- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
লিভার প্রতিস্থাপনের মাত্র ছয় সপ্তাহের ব্যবধানে গ্যারেথ উইকসের শারীরিক পরিবর্তন ফুটে উঠেছে দুটি ছবিতে। প্রথম ছবিতে ছয় বছরের মেয়ে জারাকে কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যারেথের ত্বক ও চোখ ছিল তীব্র জন্ডিসে হলুদ। দ্বিতীয় ছবিতে একই জায়গায় মেয়েকে নিয়ে দাঁড়ানো গ্যারেথকে দেখা যায় অনেকটাই সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায়। স্কটল্যান্ডের ডানফার্মলাইনের বাসিন্দা গ্যারেথ ২০১৬ সালে প্রাইমারি স্ক্লেরোজিং কোলাংজাইটিসে আক্রান্ত হন। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগ, যাতে পিত্তনালিতে প্রদাহ ও ক্ষত তৈরি হয়ে ধীরে ধীরে সেগুলো সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে লিভারের ওপর গুরুতর চাপ পড়ে এবং একপর্যায়ে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। ২০২২ সালের শুরুতে গ্যারেথের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। তার লিভার ফাংশন পরীক্ষার ফল খারাপ হচ্ছিল এবং তিনি তীব্র জন্ডিস ও ক্লান্তিতে ভুগছিলেন। একই বছরের ১৬ মে সকালে তিনি জানতে পারেন, তার জন্য সম্ভাব্য একজন দাতার লিভার পাওয়া গেছে। এর পাঁচ দিন আগে, ১১ মে, তিনি মেয়ে জারাকে কাঁধে নিয়ে একটি ছবি তুলেছিলেন। ছবিতে তার ত্বক ও চোখের হলুদভাব স্পষ্ট ছিল। ১৬ মে এডিনবরায় তার লিভার প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের ছয় সপ্তাহ পর, ২৯ জুন, গ্যারেথ ও জারা একই জায়গায় গিয়ে আগের ছবিটি আবার তোলেন। এবার গ্যারেথের শরীরে জন্ডিসের সেই হলুদভাব আর ছিল না। তিনি জানান, তার লিভার ফাংশন পরীক্ষার ফলও স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে এসেছিল। লিভার ইউকে ও স্কটিশ অর্গান ডোনেশন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্যারেথ তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অঙ্গদানের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। তার মতে, একজন দাতা ও তার পরিবারের সিদ্ধান্তই তাকে নতুন করে ভবিষ্যৎ দেখার সুযোগ দিয়েছে। লিভার প্রতিস্থাপনের পরও গ্যারেথকে সারাজীবন নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। তবে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তোলা ওই দুটি ছবি তার জীবনে অঙ্গদানের প্রভাব কতটা বড় হতে পারে, তারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলের অ্যাসেনশন সেন্ট থমাস মিডটাউন হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের আগে ভুল ওষুধ দেওয়ার ঘটনায় চার রোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন প্যারালাইজড হয়েছেন এবং একজনকে কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের নিজস্ব ওষুধ প্রস্তুতকেন্দ্রে এই ভুল হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ১৪ আগস্ট জয়েন্ট প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় রোগীদের মেরুদণ্ডে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত চেতনানাশক ওষুধ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হাসপাতালের ওষুধ প্রস্তুতকেন্দ্র থেকে প্রস্তুত করা ইনজেকশনে এর পরিবর্তে পটাশিয়াম ফসফেট দেওয়া হয়। ভুল ওষুধ প্রয়োগের পর চার রোগীরই গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ৭২ বছর বয়সী গ্লেন্ডা ডর্টন নামে এক নারী হাঁটুর জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারের আগে ভুল ইনজেকশন পাওয়ার পর প্যারালাইজড হয়েছেন। আরেক ৭৪ বছর বয়সী নারীকে কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রে রাখা হয়েছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে এবং বিষয়টি অঙ্গরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে জানায়। টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনও ঘটনাটি তদন্ত করছে। অ্যাসেনশন সেন্ট থমাসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চিকিৎসক শুভদা জাগাসিয়া আক্রান্ত রোগী ও তাদের পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। হাসপাতাল জানিয়েছে, ভুলের কারণ শনাক্ত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ওষুধ ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার মধ্যে উচ্চঝুঁকির ওষুধ আলাদা করে সংরক্ষণ, মেরুদণ্ডে প্রয়োগের ওষুধ স্ক্যান করে বাধ্যতামূলক যাচাই এবং দ্বিতীয় একজন প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্টের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে ওষুধ পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পটাশিয়াম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান হলেও অতিরিক্ত মাত্রায় দ্রুত প্রয়োগ করলে হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রমে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হতে পারে। মেরুদণ্ডে ভুলভাবে প্রয়োগের ক্ষেত্রেও গুরুতর স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে এবং হাসপাতালের ওষুধ প্রস্তুতকেন্দ্রের কোন পর্যায়ে ওষুধের এই পরিবর্তন হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রোগীদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে হাসপাতাল রোগীর গোপনীয়তার কারণে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
২০২৫ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সক্রিয় সামরিক সদস্য অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন সংস্পর্শের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ফিসকাল ইয়ার ২০২৫—অর্থবছর ২০২৫-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। পেন্টাগনের দ্বিবার্ষিক গোপনীয় জরিপের ফলের ভিত্তিতে এই সংখ্যা অনুমান করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এমন অভিজ্ঞতার শিকার সামরিক সদস্যের আনুমানিক সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ৬১ জন। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫০০ জন কমেছে। নারী ও পুরুষ—উভয় সদস্যের মধ্যেই অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন সংস্পর্শের হার কমেছে। সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নারীদের ক্ষেত্রে হার ২০২৩ সালের ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, এসব ঘটনার রিপোর্ট করার হার বেড়েছে। ২০২৩ সালে আনুমানিক ২৫ শতাংশ ভুক্তভোগী ঘটনা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে এই হার বেড়ে ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ভুক্তভোগীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মোট সংখ্যা বেড়েছে—এমন নয়। পেন্টাগনের হিসাবে, ২০২৫ সালে ৭ হাজার ৯৯৮টি যৌন নিপীড়নের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১৯৫ এবং ২০২৩ সালে ৮ হাজার ৫১৫টি। পেন্টাগন বলছে, অভিযোগ জানানোর হার বাড়াকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছে। কারণ এতে ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা ও চিকিৎসা পেতে পারেন এবং অভিযুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনার সুযোগ বাড়ে। তবে সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নের ঘটনা এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। পেন্টাগন জানিয়েছে, যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আস্থা, শৃঙ্খলা এবং সামরিক প্রস্তুতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার বিদেশি প্রতিনিধিদের জন্য চার ধরনের পরিচয়পত্রকে বসবাসের অনুমতিপত্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কূটনৈতিক, কনস্যুলার, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশেষ শ্রেণির প্রতিনিধিরা এসব পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে পারবেন। স্বীকৃত চার ধরনের পরিচয়পত্র হলো কূটনৈতিক পরিচয়পত্র, কনস্যুলার পরিচয়পত্র, আন্তর্জাতিক সংস্থার পরিচয়পত্র এবং বিশেষ পরিচয়পত্র।