সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে ফ্রাই চিকেনের দোকানে বন্দুক হামলা, বাংলাদেশি যুবক নিহত

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৩:১৪
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক রাজু (বামে) এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত অপরজন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক রাজু (বামে) এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত অপরজন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ফ্রাই চিকেনের একটি দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে রাজু নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইস্ট ব্রুকলিনের রকওয়ে পার্কওয়ে এলাকার আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজা দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষ তথ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে এক বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। তখন সেখানে দুই বাংলাদেশি কর্মরত ছিলেন। তাদের একজনের পায়ে গুলি লাগে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।

 

এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আরেক বাংলাদেশি কর্মী রাজু। তার বুকে গুলি লাগে। পুলিশ দ্রুত তাকে ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত রাজু প্রায় তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া এলাকায় বলে স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে।

 

এদিকে, বন্দুক হামলার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। হামলার উদ্দেশ্য এবং বন্দুকধারীর পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

 

রাজুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোক নেমে এসেছে। স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনেরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এতটাই বেড়েছে, চার সদস্যের পরিবার নিয়ে বাঁচতে বছরে দরকার ২ লাখ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এতটাই বেড়েছে, চার সদস্যের পরিবার নিয়ে বাঁচতে বছরে দরকার ২ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, জ্বালানি এবং ইউটিলিটি বিলের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশ ছুঁয়েছে। একসময় বছরে এক লাখ ডলার বা ছয় অঙ্কের আয়কে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের মাপকাঠি ধরা হলেও, বর্তমান বাস্তবতায় তা আর যথেষ্ট নয়।   সম্প্রতি ‘স্মার্টঅ্যাসেট’-এর প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেটে একা বসবাসকারী একজন নিঃসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের আরামদায়ক জীবনযাপনের জন্য বছরে অন্তত ৮০ হাজার ডলার আয় করা প্রয়োজন। এমনকি প্রায় অর্ধেক স্টেটে এই প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ এক লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা মধ্যবিত্তের জন্য এক বিশাল আর্থিক চ্যালেঞ্জ।   স্মার্টঅ্যাসেটের এই গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি স্টেটের জীবনযাত্রার ব্যয় বিশ্লেষণ করতে মূলত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর এবং জনপ্রিয় ‘৫০/৩০/২০’ বাজেট পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়েছে।   এই অর্থনৈতিক মডেলে আয়ের ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া, খাবার ও পরিবহনের মতো মৌলিক চাহিদা, ৩০ শতাংশ ব্যক্তিগত পছন্দ এবং বাকি ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও ঋণ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। গবেষণার তথ্যানুযায়ী, একা বসবাসকারীদের তুলনায় পরিবার নিয়ে বসবাসকারীদের আর্থিক চাপ বহুগুণ বেশি।   দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তান নিয়ে গঠিত চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি স্টেটের মধ্যে ৪০টিতেই স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য বছরে দুই লাখ ডলার বা তার বেশি আয় করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।   স্টেটভেদে এই ব্যয়ের ধরনে ব্যাপক তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। একা বসবাসকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্টেট হলো হাওয়াই, যেখানে বছরে ১ লাখ ২৯ হাজার ২ ডলার প্রয়োজন। তবে চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে ম্যাসাচুসেটস সবচেয়ে বেশি ব্যয়বহুল; সেখানে বছরে প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার। ব্যয়ের এই তালিকায় ম্যাসাচুসেটসের পরেই রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক।   অন্যদিকে, তুলনামূলক কম ব্যয়ের স্টেটগুলোর মধ্যে পশ্চিম ভার্জিনিয়া ও মিসিসিপি অন্যতম। পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় একা বসবাসকারীর বছরে ৮১ হাজার ২৪৫ ডলার এবং মিসিসিপিতে চার সদস্যের পরিবারের জন্য ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৩ ডলার প্রয়োজন।   মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ২০২৫ সালের তুলনায় নিউইয়র্কে একা বসবাসকারীর প্রয়োজনীয় আয় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মন্টানায় সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আয়ের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা প্রমাণ করে যে দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় দিন দিন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:৪
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর নতুন ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য ভিসা বুলেটিন প্রকাশ

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক রাজু (বামে) এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত অপরজন। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ফ্রাই চিকেনের দোকানে বন্দুক হামলা, বাংলাদেশি যুবক নিহত

ফেরতযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা ঠেকাতে নতুন বিধিমালার প্রস্তাব নিয়ে কথা বলছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ছবি: সংগৃহীত

