সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করেছেন নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য স্বস্তি, ট্রাম্পের ভিসা স্থগিতাদেশ বাতিল মার্কিন আদালতে

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি উদ্যোগ আদালতে বড় ধাক্কা খেয়েছে। ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার প্রশাসনিক নীতি বাতিল করে দিয়েছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার, ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের জেলা জজ জেনেট ভার্গাস এই রায় দেন।   রায়ের ফলে আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়ায় জাতীয়তার ভিত্তিতে আর ওই সামগ্রিক স্থগিতাদেশ প্রয়োগ করা যাবে না। আদালত বলেছে, কেবল কোনো ব্যক্তির জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন ভিসা আটকে দেওয়ার এই নীতি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এই নীতি কার্যকর করেছিলেন।   জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই নীতি চালু করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, নির্দিষ্ট ৭৫টি দেশের সম্ভাব্য অভিবাসীদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। সে কারণে এসব দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।   তবে আদালত মনে করেছে, অভিবাসন ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একজন আবেদনকারী সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা তাঁর জাতীয়তার ভিত্তিতে একযোগে ধরে নেওয়া আইনসম্মত নয়।   জজ ভার্গাস তাঁর রায়ে বলেন, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কংগ্রেসের নির্ধারিত আইনি কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আদালতের মতে, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের অধীনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদেরই ব্যক্তিভিত্তিকভাবে ভিসা আবেদনের যোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব রয়েছে।   আদালতের সিদ্ধান্তের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ রয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, বসনিয়া, আলবেনিয়া, আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া ও সোমালিয়ার মতো দেশও রয়েছে।   বাংলাদেশের জন্যও এই সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া স্থগিতাদেশের আওতায় বাংলাদেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াও পড়েছিল। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক বা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য আদালতের রায়টি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে ভিসা পাওয়ার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হবে।   এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুটি অলাভজনক সংগঠন এবং ১১ জন ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের পরিবারের সদস্যদের ভিসা আবেদন স্থগিত বা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। অন্যরা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। মামলাকারীদের মধ্যে ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারও ছিল।   মামলাকারীরা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক আনা গ্যালাঘার বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভিসা স্থগিতের কারণে আলাদা হয়ে থাকা কিছু পরিবার আবার তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারও রায়টিকে আইনের শাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।   অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছিল যে সম্ভাব্য অভিবাসীদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাঁদের প্রবেশ সীমিত করা প্রয়োজন। পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে জানিয়েছিল, সরকারি সম্পদের ওপর সম্ভাব্য চাপ কমানো এবং আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করাই এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। কর্মকর্তারা এমন তথ্যও তুলে ধরেছিলেন যে নির্দিষ্ট দেশগুলোর অভিবাসী-অধ্যুষিত ৩০ শতাংশের বেশি পরিবার কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে।   তবে আদালতের মূল আপত্তি ছিল, এই পরিসংখ্যান ব্যবহার করে একটি দেশের সব নাগরিককে একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা যায় কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভিসার যোগ্যতা ব্যক্তির নিজস্ব আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করার আইনি কাঠামো রয়েছে।   এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর আগে জুনে আরেকটি ফেডারেল আদালত এমন একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ আটকে দেয়, যার মাধ্যমে অভিবাসীদের আশ্রয়, কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত কিছু সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।   তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি, ঠিক কত দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে। প্রশাসন চাইলে উচ্চ আদালতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি আবারও উচ্চতর আদালতের বিবেচনায় যেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের অভিবাসন নীতিতে ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন আইনি লড়াই শুরু হতে পারে।   আদালতের বর্তমান রায়ে মূলত জাতীয়তার ভিত্তিতে আরোপ করা সামগ্রিক স্থগিতাদেশ বাতিল হয়েছে। যেসব ভিসা প্রত্যাখ্যান শুধুমাত্র ওই নীতির ভিত্তিতে করা হয়েছিল, সেগুলোও পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে। ফলে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অভিবাসনের প্রক্রিয়া আবার ব্যক্তিভিত্তিক মূল্যায়নের দিকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংবাদসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২০:৪৬
২৫ বছর বয়সী ডেজমন জনসন  I ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় মল থেকে ২২ হাজার ডলারের গয়না চুরি, বিক্রি করতে গিয়ে ধরা চোর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি শপিং মলের কিয়স্ক থেকে প্রায় ২২ হাজার ডলার মূল্যের সোনার গয়না চুরির অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী ডেজমন জনসন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চুরির পর মল থেকে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া গাড়ির লাইসেন্স প্লেট এবং একটি বন্ধকি দোকানে (Pawn Shop) গহনা বিক্রির চেষ্টার কারণে খুব সহজেই পুলিশের জালে ধরা পড়েন তিনি।   মার্টিন কাউন্টি শেরিফ অফিস সম্প্রতি এই চুরির ঘটনার পুরো সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডব্লিউপিবিএফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই জেনসেন বিচের ট্রেজার কোস্ট মলের ভেতরে থাকা ‘রয়্যাল জুয়েলার্স’ নামের একটি কিয়স্কে এই চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, জনসন প্রথমে ক্রেতা সেজে দোকানে গিয়ে বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলেন, এরপর সেখান থেকে চলে গিয়ে কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসেন।   বিক্রেতা তাকে ৭ থেকে ৮টি সোনার চেইন রাখা একটি ট্রে দেখালে সুযোগ বুঝে মুহূর্তের মধ্যে সেটি ছোঁ মেরে নিয়ে দৌড় দেন তিনি। চুরি যাওয়া প্রতিটি চেইনের দাম ছিল ৮৫০ থেকে সাড়ে ৪ হাজার ডলারের মধ্যে, যার মোট আর্থিক মূল্য ২২ হাজার ডলারেরও বেশি।   পুলিশ কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট ক্রিস মোরালেস জানান, মল থেকে বের হওয়ার সময় বাইরের ক্যামেরায় অভিযুক্তের গাড়ির লাইসেন্স প্লেটের নম্বর ধরা পড়ে, যা তদন্তকারীদের কাজ অনেকটাই সহজ করে দেয়। গাড়ির সূত্র ধরে পুলিশ ব্রোওয়ার্ড কাউন্টির লডারহিলের একটি ঠিকানার সন্ধান পায় এবং আশেপাশের বন্ধকি দোকানগুলোতে তল্লাশি চালায়।   এ সময় একটি দোকানের মালিক পুলিশকে জানান যে জনসন সম্প্রতি সেখানে গহনা বন্ধক রাখতে এসেছিলেন। সেখান থেকেও পুলিশের হাতে সিসিটিভি ফুটেজ আসে। পরবর্তীতে ব্রোওয়ার্ড শেরিফ অফিস এবং ইউএস মার্শালস ফিউজিটিভ টাস্ক ফোর্সের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জনসনের বিরুদ্ধে আকস্মিক ছিনতাই ও বড় ধরনের চুরির (গ্র্যান্ড থেফট) অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকা এই যুবক বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৯:৪৯
