সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

সন্তান নিতে দরিদ্রদের নিষেধ করা উচিত, আর্জেন্টাইন টিকটকারের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৯:৪০
মৌলিক চাহিদা পূরণে অক্ষম ব্যক্তিদের সন্তান নেওয়া নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কের মুখে আর্জেন্টিনার টিকটকার কেইলা রদ্রিগেজ। ছবি: সংগৃহীত
মৌলিক চাহিদা পূরণে অক্ষম ব্যক্তিদের সন্তান নেওয়া নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কের মুখে আর্জেন্টিনার টিকটকার কেইলা রদ্রিগেজ। ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার টিকটকার কেইলা রদ্রিগেজের একটি মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত প্রায় এক মিনিটের একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, যারা নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন না, তাদের সন্তান নেওয়া উচিত নয়। ভিডিওটি পরে আবার ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। 

 

রদ্রিগেজের যুক্তি ছিল, সন্তান লালনপালনে জন্মের পর থেকেই খাবার, দুধ, পোশাকসহ বিভিন্ন মৌলিক খরচ রয়েছে। শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা, জুতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ও বাড়ে। নিজের বক্তব্যে তিনি বিশেষভাবে এমন মানুষের সন্তান নেওয়ার সমালোচনা করেন, যারা নিজেরাই পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করতে পারেন না।

 

তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। একদল ব্যবহারকারী রদ্রিগেজের বক্তব্যকে শ্রেণিবৈষম্যমূলক ও দরিদ্র মানুষকে হেয় করার মতো মন্তব্য হিসেবে সমালোচনা করেন। অন্যদিকে কেউ কেউ বলেন, সন্তান নেওয়ার আগে বাবা-মায়ের আর্থিক সক্ষমতা ও শিশুর মৌলিক চাহিদা পূরণের সামর্থ্য বিবেচনা করা দায়িত্বশীলতার অংশ।

 

রদ্রিগেজের বক্তব্যের একটি অংশে তিনি বলেন, পেটে খাবার না থাকলে পৃথিবীতে আরও ক্ষুধা নিয়ে আসা উচিত নয়। পরে তিনি সন্তান নেওয়ার আগে নিজের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করার আহ্বান জানান। এসব বক্তব্যই ভিডিওটি ঘিরে বিতর্ককে আরও তীব্র করে। 

 

তবে বিতর্কটি শুধু সন্তান পালনের খরচ নিয়ে নয়। দারিদ্র্য, পারিবারিক পরিকল্পনা, সন্তান নেওয়ার অধিকার এবং আর্থিক সক্ষমতার সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, আর্থিক পরিকল্পনার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা এক বিষয়, আর একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক শ্রেণির মানুষকে সন্তান নেওয়া থেকে বিরত থাকার কথা বলা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

 

ভিডিওটি প্রথম প্রকাশের কয়েক মাস পরও রদ্রিগেজের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে আর্জেন্টিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো প্রশ্নটিই নতুন করে সামনে এসেছে: পরিবার শুরু করার আগে আর্থিক স্থিতিশীলতাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত?

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাবার বিদায়ী বক্তব্য। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের দিন মেয়েকে দেয়া বাবার কথা, ‘তোমাকে আমরা বিক্রি করে দিয়েছি’