আইআরএসের নতুন প্রস্তাব, যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিত অভিবাসীরা পাবেন না ফেরতযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় হিন্দু ও দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের দীপাবলি উদযাপনে এসেছে নতুন স্বীকৃতি। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য সুখবর, ৮ নভেম্বর দীপাবলি দিবস ও সরকারি ছুটি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় হিন্দু ও দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের জন্য দীপাবলি উদযাপনে নতুন স্বীকৃতি এসেছে। ২০ আগস্ট ২০২৬ ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি হাউস রেজল্যুশন ১৩৭ গ্রহণ করে ২০২৬ সালের দীপাবলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ বছর দীপাবলি পালিত হবে ৮ নভেম্বর। রেজল্যুশনটি অ্যাসেম্বলিতে সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়।    অ্যাসেম্বলি অধিবেশনে রেজল্যুশনটি উপস্থাপন করেন অ্যাসেম্বলিম্যান দর্শনা প্যাটেল। আলোচনায় তিনি দীপাবলিকে আলোর উৎসব হিসেবে উল্লেখ করে অন্ধকারের ওপর আলো, অশুভের ওপর শুভ এবং অজ্ঞতার ওপর জ্ঞানের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। রেজল্যুশনে হিন্দুদের পাশাপাশি শিখ, জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যেও দীপাবলি পালনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।    অ্যাসেম্বলিম্যান অ্যাশ কালরাও রেজল্যুশনের সমর্থনে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় দীপাবলি উদযাপন এখন দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষও এতে অংশ নিচ্ছেন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের ৮ নভেম্বরের দীপাবলি উদযাপনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।    এর আগে লিফোর্নিয়ায় দীপাবলিকে স্টেট হলিডে হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আইন করা হয়েছে। ২০২৫ সালে পাস হওয়া অ্যাসেম্বলি বিল ২৬৮ এর মাধ্যমে দীপাবলিকে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত করা হয় এবং আইনটি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি নথিতেও কার্তিক মাসের ১৫তম দিনকে দীপাবলি হিসেবে রাজ্যের ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   তবে এই ছুটির ধরন সাধারণ সরকারি ছুটির মতো সব রাজ্য কর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক বন্ধের দিন নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার মানবসম্পদ দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য রাজ্য কর্মীরা দীপাবলি পালনের জন্য নির্দিষ্ট ছুটির ক্রেডিট নেওয়ার সুযোগ পান। অন্যদিকে সরকারি স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলো স্থানীয় সিদ্ধান্ত ও নিয়ম অনুযায়ী ওই দিনে বন্ধ রাখতে পারে।    ২০২৬ সালের ক্যালিফোর্নিয়া শিক্ষা বিভাগের ক্যালেন্ডারেও ৮ নভেম্বরকে দীপাবলি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বছর দিনটি পড়েছে রোববার। ফলে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মন্দির, সংগঠন, পরিবার ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানে দীপাবলি উপলক্ষে নানা আয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।    স্টেট অ্যাসেম্বলির নতুন রেজল্যুশনের মাধ্যমে দীপাবলির সাংস্কৃতিক গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। অধিবেশনে বক্তারা পরিবার, ঐক্য, শান্তি, জ্ঞান এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার সঙ্গে উৎসবটির সম্পর্কের কথা বলেন। অ্যাসেম্বলি রেজল্যুশনটি গ্রহণের সময় ৬৩ জন সহ-উদ্যোক্তার নামও যুক্ত করা হয়।    ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বড় একটি সম্প্রদায় রয়েছে। ফলে দীপাবলিকে স্টেট হলিডে হিসেবে স্বীকৃতি এবং একই সঙ্গে স্টেট অ্যাসেম্বলির আনুষ্ঠানিক রেজল্যুশন হিন্দু ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের জন্য সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে সামনে এসেছে।   এবার ৮ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় দীপাবলি পালনের সময় পরিবার ও কমিউনিটিগুলো শুধু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবই উদযাপন করবে না, বরং রাজ্য পর্যায়ে পাওয়া এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিষয়টিও বিশেষভাবে সামনে আসবে। স্টেট অ্যাসেম্বলির রেজল্যুশনেও ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের দীপাবলি উদযাপনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১২:১৪
যুক্তরাষ্ট্রে অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের পরিবার চিকিৎসা ও শিক্ষাসহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

অটিজম শিশুদের পরিবার নগদ সহায়তাসহ যুক্তরাষ্ট্রে যেসব সরকারি সুবিধা পেতে পারে

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ার পর নতুন দায়িত্বে ফিরছেন কারোলিন লেভিট। ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছেড়ে নতুন চাকরিতে কারোলিন লেভিট

এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য বই স্ক্যান করে পরে তা ধ্বংসের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় আলোচনায় অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। ছবি: সংগৃহীত

