ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান, খবর পেয়ে ১০ হাজার মানুষ হাজির
পশ্চিম কেনিয়ার প্রত্যন্ত চেপোরোর গ্রামে ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনা পাওয়ার ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সোনা-অনুসন্ধান। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গ্রামটিতে জড়ো হন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তবে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের মতো পর্যাপ্ত সোনার মজুত রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
৩৩ বছর বয়সী মানাসে লোমাচার পেশায় ছাগলপালক। হারিয়ে যাওয়া একটি ছাগল খুঁজতে গিয়ে নদীর তীরে কয়েকজন নারীকে সোনা খুঁজতে দেখেন তিনি। কৌতূহলবশত তাদের সঙ্গে যোগ দেন লোমাচার। সেখানেই প্রায় ৩ গ্রাম সোনা পাওয়ার দাবি করেন তিনি।
পরে সেই সোনা ৩৬ হাজার কেনিয়ান শিলিংয়ে বিক্রি করেন লোমাচার, যার মূল্য প্রায় ২৮০ মার্কিন ডলার। তার এই ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সোনা-অনুসন্ধানের ঢল শুধু তার পাওয়া সোনার কারণেই শুরু হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত নয়।
ওয়েস্ট পোকট কাউন্টির ডেপুটি কমিশনার স্যামুয়েল কিয়ারির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতে ওই এলাকায় কয়েকজন তরুণ তুলনামূলক বড় পরিমাণের সোনা খুঁজে পান। পরদিন কয়েকজন নারীও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা পাওয়ার দাবি করেন। এরপর মুখে মুখে খবর ছড়িয়ে পড়লে চেপোরোরে মানুষের ঢল নামে।
কেনিয়া ও প্রতিবেশী উগান্ডার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সোনার আশায় সেখানে ছুটে আসেন। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, ভিড় একপর্যায়ে প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। পরে সেই সংখ্যা কমে প্রায় আড়াই হাজারে নেমে এলেও খোঁড়াখুঁড়ি এখনো চলছে।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও চেপোরোরের ওই এলাকায় ছিল ঝোপঝাড় ও পশুচারণের জমি। এখন সেখানে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত, মাটির স্তূপ এবং অস্থায়ী খনিশিবির। অনেকেই কোনো খনির অভিজ্ঞতা ছাড়াই হাতে থাকা সাধারণ সরঞ্জাম নিয়ে মাটির নিচে সোনা খুঁজছেন।
তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া সোনার পরিমাণ নিয়ে বড় কোনো নিশ্চিত হিসাব পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, কেউ কেউ কয়েকশ কেনিয়ান শিলিং মূল্যের সোনা পেয়েছেন, আবার সর্বোচ্চ প্রায় ৭৮ হাজার শিলিং বা ৬০০ ডলার মূল্যের সোনা পাওয়ার দাবিও রয়েছে। মাটির নিচে আসলে কতটা সোনা আছে এবং তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন লাভজনক হবে কি না, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
চেপোরোর আশপাশের নদীর তীরে স্থানীয় নারীরা বহু বছর ধরেই ছোট পরিসরে সোনা খুঁজে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই কার্যক্রমই এখন বড় আকারের অনানুষ্ঠানিক খনন কার্যক্রমে রূপ নিয়েছে।
সোনা খুঁজতে আসা মানুষের ভিড়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতেও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে, খনিস্থলের আশপাশে ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি ছোট ব্যবসা গড়ে উঠেছে। খাবার, পানি, কোমল পানীয়, রুটি, দুধসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
তবে হঠাৎ করে হাজার হাজার মানুষের আগমনে চেপোরোরের সীমিত অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ করে খনিস্থলে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি বাড়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
এদিকে সোনা পাওয়ার আশায় অনেকেই মাটির আরও গভীরে গর্ত করছেন। খনন করা মাটি ও পাথর কাছের ওর্তুম শহরে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়ায় কতটা সোনা পাওয়া যায়, তার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে এলাকায় বড় ধরনের খনন কার্যক্রমের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
চেপোরোরের এই আকস্মিক সোনা-উন্মাদনা স্থানীয় মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করেছে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পানি, স্যানিটেশন, নিরাপত্তা ও শিশুদের খননকাজে জড়িয়ে পড়া নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