৬০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নাগরিক আব্দুল জাব্বার জারার I ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি কারাগারে ৩০ মাস, ১৪০ কেজি থেকে অর্ধেক ওজনে নেমে এলেন ফিলিস্তিনি বন্দি; হারালেন স্ত্রীকেও

দীর্ঘ ৩০ মাস ইসরায়েলি কারাগারে বিনা বিচারে (অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিটেনশন) আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ৬০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নাগরিক আব্দুল জাব্বার জারার। তবে তাঁর এই মুক্তি কোনো স্বস্তি বা আনন্দ বয়ে আনেনি, বরং সামনে এনেছে এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি।   জীবনের বিভিন্ন সময়ে ৩০ বারেরও বেশি গ্রেপ্তার হওয়া জারার তাঁর জীবনের মোট ১৬টি বছরই কাটিয়েছেন ইসরায়েলি বন্দিশালায়। মুক্তির পর সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি জানান, ২০২৪ সালে সর্বশেষ গ্রেপ্তারের আগে তাঁর শারীরিক ওজন ছিল ১৪০ কেজি।   কিন্তু দীর্ঘ এই বন্দিজীবনে চরম অবহেলা ও অমানবিক পরিস্থিতির কারণে তিনি এতটাই শুকিয়ে গেছেন যে, তাঁকে এখন চেনাই দায়। তবে শারীরিক এই কষ্টের চেয়েও তাঁকে বেশি কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে স্ত্রীর মৃত্যুশোক।   জারার যখন কারাগারে বন্দি ছিলেন, তখন তাঁর স্ত্রী ওয়াফা জারারকেও ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছিল। পরবর্তীতে আটক অবস্থায় একটি বিস্ফোরণে ওয়াফা নিহত হন। কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি থাকার কারণে প্রিয় স্ত্রীকে শেষ বিদায়টুকুও জানাতে পারেননি এই হতভাগ্য ফিলিস্তিনি।   তাঁর এই করুন পরিণতি ও চোখের জল ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর চলা নির্মম অমানবিকতার এক জীবন্ত প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্প্রদায়কে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৯:৩৫
ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রিনিটি নদীতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃ ত্যু I ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রিনিটি নদীতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃ ত্যু, তল্লাশির পর উদ্ধার ম রদেহ

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার বিপজ্জনক ট্রিনিটি নদীতে ডুবে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার হামবোল্ট কাউন্টির উইলো ক্রিকের কাছে ট্যাগমেয়ার বিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আর্কাটার স্থানীয় বাসিন্দা লেক্স রিনকন (৪৫) এবং নিউইয়র্ক থেকে আসা তার ছোট ভাই কৃষ্ণা বা গণেশ রিনকন (১৮)।   আগের দিন এক ব্যক্তিকে নদীর স্রোতের সঙ্গে বাঁচার লড়াই করতে দেখার খবরের ভিত্তিতে বুধবার সকালে পুলিশ ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীর তীরে তাদের গাড়িটি পার্ক করা অবস্থায় দেখতে পান শেরিফ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা।   নদী এবং এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানোর পর পানি থেকে দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। আগামী সপ্তাহে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, সাঁতার কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনাজনিত কারণেই পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।   মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে পরিবার ও বন্ধুদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত লেক্সের দীর্ঘদিনের বন্ধু গ্রেগরি টেরি এক শোকবার্তায় জানান, লেক্স ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু, সৃজনশীল ও রসিক একজন মানুষ। আর তার ছোট ভাই গণেশও ছিলেন ভীষণ নম্র স্বভাবের।   নিহত দুই ভাইয়ের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিউইয়র্কে বসবাস করেন। ফলে তাদের শেষ বিদায় জানাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হামবোল্ট কাউন্টিতে আসতে হচ্ছে। এক বিবৃতিতে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটের টিকিট কাটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, তাই এই কঠিন সময়ে তারা পরিচিতজন ও স্থানীয় কমিউনিটির সহযোগিতা কামনা করেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৯:৩
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের নীতিতে সায়, এলজিবিটি থেকে ট্রান্সজেন্ডারদের বাদ দিল লগ কেবিন I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের নীতিতে সায়, এলজিবিটি থেকে ট্রান্সজেন্ডারদের বাদ দিল লগ কেবিন

যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সমকামী অধিকার নিয়ে কাজ করা গোষ্ঠী 'লগ কেবিন রিপাবলিকান' নিজেদের এলজিবিটি (LGBT) পরিচয়ের ছাতা থেকে ‘টি’ (T) বা ট্রান্সজেন্ডার অধিকার বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এখন থেকে তারা কেবল ‘এলজিবি’ (LGB) অর্থাৎ লেসবিয়ান, গে এবং বাইসেক্সুয়ালদের অধিকার রক্ষায় একটি অ্যাডভোকেসি সংগঠন হিসেবে কাজ করবে।   সংগঠনের ৫০তম বার্ষিকীর আগে বোর্ড অব ডিরেক্টরসের নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরিত লিঙ্গের মানুষদের অধিকার খর্ব করার নীতির প্রতি সরাসরি সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট রস হেমিঙ্গার এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে 'লিঙ্গ পরিচয় রাজনীতির নতুন যুগ'-কে দায়ী করেছেন।   তিনি ট্রাম্পের সুরেই অভিযোগ করেছেন যে, ট্রান্সজেন্ডার আন্দোলন এখন প্রাপ্তবয়স্কদের অধিকারের বদলে শিশুদের ওপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছে এবং বাবা-মায়ের সম্মতি ছাড়াই অপ্রাপ্তবয়স্কদের লিঙ্গ পরিবর্তনের মতো অপরিবর্তনীয় চিকিৎসার সমর্থন করছে।   তবে নিজেদের 'অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্প্রদায়' হিসেবে দাবি করা লগ কেবিন রিপাবলিকানের এই বিতর্কিত পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্যান্য মানবাধিকার ও সমকামী অধিকার সংগঠনগুলো। 'এলজিবিটিকিউ নেশন' এবং 'হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন'-এর মতো সংগঠনগুলোর দাবি, ট্রান্সজেন্ডারদের বাদ দিয়ে এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়কে বিভক্ত করার এই কৌশল মূলত সমতা বিরোধীদেরই জয়।   