সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করায় উবারকে ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১১:৩১
চালকদের অ্যাকাউন্ট বন্ধের কারণে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবারকে ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা। ছবি: সংগৃহীত
চালকদের অ্যাকাউন্ট বন্ধের কারণে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবারকে ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা। ছবি: সংগৃহীত

ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় করায় উবারকে ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে নেদারল্যান্ডসের ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ। ১৭ আগস্ট দেওয়া সিদ্ধান্তে কর্তৃপক্ষ জানায়, উবার পর্যাপ্তভাবে না জানিয়ে এবং মানবীয় পর্যালোচনা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে। শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করে।

 

উবারের বিরুদ্ধে আরোপ করা জরিমানার পরিমাণ ৮২৫ মিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ৯৬৬ মিলিয়ন ডলারের সমান। ইউরোপের সাধারণ তথ্য সুরক্ষা বিধিমালার আওতায় এটি এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় বৃহত্তম জরিমানা। এর আগে ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডে মেটাকে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়েছিল।

 

নেদারল্যান্ডসের ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের উপপ্রধান মনিক ভারডিয়ার বলেন, উবার সতর্কতা বা মানবীয় সম্পৃক্ততা ছাড়াই ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছে। এর ফলে ড্রাইভাররা হঠাৎ করে তাদের আয়ের উৎস হারিয়েছেন। বড় ধরনের প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্ত কোনো কম্পিউটারের এককভাবে নেওয়া উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

উবার অবশ্য এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সিদ্ধান্ত এবং জরিমানার পরিমাণকে অযৌক্তিক মনে করছে। উবারের দাবি, তারা ড্রাইভারদের অধিকারকে গুরুত্ব দেয় এবং তাদের নীতিতে মানবীয় পর্যালোচনার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট স্থগিতের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

 

ঘটনাগুলো ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ইউরোপে ঘটেছে। একটি ফরাসি অভিযোগের সূত্র ধরে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। উবারের ইউরোপীয় সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসে হওয়ায় বিষয়টি দেশটির ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের অধীনে তদন্ত করা হয়।

 

উবার প্রতারণার সন্দেহে কিছু ড্রাইভারের অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। এর মধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য অপ্রয়োজনীয় পথে যাওয়া অথবা যাত্রা শেষ করার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও ভ্রমণ গ্রহণ করার মতো বিষয় ছিল। উবার জানিয়েছে, এসব স্থগিতাদেশ সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য ছিল এবং মানবীয় পর্যালোচনা ছাড়া স্থায়ীভাবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হতো না।

 

তবে নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কম গ্রাহক রেটিং পাওয়া কিছু ড্রাইভারের অ্যাকাউন্ট কম্পিউটারের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল। উবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, স্থায়ীভাবে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত তারা কখনো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেয়নি।

 

উবার আরও জানিয়েছে, জরিমানার পরিমাণ অযৌক্তিক হওয়ার একটি কারণ হলো এতে ক্ষতিগ্রস্ত ড্রাইভারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ইউরোপে কম গ্রাহক রেটিংয়ের কারণে ১২৬ জন ড্রাইভারের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উবারের ২০২৫ সালের বার্ষিক আয়ের একটি অংশ হিসাব করে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

ইউরোপের সাধারণ তথ্য সুরক্ষা বিধিমালা অনুযায়ী, মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্ত শুধু কম্পিউটার অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নেওয়া যাবে না। এ ধরনের সিদ্ধান্তে অর্থবহ মানবীয় পর্যালোচনা এবং সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকতে হবে।

 

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ডিজিটাল অধিকার সংগঠন পারসোনালডাটা ডট আইও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটি ফরাসি উবার ড্রাইভারদের কর্মসংক্রান্ত অ্যালগরিদমিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে তথ্য পেতে সহায়তা করেছিল। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা পল অলিভিয়ের দেহায়ে জানিয়েছেন, ড্রাইভারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে উবারের বিরুদ্ধে একটি যৌথ মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথে এক নারীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সিরীয় তরুণ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
সমুদ্রসৈকতের টয়লেটে তরুণীকে যৌন নিপীড়ন, সিরীয় শরণার্থীর ৬ বছরের জেল

যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথে এক নারীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সিরীয় তরুণ মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। ২০২৫ সালের ৬ জুলাই ভোরে সমুদ্রসৈকতের কাছে একটি অস্থায়ী টয়লেটে ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। মামলার শুনানিতে আবদুল্লাহ দাবি করেছিলেন, তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্কটি সম্মতিতে হয়েছিল। তবে বোর্নমাউথ ক্রাউন কোর্টের জুরি তাকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন।    আদালতে বলা হয়, ঘটনার রাতে ওই নারী এক বন্ধুর সঙ্গে বাইরে ছিলেন। পরে তারা আলাদা হয়ে গেলে তিনি বাড়ি ফেরার জন্য সমুদ্রসৈকত ধরে হাঁটছিলেন। তার ফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ায় ট্যাক্সি ডাকতেও সমস্যায় পড়েন তিনি।   এ সময় আবদুল্লাহ ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে ওই নারীর দেখা হয়। বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে আবদুল্লাহ তাকে বৈদ্যুতিক বাইকে তুলে নেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু দূর যাওয়ার পর তিনি তাকে একটি অস্থায়ী টয়লেটের কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে যৌন নিপীড়ন এবং পরে টয়লেটের ভেতরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।   আদালতে আরও জানানো হয়, ঘটনার পর ওই নারী জুতা খুলে দৌড়ে পালিয়ে সাহায্য চান। পরে এক পথচারীর ফোন ব্যবহার করে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন তাকে ঘটনার পর অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখেছিলেন বলে আদালতে জানান।   আবদুল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই নারী নিজেই তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চেয়েছিলেন এবং তাদের যৌন সম্পর্ক সম্মতিতে হয়েছিল। তবে জুরি তার বক্তব্য গ্রহণ করেননি এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।    মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ২০২৩ সালে সিরিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে আসেন। তিনি পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি পান এবং পরে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকারও দেওয়া হয়।    আদালত তাকে হেফাজতে পাঠিয়েছেন। বিচারক রবার্ট পসন জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে সাজা নির্ধারণ করা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১২:৩৯
কানাডা সরকার ২০২৬ সালে প্রধান দুটি অস্থায়ী কর্মসূচির আওতায় মোট ২ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি কর্মী নেবে। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালে ২ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি কর্মী নেবে কানাডা, বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুযোগ

স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য মার্টিন ডে কেরালার বিখ্যাত গুরুয়ায়ুর মন্দিরে বিয়ে করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

স্কটিশ পার্লামেন্ট সদস্যের কেরালার মন্দিরে বিয়ে, পূরণ হলো দীর্ঘদিনের ইচ্ছা

চালকদের অ্যাকাউন্ট বন্ধের কারণে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবারকে ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা। ছবি: সংগৃহীত

ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করায় উবারকে ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

আমিরাতের ভিসা ছবি:সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩ ধরনের কাজের সুযোগ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস ও কাজ করা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্ক পারমিট কাজের অনুমতি রয়েছে।   কাজের ধরন ও ব্যক্তির অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এসব পারমিট দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ক পারমিট, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে স্টুডেন্ট ট্রেনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট পারমিট। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ বা প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া যায়।যারা একাধিক প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কাজ করতে চান, তাদের জন্য রয়েছে পার্টটাইম ওয়ার্ক পারমিট। নির্দিষ্ট সময়ের কাজ বা প্রকল্পের জন্য রয়েছে টেম্পোরারি ওয়ার্ক পারমিট।   এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা গোল্ডেন ভিসাধারী বাংলাদেশিদের জন্যও আলাদা ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা রয়েছে।পরিবারের স্পন্সরশিপে রেসিডেন্স ভিসায় থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও নির্দিষ্ট শর্তে কাজের অনুমতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   আর যারা ব্যক্তিগতভাবে পড়াতে চান, তাদের জন্য রয়েছে প্রাইভেট টিউশন ওয়ার্ক পারমিট—ব্যক্তিগতভাবে পড়ানোর অনুমতি। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে শিক্ষক ও অন্যান্য যোগ্য ব্যক্তিরা এই পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন।   অর্থাৎ, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুধু সাধারণ চাকরিই নয়, ফ্রিল্যান্সিং, পার্টটাইম কাজ, শিক্ষার্থীদের কাজ, প্রাইভেট টিউশন এবং বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী কাজের জন্যও আইনি সুযোগ রয়েছে।   তবে কোন পারমিটের জন্য আবেদন করা যাবে, তা নির্ভর করবে আবেদনকারীর ভিসার ধরন, কাজের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট যোগ্যতার ওপর। তাই কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিশ্চিত করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ৮:৩৯
সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির আদালতের মন্ত্রী শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ছবি:সংগৃহীত

বিদেশি প্রতিনিধিদের চার ধরনের পরিচয়পত্রকে বসবাসের অনুমতি দিল আমিরাত সরকার

ধূমপান অবস্থায় নারী ছবি:সংগৃহীত

পাকিস্তানে পুরুষের ধূমপান কমলেও বাড়ছে নারী ধূমপানের হার

নেতানিয়াহু ছবি:সংগৃহীত

গাজাগামী ত্রাণবহর আটকের ঘটনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চাইল তুরস্ক

মাসুদ পেজেশকিয়ান ছবি:সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে প্রস্তুত ইরান: মাসুদ পেজেশকিয়ান

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।   শুক্রবার দেওয়া এক অভিনন্দন বার্তায় পেজেশকিয়ান মির্জা ফখরুলকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইরানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করার বিষয়ে তেহরানের আগ্রহের কথা জানান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।   অভিনন্দন বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, বাংলাদেশের আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান ও সংসদ সদস্যদের আস্থা মির্জা ফখরুলের দূরদর্শিতা, অঙ্গীকার এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।ইরানের প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের জনগণের জন্য স্থিতিশীলতা, কল্যাণ ও অগ্রগতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।   পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরান সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করতে এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক—দুই দেশের মধ্যে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত।   অর্থাৎ, শুধু কূটনৈতিক শুভেচ্ছার মধ্যেই বার্তাটি সীমাবদ্ধ ছিল না; বাংলাদেশ ও ইরানের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার রাজনৈতিক আগ্রহও এতে তুলে ধরা হয়েছে।   এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমেদ পান ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দেন।এরপর ২১ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।   মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশ থেকেও অভিনন্দন বার্তা এসেছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আশা প্রকাশের পাশাপাশি মির্জা ফখরুলকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।   ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। চীনের ঢাকাস্থ দূতাবাসও নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ৬:৩৫
অমিত শাহ ছবি:সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু-শিখ-জৈনদের ৬ মাসে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা অমিত শাহের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আল-একরাম এলাহী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়র ভূগোল থেকে স্পেসএক্স-এ যোগ দিলেন হৃদয়

শৈশবে অটিজম ধরা পড়া ফক্স রাইকার

চিকিৎসকেরা বলেছিলেন 'অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ'! অটিজম জয় করে সেই ফক্স নিজেই আজ ডাক্তার

0 Comments