এআই প্রশিক্ষণে বই কেটে ধ্বংস করছে অ্যামাজন, এয়ারট্যাগে ফাঁস রহস্য

ইউএস নিউজের ২০২৬ সালের র‍্যাঙ্কিংয়ে টেক্সাসের সেরা ৫০টি চার্টার স্কুলের তালিকায় জায়গা পেয়েছে হিউস্টনের ১৩টি স্কুল। ছবি: সংগৃহীত
সন্তানদের স্কুল বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ তালিকা, হিউস্টনের ১৩ স্কুল শীর্ষ ৫০-এ

২০২৬ সালের ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের র‍্যাঙ্কিংয়ে টেক্সাসের সেরা ৫০টি চার্টার স্কুলের তালিকায় জায়গা পেয়েছে হিউস্টনের ১৩টি স্কুল। রাজ্যের অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় হিউস্টনের স্কুলের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।   এই তালিকায় হিউস্টনের চারটি চার্টার স্কুল জাতীয় পর্যায়েও সেরা ১০০-এর মধ্যে রয়েছে। এগুলো হলো ওয়েস্টচেস্টার একাডেমি ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ, হারমনি স্কুল অব ইনোভেশন-কেটি, হারমনি স্কুল অব ডিসকভারি-হিউস্টন এবং ওয়াইইএস প্রেপ-নর্থ সেন্ট্রাল।   টেক্সাসের সেরা চার্টার স্কুলগুলোর তালিকায় সবচেয়ে বেশি স্কুল রয়েছে আইডিয়া পাবলিক স্কুলসের। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ১৯টি স্কুল শীর্ষ তালিকায় জায়গা পেয়েছে। হারমনি পাবলিক স্কুলসের ১০টি এবং হিউস্টনভিত্তিক ওয়াইইএস প্রেপ পাবলিক স্কুলসের সাতটি ক্যাম্পাসও তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে, কেআইপিপি টেক্সাস থেকে শীর্ষ ৫০-এ জায়গা পেয়েছে শুধু কেআইপিপি হিউস্টন হাই স্কুল।   টেক্সাসের সেরা চার্টার স্কুল হিসেবে প্রথম স্থানে রয়েছে সান আন্তোনিওর বেসিস শাভানো। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সান আন্তোনিও ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ইয়াং উইমেনস লিডারশিপ একাডেমি এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে গ্র্যান্ড প্রেইরি ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের গ্র্যান্ড প্রেইরি কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট।   ইউএস নিউজের ২০২৬ সালের এই র‍্যাঙ্কিং তৈরিতে প্রায় ২৭ হাজার যোগ্য উচ্চবিদ্যালয়ের তথ্য মূল্যায়ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মান নির্ধারণী পরীক্ষার ফলাফল, স্নাতক হওয়ার হার, কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি এবং অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট ও ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালোরিয়েট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও ফলাফলসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশার তুলনায় কেমন ফল করছে, সেটিও মূল্যায়নের অংশ ছিল।   এই র‍্যাঙ্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত তথ্য মূলত ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ফলে পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য যুক্ত হলে স্কুলগুলোর অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে।   হিউস্টনের ১৩টি চার্টার স্কুলের এই অবস্থান স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওয়াইইএস প্রেপ ও হারমনি পাবলিক স্কুলসের একাধিক ক্যাম্পাস শীর্ষ তালিকায় থাকায় হিউস্টন অঞ্চলে বিকল্প সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার শক্ত অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান অভিভাবকদের জন্যও সন্তানদের উচ্চবিদ্যালয় বাছাইয়ের সময় এই তালিকা প্রাথমিকভাবে সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু র‍্যাঙ্কিংয়ের ওপর নির্ভর না করে স্কুলের শিক্ষার মান, অবস্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা, ভর্তি নীতি, শিক্ষার্থীদের ফলাফল এবং কলেজে ভর্তির প্রস্তুতির সুযোগও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১১:১০
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় অত্যাধিক বৃদ্ধির কারণে হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকা সত্ত্বেও অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এড়িয়ে যাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

খরচের চাপে চিকিৎসা এড়িয়ে চলছেন ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৫ জন আমেরিকান

পারিবারিক সংকট ও দীর্ঘ সংগ্রাম পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন কুমিল্লার হোসাইন আহমেদ সোহাগ। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কুমিল্লার সোহাগের অনুপ্রেরণার গল্প

ব্রুস উইলিসের পরিবার তাঁর মৃত্যুর পর মস্তিষ্ক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দান করার পরিকল্পনা করেছে। ছবি: সংগৃহীত

ব্রুস উইলিসের মৃত্যুর পর মস্তিষ্ক বিজ্ঞান গবেষণায় দানের সিদ্ধান্ত পরিবারের

0 Comments