মিথ্যা আশায় সম্প্রদায়ের একটি অংশকে বলি দিয়ে বাকিদের সুরক্ষিত রাখার এই চেষ্টা ইতিহাসে কখনোই সফল হয়নি এবং এই কৌশল অবিলম্বে প্রত্যাখ্যান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অধিকারকর্মীরা।   উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার সীমিত করতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   এর মধ্যে সরকারিভাবে কেবল নারী ও পুরুষ—এই দুই লিঙ্গকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার মতো একাধিক নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে। লগ কেবিন রিপাবলিকানের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তটি ট্রাম্প প্রশাসনের সেই ধারাবাহিক নীতিরই এক নতুন রাজনৈতিক প্রতিফলন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৮:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জাতিসংঘের পাওনা ৫ বিলিয়ন ডলার, ট্রাম্প প্রশাসন দিচ্ছে ৮৫০ মিলিয়ন I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জাতিসংঘের পাওনা ৫ বিলিয়ন ডলার, ট্রাম্প প্রশাসন দিচ্ছে ৮৫০ মিলিয়ন

জাতিসংঘের কাছে জমে থাকা প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার বকেয়া চাঁদার মধ্যে ৮৫০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে দেশটির কংগ্রেসকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয়েছে।   জাতিসংঘে বড় ধরনের সংস্কারের দাবি তোলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্ব সংস্থাটিকে দেওয়া এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হাতে আসা নথির তথ্যানুযায়ী, এই ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের বকেয়া বাবদ এবং বাকি ১২৫ মিলিয়ন ডলার হাইতি ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে পরিচালিত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের খরচের জন্য হস্তান্তর করা হবে।   জাতিসংঘের হিসাব মতে, সদস্য ফি বাবদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সংস্থাটির এখনো প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে; যার মধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি সাধারণ বাজেটের এবং প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছিলেন যে, সব সদস্য রাষ্ট্র তাদের বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না করলে সংস্থাটি ‘আসন্ন আর্থিক বিপর্যয়ের’ মুখে পড়বে।   সেই সতর্কবার্তার পর ট্রাম্প প্রশাসন মাত্র ১৬০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন গত দেড় বছর ধরে জাতিসংঘে আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছে, যা সংস্থাটির বহু সেবামূলক ও মানবিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করে ফেলেছে। এমনকি ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘকে কোনো অনুদান দেয়নি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনেস্কো থেকেও নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।   তবে কংগ্রেসকে পাঠানো এই নোটিশ নিয়ে খোদ ক্যাপিটল হিলের রিপাবলিকানদের মধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলটির কিছু আইনপ্রণেতা যুক্তি দিচ্ছেন যে, জাতিসংঘে অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ কমানো এবং সংস্থাটির মতাদর্শগত অবস্থান পরিবর্তনের যে দাবি ট্রাম্প প্রশাসন করেছিল, এই অর্থ ছাড়ের মাধ্যমে তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   বিশেষ করে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থাকে (ইউএনআরডব্লিউএ) সহায়তা বন্ধ রাখার বিষয়ে অবস্থান কতটা কঠোর থাকবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা। তবে মার্কিন এই সিদ্ধান্তের ফলে চরম অর্থসংকটে থাকা জাতিসংঘের কার্যক্রমে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৮:২৭
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে ডালাসগামী ফ্লাইটে মাঝ আকাশে ল্যাপটপে আগুন I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে ডালাসগামী ফ্লাইটে মাঝ আকাশে ল্যাপটপে আগুন, আহত ৫ যাত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে এক যাত্রীর ল্যাপটপে হঠাৎ আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (২২ আগস্ট) ঘটা এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হয়েছেন। পাইলটের দেওয়া তথ্যমতে, বিমানটি আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় হঠাৎ একটি ল্যাপটপ থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে শুরু করে।   আতঙ্কিত যাত্রীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়লেও বিমানের ক্রু ও ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এরপর পাইলট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিমানটিকে নিরাপদে ডালাস বিমানবন্দরে অবতরণ করাতে সক্ষম হন।   নিরাপদে অবতরণের পর আহত পাঁচ যাত্রীর মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকি চারজনের আঘাত তুলনামূলকভাবে গুরুতর না হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ফ্লাইটটিতে পাইলট, কো-পাইলট ও ক্রুসহ মোট ১৩৩ জন আরোহী ছিলেন।   মাঝ আকাশে এমন ভীতিকর অগ্নিকাণ্ডের পরও যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ায় আমেরিকান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ পাইলট, কো-পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের সাহসিকতার প্রশংসা করে ধন্যবাদ জানিয়েছে।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ল্যাপটপে থাকা লিথিয়াম ব্যাটারি বিভিন্ন কারণে অতিরিক্ত গরম হয়ে এমন অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।   সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় ল্যাপটপ বিস্ফোরণ বা আগুন লাগার অন্তত ৫৮টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা আকাশপথে যাত্রী নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৮:১১
যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
একই আইন, ভিন্ন বিচার: যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ

যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইন, বিশেষ করে 'টেররিজম অ্যাক্ট ২০০০'-এর চরম বৈষম্যমূলক প্রয়োগ নিয়ে দেশটিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি 'ফিলিস্তিন অ্যাকশন'-কে সমর্থন করে যুক্তরাজ্যের অনেক সাধারণ ও শ্বেতাঙ্গ নাগরিক, বিশেষত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ বা চিকিৎসকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিচ্ছেন।   ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে তারা সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে জেনেও স্বেচ্ছায় এই আইন অমান্য করছেন। এর জেরে মিডল্যান্ডসসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেকের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশ। তবে শ্বেতাঙ্গদের ওপর পুলিশের এই অভিযানের দৃশ্য যুক্তরাজ্যের বিচারব্যবস্থার একটি পুরনো ও অন্ধকার দিককে নতুন করে সামনে এনেছে।   মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকরা অভিযোগ করছেন, গত ২৫ বছর ধরে এই একই সন্ত্রাসবিরোধী আইন যুক্তরাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নির্দয়ভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। কোনো ধরনের সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই বিমানবন্দরে হয়রানি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া বা বিনা বিচারে আটকে রাখার মতো ঘটনাগুলো মুসলিমদের জন্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।   