- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত অধ্যাপক জেসন আরডের বিরুদ্ধে প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ তোলা একাডেমিক নাথান কোফনাসকে সাসপেন্ড করেছে বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়। আরডের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার পর কোফনাসের কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বৈষম্যের অভিযোগ ওঠায় তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ডিসিপ্লিনারি তদন্তও শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। কোফনাস ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও নৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের একজন পোস্টডক্টরাল গবেষক। তিনি জুলাইয়ে একটি ব্লগ পোস্টে আরডের পিএইচডি গবেষণায় অন্য গবেষণার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য মিল থাকার অভিযোগ তোলেন। পরে বিষয়টি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। আরডে অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। আরডে ২০২৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে কম বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে আলোচনায় আসেন। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে তার একাডেমিক কাজ ও যোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার পর কেমব্রিজ তদন্ত শুরু করে। এর মধ্যে তার পিএইচডি থিসিসের শতাধিক অংশ অন্য একটি থিসিসের সঙ্গে মিল রয়েছে বলে অভিযোগ সামনে আসে। ৫ আগস্ট আরডে কেমব্রিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। কয়েক দিন পর ১৪ আগস্ট তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। তার মৃত্যু ঘিরে প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ, একাডেমিক যাচাই প্রক্রিয়া এবং সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, কোফনাসকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ডিসিপ্লিনারি তদন্ত চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি বলেছে, মানবিক মর্যাদার প্রতি সম্মান এবং বৈষম্য, ঘৃণা ও বর্ণবাদের বিরোধিতা তাদের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ। একই সঙ্গে তারা একাডেমিক স্বাধীনতার গুরুত্ব স্বীকার করলেও এর চর্চা দায়িত্বশীলভাবে করতে হবে বলে জানিয়েছে। কোফনাস নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তার বিরুদ্ধে আরডেকে বৈষম্যের অভিযোগে তদন্ত চলছে এবং তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে। কোফনাস এর আগে কেমব্রিজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালে এম্যানুয়েল কলেজ তার কিছু বিতর্কিত বক্তব্যের পর তার পদ শেষ করে দেয়। পরে কেমব্রিজের নিজস্ব তদন্তে তার প্রকাশিত মতামতকে অনেকে আপত্তিকর মনে করলেও তা আইন বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রি-স্পিচ সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গ করেনি বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। আরডের ঘটনাটি এখন ব্রিটিশ একাডেমিয়ায় প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ যাচাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং কোনো গবেষককে প্রকাশ্যে সমালোচনা করার সীমা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোফনাসের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন জমি ও বসতবাড়ি দখল এবং বাসিন্দাদের উচ্ছেদের ঘটনায় কট্টরপন্থী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। তিনি বলেছেন, অন্যের জমি ও বাড়ি জোরপূর্বক দখল করা শুধু মানবিক ও আইনি নীতির লঙ্ঘন নয়, এটি ধর্মীয় দৃষ্টিতেও গুরুতর অন্যায়। সম্প্রতি পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নাগরিক লুই রিদির বাড়িসহ কয়েকটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে রাখে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে বাড়িগুলোর বাইরে অবস্থান নিয়ে তারা বাসিন্দাদের চলাচলে বাধা দেয়। পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর হাকাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বসতিস্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেন। তিনি বলেন, কোনো পরিবার যদি কোনো জমি ও বাড়ির বৈধ মালিক হয়, তাহলে অন্য কেউ সেখানে গিয়ে জোর করে দখল নিতে পারে না এবং ভয় দেখিয়ে পরিবারটিকে সরিয়ে দিতে পারে না। ধর্মীয় দৃষ্টান্ত টেনে হাকাবি ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মীয় ঐতিহ্যের ‘দশ আজ্ঞা’র কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। অন্যের সম্পত্তি চুরি বা লোভ না করার নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যা নিজের নয়, তা জোর করে নেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। কুসরার ঘটনায় এর আগে হাকাবি আরও কঠোর ভাষা ব্যবহার করে বসতিস্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। মার্কিন দূতাবাসের অনুরোধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও পুলিশ সেখানে গিয়ে অবৈধভাবে স্থাপিত বসতিগুলো সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। কুসরা পশ্চিম তীরের এমন একটি এলাকায় অবস্থিত, যেখানে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বেসামরিক প্রশাসনিক দায়িত্ব রয়েছে এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অনুমোদিত নয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও সেখানে বসতিস্থাপনকারীদের স্থাপিত কাঠামোগুলোকে অবৈধ ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছে। এদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ে ইসরায়েলকে জেরুজালেমের পূর্বে ই-১ এলাকায় নতুন বসতি নির্মাণ পরিকল্পনা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। দেশগুলো বলেছে, এই পরিকল্পনা পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক সংযোগ আরও দুর্বল করে ভবিষ্যৎ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন এমন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি প্রশ্ন হলো, কীভাবে টিউশন ফি ছাড়ের পাশাপাশি পড়াশোনার খরচ চালানোর মতো আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়। শুধু ভালো সিজিপিএ নয়, নিজের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং যে প্রোগ্রামে আবেদন করা হচ্ছে তার সঙ্গে নিজের প্রোফাইলের সঠিক মিলও যে গুরুত্বপূর্ণ, তার একটি বাস্তব উদাহরণ উঠে এসেছে কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সাফল্যে। প্রকাশিত একটি কেস স্টাডি অনুযায়ী, বাংলাদেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে পড়াশোনা করা ওই শিক্ষার্থী কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির ইংরেজিতে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পেয়েছেন। এর আওতায় তাঁর পুরো টিউশন ফি মওকুফ এবং প্রতি একাডেমিক বছরে ১৩ হাজার ১০৮ ডলার স্টাইপেন্ড পাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে কেস স্টাডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই বছরে এই স্টাইপেন্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৬ হাজার ২১৬ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৩২ লাখ টাকা। তবে স্টাইপেন্ডের পরিমাণ নিয়োগের সময়কাল, চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাদের অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের বড় অংশই গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পান। বিভাগের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, নয় মাসের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ চুক্তিতে স্টাইপেন্ড ১২ হাজার ৩৯৩ ডলার এবং এর সঙ্গে ফুল টিউশন মওকুফের সুবিধাও রয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর এই সাফল্যের পেছনে শুধু ফলাফল নয়, ছিল শক্তিশালী একাডেমিক ও গবেষণা প্রোফাইল। তাঁর ব্যাচেলর পর্যায়ে সিজিপিএ ছিল ৪-এর মধ্যে ৩.৩৭ এবং তিনি নিজ ক্লাসে প্রথম হন। মাস্টার্সে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৫৫ এবং তিনি নিজ ব্যাচে পঞ্চম অবস্থানে ছিলেন। গবেষণার ক্ষেত্রেও তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল উল্লেখযোগ্য। মাস্টার্সে তিনি বাংলা ও ইংরেজি কবিতা নিয়ে থিসিস করেন। পাশাপাশি তাঁর পাঁচটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। এর মধ্যে একটি গবেষণাপত্রে তিনি প্রথম লেখক ছিলেন। শুধু একাডেমিক পড়াশোনাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি। ২০২১ সাল থেকে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে লেকচারার হিসেবেও কাজ করছিলেন। সেখানে সাহিত্য, সমালোচনামূলক তত্ত্ব ও ভাষাবিজ্ঞান পড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের থিসিস ও গবেষণা প্রকল্প তত্ত্বাবধানের অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন। পরবর্তীতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ইংরেজি ভাষার দক্ষতাও তাঁর আবেদনের একটি শক্তিশালী দিক ছিল। আইইএলটিএস একাডেমিকে তাঁর মোট স্কোর ছিল ৭.৫। এর মধ্যে লিসেনিংয়ে ৮.৫, রিডিংয়ে ৭.৫, রাইটিংয়ে ৬.৫ এবং স্পিকিংয়ে ৭.০ স্কোর করেন তিনি। তবে এই আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পরিকল্পনা। কেস স্টাডি অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়ার শুরুতেই তাঁর প্রোফাইলের শক্তিশালী ও দুর্বল দিকগুলো বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিংয়ের দিকে না তাকিয়ে প্রোগ্রামের কাঠামো, শিক্ষক সদস্যদের গবেষণার ক্ষেত্র, ফান্ডিংয়ের সুযোগ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং আবেদনকারীর একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে সামঞ্জস্য খোঁজা হয়। এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম বেছে নেওয়া হয়। এরপর সম্ভাব্য শিক্ষক সদস্যদের গবেষণার ক্ষেত্র, প্রকাশনা ও আগ্রহের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে আবেদনকারীর গবেষণার সঙ্গে যাদের সবচেয়ে বেশি মিল রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়। এখানে আরেকটি বিষয় আমেরিকান বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রোগ্রামে আবেদন করার আগে কোনো নির্দিষ্ট সুপারভাইজারের সম্মতি বাধ্যতামূলক ছিল না। তারপরও সম্ভাব্য শিক্ষক সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কেস স্টাডি অনুযায়ী, একজন শিক্ষক আবেদনকারীর গবেষণার আগ্রহে ইতিবাচক সাড়া দেন এবং তাঁকে তত্ত্বাবধান করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর আবেদনকারীর মাস্টার্স থিসিস, প্রকাশিত গবেষণা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার লক্ষ্যকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সদস্যের গবেষণার সঙ্গে মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট গবেষণার দিক তৈরি করা হয়। গবেষণা প্রস্তাবে গবেষণার পটভূমি, সমস্যার বিবরণ, আগের গবেষণায় ঘাটতি, গবেষণার উদ্দেশ্য, গবেষণা প্রশ্ন, সাহিত্য পর্যালোচনা, তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি, পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য গবেষণাগত অবদান তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে আগের গবেষণা, বর্তমান একাডেমিক অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে একটি ধারাবাহিক