ইমিগ্রেশন কড়াকড়ির মধ্যেও মেধাবী তরুণের গ্রিন কার্ড, জানালেন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কঠোর ইমিগ্রেশন পরিবেশের মধ্যেই এক মেধাবী তরুণের গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুখবর জানিয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ওই তরুণের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে তিনি জানান, তার ল’ ফার্মের সহযোগিতায় তরুণটি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী তরুণটিকে ‘মেধাবী’ ও ‘দরিদ্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পোস্টে তিনি জানান, সঠিক উপায়ে এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় তার ল’ ফার্মের সহযোগিতায় তরুণটি আমেরিকান গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। একই পোস্টে মঈন চৌধুরী তার ল’ অফিসের দক্ষ ও অভিজ্ঞ স্টাফদের প্রশংসার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ওই পোস্টে গ্রিন কার্ডটি কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরির মাধ্যমে পাওয়া গেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এটি পারিবারিক, কর্মসংস্থানভিত্তিক, অ্যাসাইলাম বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ইমিগ্রেশন আবেদন ও গ্রিন কার্ডের বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্রেশন আবেদন প্রক্রিয়াকরণে কয়েক মাস থেকে এক বছরের বেশি সময়ও লাগতে পারে। ২০২৬ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক ভিত্তিতে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে মধ্যম প্রক্রিয়াকরণ সময় ছিল প্রায় ১০ দশমিক ৯ মাস। অন্যান্য অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস ক্যাটাগরিতে এই সময় আরও বেশি ছিল।
এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন ইমিগ্রেশন নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে একাধিক আইনি লড়াইও চলছে। সর্বশেষ ২১ আগস্ট এক ফেডারেল বিচারক ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বর্তমান ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে ঘিরে চলমান আইনি টানাপোড়েনের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে এসেছে।
এমন একটি পরিবর্তনশীল ইমিগ্রেশন পরিবেশে বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন তরুণের গ্রিন কার্ড পাওয়ার খবর তার পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন আবেদন নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা অনেকের কাছে এ ধরনের সফলতার খবর আশার বার্তাও হয়ে উঠতে পারে।
তবে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট কেসে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পেছনে কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরি বা আইনি প্রক্রিয়া কাজ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreসিরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শনিবার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ওপর থাকা বিস্তৃত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে সিরিয়ার পুনঃএকীভূত হওয়ার পথে থাকা বড় একটি আইনি বাধা দূর হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র দ্য নিউ আরবকে জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর জুলাইয়ের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রুবিওর মূল্যায়ন ছিল, তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও রাজনৈতিক শর্ত সিরিয়া পূরণ করেছে। ১৯৭৯ সাল থেকে সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকায় রয়েছে। এই তালিকাভুক্তির কারণে দেশটির ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তালিকা থেকে বাদ পড়লে সিরিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবসা, বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। দেশটির দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কমিয়ে পুনর্গঠন ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফেরার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ গেলেই যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে উঠে যাবে না। বিভিন্ন আইন ও নির্বাহী আদেশের আওতায় থাকা পৃথক নিষেধাজ্ঞা এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা আলাদাভাবে বহাল থাকতে পারে। সিরিয়াকে এখনো নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে সিরিয়ায় ভ্রমণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দেশটিতে সন্ত্রাসবাদ, সংঘাত, অপহরণ ও অন্যান্য নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সিরিয়ার জন্য বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও, দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পথে আরও কিছু বিধিনিষেধ ও চ্যালেঞ্জ রয়ে যাবে।
টাকা বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রেই বাবার শেষকৃত্য, চার বছর পর আফসোস ‘কেন তাকে দেশে নিয়ে যেতে পারলাম না’
৬ মাসে শেখা যায় এমন ১০ দক্ষতা, যা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে কাজে লাগতে পারে
ট্রাম্প প্রশাসন আপিল না করলে শিগগিরই শুরু হতে পারে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়া