বিয়ের দিন মেয়েকে বিদায় দেওয়ার সময় এক মুসলিম বাবার বলা কিছু কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রচারিত ভিডিওতে ওই বাবা মেয়েকে বলেন, বিয়ের পর সে আর আগের মতো এই পরিবারের সদস্য হিসেবে ফিরবে না, বরং অতিথি হিসেবে আসবে।   বাবার বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়েটি এখন তার স্বামীর পরিবারের অংশ। এমনকি তিনি বলেন, ‘তোমাকে তারা কিনেছে, আমরা তোমাকে বিক্রি করে দিয়েছি।’   ভিডিওটি কোথায় এবং কবে ধারণ করা হয়েছে, কিংবা সংশ্লিষ্ট বাবা ও মেয়ের পরিচয় কী, তা নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে ঘটনাটিকে পশ্চিম তীরের একটি বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করা হলেও এর স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   তবে ভিডিওতে উঠে আসা বক্তব্যটি বিয়ের পর একজন নারীর নিজের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ও পরিচয় কীভাবে বদলে যায়, সেই পুরোনো সামাজিক ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে মেয়েকে এক পরিবার থেকে আরেক পরিবারের কাছে ‘হস্তান্তর’ করার ধারণা নিয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করেছেন, এমন ভাষা নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতা ও পারিবারিক পরিচয়কে সংকুচিত করে। আবার কেউ কেউ এটিকে নির্দিষ্ট একটি সামাজিক ও পারিবারিক রীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।   তবে একটি ভিডিও বা বিচ্ছিন্ন বক্তব্যের ভিত্তিতে পুরো মুসলিম সমাজ কিংবা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সব পরিবারের বিয়ের সংস্কৃতি সম্পর্কে সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। বিয়ে, পারিবারিক সম্পর্ক ও নারীর সামাজিক অবস্থান নিয়ে রীতিনীতি অঞ্চল, পরিবার ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১১:২০
যুক্তরাজ্যের ইভিসা ব্যবস্থার বিভ্রাটে স্পেনে আটকে পড়া নিদিয়া ওয়েব দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

যমজ বোনের সঙ্গে পরিচয় মিলে যাওয়ায় ইভিসা বিভ্রাটে ব্রিটেনে ফিরতে পারলেন না নারী

মৌলিক চাহিদা পূরণে অক্ষম ব্যক্তিদের সন্তান নেওয়া নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কের মুখে আর্জেন্টিনার টিকটকার কেইলা রদ্রিগেজ। ছবি: সংগৃহীত

সন্তান নিতে দরিদ্রদের নিষেধ করা উচিত, আর্জেন্টাইন টিকটকারের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক

পূর্ব লন্ডনের মদের বার কিনে সেটিকে মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেল। ছবি: সংগৃহীত

৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে মদের বার কিনে মসজিদ বানালেন বাংলাদেশের জিয়া

ব্রিকস সম্মেলনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়ে করমর্দন করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: সংগৃহীত
সাত বছর পর ভারতে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, সঙ্গে ৪০০ সদস্যের প্রতিনিধি দল

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন। তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধি দল নিয়ে ভারতে আসতে পারেন। এ সফর হলে সাত বছর পর এটি হবে শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নতুন ইঙ্গিত হিসেবেও সম্ভাব্য এই সফরকে দেখা হচ্ছে।   আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২০ সালে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ফলে সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি শুধু ব্রিকসের আলোচনার জন্য নয়, দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   ভারতের সরাসরি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের সফরকে ঘিরে চীনা কর্মকর্তারা হোটেল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা চূড়ান্ত করার কাজ করছেন। আরও দুটি ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা থাকতে পারেন। ২০১৯ সালে তাঁর শেষ ভারত সফরের সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যসংখ্যা ২০০ জনেরও কম ছিল।   সম্মেলনের পাশাপাশি ভারত ও চীনের কর্মকর্তারা দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্য কীভাবে সামলানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।   তবে শি জিনপিংয়ের সফরের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয় এখনো নির্ধারিত হয়নি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ব্রিকস সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং চলতি বছরের সম্মেলনের আয়োজক ভারতকে সফলভাবে সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে সমর্থন করে। তবে শি জিনপিংয়ের ভারত সফর সম্পর্কে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই বলে জানানো হয়েছে।   ভারত ও চীন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুটি দেশ এবং উভয়ই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। হিমালয় অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার বড় অংশ এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত নয়। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় ও চার চীনা সেনা নিহত হন। এরপর দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা তৈরি হয়।   ২০২৪ সালের অক্টোবরে দুই দেশ সেনা প্রত্যাহার নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছালেও সীমান্ত নিয়ে মতপার্থক্য পুরোপুরি দূর হয়নি। চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে একটি প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মুখোমুখি হওয়ার খবর প্রকাশের পরও সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার গুরুত্বের কথা জানিয়েছিল ভারত।   এদিকে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেছেন। সেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। এর মধ্যেই শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের খবর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতিও ভারত ও চীনের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে অভিন্ন অবস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি দুই দেশই বৈশ্বিক চাপের বাইরে নিজেদের সহযোগিতা এগিয়ে নিতে আগ্রহী কি না, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১২:৪১
ভুল নম্বরে বার্তা পেয়ে হাসপাতালে এসে নবজাতকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করছেন দুই ভাই ডেনিস কোমো ও তাঁর ভাই। ছবি: সংগৃহীত

