- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত অবস্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন চার তারকা জেনারেল ব্যারি আর. ম্যাকক্যাফ্রে। ম্যাকক্যাফ্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ১৫টি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার স্থায়ীভাবে হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার মতে, এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে ওয়াশিংটনকে নতুন করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে পশ্চিম সৌদি আরব, ইসরায়েল ও দক্ষিণ ইউরোপে নতুন সামরিক প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা করতে হতে পারে। ম্যাকক্যাফ্রে দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারে ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে উপসাগরীয় যুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রশাসনেও দায়িত্ব পালন করেন। তার এই মূল্যায়ন সামনে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর লজিস্টিক ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার সময়। পোস্টটিতে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পাল্টা হামলায় অঞ্চলটির মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ম্যাকক্যাফ্রের মতে, এর ফলে শুধু কয়েকটি সামরিক স্থাপনার বিষয় নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা ও কৌশলগত প্রভাবের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। তার বক্তব্যের সারকথা হলো, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক প্রবেশাধিকার সীমিত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বিকল্প ঘাঁটি ও নতুন সামরিক অংশীদার খুঁজতে হবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার বেইজিংয়ে বৈঠকে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি জনগণের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিতে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন। চীন সফরে বাদশাহ আবদুল্লাহ দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে জর্ডান ও চীনের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক আলোচনার পর বেইজিংয়ে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগামী বছর জর্ডান ও চীন তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। এই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দুই দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও খনিজ, কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, মানবসম্পদ ও সামাজিক কল্যাণসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ জানায়, তাদের অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে সবুজ অর্থনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য উন্নত শিল্পখাতেও সম্প্রসারিত হবে। বৈঠকে জর্ডান চীনের ‘ওয়ান-চায়না’ নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ নীতির আওতায় তাইওয়ানকে চীনের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে বেইজিং। এদিকে, ফিলিস্তিন ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়। জর্ডান ও চীন অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গাজায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে দুই দেশ। তাদের মতে, গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের পথেই এগোতে হবে। এ বৈঠকের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে জর্ডান ও চীনের অভিন্ন অবস্থানের পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় ‘ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা’ নামে পরিচিত নেগ্লেরিয়া ফাওলেরি তে আক্রান্ত হয়ে ৮ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, লেকে সাঁতার কাটার সময়ই শিশুটি এই প্রাণঘাতী অ্যামিবার সংস্পর্শে আসে। মৃত শিশুটির নাম লিলিয়ান স্মার্ট। লুইজিয়ানার রাস্টন এলাকার এই শিশুটি নিজের অষ্টম জন্মদিন পালনের পরদিন মারা যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। লুইজিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ জানিয়েছে, শিশুটির সংক্রমণ সম্ভবত লেক ক্লেইবোর্নে সাঁতার কাটার সময় হয়েছিল। রাস্টন শহর থেকে লেকটি প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছিল, রাজ্যে একজন বাসিন্দা নেগ্লেরিয়া ফাওলেরিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তখন রোগীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। নেগ্লেরিয়া ফাওলেরি একটি ক্ষুদ্র অ্যামিবা, যা সাধারণত উষ্ণ মিঠা পানিতে বসবাস করে। দূষিত পানি নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করলে এটি মস্তিষ্কে পৌঁছে প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস নামের গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দূষিত পানি গিলে ফেললে এই সংক্রমণ হয় না। অ্যামিবাটি সাধারণত নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। এটি একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের মধ্যে ছড়ায়ও না। এই রোগ অত্যন্ত বিরল হলেও মৃত্যুঝুঁকি খুব বেশি। লুইজিয়ানা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৩৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৮০টি নিশ্চিত সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি প্রাণঘাতী হয়েছে। অ্যামিবাটি সাধারণত ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উষ্ণ মিঠা পানিতে বেশি সক্রিয় থাকে। তাই গরমের সময় উষ্ণ হ্রদ, নদী, পুকুর ও অন্যান্য প্রাকৃতিক মিঠা পানিতে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। সংক্রমণের শুরুতে তীব্র মাথাব্যথা, জ্বর, বমি বমি ভাব ও বমি হতে পারে। পরে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি ও অচেতনতার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। উপসর্গ দ্রুত বাড়তে পারে। লিলিয়ানের মৃত্যুতে তার পরিবার শোক প্রকাশ করেছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মস্তিষ্কে এত গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল যে চিকিৎসার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। লুইজিয়ানার এই ঘটনা আবারও উষ্ণ মিঠা পানিতে সাঁতার কাটার সময় সতর্ক থাকার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে প্রাকৃতিক জলাশয়ে নাক দিয়ে পানি প্রবেশের ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ব্রাজিলে সাবেক সঙ্গীর হাতে অপহৃত এক তরুণী নার্সকে টানা পাঁচ দিন পর হাত-পা বাঁধা ও শেকলবদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। দেশটির আগুয়াস লিন্ডাস দে গোয়াস এলাকার একটি পরিত্যক্ত ও নোংরা বাড়ি থেকে ২৪ বছর বয়সী এমিলিয়ানে তামারা নুনেস কারভালহো নামের ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পুলিশের এই শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের দৃশ্যটি উঠে এসেছে, যেখানে ওই নারীকে চরম আতঙ্কিত অবস্থায় দেখা যায়। সংবাদমাধ্যম 'ও গ্লোবো'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট সন্তানদের বিষয়ে কথা বলার জন্য সাবেক সঙ্গী আইলটন রদ্রিগেজ ডি সুজার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ হন পেশায় নার্সিং টেকনিশিয়ান কারভালহো। কিন্তু আলোচনার বদলে সুজা তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে একটি গোপন আস্তানায় নিয়ে যায়। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সেখানে আটকে রেখে টানা পাঁচ দিন ধরে তাঁকে ধর্ষণ, নির্যাতন ও মাত্রাতিরিক্ত মাদক দেওয়া হয়। অবশেষে ২১ আগস্ট, শুক্রবার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীর আর্তচিৎকার শুনে পুলিশ একটি বেডরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে কারভালহোকে মুখে গ্যাস মাস্ক পরা এবং ভয়ে কাঁপতে দেখা যায়। মিলিটারি পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, "ভুক্তভোগী নারীকে মুখে কাপড় গোঁজা অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর হাত, পা এবং গলায় দড়ি, হাতকড়া ও শেকল পরানো ছিল। তাঁর শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল এবং শরীরে অক্সিজেনের অভাবের লক্ষণ স্পষ্ট ছিল।" ঘরে মজুত করা খাবার ও অন্যান্য আলামত দেখে পুলিশের ধারণা, সুজা তাঁকে আরও বেশ কয়েকদিন সেখানে আটকে রাখার পরিকল্পনা করেছিল। এই ঘটনায় গত শুক্রবার সুজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ ও অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও কারভালহো এখনো শারীরিক ব্যথা ও মাথা ঘোরার সমস্যায় ভুগছেন। গার্হস্থ্য সহিংসতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে তিনি তাঁর এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। ১৮ বছর বয়সে বিয়ে করা সুজার সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্ক তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভেঙে দেন। তিনি জানান, অল্প বয়সে বিয়ের কারণে তিনি সম্পর্কের অনেক সতর্কবার্তাই এড়িয়ে গিয়েছিলেন। কারভালহো বলেন, "আমি জানি না ওটা ভালোবাসা ছিল নাকি নেশা… ওটা ছিল একধরনের মানসিক নির্ভরশীলতা। ভালোবাসা অন্ধ হয়, আমরা তখন কিছুই দেখতে পাই না।"
উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা বা ফোবানার পরবর্তী নির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন মেরিল্যান্ডের কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ কাজল। দীর্ঘদিন ধরে ফোবানার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা থেকেই এবার ফোবানার নেতৃত্বে আরও বড় পরিসরে কাজ করার লক্ষ্য নিয়েছেন বলে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছেন তিনি। ফোবানার ৪০তম কনভেনশন ২০২৬ সালের ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই কনভেনশনকে ঘিরেই সংগঠনটির পরবর্তী নির্বাহী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। ফোবানার বর্তমান নির্বাহী কমিটির মেয়াদ ২০২৫-২০২৬ এবং বর্তমান কমিটিতে মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির প্রতিনিধি হিসেবে মোহাম্মদ কাজল নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন। আমেরিকা বাংলাকে মোহাম্মদ কাজল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফোবানার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সংগঠনটির কার্যক্রম, সম্ভাবনা এবং কমিউনিটির প্রত্যাশা সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা তৈরি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ফোবানাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে এবার তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কাজল বলেন, “আমি যেহেতু অনেকদিন ধরে ফোবানার সঙ্গে জড়িত রয়েছি, তাই ফোবানাকে আরও ভালো পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। উত্তর আমেরিকার আরও বেশি বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ফোবানার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং সংগঠনটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এবার সভাপতি পদে নির্বাচন করছি।” তিনি বলেন, ফোবানার কার্যক্রমে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, কমিউনিটির নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করা এবং ফোবানার কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দিতে চান। ফোবানার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া সদস্য সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে কাজল বলেন, যারা ফোবানার সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছেন, তারা তাঁর প্রার্থিতা ও পরিকল্পনা বিবেচনা করে তাকে সমর্থন করবেন বলে তিনি আশা করেন। ভোটার সদস্য সংগঠনগুলোর সমর্থন পেলে ফোবানার নেতৃত্বে থেকে সংগঠনটিকে আরও গতিশীল করার জন্য কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি। মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা: মোহাম্মদ কাজল মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির প্রতিষ্ঠাতা ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের একজন। সংগঠনটি মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছে। ফোবানার অফিসিয়াল তালিকাতেও মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি একটি সদস্য সংগঠন হিসেবে রয়েছে এবং বর্তমান নির্বাহী কমিটিতে এই সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে মোহাম্মদ কাজলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নোয়াখালীর সন্তান কাজল দীর্ঘদিন ধরে মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কমিউনিটি উদ্যোগেও তাকে সক্রিয়ভাবে দেখা গেছে। কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশি রাজনৈতিক পরিসরেও তিনি সক্রিয়। তিনি মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ফোবানায় তাঁর প্রার্থিতার বিষয়ে তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে কমিউনিটি সংগঠন ও ফোবানার কার্যক্রমকে সামনে রেখে কাজ করার লক্ষ্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। ফোবানার নেতৃত্বে নতুন পরিকল্পনার প্রত্যাশা: ফোবানার সভাপতি পদে নিজের প্রার্থিতা সম্পর্কে কাজল বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য শুধু একটি পদে দায়িত্ব নেওয়া নয়। বরং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি সংগঠন ও কমিউনিটিকে আরও কার্যকরভাবে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। তিনি মনে করেন, ফোবানার মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও ফোবানা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ফোবানার বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, সংগঠনটির নির্বাহী কমিটিতে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি, জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ও ট্রেজারারসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে। সদস্য সংগঠনগুলোর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাহী কমিটির নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক আকস্মিক ও মর্মান্তিক বজ্রপাতের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক মা ও তাঁর দুই বছর বয়সী শিশু কন্যা। গত রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ফ্লোরিডার মার্গেট এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের নাম কেনিয়া গ্লাসগো (৩১) এবং তাঁর যমজ কন্যাদের একজন কেনেডি। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহত কেনিয়ার স্বামী ক্যাম গ্লাসগো তাঁর নিজের চোখের সামনেই স্ত্রী ও সন্তানকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছেন। মার্গেট পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই জরুরি সেবাদানকারী কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং মা ও মেয়েকে সিপিআর (CPR) দেওয়া শুরু করেন। পরে দ্রুত তাঁদের আলাদা দুটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা উভয়কেই মৃত ঘোষণা করেন। এই অভাবনীয় দুর্ঘটনায় শোকে পাথর হয়ে গেছেন ক্যাম গ্লাসগো। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই ঘটনাকে '১২ লাখে একবার ঘটা' দুর্ঘটনা উল্লেখ করে লেখেন, “সবকিছু আমার চোখের সামনেই ঘটেছে। বজ্রপাত হওয়ার পর মাটিতে এর প্রভাব আমার গায়েও লাগে, আর তখনই পাশে তাকিয়ে দেখি তারা মাটিতে পড়ে আছে।” ক্যাম জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে কেনিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ৪ বছর আগে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিজের 'সেরা বন্ধু' এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হৃদয়ের অধিকারী মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি সবসময় নিজের আগে অন্যদের কথা ভাবতেন। এখন তাঁদের বেঁচে থাকা আরেক যমজ কন্যা কেনসলিকে তার বোনের শূন্যতা নিয়েই বড় হতে হবে। স্ত্রী ও হারানো সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্যাম আরও লেখেন, “আমার স্ত্রী ও সন্তান কোনো কষ্ট পায়নি। তারা যে সুন্দর আলো আমাদের জীবনে নিয়ে এসেছিল, সেটিই এখন আমাদের বেঁচে থাকার সম্বল।” তিনি আত্মীয় ও বন্ধুদের সমর্থনের ওপর ভরসা করে কন্যা কেনসলিকে নিয়ে সামনের দিনগুলো পার করার কথা জানিয়েছেন। বর্তমানে মার্গেট পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ন্যাশনাল লাইটনিং সেফটি কাউন্সিলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বছর যুক্তরাষ্ট্রে বজ্রপাতে নিহতের তালিকায় কেনিয়া এবং কেনেডির মৃত্যুটি যথাক্রমে ১১তম ও ১২তম ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আসা দুই বাংলাদেশির জন্য ২৩ আগস্টের রাতটি হয়ে উঠেছে দুই পরিবারের জীবনের সবচেয়ে বেদনাবিধুর সময়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নিউইয়র্ক ও টেনেসিতে পৃথক দুটি গুলির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি দুই প্রবাসী। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে রেস্টুরেন্টে গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী ইউসুফ রাজু। আর টেনেসির বেলস শহরে সশস্ত্র ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী মহসিন রানা। নিউইয়র্কের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও এক বাংলাদেশি। দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে এমন তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। দুই অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৃথকভাবে ঘটনাগুলোর তদন্ত করছে। তবে একই দিনে দুই বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্কে ইউসুফ রাজুর শেষ রাত: শনিবার রাত ১২ টার পর নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় ৮৪২ রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউয়ের আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজায় গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে কর্মরত ছিলেন বাংলাদেশি ইউসুফ রাজু। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গুলিতে রাজুর মাথায় আঘাত লাগে। তাকে ওয়ান ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি রাসেল পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। রাজুর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কাশানগর এলাকায় বলে বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে। প্রায় তিন বছর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। নিউইয়র্কে এসে তিনি ব্রুকলিনের ওই রেস্টুরেন্টে কাজ করছিলেন। তার স্ত্রী, তিন সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাংলাদেশে রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রাজুর মৃত্যুর ঘটনায় হামলার কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির একজন নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, এক ক্রেতা খাবারের বিল পরিশোধ না করে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে রাজু ও রাসেল তাকে বিল পরিশোধ করতে বলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি অস্ত্র বের করে গুলি চালায় বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে পুলিশ এখনো তদন্ত শেষ করেনি এবং হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ঘটনার পর হামলাকারী পালিয়ে যায়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা হামলার প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। টেনেসিতে মহসিন রানার কর্মস্থলেই মৃত্যু: নিউইয়র্কের ঘটনার পাশাপাশি একই রোববার ভোররাতে টেনেসির বেলস শহরে প্রাণ হারান আরেক বাংলাদেশি মহসিন রানা। তিনি ৫০৫৪ হাইওয়ে ৪১২ সাউথে অবস্থিত এক্সন সাফারি কর্নার মার্কেটের কনভেনিয়েন্স স্টোরে কাজ করতেন। স্থানীয় সময় রাত ২টা ৩৪ মিনিটে এক ক্রেতা ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। তিনি দোকানে ঢুকে ক্যাশ কাউন্টারের কাছে মহসিনকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ ও জরুরি সেবার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার মৃত্যু হয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি একটি সশস্ত্র ডাকাতির সঙ্গে সম্পর্কিত। সন্দেহভাজন ব্যক্তি দোকানে ঢুকে ডাকাতি করার পর মহসিনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে অন্য একটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটির তদন্তে টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা টিবিআইয়ের পাশাপাশি স্থানীয় ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সদস্যরা যুক্ত হয়েছেন। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করছেন। স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার আগে মহসিন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এক বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে প্রথমে ক্যাশে থাকা টাকা দাবি করে। মহসিন কোনো প্রতিরোধ না করে টাকা দিয়ে দেন। পরে বন্দুকধারী সিগারেট চাইলে তিনি সেটিও দেন। এরপরই তাকে গুলি করা হয় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। এই বর্ণনার বিস্তারিত অংশ পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে; তদন্তকারীদের আনুষ্ঠানিক বিবরণে এখনো ঘটনার সব খুঁটিনাটি প্রকাশ করা হয়নি। সাভার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, পরিবারের ভবিষ্যতের আশায় প্রায় সাত বছর আগে বাংলাদেশের ঢাকার সাভার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন মহসিন রানা। যুক্তরাষ্ট্রে এসে টেনেসিতে কাজ করছিলেন তিনি। বাংলাদেশে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছেন। দুই সন্তানের একজনের বয়স ১২ বছর, অন্যজনের ৫ বছর বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। মহসিনের মতো ইউসুফ রাজুও যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন উন্নত জীবনের প্রত্যাশায়। রাজুর পরিবারের সদস্যরাও বাংলাদেশে রয়েছেন। প্রবাসী জীবনে দুজনই কর্মজীবনের মাধ্যমে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পৃথক দুটি সহিংস ঘটনায় তাদের আকস্মিক মৃত্যু এখন দুই পরিবারের সামনে অনিশ্চয়তা ও গভীর শোকের বাস্তবতা তৈরি করেছে। একই দিনে দুই অঙ্গরাজ্যে নিউইয়র্ক ও টেনেসির ঘটনাগুলো একই দিনে এবং কাছাকাছি সময়ে ঘটলেও এখন পর্যন্ত দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্কের তথ্য সামনে আসেনি। নিউইয়র্কে রাজুর মৃত্যুর ঘটনায় এনওয়াইপিডি তদন্ত করছে। আর টেনেসিতে মহসিন রানার মৃত্যুর ঘটনায় টিবিআই ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দুটি ঘটনাই আবার সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রে রাতের শিফটে কাজ করা বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়টি। রেস্টুরেন্ট, গ্যাস স্টেশন ও কনভেনিয়েন্স স্টোরের মতো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অনেক বাংলাদেশি গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন। তবে এই দুই ঘটনার ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র বা কমিউনিটির জন্য আলাদা ঝুঁকির সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো নেই। দুই পরিবার এখন অপেক্ষা করছে প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া ও পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার জন্য। আর নিউইয়র্ক ও টেনেসির তদন্ত এগিয়ে গেলে দুই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা, হামলার কারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সরকারি গ্রোসারি স্টোর চালুর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন অভিবাসী মালিকানাধীন গ্রোসারি ও বডেগা ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ও ভর্তুকির সুবিধায় পরিচালিত এসব স্টোর স্থানীয় ছোট ব্যবসার সঙ্গে অন্যায্য প্রতিযোগিতা তৈরি করবে। মামদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিউইয়র্কের পাঁচ বরোতে পাঁচটি সরকারি গ্রোসারি স্টোর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব স্টোরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নির্দিষ্ট একটি তালিকা বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় থেকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া। বিশেষ করে যেসব পরিবার খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামের কারণে চাপে রয়েছে, তারা এসব স্টোর থেকে কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিউইয়র্ক সিটি প্রায় ৭ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। প্রথম সরকারি গ্রোসারি স্টোরটি ব্রঙ্কসের হান্টস পয়েন্ট এলাকায় ২০২৭ সালের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পাঁচ বরোতেই একটি করে স্টোর চালুর লক্ষ্য রয়েছে। তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন অভিবাসী ও সংখ্যালঘু মালিকানাধীন ছোট ব্যবসার প্রতিনিধিরা। মাল্টিকালচারাল বিজনেস কোয়ালিশন-এর অধীনে থাকা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তা ও ভর্তুকি পাওয়া স্টোরের সঙ্গে সাধারণ ছোট ব্যবসার পক্ষে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হবে। কারণ বেসরকারি দোকানগুলোকে ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নিজেদের বহন করতে হয়। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সরকারি গ্রোসারি স্টোরগুলো যদি দীর্ঘমেয়াদে কম দামে পণ্য বিক্রি করে, তাহলে আশপাশের ছোট গ্রোসারি ও বডেগাগুলো ক্রেতা হারাতে পারে। এতে দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসী পরিবারগুলোর মালিকানায় পরিচালিত ব্যবসাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। মামলাকারীরা এই উদ্যোগকে বড় খুচরা বিক্রেতা ওয়ালমার্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাদের যুক্তি, বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ছোট দোকানের প্রতিযোগিতা যেমন কঠিন, তেমনি সরকারি অর্থে পরিচালিত কম দামের স্টোরও স্থানীয় ব্যবসার জন্য একই ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, মামদানির প্রশাসনের বক্তব্য, সরকারি গ্রোসারি স্টোরের উদ্দেশ্য ছোট ব্যবসা ধ্বংস করা নয়; বরং নিউইয়র্কবাসীর জন্য সাশ্রয়ী দামে স্বাস্থ্যকর ও প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করা। পরিকল্পনার আরেকটি দিক হলো, স্টোরগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম সরাসরি সরকারি কর্মীদের দিয়ে পরিচালনার বদলে অভিজ্ঞ বেসরকারি গ্রোসারি অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে মামদানির এই উদ্যোগ এখন একদিকে কম দামে খাদ্যপণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে ছোট ও অভিবাসী মালিকানাধীন ব্যবসা রক্ষার দাবির মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সরকারি গ্রোসারি স্টোরগুলো শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কতটা সফল হবে, আর একই সঙ্গে স্থানীয় ছোট ব্যবসার ওপর কী প্রভাব ফেলবে—আদালতের মামলার পাশাপাশি এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে শহরে ইহুদিবিদ্বেষের পরিবেশ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রভাবশালী এক ইহুদি রাব্বির মেয়ে কারেন স্নেইয়ার ড্রেসবাখ। তাঁর দাবি, মামদানিকে ভোট দেওয়া অনেক ইহুদি এখন নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত। ইসরায়েল নিয়ে মেয়রের ধারাবাহিক কঠোর বক্তব্যের কারণে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। কারেন স্নেইয়ার ড্রেসবাখ পার্ক ইস্ট সিনাগগের রাব্বি আর্থার স্নেইয়ারের মেয়ে। তিনি বহু-ধর্মীয় অ্যাপিল অব কনশেন্স ফাউন্ডেশনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েল নিয়ে মামদানির অবস্থান নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষ আরও উসকে দিচ্ছে। মামদানি ইসরায়েলের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তিনি বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস আন্দোলনকে সমর্থন করেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরেরও বিরোধিতা করেছেন। এসব অবস্থানকে কেন্দ্র করে ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। স্নেইয়ার ড্রেসবাখের ভাষ্য অনুযায়ী, মামদানির বক্তব্যের কারণে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ করে ইহুদি উপাসনালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক হামলা ও বিক্ষোভের ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর বাবা রাব্বি আর্থার স্নেইয়ারও ইহুদি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এদিকে, ইহুদি নেতাদের সঙ্গে মামদানির সম্পর্ক নিয়েও সম্প্রতি একাধিক বৈঠক হয়েছে। আগস্টে মেয়রের সঙ্গে ১০ জন রাব্বির একটি বন্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন রাব্বি জানান, ইসরায়েল নিয়ে মামদানির বক্তব্য নিউইয়র্কের ইহুদিদের একটি অংশকে বিচ্ছিন্ন ও নিরাপত্তাহীন করে তুলছে। তবে ওই বৈঠক নিয়ে মামদানি প্রশাসনের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। মেয়রের ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী দপ্তরের প্রধান ফিলিসা উইজডম বৈঠকটিকে খোলামেলা, ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেন। মামদানি নিজেও এর আগে বলেছেন, নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষ বা যেকোনো ধরনের বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই। তাঁর প্রশাসনের দাবি, সব ধরনের ঘৃণা ও বৈষম্য মোকাবিলায় তারা কাজ করছে। তবে ইসরায়েল বিষয়ে মামদানির অবস্থান এবং নিউইয়র্কে ইহুদি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মেয়রের নীতির সঙ্গে ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশের দূরত্ব বাড়ছে কি না, সেটিও নিউইয়র্কের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন। তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধি দল নিয়ে ভারতে আসতে পারেন। এ সফর হলে সাত বছর পর এটি হবে শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নতুন ইঙ্গিত হিসেবেও সম্ভাব্য এই সফরকে দেখা হচ্ছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২০ সালে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ফলে সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি শুধু ব্রিকসের আলোচনার জন্য নয়, দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভারতের সরাসরি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের সফরকে ঘিরে চীনা কর্মকর্তারা হোটেল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা চূড়ান্ত করার কাজ করছেন। আরও দুটি ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা থাকতে পারেন। ২০১৯ সালে তাঁর শেষ ভারত সফরের সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যসংখ্যা ২০০ জনেরও কম ছিল। সম্মেলনের পাশাপাশি ভারত ও চীনের কর্মকর্তারা দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্য কীভাবে সামলানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে শি জিনপিংয়ের সফরের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয় এখনো নির্ধারিত হয়নি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ব্রিকস সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং চলতি বছরের সম্মেলনের আয়োজক ভারতকে সফলভাবে সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে সমর্থন করে। তবে শি জিনপিংয়ের ভারত সফর সম্পর্কে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই বলে জানানো হয়েছে। ভারত ও চীন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুটি দেশ এবং উভয়ই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। হিমালয় অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার বড় অংশ এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত নয়। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় ও চার চীনা সেনা নিহত হন। এরপর দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা তৈরি হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দুই দেশ সেনা প্রত্যাহার নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছালেও সীমান্ত নিয়ে মতপার্থক্য পুরোপুরি দূর হয়নি। চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে একটি প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মুখোমুখি হওয়ার খবর প্রকাশের পরও সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার গুরুত্বের কথা জানিয়েছিল ভারত। এদিকে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেছেন। সেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। এর মধ্যেই শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের খবর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতিও ভারত ও চীনের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে অভিন্ন অবস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি দুই দেশই বৈশ্বিক চাপের বাইরে নিজেদের সহযোগিতা এগিয়ে নিতে আগ্রহী কি না, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। সূত্র: রয়টার্স
বাংলাদেশে বছরের পর বছর চাকরির অভিজ্ঞতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর অনেকেই মনে করেন, আগের কাজের অভিজ্ঞতার আর কোনো মূল্য নেই। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারলে দেশের চাকরির অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দল পরিচালনা, গ্রাহকসেবা, তথ্য বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের মতো দক্ষতা বিভিন্ন পেশায় কাজে লাগানো সম্ভব। তবে শুধু রেজুমেতে বাংলাদেশের চাকরির অভিজ্ঞতা উল্লেখ করলেই হবে না। আমেরিকান নিয়োগকর্তারা যেন আপনার কাজের দায়িত্ব, দক্ষতা ও অর্জন সহজে বুঝতে পারেন, সেভাবেই অভিজ্ঞতাগুলো তুলে ধরতে হবে। রেজুমে সাজাতে হবে আমেরিকান ধাঁচে বাংলাদেশে প্রচলিত দীর্ঘ জীবনবৃত্তান্তের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট পদের জন্য তৈরি রেজুমে বেশি কার্যকর। পেশাগত অভিজ্ঞতা লেখার সময় শুধু কী দায়িত্ব পালন করেছেন তা না লিখে, সেই কাজের মাধ্যমে কী ফলাফল অর্জন করেছেন সেটি তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে, শুধু ‘২০ জনের দল পরিচালনা করেছি’ না লিখে, সেই দলের মাধ্যমে কী অর্জন করেছেন তা উল্লেখ করা বেশি কার্যকর। যেমন, ২০ সদস্যের একটি দল পরিচালনা করে ছয় মাসে বিক্রি ৩০ শতাংশ বাড়ানোর মতো সুনির্দিষ্ট অর্জন থাকলে সেটি রেজুমেতে তুলে ধরা যেতে পারে। চাকরির পদবি হতে হবে সহজবোধ্য বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত পদবি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তার কাছে সবসময় পরিচিত নাও হতে পারে। তাই দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত ও সহজবোধ্য পদবি ব্যবহার করা যেতে পারে। একইভাবে বাংলাদেশের কোনো কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে পরিচিত না হলে রেজুমেতে প্রতিষ্ঠানটির কাজের ধরন ও পরিধি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এতে নিয়োগকর্তা বুঝতে পারবেন, আপনি কী ধরনের প্রতিষ্ঠানে এবং কতটা বড় পরিসরে কাজ করেছেন। স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতা আলাদাভাবে তুলে ধরুন বাংলাদেশে শিক্ষকতা, ব্যাংকিং, হিসাবরক্ষণ, বিপণন কিংবা প্রশাসনিক কাজে অর্জিত অনেক দক্ষতা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন চাকরিতে কাজে লাগতে পারে। একজন শিক্ষক যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞতা থেকে তথ্য বিশ্লেষণ, গ্রাহকসেবা ও নিয়মনীতি মেনে কাজ করার দক্ষতা তুলে ধরা যায়। এসব দক্ষতা সংশ্লিষ্ট পেশার পাশাপাশি গ্রাহকসেবা, অফিস প্রশাসন বা কিছু প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিতেও কাজে লাগতে পারে। পেশাভেদে লাইসেন্স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করুন ডাক্তার, নার্স, প্রকৌশলী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রিত পেশায় বিদেশি ডিগ্রি বা পেশাগত যোগ্যতা সরাসরি গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ম জানা জরুরি। কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান নির্ধারণের জন্য মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের কাজে বিভিন্ন স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান সেবা দিয়ে থাকে। তবে কোন মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্স প্রয়োজন হবে, তা পেশা ও অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট পেশায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ ও নিয়োগদাতার শর্ত যাচাই করা উচিত। সাক্ষাৎকারে পরিস্থিতিভিত্তিক উত্তর দিন যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির সাক্ষাৎকারে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উদাহরণ চাওয়া খুবই সাধারণ। ‘কঠিন পরিস্থিতি কীভাবে সামলেছেন’ বা ‘কোনো সমস্যা কীভাবে সমাধান করেছেন’ এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের কর্মজীবনের বাস্তব ঘটনা ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি, দায়িত্ব, পদক্ষেপ ও ফলাফল এই চার ধাপে উত্তর দেওয়া কার্যকর। প্রথমে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে হবে, এরপর নিজের দায়িত্ব কী ছিল তা বলতে হবে। তারপর সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত কী ফলাফল হয়েছে তা তুলে ধরতে হবে। এতে বিদেশে অর্জিত কর্মঅভিজ্ঞতাও নিয়োগকর্তার কাছে স্পষ্ট ও প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব। দেশের অভিজ্ঞতা লুকিয়ে রাখবেন না বাংলাদেশের চাকরির অভিজ্ঞতা রেজুমে থেকে বাদ দেওয়া বা অপ্রয়োজনীয় কর্মজীবন গ্যাপ তৈরি করা অনেক সময় উল্টো প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বরং আগের প্রতিষ্ঠানের নাম, পদবি, কর্মকাল এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্জন পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা ভালো। তবে বাংলাদেশের কোনো পেশাগত অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রে একই পেশায় কাজ করার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইসেন্স হিসেবে গণ্য হবে না। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, আইন, শিক্ষা ও অন্যান্য লাইসেন্সনির্ভর পেশায় স্থানীয় নিয়ম অবশ্যই যাচাই করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ক্যারিয়ার শুরু করার অর্থ শূন্য থেকে শুরু করা নয়। বাংলাদেশের কর্মজীবনে অর্জিত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত সাফল্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে সেগুলোই আমেরিকায় নতুন ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসা আবেদনে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের বিশেষ ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে কর্মী আনার খরচ আগের তুলনায় বড় ধরনের বাড়বে। প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর ৩০ দিনের গণপরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর প্রশাসন মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত বিধিমালা জারি করতে পারে। এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি ঘোষণার মাধ্যমে নতুন কিছু এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের অর্থপ্রদানের শর্ত চালু করেছিল। সেই ব্যবস্থা নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠন, নিয়োগকর্তা ও বিভিন্ন পক্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জ করে। নতুন প্রস্তাবটি সেই নীতিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বিশেষায়িত দক্ষতার বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়। প্রতি বছর ৬৫ হাজার সাধারণ এইচ-১বি ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসার সীমা রয়েছে। নতুন প্রস্তাবের ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগে কোম্পানিগুলোর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য উচ্চ দক্ষতার খাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু কোম্পানি তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন কর্মীদের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, অনেক বিশেষায়িত পদে পর্যাপ্ত মার্কিন কর্মী না থাকায় বিদেশি দক্ষ কর্মী ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে নিয়োগের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ব্যবস্থায় উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, বাড়তি খরচ ও কঠোর যাচাইয়ের মাধ্যমে কর্মসূচির অপব্যবহার কমানো এবং প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের দিকে সুযোগ কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত বিধিমালা নিয়ে আইনগত চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনাও রয়েছে। অতিরিক্ত ফি আরোপের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক চলছে। ফলে নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলেও আদালতে এর বৈধতা নিয়ে লড়াই গড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের জন্য এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরশীল বিদেশি পেশাজীবীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে কর্মরত ভারতীয়, চীনা ও অন্যান্য দেশের দক্ষ কর্মীরা এই কর্মসূচির বড় অংশ ব্যবহার করেন। ফলে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগের কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের প্রবেশের ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
নতুন বাবা ডেনিস উইলিয়ামস ছেলের জন্মের খবর পরিবারের এক সদস্যকে জানাতে গিয়ে ভুল করে সেই বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ অপরিচিত এক ব্যক্তির কাছে। সাধারণত এমন ভুলের জবাব আসে, ‘ভুল নম্বর’, তারপর সেখানেই শেষ হয়ে যায় গল্প। কিন্তু এবার ঘটল সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু। বার্তাটি পাওয়া ব্যক্তি ডেনিস কোমো শুধু অভিনন্দন জানিয়েই থেমে থাকেননি। তিনি জানতে চান, নবজাতক ও তার পরিবার কোন হাসপাতালে আছে। এরপর কোমো ও তার ভাই সিদ্ধান্ত নেন, অপরিচিত এই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। হাসপাতালে গিয়ে তারা নবজাতক ক্যাসনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। সঙ্গে নিয়ে যান ডায়াপার, ওয়াইপসসহ শিশুর প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী। সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি পরিবারের সন্তানের জন্ম উদ্যাপনে এভাবেই নিজেদের অংশীদার করে নেন দুই ভাই। হাসপাতালে দুই পরিবারের একসঙ্গে তোলা একটি ছবি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি তখন একটি ভুল নম্বরের বার্তা থেকে জন্ম নেওয়া ব্যতিক্রমী মানবিকতার গল্প হিসেবে মানুষের নজর কাড়ে। তবে গল্পটি সেখানেই শেষ হয়নি। প্রায় এক দশক পরও দুই পরিবারের সম্পর্ক টিকে আছে বলে জানা গেছে। ডেনিস কোমো ও তার ভাইও ক্যাসনের জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রয়েছেন। একটি ভুল নম্বরে পাঠানো ছোট্ট একটি বার্তা যে কখনো কখনো সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষকেও পরিবারের মতো কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে, এই ঘটনাটি তারই এক বিরল উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সিরাকিউজে ক্রিস ও পলের ভালোবাসার গল্প আজও অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার। ডাউন সিনড্রোম নিয়ে বিয়ে ও ভালোবাসার মতো সম্পর্কের বিষয়ে নানা প্রশ্ন ও আপত্তির মুখে পড়েও তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন ২৫ বছর। ১৯৮৮ সালে তাঁদের পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পাঁচ বছর প্রেমের পর ১৯৯৩ সালে ক্রিস পলকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পল সম্মতি জানান। একই বছরের ১৩ আগস্ট নিউইয়র্কের সিরাকিউজে তাঁরা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর শুরু হয় একসঙ্গে পথচলার নতুন অধ্যায়। তাঁদের সম্পর্কের শুরু থেকেই নানা ধরনের সন্দেহ ও বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। কেউ কেউ মনে করতেন, তাঁরা হয়তো ভালোবাসা বা বিয়ের মতো সম্পর্কের গভীরতা যথেষ্টভাবে বুঝতে পারবেন না। এমনকি তাঁদের বিয়ে করা উচিত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে ক্রিস ও পল নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে ছিলেন দৃঢ়। অন্যের সন্দেহকে গুরুত্ব না দিয়ে তাঁরা একসঙ্গে জীবন গড়ে তোলেন। দীর্ঘ ২৫ বছরে তাঁদের সংসারে ছিল পারস্পরিক সঙ্গ, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা। ২০১৯ সালে পল মারা যান। তবে তাঁর সঙ্গে ক্রিসের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের স্মৃতি এখনো রয়ে গেছে। তাঁদের গল্প নতুন করে সামনে এনে অনেকেই বলছেন, ভালোবাসা ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী মানুষদের সক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত ধারণা সবসময় বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, ভালোবাসা ও সঙ্গ পাওয়ার অধিকার সবারই রয়েছে। ক্রিসের একটি বক্তব্যও এই গল্পের মূল বার্তাকে তুলে ধরে, “আমাদের মতো মানুষদেরও সুযোগ পাওয়া দরকার।”
২০২১ সালের ৪ মে মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় একসঙ্গে নয় সন্তানের জন্ম দিয়ে ইতিহাস গড়েন মালির হালিমা সিসে। পাঁচ মেয়ে ও চার ছেলে নিয়ে এই নয় শিশুই একসঙ্গে জন্ম নিয়ে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেয়েছে। হালিমার গর্ভাবস্থার শুরুতে চিকিৎসকেরা ধারণা করেছিলেন, তাঁর গর্ভে সাতটি শিশু রয়েছে। তবে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য মালির সরকার তাঁকে মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কার একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষায় জানা যায়, গর্ভে আসলে নয়টি শিশু রয়েছে। গর্ভাবস্থার ৩০ সপ্তাহে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় শিশুরা। তাদের ওজন ছিল প্রায় ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির মধ্যে। অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় জন্মের পরপরই তাদের ইনকিউবেটরে রাখা হয় এবং কয়েক মাস নিবিড় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়। নয় শিশুর মধ্যে পাঁচজন মেয়ে এবং চারজন ছেলে। তাদের নাম আদামা, উমু, হাওয়া, খাদিজা, ফাতুমা, উমর, এলহাদজি, বাহ ও মোহাম্মদ ষষ্ঠ। এই ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকেও অত্যন্ত বিরল। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া আট শিশুর বেঁচে থাকার ঘটনাই ছিল রেকর্ড। হালিমার নয় সন্তান সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি করে। একই সঙ্গে এটি নয় সন্তান একসঙ্গে জন্ম নেওয়ার প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা, যেখানে সব শিশুই বেঁচে থাকে। শিশুগুলো জন্মের পর দীর্ঘ ১৯ মাস মরক্কোতেই চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিল। পরে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে মালিতে ফিরে যায়। ২০২৬ সালের মে মাসে পাঁচ বছর পূর্ণ করেছে হালিমা ও আবদেলকাদের আরবির এই নয় সন্তান। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস জানিয়েছে, শিশুরা সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে এবং স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একসঙ্গে নয় সন্তানের জন্ম শুধু একটি বিরল চিকিৎসা ঘটনা নয়, এটি বিশ্বের অন্যতম আলোচিত একাধিক সন্তান জন্মের ঘটনাগুলোর একটি। হালিমা সিসে ও তাঁর নয় সন্তান আজও সেই নজিরের জীবন্ত উদাহরণ হয়ে আছে।