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিদেশি মিশন ও প্রতিনিধিদের জন্য এসব পরিচয়পত্র ইস্যু করা হবে।পরিচয়পত্রধারীদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ ও দেশ ছাড়ার সময় বিমানবন্দরে তা প্রদর্শন করতে হবে। কোনো প্রতিনিধি স্থায়ীভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে গেলে সংশ্লিষ্ট মিশনকে তার পরিচয়পত্রটি দেশটির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে ফেরত দিতে হবে। বিদেশি নাগরিকদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার বিভিন্ন ধরনের কাজের অনুমতিও চালু রেখেছে। এর মধ্যে স্বাধীনভাবে কাজ করা ব্যক্তি, শিক্ষার্থী, ব্যক্তিগত শিক্ষক, খণ্ডকালীন কর্মী ও গোল্ডেন ভিসাধারীদের জন্য পৃথক কাজের অনুমতির ব্যবস্থা রয়েছে।সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিদেশি নাগরিকদের বসবাস ও কাজের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নিয়ম ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
পাকিস্তানে গত এক দশকে পুরুষদের ধূমপানের প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেলেও নারীদের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নতুন তথ্য বলছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটির পুরুষদের ধূমপানের হার কমেছে, কিন্তু নারীদের ধূমপানের হার বেড়েছে। ২০১৪ সালের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে অনুযায়ী, পাকিস্তানে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের ২২ দশমিক ২ শতাংশ এবং নারীদের ২ দশমিক ১ শতাংশ ধূমপান করতেন। সে সময় সামগ্রিক ধূমপানের হার ছিল ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। দশ বছর পরের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালে পুরুষদের ধূমপানের হার কমে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ২০১৪ সালের তুলনায় পুরুষদের ধূমপানের হার প্রায় ২৯ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে নারীদের ধূমপানের হার বেড়ে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৪ সালের ২ দশমিক ১ শতাংশের তুলনায় এটি প্রায় ৫৭ শতাংশের আপেক্ষিক বৃদ্ধি।অবশ্যই এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—নারীদের ধূমপানের হার বেড়েছে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে মোট নারী ধূমপায়ীর সংখ্যা ঠিক ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। জনসংখ্যার পরিবর্তন ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা না করে শুধু এই শতাংশের ভিত্তিতে মোট মানুষের সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। পুরুষদের ধূমপান কমার প্রবণতার সঙ্গে পাকিস্তানের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে নিয়ে পাকিস্তান সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটির সামগ্রিক তামাক ব্যবহারের হারও কমেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শেও বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা গেছে। যেমন, বাড়িতে অন্যের ধূমপানের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসার হার ৪৮ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। কর্মস্থলে এই হার ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে। তবে জাতীয় গড়ের এই ইতিবাচক চিত্রের আড়ালে নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ধূমপান কমলেও নারীদের মধ্যে হার বাড়ার অর্থ হলো তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক প্রবণতাও আলাদাভাবে নজরে রাখা প্রয়োজন। এই পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য গ্যালাপ পাকিস্তান ডিজিটাল অ্যানালিটিক্স চালু করেছে পাকিস্তান টোব্যাকো ইনসাইটস—পাকিস্তানের তামাক ব্যবহারের তথ্যভিত্তিক ড্যাশবোর্ড। এতে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের তথ্য একত্র করে বয়স, লিঙ্গ, বসবাসের এলাকা এবং অন্যান্য সূচক অনুযায়ী তামাক ব্যবহারের প্রবণতা বিশ্লেষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। গ্যালাপের ড্যাশবোর্ডে প্রাপ্ত তথ্য মূলত সরকারি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গ্লোবাল টোব্যাকো সার্ভে—বিশ্বব্যাপী তামাক ব্যবহার পর্যবেক্ষণের জরিপ-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকের ঘটনায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চেয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুলের ১১তম হাই ক্রিমিনাল কোর্ট—উচ্চ ফৌজদারি আদালত—এ নেতানিয়াহুসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। মামলাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজাগামী মানবিক সহায়তা বহরের কর্মীদের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি নাগরিক আফেক মস্কোভিচের বিরুদ্ধে গত ১৪ জুলাই ২০২৬ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে। তুরস্কের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে জেনোসাইড—গণহত্যা, ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি মানবতাবিরোধী অপরাধ, বেআইনিভাবে আটক, ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করা, নির্যাতন, সম্পত্তির ক্ষতি, গুরুতর চুরি এবং নৌযান ছিনতাই। তুরস্কের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া বেসামরিকদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হস্তক্ষেপ ও তাদের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তুরস্ক রেড নোটিশ চেয়েছে; ইন্টারপোল এখনো নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে—এমন তথ্য নেই। ইন্টারপোলকে এখন তুরস্কের অনুরোধ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইন্টারপোলের নিজস্ব ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রেড নোটিশ কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। এটি সদস্য দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের এবং প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে আটক করার জন্য পাঠানো একটি আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা। ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব আইনের ওপর নির্ভর করে। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক বলেছেন, গাজায় সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আইনের আওতায় পাওয়া সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা ব্যবহার করবে আঙ্কারা। অন্যদিকে ইসরায়েল তুরস্কের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের এই উদ্যোগকে ইসরায়েলি নেতা ও সেনাদের ভয় দেখানোর একটি ‘প্যাথেটিক’ করুণ বা হাস্যকর প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। মামলার সূত্রপাত গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকের ঘটনা থেকে। তুরস্কের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্লোটিলায় থাকা মানবিক সহায়তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর পদক্ষেপের ঘটনায় তাদের আদালতে এই বিচার চলছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু তুরস্ক-ইসরায়েল কূটনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; ইন্টারপোলের সম্ভাব্য রেড নোটিশের আবেদন আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে তুরস্কের আবেদন গ্রহণ করে ইন্টারপোল শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার দেওয়া এক অভিনন্দন বার্তায় পেজেশকিয়ান মির্জা ফখরুলকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইরানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করার বিষয়ে তেহরানের আগ্রহের কথা জানান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। অভিনন্দন বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, বাংলাদেশের আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান ও সংসদ সদস্যদের আস্থা মির্জা ফখরুলের দূরদর্শিতা, অঙ্গীকার এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।ইরানের প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের জনগণের জন্য স্থিতিশীলতা, কল্যাণ ও অগ্রগতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরান সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করতে এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক—দুই দেশের মধ্যে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত। অর্থাৎ, শুধু কূটনৈতিক শুভেচ্ছার মধ্যেই বার্তাটি সীমাবদ্ধ ছিল না; বাংলাদেশ ও ইরানের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার রাজনৈতিক আগ্রহও এতে তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমেদ পান ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দেন।এরপর ২১ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশ থেকেও অভিনন্দন বার্তা এসেছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আশা প্রকাশের পাশাপাশি মির্জা ফখরুলকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। চীনের ঢাকাস্থ দূতাবাসও নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে আগ্রহী হলেও তার ভাষায়, ‘সঠিক চুক্তি’ করার জন্য তেহরান এখনো প্রস্তুত নয়। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি করতে চায়, কিন্তু ওয়াশিংটনের প্রত্যাশিত শর্তে সমঝোতায় পৌঁছানোর মতো প্রস্তুতি এখনো তাদের নেই। এর মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসন এর আগে তেহরানের বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড আইসোলেশন’—অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞাকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘের স্বাধীন সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘এক্সট্রাটেরিটোরিয়াল সার্বভৌমত্ব’—সীমান্তের বাইরে সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের দাবি করার মতো। ইরানের অভিযোগ, এ ধরনের ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’—পরোক্ষ বা তৃতীয় পক্ষের ওপর নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি রাখে না।অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধের অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান শক্তি ও মর্যাদার অবস্থানে থাকতেই যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে। এদিকে যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট দাবি করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে। তবে জাহাজ চলাচলের তথ্য সেই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে—চারটি উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং তিনটি বের হয়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১৪। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে সাধারণ সময়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিবহন করা হয়। কিন্তু চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্প আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি প্রণালিটিকে ‘আমেরিকান টেরিটরি’—আমেরিকান ভূখণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। এদিকে ইসরায়েলেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফার-রাইট—চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কারাগারে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য ফাঁসির মঞ্চ তৈরির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর আগে ইসরায়েলের সামরিক আদালতে প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দণ্ডিত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আইন পাস করা হয়েছিল। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সংঘাত আরও বাড়লে ইউরোপে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলেও একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে সাইপ্রাসের একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি মার্কিন-ব্যবহৃত সামরিক স্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া এবং ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে আশ্রয় নেওয়া যোগ্য হিন্দু, শিখ ও জৈনদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির কাওয়াখালি এলাকায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন। অমিত শাহ বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গের আট জেলার কালেক্টরকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-এর আওতায় আবেদন প্রক্রিয়া ও নিষ্পত্তির ক্ষমতা দিয়েছে। ভারতের সরকারি নাগরিকত্ব পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, সিএএ-এর আওতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে তাদের ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করতে হবে এবং আইনে নির্ধারিত অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ, অমিত শাহের ঘোষণাটি সব বাংলাদেশি হিন্দু, শিখ বা জৈনের জন্য স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের ঘোষণা নয়। বরং সিএএ-এর যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি হিসেবে এটি এসেছে। সিএএ-এর আওতায় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন পরিবর্তনও এসেছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ ধরনের আবেদন গ্রহণ, যাচাই ও নিষ্পত্তির ক্ষমতা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে মোট আট জেলার কালেক্টরকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়েও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। সিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে তিনি সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে আনেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্ত অবকাঠামোর জন্য জমি হস্তান্তরের কাজ দ্রুত এগিয়েছে। সিএএ বাস্তবায়ন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। অমিত শাহ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সমালোচনা করে দাবি করেন, আগের সরকার সিএএ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেনি। বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ সীমান্ত এবং সীমান্তপারের মানুষের চলাচলের কারণে নাগরিকত্ব, অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নিরাপত্তা রাজ্যটির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সিএএ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
