টেনেসিতে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, সন্দেহভাজন আটক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের বেলস শহরে সশস্ত্র ডাকাতির সময় গুলিতে ৩৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি মহসিন রানা নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে ৫০৫৪ হাইওয়ে ৪১২ সাউথে অবস্থিত এক্সন সাফারি কর্নার মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভোরে এক বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে ডাকাতি করে। এ সময় দোকানের এক কর্মীকে গুলি করা হয়। পরে সন্দেহভাজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ভোর আনুমানিক সাড়ে ২টার দিকে এক ক্রেতা দোকানে ঢুকে গুলিবিদ্ধ কর্মীকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন।
খবর পেয়ে ক্রকেট কাউন্টি জরুরি সেবা, শেরিফের ডেপুটি ও তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গুরুতর আহত মহসিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মহসিন রানা প্রায় সাত বছর আগে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বলে পরিবার ও পরিচিতজনদের সূত্রে জানা গেছে। তার বাড়ি ঢাকার সাভারে। তিনি টেনেসির ওই গ্যাস স্টেশনের কনভেনিয়েন্স স্টোরে কাজ করতেন। বাংলাদেশে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। তাদের বয়স ১২ ও ৫ বছর বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর বেলস পুলিশ, ক্রকেট কাউন্টি শেরিফের অফিস, টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, জ্যাকসন পুলিশ, ম্যাডিসন কাউন্টি শেরিফের অফিস, এটিএফ ও এফবিআইসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা ও তদন্তকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে কাজ করেছে।
তদন্তকারীরা এখন হামলার পুরো ঘটনা, ডাকাতির ধরন এবং গুলির পেছনের কারণ খতিয়ে দেখছেন। ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখা হয় এবং তদন্তের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
মহসিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর টেনেসিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও পরিচিতজনেরা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সূত্র: আওয়াজ বিডি
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreচাঁদপুরের হাজীগঞ্জের জুম্মান তপদার যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস আর্মিতে যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণের নতুন এই অর্জনে তাঁর পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। জুম্মান তপদার হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাটরা বিলওয়াই এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার ঐতিহ্যবাহী তপদার বাড়ির মো. বিল্লাল হোসেন তপদার ও শাহনাজ বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। পাঁচ সদস্যের পরিবারে তাঁর দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। বর্তমানে তাঁর পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, উন্নত জীবন ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান জুম্মান। দেশটিতে যাওয়ার পর পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজের পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করে তিনি ইউএস আর্মিতে যোগদানের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পরে তিনি সফলভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। জুম্মানের এই অর্জনে তাঁর মা-বাবা ও স্বজনরা আনন্দিত। স্থানীয়রাও তাঁর সাফল্যকে হাজীগঞ্জ তথা চাঁদপুরের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও নিরাপত্তার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন তরুণের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের এই ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও নতুন প্রজন্মের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র :বাংলা টিভি
নিউইয়র্কের ভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড, দুই বেডরুমের ভাড়া ছাড়াল মাসে ৮ হাজার ডলার
টেনেসিতে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, সন্দেহভাজন আটক
