- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িভাড়া, খাবার, যাতায়াতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়তে থাকায় স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আয়ও বেড়েছে। ২০২৬ সালের স্মার্টঅ্যাসেটের এক গবেষণা বলছে, দেশটির প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই একা একজন প্রাপ্তবয়স্কের স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য বছরে অন্তত ৮০ হাজার ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন। প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যে এই প্রয়োজনীয় আয় ১ লাখ ডলারেরও বেশি। চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আয় সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য সবচেয়ে বেশি আয়ের প্রয়োজন ম্যাসাচুসেটসে। সেখানে দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের একটি পরিবারের বছরে প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার। একা একজন প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আয় প্রয়োজন হাওয়াইয়ে, প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২ ডলার। অন্যদিকে তুলনামূলক কম খরচের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে মিসিসিপি ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। মিসিসিপিতে চার সদস্যের একটি পরিবারের স্বচ্ছন্দে থাকতে প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৩ ডলার। আর ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় একা একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৮১ হাজার ২৪৫ ডলার। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের তুলনায় কিছু অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আয় কমেছে। এসব অঙ্গরাজ্যের মধ্যে রয়েছে টেনেসি, মেরিল্যান্ড, লুইজিয়ানা, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিসিসিপি ও টেক্সাস। অন্যদিকে মন্টানায় একা একজন প্রাপ্তবয়স্কের প্রয়োজনীয় আয় এক বছরে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা গবেষণায় সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। স্মার্টঅ্যাসেট এই হিসাব করতে এমআইটির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের তথ্য ব্যবহার করেছে। আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও আয়করসহ মৌলিক প্রয়োজনীয় খরচের তথ্যের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে। এরপর ৫০/৩০/২০ বাজেট নিয়ম প্রয়োগ করে স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বার্ষিক প্রাক-কর আয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নিয়মে আয়ের ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খরচে, ৩০ শতাংশ ইচ্ছামতো ব্যয়ে এবং ২০ শতাংশ সঞ্চয় বা ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের জন্য রাখার ধারণা অনুসরণ করা হয়। অঙ্গরাজ্যভেদে প্রয়োজনীয় আয়ের এই বড় পার্থক্য মূলত জীবনযাত্রার খরচের ভিন্নতাকে তুলে ধরে। একই আয় এক অঙ্গরাজ্যে তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের সুযোগ দিলেও অন্য অঙ্গরাজ্যে আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের কারণে তা যথেষ্ট নাও হতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি, বসবাসের স্থান বা পরিবার নিয়ে পরিকল্পনার ক্ষেত্রে শুধু বেতনের অঙ্ক নয়, স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৯৮৭ সালের একটি হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সৈয়দ মোহাম্মদ রব্বানীর মৃত্যুদণ্ড ২০২৩ সালে বাতিল হলেও এখনও কারাগারেই দিন কাটছে তাঁর। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মৃত্যুদণ্ডের সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিবর্তিত হয়েছে। ৬০ বছর বয়সী রব্বানী বর্তমানে ডিকিনসনের ক্যারল ইয়াং ইউনিটে হসপিস সেবা নিচ্ছেন। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত হিউস্টন ক্রনিকলের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রব্বানীর জীবনের এই দীর্ঘ কারাবাসের শুরু ১৯৮৭ সালে হিউস্টনে। ওই বছর কুইক-এন-ইজি নামের একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরে গুলিতে নিহত হন ২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি অভিবাসী মোহাম্মদ জাকির হাসান। ওই হত্যাকাণ্ডে রব্বানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরের বছর হ্যারিস কাউন্টির একটি জুরি তাঁকে ক্যাপিটাল মার্ডারে দোষী সাব্যস্ত করে এবং মৃত্যুদণ্ড দেয়। তখন রব্বানীর বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর। ১৯৯২ সালে টেক্সাস কোর্ট অব ক্রিমিনাল আপিলস তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল রাখে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখও একপর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই। রব্বানীর আইনজীবীরা তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সাংবিধানিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কয়েক মাসের মধ্যেই মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য মানসিকভাবে অযোগ্য বলে মত দেন। কিন্তু তাঁর আইনি আবেদন দীর্ঘ সময় নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে। প্রায় ২৮ বছর পর ২০২২ সালে সেই আবেদন আবার আদালতের সামনে আসে। তত দিনে রব্বানীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি হয়েছে। তিনি ছানি পড়ে প্রায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। ২০২২ সালে স্ট্রোকের পর তাঁর চলাফেরা ও যোগাযোগের সক্ষমতাও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতির পাশাপাশি গুরুতর মানসিক অসুস্থতার কথাও আদালতের নথি ও পরবর্তী প্রতিবেদনে উঠে আসে। অবশেষে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে টেক্সাসের সর্বোচ্চ ফৌজদারি আপিল আদালত রব্বানীর মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে। তবে হত্যার ঘটনায় তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল থাকে। অর্থাৎ তিনি খালাস পাননি, কেবল মৃত্যুদণ্ডের সাজা বাতিল হয়েছে। পরে তাঁর সাজা প্যারোলের সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিবর্তন করা হয়। দীর্ঘ কারাবাসের মধ্যে পরিবারের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ১৯৯৫ সালে বাবার মৃত্যুর পর বাংলাদেশের স্বজনদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রায় তিন দশক পর ২০২৩ সালে তাঁর ছোট ভাই সৈয়দ ফাসাইনি ইন্টারনেটে বড় ভাইয়ের খোঁজ করতে গিয়ে তাঁর মামলার সংবাদ খুঁজে পান। তখনই পরিবার জানতে পারে, রব্বানী এখনও জীবিত এবং টেক্সাসের কারাগারে আছেন। এরপর বাংলাদেশ থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে রব্বানীকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। তাঁর ভাই বিচারকের কাছে চিঠি লিখে জানান, মুক্তি পেলে পরিবার তাঁকে গ্রহণ করবে এবং তাঁর দেখাশোনা করবে। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, জীবনের শেষ সময়টা অন্তত স্বজনদের সঙ্গে কাটাতে পারবেন রব্বানী। কিন্তু সেই প্রত্যাশাও পূরণ হয়নি। ২০২৬ সালের জুনে হিউস্টন ক্রনিকল জানায়, রব্বানীর প্যারোল আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাঁর আইনজীবী বেঞ্জামিন উলফের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে চিকিৎসাজনিত মুক্তির সুযোগও তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বর্তমানে তিনি ডিকিনসনের ক্যারল ইয়াং ইউনিটে হসপিস সেবা নিচ্ছেন। রব্বানীর মামলা টেক্সাসের দীর্ঘদিনের কারাবন্দিদের মধ্যে মানসিক সক্ষমতা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইনি মানদণ্ড নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর একটি উদাহরণ হয়ে আছে। একই সময়ে হ্যারিস কাউন্টির আরও কয়েকজন দীর্ঘদিনের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজাও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে পুনর্বিবেচনার মুখে পড়েছে। মৃত্যুদণ্ডের রায় আর তাঁর মাথার ওপর নেই। কিন্তু কারাগারের দরজাও খোলেনি। তরুণ বয়সে যে মানুষটি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, তাঁর জীবনের তিন দশকেরও বেশি সময় কেটে গেছে কারাগারের ভেতর। এখন শারীরিকভাবে ভেঙে পড়া সেই মানুষটির সামনে মুক্ত জীবনের চেয়ে কারাগারেই জীবনের শেষ অধ্যায় কাটানোর সম্ভাবনাই বেশি।
হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্র্যাড পিটের ১৮ বছর বয়সী মেয়ে ভিভিয়েন মারশেলিন জোলি-পিট তাঁর আইনি নাম থেকে বাবার পদবি ‘পিট’ বাদ দিতে আদালতে আবেদন করেছেন। জুলাইয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টে করা আবেদনে তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘ভিভিয়েন মারশেলিন জোলি’ করার অনুরোধ জানান। আবেদনে নাম পরিবর্তনের কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত’ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। ভিভিয়েন ২০২৬ সালের ১২ জুলাই ১৮ বছরে পা দেওয়ার আট দিন পর, ১৭ জুলাই নাম পরিবর্তনের আবেদন করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, নাম পরিবর্তনের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁর আবেদন লস অ্যাঞ্জেলেস ডেইলি জার্নালে নির্ধারিত কয়েকটি তারিখে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে শুনানি আগামী ২ নভেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে। ভিভিয়েনের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন জোলি ও পিটের সন্তানদের কয়েকজনের নাম থেকে ‘পিট’ পদবি বাদ দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁদের মেয়ে শিলোহ ২০২৪ সালে আইনিভাবে নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘শিলোহ জোলি’ করেছেন। অন্যদিকে বড় মেয়ে জাহারা এবং ছেলে ম্যাডক্সও নিজেদের নাম থেকে ‘পিট’ বাদ দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়েছেন। ভিভিয়েন এর আগেও জনসমক্ষে ‘জোলি’ নাম ব্যবহার করেছেন। ২০২৪ সালে ব্রডওয়ের ‘দ্য আউটসাইডার্স’ নাটকের প্রযোজনায় কাজ করার সময় তাঁকে প্রকাশিত তালিকায় ‘ভিভিয়েন জোলি’ নামে উল্লেখ করা হয়েছিল। নাটকটির প্রযোজনায় তিনি মায়ের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্র্যাড পিট ২০১৪ সালে বিয়ে করেন এবং ২০১৬ সালে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। তাঁদের ছয় সন্তান রয়েছে, যাদের মধ্যে ভিভিয়েন ও তাঁর যমজ ভাই নক্স সবচেয়ে ছোট।