টেক্সাসের একটি মেডিকেল ল্যাবের মালিক ও অপারেটর ওসমান সাইদের বিরুদ্ধে ৭৯ মিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য তার অজান্তে ব্যবহার করে মেডিকেয়ার ও টেক্সাস মেডিকেইডে বিপুল পরিমাণ ভুয়া মেডিকেল টেস্টের ক্লেইম জমা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। আদালতের নথি অনুযায়ী, সাইদের প্রতিষ্ঠান বায়োডিএক্স ল্যাবস এলএলসি শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ শনাক্তের জন্য ব্যবহৃত রেসপিরেটরি প্যাথোজেন প্যানেল বা আরপিপি টেস্টের নামে ৭৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্লেইম জমা দেয়। এসব পরীক্ষার কিছু করা হয়নি এবং অনেক পরীক্ষাই চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় ছিল না বলে অভিযোগ করেছে সরকার। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাইদ এমন এক চিকিৎসকের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করেন, যিনি সংশ্লিষ্ট রোগীদের চিকিৎসা করেননি এবং তাদের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার জন্য কোনো চিকিৎসা দেননি। চিকিৎসকের অনুমতি বা জ্ঞান ছাড়াই তার তথ্য ব্যবহার করে লাখ লাখ ডলারের ক্লেইম জমা দেওয়া হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। জালিয়াতি আড়াল করতে বায়োডিএক্স ল্যাবস পরীক্ষাগুলো অন্য রেফারেন্স ল্যাবরেটরিতে সম্পন্ন করিয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে সাইদ ও তার সহযোগীরা জালিয়াতির মাধ্যমে পাওয়া অর্থের বড় অংশ বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে অর্থ পাচার করেন বলে জানিয়েছে সরকার। এসব অর্থ চীন, হংকং, তুরস্ক, গ্রিস ও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের কথা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলার তদন্তে সরকার ১৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি নগদ অর্থ জব্দ করেছে। সাইদের বিরুদ্ধে তিনটি হেলথ কেয়ার ফ্রড, অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের একটি এবং মানি লন্ডারিংয়ের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাইদ ২০২৪ সালে পালিয়ে যান এবং তাকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনের চোখে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসার শর্ত মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেছে ইউএস এম্বাসি ঢাকা। এক বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাসটি জানায়, কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিলে, নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে নিজের স্টাডি প্রোগ্রাম থেকে সরে দাঁড়ালে তার শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে। শুধু ভিসা বাতিলই নয়, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।তাই সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে শিক্ষার্থীদের সবসময় ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস—শিক্ষার্থী হিসেবে বৈধ অবস্থান বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থানের ক্ষেত্রে পড়াশোনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়মগুলো যথাযথভাবে পালন করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে পড়াশোনার কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করাও জরুরি। দূতাবাসের এই সতর্কবার্তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত এবং ভবিষ্যতে পড়াশোনার জন্য দেশটিতে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভিসার শর্ত সম্পর্কে সচেতন করার জন্য দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম কমাতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ মেট্রিক টন গ্রাউন্ড বিফ-কিমা করা গরুর মাংস-আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দেওয়া এক ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো কর্মজীবী মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য গরুর মাংসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। একই সঙ্গে দেশীয় গরুর খামারিদের গবাদিপশুর সংখ্যা পুনর্গঠনের জন্য সময় দেওয়াও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। চুক্তির আওতায় আগামী ৯০ দিনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ আমদানি করা গরুর মাংস আউট-অব-কোটা ট্যারিফ কোটা সীমার অতিরিক্ত আমদানির শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে যে এসব আমদানি করা গরুর মাংস বর্তমান বাজারদরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম দামে বিক্রি করা হবে।যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম বাড়ার পেছনে দেশটির গবাদিপশুর সরবরাহ কমে যাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বিফ কাউ মাংস উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত গাভীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ শতাংশ কম। একই সময়ে ২০২৬ সালের বাছুর উৎপাদনের পূর্বাভাসও ২ শতাংশ কমেছে। কানসাস সিটি ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, ভোক্তাদের শক্তিশালী চাহিদার বিপরীতে দেশীয় সরবরাহ সীমিত থাকায় গরুর মাংসের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ ও বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক খামারি দ্রুত গরুর পাল বাড়াতে আগ্রহী হচ্ছেন না। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রাউন্ড বিফের দাম ইতোমধ্যে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গ্রাউন্ড বিফের গড় দাম প্রতি পাউন্ডে ৬ দশমিক ৬৯ ডলারে পৌঁছায়। গরুর মাংসের সরবরাহ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও পদক্ষেপ নিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনা থেকে বছরে অতিরিক্ত ৮০ হাজার মেট্রিক টন লিন বিফ ট্রিমিংস চর্বি কম থাকা গরুর মাংসের অংশ শুল্কমুক্তভাবে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম গবাদিপশুর জন্য ক্ষতিকর এক ধরনের পরজীবী পোকা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এক বছর ধরে মেক্সিকো থেকে গরু আমদানিতে বিধিনিষেধ ছিল। সম্প্রতি সেই আমদানি আবার চালুর পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে প্রশাসন। ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্তের লক্ষ্য তাই একদিকে তাৎক্ষণিকভাবে ভোক্তাদের জন্য গরুর মাংসের সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে আনা, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গরুর পাল পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করা। ট্রাম্প বলেন, দেশীয় গরুর পাল পুনর্গঠন এবং খামারিদের সহায়তার পাশাপাশি এই সাময়িক আমদানি মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য অতিরিক্ত গরুর মাংসের সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