একজন শ্বেতাঙ্গ বৃদ্ধ যখন প্ল্যাকার্ড হাতে গ্রেপ্তার হন, তখন সমাজ সেটিকে রাষ্ট্রীয় বাড়াবাড়ি ও অযৌক্তিকতা হিসেবে দেখে। কিন্তু একই অপরাধে একজন মুসলিম গ্রেপ্তার হলে তাকে সরাসরি 'সন্ত্রাসী' হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। অধিকারকর্মীরা একেই ‘শ্বেতাঙ্গ বিশেষাধিকার’ (White Privilege) হিসেবে আখ্যায়িত করে বলছেন, রাষ্ট্রের চোখে মুসলিমরা যেন জন্মগতভাবেই সন্দেহভাজন।   ফিলিস্তিনের পক্ষে বর্তমান আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শ্বেতাঙ্গদের সাহস প্রশংসিত হলেও, বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, আইনি ব্যবস্থার এই অন্তর্নিহিত বৈষম্য দূর করা না হলে প্রকৃত ন্যায়বিচার আসবে না। গণমাধ্যমে আন্দোলনকারীদের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে যখন বলা হয়, "এরা তো চেনা সন্দেহভাজন (Usual Suspects) নয়", তখন তার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে মুসলিমদের ওপর চলমান নিপীড়নকেই বৈধতা দেওয়া হয়।   অধিকারকর্মীদের মতে, সত্যিকারের সংহতি হলো বৈষম্যমূলক এই সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে আংশিক নয়, বরং পুরোপুরি বাতিল করার দাবি তোলা এবং ফিলিস্তিনে দখলদারিত্ব ও গণহত্যার অবসান না হওয়া পর্যন্ত সবার মুক্তির জন্য এই প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৭:৪২
পেনসিলভানিয়ার পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোকেন চক্র, ১৩ শিক্ষার্থীসহ এক অভিভাবক অভিযুক্ত I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
পেনসিলভানিয়ার পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোকেন চক্র, ১৩ শিক্ষার্থীসহ এক অভিভাবক অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশাল কোকেন পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জনই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং একজন অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থীর বাবা।   পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নথিতে এই ১৪ জনের বিরুদ্ধে কোকেন সরবরাহ, বিতরণ থেকে শুরু করে তা ওজন করা, প্যাকেটজাত করা এবং গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।   তদন্তে জানা গেছে, এই মাদক চক্রটি মূলত ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডেল্টা আপসিলন’ এবং ‘সিগমা চি’ নামের দুটি ফ্র্যাটার্নিটি (শিক্ষার্থী সংগঠন) হাউস থেকে পরিচালিত হতো। অগস্টিনো আবাতিয়েল্লো এবং থমাস রবিনসন নামের দুই জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করতেন।   তারা নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ কোকেন সংগ্রহ করে ফ্র্যাটার্নিটি হাউসগুলোতে আনতেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই চক্রের নতুন সদস্যদের ফ্র্যাটার্নিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার (হাজিং বা র‍্যাগিং) শর্ত হিসেবে জোরপূর্বক কোকেন কাটা ও প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যবহার করা হতো।   অভিযুক্তদের মধ্যে আবাতিয়েল্লো, থমাস রবিনসন, মোহাম্মদ হুরাবি ও লার্স জিপভ্যাট নামের চারজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর (ফেলোনি) অভিযোগ আনা হয়েছে। রবার্ট জানোল্লা নামের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও অপরাধমূলক যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে।   বাকি আট শিক্ষার্থী—লিয়াম স্মিথ, মাইকেল ব্রোগনো, ক্যাডেন হাওয়ে, কনর হারলে, সেথ বিয়ার্ডসলি, কাইল রিডপাথ, ড্যানিয়েল প্রাইস এবং চার্লস ওয়াইজম্যানের বিরুদ্ধে মাদক রাখা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম বহনের মতো তুলনামূলক লঘু (মিসডিমিনর) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া থমাস রবিনসনের বাবা পল রবিনসনের (যিনি পেশায় একজন আইনজীবী) বিরুদ্ধে মাদক ও নগদ অর্থভর্তি একটি সিন্দুক লুকিয়ে রাখা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্ত ১৪ জনকেই নির্দোষ বলে ধরে নেওয়া হবে। পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের ফ্র্যাটার্নিটিগুলোকে নিষিদ্ধ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৭:১৬
২০ বছর বয়সী আইনের ছাত্র লাইথ আলানিকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্যাটউইক ফেরত পাঠানোর একটি ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়। ছবি: সারাহ লি/দ্য গার্ডিয়ান
মুসলিম হওয়ার কারণে, বৈধ ভিসা থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হলো ব্রিটিশ-মুসলিম শিক্ষার্থীকে

বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা আটকে রাখার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক ব্রিটিশ-মুসলিম শিক্ষার্থীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। লাইথ আলানি নামের ২০ বছর বয়সী ওই তরুণের অভিযোগ, কেবল মুসলিম হওয়ার কারণেই অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।   যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের বাসিন্দা এই আইন বিভাগের শিক্ষার্থী থিম পার্ক পরিদর্শন ও ক্যালিফোর্নিয়ায় আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে এক সপ্তাহের জন্য আড়াই হাজার পাউন্ড খরচ করে ফ্লোরিডায় গিয়েছিলেন।   কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) তাকে ৯ ঘণ্টা ধরে একটানা জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং আরও ১৪ ঘণ্টা একটি হোল্ডিং সেলে আটকে রাখে। শেষ পর্যন্ত তার ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তল্লাশি করে তাকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়।   আলানির অভিযোগ, বিমানবন্দরে তাকে রীতিমতো অপহরণের মতো মানসিক নিপীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ, হার্টের সমস্যা এবং অটিজমে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কর্মকর্তারা তাকে হাতকড়া পরানোর হুমকি দিয়ে একটানা জেরা করে গেছেন। জেরার সময় তার আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, ব্যক্তিগত শখ এবং ভ্রমণের ইতিহাস নিয়ে নানা অবান্তর প্রশ্ন করা হয়।   এর আগে ইরাকে ভ্রমণের কারণে তার দ্রুতগতির ইএসটিএ (ESTA) ভিসা বাতিল হলেও তাকে ১০ বছর মেয়াদি মাল্টি-এন্ট্রি পর্যটক ভিসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর সময় জোরপূর্বক এমন একটি নথিতে সই নেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল তিনি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।   অন্যদিকে, মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) দাবি করেছে যে, আলানির ভ্রমণ ইতিহাসের মধ্যে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়ায় তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। জাতিগত বা ধর্মীয় কারণে হয়রানির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে সংস্থাটি জানিয়েছে, পরবর্তী ফ্লাইট পেতে দেরি হওয়ার কারণেই তাকে এত দীর্ঘ সময় হেফাজতে রাখা হয়েছিল।   তবে মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন জানিয়েছে, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে মুসলিম পর্যটকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা, ডিভাইস বাজেয়াপ্ত ও হয়রানি করার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর ইতিমধ্যে ভুক্তভোগীকে কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করেছে এবং এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপি অ্যানেলিজ ডডস ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৬:৪২