ভুল নম্বরে পাঠানো হলো শিশুর জন্মের খবর, তবুও হাসপাতালে হাজির সেই অচেনা দুই ব্যক্তি

একসঙ্গে জন্ম নেওয়া সুস্থ ৯ সন্তান ও স্বামীর সঙ্গে মালির হালিমা সিসে। ছবি: সংগৃহীত

২৫ বছর বয়সে একসঙ্গে ৯ টি সুস্থ সন্তানের জন্ম! বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন হালিমা সিসে

ভিসা জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিয়ে করতে ভারতে পৌঁছানো এক পাকিস্তানি কনে। ছবি: সংগৃহীত

সীমান্ত বন্ধে থমকে ছিল বিয়ে, তৃতীয় দেশ ঘুরে ভারতে পৌঁছালেন ১৫০ পাকিস্তানি কনে

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হত্যার হুমকি দেওয়া ভিডিও প্রকাশের পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নজরদারিতে ব্যারন ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের টিভিতে ব্যারন ট্রাম্পকে ‘হত্যার’ ঘোষণা, ১ কোটি ডলারের পুরস্কার দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি ভিডিও নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা হবে?’ শিরোনামের ওই ভিডিওতে তাকে নজরদারির দাবি করা হয় এবং তার নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে নানা তথ্য দেখানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, তারা ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত এবং সুরক্ষার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি তদন্ত করে।    ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ৩-এ প্রচারিত ভিডিওটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ব্যারনের বিশ্ববিদ্যালয়, নিরাপত্তার গাড়ি এবং সিক্রেট সার্ভিসের অবস্থান সম্পর্কে দাবি তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে তার চলাফেরা ‘সম্পূর্ণভাবে নজরদারিতে’ থাকার কথাও বলা হয়েছে।    ভিডিওতে ব্যারনকে লক্ষ্য করে ১ কোটি ডলারের পুরস্কারের দাবি করা হয়েছে বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এই অর্থের ঘোষণা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ভিডিওতে ব্যারনের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও নিরাপত্তা এড়িয়ে তার কাছে পৌঁছানোর বিষয়ে আরও কিছু দাবি করা হলেও এসব তথ্যের সত্যতাও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।    মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং জানিয়েছেন, সংস্থাটি ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত এবং সুরক্ষার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত যেকোনো বিষয় তদন্ত করে। তবে অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে ব্যারনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।  ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে এটি প্রথম এমন হুমকি নয়। এর আগে জুলাইয়ে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গণমাধ্যমে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একই ধরনের হুমকিমূলক ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই ভিডিওতেও মেলানিয়ার চলাফেরা ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দাবি করা হয় এবং শেষদিকে ব্যারনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। সিক্রেট সার্ভিস তখনও বিষয়টি তদন্তের কথা জানিয়েছিল।    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে এমন প্রচার নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে ইরান থেকে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করেও হুমকির অভিযোগ সামনে এসেছে। ২০২৪ সালে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ইরান থেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত হওয়ার পর সিক্রেট সার্ভিসকে সতর্ক করা হয়েছিল।    তবে নতুন ভিডিওটির সব দাবি বাস্তব বা কার্যকর হামলার পরিকল্পনার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিডিওটির কিছু তথ্যকে অতিরঞ্জিত বা যাচাইহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রচারিত দাবির সঙ্গে বাস্তব নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা এক করে দেখার সুযোগ নেই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৯:৪১
৬০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নাগরিক আব্দুল জাব্বার জারার I ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি কারাগারে ৩০ মাস, ১৪০ কেজি থেকে অর্ধেক ওজনে নেমে এলেন ফিলিস্তিনি বন্দি; হারালেন স্ত্রীকেও

যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

একই আইন, ভিন্ন বিচার: যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ

ভারতে সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবে কোটি টাকায় অণ্ডকোষ বিক্রির লোভে ১৭ বছরের কিশোরকে হত্যা

ভারতে কোটি টাকায় অণ্ডকোষ বিক্রির লোভে ১৭ বছরের কিশোরকে হ ত্যা

0 Comments