যমজ বোনের সঙ্গে পরিচয় মিলে যাওয়ায় ইভিসা বিভ্রাটে ব্রিটেনে ফিরতে পারলেন না নারী
যুক্তরাজ্যে আট বছর ধরে বসবাস করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক নারী স্পেন থেকে দেশে ফেরার পথে ইভিসা ব্যবস্থার বিভ্রাটের কারণে বিমানে উঠতে পারেননি। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থায় তার পরিচয় তার অভিন্ন যমজ বোনের সঙ্গে গুলিয়ে যাওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়। নিদিয়া ওয়েব নামের ওই নারীকে পরে জানানো হয়, যমজদের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ব্যবস্থায় পরিচিত প্রযুক্তিগত ত্রুটি।
চলতি মাসের শুরুতে স্পেনে ছুটি কাটিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরার চেষ্টা করেন নিদিয়া ওয়েব। বিমানবন্দরের বোর্ডিং গেটে তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। তার নির্ধারিত বিমানটি তাকে ছাড়াই চলে যায়। এরপর তিনি সমস্যাটি সমাধানের জন্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সহায়তা নম্বরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যোগাযোগ করেন।
ওয়েব জানান, তার ইলেকট্রনিক স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা তার নিজের তথ্যের পরিবর্তে অভিন্ন যমজ বোনের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল। ফলে তার বসবাসের মর্যাদার তথ্য তার পরিচয়ের সঙ্গে সঠিকভাবে মেলানো সম্ভব হচ্ছিল না। পরে তাকে জানানো হয়, যমজদের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ব্যবস্থায় এমন প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ওয়েব বলেন, সমস্যাটি সমাধানের জন্য তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ফোনে যোগাযোগ না করলে কতদিন বিদেশে আটকে থাকতে হতো, তা তিনি জানেন না। তার অভিজ্ঞতাটি রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যমের কাছেও তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনাটি ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থায় যমজ ব্যক্তিদের পরিচয় সঠিকভাবে আলাদা করার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।
২০২৪ সালের শেষ দিকে বিদেশি নাগরিকদের জন্য কাগজের নথির ব্যবহার কমিয়ে ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থা চালু করা হয়। এরপর লাখ লাখ মানুষ ইভিসা ব্যবস্থায় নিবন্ধিত হয়েছেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে কাজ, পড়াশোনা, বাসা ভাড়া নেওয়া এবং দেশটিতে ভ্রমণের অধিকার প্রমাণ করা যায়। তবে ইভিসা ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ভুলের কারণে কিছু মানুষ এসব অধিকার প্রমাণ করতে সমস্যায় পড়েছেন।
এর আগে এমন ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে বিদেশে থাকা ব্যক্তিরা ইভিসা নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে যুক্তরাজ্যে ফিরতে পারেননি। আবার কিছু ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির পরিচয় অন্য ব্যক্তির সঙ্গে ভুলভাবে যুক্ত হয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনার কারণে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থার তথ্যের নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি প্রচার সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মনিক হকিন্স বলেন, অন্য ব্যক্তির অভিবাসন মর্যাদা কারও ইভিসা হিসাবের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার মতো অনেক ঘটনা তারা দেখেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বারবার উদ্বেগ জানানোর পরও এমন সমস্যা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
হকিন্সের মতে, ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থাকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এটি মানুষের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ভ্রমণের সময় ইভিসার তথ্য সঠিকভাবে কাজ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন।
এর আগেও যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থায় তথ্য বিভ্রাটের ঘটনা সামনে এসেছে। একটি ঘটনায় কানাডার এক নারীর পাসপোর্টের তথ্য, অভিবাসন ইতিহাস ও যোগাযোগের তথ্য ভুলভাবে রাশিয়ার এক নারীর কাছে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ঘটনার মাধ্যমে দুই ব্যক্তির তথ্য একে অপরের সঙ্গে ভুলভাবে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