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী আল-একরাম এলাহী হৃদয় যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে যুক্ত হয়েছেন মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সএআইয়ে। সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে তিনি বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে কর্মরত। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন থেকে হৃদয় স্পেসএক্সএআইয়ের সঙ্গে কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সফটওয়্যার উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি উন্নত কোডিং মডেল এবং জ্ঞানভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি তৈরির মতো ভবিষ্যৎমুখী প্রকল্পে কাজ করছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনার মাধ্যমে তাঁর একাডেমিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে প্রযুক্তি খাতে পেশাজীবন গড়ে তোলেন তিনি। এরপর মহাকাশ প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পান। স্পেসএক্সএআইয়ের মাধ্যমে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, কোডিং মডেল এবং জ্ঞানভিত্তিক এআই ব্যবস্থা তৈরিতে কাজ করা হচ্ছে। এই খাতে হৃদয়ের সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনে তাঁর পেশাগত অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থীর বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তি খাতে কাজ করার এই সুযোগ দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করেও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনাও তাঁর পথচলায় ফুটে উঠেছে।
শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে টিকটক ও এর মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের সঙ্গে ৪০ কোটি ডলারে সমঝোতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। শুক্রবার, ২১ আগস্ট ঘোষণা করা এই সমঝোতাটি শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সংক্রান্ত মামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সবচেয়ে বড় আর্থিক পুনরুদ্ধারগুলোর একটি। মামলাটি শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে। মার্কিন বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছিল, টিকটক শিশু ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাবা-মায়ের প্রয়োজনীয় সম্মতি নেয়নি। অভিযোগে শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ বা কপ্পা আইন লঙ্ঘনের কথা বলা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, টিকটক ৩০ কোটি ডলার তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করবে। আরও ১০ কোটি ডলার দিতে হবে আগের একটি আদালতের সম্মত আদেশ বাতিলের নির্দেশ জারি হওয়ার পর। এই অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে মামলাটির নিষ্পত্তি হবে। তবে বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগগুলো কেবল অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে। আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ টিকটককে এসব অভিযোগের জন্য আইনগতভাবে দায়ী বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। মার্কিন বিচার বিভাগের সহযোগী অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি ই. উডওয়ার্ড জুনিয়র বলেন, শিশুদের অনলাইনে সুরক্ষিত রাখা এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলে, সেটিই বিভাগের অগ্রাধিকার। তার মতে, এই সমঝোতার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ উদ্ধার করার পাশাপাশি পরিবারগুলো যে ধরনের সুরক্ষা আশা করে, সেটিও জোরদার করা হয়েছে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে মামলা করার পর টিকটকের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা, আইন মেনে চলার কাঠামো এবং গোপনীয়তা নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা উন্নত এবং অভিভাবকদের নজরদারি বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। টিকটকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ। যুক্তরাষ্ট্রের কপ্পা আইনে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার বা প্রকাশের আগে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং অভিভাবকের সম্মতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৯ সালেও টিকটকের পূর্বসূরি মিউজিক্যালি-র বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে মার্কিন সরকার মামলা করেছিল এবং আদালতের আদেশে প্রতিষ্ঠানটিকে কিছু নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নতুন সমঝোতার বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন টিকটককে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে আলাদা বিতর্কও চলছে। তবে এই ৪০ কোটি ডলারের সমঝোতাটি মূলত শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। এদিকে, সমঝোতার অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে বিচার বিভাগ শুক্রবারের ঘোষণায় নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা জানায়নি। তবে এবিসি নিউজের মে মাসের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এই ৪০ কোটি ডলার ওয়াশিংটন ডিসির সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। ওই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো জানিয়েছিল, অর্থের একটি অংশ বা পুরো অর্থ স্বরাষ্ট্র বিভাগ, বাণিজ্য বিভাগ অথবা উভয় বিভাগের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওয়াশিংটন ডিসি সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে ব্যবহার করা হতে পারে। এর মধ্যে আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রির কাছে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২৫০ ফুট উচ্চতার ‘ট্রায়াম্ফাল আর্চ’ নির্মাণের প্রকল্পও রয়েছে বলে মে মাসে এবিসি নিউজ জানিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি যে সমঝোতা থেকে পাওয়া অর্থ ওই প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। ফলে টিকটকের কাছ থেকে পাওয়া ৪০ কোটি ডলার ঠিক কোন খাতে ব্যবহার করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। টিকটক শুক্রবারের সমঝোতা ঘোষণার পরপরই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি বলে এবিসি নিউজ জানিয়েছে। সব মিলিয়ে, শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি বড় অধ্যায়ের অবসান হলো এই সমঝোতার মাধ্যমে। একদিকে টিকটককে বিপুল অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির শিশু ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষায় নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে কোনো চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ হয়নি, এটিও আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
গাজায় পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শুরু করা ফৌজদারি তদন্তে আস্থা নেই তার মা ওয়েসাম হামাদার। তার আশঙ্কা, এই তদন্ত প্রকৃত সত্য উদঘাটনের বদলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা হয়ে উঠতে পারে। এ সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালানোর ঘটনায় সামরিক পুলিশের মাধ্যমে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হবে। এর আগে ওই এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা উপস্থিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল আইডিএফ। শুক্রবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিন্দের মা ওয়েসাম হামাদা বলেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ, সরকার কিংবা দেশটির বিচারব্যবস্থার ওপর তার কোনো আস্থা নেই। তিনি এমন কোনো তদন্ত চান না, যার উদ্দেশ্য হবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দায় এড়িয়ে তাদের ভাবমূর্তি রক্ষা করা। হামাদা বলেন, তার দাবি করা তদন্ত কোনো ‘বন্ধ সামরিক তদন্ত’ হওয়া উচিত নয়। তিনি চান স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং যারা দায়ী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক। তার ভাষায়, হিন্দ শুধু একটি সংবাদঘটনা নয়, সে তার সন্তান। হিন্দ রাজাবের হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে। গাজা সিটিতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি গাড়িতে ছিল পাঁচ বছর বয়সী হিন্দ। গাড়িটিতে থাকা অন্য কয়েকজন স্বজন নিহত হওয়ার পরও হিন্দ কিছু সময় জীবিত ছিল। পরে সে জরুরি সেবাকর্মীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে সাহায্যের জন্য আকুতি জানায়। সেই ফোনালাপের রেকর্ডিং পরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দকে উদ্ধারের জন্য ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যাওয়ার পর উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১২ দিন পর হিন্দ, তার পরিবারের সদস্য এবং তাকে উদ্ধারে যাওয়া দুই প্যারামেডিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রথমে ওই এলাকায় তাদের কোনো সেনা উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনুসন্ধান ও প্রমাণে ঘটনাস্থলের আশপাশে ইসরায়েলি সামরিক যান ও সেনাদের অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সামনে আসে। চলতি সপ্তাহে আইডিএফ প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে তাদের সেনারা হিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল। আইডিএফের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কথিত