কাঠামোর মধ্যে উপস্থাপন করা হয়। শেষ ধাপে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, জীবনবৃত্তান্ত, আইইএলটিএস ফলাফল, গবেষণা প্রকাশনা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনা করে ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের আবেদন প্রস্তুত করা হয়। ব্যক্তিগত বিবৃতিতেও তাঁর একাডেমিক যাত্রা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজ এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনার মধ্যে যোগসূত্র তুলে ধরা হয়। আমেরিকান বাঙালি কমিউনিটির যেসব শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এই ঘটনাটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিতে পারে। শুধু সিজিপিএ ভালো হলেই যে ফান্ডিং নিশ্চিত হবে, বিষয়টি এমন নয়। আবার কোনো অধ্যাপকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলেই যে ভর্তি বা আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হয়ে যাবে, সেটিও ঠিক নয়। বরং নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানানসই বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম খুঁজে বের করা, গবেষণার আগ্রহ স্পষ্ট করা, সঠিক শিক্ষক সদস্য নির্বাচন, শক্তিশালী গবেষণা প্রস্তাব তৈরি এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদন সাজানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির এই উদাহরণ কোনো নির্দিষ্ট বৃত্তি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। তবে এটি দেখিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার সময় শুধু নম্বরের ওপর নির্ভর না করে নিজের পুরো প্রোফাইলকে কীভাবে সঠিক প্রোগ্রামের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করা যায়। আমেরিকান বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য সেটিই হতে পারে ফান্ডিং পাওয়ার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।
জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সাবেক মিনিয়াপোলিস পুলিশ অফিসার ডেরেক শভিনকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক দাবি করেন, শভিন অন্যায়ভাবে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত। মাস্কের মন্তব্য এসেছে শভিনের আইনজীবীরা তার ২০২১ সালের স্টেট হত্যা মামলার রায় বাতিলের জন্য নতুন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর। ১৮ আগস্ট দায়ের করা আবেদনে শভিনের আইনজীবীরা মিনেসোটা কোর্ট অব আপিলসকে তার চলমান আপিল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন, যাতে নতুন কিছু সাংবিধানিক ও প্রক্রিয়াগত অভিযোগ নিয়ে ট্রায়াল কোর্টে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এক্সে মাস্ক লেখেন, শভিনকে অন্যায়ভাবে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, তাই তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত। তিনি আরও দাবি করেন, শভিন জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর কারণ ছিলেন না এবং তার মৃত্যুর কোনো উদ্দেশ্যও শভিনের ছিল না। মাস্কের এই মন্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো নতুন আদালত নথি বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তবে শভিনের মামলার সরকারি নথিতে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। ২০২১ সালের ফেডারেল মামলায় দোষ স্বীকার করার সময় শভিন স্বীকার করেছিলেন যে ফ্লয়েডের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করার মতো শক্তি প্রয়োগ এবং চিকিৎসা সহায়তা না দেওয়ার ফলে ফ্লয়েডের শারীরিক ক্ষতি ও মৃত্যু ঘটে। পরে তাকে ফেডারেল মামলায় ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা তার স্টেট মামলার সাজা চলাকালীনই কার্যকর হওয়ার কথা। ২০২০ সালের ২৫ মে মিনিয়াপোলিসে পুলিশি আটকের সময় শভিন ফ্লয়েডের ঘাড় ও পিঠের ওপর হাঁটু রেখে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে মাটিতে চেপে রাখেন। ফ্লয়েড তখন হাতকড়া পরা অবস্থায় মাটিতে ছিলেন। ঘটনাটির ভিডিও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও পুলিশি আচরণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ২০২১ সালে মিনেসোটা স্টেট কোর্টে শভিনকে দ্বিতীয় ডিগ্রির অনিচ্ছাকৃত হত্যা, তৃতীয় ডিগ্রির হত্যা এবং দ্বিতীয় ডিগ্রির ম্যানস্লটারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে তাকে ২২ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফেডারেল মামলায়ও তিনি ফ্লয়েডের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং ২১ বছরের সাজা পান। শভিনের আইনজীবীরা এবার দাবি করছেন, তার মূল বিচারপ্রক্রিয়ায় একাধিক সাংবিধানিক ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে প্রসিকিউশনের ক্ষমতা অর্পণ, গ্র্যান্ড জুরি না ডাকা এবং বিচারকের পক্ষপাতের মতো বিষয়। এর আগে শভিনের সাজা বাতিলের প্রচেষ্টাও আদালতে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। মাস্কের নতুন মন্তব্যে শভিনের দণ্ড ও জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে ঘিরে পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তবে শভিনের নতুন আইনি আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না এবং তার দণ্ড বাতিল হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত এখন আদালতের হাতে।
২০১৩ সালে চীনের ২৪ বছর বয়সী ওয়াং শিয়াও জানতে পারেন, কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে তার হাতে হয়তো আর এক বছরের মতো সময় আছে। পরিবারের কারও কিডনি তার সঙ্গে মেলেনি। জীবন বাঁচানোর আর কোনো পথ না দেখে তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নেন, যা শুনলে অবাক হতে হয়। ক্যানসার রোগীদের একটি অনলাইন সহায়তা গ্রুপে তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন এমন এক অসুস্থ পুরুষকে, যিনি মৃত্যুর পর তার একটি কিডনি দান করতে পারবেন। ওয়াং সেখানে লিখেছিলেন, বিয়ের পর তিনি স্বামীকে যথাসাধ্য যত্ন নেবেন। তার এই পোস্টের জবাব দেন ২৭ বছর বয়সী ইউ জিয়ানপিং। তিনি মায়েলোমা নামের এক ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং এরই মধ্যে কয়েকবার রোগটি ফিরে এসেছিল। ওয়াংয়ের সঙ্গে তার রক্তের গ্রুপও মিলে যায়। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে দুজন বিয়ে নিবন্ধন করেন। শুরুতে এটি ছিল মূলত বেঁচে থাকার একটি সমঝোতা। ওয়াং ইউয়ের চিকিৎসার সময় তার পাশে থাকবেন এবং পরে তার বাবার দেখাশোনা করবেন। বিনিময়ে ইউ মৃত্যুর পর নিজের একটি কিডনি ওয়াংকে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। দুজন নিজেদের আর্থিক বিষয়ও আলাদা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের কক্ষ, চিকিৎসার দীর্ঘ দিন আর অসুস্থতার মাঝেও একসঙ্গে কাটানো সময় ধীরে ধীরে সেই চুক্তির চরিত্র বদলে দেয়। দুজন একে অন্যের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতেন, অসুস্থতা নিয়েও হাসি-ঠাট্টা করতেন এবং কঠিন সময় পার করতে পরস্পরকে মানসিকভাবে সাহস দিতেন। একসময় তারা বুঝতে পারেন, সম্পর্কটি আর শুধু কিডনির বিনিময়ে করা বিয়ে নেই। এরপর ইউয়ের আবার বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে ওয়াং রাস্তায় ছোট একটি ফুলের স্টল দেন। প্রতিটি ফুলের সঙ্গে তিনি হাতে লেখা কার্ডে তাদের গল্প তুলে ধরতেন। দুই অসুস্থ মানুষের একে অপরকে বাঁচানোর এই গল্প দ্রুত মানুষের নজরে আসে। অনেকেই তাদের ফুল কিনে সহযোগিতা করতে শুরু করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ থেকে প্রায় ৫ লাখ ইউয়ান সংগ্রহ হয়েছিল, যা ইউয়ের চিকিৎসার খরচ মেটাতে বড় ভূমিকা রাখে। চিকিৎসার পর ইউয়ের শারীরিক অবস্থারও উন্নতি হতে থাকে। একই সময়ে ওয়াংয়ের নিজের কিডনি সমস্যাও কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে আসে। তার ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনীয়তা কমে যায় এবং চিকিৎসকেরা একপর্যায়ে জানান, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হয়তো আর নাও হতে পারে। অর্থাৎ যে কিডনির আশায় তাদের বিয়ের শুরু, শেষ পর্যন্ত সেই কিডনির প্রয়োজনই আর রইল না। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুজন আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান করেন। এবার তাদের বিয়ের পেছনে কোনো চুক্তি ছিল না, ছিল দীর্ঘ অসুস্থতার সময় একে অপরের পাশে থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্ক। চীনের শানসি প্রদেশের শিয়ান শহরে পরবর্তীতে তারা একসঙ্গে ফুলের ব্যবসা শুরু করেন। তাদের অসাধারণ জীবনকাহিনি ২০২৪ সালের চীনা সিনেমা ‘ভিভা লা ভিদা’-র অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। যে দুজন একসময় জীবন বাঁচানোর জন্য একটি চুক্তিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তির প্রয়োজনই পড়েনি। বরং কঠিন অসুস্থতার মধ্য দিয়ে একে অপরকে বাঁচাতে গিয়ে তারা খুঁজে পেয়েছিলেন এমন এক সম্পর্ক, যা আজও তাদের একসঙ্গে রেখেছে।
কানাডার টরন্টোতে গথ ধারার স্ট্রিমার পিংচুর সঙ্গে বিশেষ ডেটের আয়োজন করতে ঐতিহাসিক কাসা লোমা দুর্গের পুরোটা ভাড়া নেওয়ার খবর আলোচনায় এসেছে জনপ্রিয় র্যাপার ড্রেককে ঘিরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশাল এই দুর্গে ডেটের সময় ড্রেক ও পিংচু ছাড়া সেখানে ছিলেন শুধু একজন খাবার পরিবেশনকারী, একজন পানীয় পরিবেশনকারী এবং নিরাপত্তাকর্মীরা। ঘটনার সূত্রপাত ড্রেকের সাম্প্রতিক ‘২০ বনাম ১’ নামের ডেটিং অনুষ্ঠান থেকে। ৮ আগস্ট কিক নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে ২০ জন নারীর সঙ্গে ড্রেকের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত তিনজনকে বেছে নেন তিনি। সেই তিনজনের একজন ছিলেন টেক্সাসের কনটেন্ট নির্মাতা ও স্ট্রিমার পিংচু, যার আসল নাম লিন লামার। অনুষ্ঠানে পিংচু ড্রেককে কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করতে বললে তিনি হাসতে হাসতে সেই অনুরোধ পালন করেন। মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। এর আগে ২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে ড্রেক গথ বা বিকল্প ফ্যাশনে আগ্রহী একজন নারীকে নিজের পছন্দের সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এরপর পিংচুর সঙ্গে ড্রেকের ডেটের আয়োজনও হয়ে ওঠে বেশ ব্যতিক্রমী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রেক টরন্টোর ঐতিহাসিক কাসা লোমা দুর্গটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ভাড়া নেন। সেখানে তারা দুজন নির্জনে সুশি খান। কাসা লোমা টরন্টোর অন্যতম পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনা। দুর্গটিতে প্রায় ৯৮টি কক্ষ রয়েছে এবং এর আয়তন প্রায় ২ লাখ বর্গফুট। বিশাল এই স্থাপনাটি বর্তমানে টরন্টোর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্যও এটি ব্যবহার করা হয়। কাসা লোমার নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯১১ সালে এবং ১৯১৪ সালে এর নির্মাণ শেষ হয়। স্থাপনাটি মূলত স্যার হেনরি পেলাটের জন্য নির্মিত হয়েছিল। এর গথিক স্থাপত্য, বিশাল কক্ষ এবং দুর্গসদৃশ নকশার কারণে এটি টরন্টোর অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। ড্রেকের ওই ডেটিং অনুষ্ঠানে পিংচু তার মায়ের জন্য একটি বাড়ি চেয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ড্রেক এতে সম্মতি জানান। পরে পিংচু জানান, তাকে পছন্দের বাড়ির তালিকা খুঁজে পাঠাতে বলা হয়েছে এবং ড্রেক সেই বাড়ির মূল্য পরিশোধ করবেন। তবে ডেটিং অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ড্রেক ও পিংচুর সম্পর্ক কোন দিকে এগিয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। পিংচু জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের পর তাদের মধ্যে ভালো কিছু কথাবার্তা হয়েছে। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। কানাডার টরন্টোতে গথ ধারার স্ট্রিমার পিংচুর সঙ্গে বিশেষ ডেটের আয়োজন করতে ঐতিহাসিক কাসা লোমা দুর্গের পুরোটা ভাড়া নেওয়ার খবর আলোচনায় এসেছে জনপ্রিয় র্যাপার ড্রেককে ঘিরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশাল এই দুর্গে ডেটের সময় ড্রেক ও পিংচু ছাড়া সেখানে ছিলেন শুধু একজন খাবার পরিবেশনকারী, একজন পানীয় পরিবেশনকারী এবং নিরাপত্তাকর্মীরা। ঘটনার সূত্রপাত ড্রেকের সাম্প্রতিক ‘২০ বনাম ১’ নামের ডেটিং অনুষ্ঠান থেকে। ৮ আগস্ট কিক নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে ২০ জন নারীর সঙ্গে ড্রেকের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত তিনজনকে বেছে নেন তিনি। সেই তিনজনের একজন ছিলেন টেক্সাসের কনটেন্ট নির্মাতা ও স্ট্রিমার পিংচু, যার আসল নাম লিন লামার। অনুষ্ঠানে পিংচু ড্রেককে কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করতে বললে তিনি হাসতে হাসতে সেই অনুরোধ পালন করেন। মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। এর আগে ২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে ড্রেক গথ বা বিকল্প ফ্যাশনে আগ্রহী একজন নারীকে নিজের পছন্দের সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এরপর পিংচুর সঙ্গে ড্রেকের ডেটের আয়োজনও হয়ে ওঠে বেশ ব্যতিক্রমী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রেক টরন্টোর ঐতিহাসিক কাসা লোমা দুর্গটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ভাড়া নেন। সেখানে তারা দুজন নির্জনে সুশি খান। কাসা লোমা টরন্টোর অন্যতম পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনা। দুর্গটিতে প্রায় ৯৮টি কক্ষ রয়েছে এবং এর আয়তন প্রায় ২ লাখ বর্গফুট। বিশাল এই স্থাপনাটি বর্তমানে টরন্টোর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্যও এটি ব্যবহার করা হয়। কাসা লোমার নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯১১ সালে এবং ১৯১৪ সালে এর নির্মাণ শেষ হয়। স্থাপনাটি মূলত স্যার হেনরি পেলাটের জন্য নির্মিত হয়েছিল। এর গথিক স্থাপত্য, বিশাল কক্ষ এবং দুর্গসদৃশ নকশার কারণে এটি টরন্টোর অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। ড্রেকের ওই ডেটিং অনুষ্ঠানে পিংচু তার মায়ের জন্য একটি বাড়ি চেয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ড্রেক এতে সম্মতি জানান। পরে পিংচু জানান, তাকে পছন্দের বাড়ির তালিকা খুঁজে পাঠাতে বলা হয়েছে এবং ড্রেক সেই বাড়ির মূল্য পরিশোধ করবেন। তবে ডেটিং অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ড্রেক ও পিংচুর সম্পর্ক কোন দিকে এগিয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। পিংচু জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের পর তাদের মধ্যে ভালো কিছু কথাবার্তা হয়েছে। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
যুক্তরাজ্যের চেস্টার চিড়িয়াখানার ১৫ ফুট লম্বা একটি অজগর মানুষের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি নিয়ে চিকিৎসা পাওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকদের ধারণা, সাপের ক্ষেত্রে এই ধরনের চিকিৎসা ব্যবহারের ঘটনা বিশ্বে প্রথম। ২৩ বছর বয়সী জোডি ফস্টার নামের জালিকাবদ্ধ অজগরটি এখন আবার স্বাভাবিকভাবে খাচ্ছে এবং আগের মতোই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রায় ৪০ কেজি ওজনের এই অজগরের চোয়ালে ক্যানসারের একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বা ফাইব্রোসারকোমা ধরা পড়ে। ২০২৪ সালে চিড়িয়াখানার কর্মীরা লক্ষ্য করেন, জোডি আগের তুলনায় কম খাচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর চোয়ালে টিউমার শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা হয়। কিন্তু পরের বছর টিউমারটি আবার ফিরে আসে এবং ধীরে ধীরে চোয়ালের হাড়েও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। চেস্টার চিড়িয়াখানার চিকিৎসা কর্মকর্তা ইয়ান অ্যাশপোল বলেন, টিউমারের কারণে জোডির খাবার খাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছিল। ফলে শুধু অস্ত্রোপচার করে তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে চিকিৎসকদের উদ্বেগ তৈরি হয়। তখন তাঁরা লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইলেক্ট্রোকেমোথেরাপি পদ্ধতিটি সাপটির ক্ষেত্রে প্রয়োগের উপায় বের করেন। চিকিৎসার আগে জোডিকে তাঁর আবাসস্থলেই অচেতন করা হয়। এরপর তাঁকে চিড়িয়াখানার চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সাপটির আকার এত বড় ছিল যে অস্ত্রোপচারের জন্য দুটি অপারেশন টেবিল পাশাপাশি জুড়ে প্রায় একটি ডাবল বেডের সমান জায়গা তৈরি করতে হয়। অস্ত্রোপচারের সময় শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে উষ্ণ কম্বল ও গরম বাতাস ব্যবহার করা হয়। প্রায় ৯০ মিনিটের অস্ত্রোপচারে টিউমার এবং চোয়ালের আক্রান্ত অংশের কিছুটা অপসারণ করা হয়। এরপর অবশিষ্ট ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে ইলেক্ট্রোকেমোথেরাপি দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে ক্যানসারের ওষুধ ব্লিওমাইসিনের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। নির্দিষ্ট স্থানে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ প্রয়োগ করলে কোষগুলো সাময়িকভাবে ওষুধ গ্রহণে বেশি সক্ষম হয়। ফলে তুলনামূলক কম মাত্রার ওষুধ ব্যবহার করেও আক্রান্ত স্থানে কার্যকরভাবে চিকিৎসা পৌঁছানো সম্ভব হয়। লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট প্রাণীর চিকিৎসাবিজ্ঞান বিভাগের বিশেষজ্ঞ হোসে আলভারেজ পিকর্নেল জানিয়েছেন, এই চিকিৎসা পদ্ধতির বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। যাতে বিশ্বের অন্যান্য পশুচিকিৎসকও এ অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে একই ধরনের চিকিৎসা প্রয়োগ করতে পারেন। চিকিৎসার পর জোডির শারীরিক অবস্থায় দ্রুত উন্নতি দেখা যায়। চলতি সপ্তাহে করা সর্বশেষ পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ক্যানসার ফিরে আসার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তাঁর খাবারের রুচিও স্বাভাবিক হয়েছে। চিড়িয়াখানা প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁকে পুরো একটি মুরগি খেতে দেখা গেছে। অজগরের জন্য খাবার গেলার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সাপ শিকারকে গিলে খাওয়ার সময় চোয়াল ব্যাপকভাবে প্রসারিত করতে পারে এবং নিজের মাথার চেয়েও বড় আকারের শিকার গিলে ফেলতে সক্ষম। অস্ত্রোপচারের পরও জোডির এই স্বাভাবিক ক্ষমতায় কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ইয়ান অ্যাশপোল বলেন, কয়েক মাস আগেও তাঁরা নিশ্চিত ছিলেন না জোডি বেঁচে থাকবে কি না। এখন তাঁকে স্বাভাবিকভাবে খেতে, নিজের আবাসস্থল ঘুরে দেখতে এবং আগের মতো সক্রিয় থাকতে দেখে চিকিৎসক ও পরিচর্যাকারীরা স্বস্তি পেয়েছেন। তাঁর মতে, মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত পদ্ধতিকে পশুচিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত করার এই ঘটনা প্রাণীদের চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিরও একটি উদাহরণ। জোডি ফস্টারের নামটিও বেশ মজার একটি কারণে রাখা হয়েছিল। প্রায় দুই দশক আগে চেস্টার চিড়িয়াখানায় আসার সময় সাপটির কোনো নাম ছিল না। তার নথিতে ‘JF’ লেখা ছিল, যার অর্থ ছিল ‘জুভেনাইল ফিমেল’ বা অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী সাপ। একই আদ্যক্ষর হওয়ায় চিড়িয়াখানার কর্মীরা হলিউড অভিনেত্রী জোডি ফস্টারের নাম অনুসারে সাপটির নাম রাখেন। চিড়িয়াখানার চিকিৎসকদের এই সাফল্য এখন শুধু জোডি ফস্টারের সুস্থতার খবর নয়, বরং প্রাণীদের ক্যানসার চিকিৎসায় মানুষের জন্য তৈরি চিকিৎসাপদ্ধতি কীভাবে নতুনভাবে ব্যবহার করা যায়, তারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তবে এই পদ্ধতি অন্য সাপের ক্ষেত্রেও একইভাবে কার্যকর হবে কি না, তা জানতে আরও গবেষণা ও চিকিৎসার তথ্য প্রয়োজন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাবেক প্রেমিকাকে অপহরণ, যৌন নির্যাতন ও হত্যার রোমহর্ষক পরিকল্পনা করার অভিযোগে ড্যারেন ঝো নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই ভয়ংকর অপরাধের পুরো ছকটি তিনি কষেছিলেন জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’র সঙ্গে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই ওই যুবকের অস্বাভাবিক কথোপকথন শনাক্ত করে এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে জানিয়ে দেয়। এরপরই তদন্তে নেমে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মার্কিন আইনি সংবাদমাধ্যম ম্যাসাচুসেটস লয়্যারস উইকলি এবং এনডিটিভির প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য সামনে এসেছে। আদালতের নথির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ড্যারেন ঝো ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসে একজন বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করতেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে তার ছয় মাসের প্রেমের সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর থেকেই তিনি সাবেক প্রেমিকাকে নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা শুরু করেন। তদন্তকারীদের কাছে ঝো স্বীকার করেছেন যে, বিচ্ছেদের পর সাবেক প্রেমিকার আশপাশে অন্য পুরুষদের উপস্থিতি নিয়ে তিনি প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত ছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ঝোর কথোপকথনগুলো কেবল আবেগ বা ক্ষোভ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং মাসের পর মাস ধরে সেখানে নিখুঁতভাবে সহিংসতার পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছিল। এমনকি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কীভাবে সামাল দিতে হবে, তারও বিস্তারিত আলোচনা ছিল ওই চ্যাটে। একপর্যায়ে ঝো চ্যাটজিপিটিকে জানান, তিনি ফুল হাতে তার সাবেক প্রেমিকার জিমের পার্কিং এলাকায় অপেক্ষা করবেন এবং সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লাগানোর প্রস্তাব দেবেন। যদি তরুণী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তবে তাকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করবেন। পরবর্তীতে এই পরিকল্পনার মাত্রা আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। চ্যাটজিপিটির সঙ্গে আলোচনায় ঝো তার সাবেক প্রেমিকাকে জিম্মি করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার এবং সেখানে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন করার ছক কষেন। পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী হস্তক্ষেপ করলে তাদের ওপরও হামলা চালানোর পাশাপাশি তরুণীর পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষতি করার হুমকি উঠে আসে ওই কথোপকথনে। এই ঘটনাগুলো আঁচ করতে পেরেই ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ এফবিআইকে সতর্ক করে। তদন্তের অংশ হিসেবে ২১ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গেও কথা বলে পুলিশ। তিনি জানান, ড্যারেন ঝোর