গত মাসে মানবাধিকারকর্মীরাও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থার সমস্যাগুলো নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা ও অভিযোগের সংখ্যা প্রকাশের দাবি করেন। একই সঙ্গে তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়েও তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এক কোটির বেশি মানুষ ইতোমধ্যে সফলভাবে ইভিসা ব্যবহার করে নিজেদের অভিবাসন মর্যাদা প্রমাণ করেছেন। সংস্থাটি বলেছে, ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং ইভিসা ব্যবহারকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা সহজলভ্য রাখার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে ভুল শনাক্ত হয়, সেগুলোর অধিকাংশই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করা হয়। তবে নিদিয়া ওয়েবের অভিজ্ঞতা ইভিসা ব্যবস্থায় যমজ ব্যক্তিদের পরিচয় সঠিকভাবে শনাক্ত ও আলাদা রাখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সমস্যার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreপাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের চিকিৎসা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনে ইমরানের চিকিৎসা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এবং দীর্ঘদিনের একাকী বন্দিত্বের অবসান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেমিমা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইমরান খানের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটেন আর কতদিন নীরব থাকবে। জেমিমার দাবি, ইমরান দীর্ঘদিন ধরে একাকী বন্দিত্বে রয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের কাছে যাওয়ার সুযোগসহ বিভিন্ন মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বিষয়টিকে শুধু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে না দেখে মানবাধিকার সংকট হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। আদালত তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে চিকিৎসার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুক্ত থাকার বিষয়টিও নির্দেশনায় ছিল। তবে আদালতের নির্দেশের পর ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের পরিবর্তে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণের কথা বলা হয়। এ নিয়ে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) আপত্তি জানায় এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়। পরে ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে বেশিক্ষণ রাখা হয়নি। সরকারি মেডিকেল টিমের মূল্যায়নের পর তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। ইমরানের পরিবার ও পিটিআই তার চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার তার প্রতি চিকিৎসা অবহেলা ও একাকী বন্দিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিশ্বের সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়কদের একটি দলও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি দিয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় আবেদন। তারা ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। জেমিমা তার দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিমের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন। তাদের বাবা ইমরান খানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সাক্ষাতের সুযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। জেমিমার সঙ্গে ইমরানের বিয়ে হয় ১৯৯৫ সালে এবং ২০০৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। তাদের দুই ছেলে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তারের পর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাবন্দি। তার দল ও সমর্থকেরা এসব মামলার অনেকগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। পাকিস্তান সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিয়ের দিন মেয়েকে দেয়া বাবার কথা, ‘তোমাকে আমরা বিক্রি করে দিয়েছি’
যমজ বোনের সঙ্গে পরিচয় মিলে যাওয়ায় ইভিসা বিভ্রাটে ব্রিটেনে ফিরতে পারলেন না নারী
সন্তান নিতে দরিদ্রদের নিষেধ করা উচিত, আর্জেন্টাইন টিকটকারের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক
পূর্ব লন্ডনের একটি ভবন, যেখানে একসময় মদের বার ও আড্ডার আয়োজন ছিল, সেটি এখন মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবনটি কিনে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেল। তাঁর সঙ্গে যুক্ত মানবিক কার্যক্রমের দাবিগুলোর কিছু অংশ হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রকাশিত তথ্যেও পাওয়া যায়। জিয়া বিন রাসেলের উদ্যোগে ভবনটিতে বর্তমানে আজান, কুরআন তিলাওয়াত ও জামাতে নামাজ অনুষ্ঠিত হয় বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ভবনটির আগের ব্যবহার, বর্তমান বাজারমূল্য ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হওয়া এবং জিয়া বিন রাসেলের ব্যক্তিগত অর্থায়নের পরিমাণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে তাঁর মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার তথ্য অবশ্য সংগঠনটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে রয়েছে। সংস্থাটি নিজেদের সরকার নিবন্ধিত, অরাজনৈতিক ও অলাভজনক মানবিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘হাফেজ্জী স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ চালু করা হয়েছে। সংস্থাটির সাম্প্রতিক কার্যক্রমের তালিকায় প্রতিবন্ধী পরিবারকে সহায়তা, সেলাই মেশিন বিতরণ, বন্যার্তদের ত্রাণ এবং চট্টগ্রামের বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো কর্মসূচির তথ্য রয়েছে। গাজা ও সুদানেও খাদ্য, পানি ও অন্যান্য মানবিক সহায়তার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তার বাইরে প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা সহায়তা, হুইলচেয়ার ও অন্যান্য সহায়ক উপকরণ, থেরাপি সাপোর্ট এবং পরিবারকে সচেতন করার কার্যক্রমও এর আওতায় রয়েছে। নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিনসহ আয়মুখী উপকরণ দেওয়ার কার্যক্রমও সংগঠনটির সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ২০টি পরিবারের হাতে সেলাই মেশিন দেওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে তারা। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গাজা ও সুদানে সহায়তার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালে গাজায় পানি ও খাদ্য বিতরণ এবং সুদানে খাদ্য সহায়তার একাধিক কর্মসূচির উল্লেখ রয়েছে। জিয়া বিন রাসেলের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব কার্যক্রমের কত অংশ পরিচালিত হয়েছে বা তিনি মোট কত অর্থ ব্যয় করেছেন, সে বিষয়ে স্বাধীন আর্থিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর ব্যক্তিগত অনুদানের পরিমাণ বা সম্পত্তির বাজারমূল্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই। তবে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটির প্রকাশিত কার্যক্রম থেকে স্পষ্ট যে, প্রতিবন্ধী সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গাজা ও সুদানের মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংগঠনটির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
সাত বছর পর ভারতে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, সঙ্গে ৪০০ সদস্যের প্রতিনিধি দল
ভুল নম্বরে পাঠানো হলো শিশুর জন্মের খবর, তবুও হাসপাতালে হাজির সেই অচেনা দুই ব্যক্তি
২৫ বছর বয়সে একসঙ্গে ৯ টি সুস্থ সন্তানের জন্ম! বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন হালিমা সিসে
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত ও ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকা বিয়ের আয়োজন অবশেষে এগোতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের অন্তত ১৫০ তরুণী, যাদের ভারতের বিভিন্ন শহরের তরুণদের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা, তৃতীয় দেশ হয়ে ভারতে পৌঁছেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালানোর পর দুই দেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। এরপর ওয়াঘা-আটারি সীমান্তপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা ব্যবস্থাতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এর ফলে ভারতে বিয়ে করার কথা থাকা বহু পাকিস্তানি তরুণীর বিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বদলাতে সিন্ধি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের গোতকিতে অবস্থিত শাদানি দরবারের আধ্যাত্মিক নেতা সন্ত যুধিষ্ঠিরলালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর উদ্যোগে ভারতে বিয়ে করতে আগ্রহী পাকিস্তানি কনেদের একটি তালিকা তৈরি করে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে ভারত সরকার তাদের ভিসা দেওয়ার অনুমতি দেয়। তবে শর্ত ছিল, পাকিস্তান থেকে সরাসরি স্থলপথে নয়, আকাশপথে ভারতে প্রবেশ করতে হবে। দুই দেশের সরাসরি বিমান যোগাযোগও সীমিত থাকায় কনেদের অনেকে ওমানের মাসকাট, শ্রীলঙ্কার কলম্বো, বাংলাদেশ, দুবাই ও কাতার হয়ে ট্রানজিট ফ্লাইটে ভারতে পৌঁছান। নাগপুর, জোধপুর, আহমেদাবাদ, রায়পুর, পুনে ও ভোপালসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে এসব বিয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। নাগপুরের সিন্ধি সম্প্রদায়ের নেতা রাজেশ ঝাম্বিয়ার দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ পাকিস্তানি কনে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ভারতে পৌঁছেছেন। শুধু নাগপুরেই ১৫টি বিয়ে হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে অপেক্ষার পালা এখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তানে আরও প্রায় ৩০০ তরুণী ভারতে বিয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন বলে সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন। তাদের জন্যও ভিসার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও এসব আন্তদেশীয় বিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের একটি ভিন্ন চিত্র সামনে এনেছে।
ইরানের টিভিতে ব্যারন ট্রাম্পকে ‘হত্যার’ ঘোষণা, ১ কোটি ডলারের পুরস্কার দাবি
ইসরায়েলি কারাগারে ৩০ মাস, ১৪০ কেজি থেকে অর্ধেক ওজনে নেমে এলেন ফিলিস্তিনি বন্দি; হারালেন স্ত্রীকেও