২০১৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের কলেজ পার্কে স্কুল বাসে আগুন লাগার পর চালক রেনিটা স্মিথ দ্রুত ২০ শিশুকে বাস থেকে নামিয়ে নিরাপদে সরিয়ে নেন। কিন্তু সবার বের হওয়া নিশ্চিত করতে আগুনে জ্বলতে থাকা বাসে তিনি আবারও ঢুকে পড়েন। ঘটনায় কোনো শিশুই আহত হয়নি। সেদিন বিকেলে প্রিন্স জর্জেস কাউন্টির স্কুল বাসে গ্লেনার্ডেন উডস এলিমেন্টারি স্কুলের ২০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে বাড়ির পথে ছিলেন স্মিথ। বাসের ড্যাশবোর্ডে ব্রেকের সতর্ক সংকেত দেখার পর তিনি বাস থামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই পোড়া গন্ধ পান এবং রিয়ারভিউ মিররে আগুনের শিখা দেখতে পান। সময় নষ্ট না করে সিটবেল্ট খুলে তিনি একে একে সব শিশুকে বাস থেকে বের করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান। আগুন তখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল এবং কালো ধোঁয়ায় পুরো বাস ঢেকে যাচ্ছিল। শিশুরা নিরাপদে বেরিয়ে গেলেও রেনিটা নিশ্চিত ছিলেন না যে সবাই বাস থেকে বের হয়েছে কি না। কোনো বাস অ্যাটেনডেন্ট না থাকায় তিনি আবারও জ্বলন্ত বাসের ভেতরে ঢুকে প্রতিটি সিট পরীক্ষা করেন। শেষবার বাস থেকে বের হওয়ার সময় আগুন আরও ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগুনটি বাসের পেছনের একটি চাকার কাছ থেকে শুরু হয়ে দ্রুত পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়েছিল। আগুনের ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীর কেউ আহত হয়নি। দুই সন্তানের মা রেনিটা পরে বলেন, বাসে থাকা শিশুরা তার কাছে নিজের সন্তানের মতো। তাদের বাবা-মায়ের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব নিজের সন্তানের মতো করেই দেখেন তিনি। তার সাহসিকতার স্বীকৃতিও আসে দ্রুত। প্রিন্স জর্জেস কাউন্টি স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস তাকে সম্মাননা দেয়। পরে তিনি ‘দ্য এলেন ডেজেনারেস শো’তেও অংশ নেন, যেখানে তার সাহসিকতার জন্য তাকে ২০ হাজার ডলারের একটি চেক দেওয়া হয়। রেনিটা অবশ্য নিজের কাজকে আলাদা কোনো বীরত্ব হিসেবে দেখেননি। তার কাছে সেদিনের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল ২০ শিশুকে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত ও ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকা বিয়ের আয়োজন অবশেষে এগোতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের অন্তত ১৫০ তরুণী, যাদের ভারতের বিভিন্ন শহরের তরুণদের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা, তৃতীয় দেশ হয়ে ভারতে পৌঁছেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালানোর পর দুই দেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। এরপর ওয়াঘা-আটারি সীমান্তপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা ব্যবস্থাতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এর ফলে ভারতে বিয়ে করার কথা থাকা বহু পাকিস্তানি তরুণীর বিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বদলাতে সিন্ধি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের গোতকিতে অবস্থিত শাদানি দরবারের আধ্যাত্মিক নেতা সন্ত যুধিষ্ঠিরলালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর উদ্যোগে ভারতে বিয়ে করতে আগ্রহী পাকিস্তানি কনেদের একটি তালিকা তৈরি করে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে ভারত সরকার তাদের ভিসা দেওয়ার অনুমতি দেয়। তবে শর্ত ছিল, পাকিস্তান থেকে সরাসরি স্থলপথে নয়, আকাশপথে ভারতে প্রবেশ করতে হবে। দুই দেশের সরাসরি বিমান যোগাযোগও সীমিত থাকায় কনেদের অনেকে ওমানের মাসকাট, শ্রীলঙ্কার কলম্বো, বাংলাদেশ, দুবাই ও কাতার হয়ে ট্রানজিট ফ্লাইটে ভারতে পৌঁছান। নাগপুর, জোধপুর, আহমেদাবাদ, রায়পুর, পুনে ও ভোপালসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে এসব বিয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। নাগপুরের সিন্ধি সম্প্রদায়ের নেতা রাজেশ ঝাম্বিয়ার দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ পাকিস্তানি কনে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ভারতে পৌঁছেছেন। শুধু নাগপুরেই ১৫টি বিয়ে হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে অপেক্ষার পালা এখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তানে আরও প্রায় ৩০০ তরুণী ভারতে বিয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন বলে সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন। তাদের জন্যও ভিসার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও এসব আন্তদেশীয় বিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের একটি ভিন্ন চিত্র সামনে এনেছে।
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রাফি হোসাইনের সহপ্রতিষ্ঠিত ফিনটেক কোম্পানি ফ্যাসেট ৬৮ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ সি বিনিয়োগ পাওয়ার পর ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে পৌঁছেছে। জাপানের আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসবিআই গ্রুপের নেতৃত্বে হওয়া এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ফ্যাসেট ‘ইউনিকর্ন’ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ফ্যাসেট ২০১৯ সালে রাফি হোসাইন ও ড্যানিয়েল আহমেদের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে। রাফি হোসাইন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠেন। বর্তমানে তিনি কোম্পানিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সিরিজ সি বিনিয়োগের ফলে ২০২৬ সালে ফ্যাসেটের মোট তহবিল সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৯ মিলিয়ন ডলারে। এর আগে মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি ৫১ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ বি বিনিয়োগ পেয়েছিল। নতুন অর্থ দিয়ে ফ্যাসেট তাদের নিজস্ব ‘ওন নেটওয়ার্ক’ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন, স্টেবলকয়েন নিষ্পত্তি ও টোকেনাইজড সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। ফ্যাসেটের দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি লেনদেন প্রক্রিয়া করছে। ১২৫টির বেশি দেশে তাদের ৩০ লাখের বেশি ওয়ালেট রয়েছে এবং ১ হাজারের বেশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের সেবার সঙ্গে যুক্ত। ফ্যাসেট মূলত স্টেবলকয়েনভিত্তিক ডিজিটাল ব্যাংকিং ও আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের অবকাঠামো তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটির ‘ওন নেটওয়ার্ক’ ব্যাংক, টেলিকম কোম্পানি, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী এবং লিকুইডিটি পার্টনারদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং করিডরের সঙ্গে যুক্ত করে। এর লক্ষ্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর ও নিষ্পত্তি আরও দ্রুত ও কার্যকর করা। বাংলাদেশসহ উদীয়মান অর্থনীতির জন্য এই ধরনের অবকাঠামোর গুরুত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনে উচ্চ খরচ, ধীরগতির