ফিলাডেলফিয়ায় ‘চাকি’ চরিত্রের আদলের মুখোশ পরে পথচারীদের ভয় দেখানো ও হামলার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী জাইমির হিউজকে খুঁজছে পুলিশ। পুলিশের আশঙ্কা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর তিনি পেনসিলভানিয়া ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় চলে গিয়ে থাকতে পারেন। ফিলাডেলফিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১২ আগস্ট ভোরে সেন্টার সিটি এলাকায় একাধিক ব্যক্তির কাছে গিয়ে তাদের ভয় দেখানো, ধাওয়া করা এবং এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ রয়েছে হিউজের বিরুদ্ধে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই সময় অন্তত ১৫ থেকে ১৬ জনকে লক্ষ্য করা হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়। এক ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী এক নারী দৌড়ানোর সময় হিউজ তার পিছু নেন বলে অভিযোগ। তার হাতে থাকা একটি হাত পেছনে রাখা ছিল এবং তিনি ওই নারীকে মৃত্যুর বিষয়ে প্রশ্ন করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আতঙ্কে দৌড়ে পালানোর সময় ওই নারী গুরুতরভাবে পায়ে আহত হন এবং চিকিৎসা নিতে হয়। পুলিশের দাবি, হিউজ নিজের মুঠোফোনে এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা এ ধরনের ভিডিও থেকে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেও তিনি ঘটনাগুলো ধারণ করে থাকতে পারেন। তবে তার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। হিউজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশ বলছে, তার লস অ্যাঞ্জেলেস ও লাস ভেগাসে যাতায়াতের সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি প্রায়ই এসব এলাকায় যাতায়াত করতেন। ফলে তিনি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তার সঠিক অবস্থান এখনো জানা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া ও নেভাদার বিভিন্ন পরিবহনকেন্দ্র এবং সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে নজরদারি চালাচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার বাসিন্দাদের তাকে দেখলে কাছে না গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করেন। এতে দৈনন্দিন খরচের কিছুটা জোগান দেওয়ার পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগও তৈরি হয়। তবে দেশভেদে শিক্ষার্থীদের কাজের সময়সীমা ও নিয়ম ভিন্ন। শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ মূলত সংশ্লিষ্ট দেশের স্টুডেন্ট ভিসার শর্তের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই কাজ ক্যাম্পাসের ভেতরে করার নিয়ম রয়েছে। যুক্তরাজ্যে ক্লাস চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করা যায়। আর নির্ধারিত ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ থাকে। কানাডায় ক্লাস চলাকালে ক্যাম্পাসের বাইরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সময় দুই সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করা যায়। তবে সরকারি ছুটির সময়ে কাজের ক্ষেত্রে এই সীমা প্রযোজ্য নয়। আর জার্মানিতে বছরে সর্বোচ্চ ১৪০ পূর্ণ দিন বা ২৮০ অর্ধদিবস কাজের অনুমতি রয়েছে। সেমিস্টারের সময় সাধারণত সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার নিয়ম রয়েছে। এবার আসা যাক সম্ভাব্য আয়ের হিসাবে। যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রি ও রেস্তোরাঁ-হসপিটালিটি খাতে শিক্ষার্থীরা ঘণ্টায় প্রায় ১১ থেকে ১৪ পাউন্ড আয় করতে পারেন। তবে গণিত, বিজ্ঞান বা ইংরেজির মতো বিষয়ে দক্ষ শিক্ষার্থীরা টিউশনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ৩০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করতে পারেন। কানাডায় সাধারণ খণ্ডকালীন কাজে ঘণ্টায় প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কানাডীয় ডলার আয় করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সহকারী হিসেবে এই আয় ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৪০ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত হতে পারে। গবেষণা সহকারী হিসেবেও ঘণ্টায় ২০ থেকে ৩৫ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে কানাডায় ন্যূনতম মজুরি প্রদেশভেদে আলাদা। অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের মজুরি তুলনামূলক বেশি। খুচরা বিক্রি ও হসপিটালিটি খাতে ঘণ্টায় প্রায় ২৭ থেকে ৩০ অস্ট্রেলীয় ডলার আয় করা যায়। আর টিউশনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫০ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত আয় হতে পারে। তবে বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে শুধু খণ্ডকালীন চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর করে আর্থিক পরিকল্পনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খণ্ডকালীন কাজের আয় দিয়ে বাজার-সদাই, যাতায়াত ও মোবাইল বিলের মতো নিয়মিত কিছু খরচ সামলানো সম্ভব হলেও টিউশন ফি ও বাসাভাড়ার মতো বড় ব্যয়ের জন্য আগে থেকেই পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতি থাকা জরুরি। কারণ কাজের সুযোগ সবসময় নিশ্চিত নয়, আর ভিসার নির্ধারিত সময়সীমার বেশি কাজ করাও আইনগত সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের বর্তমান স্টুডেন্ট ভিসার নিয়ম, কাজের অনুমোদিত সময় এবং শ্রম আইন ভালোভাবে জেনে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট ঋণের পরিমাণ ৪০ দশমিক ০৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এক দশকেরও কম সময়ে দেশটির মোট জাতীয় ঋণ দ্বিগুণের বেশি হওয়ায় সরকারের সুদ ব্যয় ও ভবিষ্যৎ ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতীয় ঋণ সরাসরি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ঋণ নয়। তবে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দ্রুত বাড়তে থাকলে এর প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে পারে। বিশেষ করে সরকারি বন্ডের সুদের হার বাড়লে ব্যাংক ও অন্যান্য ঋণদাতাদের জন্য অর্থের খরচও বাড়ে। এর প্রভাব মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ এবং অন্যান্য ভোক্তা ঋণের সুদের হারেও পড়তে পারে। বর্তমান ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের মধ্যে প্রায় ৩২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা ট্রেজারি ঋণ এবং প্রায় ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার ঋণ। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় জাতীয় ঋণ ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ হলো সরকারের ব্যয় রাজস্ব আয়ের চেয়ে বেশি থাকা। গত এক দশকে বিভিন্ন প্রশাসনের সময় বাজেট ঘাটতি, মহামারি মোকাবিলায় বড় অঙ্কের ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং ক্রমবর্ধমান সুদ পরিশোধের কারণে সরকারের ধার নেওয়ার প্রয়োজন বেড়েছে। এরই মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি আগস্টে ৩০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে, যা মর্টগেজ বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি মর্টগেজের সুদের হার সাধারণত ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ওঠানামা করে। ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জাতীয় ঋণের চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এতে শিক্ষা, অবকাঠামো বা অন্যান্য সরকারি খাতে ব্যয়ের জন্য অর্থের পরিমাণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে বেশি সরকারি ঋণ বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের খরচ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও চাপ তৈরি করতে পারে। তবে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের এই সংখ্যা দিয়ে একাই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থার পুরো চিত্র বোঝা যায় না। অর্থনীতিবিদরা জাতীয় ঋণের পাশাপাশি অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণের পরিমাণ, অর্থাৎ ঋণ ও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত এবং জনগণের হাতে থাকা সরকারি ঋণও বিবেচনা করেন। জাতীয় ঋণ কমাতে হলে সরকারের সামনে মূলত ব্যয় কমানো, রাজস্ব বাড়ানো অথবা দুটির সমন্বয়ের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত রয়েছে। ট্রেজারি বিভাগ ইতোমধ্যে ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বন্ড বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতির মূল কারণ সমাধানের বিকল্প নয়।