লোমাচারের আশা, যথাযথ সরকারি সহায়তা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলে স্থানীয় মানুষ নিয়ন্ত্রিতভাবে সোনা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তার বিশ্বাস, আরও অনুসন্ধানে খনিজ সম্পদের সন্ধান মিললে চেপোরোরের দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreদিল্লির নিহাল বিহারে চার মাস বয়সি যমজ সন্তানের একজনের শরীরে ওঠা ফোসকায় ওষুধ কে লাগাবেন, তা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হওয়া বিবাদ শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হামলায় গড়িয়েছে। ৩১ বছর বয়সী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বিনয় গুপ্তকে তাঁর স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। বিনয় দিল্লির লক্ষ্মী পার্কের বাসিন্দা ছিলেন এবং নোয়ডায় অ্যাডোবিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে রেখার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের চার মাসের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। বিনয়, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা বাড়ির তৃতীয় তলায় থাকতেন, আর তাঁর বাবা-মা থাকতেন নিচের তলায়। পুলিশ ও বিনয়ের পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, ২২ আগস্ট সকালে শিশুর শরীরে ওঠা ফোসকায় ওষুধ লাগানো নিয়ে বিনয় ও রেখার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর রেখা বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিছু সময় পর তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিনয়ের বাড়িতে আসেন। পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। বিনয়ের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের পক্ষ থেকে মারধর ও গলা চেপে ধরার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে হামলার সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং কার ভূমিকা কী ছিল, তা এখনো তদন্ত করছে পুলিশ। হামলার পর বিনয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশ বিনয়ের স্ত্রী রেখা, তাঁর দুই ভাই রাজু জিন্দাল ও বেদ প্রকাশ জিন্দাল এবং রাজুর স্ত্রী পুণমকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ধারা এবং অভিন্ন উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটনের ৩(৫) ধারায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত, হামলার সময়কার ঘটনাপ্রবাহ এবং প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা যাচাই করছেন। এদিকে বিনয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং পুলিশের তদন্ত ও ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক দল বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের ফলাফলও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একটি শিশুর চিকিৎসা নিয়ে শুরু হওয়া পারিবারিক বিবাদ কীভাবে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে পরিণত হলো, এখন সেটিই খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।
মিথ্যা বললে নেতাদের বরখাস্তের নিয়ম, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আইন করল ওয়েলস
যুক্তরাজ্যে নতুন ডেটা সেন্টার, বছরে কার্বন ছড়াবে নিউইয়র্কগামী ৮,৪৮০ ফ্লাইটের সমান
ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান, খবর পেয়ে ১০ হাজার মানুষ হাজির
ইতালির রাজধানী রোমে বাংলাদেশি এক পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইতালির পুলিশ। গত ২৬ জুন রাতে কাসালোত্তি এলাকার একটি বাসায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন কামাল উদ্দিন বাবুল, তাঁর স্ত্রী আরজু আক্তার এবং তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরিশা। দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আয়ান গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, শাহাদাতের সঙ্গে নিহত আরজুর পূর্বপরিচয় ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত বিরোধসহ একাধিক সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী শাহাদাত বাংলাদেশি নাগরিক। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি পলাতক। তাঁর ছবি প্রকাশ করে ইতালির পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে অবস্থান সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে। দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোমসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনার রাতে কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে, তা নিয়ে তদন্তকারীরা নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য আয়ানের বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। আয়ান পুলিশকে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পরও শাহাদাত কিছু সময় বাসার ভেতরে ছিলেন। পরে আয়ান হামলার শিকার হলে গুরুতর আহত অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। এরপর