সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

‘ভোট দিয়ে অনুতপ্ত অনেকেই’ মামদানির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ ইহুদি নারীর

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১২:৫৩
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগে এক ইহুদি সংগঠনের বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগে এক ইহুদি সংগঠনের বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে শহরে ইহুদিবিদ্বেষের পরিবেশ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রভাবশালী এক ইহুদি রাব্বির মেয়ে কারেন স্নেইয়ার ড্রেসবাখ। তাঁর দাবি, মামদানিকে ভোট দেওয়া অনেক ইহুদি এখন নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত। ইসরায়েল নিয়ে মেয়রের ধারাবাহিক কঠোর বক্তব্যের কারণে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

কারেন স্নেইয়ার ড্রেসবাখ পার্ক ইস্ট সিনাগগের রাব্বি আর্থার স্নেইয়ারের মেয়ে। তিনি বহু-ধর্মীয় অ্যাপিল অব কনশেন্স ফাউন্ডেশনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েল নিয়ে মামদানির অবস্থান নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষ আরও উসকে দিচ্ছে।

 

মামদানি ইসরায়েলের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তিনি বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস আন্দোলনকে সমর্থন করেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরেরও বিরোধিতা করেছেন। এসব অবস্থানকে কেন্দ্র করে ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।

 

স্নেইয়ার ড্রেসবাখের ভাষ্য অনুযায়ী, মামদানির বক্তব্যের কারণে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ করে ইহুদি উপাসনালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক হামলা ও বিক্ষোভের ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর বাবা রাব্বি আর্থার স্নেইয়ারও ইহুদি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

এদিকে, ইহুদি নেতাদের সঙ্গে মামদানির সম্পর্ক নিয়েও সম্প্রতি একাধিক বৈঠক হয়েছে। আগস্টে মেয়রের সঙ্গে ১০ জন রাব্বির একটি বন্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন রাব্বি জানান, ইসরায়েল নিয়ে মামদানির বক্তব্য নিউইয়র্কের ইহুদিদের একটি অংশকে বিচ্ছিন্ন ও নিরাপত্তাহীন করে তুলছে।

 

তবে ওই বৈঠক নিয়ে মামদানি প্রশাসনের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। মেয়রের ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী দপ্তরের প্রধান ফিলিসা উইজডম বৈঠকটিকে খোলামেলা, ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেন।

 

মামদানি নিজেও এর আগে বলেছেন, নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষ বা যেকোনো ধরনের বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই। তাঁর প্রশাসনের দাবি, সব ধরনের ঘৃণা ও বৈষম্য মোকাবিলায় তারা কাজ করছে।

 

তবে ইসরায়েল বিষয়ে মামদানির অবস্থান এবং নিউইয়র্কে ইহুদি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মেয়রের নীতির সঙ্গে ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশের দূরত্ব বাড়ছে কি না, সেটিও নিউইয়র্কের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

 