অস্বাভাবিক, সন্দেহবাতিক ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের কারণেই তিনি সম্পর্কটি শেষ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এমনকি ঝোর উগ্র আচরণে এতটাই ভয় পেয়েছিলেন যে, সামনাসামনি কথা না বলে ফোনেই তিনি বিচ্ছেদের কথা জানান। ওই তরুণীর অভিযোগ, বিচ্ছেদের পরও ঝো ফোন, খুদে বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ক্রমাগত হয়রানি করতে থাকেন। অন্য পুরুষদের নিয়ে অবান্তর প্রশ্ন করা এবং তিনি দ্রুত নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন—এমন ভিত্তিহীন অভিযোগও করতেন ঝো। একপর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে তরুণী ঝোর ফোন নম্বর ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেন। কিন্তু এরপর বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে নতুন নতুন ভুয়া নম্বর থেকে ঝো যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। এসব বার্তায় চরম হয়রানি, অপমানজনক বক্তব্য, যৌন ইঙ্গিত এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। প্রমাণ হিসেবে ওই তরুণী এসব কথোপকথনের স্ক্রিনশট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। গ্রেপ্তারের মাত্র ছয় দিন আগে এফবিআই পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়কে ঝোর এই ভয়ংকর কথোপকথনের বিষয়ে সতর্ক করে। পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের একজন ডেপুটি জানান, তদন্তে তারা চ্যাটজিপিটির প্রায় দুই মাসের চ্যাট হিস্ট্রি বা কথোপকথনের ইতিহাস পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, এটি কেবল হতাশা বা রাগের বহিঃপ্রকাশ ছিল না, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি অপরাধের প্রস্তুতি ছিল। গত মে মাসে ড্যারেন ঝোকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাম বিচ কাউন্টি কারাগারে দুই দিন বন্দি থাকার পর এক লাখ ডলারের মুচলেকায় তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে গুরুতরভাবে অনুসরণ বা হয়রানি করা (স্টকিং), লিখিতভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং মোবাইল ফোনের অবৈধ ব্যবহারের মতো সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও নজরদারির ক্ষেত্রে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যালবানিতে অবস্থিত ক্যাপিটল ভবনে বোমা হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে জেসিকা বোয়ি (৩৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই হামলার ছক কষেন। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ২০০১ সালের ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার পর এই নারীই আমেরিকার পতাকা হাতে রাস্তায় নেমেছিলেন, অথচ এখন তিনি সেই হামলারই বন্দনা করছেন। গত বুধবার অ্যালবানি থেকে জেসিকা বোয়িকে গ্রেপ্তার করা হয়। মার্কিন গোয়েন্দাদের দেওয়া ফৌজদারি অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ক্যাপিটল ভবনে ‘ডোরড্যাশ’ ফুড ডেলিভারি ব্যাগের ভেতরে বোমা রেখে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ওই নারী। পাঁচ বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে জেসিকা নিজের নাম রাখেন ‘আয়েশা সাইফ’। গ্রেপ্তারের দিন তিনি গাড়ির ভেতর এফবিআইয়ের দুই গোপন তথ্যদাতার সাথে দেখা করেন। সেখানে তিনি স্বীকার করেন যে, একসময় আমেরিকাকে ভালোবাসলেও তিনি এখন আর আগের মানুষটি নেই। অভিযোগপত্রে বলা হয়, তথ্যদাতাকে জেসিকা জানান, ৯/১১-এর পর আমেরিকার পতাকা ওড়ানো সেই ছোট্ট মেয়েটি এখন টুইন টাওয়ার ধ্বংসের স্টিকার নিজের কাছে রাখেন। ২০০১ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। বুধবারের ওই বৈঠকের ভিডিও ও অডিও রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, জেসিকা একটি পিস্তল ও গুলি কেনার জন্য ওই তথ্যদাতাকে ১৫০ ডলার নগদ অর্থ দেন। যদিও অস্ত্রগুলো ছিল নিস্ক্রিয়। এছাড়া গত ৫ আগস্ট বোরকা পরিহিত অবস্থায় ‘হোম ডিপো’ থেকে কেনা সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি একটি নিস্ক্রিয় বোমাও জেসিকাকে দেখান ওই তথ্যদাতা। এরপর তিনি বোমা তৈরির জন্য আরও ২০০ ডলার অনুদান দেন এবং জানান যে, তিনি একটি বড় হামলায় অর্থায়ন করতে চান। জেসিকা অত্যন্ত নির্দয়ভাবে ওই তথ্যদাতাকে এও জানান যে, তার রুমমেট যদি ভুলবশত বোমার সরঞ্জামগুলো দেখে ফেলে, তবে তাকে চুপচাপ হত্যা করবেন তিনি। এমনকি তাকে টুকরো করার কথাও বলেন তিনি। অস্ত্র ও ভুয়া বিস্ফোরক নিয়ে গাড়ি থেকে নামার পরপরই এফবিআই তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে কয়েকটি ছুরি এবং আইএস-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের হাতে লেখা একটি শপথপত্র বা বায়াহ উদ্ধার করা হয়। হামলার পরিকল্পনার আগে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে তাকে নজরদারিতে রেখেছিল মার্কিন কর্তৃপক্ষ। রাজ্য আইনসভার ভেতরে থাকা প্রায় ২০০ মানুষের অন্তত অর্ধেককে হত্যার পরিকল্পনা ছিল তার। গত ২৯ জুলাই তিনি এক তথ্যদাতাকে খুদে বার্তায় লিখেছিলেন, “আমি ভবনের যতটা সম্ভব ধ্বংস করতে চাই এবং বৈঠক চলাকালীন সিনেটরদের হত্যা করতে চাই। আমি চাই তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিও ধ্বংস হোক।” অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্যাপিটল ভবনের আশেপাশে নজরদারি চালান এবং কাছাকাছি একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ভবনের বিভিন্ন ছবি তোলেন। মার্কিন গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এই আইএস অনুসারী হামলা সফল করার পর সিরিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন। গত ৫ আগস্ট তিনি তথ্যদাতাকে জানিয়েছিলেন, হামলা সফল হলে পরবর্তীতে ‘টাইম স্কয়ারে নববর্ষের আগের রাতে’ আরও বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতেন তিনি। কীভাবে তিনি ইসলামি চরমপন্থীদের সাথে যুক্ত হলেন, তা পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও বৃহস্পতিবার ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিউইয়র্কের শেনেকট্যাডির এই বাসিন্দা মূলত অনলাইনে কট্টরপন্থায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভুয়া প্রোফাইল খুলে তিনি আমেরিকান বিরোধী বার্তা ছড়াতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২৮ মে তার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ৯/১১ হামলার প্রশংসা করে একটি পোস্টও দেওয়া হয়। অ্যালবানির এফবিআই ফিল্ড অফিসের স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ ক্রেইগ এল. ট্রেমারোলি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, জেসিকা বোয়ি কেবল আইনপ্রণেতাদের হত্যা করতেই চাননি, তিনি আমাদের সরকারের সম্পূর্ণ ধ্বংস চেয়েছিলেন।
ক্রেডিট কার্ডের ঋণের বোঝা বাড়ছে ফ্লোরিডাবাসীর ওপর। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ফ্লোরিডায় ক্রেডিট রিপোর্ট থাকা একজন বাসিন্দার গড় ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০ ডলারে, যা পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড়ের চেয়ে ৭০০ ডলার বেশি। ডিজিটাল পার্সোনাল ফাইন্যান্স কোম্পানি অ্যাচিভ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের কনজিউমার ক্রেডিট প্যানেলের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গড় ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্সের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে ফ্লোরিডার অবস্থান ষষ্ঠ। ২০২৪ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের তুলনায় ২০২৫ সালের একই সময়ে ফ্লোরিডায় গড় ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স বেড়েছে ২১০ ডলার, যা ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড় ব্যালেন্স ৪ হাজার ১৮০ ডলার থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৩৫০ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে এক বছরে গড় ব্যালেন্স বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। ফ্লোরিডার চেয়ে বেশি গড় ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স রয়েছে পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে। এগুলো হলো আলাস্কা, হাওয়াই, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড ও নেভাদা। এর মধ্যে আলাস্কা শীর্ষে রয়েছে, যেখানে গড় ব্যালেন্স ৫ হাজার ২৫০ ডলার। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি অঙ্গরাজ্যে এখন গড় ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স ৫ হাজার ডলার বা তার বেশি। ক্রেডিট কার্ডের ব্যালেন্স ২০২৫ সালে বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত সব অঙ্গরাজ্যেই বেড়েছে। জাতীয় পর্যায়েও ক্রেডিট কার্ড ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে মোট ক্রেডিট কার্ড ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ২৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এক বছরের তুলনায় এটি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। তবে গড় ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্সের এই পরিসংখ্যানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। অ্যাচিভের হিসাব করা গড় ব্যালেন্স বলতে ক্রেডিট রিপোর্ট থাকা বাসিন্দাদের নামে থাকা ক্রেডিট কার্ডের মোট ব্যালেন্সের গড় বোঝানো হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি প্রতি মাসে তার পুরো ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধ করেন কি না, তা জানা যায় না। অর্থাৎ, ৫ হাজার ৫০ ডলারের গড় ব্যালেন্স থাকা মানেই প্রত্যেক ফ্লোরিডাবাসী ওই পরিমাণ ঋণের ওপর সুদ দিচ্ছেন, এমন নয়। অনেক কার্ডধারী মাস শেষে পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ করতে পারেন। অন্যদিকে যারা ব্যালেন্স বহন করেন, তাদের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার বেশি হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ পরিশোধের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের তথ্য আরও দেখায়, ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স এক প্রান্তিকে ৪৪ বিলিয়ন ডলার বেড়েছিল। বছরের শেষে মোট ক্রেডিট কার্ড ঋণ ছিল ১ দশমিক ২৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে অবশ্য ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স ২৫ বিলিয়ন ডলার কমে প্রায় ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক এটিকে বছরের প্রথম প্রান্তিকে সাধারণত দেখা যাওয়া মৌসুমি পরিবর্তনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফ্লোরিডায় গড় ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স জাতীয় গড়ের তুলনায় ৭০০ ডলার বেশি হওয়ার তথ্য তাই রাজ্যটির ভোক্তা ঋণের ওপর বাড়তে থাকা চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে।
সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। বিশেষ করে জেনারেশন জেড বা জেন-জি প্রবাসীদের একটি অংশ তুলনামূলক ভালো চিকিৎসাসেবা, কম খরচ, বেশি মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ নাগরিকত্বের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। গ্রিনব্যাক এক্সপ্যাট ট্যাক্স সার্ভিসেসের একটি জরিপে দেখা গেছে, বিদেশে বসবাসরত মার্কিন জেন-জি প্রবাসীদের ২৮ শতাংশ ইতোমধ্যে বিদেশে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। আরও ৬৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। জরিপের ফলাফল নিয়ে ভাইসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া সব মার্কিন প্রবাসীর মধ্যে ৫৪ শতাংশ জানিয়েছেন, বিদেশে বসবাসের সময় তাঁদের সন্তান জন্ম হয়েছে। প্রজন্মভেদে সহস্রাব্দ প্রজন্ম বা মিলেনিয়ালরা এ ক্ষেত্রে এগিয়ে। তাঁদের প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। জেন-জি প্রবাসীদের মধ্যে এই হার ২৮ শতাংশ হলেও ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ্রহ তাঁদের মধ্যে বেশ বেশি। বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার পেছনে শুধু ভ্রমণের আগ্রহ কাজ করছে না। তরুণ মার্কিন বাবা-মায়েদের কাছে জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে। জরিপে চিকিৎসাসেবার মান, সন্তান জন্ম দেওয়ার খরচ, নাগরিকত্বের সুবিধা এবং মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটির নীতিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রক্রিয়া তাঁদের কাছে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মনে হয়েছে। কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির মতো দেশগুলো এ ক্ষেত্রে অনেক মার্কিন পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এসব দেশে স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারকেন্দ্রিক বিভিন্ন সরকারি সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু পরিবার বিদেশকে বিকল্প হিসেবে দেখছে। নাগরিকত্বও অনেকের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিছু দেশে জন্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ থাকায় সন্তানের ভবিষ্যৎ ভ্রমণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা। জরিপে প্রায় চারজনের মধ্যে তিনজন প্রবাসী বলেছেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার দেশ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা তাঁদের বিবেচনায় থাকে। তবে বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সবার অবস্থান এক নয়। জরিপে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রবাসী বলেছেন, সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে তাঁরা সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা বিবেচনা করবেন। প্রায় ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, পরিবার বা বন্ধুদের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য তাঁদের ওপর চাপ ছিল। তারপরও অনেকে বিদেশেই সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। জরিপে পাঁচজনের মধ্যে একজনের বেশি বলেছেন, ভবিষ্যতে সুযোগ থাকলেও তাঁরা বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়াকেই বেছে নেবেন। বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমদিকে অবশ্য অনেকের উদ্বেগ থাকে। জেন-জি ও মিলেনিয়াল প্রবাসীদের অর্ধেকের বেশি জানিয়েছেন, বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার চিন্তায় তাঁরা শুরুতে অস্বস্তি বা দুশ্চিন্তা অনুভব করেছিলেন। কিন্তু যারা শেষ পর্যন্ত বিদেশে সন্তান জন্ম দিয়েছেন, তাঁদের বড় অংশ অভিজ্ঞতাটি নিয়ে সন্তুষ্ট। জরিপ অনুযায়ী, বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়া মিলেনিয়ালদের ৯৩ শতাংশ এবং জেন-জির ৮৯ শতাংশ অন্যদেরও এমন অভিজ্ঞতার সুপারিশ করবেন বলে জানিয়েছেন। এর পেছনে আরও একটি পরিবর্তন কাজ করছে। দূরবর্তী কাজের সুযোগ বাড়ায় অনেক তরুণ মার্কিন নাগরিকের কর্মস্থল ও বসবাসের জায়গার মধ্যে আগের মতো কঠোর সম্পর্ক নেই। ফলে সন্তান জন্ম, পরিবার গঠন কিংবা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য অন্য দেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াও তুলনামূলক সহজ হচ্ছে। তবে জরিপটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সব জেন-জি বাবা-মায়ের ওপর করা কোনো জাতীয় জনসংখ্যাভিত্তিক জরিপ নয়। মূলত বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন প্রবাসীদের মধ্যে পরিচালিত জরিপের ফলাফল থেকে এই প্রবণতার চিত্র পাওয়া গেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সব তরুণ পরিবার বিদেশে সন্তান জন্ম দিতে চাইছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। গ্রিনব্যাকের অন্যান্য গবেষণাতেও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসকারী নাগরিকদের মধ্যে জীবনযাত্রার মান, খরচ, স্বাস্থ্যসেবা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবনা বিদেশে থাকার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। ২০২৫ সালের তাদের আরেক জরিপে ৩৫ শতাংশ সাধারণ মার্কিন উত্তরদাতা বিদেশে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মের মূলধারার সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠেনি। তবে জেন-জি প্রবাসীদের মধ্যে চিকিৎসা খরচ, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবারবান্ধব নীতি ও ভবিষ্যৎ নাগরিকত্বের সুযোগকে গুরুত্ব দিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার দেশ বেছে নেওয়ার প্রবণতা যে তৈরি হয়েছে, জরিপের ফলাফল তা স্পষ্ট করছে।
ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেখানে গড়ে উঠেছে বিশাল এক কালোবাজার বা চোরাচালান অর্থনীতি। সাধারণ ফিলিস্তিনিদের চড়া দামে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ব্যাটারি বা ওষুধ কিনতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই চোরাচালানের মাধ্যমে ইসরায়েলি সেনা, মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী এবং গাজার হামাস সরকার সবাই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। আদালতের নথি, ব্যবসায়ী, ট্রাকচালক ও কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এপি জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ইসরায়েল। বর্তমানে এই পণ্যটি চোরাকারবারিদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক খাতে পরিণত হয়েছে। শুধু সিগারেট নয়, আইফোন, সোলার প্যানেল থেকে শুরু করে জ্বালানি ও চেতনানাশক ওষুধও অবৈধভাবে গাজায় ঢুকছে। ইসরায়েল কিছু পণ্যের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে এবং অনেক পণ্যকে 'দ্বৈত ব্যবহারের' অজুহাতে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে। ইসরায়েলের দাবি, কংক্রিট, গাড়ির যন্ত্রাংশ বা এক্স-রে মেশিনের মতো জিনিসগুলো হামাস সামরিক কাজে ব্যবহার করতে পারে। গাজায় পণ্য প্রবেশের ওপর ইসরায়েলের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে বাধ্য হয়েই অনেকেই চোরাচালানের পথ বেছে নিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শীর্ষ ব্যবসায়ী ও ট্রাকচালক জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর কিছু সদস্য অর্থের বিনিময়ে এই অবৈধ বাণিজ্যে সহায়তা করতে প্রস্তুত। এক ব্যবসায়ী বলেন, দখলদাররা তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা রাখেনি, তাই চোরাচালান এখন রোজকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে তাদের এবং ইসরায়েলি সেনাদের লাভ হওয়ার পাশাপাশি গাজার মানুষও অন্তত খাবার বা পণ্যটুকু পাচ্ছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা চোরাচালান রোধে কঠোরভাবে কাজ করছে এবং কোনো সেনার জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় সব ধরনের পণ্য প্রবেশের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ইসরায়েল। বর্তমানে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সংস্থার পাশাপাশি মাত্র ১২ জন ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীকে গাজায় বাণিজ্যিকভাবে পণ্য আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি চালানের আগে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীরা তাই চোরাকারবারিদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এমনকি হাসপাতালগুলোও জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য এই কালোবাজারের ওপর নির্ভরশীল। ব্যবসায়ীরা জানান, তারা 'সমন্বয়ক' বা কো-অর্ডিনেটরদের কাছে পণ্যের তালিকা পাঠান। এই সমন্বয়করা ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরের মধ্যস্বত্বভোগী। পণ্যগুলো মূলত দক্ষিণ গাজার কেরেম শালোম ক্রসিং দিয়ে ঢোকে। চোরাকারবারিরা অনেক সময় ইসরায়েলি সেনাদের ঘুষ দিয়ে ট্রাক পার করে, আবার কখনো কখনো সরাসরি সামরিক যানে করেও পণ্য ভেতরে আনা হয়। আদালতের নথিতে 'আবু বাসেল' নামে এক রহস্যময় চোরাচালান সমন্বয়কের নাম উঠে এসেছে, যার সাথে ইসরায়েলি পুলিশের গভীর সখ্যতা রয়েছে। গাজার ব্যবসায়ীদের মতে, আবু বাসেল এই জগতের অঘোষিত সম্রাট; তার ইশারা ছাড়া গাজায় কিছুই ঢোকে না। গাজার ব্যবসায়ীদের দাবি, চোরাচালান হওয়া পণ্যের ওপর হামাস পরিচালিত সরকারও মোটা অঙ্কের 'কর' বা ভাগ বসায়। ফিলিস্তিনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ বারবাখ জানান, ব্যবসায়ীরা নিজে থেকে জানালে সরকার পণ্যের মূল্যের ২০ শতাংশ নেয়। কিন্তু না জানিয়ে ধরা পড়লে তা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। হামাস প্রশাসনের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে চোরাচালান হওয়া পণ্য থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে সরকারি চাকরিজীবী ও পুলিশদের বেতন দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি আদালতেও চোরাচালানে জড়িত থাকার দায়ে বেশ কয়েকজন রিজার্ভ সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে শিন বেত-এর প্রধানের ভাই বেজালেল জিনির নামও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সামরিক যানে করে সিগারেট পার করার জন্য তিনি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার ঘুষ নিয়েছিলেন। এছাড়া আলগারাবলি নামের দুই ভাই মাত্র তিন মাসে চোরাচালান থেকে প্রায় ২২ লাখ ডলার আয় করেছেন। কালোবাজারের এই রমরমা বাণিজ্যের চূড়ান্ত মাশুল গুনতে হচ্ছে গাজার সাধারণ মানুষকে। যুদ্ধের আগে যে গাড়ির ব্যাটারির দাম ছিল ১৪০ ডলার, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ ডলারে। ১৬ সেন্টের সোলার প্যানেল বিক্রি হচ্ছে ৩.