নিউইয়র্কে সুইমিংপুলে গাড়ি পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু, ৯১১-এ ফোন করেও শেষ রক্ষা হলো না I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কে সুইমিংপুলে গাড়ি পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু, ৯১১-এ ফোন করেও শেষ রক্ষা হলো না

যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে বাড়ির পেছনের সুইমিংপুলে এসইউভি (SUV) গাড়ি পড়ে অ্যালিসন রহমানি (৪০) নামে এক স্কুলশিক্ষিকা ও চার সন্তানের জননীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছে, গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা ‘মেডিকেল ইমার্জেন্সি’র শিকার হয়েছিলেন তিনি।   এর ফলেই তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার হিউলেট এলাকায় নিজেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ডুবন্ত গাড়ি থেকে অ্যালিসন নিজেই ৯১১ নম্বরে কল করে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি; হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।   পুলিশ এই ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের অপরাধমূলক বা সন্দেহজনক কারণ দেখছে না, তবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে। সদ্য নিজের ৪০তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করা অ্যালিসন ছিলেন হিব্রু অ্যাকাডেমির গণিত বিষয়ক কোঅর্ডিনেটর। রবিবার এক আবেগঘন পরিবেশে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।   হৃদয়বিদারক কাকতালীয় বিষয় হলো, এদিনই স্বামী ম্যাথিউ রহমানির সঙ্গে রোমান্টিক ছুটি কাটাতে তার প্যারিস যাওয়ার কথা ছিল। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে শোকাহত স্বামী ম্যাথিউ ইহুদিদের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের প্রার্থনা ‘উইমেন অব ভ্যালর’ পাঠ করে প্রিয় স্ত্রীকে স্মরণ করেন।   অন্যদিকে, অ্যালিসনের মা র‍্যাচেল রোহডে কান্নায় ভেঙে পড়ে উপস্থিত সবাইকে বলেন, “আমরা একেবারে ভেঙে পড়েছি, আমাদের জীবন আর কখনোই আগের মতো হবে না।”

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৬:৭
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় বাংলাদেশিদের সুখবর, এগোল আড়াই বছর I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় বাংলাদেশিদের সুখবর, এগোল আড়াই বছর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যামিলি বেইজড গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন। আগস্ট মাসের তুলনায় এফ ১, এফ ২বি, এফ ৩ এবং এফ ৪ ক্যাটাগরিতে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট এক থেকে প্রায় আড়াই বছর পর্যন্ত এগিয়েছে।   ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশের নাম আলাদাভাবে না থাকলেও ‘অল চার্জেবিলিটি এরিয়াস’ কলামের আওতায় এই অভাবনীয় অগ্রগতি দেশের আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। নতুন বুলেটিন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকদের ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের এফ ১ ক্যাটাগরি প্রায় ১৩ মাস এগিয়ে ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি হয়েছে।   অন্যদিকে, গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানের এফ ২এ ক্যাটাগরি এক মাস এগিয়ে ২০২৬ সালের ২২ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ডেটস ফর ফাইলিং চার্টে আগে থেকেই ‘কারেন্ট’ অবস্থায় রয়েছে।   সবচেয়ে বড় চমক এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিবাহিত ছেলে-মেয়েদের এফ ৩ ক্যাটাগরিতে। এক মাসের ব্যবধানে এই ক্যাটাগরি প্রায় দুই বছর পাঁচ মাস এগিয়ে ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা বহু বাংলাদেশি পরিবারের জন্য এটি একটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর।   এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের ভাইবোনদের জন্য নির্ধারিত এফ ৪ ক্যাটাগরি দুই বছর এক মাসেরও বেশি এগিয়ে ২০১১ সালের ২২ অক্টোবর হয়েছে এবং গ্রিন কার্ডধারীর ২১ বছরের বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের এফ ২বি ক্যাটাগরি ১৯ মাসের বেশি এগিয়ে ২০১৯ সালের ২২ আগস্টে পৌঁছেছে।   তবে এত বড় অগ্রগতির পরও এফ ৪ ও এফ ৩ ক্যাটাগরিতে আবেদনকারীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যথাক্রমে প্রায় ১৫ ও ১২ বছরের পুরোনো প্রায়োরিটি ডেট নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।   সার্বিকভাবে এই বুলেটিনে বাংলাদেশ ও চীনের আবেদনকারীরা সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি লাভ করেছেন। ভারতের প্রথম চারটি ক্যাটাগরির অগ্রগতি বাংলাদেশের সমান হলেও ভাইবোনের এফ ৪ ক্যাটাগরিতে তারা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় পাঁচ বছর পিছিয়ে রয়েছে।   মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের ক্ষেত্রেও বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি, তাদের অধিকাংশ ক্যাটাগরি প্রায় স্থির অবস্থায় রয়েছে। উল্লেখ্য, মার্কিন নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের বাবা-মায়েরা ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ হওয়ায় তারা বার্ষিক ভিসাসীমার বাইরে থাকেন, ফলে তাদের ক্ষেত্রে ভিসা বুলেটিনের এই কাট-অফ ডেটগুলোর কোনো প্রভাব পড়বে না।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৫:৪২
গুলিতে নিহত গুরদীপ সিং I ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে গুলিতে নি হত গুরদীপ, যুক্তরাষ্ট্রে আসার ঋণ শোধের আগেই থেমে গেল জীবন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গাড়ির ধাক্কাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিবাদে গুরদীপ সিং (২৭) নামের এক ভারতীয় ডেলিভারি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্ক এলাকার ক্রিসেন্ট স্ট্রিট ও স্ট্যানলি অ্যাভিনিউ মোড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।   পুলিশ জানিয়েছে, গুরদীপের বুক ও শরীরের ওপরের অংশে অন্তত সাতবার গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলে তার স্কুটারের পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের আগে রাস্তায় অপর এক ব্যক্তির সঙ্গে গুরদীপের সংঘর্ষ ও হাতাহাতি হয়েছিল। আশপাশের একটি নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দুজনের মারামারির দৃশ্য ধরা পড়েছে, যার পরপরই গুলির ঝলকানি দেখা যায় এবং একজনকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ঘাতক একটি কালো রঙের লেক্সাস গাড়িতে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করে ঘাতককে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   নিহত গুরদীপ প্রায় এক দশক আগে ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তিনি কুইন্সের রিচমন্ড হিলে এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে খাবার, বিশেষত পিজ্জা ডেলিভারির কাজ করে পরিবারের আর্থিক হাল ধরেছিলেন।   তার বাবা পিয়ারা লাল আক্ষেপ করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছেলেকে উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে পরিবারকে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিতে হয়েছিল, যা এত বছর পরও পুরোপুরি শোধ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেশী ও পরিচিতদের কাছে গুরদীপ অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে তার শোকাহত পরিবার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে ভারত সরকারের জরুরি সহায়তা কামনা করেছে।  