গরুর মাংসের দাম কমাতে বিদেশি মাংস আমদানি, ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতায় খামারি ও রিপাবলিকানরা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সন্তানদের বাবাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ১০০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এক নারী। মামলার আসামি মিন্ডি ওস্টিন শিশুদের বাবা ক্রিস্টোফার ট্রাভিস জোন্সকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একটি ডে-কেয়ার সেন্টারের বাইরে গুলি করে হত্যা করেন। ওই সময় তাঁদের দুই সন্তান গাড়ির ভেতরে ছিল। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই ফ্লোরিডার স্টার্ক শহরের আন্টি লিলিজ চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের সামনে। ৩৭ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার জোন্স সেদিন তাঁদের দুই সন্তানকে ডে-কেয়ার থেকে নিতে গিয়েছিলেন। সন্তানদের গাড়িতে তোলার পর তিনি চালকের আসনে বসেন। তখন মিন্ডি ওস্টিন একটি ব্যাগ নিয়ে তাঁর কাছে এগিয়ে যান। তদন্তকারীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিজেবি জানিয়েছে, ওস্টিন প্রথমে জোন্স ও শিশুদের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন। এরপর জোন্স সন্তানদের গাড়ির পেছনের আসনে বসিয়ে চালকের আসনে বসার পর ওস্টিন তাঁর ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গাড়ির দিকে গুলি চালান। জোন্স গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গাড়ি থেকে বেরিয়ে ডে-কেয়ার সেন্টারের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রবেশপথের দ্বিতীয় নিরাপত্তা দরজা দিয়ে ঢুকতে না পেরে তিনি দুই দরজার মাঝের জায়গায় আটকা পড়েন। তদন্তকারীদের মতে, সেখানেও ওস্টিন গুলি চালান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জোন্স ওস্টিনের নাম উল্লেখ করে জানান, তিনিই তাঁকে গুলি করেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় জোন্স ও ওস্টিনের দুই সন্তান গাড়ির ভেতর ছিল। ডে-কেয়ার ভবনের ভেতরেও আরও ছয় শিশু ও দুই কর্মী ছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। তবে ঘটনায় কোনো শিশু আহত হয়নি। ঘটনার পর ওস্টিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা, শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা, অস্ত্র রাখা এবং অন্যান্য অভিযোগ আনা হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলেছিলেন, গুলি চালানোর আগে তিনি একটি ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তবে মামলাটি শেষ পর্যন্ত বিচার পর্যন্ত গড়ায়নি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ওস্টিন দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা এবং আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করে সমঝোতাভিত্তিক মামলার নিষ্পত্তিতে রাজি হন। আদালত ওই সমঝোতা গ্রহণ করে তাঁকে বিভিন্ন অভিযোগে ধারাবাহিক সাজা দেন, যার মোট মেয়াদ ১০০ বছর। একই সঙ্গে জোন্সের পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মামলার শুনানিতে জোন্সের পরিবারের সদস্যরা আদালতে বক্তব্য দেন। তাঁর পরিবারের এক সদস্য ফিলিস স্যান্ডস জানান, শুরুতে পরিবার আরও কঠোর শাস্তি চেয়েছিল। তবে ১০০ বছরের সাজায় কার্যত ওস্টিনের জীবনের বাকি সময় কারাগারে কাটানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, জোন্সের দুই সন্তান ওই ঘটনার কারণে গভীরভাবে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে তাদের এমন এক নারী দত্তক নেন, যিনি জোন্সের পরিবারের সদস্য নন। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, বড় হওয়ার পর সন্তানরা একদিন বাবার মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইবে এবং সেই স্মৃতি তাদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। জোন্সের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি সন্তানদের জন্য কাজ করতেন এবং তাদের জীবনে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও পরিবারের বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। মামলাটি শেষ পর্যন্ত ১০০ বছরের কারাদণ্ডে শেষ হলেও ঘটনাটির মূল প্রশ্নগুলো এখনও পরিবারের জন্য গভীর বেদনার বিষয় হয়ে রয়েছে। সন্তানদের নিতে যাওয়া একটি সাধারণ বিকেল কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে প্রাণঘাতী ঘটনায় পরিণত হয়েছিল, সেই স্মৃতি এখন জোন্সের পরিবারের পাশাপাশি তাঁর দুই সন্তানের জীবনেও দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে। সংবাদসূত্র: ডব্লিউসিজেবি, নিউজ৪জ্যাক্স ও ব্র্যাডফোর্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য
ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রিনিটি নদীতে নিখোঁজের পর দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার
স্রোতে আটকে পড়া শিশুকে বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপ, ঘাড় থেকে নিচের অংশ অবশ ৫ সন্তানের বাবার
মরুভূমির ৪৯ ডিগ্রি তাপে পুড়ে গেছে পা, হাঁটুর ওপর থেকে পা কাটতে হবে ৭২ বছরের বৃদ্ধের
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে দুই মাস বয়সী এক শিশুকে ডায়াপার পরিবর্তনের সময় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে লুথেরান চার্চের এক ভিকারিয়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জোসায়াহ জাঙ্কিন। ২৭ বছর বয়সী জাঙ্কিন ফোর্ট ওয়েন শহরের একটি লুথেরান চার্চে ভিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে তিনি অ্যালেন কাউন্টি কারাগারে আটক আছেন। জাঙ্কিনের বিরুদ্ধে একটি শিশু যৌন নির্যাতনের মামলা করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউপিটিএ ও ডব্লিউকেআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের একটি ঘটনার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। এক নারী পুলিশকে জানান, জাঙ্কিন নিজেই তাঁকে বলেছিলেন যে তিনি শিশুটিকে ডায়াপার পরিবর্তনের সময় নির্যাতন করেছিলেন। পরে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের সময়ও জাঙ্কিন একই শিশুকে একাধিকবার নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির কাছে জাঙ্কিন অন্তত চারবার শিশুটিকে নির্যাতনের কথা বলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানার পর ওই ব্যক্তি মিশিগানের কর্তৃপক্ষকে জানান। অন্যদিকে, শিশুটির বিষয়ে পাওয়া তথ্য এক নারী ইন্ডিয়ানার শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছেও জানান। ঘটনাটি নিয়ে মিশিগানেও তদন্ত হয়েছে। তদন্তকারী এক গোয়েন্দা জানিয়েছেন, জাঙ্কিন ফোর্ট ওয়েনে শিশুটিকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এদিকে ইন্ডিয়ানায় তদন্তকারীরা অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন এবং আদালতের নথিতে থাকা তথ্য সংগ্রহ করেন। তদন্তের সময় পুলিশ এমন একটি ব্যক্তিগত ডায়েরির ছবিও পায়, যেটি যৌন আসক্তি থেকে মুক্তির একটি কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ডায়েরিতে জাঙ্কিন তাঁর যৌন আচরণকে গ্রেপ্তারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে চিহ্নিত করেছিলেন। সেখানে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণসংক্রান্ত কল্পনার কথাও লেখা ছিল বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ জাঙ্কিনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি। তবে তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি নিজে আত্মসমর্পণ করবেন। পরে ২০ আগস্ট তাঁকে অ্যালেন কাউন্টি কারাগারে আটক করা হয়। কারাগারের নথিতেও তাঁর বিরুদ্ধে শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। জাঙ্কিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত ইন্ডিয়ানা ও মিশিগান উভয় অঙ্গরাজ্যেই চলছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর আগে তিনি লুথেরান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিভিন্ন দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন। লুথেরান চার্চের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তিনি উইসকনসিনের একটি লুথেরান চার্চে ভিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং একটি নতুন চার্চ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগেও কাজ করেছিলেন। বর্তমান মামলায় অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ২০২৪ সালে ফোর্ট ওয়েনে দুই মাস বয়সী শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা। তদন্তকারীরা জাঙ্কিনের কথিত স্বীকারোক্তি, ব্যক্তিগত নথি এবং বিভিন্ন ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন। মামলার পরবর্তী ধাপে আদালতে এসব তথ্য ও প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জাঙ্কিনের বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগ, তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সংবাদসূত্র: ডব্লিউপিটিএ, ডব্লিউকেআরসি, ২১অ্যালাইভ নিউজ
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য স্বস্তি, ট্রাম্পের ভিসা স্থগিতাদেশ বাতিল মার্কিন আদালতে
ফ্লোরিডায় মল থেকে ২২ হাজার ডলারের গয়না চুরি, বিক্রি করতে গিয়ে ধরা চোর