ব্যর্থতার বিষয়টি পর্যালোচনার পর ফৌজদারি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তটি সামরিক পুলিশ পরিচালনা করবে। এই তদন্তকে হিন্দের পরিবারের পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মীরাও যথেষ্ট মনে করছেন না। তাদের প্রশ্ন, দুই বছরেরও বেশি সময় পর ইসরায়েলি বাহিনী কেন নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে তদন্ত শুরু করল এবং এই তদন্ত আদৌ স্বাধীনভাবে দায় নির্ধারণ করতে পারবে কি না। হিন্দের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দীর্ঘদিন ধরে জবাবদিহির দাবি উঠেছে। তার মৃত্যুর আগে জরুরি সেবাকর্মীদের কাছে করা ফোনকলের রেকর্ডিং ঘটনাটিকে গাজা যুদ্ধের অন্যতম আলোচিত বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিণত করে। ঘটনাটি নিয়ে পরে নির্মিত ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ চলচ্চিত্রটিও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক মনোযোগ পায় এবং অস্কারের মনোনয়ন লাভ করে। আইডিএফ একই সময়ে গাজায় আরও একটি বহুল আলোচিত ঘটনায় ফৌজদারি তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে রাফাহ এলাকায় ১৫ ফিলিস্তিনি প্যারামেডিক নিহত হওয়ার ঘটনাটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তবে গাজায় ত্রাণকর্মীদের নিহত হওয়ার আরও কয়েকটি ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। হিন্দের মায়ের দাবি, তার পরিবারের জন্য শুধু একটি অভ্যন্তরীণ সামরিক তদন্ত যথেষ্ট নয়। তিনি এমন একটি প্রক্রিয়া চান, যেখানে তদন্তকারীরা স্বাধীনভাবে প্রমাণ পর্যালোচনা করবেন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন আইডিএফের সামরিক পুলিশের তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং এর ভিত্তিতে কোনো সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হিন্দের পরিবার অবশ্য শুরু থেকেই বলে আসছে, তারা শুধু তদন্তের ঘোষণা নয়, ঘটনার পূর্ণ সত্য ও দায়ীদের জবাবদিহি দেখতে চায়।
টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজুর জন্য থাকা সুবিধা নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্ত চেয়েছেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। শুক্রবার, ২১ আগস্ট, দুই সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দরের এসব সুবিধাকে ধর্মীয় বৈষম্যমূলক বলে দাবি করে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। অ্যাবটের অভিযোগ, বিমানবন্দর দুটির ওজু সুবিধা একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। তার ভাষ্য, সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দর কোনো একটি ধর্মকে অন্য ধর্মের তুলনায় অগ্রাধিকার দিতে পারে না। তিনি মার্কিন বিচার বিভাগকে বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওজু বা ইসলামী ধর্মীয় পবিত্রতার জন্য পানি দিয়ে হাত, মুখ ও পা ধোয়ার ব্যবস্থা। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে আগে থেকেই দুটি ওজু স্টেশন চালু রয়েছে। নতুন করে আরও কয়েকটি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সেই পরিকল্পনা বাতিল করে। অন্যদিকে, হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরের টার্মিনাল ডিতে ২০২৪ সাল থেকে একটি ওজু কক্ষ এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত নামাজের কক্ষ চালু রয়েছে। হিউস্টন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব সুবিধা শুধু মুসলিমদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। টার্মিনাল ডিতে প্রবেশাধিকার থাকা সব ধর্মের যাত্রী, কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। হিউস্টনের মেয়র জন হুইটমায়ারও অ্যাবটের অভিযোগের জবাবে বলেছেন, বিমানবন্দরের এই সুবিধা নির্মাণে নগরীর করদাতাদের অর্থ, রাজ্য অনুদান কিংবা ফেডারেল অনুদান ব্যবহার করা হয়নি। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর কাছ থেকে নেওয়া ফি দিয়ে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ কর্মসূচির আওতায় এটি তৈরি করা হয়েছে। অ্যাবট এর আগে বিমানবন্দর দুটির এসব ধর্মীয় সুবিধা নিয়ে রাজ্য অনুদান পর্যালোচনার ঘোষণা দেন এবং মার্কিন পরিবহন বিভাগ ও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে তদন্তের অনুরোধ জানান। তার ওই পদক্ষেপের পর ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দর অতিরিক্ত ওজু সুবিধা স্থাপনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। এবার বিষয়টি মার্কিন বিচার বিভাগের কাছে পাঠানোয় বিতর্কটি ফেডারেল পর্যায়ে গড়াল। বিচার বিভাগ অভিযোগটি কীভাবে পর্যালোচনা করবে এবং বিমানবন্দর দুটির বিদ্যমান ওজু সুবিধা নিয়ে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। আজ শুক্রবার, ২১ আগস্ট, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতের বিচারক জেনেট এ. ভার্গাস সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে রায় দেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরের ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করা হয়েছে। মামলাটি কয়েকটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন, অভিবাসী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষ থেকে করা হয়। মামলায় পররাষ্ট্র দপ্তরের ১৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর ঘোষণা এবং পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নীতির আওতায় বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়। আবেদনকারীরা আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকার দিতে পারলেও ভিসা ইস্যু করা বন্ধ রাখা হয়েছিল। মার্কিন সরকারের যুক্তি ছিল, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশও ওই ৭৫ দেশের তালিকায় রয়েছে। শুক্রবারের রায়ে বিচারক ভার্গাস পররাষ্ট্র দপ্তরের এই সামগ্রিক নীতিকে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ঘোষণা করেন। আদালতের সিদ্ধান্তের মূল বিষয় হলো, শুধু কোনো দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে একজন আবেদনকারীর অভিবাসী ভিসা আটকে রাখা যাবে না। আইনের অধীনে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি পৃথকভাবে মূল্যায়নের যে প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটি অনুসরণ করতে হবে। আদালত প্রশাসনিক কার্যপ্রণালি আইনের অধীনে পুরো নীতিটি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার মূল নীতির ওপরই সরাসরি প্রভাব পড়েছে। মামলায় বাদীপক্ষের অন্যতম প্রধান যুক্তি ছিল, কংগ্রেসের তৈরি অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন কনস্যুলার কর্মকর্তাদের পৃথকভাবে ভিসা আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু ৭৫ দেশের জন্য জারি করা নীতিতে কর্মকর্তাদের সেই ব্যক্তিগত মূল্যায়নের সুযোগ কার্যত সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল। আদালত সরকারের এই পদ্ধতিকে আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করার বিষয় হিসেবে দেখেছেন। এর আগে একই নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে অন্য ফেডারেল আদালতেও মামলা হয়। ৩১ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক অ্যামিট পি. মেহতা ব্রাজিলের নাগরিক নিউটন দে মোরাউ গোমেস ও তার পরিবারের মামলায় পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। তবে সেই রায়ে মূলত ওই পরিবারের আবেদন ব্যক্তিগতভাবে পুনরায় মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৭৫ দেশের পুরো নীতি বাতিল করা হয়নি। আজকের নিউইয়র্কের রায়টি সে কারণে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। এটি শুধু একজন বা একটি পরিবারের ভিসা আবেদন নিয়ে নয়, বরং ৭৫ দেশের নাগরিকদের ওপর প্রয়োগ করা পুরো ভিসা স্থগিত নীতির বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে এবং নীতিটি বাতিল করার আদেশ দিয়েছে। বাংলাদেশি অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এই রায়ের গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি। জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত থাকায় অনেক পরিবার, স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তান এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। তবে আদালতের রায়কে এমন অর্থে নেওয়া ঠিক হবে না যে আজই প্রত্যেক বাংলাদেশি আবেদনকারীর হাতে ভিসা চলে আসবে। নীতি বাতিল হলেও প্রত্যেক আবেদনকারীর ভিসা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কোনো আবেদনকারীর অন্য কোনো আইনগত অযোগ্যতা থাকলে সেটিও কর্মকর্তারা পৃথকভাবে বিবেচনা করতে পারবেন। এ ছাড়া মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ফলে রায়ের পর ভিসা প্রক্রিয়া বাস্তবে কীভাবে এগোবে, আগে স্থগিত বা প্রত্যাখ্যাত আবেদনগুলো কীভাবে পুনরায় বিবেচনা করা হবে এবং দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো কখন স্বাভাবিকভাবে ভিসা ইস্যু শুরু করবে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য তাই শুক্রবারের রায়টি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হলেও, সব আবেদনকারীর ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে ইস্যু হবে এমন নিশ্চয়তা এখনো তৈরি হয়নি। পরবর্তী আদালতের কার্যক্রম এবং মার্কিন সরকারের পদক্ষেপের ওপর এর বাস্তব প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে।