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কঠোর ইমিগ্রেশন পরিবেশের মধ্যেই এক মেধাবী তরুণের গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুখবর জানিয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ওই তরুণের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে তিনি জানান, তার ল’ ফার্মের সহযোগিতায় তরুণটি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী তরুণটিকে ‘মেধাবী’ ও ‘দরিদ্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পোস্টে তিনি জানান, সঠিক উপায়ে এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় তার ল’ ফার্মের সহযোগিতায় তরুণটি আমেরিকান গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। একই পোস্টে মঈন চৌধুরী তার ল’ অফিসের দক্ষ ও অভিজ্ঞ স্টাফদের প্রশংসার কথাও উল্লেখ করেন। তবে ওই পোস্টে গ্রিন কার্ডটি কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরির মাধ্যমে পাওয়া গেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এটি পারিবারিক, কর্মসংস্থানভিত্তিক, অ্যাসাইলাম বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ইমিগ্রেশন আবেদন ও গ্রিন কার্ডের বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্রেশন আবেদন প্রক্রিয়াকরণে কয়েক মাস থেকে এক বছরের বেশি সময়ও লাগতে পারে। ২০২৬ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক ভিত্তিতে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে মধ্যম প্রক্রিয়াকরণ সময় ছিল প্রায় ১০ দশমিক ৯ মাস। অন্যান্য অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস ক্যাটাগরিতে এই সময় আরও বেশি ছিল। এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন ইমিগ্রেশন নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে একাধিক আইনি লড়াইও চলছে। সর্বশেষ ২১ আগস্ট এক ফেডারেল বিচারক ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বর্তমান ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে ঘিরে চলমান আইনি টানাপোড়েনের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে এসেছে। এমন একটি পরিবর্তনশীল ইমিগ্রেশন পরিবেশে বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন তরুণের গ্রিন কার্ড পাওয়ার খবর তার পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন আবেদন নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা অনেকের কাছে এ ধরনের সফলতার খবর আশার বার্তাও হয়ে উঠতে পারে। তবে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট কেসে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পেছনে কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরি বা আইনি প্রক্রিয়া কাজ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য তুলনামূলক সহজে শুরু করা যায় ১০টি চাকরি
এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় কামাল, চাঁদাবাজির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
৮০ শতাংশ শরীর পুড়ে ১৫ শতাংশ বাঁচার সম্ভাবনা, তবুও হাল ছাড়েননি মার্কিন সেনা
ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি স্কুলে বিনামূল্যে অ্যালবিউটেরল ইনহেলার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে অঙ্গরাজ্য সরকার। ২০ আগস্ট এ উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। সর্বশেষ রাজ্য বাজেটে আইনপ্রণেতাদের বরাদ্দ করা অর্থ থেকেই কর্মসূচিটির খরচ বহন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি সরকারি স্কুল বছরে দুটি মিটারড-ডোজ ইনহেলার এবং ২৫টি সিঙ্গেল-ইউজ ইনহেলার পাবে। এভাবে টানা তিন বছর স্কুলগুলোকে ইনহেলার সরবরাহ করা হবে। অ্যালবিউটেরলকে সাধারণত ‘রেসকিউ ইনহেলার’ বলা হয়। হঠাৎ অ্যাজমা অ্যাটাক বা শ্বাসকষ্ট হলে এটি শ্বাসনালির পেশি শিথিল করে দ্রুত শ্বাস নিতে সহায়তা করে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বলেছেন, কোনো শিশুর স্কুলে ইনহেলার না থাকার কারণে শ্বাসকষ্টে ভুগতে হবে—এমনটা হওয়া উচিত নয়। স্কুলগুলোকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যটিতে প্রায় ১০ লাখ শিশু অ্যাজমায় আক্রান্ত। তাদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সক্রিয় উপসর্গ রয়েছে এবং এসব কারণে তারা প্রতিবছর অন্তত এক সপ্তাহ স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। এই উদ্যোগের আওতায় বেসরকারি স্কুলগুলোও কম দামে ইনহেলার কিনতে পারবে। তারা একটি ইনহেলার ৯ ডলার ৫০ সেন্টে এবং ২৫টি সিঙ্গেল-ইউজ ইনহেলারের প্যাকেট ৯৩ ডলার ৭৫ সেন্টে কিনতে পারবে। এদিকে স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য ইনহেলার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগের একটি বাধ্যবাধকতাও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট পাবলিক হেলথ অফিসার এরিকা প্যানের আদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলকে ইনহেলার সংগ্রহ করতে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজনীয়তা বাতিল করা হয়েছে। উদ্যোগটির অংশ হিসেবে স্কুলের কর্মীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের নির্দেশিকাও দেওয়া হবে। সেখানে অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের জরুরি পরিস্থিতি কীভাবে শনাক্ত করতে হবে, কখন ইনহেলার ব্যবহার প্রয়োজন হতে পারে এবং প্রয়োজনে ৯১১-এ ফোন ও অভিভাবককে জানানোর প্রক্রিয়া শেখানো হবে। এই কর্মসূচিতে ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইনহেলার প্রস্তুতকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যামনিয়াল ফার্মাসিউটিক্যালস। তিন বছর পর সরকারি অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেলেও স্কুলগুলো যাতে সরাসরি ইনহেলার কিনতে পারে, সে ব্যবস্থাও চালু রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এটি ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালরেক্স উদ্যোগের তৃতীয় বড় কর্মসূচি। এর আগে কম দামে ইনসুলিন পেন এবং নালোক্সোন নেজাল স্প্রে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
পর পর দুইবার ক্যানসার জয় করে দুই বছর ধরে সুস্থ কিশোরী, এখন হতে চান শিশু ক্যানসার নার্স
লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ভাইকে বাঁচাতে অস্থিমজ্জা দিল ৫ বছরের শিশু