নিউ গিনির বনাঞ্চলে নতুন একটি সাপের প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। জনপ্রিয় রক ব্যান্ড গানস এন’ রোজেসের গিটারিস্ট স্ল্যাশের প্রতি সম্মান জানিয়ে নতুন এই সাপের বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে Lielaphis slashi। লালচে-বাদামি রঙের এই মাটির সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭১ সেন্টিমিটার বা ২৮ ইঞ্চি। গবেষকদের মতে, সাপটি মূলত রাতে সক্রিয় থাকে এবং সূর্য ডোবার পর বড় গাছের গোড়ার কাছে খাবারের সন্ধানে দেখা যায়। নতুন প্রজাতিটির নামকরণের কারণও বেশ ব্যতিক্রমী। সরীসৃপের প্রতি স্ল্যাশের দীর্ঘদিনের আগ্রহ এবং প্রাণী সংরক্ষণ, চিড়িয়াখানা, জাদুঘর ও প্রাকৃতিক ইতিহাসবিষয়ক শিক্ষার প্রতি তার সমর্থনের কথা উল্লেখ করেছেন গবেষকরা। নতুন এই নামকরণে নিজের প্রতিক্রিয়ায় স্ল্যাশ বলেন, একজন দীর্ঘদিনের সরীসৃপপ্রেমী হিসেবে নিউ গিনি থেকে আবিষ্কৃত একটি সাপের নাম তার নামে রাখা অত্যন্ত সম্মানের এবং একই সঙ্গে বিস্ময়ের বিষয়। নতুন প্রজাতিটি শনাক্ত করার পেছনে কাজ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামের গবেষক সারা রুয়ানেসহ একদল বিজ্ঞানী। রুয়ানে জানান, ছোটবেলা থেকেই সাপের প্রতি তার আগ্রহ ছিল এবং গানস এন’ রোজেসও ছিল তার পছন্দের ব্যান্ডগুলোর একটি। ছোট বয়সে স্ল্যাশকে একটি পোষা অজগরসহ দেখে তার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়। গবেষকদের সঙ্গে স্থানীয় বিজ্ঞানীরাও নিউ গিনির দুর্গম বনাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ২০০৬ সালে মাঠপর্যায়ের গবেষণার সময় বিজ্ঞানীরা প্রথম অপরিচিত এই সাপটির সন্ধান পান। পরে আরও বিস্তারিত গবেষণার মাধ্যমে এর বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়। শুধু বাহ্যিক চেহারা দেখে সাপটিকে নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গবেষকরা একাধিক আধুনিক জেনেটিক বিশ্লেষণ চালিয়ে দেখতে পান, Lielaphis slashi একই গণের অন্যান্য সাপের তুলনায় জেনেটিকভাবে স্বতন্ত্র। এর পাশাপাশি শরীরের আঁশের সংখ্যা ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যেও পার্থক্য পাওয়া যায়। সাপটির বাসস্থান এবং খাবার সংগ্রহের ধরনও কাছাকাছি প্রজাতিগুলোর তুলনায় আলাদা বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এই সাপের মুখের পেছনের দিকে তুলনামূলক বড় দাঁত রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, এসব দাঁত ব্যবহার করে এটি ছোট আকারের টিকটিকি ও অন্যান্য সরীসৃপের ডিম শিকার করতে পারে। তবে এটি অজগরের মতো শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে না। নতুন প্রজাতিটির আবিষ্কার নিয়ে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Zootaxa জার্নালে। গবেষকরা বলছেন, নিউ গিনির ঘন বনাঞ্চলে এখনো বিপুল জীববৈচিত্র্য সম্পূর্ণভাবে গবেষণার আওতায় আসেনি। ফলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই বৈচিত্র্যময় প্রাণিজগতের নতুন এক সদস্যের বৈজ্ঞানিক নাম এখন রক সংগীতের জনপ্রিয় তারকা স্ল্যাশের নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেল।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার এখন পেপাল ও ভেনমো ব্যবহার করে সরাসরি টিউশন ফি ও অন্যান্য শিক্ষাবিষয়ক খরচ পরিশোধ করতে পারছেন। নতুন এই পেমেন্ট সুবিধা ইতোমধ্যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে এবং চলতি বছর আরও প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত হতে পারে। প্রথম দিকের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলামাইন ইউনিভার্সিটি, বাটলার ইউনিভার্সিটি, কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত অনলাইন পেমেন্ট পোর্টাল থেকেই পেপাল বা ভেনমোকে পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিতে পারবেন। এই সুবিধা চালু করতে পেপাল শিক্ষা খাতের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ইলুমিয়া, নেলনেট ক্যাম্পাস কমার্স ও টাচনেটের সঙ্গে নতুন ইন্টিগ্রেশন করেছে। এর ফলে শিক্ষার্থী বা পরিবারের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেমের ভেতর থেকেই পেপাল বা ভেনমো ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। পেমেন্টের অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড অথবা পেপাল ও ভেনমো অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যালেন্স থেকে দেওয়া যাবে। তবে এই সুবিধা ব্যবহার করলেই যে অতিরিক্ত খরচ থাকবে না, তা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সার্ভিস বা প্রসেসিং ফি নেওয়া হতে পারে। যেমন, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পেপাল বা ভেনমো ব্যবহার করে টিউশন পরিশোধ করলে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস ফি প্রযোজ্য হবে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি ভিন্ন হতে পারে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিও ২০ ডলারের বেশি পেপাল ও ভেনমো লেনদেনে কমপক্ষে ৩ ডলার সার্ভিস ফি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাই বড় অঙ্কের টিউশন পরিশোধের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কাঠামো দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পেপাল ও ভেনমোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব লেনদেনে এনক্রিপশন ও জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ তাদের নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। তবে ভোক্তা অধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নন-ব্যাংক পেমেন্ট অ্যাপে রাখা অর্থ সবসময় প্রচলিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো ফেডারেল ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্সের আওতায় থাকে না। পেপালের কিছু নির্দিষ্ট ব্যালেন্স প্রোগ্রাম ব্যাংকের মাধ্যমে এফডিআইসি পাস-থ্রু ইন্স্যুরেন্সের আওতায় পড়তে পারে। তবে সব পেপাল বা ভেনমো ব্যালেন্স এই সুরক্ষা পায় না। পেপাল নিজেও জানিয়েছে, এফডিআইসি পাস-থ্রু ইন্স্যুরেন্স সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেয়, পেপালের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে নয়। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে মূলত শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য টিউশন পরিশোধের পদ্ধতি আরও বৈচিত্র্যময় হচ্ছে। তবে টিউশনের মতো বড় অঙ্কের অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি, পেমেন্টের উৎস এবং অর্থের সুরক্ষা সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