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৫:১৫
ভারতে সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবে কোটি টাকায় অণ্ডকোষ বিক্রির লোভে ১৭ বছরের কিশোরকে হত্যা
ভারতে কোটি টাকায় অণ্ডকোষ বিক্রির লোভে ১৭ বছরের কিশোরকে হ ত্যা

ভারতের ভোপালে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি ভুয়া ভিডিওর গুজবে প্ররোচিত হয়ে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যার পর তার শরীরের অঙ্গ (অণ্ডকোষ) কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের তথ্যমতে, ঘাতক চক্রটি একটি ভিডিও থেকে ধারণা পেয়েছিল যে, কালোবাজারে মানবদেহের এই নির্দিষ্ট অঙ্গটি প্রায় এক লাখ পাউন্ড বা এক কোটি ২০ লাখ রুপিতে বিক্রি করা সম্ভব।   এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ মূল সন্দেহভাজন ২০ বছর বয়সী ব্যবসায় শিক্ষার ছাত্র জোহেব খান এবং ১৮ বছর বয়সী আমির কুরেশিসহ তিন অপ্রাপ্তবয়স্ককে আটক করেছে।   তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জোহেব খান এই চক্রটি গড়ে তোলে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কালোবাজারে চড়া দামে অঙ্গ বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে বাকিদের রাজি করায়। এমনকি সহযোগীদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য সে অনলাইনে কেনা অ্যাপ্রন, স্টেথোস্কোপ ও থার্মোমিটার ব্যবহার করে নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেয় এবং অঙ্গচ্ছেদের বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণও দেয়।   নিহত কিশোর রেহানের ভোপালের ইকবাল ময়দান সংলগ্ন একটি বাজারে কলম ও চাবির রিং বিক্রির ছোট একটি দোকান ছিল। গত ৬ আগস্ট দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক তাকে মাত্র ১০০ রুপির বিনিময়ে একটি মারামারির মীমাংসা করার কথা বলে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তারা রেহানকে ব্লেড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে। পুলিশের ডেপুটি কমিশনার আয়ুষ গুপ্ত জানান, হত্যার সময় জোহেব খান ভিডিও কলে যুক্ত থেকে বাকি চারজনকে সরাসরি নির্দেশনা দিচ্ছিল।   হত্যার পর চক্রটি ক্রেতা খোঁজার আশায় রেহানের অঙ্গটি দুই দিন বরফে ঢেকে রাখে। কিন্তু কোনো ক্রেতা না পেয়ে জোহেব খানের নির্দেশে তারা সেটি ভিন্ন ভিন্ন লেকে ফেলে দেয়। গত ১০ আগস্ট ধোবি ঘাট এলাকার লেয়ার লেক থেকে রেহানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাঁচ দিন আগে নিখোঁজ ডায়েরি করা রেহানের মরদেহ তার মায়ের দেওয়া ট্যাটুর বিবরণ থেকে শনাক্ত করা হয়।   ময়নাতদন্তে মারাত্মক আঘাত এবং অঙ্গচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশ এরই মধ্যে হত্যায় ব্যবহৃত ব্লেডটি উদ্ধার করেছে এবং পানিতে ফেলে দেওয়া অঙ্গটি উদ্ধারে ডুবুরি নামিয়েছে। এছাড়া, চক্রটি অঙ্গ বিক্রির জন্য যাদের সাথে যোগাযোগ করেছিল, পুলিশ তাদেরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:৫৬
গাজা থেকে ঘুড়ি ওড়ালেও মিলবে ড্রোনের মতো জবাব, হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের
গাজা থেকে ঘুড়ি ওড়ালেও মিলবে ড্রোনের মতো জবাব, হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের

গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের দিকে সাধারণ ঘুড়ি ওড়ানোর ঘটনাকেও আর হালকাভাবে নিচ্ছে না তেল আবিব। গাজা থেকে যেকোনো ধরনের উড়ন্ত বস্তু বা নিক্ষেপের ঘটনা মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে তাৎক্ষণিক ও সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।   সাম্প্রতিক সময়ে গাজা থেকে ওড়ানো অন্তত চারটি ঘুড়ি ইসরায়েলের নাহাল ওজ কিবুতস এলাকায় এসে পড়ার পর এই কড়া নির্দেশনা দেওয়া হলো। যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, ওই ঘুড়িগুলোতে সন্দেহজনক বা বিস্ফোরক কোনো বস্তু ছিল না এবং তা থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকিও তৈরি হয়নি।   তবে অতীতে গাজা থেকে দাহ্য পদার্থ বহনকারী ঘুড়ি ও বেলুন পাঠানোর মাধ্যমে ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী এলাকায় আগুন লাগানোর একাধিক নজির রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পশ্চিম নেগেভের ইসরায়েলি বসতিগুলোর দিকে গাজা থেকে আসা যেকোনো বস্তুকে তিনি সরাসরি ‘যুদ্ধের কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।   তার স্পষ্ট বার্তা হলো—বেলুনকে এখন থেকে ঘুড়ি এবং ঘুড়িকে ড্রোন হিসেবে গণ্য করা হবে, সেগুলোর সঙ্গে বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক। যারা এসব বস্তু তৈরি, উৎক্ষেপণ বা কাজে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোরতার সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। ইসরায়েলি বসতিগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।   উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকেই গাজার ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দিকে দাহ্য পদার্থযুক্ত ঘুড়ি ও বেলুন ওড়ানোর অভিযোগ করে আসছে তেল আবিব। এসবের কারণে বিভিন্ন সময়ে সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতি এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ ঘুড়ি ও বেলুনের আড়ালে এমন নাশকতা ঠেকাতেই এবার শূন্য সহনশীলতার (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করল ইসরায়েল।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:২৯
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এতটাই বেড়েছে, চার সদস্যের পরিবার নিয়ে বাঁচতে বছরে দরকার ২ লাখ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এতটাই বেড়েছে, চার সদস্যের পরিবার নিয়ে বাঁচতে বছরে দরকার ২ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, জ্বালানি এবং ইউটিলিটি বিলের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশ ছুঁয়েছে। একসময় বছরে এক লাখ ডলার বা ছয় অঙ্কের আয়কে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের মাপকাঠি ধরা হলেও, বর্তমান বাস্তবতায় তা আর যথেষ্ট নয়।   সম্প্রতি ‘স্মার্টঅ্যাসেট’-এর প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেটে একা বসবাসকারী একজন নিঃসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের আরামদায়ক জীবনযাপনের জন্য বছরে অন্তত ৮০ হাজার ডলার আয় করা প্রয়োজন। এমনকি প্রায় অর্ধেক স্টেটে এই প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ এক লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা মধ্যবিত্তের জন্য এক বিশাল আর্থিক চ্যালেঞ্জ।   স্মার্টঅ্যাসেটের এই গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি স্টেটের জীবনযাত্রার ব্যয় বিশ্লেষণ করতে মূলত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর এবং জনপ্রিয় ‘৫০/৩০/২০’ বাজেট পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়েছে।   