২৫ ডলারে। তবে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সিগারেটের। এক প্যাকেট সিগারেটের দাম কখনো কখনো ১৪০ ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের সম্পূর্ণ অবরোধের সময় এটি ১০০০ ডলারেও বিক্রি হয়েছিল। রাফাহ শহর থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া মোহাম্মদ আবুয়েল-এনেইন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ফ্যানের মতো সাধারণ জিনিসও ইসরায়েল ঢুকতে দিচ্ছে না। ক্রসিং দিয়ে ফ্যান ঢুকলে কী ক্ষতি হবে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। ফ্যান দিয়ে কেউ রকেট বানাবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, তীব্র গরমে বাচ্চাদের গায়ে পানি ছিটিয়ে তাদের দিন পার করতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত অভিবাসীদের জন্য কিছু ফেরতযোগ্য কর সুবিধা সীমিত করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নির্দিষ্ট চার ধরনের কর ক্রেডিট থেকে করের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন যোগ্যতা না থাকা অভিবাসীরা। তবে তাঁরা নিজেদের বকেয়া আয়কর কমানোর জন্য এসব কর ক্রেডিটের মূল অংশ ব্যবহার করতে পারবেন। বুধবার প্রকাশিত প্রস্তাবিত বিধিমালায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস) বলেছে, ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল কল্যাণ আইন অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ নন এমন ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ওপর যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তার আওতায় ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশও পড়বে। প্রস্তাবটি এখন জনমত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামতের জন্য উন্মুক্ত। নতুন প্রস্তাবটি চার ধরনের কর ক্রেডিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এগুলো হলো দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিট, শিশু কর ক্রেডিট, আমেরিকান অপরচুনিটি কর ক্রেডিট এবং অর্জিত আয় কর ক্রেডিট। এই কর ক্রেডিটগুলোর বিশেষত্ব হলো, এগুলো ফেরতযোগ্য। অর্থাৎ কোনো করদাতার পাওনা করের পরিমাণের চেয়ে ক্রেডিট বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ সাধারণত কর ফেরত হিসেবে পাওয়া যায়। নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলে অননুমোদিত অভিবাসীরা তাঁদের করের দায় কমানোর জন্য ক্রেডিট ব্যবহার করতে পারলেও অতিরিক্ত অংশ নগদ ফেরত হিসেবে পাবেন না। অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের ফেরতযোগ্য অংশ পেতে হলে করদাতাকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বসম্পন্ন ব্যক্তি অথবা ১৯৯৬ সালের আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ হতে হবে। কর ক্রেডিট প্রথমবার দাবি করার সময় এই যোগ্যতা থাকতে হবে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, করদাতাদের অর্থ এমন ব্যক্তিদের সুবিধায় ব্যবহার করা উচিত নয়, যাঁরা ফেডারেল আইনের অধীনে ওই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। আইআরএস কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানোও বলেছেন, নতুন প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো ফেডারেল অর্থায়নে দেওয়া সুবিধা কেবল যোগ্য করদাতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। আইআরএসের হিসাবে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে সরকারের বছরে সর্বোচ্চ ২.৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। তবে এই হিসাব প্রস্তাবিত নিয়মের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, নিশ্চিত সাশ্রয়ের পরিমাণ নয়। এই উদ্যোগের পেছনে ১৯৯৬ সালের ‘পার্সোনাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড ওয়ার্ক অপরচুনিটি রিকনসিলিয়েশন অ্যাক্ট’ বা কল্যাণ সংস্কার আইনকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই আইনে নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসীদের জন্য যোগ্যতার শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। তবে কয়েক দশক ধরে কর ক্রেডিটকে ওই আইনের আওতায় সরাসরি ‘সরকারি সুবিধা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনের ব্যাখ্যা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। নতুন প্রস্তাবের যুক্তি হলো, কোনো কর ক্রেডিট শুধু করের দায় কমিয়ে দিলে সেটি এক বিষয়, কিন্তু করের দায়ের অতিরিক্ত অর্থ সরকার থেকে সরাসরি ফেরত দেওয়া হলে সেটি সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম অবশ্য সব ধরনের অভিবাসন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে না। আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, শরণার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত এক বছরের জন্য বিশেষ ‘প্যারোল’ মর্যাদায় প্রবেশের অনুমতি পাওয়া কিছু ব্যক্তিকে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রতিটি কর ক্রেডিটের নিজস্ব আয়সীমা ও অর্থ পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিটের একটি নির্দিষ্ট অংশ ফেরতযোগ্য। আবার শিশু কর ক্রেডিট ও অর্জিত আয় কর ক্রেডিট মূলত নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা পরিবার ও কর্মজীবীদের করের বোঝা কমাতে সহায়তা করে। আইআরএসের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, কোনো দম্পতি যৌথভাবে কর বিবরণী জমা দিলে তাঁদের মধ্যে একজন সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের যোগ্য হলেই ফেরতযোগ্য অংশ দাবি করার সুযোগ থাকতে পারে। অর্থাৎ যৌথ কর বিবরণীর ক্ষেত্রে উভয় ব্যক্তির একই ধরনের যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে নতুন বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা শেষে ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস প্রস্তাবটি পরিবর্তন, চূড়ান্ত বা প্রত্যাহার করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের একটি নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ। ওই নির্দেশনায় ফেডারেল সংস্থাগুলোকে ১৯৯৬ সালের কল্যাণ সংস্কার আইনের বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর ট্রেজারি বিভাগ বিচার বিভাগের আইন পরামর্শ দপ্তরের কাছে ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশ ওই আইনের আওতায় পড়ে কি না, সে বিষয়ে মতামত চায়। প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইন পরামর্শ দপ্তর মত দিয়েছে যে কর ক্রেডিটের যে অংশ করদাতাকে নগদ অর্থ হিসেবে ফেরত দেওয়া হয়, সেটি সরকারি সুবিধার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। নতুন নিয়মটি অবশ্য ওবামা প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ‘ওবামাকেয়ার’-এর প্রিমিয়াম কর ক্রেডিটে প্রযোজ্য হবে না। ট্রেজারি ও আইআরএস জানিয়েছে, ওই কর সুবিধা নিয়ে ইতোমধ্যেই পৃথক আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। একইভাবে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য চালু হওয়া নতুন ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ এবং যোগ্য শিশুদের জন্য নির্ধারিত এককালীন ১ হাজার ডলারের অর্থও এই প্রস্তাবের আওতায় পড়বে না। কারণ এসব সুবিধা আইন অনুযায়ী শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে চলমান বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের অংশ। তবে প্রস্তাবিত বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় বাস্তবে কখন থেকে এর প্রভাব পড়বে এবং কোন কোন করদাতা ঠিক কতটা সুবিধা হারাবেন, তা চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীষ্মের কোভিড ঢেউ আরও বিস্তৃত হয়েছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর সর্বশেষ মহামারি প্রবণতা মডেল অনুযায়ী, ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ছে অথবা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু আইওয়ায় পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় সংক্রমণের প্রবণতা নির্ধারণ করতে পারেনি সংস্থাটি। সিডিসির ১২ আগস্ট পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, ৪৭টি অঙ্গরাজ্যকে ‘বাড়ছে’ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার, রোড আইল্যান্ড ও ওয়াশিংটন ডিসিকে ‘বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। কোনো অঙ্গরাজ্যকে বর্তমানে সংক্রমণ ‘অপরিবর্তিত’, ‘কমছে’ বা ‘কমার সম্ভাবনা রয়েছে’ হিসেবে দেখানো হয়নি। সিডিসির এই মডেল প্রতি সপ্তাহে হালনাগাদ করা হয় এবং সংক্রমণের প্রবণতা অনুমান করতে জরুরি বিভাগে রোগী আসার তথ্যসহ বিভিন্ন নজরদারি তথ্য ব্যবহার করে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগের চিত্রের সঙ্গে এটি বড় পার্থক্য। জুলাইয়ের শেষ দিকে সিডিসির তথ্য বলেছিল, দেশটির ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে কোভিড সংক্রমণ বাড়ছিল বা বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। আরও ১১টি অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। সর্বশেষ মানচিত্রে সেই স্থিতিশীল অবস্থায় থাকা অঙ্গরাজ্যগুলো আর নেই। ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, ইলিনয় ও জর্জিয়ার মতো বড় অঙ্গরাজ্যেও সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ শুধু দেশের কোনো একটি অঞ্চল নয়, দক্ষিণ, পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়েই একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে সিডিসির এই মানচিত্রকে সরাসরি বর্তমানে কতজন মানুষ কোভিডে আক্রান্ত, তার হিসাব হিসেবে দেখা যাবে না। সংস্থাটির ‘কারেন্ট এপিডেমিক ট্রেন্ডস’ মডেল মূলত সংক্রমণের দিক নির্ধারণ করে। অর্থাৎ কোনো এলাকায় ভাইরাসের বিস্তার বাড়ছে, কমছে নাকি মোটামুটি একই অবস্থায় রয়েছে, সেটিই এখানে দেখানো হয়। এই ধরনের প্রবণতা শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সরাসরি রোগীর সংখ্যা বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসার আগেই সংক্রমণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, এই মডেলে সংক্রমণের বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং ‘আর’ বা প্রজনন হারও হিসাব করা হয়। সাম্প্রতিক প্রবণতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা অবশ্য আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পেকোসজ নিউজউইককে বলেন, গ্রীষ্মের শেষভাগ ও শরতের শুরুতে কোভিড সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, বর্তমানে সংক্রমণ বাড়লেও তা হঠাৎ করে ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নয়। পেকোসজের মতে, কোভিড এখন মহামারি পর্যায়ের পরিবর্তে অনেকটাই মৌসুমি রোগের মতো আচরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে এমন কোনো নতুন ধরন বা পরিবর্তিত ধরন দেখা যাচ্ছে না, যা বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে রোগটি পর্যবেক্ষণে রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। সান ফ্রান্সিসকোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ পিটার চিন-হংও বলেছেন, সর্বশেষ তথ্য যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একটি বিস্তৃত কোভিড সংক্রমণ ঢেউয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে দেশজুড়ে সংক্রমণ বাড়ছে মানেই বিপুলসংখ্যক মানুষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়বেন, এমনটা নয়। তাঁর মতে, মানুষের শরীরে আগের সংক্রমণ ও টিকার মাধ্যমে তৈরি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখন তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে অতীতের মতো ব্যাপক গুরুতর অসুস্থতা নাও দেখা যেতে পারে। তবে বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী, গুরুতরভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তি এবং খুব ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি এখনও বেশি। সিডিসির সর্বশেষ শ্বাসতন্ত্রের রোগবিষয়ক তথ্যেও দেশটির সামগ্রিক পরিস্থিতিকে তুলনামূলকভাবে নিম্ন পর্যায়ে দেখানো হয়েছে। ৭ আগস্টের আপডেটে সংস্থাটি জানিয়েছিল, অনেক এলাকায় কোভিডের কার্যক্রম কম থাকলেও পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে তা বাড়তে শুরু করেছে। জরুরি বিভাগে কোভিড-সংক্রান্ত রোগীর উপস্থিতিও ‘খুব কম’ পর্যায়ে ছিল, যদিও প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংক্রমণের প্রবণতা বাড়া আর গুরুতর রোগীর সংখ্যা বাড়া এক বিষয় নয়। সিডিসির মডেল মূলত ভাইরাসের বিস্তারের গতি দেখছে। হাসপাতালে ভর্তি, মৃত্যু কিংবা গুরুতর অসুস্থতার পরিস্থিতি বোঝার জন্য আলাদা তথ্য দেখতে হয়। সিডিসি জাতীয় পর্যায়ে কোভিডের বিভিন্ন সূচক, জরুরি বিভাগে রোগীর উপস্থিতি, হাসপাতালে ভর্তি এবং বর্জ্যপানির নমুনাসহ একাধিক তথ্য ব্যবহার করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। বর্জ্যপানি