১৬ বছর বয়সেও পড়তে ও লিখতে জানতেন না তিনি। ছোটবেলায় ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলে রাবার গাছ থেকে কষ সংগ্রহ করে পরিবারের জীবিকা চালাতে সাহায্য করতেন। সেই মেয়েটিই পরবর্তী সময়ে ব্রাজিলের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন এবং আমাজন বন রক্ষার আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত নেতা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। তিনি মারিনা সিলভা। ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য আকরের একটি রাবার সংগ্রহকারী পরিবারে জন্ম মারিনার। ১১ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। শৈশব কেটেছে আমাজনের বনাঞ্চলের কাছাকাছি অত্যন্ত সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনিও রাবার গাছ থেকে কষ সংগ্রহের কাজে যুক্ত ছিলেন। শৈশবেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। ১৫ বছর বয়সে মাকে হারান মারিনা। এর আগেও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য মারা গিয়েছিলেন। শৈশবে নিজেও একাধিকবার ম্যালেরিয়া ও হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেছেন। ১৬ বছর বয়সে হেপাটাইটিসের চিকিৎসার জন্য আকরের রাজধানী রিও ব্রাঙ্কোয় যান তিনি। সেখানেই জীবনের বড় একটি পরিবর্তন আসে। চিকিৎসার পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিচালিত একটি সাক্ষরতা কর্মসূচিতে ভর্তি হয়ে প্রথমবারের মতো পড়তে ও লিখতে শেখেন মারিনা। অর্থাৎ যে বয়সে অধিকাংশ শিশু-কিশোর বিদ্যালয়ের পড়াশোনা অনেকটা এগিয়ে নেয়, সেই বয়সেই তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়। রিও ব্রাঙ্কোয় গিয়ে জীবিকার জন্য গৃহকর্মীর কাজও করেন তিনি। পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যান। পরে ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অব আকরে ইতিহাস বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনের এই যাত্রাই তাকে ধীরে ধীরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে নিয়ে যায়। আমাজনের বন রক্ষার আন্দোলনে মারিনার যুক্ত হওয়া ছিল তার জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রাবার সংগ্রহকারী নেতা ও পরিবেশকর্মী চিকো মেন্ডেসের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বন উজাড়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৮০-এর দশকে আকরে বন উজাড় ও বনভূমি থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মারিনা ও মেন্ডেস। রাজনীতিতে তার উত্থানও ছিল দ্রুত। রিও ব্রাঙ্কোর স্থানীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা এবং পরে জাতীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নেন তিনি। ১৯৯৫ সালে আকরের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তী সময়ে ব্রাজিলের পরিবেশমন্ত্রীও হন। ২০০৩ সালে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রথম মেয়াদে পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন মারিনা। তার দায়িত্বকালে আমাজনে বন উজাড় কমানোর জন্য নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা হয়। বিশেষ করে উপগ্রহের মাধ্যমে বন উজাড় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা পরিবেশ সুরক্ষার নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। মারিনার মন্ত্রীত্বের সময় ব্রাজিলের আমাজনে বন উজাড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক হিসাব অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বন উজাড়ের হার প্রায় ৫৯ শতাংশ কমেছিল। এই সময়কার নীতির মধ্যে বন উজাড় প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সমন্বিত সরকারি কর্মপরিকল্পনা, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমাজনের বন রক্ষায় উপগ্রহভিত্তিক নজরদারি ছিল এই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোথায় বন উজাড় হচ্ছে, কোন এলাকায় তা ঘটছে এবং কোথায় দ্রুত আইন প্রয়োগ প্রয়োজন, এসব শনাক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইনপে বর্তমানে ডিইটিইআর ও প্রোদেসের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাজনের বন উজাড় পর্যবেক্ষণ করে। তবে মারিনা সিলভার পরিবেশনীতি শুধু বন রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, টেকসই অর্থনীতি এবং বন সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির প্রয়োজনীয়তা। ব্রাজিলের সরকারও পরবর্তী সময়ে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাজনে বন উজাড় শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। লুলার সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদেও মারিনা আবার পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০২৩ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে আমাজনে বন উজাড় কমানোর প্রবণতা আবারও দেখা গেছে। ব্রাজিলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আমাজনে বন উজাড় আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ কমেছিল। পরবর্তী সময়েও এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল। মারিনার জীবনের গল্প তাই শুধু একজন রাজনীতিকের উত্থানের গল্প নয়। এটি ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের প্রান্তিক একটি পরিবারের মেয়ের শিক্ষা অর্জন, সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়া এবং পরে জাতীয় পর্যায়ের পরিবেশনীতি প্রভাবিত করার দীর্ঘ যাত্রার গল্প। একসময় যে মেয়েকে ১৬ বছর বয়সে নতুন করে পড়তে ও লিখতে শিখতে হয়েছিল, তিনিই পরে ব্রাজিলের সবচেয়ে পরিচিত পরিবেশবাদী রাজনীতিকদের একজন হয়ে ওঠেন। আমাজনের বন রক্ষার আন্দোলনে তার দীর্ঘ ভূমিকার জন্য ১৯৯৬ সালে তিনি গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজও পান। ২০২৬ সালে মারিনা আবারও নির্বাচনী রাজনীতির দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। মে মাসের এক সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম বান্দনিউজ জানিয়েছিল, তিনি সাও পাওলো থেকে সিনেট নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সে সময় তিনি অর্থনীতি ও পরিবেশকে আলাদা করে দেখার পরিবর্তে দুটিকে একসঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। মারিনার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই। শুরুটা যেখানে ছিল দারিদ্র্য, অসুস্থতা ও শিক্ষার সুযোগের অভাব দিয়ে, সেখান থেকে তিনি ধীরে ধীরে উঠে এসে ব্রাজিলের পরিবেশনীতি ও আমাজন সংরক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখে পরিণত হয়েছেন। তার জীবনের পথ দেখায়, দেরিতে শুরু করলেও সঠিক সময়ে নিজের জায়গা তৈরি করা সম্ভব।
ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোরের স্কুল অব ফার্মেসির শিক্ষক ড. বেরহানু কিবরেট এখনো ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর হেফাজতে রয়েছেন। ইমিগ্রেশন জজ তার বন্ডে মুক্তির আবেদন নাকচ করায় ইমিগ্রেশন মামলা চলাকালে তাকে হেফাজতেই থাকতে হবে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তাকে ওকলাহোমার ডায়মন্ডব্যাক ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে রাখা হয়েছে। কিবরেটকে গত ২১ জুলাই ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইসিই আটক করে। তিনি একটি পেশাগত সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর মেরিল্যান্ডে ফিরছিলেন। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড জানিয়েছে, ওই সম্মেলনে তিনি ‘টিচার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন। ড. কিবরেট ২০২৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোরের স্কুল অব ফার্মেসিতে যোগ দেন। এর আগে তিনি উইলিয়াম প্যাটারসন ইউনিভার্সিটিতে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় তাকে একজন মূল্যবান শিক্ষক ও সহকর্মী হিসেবে বর্ণনা করেছে। তার ইমিগ্রেশন অবস্থান নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, কিবরেট ২০২১ সালের জুনে একটি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং ওই ভিসার মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩১ মে শেষ হওয়ার পরও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। তার বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড জানিয়েছে, কিবরেটের বৈধ ওয়ার্ক অথরাইজেশন ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় তার হেফাজত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বন্ডের শুনানিতে কিবরেটের আইনজীবী তাকে ইমিগ্রেশন মামলা চলাকালে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেন। তবে বিচারক সেই আবেদন নাকচ করেছেন। ফলে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলার সময় তিনি হেফাজতেই থাকবেন। বন্ড নাকচ হওয়া মানেই কিবরেট তার ইমিগ্রেশন মামলা হেরে গেছেন, এমন নয়। এর অর্থ হলো, মামলার বর্তমান পর্যায়ে আদালত তাকে হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে আটক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার ইমিগ্রেশন মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের স্কুল অব ফার্মেসির ডিন ড. সারাহ এল. জে. মিশেল বলেন, কিবরেটের বন্ড আবেদন নাকচ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় হতাশ এবং তার কল্যাণ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে তার হেফাজতের কারণে আসন্ন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়ন করছে। কিবরেটের মামলা এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তার হেফাজত অব্যাহত থাকবে কি না এবং শেষ পর্যন্ত তার ইমিগ্রেশন মামলার কী পরিণতি হবে, তা পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করার ইচ্ছা কখনোই গোপন রাখেননি। নিজের প্রথম মেয়াদে তিনবার কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে এখনো পর্যন্ত তাদের সরাসরি দেখা হয়নি। ট্রাম্প দাবি করছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই বহুল কাঙ্ক্ষিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন সম্ভবত ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে একমত নন। দুই নেতার মধ্যে আলোচনার জন্য ট্রাম্পের এই আগ্রহে সাড়া দেওয়ার পরিবর্তে পিয়ংইয়ং উল্টো নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা দক্ষিণ কোরিয়া—কারো সঙ্গেই তারা আলোচনায় বসবে না। অথচ দক্ষিণ কোরিয়া গত কয়েক মাস ধরেই তার এই যুদ্ধংদেহী উত্তরের প্রতিবেশীর সঙ্গে যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও কিমকে আলোচনার টেবিলে বসাতে পারছে না। গত বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তার সঙ্গে কিমের কথা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবি দ্রুতই উড়িয়ে দিয়েছেন কিমের বোন এবং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি বলেছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ভাইয়ের 'চমৎকার সম্পর্ক' রয়েছে, তবে দুই নেতার মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগের কথা তিনি নিশ্চিত করেননি। তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।" এদিকে, গত রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প হঠাৎ করেই তা সীমিত করার ঘোষণা দেন। তারপরও উত্তর কোরিয়ার মনোভাবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। পিয়ংইয়ং বরাবরই এসব মহড়ার তীব্র সমালোচনা করে আসছে এবং এগুলোকে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। বার্ষিক এই যৌথ মহড়ার বিষয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, এটি উত্তর কোরিয়ার প্রতি "একটি সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও বৈরী বার্তা দেয়।" তার এই মন্তব্যকে অনেকেই পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন। যদিও ট্রাম্প একই সঙ্গে এই মহড়া কমানোকে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এক ধরনের শাস্তি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে সিউল জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। 'উলচি ফ্রিডম শিল্ড' নামের এই সামরিক মহড়াটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই, আগামী শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কিম ইয়ো জং এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, "মার্কিন পক্ষ যদি তাদের এই পদক্ষেপগুলোকে কোনো ধরনের 'সদিচ্ছার নিদর্শন' হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করে, তবে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত উত্তর পাবে না।" গত জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করে আসছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি সীমান্তের ওপারে লাউডস্পিকারে বাজানো প্রোপাগান্ডা সম্প্রচার বন্ধ করে দেন। লি দ্রুত "অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনার দুষ্টচক্র" শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে গত মে মাসে পিয়ংইয়ং আনুষ্ঠানিকভাবে সিউলের সঙ্গে পুনরেকত্রীকরণের কয়েক দশকের পুরনো লক্ষ্য থেকে সরে আসে। এরও প্রায় দেড় বছর আগে তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজেদের "প্রধান শত্রু" হিসেবে ঘোষণা করেছিল।\ প্রযুক্তিগতভাবে কোরীয় উপদ্বীপের দেশ দুটি এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের অবসানের পর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কেবল লড়াই থেমেছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ-এর বরাত দিয়ে গত শুক্রবার দেশটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থামানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনাই হলো সবচেয়ে "বাস্তবসম্মত" উপায়। ওই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, "আন্তঃকোরীয় বিনিময় বর্তমানে পুরোপুরি থমকে আছে।" কিম জং উন কেন ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় অনাগ্রহী, তার পেছনের কারণও বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ট্রাম্প কিম সম্পর্কে বলেছিলেন, "আমার মনে হয় সে আমাকে মিস করে।" তিনি উত্তর কোরিয়ার এই নেতাকে একজন "স্মার্ট লোক" এবং "ধর্মীয় উন্মাদ নয়" বলেও আখ্যায়িত করেছিলেন। তবে গত বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বেশ কিছু পদক্ষেপে উত্তর কোরিয়া ক্ষুব্ধ হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উত্তর কোরিয়াকে একটি "দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র" (রোগ স্টেট) বলে আখ্যায়িত করলে পিয়ংইয়ং এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা এই মন্তব্যকে "অমার্জিত ও অযৌক্তিক" উল্লেখ করে বলে যে, এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে অবিবেচকের মতো ক্ষুণ্ন করেছে। এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের 'গোল্ডেন ডোম' বা পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঢাল নির্মাণের পরিকল্পনারও সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র হামলাসহ সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯ সালে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনের স্মৃতি এখনো কিমের মনে গেঁথে আছে। সেবার মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্রাগার নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় ট্রাম্প হঠাৎ করেই আলোচনা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, "মাঝে মাঝে আপনাকে আলোচনা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়।" উত্তর কোরিয়া এখন নিজেদের একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করতে চায় এবং তারা কখনোই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে রাজি হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সহায়তায় ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পর থেকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেছেন, সিউলের মূল্যায়ন অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এই সংখ্যাটি আগের দিন ট্রাম্পের দাবি করা ৫৭টির চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের শুরুতে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছিলেন যে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে প্রায় ৬০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় কম খরচে খাবার কিনতে অনেক পরিবার ডলার স্টোরের ওপর নির্ভর করছে। তবে এসব দোকানে পাওয়া খাবারের মানের সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডের গবেষকদের এই গবেষণা ‘বিএমসি পাবলিক হেলথ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ডলার স্টোরের খাবারের সঙ্গে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার বেশি হারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণার প্রথম লেখক রায়ান ব্রুয়েলম্যান বলেন, গ্রোসারি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ তুলনামূলক কম দামের এবং বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গবেষকেরা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ‘ফাইভ হান্ড্রেড সিটিজ প্রজেক্ট’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি আবাসিক এলাকার কাছাকাছি কতগুলো ডলার স্টোর রয়েছে, সেটিও হিসাব করা হয়। কোনো আবাসিক এলাকা থেকে ১০ মিনিটের গাড়ি চালানোর দূরত্বের মধ্যে থাকা ডলার স্টোরের সংখ্যাও বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ডলার স্টোরের উপস্থিতির সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় প্রচলিত গ্রোসারি স্টোরের তুলনায় ডলার স্টোরের সংখ্যা বেশি, সেখানে এই সম্পর্ক আরও স্পষ্ট ছিল। তবে গবেষকেরা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। এই গবেষণা ডলার স্টোরের খাবার সরাসরি স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের কারণ প্রমাণ করেনি। বরং ডলার স্টোরের উপস্থিতি এবং এসব স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে একটি সম্পর্ক বা যোগসূত্র পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, সমস্যার সমাধান শুধু ডলার স্টোরের সংখ্যা কমানো নয়। বরং এসব দোকানেই তাজা ফলমূল, শাকসবজি এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সরবরাহ বাড়ানো যেতে পারে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব, কৃষকের বাজার এবং খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের সুযোগ বাড়ানোর মতো উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কিছু এলাকায় ছোট স্থানীয় মুদি দোকান রয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প পাওয়া যায়। এসব দোকানের প্রভাব গবেষণার তথ্যের মধ্যে পুরোপুরি ধরা পড়েনি। ফলে স্থানীয় ছোট দোকানগুলোর উপস্থিতি ডলার স্টোরের খাবারের ওপর নির্ভরতার প্রভাব কিছুটা কমিয়ে থাকতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। খাদ্যবিজ্ঞানী ও নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ ড. শাই বিষ্ণুমোহন বলেন, মানুষ সাধারণত তাদের বাজেট, সময় এবং আশপাশে থাকা দোকানের সুযোগের ওপর ভিত্তি করে খাবার নির্বাচন করে। তাই সাশ্রয়ী খাবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবারও সহজলভ্য করা জরুরি। গবেষকদের আশা, এই গবেষণা নীতিনির্ধারকদের কম আয়ের ও তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যকর খাবারের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করবে। তাদের মতে, মানুষের নাগালের মধ্যে কম দামে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবারের চরম আর্থিক সংকটের সময় মা-বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ভিন্ন এক পেশা বেছে নিয়েছিলেন স্কাইলার মে। ২৩ বছর বয়সী এই তরুণী এখন একজন জনপ্রিয় 'অ্যাডাল্ট স্টার' বা প্রাপ্তবয়স্কদের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। বর্তমানে মাসে তার আয় ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) ডলারেরও বেশি। বিপুল এই আয়ের একটি বড় অংশ তিনি পরম যত্নে খরচ করছেন তার মা-বাবার জন্য। বিলাসবহুল উপহার, গাড়ি এবং নতুন ব্যবসার মূলধন দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি মাসে মা-বাবাকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হাতখরচ দিচ্ছেন তিনি। স্কাইলার জানিয়েছেন, তিনি বছরে তার মা-বাবাকে ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত নগদ অর্থ দিয়ে থাকেন। তবে এটি তাদের পেছনে করা খরচের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। বাবার নতুন সোলার ব্যবসার জন্য তিনি এককালীন ২ লাখ ডলার দিয়েছেন। পাশাপাশি মা-বাবার জন্য প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলার মূল্যের রোলেক্স ঘড়ি কিনেছেন এবং তাদের গাড়ির বকেয়া ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছেন। শুধু চলতি বছরেই মায়ের জন্য পাঁচটি ডিজাইনার পার্স কিনেছেন স্কাইলার। তিনি বলেন, “আমার মা-বাবা মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার ডলারের মতো হাতখরচ পান। তারা কখনোই আমার কাছে এসে টাকা চাননি। এটি স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছিল, কারণ আমি জানতাম স্বাস্থ্য বীমার বিল পরিশোধ করতে তাদের বেশ কষ্ট হচ্ছিল।” তিনি আরও বলেন, “তখন আমি ভাবলাম, ঠিক আছে, আমি প্রাপ্তবয়স্কদের কন্টেন্ট তৈরি শুরু করব এবং তাদের বীমার খরচ মেটাব। আমি তাদের বলেছিলাম চিন্তা করো না, আমি দেখছি। এরপর আস্তে আস্তে পরিস্থিতি এমন হলো যে আমি বললাম বাবা, আমি চাই না তোমাকে আর অফিসে যেতে হোক, তাই আমি প্রতি মাসে তোমাকে এই পরিমাণ টাকা দেব।” সাধারণ আমেরিকানদের চেয়ে চার গুণ বেশি মাসিক ভাতা পেলেও স্কাইলারের মা-বাবা কখনোই তার কাছে বিলাসবহুল জীবনযাপন বা কোনো কিছু কিনে দেওয়ার দাবি করেননি। স্কাইলার বলেন, “এখনও আমার মা-বাবা আমার কাছে কিছু প্রত্যাশা করেন না। তারা জানেন, যদি কখনও তাদের কিছুর প্রয়োজন হয়, আমি সেটা দেব। আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকলে আমি যে পেশাতেই থাকি না কেন, মা-বাবার যত্ন নিতাম।” বাবার জন্য স্কাইলার প্রায় ৮০ হাজার ডলার মূল্যের দুটি রোলেক্স ঘড়ি কিনেছিলেন। এতে তার মা কিছুটা মন খারাপ করায়, মায়ের জন্যও তিনি প্রায় ৩০ হাজার ডলারের একটি ঘড়ি কিনে দেন। স্কাইলার বলেন, “আমি এখন মায়ের জন্য একটি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছি। তাদের আগের সব গাড়ির ঋণও আমি শোধ করে দিয়েছি।” তবে স্কাইলারের সবচেয়ে বড় অনুদান হলো তার বাবার সোলার ব্যবসার জন্য দেওয়া ২ লাখ ডলার। তিনি চাইলে তার বাবাকে সম্পূর্ণ বসিয়ে খাওয়াতে পারতেন, কিন্তু স্কাইলার চাননি তার বাবা পুরোপুরি কাজ ছেড়ে দিন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় তার বাবাকে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হয়, যার ফলে মাঝে মাঝেই তিনি কয়েক দিন কাজ করতে পারেন না। কিন্তু স্কাইলার বিশ্বাস করেন, একটি ব্যবসা তার বাবাকে বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়। স্কাইলার বলেন, “আমার বাবা একজন অসাধারণ বিক্রয়কর্মী। তিনি চাইলে একজন এস্কিমোর কাছেও বরফ বিক্রি করতে পারেন! আমি চেষ্টা করি তিনি যেন কাজ চালিয়ে যান। কারণ আমার মনে হয়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার যদি কোনো কারণ না থাকে, তবে তিনি হয়তো মানসিকভাবে ভেঙে পড়বেন। তাই আমি তাকে সোলার ব্যবসা শুরু করতে সাহায্য করেছি। আমি চাই, তারা যখন সুস্থ বোধ করবেন কেবল তখনই কাজ করবেন, অসুস্থ শরীরে বাধ্য হয়ে নয়।” স্কাইলারের মা 'লুপাস' নামক জটিল রোগে ভুগছেন। এই রোগের কারণে তিনি এক সপ্তাহ সুস্থ বোধ করলেও পরের সপ্তাহে হয়তো বিছানা থেকেই উঠতে পারেন না। অন্যদিকে বাবার নিয়মিত কেমোথেরাপির কারণে তাকে প্রতি দুই সপ্তাহের মধ্যে চার-পাঁচ দিন অসুস্থ থাকতে হয়। অসুস্থ হওয়ার আগে স্কাইলারের মা-বাবা ছিলেন সফল উদ্যোক্তা। তাদের একাধিক ব্যবসা ছিল। স্কাইলার জানান, “তারা সবসময় আরামদায়ক জীবনযাপন করতেন। কিন্তু যখন তাদের শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেল, তারা আর কাজ করতে পারলেন না এবং তাদের ব্যবসাগুলো ধসে পড়ল। আমি যখন হাইস্কুলে পড়ি, তখন প্রায় চার বছর আমরা চরম আর্থিক কষ্টে ভুগেছি। সেই কষ্ট না দেখলে হয়তো আমি কখনোই এই পেশায় আসতাম না।” কৈশোরে মা-বাবার সেবা করার অভিজ্ঞতাই স্কাইলারকে দ্রুত পরিণত করেছে এবং পরিবারের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করেছে। তিনি বলেন, “আমি সবসময়ই তাদের যত্ন নিতাম। তারা অসুস্থ থাকলে আমি তাদের বিছানার পাশে বসে থাকতাম। ছোটবেলায় মা-বাবার দেখভাল করতে গিয়েই হয়তো আমি বয়সের চেয়ে বেশি পরিপক্ব হয়ে গেছি।” নিজের ক্যারিয়ারে এই অক্লান্ত পরিশ্রমের মানসিকতা তিনি তার মা-বাবার কাছ থেকেই শিখেছেন বলে জানান স্কাইলার। তিনি বলেন, “মা-বাবাকে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে দেখেই আমি পরিশ্রমী হয়েছি। তারা ভোরবেলা উঠে কাজ শুরু করতেন। ব্যবসা থাকলে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই কাজ করতে হয়। ছুটি বা জন্মদিনেও তারা কাজ করেছেন। তারাই আমাকে তৈরি করেছেন।” বর্তমানে মা-বাবাকে আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পারাই স্কাইলারের জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। তিনি বলেন, “আমার আসলে তাদের সাহায্য করার বাধ্যবাধকতা নেই, কিন্তু আমি নিজের ইচ্ছাতেই করি। আমাকে একটি সুন্দর জীবন দেওয়ার জন্য তারা অনেক কষ্ট করেছেন। এখন আমি শুধু তাদের সেই ঋণ একটু বড় পরিসরে শোধ করার চেষ্টা করছি।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৯ বছর বয়সী নাতনি কাই ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাকে এক ব্যক্তি বারবার বিরক্ত ও অনুসরণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন কাই। এ ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশ পেয়েছেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বড় মেয়ে কাইয়ের আবেদনের পর ২৬ বছর বয়সী গ্যাব্রিয়েল গারজা জুনিয়রের বিরুদ্ধে এই আদেশ জারি করা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম টিএমজেডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাইয়ের অভিযোগের পর এপ্রিল মাসে প্রথমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। পরে মে মাসে আদালত সেই আদেশ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত কার্যকর রাখে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, গারজা কাইয়ের বাসস্থান, কর্মস্থল বা তিনি যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়বেন তার ৫০০ ফুটের মধ্যে যেতে পারবেন না। কাই যেসব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন, সেখানেও তার উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে কাইকে অনুসরণ, অনলাইনে হয়রানি বা তার শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন কোনো অপরাধ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আদালতের আদেশে ওই ব্যক্তির আগ্নেয়াস্ত্র রাখার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কাইয়ের আবেদনের ভিত্তিতেই তার নিরাপত্তার জন্য এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কাই সম্প্রতি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেছেন। শরৎ মৌসুমে মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। নতুন শিক্ষাজীবন শুরুর আগে নিরাপত্তা নিয়ে এমন উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আদালতের এই আদেশ তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কাইয়ের জন্য এ ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের জুনেও তাকে ঘিরে একটি ঘটনা সামনে এসেছিল। ওই সময় টেক্সাসের ২৩ বছর বয়সী অ্যান্থনি রেয়েস ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো এলাকায় ট্রাম্প পরিবারের সম্পত্তির সীমানার দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এক মুখপাত্র সে সময় জানিয়েছিলেন, ওই ব্যক্তি নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করার পর অ্যালার্ম সক্রিয় হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রেয়েস পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ধর্মীয় বার্তা পৌঁছাতে এবং কাইকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। ট্রাম্প পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে কাই এর আগেও জনসমক্ষে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন। লোগান পলের ‘ইমপলসিভ’ পডকাস্টে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, একবার জনসমক্ষে একজন ব্যক্তি তার কাছে এসে তার দাদাকে অপছন্দ করার কথা জানিয়েছিলেন। কাই আরও বলেন, ট্রাম্প পরিবারের সদস্য হওয়ায় অনেকে তাকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনেও বিচার করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু পদবি দেখে কেউ তাকে মূল্যায়ন না করে ব্যক্তিগতভাবে জানার সুযোগ দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। এদিকে ট্রাম্প পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের মুখে পড়েছেন। ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকেও ২০২৬ সালে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ব্যারনকে খুঁজে বের করে হামলা করার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন এবং ৩ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রাম্প পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ গত কয়েক বছর ধরেই বাড়ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে দুটি হত্যাচেষ্টার পর তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়। মার-এ-লাগোসহ ট্রাম্প পরিবারের বিভিন্ন সম্পত্তিতে অনুপ্রবেশের ঘটনাও এর আগে ঘটেছে। কাই ট্রাম্প বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুখ। গলফ খেলোয়াড় হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। ২০২৪ সালের রিপাবলিকান জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি ব্যাপকভাবে আলোচিত হন। ফলে জনসমক্ষে তার উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে। সাম্প্রতিক আদালতের আদেশ অনুযায়ী, গ্যাব্রিয়েল গারজা জুনিয়রকে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত কাইয়ের কাছ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তবে আদালতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সব বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি। তাই অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে নয়, কাইয়ের করা অভিযোগ এবং তার ভিত্তিতে জারি হওয়া আদালতের সুরক্ষা আদেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকদের হাতে থাকা আবাসন সম্পদের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে বাড়ির মালিক হিসেবে কতটা সম্পদ গড়ে উঠেছে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে ব্যাপকভাবে আলাদা। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়া। ঋণভিত্তিক আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান লেন্ডিংট্রির (LendingTree) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির মালিকদের মোট আবাসন-সম্পদের নিট মূল্য বা হোম ইকুইটি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইকুইটি রয়েছে হাওয়াইয়ের বাড়ির মালিকদের। লেন্ডিংট্রি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত তাদের প্ল্যাটফর্মে করা প্রায় ৯ লাখ ৬৭ হাজার বেনামি হোম ইকুইটি-সংক্রান্ত অনুসন্ধানের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করেছে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মালিকেরা কত ইকুইটি থাকার কথা জানিয়েছেন, তার মধ্যম মান বা মিডিয়ান এবং অন্তত ২ লাখ ডলার ইকুইটি রয়েছে এমন অনুসন্ধানের অনুপাত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাওয়াইয়ে বাড়ির মালিকদের মধ্যম হোম ইকুইটি ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার। একই সঙ্গে হাওয়াইয়ের ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ অনুসন্ধানকারী জানিয়েছেন, তাদের বাড়িতে অন্তত ২ লাখ ডলার ইকুইটি রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া। অঙ্গরাজ্যটিতে মধ্যম হোম ইকুইটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ অনুসন্ধানকারীর ইকুইটি অন্তত ২ লাখ ডলার। তৃতীয় ম্যাসাচুসেটসে মধ্যম ইকুইটি ৩ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। সেখানে ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশ অনুসন্ধানকারী ২ লাখ ডলার বা তার বেশি ইকুইটির কথা জানিয়েছেন। শীর্ষ দশে এরপর রয়েছে ইউটা, নিউ জার্সি, ওয়াশিংটন, রোড আইল্যান্ড, নিউ হ্যাম্পশায়ার, কলোরাডো এবং আইডাহো। ইউটায় মধ্যম ইকুইটি ৩ লাখ ডলার। নিউ জার্সি ও ওয়াশিংটনে তা ২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার। রোড আইল্যান্ডে ২ লাখ ৮৫ হাজার, নিউ হ্যাম্পশায়ারে ২ লাখ ৭৫ হাজার, কলোরাডোতে ২ লাখ ৫৫ হাজার এবং আইডাহোতে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম মধ্যম হোম ইকুইটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও আইওয়া। উভয় অঙ্গরাজ্যেই মধ্যম ইকুইটি ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় মাত্র ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আইওয়ায় ৩৪ শতাংশ অনুসন্ধানকারী অন্তত ২ লাখ ডলার ইকুইটির কথা জানিয়েছেন। হোম ইকুইটি বলতে একটি বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য থেকে ওই বাড়ির বিপরীতে বকেয়া বন্ধকি ঋণের পরিমাণ বাদ দিলে যে অংশ থাকে, সেটিকে বোঝায়। অর্থাৎ কোনো বাড়ির বর্তমান মূল্য যদি ৫ লাখ ডলার হয় এবং সেই বাড়ির বিপরীতে ২ লাখ ডলার বন্ধকি ঋণ বাকি থাকে, তাহলে মালিকের হোম ইকুইটি হবে ৩ লাখ ডলার। করোনাভাইরাস মহামারির পর যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ির দামের বড় উল্লম্ফন বাড়ির মালিকদের ইকুইটি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সময়ে উচ্চ সুদের হার ও বাড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে যারা আগে থেকেই বাড়ির মালিক ছিলেন, তাদের অনেকেই নিজেদের বাড়ির মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সম্পদ তৈরি করতে পেরেছেন। ফেডারেল রিজার্ভের ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর মালিকানাধীন আবাসিক রিয়েল এস্টেটের মোট মূল্য ছিল ৪৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বাড়ির বিপরীতে বন্ধকি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এই দুই হিসাবের পার্থক্য থেকেই প্রায় ৩৪ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের হোম ইকুইটি পাওয়া যায়। তবে এই সম্পদের সুবিধা সারা দেশে সমান নয়। লেন্ডিংট্রির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে বাড়ির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ির প্রতি বর্গফুটের গড় দাম ৯৭ ডলার থেকে বেড়ে ১৬৯ ডলারে পৌঁছেছে। পশ্চিমাঞ্চলে এই বৃদ্ধি ছিল আরও বেশি প্রায় ১০৫ শতাংশ, ফলে ২০২৪ সালে সেখানে প্রতি বর্গফুটের দাম দাঁড়ায় ২২৪ ডলার। অন্যদিকে, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে একই সময়ে প্রতি বর্গফুটের দাম বেড়েছে ৬৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে তা ১৬৫ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে কোথায় বাড়ি কেনা হয়েছে, কখন কেনা হয়েছে এবং বর্তমানে সেই বাড়ির মূল্য কত এসব বিষয় একজন মালিকের গড়ে ওঠা সম্পদের পরিমাণে বড় পার্থক্য তৈরি করছে। লেন্ডিংট্রির প্রধান ভোক্তা অর্থনীতি বিশ্লেষক ম্যাট শুলজ বলেন, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বিশাল পার্থক্যই দেখিয়ে দেয় যে বাড়ির ইকুইটির চিত্র সবার জন্য এক নয়। কারও বাড়ি বড় আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে পাওয়া আর্থিক সুবিধার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। বাড়ির মালিকেরা চাইলে এই ইকুইটির বিপরীতে ঋণ নিয়ে বাড়ির সংস্কার, বড় ধরনের খরচ বা উচ্চ সুদের ঋণ একত্র করার মতো কাজে অর্থ ব্যবহার করতে পারেন। তবে ইকুইটির বিপরীতে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকিও রয়েছে। ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাড়িটি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। লেন্ডিংট্রির তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ঋণদাতারা বাড়ির মূল্যের একটি অংশ পর্যন্ত ধার দেওয়ার অনুমতি দেয়। এদিকে বাড়ির মালিকেরা সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের এই বাড়তি সম্পদের একটি অংশ নগদে রূপান্তরও করছেন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জের (ICE) জুন ২০২৬ মর্টগেজ মনিটর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাড়ির মালিকদের ইকুইটি থেকে অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ ২০২১ সালের পর প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বছরের তুলনায় ইকুইটি উত্তোলন ২ শতাংশ বেড়েছে এবং এর অর্ধেকের বেশি, প্রায় ৫৪ শতাংশ, এসেছে দ্বিতীয় পর্যায়ের ঋণ বা সেকেন্ড-লিয়েনের মাধ্যমে। অর্থাৎ মহামারির পর বাড়ির দাম বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বহু পুরোনো বাড়ির মালিকের হাতে বড় অঙ্কের সম্পদ তৈরি হলেও, সেই সম্পদের পরিমাণ কোথায় বাড়ি রয়েছে তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। বিশেষ করে হাওয়াই, ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ ইংল্যান্ডের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মালিকেরা তুলনামূলকভাবে বেশি ইকুইটি ধরে রেখেছেন। বিপরীতে মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সেই পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। লেন্ডিংট্রির এই গবেষণা অবশ্য পুরো যুক্তরাষ্ট্রের সব বাড়ির মালিকের সরাসরি জরিপ নয়; এটি তাদের প্ল্যাটফর্মে করা প্রায় ৯ লাখ ৬৭ হাজার বেনামি হোম ইকুইটি-সংক্রান্ত অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাই অঙ্গরাজ্যভিত্তিক এই পরিসংখ্যানকে ওই প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীদের রিপোর্ট করা ইকুইটির মধ্যম মান হিসেবে দেখা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ব্যাংক কর্মকর্তা সেজে এক বয়স্ক নাগরিকের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে মনিকি লাভ টার্নবুল নামের ৩১ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের পর কারাগারে নেওয়ার পর তল্লাশি চালানোর সময় ওই নারীর গোপনাঙ্গ থেকে লুকিয়ে রাখা তিন হাজার ২০০ মার্কিন ডলার উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মার্টিন কাউন্টি শেরিফ অফিস (এমসিএসও) জানিয়েছে, টার্নবুল ব্যাংক প্রতিনিধি পরিচয়ে ওই বয়স্ক ব্যক্তির বাড়িতে হাজির হন। তিনি ভুক্তভোগীকে জানান যে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি হ্যাক বা বেহাত হয়েছে এবং সেটি বাতিল করার কথা বলে তাঁর ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ওই ব্যক্তির সন্দেহ হলে তিনি দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। তদন্তের মাঝেই পুলিশ টার্নবুলকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে একই ধরনের আরেকটি প্রতারণার অভিযোগ পায়। এরপর মার্টিন কাউন্টি ছেড়ে পালানোর আগেই ইন্টারস্টেট-৯৫ এর কাছ থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তবে আসল নাটকীয়তা শুরু হয় তাঁকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর। সেখানে তল্লাশিকালে পুলিশ আবিষ্কার করে যে টার্নবুল তাঁর শরীরের ভেতরে, অর্থাৎ গোপনাঙ্গে তিন হাজার ২০০ ডলার নগদ অর্থ লুকিয়ে রেখেছেন। এই টাকা ঠিক কার কাছ থেকে চুরি করা হয়েছিল তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, পুলিশ আপাতত অর্থগুলো আলামত হিসেবে জব্দ করেছে। বয়স্কদের সঙ্গে প্রতারণা, যোগাযোগ যন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার এবং বিনা অনুমতিতে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি কারাগারে নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশের দায়েও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ লাখ ডলার। এই ঘটনার পর ব্যাংক বা সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয়ে কেউ বাড়িতে এলে তাঁকে নগদ অর্থ, কার্ড বা মূল্যবান জিনিস না দিয়ে সরাসরি ৯১১ নম্বরে কল করে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রে একটি বড়সড় ‘পেপ্যাল রিফান্ড স্ক্যাম’ বা আর্থিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রশান্ত গাজেরা এবং ধারাবেন বাভাদিয়া নামের দুই ভারতীয় নাগরিক দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের জেন্ট্রি পুলিশের একটি বিশেষ আন্ডারকভার বা ছদ্মবেশী অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়েন তারা। সম্প্রতি এই মামলার রায়ে উভয়কেই পাঁচ বছরের স্থগিত কারাদণ্ড (সাসপেন্ডেড সেন্টেন্স) দিয়েছেন আদালত। এর ফলে গুরুতর এই জালিয়াতিতে জড়িত থাকার পরও তাদের আপাতত সরাসরি কারাগারে যেতে হচ্ছে না। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতারক চক্রটি পেপ্যাল অ্যাকাউন্টে ভুলবশত টাকা চলে যাওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত চাইত। এমনই এক ঘটনায় প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল তারা। খবর পেয়ে পুলিশ এক বয়স্ক ব্যক্তির ছদ্মবেশে নকল টাকার বাক্স নিয়ে ফাঁদ পাতে এবং সেখানে টাকা সংগ্রহ করতে এলে প্রশান্ত ও ধারাবেনকে ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, অভিযুক্ত নারী ধারাবেন পুলিশকে জানান যে, তিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এবং ভারতে থাকা তার পরিবার বিপদের মুখে থাকায় তাকে বাধ্য হয়ে এই প্রতারণামূলক কাজ করতে হয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভিনদেশে এসে এমন সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রবাসী কমিউনিটির মাঝেও ব্যাপক বিস্ময় তৈরি করেছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই দুজন মূলত মধ্যস্থতাকারী বা ‘ক্যাশ মিউল’ হিসেবে কাজ করছিলেন এবং পেশাদার এই আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের নির্দেশে অর্থের অভাবেই তারা কাজটি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে যাওয়ার একটি ফ্লাইটের আগে বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে বসা যাত্রীদের দীর্ঘ সারির একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর হুইলচেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্সের ব্যবহার ও সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভ্রমণবিষয়ক কমেন্টেটর প্রিয়েশ শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছবিটি প্রকাশ করেন। ছবিতে একটি ডিপার্চার গেটের কাছে বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে হুইলচেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের অনেককে বয়স্ক মনে হলেও কয়েকজনকে মধ্যবয়সী বা তুলনামূলক কম বয়সী বলেও দেখা যায়। ছবির সঙ্গে শর্মা লেখেন, “Flight to India (this is insane)।” ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, বিমানবন্দরের বিনামূল্যের হুইলচেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স কি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে একই ফ্লাইটে এত বেশি যাত্রী একসঙ্গে এই সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শুধু চেহারা বা বয়স দেখে কোনো যাত্রীর হুইলচেয়ার সহায়তা প্রয়োজন নেই বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সব ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা চলাফেরার সমস্যা বাইরে থেকে দৃশ্যমান নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন বা ডট এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী যাত্রী প্রয়োজন জানালে এয়ারলাইনকে বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হয়। এই সহায়তার জন্য যাত্রীর কাছ থেকে আলাদা ফি নেওয়া যায় না। তবে ডট একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, কোনো যাত্রীর প্রতিবন্ধিতা না থাকলে এবং শুধু সিকিউরিটি বা ইমিগ্রেশনে অগ্রাধিকার পাওয়ার উদ্দেশ্যে হুইলচেয়ার সেবা নেওয়া হলে এয়ারলাইন সেই সেবা দিতে বাধ্য নয়। প্রয়োজন নিয়ে যুক্তিসংগত সন্দেহ থাকলে এয়ারলাইন যাত্রীকে তার কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন এবং সেটি কীভাবে তার চলাফেরার সমস্যায় সহায়তা করছে, সে বিষয়ে জানতে চাইতে পারে। ফলে ভাইরাল ছবিটি বিমানবন্দরের এক্সেসিবিলিটি নিয়ে পুরোনো একটি প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে প্রকৃত প্রয়োজন থাকা যাত্রীদের জন্য দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ হুইলচেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে এই সুবিধা নেওয়া হলে সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ভাইরাল ছবিতে থাকা যাত্রীদের কেউ হুইলচেয়ার সেবার অপব্যবহার করেছেন কি না, তা ছবিটি দেখে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একইভাবে ভারতীয়, বাংলাদেশি বা পাকিস্তানি যাত্রীদের মধ্যে এই সুবিধার অপব্যবহারের হার বেশি, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যানও পাওয়া যায়নি। তাই কোনো নির্দিষ্ট কমিউনিটিকে দায়ী করার মতো তথ্য এই ছবিতে নেই। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের বিমান ভ্রমণের অধিকার এয়ার ক্যরিয়ার এক্সেস এক্ট এর আওতায় সুরক্ষিত। আইন অনুযায়ী এয়ারলাইনগুলোকে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হয়। ফলে হুইলচেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি প্রকৃত প্রয়োজন থাকা যাত্রীদের অধিকার ও এক্সেসিবিলিটি নিশ্চিত করার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শৈশবে অটিজম ধরা পড়েছিল ফক্স রাইকারের। চার বছর বয়স পর্যন্ত তিনি কথা বলতে পারতেন না। চিকিৎসকেরাও তখন নিশ্চিত ছিলেন না, ভবিষ্যতে তিনি নিজে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন কি না। কয়েক বছর পর সেই ফক্সই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করে জরুরি চিকিৎসাসেবায় কাজ করেছেন এবং এখন নিজেই চিকিৎসক হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। শিশুকালে ফক্সের মাঝারি মাত্রার অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার শনাক্ত হয়। চার বছর বয়স পর্যন্ত তিনি মৌখিকভাবে কথা বলতেন না। শৈশবে তাকে একাধিক স্কুলে পড়তে হয়েছে এবং প্রায় এক দশক বিভিন্ন ধরনের থেরাপি নিতে হয়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ তার পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট জোসেফস ইউনিভার্সিটি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চ সম্মান নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পড়াশোনায় অসাধারণ ফলাফলের জন্য তিনি একাধিক একাডেমিক সম্মাননা সংগঠনের সদস্যও হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর চিকিৎসাক্ষেত্রে কাজ শুরু করেন ফক্স। প্রায় চার বছর তিনি জরুরি চিকিৎসা সহকারী এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন। পাওলি হাসপাতালের চিকিৎসক স্টুয়ার্ট ব্রিলান্ট ফক্সকে পরিশ্রমী ও সহানুভূতিশীল কর্মী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফক্সের মেডিকেল স্কুলের আবেদনের তথ্য পড়ার আগে তিনি তার অটিজমের বিষয়টি জানতেন না বলেও জানিয়েছেন। এরপর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ফক্স ভর্তি হন ফিলাডেলফিয়া কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনে। ২০২৭ সালের ডিও প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী হিসেবে বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতাকেও তিনি অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। কলেজের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিউরোডাইভার্সিটি বিষয়ক উদ্যোগে অটিজম নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। মেডিকেল কলেজের একটি সম্মানসূচক সংগঠনের সদস্যও হয়েছেন তিনি। সাদা কোট পরার অনুষ্ঠানে নিজের ব্যাচের পক্ষ থেকে কলেজের মিশন বিবৃতি পাঠ করার দায়িত্বও পেয়েছিলেন ফক্স। পাশাপাশি থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটির নিউরোলজিক্যাল সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণাতেও যুক্ত হয়েছেন। একসময় যাকে নিয়ে চিকিৎসকেরা তার ভবিষ্যৎ স্বাধীন জীবনযাপন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন, সেই ফক্স রাইকার এখন চিকিৎসক হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছেন। তার গল্পটি দেখাচ্ছে, শৈশবে কোনো শিশুর সক্ষমতা সম্পর্কে করা প্রাথমিক ধারণা ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে সবসময় নির্ধারণ করে না।
টেক্সাসের এডিনবার্গে একটি ট্রাক স্টপে ট্রাক্টর ট্রেইলারের ভেতর লুকিয়ে রাখা ২০ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল ও হিডালগো কাউন্টি শেরিফ’স অফিস। ২০ আগস্ট যৌথ অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহজনক একটি ট্রাক্টর ট্রেইলারের বিষয়ে খবর পাওয়ার পর বর্ডার প্যাট্রোলের কে-৯ ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। কে-৯ ইউনিট ট্রেইলারের ভেতরে সন্দেহজনক কিছুর উপস্থিতির বিষয়ে পজিটিভ অ্যালার্ট দেওয়ার পর বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট ও হিডালগো কাউন্টি শেরিফ’স অফিসের ডেপুটিরা ট্রেইলারটি তল্লাশি করেন। তল্লাশির সময় ট্রেইলারের ভেতর লুকিয়ে থাকা ২০ অভিবাসীকে পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে মানব পাচারের একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ট্রাকটির চালককে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়। রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালি সেক্টরের ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল প্রধান বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ অভিবাসন থেকে লাভবান অপরাধী চক্রগুলোকে ভেঙে দিতে বর্ডার প্যাট্রোল কাজ করে যাচ্ছে। অর্থের জন্য মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার এবং জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান। উদ্ধার হওয়া ২০ জনের নাগরিকত্ব, তাদের পরবর্তী ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এবং চালকের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।