এই অর্থনৈতিক মডেলে আয়ের ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া, খাবার ও পরিবহনের মতো মৌলিক চাহিদা, ৩০ শতাংশ ব্যক্তিগত পছন্দ এবং বাকি ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও ঋণ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। গবেষণার তথ্যানুযায়ী, একা বসবাসকারীদের তুলনায় পরিবার নিয়ে বসবাসকারীদের আর্থিক চাপ বহুগুণ বেশি।   দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তান নিয়ে গঠিত চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি স্টেটের মধ্যে ৪০টিতেই স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য বছরে দুই লাখ ডলার বা তার বেশি আয় করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।   স্টেটভেদে এই ব্যয়ের ধরনে ব্যাপক তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। একা বসবাসকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্টেট হলো হাওয়াই, যেখানে বছরে ১ লাখ ২৯ হাজার ২ ডলার প্রয়োজন। তবে চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে ম্যাসাচুসেটস সবচেয়ে বেশি ব্যয়বহুল; সেখানে বছরে প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার। ব্যয়ের এই তালিকায় ম্যাসাচুসেটসের পরেই রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক।   অন্যদিকে, তুলনামূলক কম ব্যয়ের স্টেটগুলোর মধ্যে পশ্চিম ভার্জিনিয়া ও মিসিসিপি অন্যতম। পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় একা বসবাসকারীর বছরে ৮১ হাজার ২৪৫ ডলার এবং মিসিসিপিতে চার সদস্যের পরিবারের জন্য ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৩ ডলার প্রয়োজন।   মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ২০২৫ সালের তুলনায় নিউইয়র্কে একা বসবাসকারীর প্রয়োজনীয় আয় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মন্টানায় সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আয়ের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা প্রমাণ করে যে দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় দিন দিন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:৪
কানাডার পণ্যে ৫০% শুল্ক আরোপ, ট্রাম্পকে ‘ডলারের বদলা ডলারে’ জবাব কার্নির
কানাডার পণ্যে ৫০% শুল্ক আরোপ, ট্রাম্পকে ‘ডলারের বদলা ডলারে’ জবাব কার্নির

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবার রীতিমতো যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কানাডিয়ান পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি এই পদক্ষেপকে সরাসরি কানাডার ওপর ‘আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, কেউ যখন আক্রান্ত হয়, তখন সে মূলত যুদ্ধের মধ্যেই থাকে।   কার্নির মতে, এটি আর কেবল কোনো বাণিজ্য চুক্তির বিষয় নয়, বরং কানাডার সার্বভৌমত্ব এবং পরিচয়ের ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কানাডার যথেষ্ট রিজার্ভ, সহনশীলতা এবং সঠিক পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।   শনিবার ট্রাম্প প্রশাসন বিয়ার, পনির এবং ইলেকট্রনিক্সসহ প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডিয়ান পণ্যের ওপর এই বিশাল শুল্ক আরোপ করে, যা আগে থেকেই অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ, যানবাহন ও স্টিলের ওপর আরোপিত শুল্কের অতিরিক্ত। এই পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের ৩৩৮ নম্বর ধারা ব্যবহার করা হয়েছে।   ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এর পক্ষে সাফাই গেয়ে অভিযোগ করেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য না হয়েও রাজ্যের মতো সুবিধা ভোগ করতে চায়। তিনি আরও দাবি করেন, কানাডা বছরের পর বছর ধরে মার্কিন কৃষকদের ওপর বিশাল শুল্ক চাপিয়ে এসেছে, যা আর মেনে নেওয়া হবে না। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিজন গ্রিয়ারও জানিয়েছেন, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বাজারে সবচেয়ে অনুকূল সুবিধা পেয়ে আসছে, অথচ তারা এখন পাল্টা ব্যবস্থা নিলে ওয়াশিংটনও ছেড়ে কথা বলবে না।   অন্যদিকে, মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে একটি বাজে চুক্তি চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল এবং আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শেষ মুহূর্তের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য তিনি ওয়াশিংটনের অযৌক্তিক দাবিগুলোকে দায়ী করেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে কুইবেকের ফরাসি ভাষা, সংস্কৃতি এবং কানাডিয়ান পরিচয় পরিবর্তনের মতো অবাস্তব দাবি তুলেছে।   এর প্রতিক্রিয়ায় আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা, যা ‘ডলারের বিপরীতে ডলার’ নীতিতে কার্যকর হবে বলে কার্নি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নজিরবিহীন এই বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ও মেইনের মতো সীমান্ত রাজ্যগুলোর অর্থনীতি এবং আসন্ন সিনেট নির্বাচনেও ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৩:৪৭
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর নতুন ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য ভিসা বুলেটিন প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। মার্কিন অর্থবছরের শেষ মাস হওয়ায় কয়েকটি কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন শ্রেণিতে ভিসা নম্বরের চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য কয়েকটি শ্রেণিতে ভিসা নম্বর শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   সেপ্টেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, ভারতীয় আবেদনকারীদের কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রথম শ্রেণিতে চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২২ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। উচ্চ চাহিদার কারণে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এই শ্রেণির নির্ধারিত ভিসা নম্বর শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।   কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণিতেও ভারতীয়দের জন্য বর্তমানে ভিসা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে না। একই অবস্থা রয়েছে সাধারণ কর্মসংস্থানভিত্তিক পঞ্চম শ্রেণিতেও। তবে গ্রামীণ এলাকা, উচ্চ বেকারত্বপূর্ণ এলাকা এবং অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত পঞ্চম শ্রেণির বিশেষ ভিসাগুলো সব দেশের আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।   পরিবারভিত্তিক দ্বিতীয়-এ শ্রেণিতে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি রয়েছে। সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের আবেদনকারীদের জন্য এই শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের তালিকায় দ্বিতীয়-এ শ্রেণি বিশ্বব্যাপী চলমান রয়েছে।   কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় শ্রেণিতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের আবেদনকারীদের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪। তবে চীন, ভারত ও ফিলিপাইনের আবেদনকারীদের জন্য আলাদা ও তুলনামূলক পুরোনো কাটঅফ তারিখ রয়েছে।   স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের শেষ সময়ে কোনো শ্রেণিতে চাহিদা বেড়ে গেলে নির্ধারিত তারিখ আরও পিছিয়ে যেতে পারে। এমনকি কোনো শ্রেণির ভিসা নম্বর পুরোপুরি শেষ হয়ে গেলে সেটি সাময়িকভাবে অনুপলব্ধও হতে পারে।   গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের তাই নিজেদের অগ্রাধিকার তারিখের সঙ্গে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিনের কাটঅফ তারিখ মিলিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সেপ্টেম্বরে আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন তারিখের তালিকা অনুসরণ করছে, সেটিও নজরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিসা নম্বর শেষ হয়ে গেলে কিছু আবেদনকারীকে নতুন অর্থবছর শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।   নতুন মার্কিন অর্থবছর শুরু হবে আগামী ১ অক্টোবর। ফলে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভিসা নম্বরের চাপ এবং বিভিন্ন অভিবাসন শ্রেণির কাটঅফ তারিখের পরিবর্তনের দিকে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের বিশেষ নজর রাখতে হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৩:৩০
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক রাজু (বামে) এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত অপরজন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ফ্রাই চিকেনের দোকানে বন্দুক হামলা, বাংলাদেশি যুবক নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ফ্রাই চিকেনের একটি দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে রাজু নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইস্ট ব্রুকলিনের রকওয়ে পার্কওয়ে এলাকার আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজা দোকানে এ ঘটনা ঘটে।   প্রত্যক্ষ তথ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে এক বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। তখন সেখানে দুই বাংলাদেশি কর্মরত ছিলেন। তাদের একজনের পায়ে গুলি লাগে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।   এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আরেক বাংলাদেশি কর্মী রাজু। তার বুকে গুলি লাগে। পুলিশ দ্রুত তাকে ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   নিহত রাজু প্রায় তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া এলাকায় বলে স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে।   এদিকে, বন্দুক হামলার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। হামলার উদ্দেশ্য এবং বন্দুকধারীর পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।   রাজুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোক নেমে এসেছে। স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনেরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৩:১৪
ফেরতযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা ঠেকাতে নতুন বিধিমালার প্রস্তাব নিয়ে কথা বলছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
আইআরএসের নতুন প্রস্তাব, যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিত অভিবাসীরা পাবেন না ফেরতযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন অনিয়মিত অভিবাসী ও অন্যান্য অযোগ্য ব্যক্তিদের ফেরতযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবিধা পাওয়া ঠেকাতে নতুন বিধিমালার প্রস্তাব করেছে। ১৯ আগস্ট মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা এই প্রস্তাব প্রকাশ করে। প্রস্তাবটি শিশু ট্যাক্স ক্রেডিট, দত্তক গ্রহণ ট্যাক্স ক্রেডিট, অর্জিত আয় ট্যাক্স ক্রেডিট এবং আমেরিকান সুযোগ ট্যাক্স ক্রেডিটের ফেরতযোগ্য অংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।   প্রস্তাবিত বিধিমালায় এসব ট্যাক্স ক্রেডিটের ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতা স্পষ্ট করার কথা বলা হয়েছে। কোনো করদাতার পাওনা ফেডারেল ট্যাক্সের চেয়ে ট্যাক্স ক্রেডিটের পরিমাণ বেশি হলে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার যে সুযোগ থাকে, সেটিই ফেরতযোগ্য অংশ। অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা বলেছে, এই ফেরতযোগ্য অংশকে ফেডারেল জনসুবিধা হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।   প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নিয়মের মাধ্যমে ফেডারেল আইনে যেসব অনিয়মিত অভিবাসী ও অন্যান্য অযোগ্য বিদেশি এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের ফেরতযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট থেকে বিরত রাখা হবে। ১৯৯৬ সালের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও কর্মসংস্থান সুযোগ পুনর্মিলন আইনের প্রয়োগ জোরদার করার অংশ হিসেবে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় এবং যোগ্য বিদেশি নাগরিকরা ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্য হবেন। যোগ্য বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা, শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং আইনে নির্ধারিত অন্যান্য গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা জানিয়েছে, প্রস্তাবটি নির্দিষ্ট চারটি ব্যক্তিগত আয়কর ক্রেডিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।   তবে যেসব করদাতা ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্য নন, তারা নিজেদের ফেডারেল আয়কর দায় কমাতে ট্যাক্স ক্রেডিট ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ প্রস্তাবিত নিয়মে নির্দিষ্ট ট্যাক্স ক্রেডিটের পুরো সুবিধা বাতিল করার কথা বলা হয়নি; বরং যোগ্য নন এমন ব্যক্তিদের জন্য ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।   অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে প্রায় ২ লাখ থেকে ৭ লাখ করদাতা ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হতে পারেন। এর মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও থাকতে পারেন, যারা ফেরত পাওয়া অর্থ করবহির্ভূত দায় পরিশোধে ব্যবহার করতে পারতেন অথবা ফেডারেল করের দায়ের বিপরীতে তা সমন্বয় করতে পারতেন।   সরকারি হিসাবে, প্রস্তাবিত নিয়মের ফলে ৭০ কোটি থেকে ২৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত অযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট বন্ধ হতে পারে। তবে এই নিয়মের মাধ্যমে করদাতাদের অর্থ ঠিক কতটা সাশ্রয় হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার কাছে নেই।   প্রস্তাবিত বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। প্রশাসন জানিয়েছে, এ বিষয়ে ১৪ অক্টোবর জনশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রস্তাবিত নিয়ম চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর শেষ হওয়া করবর্ষগুলোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ফেডারেল অর্থায়নে দেওয়া সুবিধা যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং করব্যবস্থার আইনগত যোগ্যতার নিয়ম কার্যকর করা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেডারেল অর্থায়নে অনিয়মিত অভিবাসীদের দেওয়া আর্থিক সুবিধা শনাক্ত ও বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন।   সূত্র: এনটিডি

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৩:৫