শাহাদাত পালিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডের আগে শাহাদাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম লা রিপুবলিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার কিছু আগে তিনি এমন একটি বার্তা প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মৃত্যুর কথা উল্লেখ ছিল। পোস্টটির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে শাহাদাতের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ইতালীয় ও বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত বিরোধ, অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনসহ একাধিক সম্ভাব্য কারণের কথা বলা হয়েছে। তবে এসবের কোনটি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। শাহাদাতেরও একই উপজেলার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইতালির পুলিশ এখন শাহাদাতকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: নিউজ ২৪
দুর্ঘটনার পর দরজা খুলতে সমস্যা হতে পারে, চীনে প্রায় ৩০ লাখ টেসলা গাড়ি প্রত্যাহার
সন্তানদের জন্য নিজের কিডনি বিক্রি, হয়রানি থেকে বাঁচতে বছরের পর বছর পুরুষ সেজে কাজ করলেন এক মা
শিশু সেজে পরিবারের সঙ্গে বসবাস, প্রতারণার দায়ে ৩৮ বছর বয়সী নারী দোষী সাব্যস্ত
ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহতদের দাফনের জায়গাও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে উপত্যকার ৪০টির বেশি কবরস্থান পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ফলে অনেক পরিবারকে বাগান, তাঁবু, স্কুল, হাসপাতাল ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের মতো অস্থায়ী জায়গায় স্বজনদের দাফন করতে হচ্ছে। আলজাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গাজার জেইতুন এলাকার ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহি গত ১০ জুন গুলিতে নিহত হন। তাঁর ছেলে ওমর বাবাকে দাফনের জন্য জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে নতুন কবর দেওয়ার মতো জায়গা প্রায় নেই। শেষ পর্যন্ত পরিবারের পুরোনো একটি কবরেই বাবাকে দাফন করতে হয়। যুদ্ধের কারণে শুধু কবরের জায়গার সংকটই নয়, মৃতদের পরিচয় সংরক্ষণও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কবরের ওপর পাথর, কাগজ বা ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর তীব্র সংকটের কারণে কোথাও কাদা ও ঢেউটিন দিয়েও অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে। গাজার ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষের হিসাবে, উপত্যকায় যুদ্ধের আগে প্রায় ৬০টি কবরস্থান ছিল। এর মধ্যে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। ফলে যেসব কবরস্থান এখনো ব্যবহারযোগ্য, সেগুলোতেও দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। কবরস্থানে প্রবেশের ওপর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। খান ইউনিসের একটি কবরস্থানের কবরখোদক তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের আগে সেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল। এখন সেখানে কবরের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে তাকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে। হাসপাতালগুলোর প্রাঙ্গণও একপর্যায়ে অস্থায়ী দাফনস্থলে পরিণত হয়। গাজার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, হাসপাতাল এলাকায় তৈরি সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং কিছু মরদেহ গণকবরেও দাফন করা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনেও গাজার হাসপাতাল এলাকায় ৫০০-এর বেশি মরদেহ গণকবরে পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ পেলেই অনেক পরিবার অস্থায়ী জায়গায় দাফন করা স্বজনদের মরদেহ তুলে স্থায়ী কবরস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ধ্বংস হওয়া কবরস্থান, নতুন মরদেহের সংখ্যা এবং অনেক এলাকায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই কাজও সহজ হচ্ছে না। আলজাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও অন্তত ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ফলে প্রতিদিনের প্রাণহানির সঙ্গে দাফনের জায়গার সংকটও আরও গভীর হচ্ছে। এভাবে গাজায় যুদ্ধের প্রভাব শুধু জীবিত মানুষের বাসস্থান ও অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ধ্বংস হচ্ছে কবরস্থানও, আর বহু পরিবার তাদের স্বজনদের শেষ ঠিকানাটুকু নিশ্চিত করতেও সংগ্রাম করছে।
গাজায় হাসপাতালে হামলায় ৫ সাংবাদিক নিহত, তাদের একজন মরিয়ম আবু দাগ্গা
ইরানি হ্যাকারদের সাইবার হামলায় চার দিন বন্ধ ছিল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র