নিষ্পত্তি এবং বিভিন্ন আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ফ্রিল্যান্সার, রিমোট কর্মী ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। ফ্যাসেট নিজেকে এসব সীমাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্যে তৈরি একটি বৈশ্বিক আর্থিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরছে। তবে বাংলাদেশে ফ্যাসেটের সেবা ব্যবহার বা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে। স্টেবলকয়েন ও ডিজিটাল সম্পদভিত্তিক আর্থিক সেবার ব্যবহারও দেশভেদে ভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় পড়ে। জাপানের এসবিআই গ্রুপের সঙ্গে ফ্যাসেটের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। জুনে এসবিআই রেমিট ও ফ্যাসেট আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের নতুন অবকাঠামো তৈরিতে কৌশলগত অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয়। এসবিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আরও কম খরচে ও দ্রুত আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের সম্ভাবনা তৈরি করা হবে। ফ্যাসেটের প্রধান নির্বাহী রাফি হোসাইনের ভাষ্য, তাদের পরবর্তী লক্ষ্য হলো ‘যেকোনো ব্যক্তি থেকে যেকোনো ব্যক্তি, যেকোনো সম্পদ থেকে যেকোনো সম্পদ এবং যেকোনো আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো জায়গায়’ লেনদেনের সুযোগ তৈরি করা। অর্থাৎ মানুষের আর্থিক সুযোগ যেন তারা কোথায় জন্মেছেন বা কোথায় বসবাস করছেন, তার ওপর নির্ভর না করে, সেই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। ১ বিলিয়ন ডলারের এই মূল্যায়ন ফ্যাসেটকে বৈশ্বিক ফিনটেক ইউনিকর্নের তালিকায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া একজন উদ্যোক্তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানির এই পর্যায়ে পৌঁছানো দেশের প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক মাইলফলক।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন ইকুয়েডরের এক মা ও তাঁর ১৯ বছর বয়সী মেয়ে। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর দুজনকেই আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। ঘটনাটি ঘটেছে সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার পইনসিয়ানা এলাকায়। ৩৯ বছর বয়সী গ্রেস স্টেফানি কালোরো কাবানিয়া ও তাঁর মেয়ে জিউলিয়ানা মিয়া কারিয়েল কালোরো ২০ আগস্ট মারিগোল্ড অ্যাভিনিউ ও শেলড্রেক রোডের কাছে গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হন। পোল্ক কাউন্টি শেরিফের অফিসের নথি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁদের এইচসিএ ফ্লোরিডা পইনসিয়ানা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, অন্য একটি গাড়ি তাঁদের গাড়ির যাত্রীপাশে আঘাত করলে সেটি কয়েকবার উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবারের এক সদস্য নিউজউইককে জানান, ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তাঁরা প্রাণে বেঁচে যাওয়াকেই সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মা ও মেয়েকে আলাদা কক্ষে রাখা হয়। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেসকে তাঁর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সে সময় তিনি ঘাড়ে ব্রেস পরেছিলেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পোল্ক কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত করতে হাসপাতালে গিয়ে কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে গ্রেস যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করলেও তাঁর অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। পরে তাঁর মেয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এরপর আইসিই দুজনের বিরুদ্ধেই ডিটেইনার জারি করে। হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর তাঁদের পোল্ক কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়। আইসিইও জানিয়েছে, গ্রেস ২০২৩ সালের মার্চে এবং তাঁর মেয়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে সংস্থার দাবি, দুজনই অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস যাই হোক না কেন, জরুরি বিভাগে আসা প্রত্যেক রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালে এলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি মেনে চলতে হয় বলেও জানিয়েছে হাসপাতালটি। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অবস্থায় ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন এবং চিকিৎসা শেষে আটক করার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালগুলোতে আইসিইর কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, সে বিষয়ে আলাদা কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি ভিডিও নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা হবে?’ শিরোনামের ওই ভিডিওতে তাকে নজরদারির দাবি করা হয় এবং তার নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে নানা তথ্য দেখানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, তারা ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত এবং সুরক্ষার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি তদন্ত করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ৩-এ প্রচারিত ভিডিওটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ব্যারনের বিশ্ববিদ্যালয়, নিরাপত্তার গাড়ি এবং সিক্রেট সার্ভিসের অবস্থান সম্পর্কে দাবি তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে তার চলাফেরা ‘সম্পূর্ণভাবে নজরদারিতে’ থাকার কথাও বলা হয়েছে। ভিডিওতে ব্যারনকে লক্ষ্য করে ১ কোটি ডলারের পুরস্কারের দাবি করা হয়েছে বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এই অর্থের ঘোষণা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ভিডিওতে ব্যারনের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও নিরাপত্তা এড়িয়ে তার কাছে পৌঁছানোর বিষয়ে আরও কিছু দাবি করা হলেও এসব তথ্যের সত্যতাও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং জানিয়েছেন, সংস্থাটি ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত এবং সুরক্ষার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত যেকোনো বিষয় তদন্ত করে। তবে অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে ব্যারনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে এটি প্রথম এমন হুমকি নয়। এর আগে জুলাইয়ে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গণমাধ্যমে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একই ধরনের হুমকিমূলক ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই ভিডিওতেও মেলানিয়ার চলাফেরা ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দাবি করা হয় এবং শেষদিকে ব্যারনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। সিক্রেট সার্ভিস তখনও বিষয়টি তদন্তের কথা জানিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে এমন প্রচার নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে ইরান থেকে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করেও হুমকির অভিযোগ সামনে এসেছে। ২০২৪ সালে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ইরান থেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত হওয়ার পর সিক্রেট সার্ভিসকে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে নতুন ভিডিওটির সব দাবি বাস্তব বা কার্যকর হামলার পরিকল্পনার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিডিওটির কিছু তথ্যকে অতিরঞ্জিত বা যাচাইহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রচারিত দাবির সঙ্গে বাস্তব নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা এক করে দেখার সুযোগ নেই।