নজরদারিও কোভিডের বিস্তার বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। মানুষের বর্জ্যপানির নমুনায় ভাইরাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করে কোনো এলাকায় সংক্রমণের মাত্রা ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সিডিসির এ সংক্রান্ত তথ্য প্রতি সপ্তাহে হালনাগাদ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মের শেষভাগে মানুষের ভ্রমণ, ঘরের ভেতরে বেশি সময় কাটানো এবং মৌসুমি পরিবর্তনের মতো বিষয়ও সংক্রমণের বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো নতুন ভাইরাসের ধরন শনাক্ত হয়নি, যা আগের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে গুরুতর রোগ সৃষ্টি করছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি বা গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকিতে থাকা পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন গুরুত্বপূর্ণ। সিডিসিও অসুস্থ বোধ করলে অন্যদের থেকে দূরে থাকা, প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মতো সাধারণ সতর্কতার কথা বলছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য টিকা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত হালনাগাদ নির্দেশনাও অনুসরণ করার পরামর্শ রয়েছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড সংক্রমণের বর্তমান প্রবণতা গ্রীষ্মকালীন একটি বিস্তৃত ঢেউয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সংক্রমণ বাড়ছে বলেই আগের মহামারির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এমন কোনো তথ্য নেই। বরং সিডিসির তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য বলছে, ভাইরাসটি এখন মৌসুমি ছন্দে ফিরে আসার পথে রয়েছে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা বুঝতে আগামী কয়েক সপ্তাহের সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি ও অন্যান্য নজরদারি তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০টির বেশি পেশা নিয়ে করা নতুন এক গবেষণায় পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মধ্যে বিকিরণ-সম্পর্কিত ক্যানসারে মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, উড়োজাহাজের উচ্চতায় মহাজাগতিক রশ্মির সংস্পর্শে আসার কারণে বিমানকর্মীরা অন্যান্য অনেক পেশার তুলনায় বেশি আয়নাইজিং বিকিরণের মুখোমুখি হন। গবেষণাটি ১৭ আগস্ট ‘JAMA Internal Medicine’-এ প্রকাশিত হয়েছে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেনস হাসপাতালের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে ৫০৩টি পেশা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার পাইলট এবং ৭ হাজার ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ছিলেন। গবেষণায় দেখা গেছে, পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মধ্যে বিকিরণ-সম্পর্কিত ক্যানসারে মৃত্যুর অনুপাত অন্য পেশার তুলনায় সবচেয়ে বেশি। বিশ্লেষণে স্তন, প্রোস্টেট, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ক্যানসার এবং মেলানোমাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার বিবেচনা করা হয়েছে। পাইলটদের ক্ষেত্রে লিউকেমিয়ায় মৃত্যুর হারও তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। গবেষকদের ব্যাখ্যা, বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ যে উচ্চতায় চলাচল করে সেখানে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় মহাজাগতিক রশ্মির সংস্পর্শ বাড়ে। এ কারণে বিমানকর্মীরা কর্মক্ষেত্রে আয়নাইজিং বিকিরণের তুলনামূলক বেশি মাত্রার সংস্পর্শে আসেন। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এই বিকিরণের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে ক্যানসারের সঙ্গে এর সম্পর্ক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। গবেষণার ফলাফলে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ক্ষেত্রে বিকিরণ-সম্পর্কিত ক্যানসারে মৃত্যুর সমন্বিত সম্ভাবনা অন্যান্য পেশার তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি ছিল। পাইলটদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। তবে গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই পরিসংখ্যান থেকে সরাসরি বলা যাবে না যে মহাজাগতিক বিকিরণই এসব মৃত্যুর কারণ। কারণ গবেষণাটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক। এতে একজন বিমানকর্মী তাঁর কর্মজীবনে মোট কত ঘণ্টা উড়েছেন, কোন উচ্চতায় বেশি সময় কাটিয়েছেন, কোন রুটে উড়েছেন কিংবা কতটা বিকিরণের সংস্পর্শে এসেছেন, সেই ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সূর্যের অতিরিক্ত কণার বিকিরণ, ঘুমের ব্যাঘাত, অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ, শারীরিক ওজন এবং জীবনযাপনের মতো আরও কিছু বিষয়ও বিশ্লেষণে পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে গবেষণার ফলাফলকে কারণ ও ফলাফলের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিমানকর্মীদের বেশি বিকিরণের সংস্পর্শে আসার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে ঠিকই, কিন্তু শুধু এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলা যাবে না যে বিকিরণের কারণেই তাঁদের ক্যানসারে মৃত্যুর হার বেশি। গবেষণাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিমান চলাচল খাতের সব কর্মীর মধ্যে একই প্রবণতা দেখা যায়নি। মাটিতে কাজ করা বিমান চলাচল খাতের কর্মীদের মধ্যে পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মতো একই ধরনের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, এটি উচ্চ আকাশে দীর্ঘ সময় অবস্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কারণের ভূমিকা থাকার সম্ভাবনাকে আরও গুরুত্ব দেয়। তবে বিমানকর্মীদের ক্যানসারের ঝুঁকিতে বিকিরণ ছাড়াও অন্য কিছু বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘ সময় ভ্রমণ, রাতের ফ্লাইট, অনিয়মিত কর্মঘণ্টা ও ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত বিমানকর্মীদের জীবনে নিয়মিত ঘটনা। পাইলটরা ককপিটের জানালার কারণে অতিবেগুনি রশ্মিরও সংস্পর্শে আসতে পারেন। ফলে ক্যানসারে মৃত্যুর পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট, দুটিই যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পেশা। চলতি বছরের ‘১০০ সেরা চাকরি’র তালিকায় পাইলটদের ১০ নম্বরে এবং ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ৩৯ নম্বরে রেখেছে ‘U.S. News & World Report’। ফলে আকর্ষণীয় ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে বিবেচিত এই দুই কাজের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনাও এখন আলোচনায় এসেছে। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল দেখে বিমানকর্মীদের জন্য হঠাৎ করে অতিরিক্ত ক্যানসার পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত নয়। বরং তাঁদের কর্মজীবনে মোট কতটা বিকিরণের সংস্পর্শে আসছেন, তা নিয়মিতভাবে পরিমাপ ও সংরক্ষণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে দীর্ঘপথের এবং মেরু অঞ্চলের ওপর দিয়ে চলাচলকারী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ের ফ্লাইট এবং মেরু অঞ্চলের ওপর দিয়ে যাওয়া রুটে মহাজাগতিক বিকিরণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। এদিকে গবেষণাটির লেখকেরা বলছেন, ভবিষ্যৎ গবেষণায় বিমানকর্মীদের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভ্রমণের ইতিহাস, মোট কর্মঘণ্টা, রুট, উচ্চতা এবং প্রকৃত বিকিরণমাত্রার তথ্য যুক্ত করা প্রয়োজন। এতে বিমানকর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি বিকিরণ-সংস্পর্শ এবং ক্যানসারে মৃত্যুর মধ্যে সম্পর্ক আরও নির্ভুলভাবে বোঝা সম্ভব হতে পারে। গবেষণাটি অবশ্য বিমানকর্মীদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো নতুন স্বাস্থ্যবিধি বা ক্যানসার পরীক্ষার নির্দেশনা দেয়নি। বরং এর মূল গুরুত্ব হলো, বিমানকর্মীদের পেশাগত বিকিরণ-সংস্পর্শ নিয়ে আরও ভালো তথ্য সংগ্রহ এবং দীর্ঘমেয়াদি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা সামনে আনা। সব মিলিয়ে গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকির সংকেত দিলেও এটিকে ক্যানসারের সরাসরি কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ক্ষেত্রে মহাজাগতিক বিকিরণ, অনিয়মিত কর্মঘণ্টা, ঘুমের ব্যাঘাতসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে আরও গবেষণা প্রয়োজন। গবেষণার ফলাফল তাই বিমানকর্মীদের পেশা ছেড়ে দেওয়ার কারণ নয়, বরং তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার একটি ইঙ্গিত।
যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ঋণের এই নতুন মাইলফলক দেশটির অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণ দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সরকারি সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়ছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাড়ি, গাড়ি ও ক্রেডিট কার্ডের মতো ব্যক্তিগত ঋণের সুদের ওপর পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের দৈনিক হিসাব অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির মোট সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ৪০.০৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাজারে থাকা সরকারি ঋণ প্রায় ৩২.২৭ ট্রিলিয়ন ডলার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজেদের মধ্যে থাকা ঋণ প্রায় ৭.৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার। মাত্র এক দশকের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় দেশটির মোট ঋণ ছিল ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে। এরপর ট্রাম্প ও জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় ঋণ দ্রুত বেড়েছে। এর বড় একটি অংশ এসেছে কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার সরকারি ব্যয় থেকে। তবে মহামারি শেষ হওয়ার পরও রাজস্ব ও ব্যয়ের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ব্যবধান ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে রয়েছে। ঋণ বাড়ার সঙ্গে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হলো সুদ পরিশোধের ব্যয়। পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে জাতীয় ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটি বলছে, সুদের ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকা সরকারি বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এখানেই সাধারণ আমেরিকানদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সরকার যখন ঋণ নেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের বেশি সুদ দিতে বাধ্য হয়, তখন সরকারি বন্ডের সুদের হার বা ফলন বাড়তে পারে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদের হার দেশটির অন্যান্য ঋণের সুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের ঋণ নেওয়ার খরচেও পড়তে পারে। বাড়ি কেনার জন্য গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ কিংবা ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার দীর্ঘমেয়াদে চাপের মুখে পড়তে পারে। পিটারসন ফাউন্ডেশনও বলছে, জাতীয় ঋণ বাড়ার ফলে সুদের হারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে এবং এতে পরিবারের জীবনযাত্রার খরচ বাড়তে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের বাজারে চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রকে ঋণ দেওয়ার বিনিময়ে বেশি মুনাফা দাবি করছেন। এর ফলে ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়েছে এবং পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়ন ও নতুন ঘাটতি মেটাতে সরকারের খরচও বাড়ছে। জাতীয় ঋণের পুরো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অবশ্য সরাসরি বাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে পাওনা নয়। এর একটি বড় অংশ সরকারের বিভিন্ন তহবিল ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হিসাব করা হয়। ট্রেজারি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ জনসাধারণের হাতে থাকা সরকারি সিকিউরিটিজের মাধ্যমে রয়েছে। বাকি প্রায় ৭.