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে গুলিতে নিহত রাজু (বামে) ও টেনেসিতে ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত মহসিন রানা (ডানে)
একদিনে দুই অঙ্গরাজ্যে গুলিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু, স্বপ্নের দেশে স্বজন হারাল দুই পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আসা দুই বাংলাদেশির জন্য ২৩ আগস্টের রাতটি হয়ে উঠেছে দুই পরিবারের জীবনের সবচেয়ে বেদনাবিধুর সময়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নিউইয়র্ক ও টেনেসিতে পৃথক দুটি গুলির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি দুই প্রবাসী। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে রেস্টুরেন্টে গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী ইউসুফ রাজু। আর টেনেসির বেলস শহরে সশস্ত্র ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী মহসিন রানা। নিউইয়র্কের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও এক বাংলাদেশি।    দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে এমন তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। দুই অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৃথকভাবে ঘটনাগুলোর তদন্ত করছে। তবে একই দিনে দুই বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   নিউইয়র্কে ইউসুফ রাজুর শেষ রাত: শনিবার রাত ১২ টার পর নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় ৮৪২ রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউয়ের আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজায় গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে কর্মরত ছিলেন বাংলাদেশি ইউসুফ রাজু। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গুলিতে রাজুর মাথায় আঘাত লাগে। তাকে ওয়ান ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি রাসেল পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।    রাজুর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কাশানগর এলাকায় বলে বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে। প্রায় তিন বছর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। নিউইয়র্কে এসে তিনি ব্রুকলিনের ওই রেস্টুরেন্টে কাজ করছিলেন। তার স্ত্রী, তিন সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাংলাদেশে রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    রাজুর মৃত্যুর ঘটনায় হামলার কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির একজন নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, এক ক্রেতা খাবারের বিল পরিশোধ না করে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে রাজু ও রাসেল তাকে বিল পরিশোধ করতে বলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি অস্ত্র বের করে গুলি চালায় বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে পুলিশ এখনো তদন্ত শেষ করেনি এবং হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।    ঘটনার পর হামলাকারী পালিয়ে যায়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা হামলার প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।    টেনেসিতে মহসিন রানার কর্মস্থলেই মৃত্যু: নিউইয়র্কের ঘটনার পাশাপাশি একই রোববার ভোররাতে টেনেসির বেলস শহরে প্রাণ হারান আরেক বাংলাদেশি মহসিন রানা। তিনি ৫০৫৪ হাইওয়ে ৪১২ সাউথে অবস্থিত এক্সন সাফারি কর্নার মার্কেটের কনভেনিয়েন্স স্টোরে কাজ করতেন।   স্থানীয় সময় রাত ২টা ৩৪ মিনিটে এক ক্রেতা ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। তিনি দোকানে ঢুকে ক্যাশ কাউন্টারের কাছে মহসিনকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ ও জরুরি সেবার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার মৃত্যু হয়।   তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি একটি সশস্ত্র ডাকাতির সঙ্গে সম্পর্কিত। সন্দেহভাজন ব্যক্তি দোকানে ঢুকে ডাকাতি করার পর মহসিনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে অন্য একটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ঘটনাটির তদন্তে টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা টিবিআইয়ের পাশাপাশি স্থানীয় ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সদস্যরা যুক্ত হয়েছেন। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করছেন।   স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার আগে মহসিন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এক বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে প্রথমে ক্যাশে থাকা টাকা দাবি করে। মহসিন কোনো প্রতিরোধ না করে টাকা দিয়ে দেন। পরে বন্দুকধারী সিগারেট চাইলে তিনি সেটিও দেন। এরপরই তাকে গুলি করা হয় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। এই বর্ণনার বিস্তারিত অংশ পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে; তদন্তকারীদের আনুষ্ঠানিক বিবরণে এখনো ঘটনার সব খুঁটিনাটি প্রকাশ করা হয়নি।   সাভার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, পরিবারের ভবিষ্যতের আশায়   প্রায় সাত বছর আগে বাংলাদেশের ঢাকার সাভার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন মহসিন রানা। যুক্তরাষ্ট্রে এসে টেনেসিতে কাজ করছিলেন তিনি। বাংলাদেশে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছেন। দুই সন্তানের একজনের বয়স ১২ বছর, অন্যজনের ৫ বছর বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।   মহসিনের মতো ইউসুফ রাজুও যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন উন্নত জীবনের প্রত্যাশায়। রাজুর পরিবারের সদস্যরাও বাংলাদেশে রয়েছেন। প্রবাসী জীবনে দুজনই কর্মজীবনের মাধ্যমে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পৃথক দুটি সহিংস ঘটনায় তাদের আকস্মিক মৃত্যু এখন দুই পরিবারের সামনে অনিশ্চয়তা ও গভীর শোকের বাস্তবতা তৈরি করেছে।   একই দিনে দুই অঙ্গরাজ্যে   নিউইয়র্ক ও টেনেসির ঘটনাগুলো একই দিনে এবং কাছাকাছি সময়ে ঘটলেও এখন পর্যন্ত দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্কের তথ্য সামনে আসেনি। নিউইয়র্কে রাজুর মৃত্যুর ঘটনায় এনওয়াইপিডি তদন্ত করছে। আর টেনেসিতে মহসিন রানার মৃত্যুর ঘটনায় টিবিআই ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।   দুটি ঘটনাই আবার সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রে রাতের শিফটে কাজ করা বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়টি। রেস্টুরেন্ট, গ্যাস স্টেশন ও কনভেনিয়েন্স স্টোরের মতো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অনেক বাংলাদেশি গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন। তবে এই দুই ঘটনার ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র বা কমিউনিটির জন্য আলাদা ঝুঁকির সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো নেই।   দুই পরিবার এখন অপেক্ষা করছে প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া ও পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার জন্য। আর নিউইয়র্ক ও টেনেসির তদন্ত এগিয়ে গেলে দুই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা, হামলার কারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৩:৫৩
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি

মামদানির সরকারি গ্রোসারি স্টোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মামলা অভিবাসী ব্যবসায়ীদের

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগে এক ইহুদি সংগঠনের বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত

‘ভোট দিয়ে অনুতপ্ত অনেকেই’ মামদানির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ ইহুদি নারীর

সঠিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার উপস্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে অভিবাসী পেশাজীবীদের সফল কর্মসংস্থান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের চাকরির অভিজ্ঞতাই হতে পারে আমেরিকায় ক্যারিয়ারের বড় শক্তি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রস্তাবিত ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের বিশেষ ফি সংক্রান্ত নতুন এইচ-১বি ভিসা বিধিমালা। ছবি: সংগৃহীত
এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসা আবেদনে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের বিশেষ ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে কর্মী আনার খরচ আগের তুলনায় বড় ধরনের বাড়বে।   প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর ৩০ দিনের গণপরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর প্রশাসন মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত বিধিমালা জারি করতে পারে।   এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি ঘোষণার মাধ্যমে নতুন কিছু এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের অর্থপ্রদানের শর্ত চালু করেছিল। সেই ব্যবস্থা নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠন, নিয়োগকর্তা ও বিভিন্ন পক্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জ করে। নতুন প্রস্তাবটি সেই নীতিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বিশেষায়িত দক্ষতার বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়। প্রতি বছর ৬৫ হাজার সাধারণ এইচ-১বি ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসার সীমা রয়েছে।   নতুন প্রস্তাবের ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগে কোম্পানিগুলোর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য উচ্চ দক্ষতার খাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।   এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু কোম্পানি তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন কর্মীদের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, অনেক বিশেষায়িত পদে পর্যাপ্ত মার্কিন কর্মী না থাকায় বিদেশি দক্ষ কর্মী ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে নিয়োগের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ব্যবস্থায় উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, বাড়তি খরচ ও কঠোর যাচাইয়ের মাধ্যমে কর্মসূচির অপব্যবহার কমানো এবং প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের দিকে সুযোগ কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব হবে।   প্রস্তাবিত বিধিমালা নিয়ে আইনগত চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনাও রয়েছে। অতিরিক্ত ফি আরোপের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক চলছে। ফলে নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলেও আদালতে এর বৈধতা নিয়ে লড়াই গড়াতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের জন্য এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরশীল বিদেশি পেশাজীবীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে কর্মরত ভারতীয়, চীনা ও অন্যান্য দেশের দক্ষ কর্মীরা এই কর্মসূচির বড় অংশ ব্যবহার করেন। ফলে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগের কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের প্রবেশের ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১১:৫০
ডাউন সিনড্রোম জয় করে একসঙ্গে ২৫ বছর দাম্পত্য জীবন কাটানো ক্রিস ও পল দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

