরুতর আঘাত ও ফোলা ছিল। হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার এই অভিযান জুলাইয়ে জর্জিয়ায় চালানো একই ধরনের ‘অপারেশন সেফ কমিউনিটি’ অভিযানের পরপরই হয়েছে। জর্জিয়ায় ওই অভিযানে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম আগস্ট মাসের জন্য রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সোমবার জাতীয়ভাবে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল গ্যালনপ্রতি ৪.০৫ ডলার, যা বছরের এই সময়ে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ও তেল সরবরাহে অস্থিরতার কারণে সামনে দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকেরা। অঙ্গরাজ্যভেদে পরিস্থিতি আরও কঠিন। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের অনেক এলাকায় গ্যালনপ্রতি গ্যাসের দাম ইতোমধ্যে ৫ ডলারের ওপরে উঠেছে। এ এ এ -এর তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় গড় দাম ছিল ৪.১০ ডলার, যা ওই তারিখের জন্য রেকর্ড সর্বোচ্চ। চলতি আগস্টে গড় দাম ৪.০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২২ সালের আগস্টের ৩.৯৭ ডলারের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানি বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হানের মতে, শুধু অপরিশোধিত তেলের দাম নয়, বিশ্বজুড়ে রিফাইনারি সক্ষমতার ওপর চাপও গ্যাসের দাম বাড়ার বড় কারণ হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ধারাবাহিক হামলার কারণে রাশিয়ার বেশ কিছু রিফাইনারি সক্ষমতা ব্যাহত হয়েছে। ফলে পরিশোধিত জ্বালানি, বিশেষ করে গ্যাসোলিন ও ডিজেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে। ডি হান বলেন, রাশিয়া বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধনকারী দেশগুলোর একটি। দেশটির রিফাইনারিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুধু অপরিশোধিত তেলের বাজার নয়, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারেও চাপ বাড়ছে। ডিজেলের বাজারে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট। ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু এলাকায় ডিজেলের দাম আবার গ্যালনপ্রতি ৭ ডলারের ওপরে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডিজেলের গড় দামও গত এক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ৮০ ডলারের ওপরে থাকায় তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের পাম্পের দামে। দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন স্বাভাবিক সময়ের প্রায় আড়াই সপ্তাহ আগেই শীতকালীন ব্লেন্ডের গ্যাসোলিন বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এই ধরনের গ্যাসোলিন উৎপাদন তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল হওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, সামনে ঝুঁকি এখনও অনেক। যুক্তরাষ্ট্রে হারিকেন মৌসুম চলমান থাকায় গালফ কোস্টের রিফাইনারি ও জ্বালানি সরবরাহ যেকোনো সময় ব্যাহত হতে পারে। একই সময়ে ভূরাজনৈতিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে তেলের বাজারে অস্থিরতাও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভও কমছে। অনুমোদিত তেল ছাড়ের কারণে মজুত প্রায় ২৯৫ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে তা আরও কমে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ব্যারেলে নামতে পারে বলে জ্বালানি বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হান জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে আগস্ট ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল গ্যাসোলিনের মাস হতে চলেছে। বিশেষ করে লেবার ডে উইকেন্ড সামনে থাকায় জাতীয় গড় দাম প্রথমবারের মতো ৪ ডলারের ওপরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে লেবার ডে-তে সর্বোচ্চ জাতীয় গড় দাম ছিল ২০১২ সালে, যখন তা ৩.