কানাডার মন্ট্রিয়লে ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মড অ্যাবট মেডিকেল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত একটি চিকিৎসাবিষয়ক নমুনা শিশুদের খাবার খাওয়ার সময় দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির এক মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে আছে। নমুনাটি আড়াই বছর বয়সী এক শিশুর শ্বাসনালি। জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, একটি চিনাবাদাম শ্বাসনালির বিভাজনস্থলে আটকে গিয়ে বাতাস চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল। শিশুটির ফুসফুস স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু বাদাম আটকে যাওয়ার কারণে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়। ম্যাকগিলের মড অ্যাবট মেডিকেল মিউজিয়াম বহু বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞান ও রোগতত্ত্বের বিভিন্ন নমুনা সংরক্ষণ করে আসছে। সেখানে থাকা এই নমুনায় শ্বাসনালিটি পেছনের দিক দিয়ে কেটে খোলা হয়েছে, যাতে দেখা যায় কীভাবে চিনাবাদামটি শ্বাসনালির ঠিক সেই জায়গায় আটকে ছিল, যেখান থেকে ডান ও বাম ফুসফুসের দিকে প্রধান শ্বাসনালি ভাগ হয়ে গেছে। জাদুঘরের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুটির বয়স ছিল আড়াই বছর। চিনাবাদাম শ্বাসনালিতে ঢোকার পর অল্প সময়ের মধ্যেই শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়। ফুসফুসে কোনো রোগ ছিল না। অর্থাৎ মূল সমস্যা ছিল শ্বাসনালিতে খাবার আটকে যাওয়া। শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পেছনে শারীরিক কারণ রয়েছে। ছোট শিশুদের শ্বাসনালি প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় সরু। একই সঙ্গে তারা খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে গুঁড়ো করার মতো দক্ষতাও পুরোপুরি অর্জন করে না। বিশেষ করে মোলার দাঁত পুরোপুরি বিকশিত হওয়ার আগে শক্ত খাবার চিবিয়ে নিরাপদভাবে গিলে ফেলা কঠিন হতে পারে। খাবার খাওয়ার সময় শিশুর দৌড়ানো, হাঁটা, কথা বলা, হাসা কিংবা তাড়াহুড়ো করে খাওয়াও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব কারণে খাবার ভুল পথে শ্বাসনালিতে ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসও ছোট শিশুদের খাবার খাওয়ার সময় বসিয়ে রাখা এবং তাদের নজরদারিতে রাখার পরামর্শ দেয়। বিশেষ করে চিনাবাদাম ও অন্যান্য বাদাম, বীজ, পপকর্ন, আস্ত আঙুর, শক্ত ক্যান্ডি, কাঁচা শক্ত সবজি এবং বড় বা শক্ত খাবারের টুকরো শিশুদের জন্য দম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের বর্তমান নির্দেশনায় চার বছর বয়স পর্যন্ত বা শিশুর বিকাশ ও পরিপক্বতা অনুযায়ী আরও বেশি সময় এসব উচ্চঝুঁকির খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু খাবার নয়, ছোট খেলনার অংশ, কয়েন, বেলুনসহ বিভিন্ন ছোট বস্তু থেকেও শিশুদের দম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে তিন বছর বা তার কম বয়সী শিশুরা শ্বাসনালির গঠন এবং খাবার চিবিয়ে গেলার দক্ষতা পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় বেশি ঝুঁকিতে থাকে। মড অ্যাবট মেডিকেল মিউজিয়ামে থাকা চিনাবাদামের এই নমুনাটি তাই শুধু একটি পুরোনো চিকিৎসাবিষয়ক নিদর্শন নয়। একটি ছোট শিশুর জীবনে সামান্য একটি খাবার কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সেটিও এটি স্পষ্টভাবে দেখায়। শিশুদের খাবার দেওয়ার সময় বয়স ও চিবানোর সক্ষমতা বিবেচনা করা, ঝুঁকিপূর্ণ খাবার ছোট করে বা নিরাপদভাবে প্রস্তুত করা এবং খাওয়ার সময় শিশুকে নজরদারিতে রাখা দম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাকগিলের সংগ্রহে কয়েক দশক ধরে সংরক্ষিত সেই ছোট্ট শ্বাসনালিটি আজও যেন একই সতর্কবার্তাই দিয়ে যাচ্ছে।
গাজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আরব নিউজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পণ্যের সীমিত সরবরাহ ও প্রবেশে নানা বাধার কারণে খাবার, জ্বালানি, ব্যাটারি ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার বড় একটি অংশ যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত। দীর্ঘদিন ধরে পণ্য ও মানবিক সহায়তা প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকায় বাজারে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক নেই। এই সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের দামে। যুদ্ধের আগে প্রায় ১৪০ ডলারে বিক্রি হওয়া একটি গাড়ির ব্যাটারির দাম এখন ২ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি। একইভাবে সোলার প্যানেলের দামও যুদ্ধের আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। সিগারেট ও তামাকের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্যাকেটের দাম সাম্প্রতিক সময়ে ১৪০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। পূর্ণ অবরোধের সময় দাম আরও অনেক বেশি হয়েছিল। শুধু সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য পণ্য নয়, হাসপাতালগুলোও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে পড়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধার কারণে হাসপাতাল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিকল্প পথে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। আরব নিউজের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, গাজায় পণ্য পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পক্ষকে বাড়তি অর্থ দিতে হয় বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং সীমান্ত পারাপারের বিভিন্ন ধাপে এই অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয় গিয়ে যোগ হচ্ছে পণ্যের দামের সঙ্গে। ইসরায়েল কিছু পণ্যের প্রবেশ সীমিত করেছে এবং কংক্রিট, স্টিলের পাইপ, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও এক্স-রে মেশিনসহ বেশ কিছু পণ্যকে ‘ডুয়াল-ইউজ’ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করে। ইসরায়েলের দাবি, এসব পণ্য সামরিক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে গাজার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য খাবার, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকটের মধ্যে সীমিত সরবরাহ, অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় এবং পণ্য প্রবেশের নানা বাধা মিলে গাজার বাজারে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ মূল্যচাপ। ফলে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের সংকটও সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার ছিল মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমানের। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠান এএমডিতে চিপ নকশাবিদ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। চাইলে যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারতেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন ছিল ভিন্ন। বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের নিয়ে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যারা সরাসরি বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য কাজ করবে। সেই স্বপ্ন থেকেই ২০০৭ সালে ঢাকায় মাত্র চারজন প্রকৌশলী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ইউএলকাসেমি। প্রায় দুই দশকের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি এখন ৬০০-এর বেশি নকশা প্রকৌশলীর একটি আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর নকশা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি বা টিএসএমসির নকশা কেন্দ্র জোটের অংশ। এনায়েতুর রহমানের এই গল্প তাই শুধু একজন প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি বাংলাদেশে উচ্চপ্রযুক্তির একটি নতুন শিল্প গড়ে তোলার দীর্ঘ প্রচেষ্টারও গল্প। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এনায়েতুর রহমান। পরে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। একপর্যায়ে তিনি সিলিকন ভ্যালিতে পৌঁছান এবং এএমডিতে সেমিকন্ডাক্টর চিপ নকশাবিদ হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে কাজের সুবাদে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের দ্রুত পরিবর্তন, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান তিনি। সিলিকন ভ্যালিতে থাকতেই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে তাঁরাও কি বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে কাজ করতে পারবেন না? দেশের বড় তরুণ জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলী তৈরির সক্ষমতা তাঁকে সেই সম্ভাবনার ওপর আস্থা রাখতে সাহায্য করে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি। ২০০৭ সালে ঢাকায় চারজন প্রকৌশলী নিয়ে শুরু হয় ইউএলকাসেমির পথচলা। একই সময়ে সিলিকন ভ্যালিতেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করা হয়। সে সময় বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর নকশা শিল্পের কোনো শক্তিশালী বা প্রতিষ্ঠিত পরিবেশ ছিল না। দক্ষ জনবল তৈরি, আন্তর্জাতিক গ্রাহকের আস্থা অর্জন এবং সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। শুরুর সময়টাও সহজ ছিল না। ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটিকে টিকে থাকতে হয়েছে। শুরুতে চিপের বিন্যাস নকশার মতো কাজ দিয়ে এগোয় ইউএলকাসেমি। এর মাধ্যমে প্রকৌশলীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়। পরে ধীরে ধীরে চিপের কাঠামো নির্ধারণ, নকশা যাচাই, ভৌত নকশা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত কাজের দিকে বিস্তৃত হয় প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ইউএলকাসেমির সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি তার দক্ষ জনবল। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৬০০-এর বেশি নকশা প্রকৌশলী কাজ করছেন। চারটি দেশে তাদের নকশা কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যদের সম্মিলিত সিলিকন ভ্যালি অভিজ্ঞতা ২৫০ বছরেরও বেশি বলে জানিয়েছে ইউএলকাসেমি। প্রতিষ্ঠানটির কাজ এখন শুধু বাংলাদেশের বাজারে সীমাবদ্ধ নয়। বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে তারা। অ্যানালগ সার্কিট নকশা, কাস্টম আইসি বিন্যাস, আইসি ভৌত নকশা, চিপের কাঠামো ও আরটিএল নকশা, নকশা পরীক্ষার উপযোগী করা এবং ফাউন্ড্রি নকশা সহায়তার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। ইউএলকাসেমির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ৪০০-এর বেশি ভৌত নকশা টেপ-আউট এবং ১৫০টি এসআরএএম ও ৫০টি ওটিপি টেপ-আউটের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসব কাজের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বসেই আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জটিল প্রযুক্তিগত কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই যাত্রার অন্যতম বড় মাইলফলক আসে ২০২১ সালে। ওই বছর ইউএলকাসেমি টিএসএমসির নকশা কেন্দ্র জোটের অংশীদার হয়। টিএসএমসির তথ্য অনুযায়ী, এই জোট চিপ বাস্তবায়ন সেবা এবং সিস্টেম পর্যায়ের নকশা সমাধানের মাধ্যমে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারকারী গ্রাহকদের নকশা সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। টিএসএমসির বর্তমান নকশা কেন্দ্র জোটের তালিকাতেও ইউএলকাসেমির নাম রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের এই নকশা পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক চিপ নকশা শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে কাজ করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তবে এনায়েতুর রহমানের লক্ষ্য শুধু নিজের প্রতিষ্ঠানকে বড় করা নয়। বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর শিল্প গড়ে তোলার স্বপ্নও রয়েছে তাঁর। তাঁর মতে, শুরুতেই বিপুল মূলধন বিনিয়োগ করে চিপ তৈরির কারখানা স্থাপনের চেয়ে চিপ নকশা, নকশা যাচাই এবং পরীক্ষা ও প্যাকেজিংয়ের মতো ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা তৈরি করা তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তবসম্মত। এই ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের মানবসম্পদ। দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার প্রকৌশলী স্নাতক হন বলে সংশ্লিষ্ট খাতের বিভিন্ন আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিপুল জনবলকে সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক চিপ নকশা ও প্রকৌশল সেবা খাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন এনায়েতুর রহমান। বাংলাদেশ সরকারও সাম্প্রতিক সময়ে সেমিকন্ডাক্টর খাতকে সম্ভাবনাময় উচ্চপ্রযুক্তির রপ্তানি শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। দক্ষ জনবল তৈরি, নীতিগত সহায়তা এবং প্রযুক্তি খাতের পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে এই শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এনায়েতুর রহমানও বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতের সম্ভাবনা নিয়ে নীতি ও শিল্প পর্যায়ের আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রকৌশলী তৈরিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে ইউএলকাসেমি। অ্যানালগ নকশা, ডিজিটাল নকশা যাচাই এবং বিন্যাস প্রকৌশলের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা তৈরির ওপর প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন উদ্যোগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একসময় এএমডির মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে চিপ নকশা করতেন এনায়েতুর রহমান। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের দেশের মাটিতে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, যেখানে আজ শত শত বাংলাদেশি প্রকৌশলী বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য কাজ করছেন। চারজন প্রকৌশলী নিয়ে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ এখন ৬০০-এর বেশি প্রকৌশলীর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের জন্য এর গুরুত্ব শুধু প্রতিষ্ঠানের আকারে নয়। বরং এটি দেখিয়েছে, দেশে বসেও উচ্চপ্রযুক্তির বৈশ্বিক শিল্পের জন্য প্রতিযোগিতামূলক কাজ করা সম্ভব। সিলিকন ভ্যালি একসময় ছিল এনায়েতুর রহমানের কর্মক্ষেত্র। আজ তাঁর গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের সেই বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি করছে।