ডাউন সিনড্রোম নিয়েও ভালোবাসার কাছে হার মানেনি বাধা, ২৫ বছর একসঙ্গে ছিলেন ক্রিস-পল

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে জ্বলতে থাকা স্কুল বাস থেকে ২০ জন শিশুকে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করা চালক রেনিটা স্মিথ। ছবি: সংগৃহীত

জ্বলন্ত স্কুল বাস থেকে ২০ শিশুকে বাঁচিয়ে ফের আগুনের ভেতর ঢুকেছিলেন চালক রেনিটা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সড়ক দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে আইসিই কর্তৃক আটক ইকুয়েডরের মা ও মেয়ে। ছবি: সংগৃহীত

সড়ক দুর্ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর মা-মেয়েকে আটক করল আইসিই

নিউইয়র্কে গুলিতে নিহত রাজু (বামে) ও টেনেসিতে ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত মহসিন রানা (ডানে)
নিউইয়র্কের পর এবার টেনেসিতে, ডাকাতির সময় গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি এক রেস্টুরেন্টকর্মী গুলিতে নিহত হওয়ার একদিনের মধ্যেই টেনেসিতে সশস্ত্র ডাকাতির সময় গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন আরেক বাংলাদেশি। নিহত ৩৮ বছর বয়সী মহসিন রানা টেনেসির বেলস শহরের একটি গ্যাস স্টেশনের কনভেনিয়েন্স স্টোরে কর্মরত ছিলেন।   রোববার, ২৩ আগস্ট ভোররাতে বেলস শহরের ৫০৫৪ হাইওয়ে ৪১২ সাউথে অবস্থিত এক্সন সাফারি কর্নার মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একজন বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে ডাকাতি করার সময় কর্মচারীকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে দোকানে আসা এক ক্রেতা ক্যাশ কাউন্টারের কাছে মহসিনকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে ৯১১-এ ফোন করেন।   পুলিশ ও জরুরি সেবার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহসিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা টিবিআই তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোররাতের ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি দোকান থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাকে আটক করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটির তদন্তে ক্রকেট কাউন্টি শেরিফের অফিস, বেলস পুলিশ, টিবিআই, এটিএফ, এফবিআইসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা সংস্থা যুক্ত রয়েছে।   নিহত মহসিনের এক স্বজনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বন্দুকধারী প্রথমে ক্যাশ কাউন্টারে থাকা টাকা দাবি করে। মহসিন কোনো ধরনের প্রতিরোধ না করে টাকা তুলে দেন। এরপর সন্দেহভাজন ব্যক্তি সিগারেট চাইলেও মহসিন তার নির্দেশ অনুযায়ী সিগারেট দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বন্দুকধারী তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় বলে স্বজনরা জানান।   প্রায় সাত বছর আগে বাংলাদেশের ঢাকার সাভার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন মহসিন রানা। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে বাংলাদেশে থাকেন। দুই সন্তানের একজনের বয়স ১২ বছর এবং অন্যজনের ৫ বছর।   এদিকে, একই দিনে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টকর্মী ইউসুফ রাজু। ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকার আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজায় রোববার ভোরে ওই হামলায় রাজু নিহত হন এবং রাসেল নামে ৩৯ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি আহত হন। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ঘটনাটি তদন্ত করছে।   মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশিদের গুলিতে হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে টেনেসি ও নিউইয়র্কের দুটি ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৮:৪৯
দুই তরুণ প্রাইস জ্যাকসন ও কিরান  তাদের সহপাঠী ম্যাডিসন মুর

১৩ বছর ধরে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত সহপাঠীকে আগলে রাখলো দুই বন্ধু, শেষে একসঙ্গেই গ্র্যাজুয়েশন

সিলেটের পংকজ তালুকদার

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন সিলেটের পংকজ তালুকদার

ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে একের পর এক বিদায়

ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে একের পর এক বিদায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে কর্মী ছাড়ার চাপ

0 Comments