৮৩ ডলারে উঠেছিল। জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা কতদিন থাকবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ, ইরানকে ঘিরে সংঘাত, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, রিফাইনারি সক্ষমতা এবং হারিকেন মৌসুম - সবগুলো বিষয় একসঙ্গে গ্যাসের দামের ওপর চাপ তৈরি করছে। ফলে আগামী কয়েক মাসেও যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িচালকদের জন্য পাম্পের দাম বড় একটি উদ্বেগ হয়ে থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় উঠে প্রেম নিবেদনের ঘটনায় অভিযুক্ত এক দুঃসাহসী যুগল ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে হাজিরা দিয়েছেন। গত সোমবার আদালতে হাজিরার পর এই জুটির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর ক্ষেত্রে আইনি সমঝোতা বা প্লি ডিল হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। আর এই খবর শোনার পরই আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে প্রকাশ্যেই অন্তরঙ্গভাবে উদযাপন করতে দেখা গেছে তাদের। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ৩৩ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ এবং তার ৩২ বছর বয়সী প্রেমিক ইভান কুজনেটসভ গত জুলাই মাসে নিজেদের বাগদানের জন্য এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে উঠেছিলেন। এই বিপজ্জনক ও বেআইনি কাজের জন্য তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। সোমবার শুনানির পর আদালত ভবনের বাইরে একটি হটডগের দোকানের কাছে তারা একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। সে সময় তাদের হাতে খেলনা হাতকড়া পরা ছিল। প্রায় আধা মিনিট ধরে তারা একে অপরকে চুম্বন করেন। এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের প্রায় এক হাজার ফুটেরও বেশি উঁচুতে ইভান হাঁটু গেড়ে বসে অ্যাঞ্জেলাকে যে আংটি দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটিও এদিন প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রদর্শন করেন অ্যাঞ্জেলা। তবে আদালতে যাওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি অদ্ভুত ভিডিও পোস্ট করেছিলেন অ্যাঞ্জেলা। সেখানে তাকে একটি ল্যাটেক্স বডিস্যুট পরে হাতে ছুরি নিয়ে তার প্রেমিকের মাথায় জিহ্বা লাগাতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন কোর্ট প্রেপ বা আদালতের প্রস্তুতি। শুনানির দিন বিচারক বেভারলি টাথামের সামনে আইনজীবীদের পেছনে দাঁড়িয়ে তারা একে অপরের হাত ধরে রেখেছিলেন। শুনানিতে ম্যানহাটনের সহকারী ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসিকা ওয়াল্ডম্যান জানান, এই যুগলের সঙ্গে তাদের সক্রিয় আইনি সমঝোতার আলোচনা চলছে। এই সম্ভাব্য চুক্তির শর্তগুলো ঠিক কী হতে পারে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে চুরি এবং বেপরোয়াভাবে জীবনের ঝুঁকি সৃষ্টির মতো যেসব গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, গত মাসে নিউইয়র্কের অন্যতম প্রধান এই স্থাপনায় ওঠার সময় তারা প্রায় দুই হাজার ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি করেছেন। এছাড়া তাদের কারণে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সম্প্রচার অ্যান্টেনার বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই রাত ৯টার দিকে ওই যুগল এক হাজার ৪৫৪ ফুট উঁচু এই ভবনে প্রবেশের জন্য টিকিট কাটেন। এরপর তারা সেখানে সারারাত লুকিয়ে থাকেন। পরদিন ভোর ৫টার দিকে তারা ভবনের ১০২ তলার একটি হ্যাচ বা ঢাকনা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এরপর তারা ভবনের অ্যান্টেনা বেয়ে উঠতে শুরু করেন এবং সেখানে একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেন। ব্যানারে লেখা ছিল, যখন ক্ষমতার প্রতি ভালোবাসার চেয়ে ভালোবাসার ক্ষমতা জয়ী হয়, তখন বিশ্ব শান্তি লাভ করে। এই মুহূর্তের ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং ওই যুগল নিজেরাই ধারণ করেছিলেন। অ্যান্টেনা থেকে নিচে নামার পর ইভান একটি কালো বিড়ালের মুখোশ পরা অ্যাঞ্জেলাকে হাঁটু গেড়ে বসে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইভান ভানিয়া বিয়ারকাস নামেও পরিচিত। এই ঘটনার পর অ্যাঞ্জেলা এবং ইভানের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চুরি, বেপরোয়া আচরণ এবং অপরাধমূলক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। এর পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে চুরির সরঞ্জাম রাখা এবং অবৈধভাবে অনধিকার প্রবেশের মতো ছোটখাটো অভিযোগও রয়েছে। উল্লেখ্য, এই যুগল ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্সের একটি প্রামাণ্যচিত্র স্কাইওয়াকার্স: অ্যা লাভ স্টোরি এর মূল চরিত্র ছিলেন। প্রামাণ্যচিত্রটি ওই বছর সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছিল। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের আবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট