সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পেপাল-ভেনমোতে টিউশন ফি পরিশোধের সুযোগ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ৩:১১
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পেপাল-ভেনমোতে টিউশন ফি পরিশোধের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পেপাল-ভেনমোতে টিউশন ফি পরিশোধের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার এখন পেপাল ও ভেনমো ব্যবহার করে সরাসরি টিউশন ফি ও অন্যান্য শিক্ষাবিষয়ক খরচ পরিশোধ করতে পারছেন। নতুন এই পেমেন্ট সুবিধা ইতোমধ্যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে এবং চলতি বছর আরও প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত হতে পারে। 


প্রথম দিকের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলামাইন ইউনিভার্সিটি, বাটলার ইউনিভার্সিটি, কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত অনলাইন পেমেন্ট পোর্টাল থেকেই পেপাল বা ভেনমোকে পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিতে পারবেন। 

 

এই সুবিধা চালু করতে পেপাল শিক্ষা খাতের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ইলুমিয়া, নেলনেট ক্যাম্পাস কমার্স ও টাচনেটের সঙ্গে নতুন ইন্টিগ্রেশন করেছে। এর ফলে শিক্ষার্থী বা পরিবারের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেমের ভেতর থেকেই পেপাল বা ভেনমো ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। পেমেন্টের অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড অথবা পেপাল ও ভেনমো অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যালেন্স থেকে দেওয়া যাবে। 

 

তবে এই সুবিধা ব্যবহার করলেই যে অতিরিক্ত খরচ থাকবে না, তা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সার্ভিস বা প্রসেসিং ফি নেওয়া হতে পারে। যেমন, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পেপাল বা ভেনমো ব্যবহার করে টিউশন পরিশোধ করলে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস ফি প্রযোজ্য হবে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি ভিন্ন হতে পারে। 

 

কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিও ২০ ডলারের বেশি পেপাল ও ভেনমো লেনদেনে কমপক্ষে ৩ ডলার সার্ভিস ফি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাই বড় অঙ্কের টিউশন পরিশোধের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কাঠামো দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

 

পেপাল ও ভেনমোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব লেনদেনে এনক্রিপশন ও জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ তাদের নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। তবে ভোক্তা অধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নন-ব্যাংক পেমেন্ট অ্যাপে রাখা অর্থ সবসময় প্রচলিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো ফেডারেল ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্সের আওতায় থাকে না। 

 

পেপালের কিছু নির্দিষ্ট ব্যালেন্স প্রোগ্রাম ব্যাংকের মাধ্যমে এফডিআইসি পাস-থ্রু ইন্স্যুরেন্সের আওতায় পড়তে পারে। তবে সব পেপাল বা ভেনমো ব্যালেন্স এই সুরক্ষা পায় না। পেপাল নিজেও জানিয়েছে, এফডিআইসি পাস-থ্রু ইন্স্যুরেন্স সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেয়, পেপালের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে নয়। 

 

নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে মূলত শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য টিউশন পরিশোধের পদ্ধতি আরও বৈচিত্র্যময় হচ্ছে। তবে টিউশনের মতো বড় অঙ্কের অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি, পেমেন্টের উৎস এবং অর্থের সুরক্ষা সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে, প্রভাব পড়বে মর্টগেজে, আটো লোন, ইন্টারেস্ট রেটেও
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে, প্রভাব পড়বে মর্টগেজে, আটো লোন, ইন্টারেস্ট রেটেও

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট ঋণের পরিমাণ ৪০ দশমিক ০৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এক দশকেরও কম সময়ে দেশটির মোট জাতীয় ঋণ দ্বিগুণের বেশি হওয়ায় সরকারের সুদ ব্যয় ও ভবিষ্যৎ ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।    জাতীয় ঋণ সরাসরি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ঋণ নয়। তবে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দ্রুত বাড়তে থাকলে এর প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে পারে। বিশেষ করে সরকারি বন্ডের সুদের হার বাড়লে ব্যাংক ও অন্যান্য ঋণদাতাদের জন্য অর্থের খরচও বাড়ে। এর প্রভাব মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ এবং অন্যান্য ভোক্তা ঋণের সুদের হারেও পড়তে পারে।    বর্তমান ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের মধ্যে প্রায় ৩২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা ট্রেজারি ঋণ এবং প্রায় ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার ঋণ। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় জাতীয় ঋণ ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার।    ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ হলো সরকারের ব্যয় রাজস্ব আয়ের চেয়ে বেশি থাকা। গত এক দশকে বিভিন্ন প্রশাসনের সময় বাজেট ঘাটতি, মহামারি মোকাবিলায় বড় অঙ্কের ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং ক্রমবর্ধমান সুদ পরিশোধের কারণে সরকারের ধার নেওয়ার প্রয়োজন বেড়েছে।    এরই মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি আগস্টে ৩০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে, যা মর্টগেজ বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি মর্টগেজের সুদের হার সাধারণত ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ওঠানামা করে।    ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জাতীয় ঋণের চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এতে শিক্ষা, অবকাঠামো বা অন্যান্য সরকারি খাতে ব্যয়ের জন্য অর্থের পরিমাণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে বেশি সরকারি ঋণ বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের খরচ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও চাপ তৈরি করতে পারে।    তবে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের এই সংখ্যা দিয়ে একাই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থার পুরো চিত্র বোঝা যায় না। অর্থনীতিবিদরা জাতীয় ঋণের পাশাপাশি অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণের পরিমাণ, অর্থাৎ ঋণ ও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত এবং জনগণের হাতে থাকা সরকারি ঋণও বিবেচনা করেন।    জাতীয় ঋণ কমাতে হলে সরকারের সামনে মূলত ব্যয় কমানো, রাজস্ব বাড়ানো অথবা দুটির সমন্বয়ের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত রয়েছে। ট্রেজারি বিভাগ ইতোমধ্যে ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বন্ড বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতির মূল কারণ সমাধানের বিকল্প নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ৪:১০
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পেপাল-ভেনমোতে টিউশন ফি পরিশোধের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পেপাল-ভেনমোতে টিউশন ফি পরিশোধের সুযোগ

সিলিকন ভ্যালির চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান গড়লেন এনায়েতুর রহমান

সিলিকন ভ্যালির চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান গড়লেন এনায়েতুর রহমান

আমেরিকায় স্বচ্ছন্দে থাকতে কোন স্টেট এ বছরে কত আয় দরকার, জানাল নতুন গবেষণা

আমেরিকায় স্বচ্ছন্দে থাকতে কোন স্টেট এ বছরে কত আয় দরকার, জানাল নতুন গবেষণা

আমেরিকার জেলে মৃত্যুদণ্ডের ছায়ায় ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশি রব্বানী
আমেরিকার জেলে মৃত্যুদণ্ডের ছায়ায় ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশি রব্বানী

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৯৮৭ সালের একটি হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সৈয়দ মোহাম্মদ রব্বানীর মৃত্যুদণ্ড ২০২৩ সালে বাতিল হলেও এখনও কারাগারেই দিন কাটছে তাঁর। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মৃত্যুদণ্ডের সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিবর্তিত হয়েছে। ৬০ বছর বয়সী রব্বানী বর্তমানে ডিকিনসনের ক্যারল ইয়াং ইউনিটে হসপিস সেবা নিচ্ছেন। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত হিউস্টন ক্রনিকলের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।    রব্বানীর জীবনের এই দীর্ঘ কারাবাসের শুরু ১৯৮৭ সালে হিউস্টনে। ওই বছর কুইক-এন-ইজি নামের একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরে গুলিতে নিহত হন ২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি অভিবাসী মোহাম্মদ জাকির হাসান। ওই হত্যাকাণ্ডে রব্বানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরের বছর হ্যারিস কাউন্টির একটি জুরি তাঁকে ক্যাপিটাল মার্ডারে দোষী সাব্যস্ত করে এবং মৃত্যুদণ্ড দেয়।   তখন রব্বানীর বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর। ১৯৯২ সালে টেক্সাস কোর্ট অব ক্রিমিনাল আপিলস তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল রাখে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখও একপর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল।   এরপর শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই। রব্বানীর আইনজীবীরা তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সাংবিধানিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কয়েক মাসের মধ্যেই মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য মানসিকভাবে অযোগ্য বলে মত দেন। কিন্তু তাঁর আইনি আবেদন দীর্ঘ সময় নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে।   প্রায় ২৮ বছর পর ২০২২ সালে সেই আবেদন আবার আদালতের সামনে আসে। তত দিনে রব্বানীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি হয়েছে। তিনি ছানি পড়ে প্রায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। ২০২২ সালে স্ট্রোকের পর তাঁর চলাফেরা ও যোগাযোগের সক্ষমতাও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতির পাশাপাশি গুরুতর মানসিক অসুস্থতার কথাও আদালতের নথি ও পরবর্তী প্রতিবেদনে উঠে আসে।    অবশেষে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে টেক্সাসের সর্বোচ্চ ফৌজদারি আপিল আদালত রব্বানীর মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে। তবে হত্যার ঘটনায় তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল থাকে। অর্থাৎ তিনি খালাস পাননি, কেবল মৃত্যুদণ্ডের সাজা বাতিল হয়েছে। পরে তাঁর সাজা প্যারোলের সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিবর্তন করা হয়।   দীর্ঘ কারাবাসের মধ্যে পরিবারের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ১৯৯৫ সালে বাবার মৃত্যুর পর বাংলাদেশের স্বজনদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রায় তিন দশক পর ২০২৩ সালে তাঁর ছোট ভাই সৈয়দ ফাসাইনি ইন্টারনেটে বড় ভাইয়ের খোঁজ করতে গিয়ে তাঁর মামলার সংবাদ খুঁজে পান। তখনই পরিবার জানতে পারে, রব্বানী এখনও জীবিত এবং টেক্সাসের কারাগারে আছেন।   এরপর বাংলাদেশ থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে রব্বানীকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। তাঁর ভাই বিচারকের কাছে চিঠি লিখে জানান, মুক্তি পেলে পরিবার তাঁকে গ্রহণ করবে এবং তাঁর দেখাশোনা করবে। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, জীবনের শেষ সময়টা অন্তত স্বজনদের সঙ্গে কাটাতে পারবেন রব্বানী।   কিন্তু সেই প্রত্যাশাও পূরণ হয়নি। ২০২৬ সালের জুনে হিউস্টন ক্রনিকল জানায়, রব্বানীর প্যারোল আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাঁর আইনজীবী বেঞ্জামিন উলফের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে চিকিৎসাজনিত মুক্তির সুযোগও তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বর্তমানে তিনি ডিকিনসনের ক্যারল ইয়াং ইউনিটে হসপিস সেবা নিচ্ছেন।    রব্বানীর মামলা টেক্সাসের দীর্ঘদিনের কারাবন্দিদের মধ্যে মানসিক সক্ষমতা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইনি মানদণ্ড নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর একটি উদাহরণ হয়ে আছে। একই সময়ে হ্যারিস কাউন্টির আরও কয়েকজন দীর্ঘদিনের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজাও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে পুনর্বিবেচনার মুখে পড়েছে।    মৃত্যুদণ্ডের রায় আর তাঁর মাথার ওপর নেই। কিন্তু কারাগারের দরজাও খোলেনি। তরুণ বয়সে যে মানুষটি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, তাঁর জীবনের তিন দশকেরও বেশি সময় কেটে গেছে কারাগারের ভেতর। এখন শারীরিকভাবে ভেঙে পড়া সেই মানুষটির সামনে মুক্ত জীবনের চেয়ে কারাগারেই জীবনের শেষ অধ্যায় কাটানোর সম্ভাবনাই বেশি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১:৫৬
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিতে টিকটকের সাথে ৪০ কোটি ডলারের ঐতিহাসিক সমঝোতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের দায়ে টিকটককে ৪০০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

টেক্সাসের দুই বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজুর সুবিধা নিয়ে আপত্তি। ছবি: সংগৃহীত

বিমানবন্দরে মুসলিমদের ওজু সুবিধা নিয়ে আপত্তি, বিচার বিভাগে গেলেন টেক্সাসের গভর্নর

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছে মার্কিন ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের নীতি বেআইনি, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতের রায়

ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের স্কুল অব ফার্মেসির শিক্ষক ড. বেরহানু কিবরেট। ছবি: সংগৃহীত
ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ‘টিচার অব দ্য ইয়ার’ আইসিই হেফাজতে, বন্ডে মুক্তি মেলেনি

ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোরের স্কুল অব ফার্মেসির শিক্ষক ড. বেরহানু কিবরেট এখনো ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর হেফাজতে রয়েছেন। ইমিগ্রেশন জজ তার বন্ডে মুক্তির আবেদন নাকচ করায় ইমিগ্রেশন মামলা চলাকালে তাকে হেফাজতেই থাকতে হবে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তাকে ওকলাহোমার ডায়মন্ডব্যাক ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে রাখা হয়েছে।    কিবরেটকে গত ২১ জুলাই ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইসিই আটক করে। তিনি একটি পেশাগত সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর মেরিল্যান্ডে ফিরছিলেন। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড জানিয়েছে, ওই সম্মেলনে তিনি ‘টিচার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন।  ড. কিবরেট ২০২৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোরের স্কুল অব ফার্মেসিতে যোগ দেন। এর আগে তিনি উইলিয়াম প্যাটারসন ইউনিভার্সিটিতে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় তাকে একজন মূল্যবান শিক্ষক ও সহকর্মী হিসেবে বর্ণনা করেছে।    তার ইমিগ্রেশন অবস্থান নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, কিবরেট ২০২১ সালের জুনে একটি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং ওই ভিসার মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩১ মে শেষ হওয়ার পরও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। তার বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে।  অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড জানিয়েছে, কিবরেটের বৈধ ওয়ার্ক অথরাইজেশন ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় তার হেফাজত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।    বন্ডের শুনানিতে কিবরেটের আইনজীবী তাকে ইমিগ্রেশন মামলা চলাকালে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেন। তবে বিচারক সেই আবেদন নাকচ করেছেন। ফলে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলার সময় তিনি হেফাজতেই থাকবেন।  বন্ড নাকচ হওয়া মানেই কিবরেট তার ইমিগ্রেশন মামলা হেরে গেছেন, এমন নয়। এর অর্থ হলো, মামলার বর্তমান পর্যায়ে আদালত তাকে হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে আটক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার ইমিগ্রেশন মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।   ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের স্কুল অব ফার্মেসির ডিন ড. সারাহ এল. জে. মিশেল বলেন, কিবরেটের বন্ড আবেদন নাকচ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় হতাশ এবং তার কল্যাণ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে তার হেফাজতের কারণে আসন্ন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়ন করছে।  কিবরেটের মামলা এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তার হেফাজত অব্যাহত থাকবে কি না এবং শেষ পর্যন্ত তার ইমিগ্রেশন মামলার কী পরিণতি হবে, তা পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ২২:৪
যুক্তরাষ্ট্রে কম দামের খাবারের দোকান ডলার স্টোর। ছবি: সংগৃহীত

ডলার স্টোরের খাবার নিয়ে সতর্কবার্তা, গবেষণায় নতুন তথ্য সাশ্রয়ী খাবারের আড়ালে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

স্কাইলার মে। ছবি: সংগৃহীত

মাসে আয় ১০ লাখ ডলার, অসুস্থ মা-বাবাকে রাজকীয় জীবন উপহার দিলেন ২৩ বছরের তরুণী

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাতনি কাই ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের নাতনির পিছু নিয়েছেন এক যুবক, নিরাপত্তার ভয়ে দিন কাটছে ১৯ বছর বয়সী কাইয়ের

0 Comments