৮ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারের অভ্যন্তরীণ হিসাবের ঋণ। ঋণের দ্রুত বৃদ্ধির পেছনে শুধু একটি প্রেসিডেন্ট বা একটি রাজনৈতিক দলের নীতিকে দায়ী করা কঠিন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় প্রশাসনের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বেড়েছে। মহামারি মোকাবিলা, করনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং অন্যান্য সরকারি কর্মসূচির ব্যয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রাজস্বের ঘাটতি যুক্ত হয়েছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কোভিড-১৯-সংক্রান্ত ঋণ বাদ দিয়েও অনুমোদিত নতুন ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। বাইডেনের সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে দুই প্রশাসনের সময়কার ঋণ বৃদ্ধির তুলনা করার ক্ষেত্রে মহামারি এবং বিভিন্ন সময়ের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বর্তমান প্রশাসন ঋণের চাপ সামাল দিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও বলেছেন, অর্থনীতিকে আরও দ্রুত বাড়িয়ে ঋণের বোঝা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে বাজেট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ব্যয় ও রাজস্বের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে ব্যয় কমানো, কর থেকে আয় বাড়ানো অথবা দুটির সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। এদিকে ঋণের বাজারে চাপ কমাতে ট্রেজারি বিভাগ ঋণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সরবরাহ ও বাজারের চাপ সামলাতে সরকার বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯ আগস্ট ট্রেজারি ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের ফলন ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পরদিন বেসেন্ট জানান, প্রয়োজনে এই পুনঃক্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে। তবে বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বাজারে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু জাতীয় ঋণের মূল কারণগুলো সমাধান করে না। জাতীয় ঋণ নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো, সরকারকে যদি বাজেটের ক্রমবর্ধমান অংশ শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় করতে হয়, তাহলে শিক্ষা, অবকাঠামো, গবেষণা কিংবা অন্যান্য সরকারি কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ কমে যেতে পারে। পিটারসন ফাউন্ডেশন বলছে, ঋণের সুদ ব্যয় বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিনিয়োগ ও সামাজিক কর্মসূচির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ মানেই যে সাধারণ আমেরিকানদের তাৎক্ষণিকভাবে সমপরিমাণ ব্যক্তিগত ঋণ নিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। একজন মানুষের ওপর গড়ে প্রায় কত ঋণ পড়ে, এমন হিসাব মূলত জাতীয় ঋণকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে তৈরি করা একটি পরিসংখ্যান। এটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যাংক ঋণ বা সরকারের কাছে তাঁর সরাসরি পাওনা বোঝায় না। তবু এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বাস্তব। সরকারি ঋণ যত বাড়বে এবং সেই ঋণের জন্য সুদ যত বেশি দিতে হবে, তত বেশি অর্থ বাজেটের অন্য খাত থেকে সরিয়ে দিতে হতে পারে। একই সঙ্গে বন্ডের সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে পরিবারের নতুন ঋণ নেওয়া আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। এই কারণেই ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলককে শুধু একটি বড় সংখ্যা হিসেবে দেখছেন না অর্থনীতিবিদ ও বাজেট বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের কাছে এটি যুক্তরাষ্ট্রের আয় ও ব্যয়ের দীর্ঘদিনের ভারসাম্যহীনতার একটি বড় সতর্কসংকেত। সামনে কংগ্রেস ও প্রশাসন কীভাবে ব্যয়, কর এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই ঋণের চাপ শেষ পর্যন্ত কতটা বাড়বে এবং তার প্রভাব সাধারণ আমেরিকান পরিবারের ওপর কতটা পড়বে।
আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ১৯ শতকের একটি ঐতিহাসিক দুর্গ কিনেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে সঙ্গে নিয়ে কেনা স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসলটি দেশটির কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডে রিভার ব্ল্যাকওয়াটারের তীরে অবস্থিত। দুর্গটির সঙ্গে প্রায় ৪৪০ একর জমিও রয়েছে। বৃহস্পতিবার জাকারবার্গের এক মুখপাত্র তাঁর দুর্গ কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুর্গটি মেটার ইউরোপীয় সদর দপ্তর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসল গথিক পুনরুজ্জীবন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত তিনতলা একটি ঐতিহাসিক ভবন। দুর্গটির বর্তমান কাঠামো প্রায় ১৮২৭ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়। স্থাপনাটি রিভার ব্ল্যাকওয়াটারের দিকে তাকিয়ে থাকা একটি উঁচু জায়গায় অবস্থিত। ২০০৩ সালে দুর্গটিতে ব্যাপক সংস্কার করা হয় বলে আয়ারল্যান্ডের সরকারি স্থাপত্য নথিতে উল্লেখ রয়েছে। দুর্গটির নকশা করেন স্থপতি জেমস ও জর্জ রিচার্ড পেইন। দুর্গটির সঠিক ক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। লেনদেনটি প্রকাশ্য বাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়ায় আয়ারল্যান্ডের সরকারি সম্পত্তি মূল্য নিবন্ধনেও এর দাম দেখা যাচ্ছে না। তবে দ্য আইরিশ টাইমস প্রথম জাকারবার্গের কেনার খবর প্রকাশ করে এবং তাদের হিসাবে সম্পত্তিটির মূল্য ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ইউরোর মধ্যে হতে পারে। জাকারবার্গের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, জাকারবার্গ ও তাঁর পরিবার ঐতিহাসিক বাড়িটির দেখভাল চালিয়ে যেতে এবং আয়ারল্যান্ডে সময় কাটাতে আগ্রহী। মেটার আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে হওয়ায় দেশটির সঙ্গে জাকারবার্গের ব্যবসায়িক যোগাযোগও দীর্ঘদিনের। তবে এই দুর্গকে জাকারবার্গ পরিবারের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাকারবার্গ ও তাঁর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করবেন এবং আয়ারল্যান্ডে গেলে এই ঐতিহাসিক বাড়িটিকে অবস্থানের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করবেন। স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসলের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। বর্তমান দুর্গটি ১৯ শতকে নির্মিত হলেও একই এলাকায় এর চেয়েও পুরোনো একটি দুর্গের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। নতুন স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসলটি জন কিলির জন্য নির্মিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, কিলি ক্লনমেলের একজন সংসদ সদস্য ছিলেন এবং ওয়াটারফোর্ড কাউন্টির উচ্চ শেরিফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত দুই দশকে দুর্গটির ব্যাপক সংস্কার করেন আগের মালিক মাইকেল অ্যালেন-বাকলি ও তাঁর স্ত্রী জিয়ানকার্লা। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের কাছ থেকেই জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান সম্পত্তিটি কিনেছেন বলে একাধিক আইরিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। দুর্গটির অবস্থানও বিশেষ আকর্ষণীয়। এটি কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডের ব্ল্যাকওয়াটার উপত্যকায় নদীর তীরে অবস্থিত। স্থানীয় ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্গটি ক্যাপোকুইন ও লিসমোর শহরের কাছাকাছি এবং নদী ও আশপাশের সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে এলাকাটি ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য পরিচিত। আয়ারল্যান্ডে জাকারবার্গের এই সম্পত্তি কেনার পেছনে দেশটির সঙ্গে মেটার দীর্ঘ ব্যবসায়িক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মেটার আয়ারল্যান্ডে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কর্মী রয়েছে। ডাবলিনে রয়েছে কোম্পানিটির আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর। এছাড়া কর্কে মেটার ভার্চুয়াল ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি কার্যক্রম এবং ডাবলিনের বাইরে একটি তথ্যকেন্দ্র রয়েছে। আয়ারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ইউরোপীয় কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তুলনামূলক অনুকূল করব্যবস্থা এবং ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের সুবিধার কারণে দেশটিতে বহু মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ইউরোপীয় সদর দপ্তর রয়েছে। মেটাও এর ব্যতিক্রম নয়। জাকারবার্গের নতুন এই সম্পত্তি কেনার খবর এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক ও বড় আকারের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে বিনিয়োগের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা চলছে। আয়ারল্যান্ডের ওয়াটারফোর্ড ও ব্ল্যাকওয়াটার উপত্যকাতেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধনী বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তবে জাকারবার্গের জন্য এটি শুধু আরেকটি বিলাসবহুল সম্পত্তি নয়, বরং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো এই দুর্গ এখন বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মালিকানায়। জাকারবার্গের পরিবার ভবিষ্যতে কীভাবে ঐতিহাসিক সম্পত্তিটির ব্যবহার ও সংরক্ষণ করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন ফি পরিবর্তনের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নতুন প্রস্তাব সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা পার করেছে। এর ফলে প্রস্তাবটি জনসমক্ষে প্রকাশের আরও এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছে গেল, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এই প্রস্তাবটি গত বুধবার অফিস অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। প্রস্তাবটির কোড নম্বর হলো 'আরআইএন ১৬১৫-এডি২০' এবং এটি খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছে। এইচ-১বি ভিসার ফি সংক্রান্ত এই নতুন প্রস্তাবে ঠিক কত টাকা ফি বাড়ানো হবে, কোন ধরনের নিয়োগকর্তা বা আবেদনকারীরা এর আওতায় পড়বেন এবং এটি কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে এই প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউস থেকে ছাড়পত্র পেলেও এখনই কোনো নতুন ফি কার্যকর হচ্ছে না। যেকোনো নতুন নিয়ম চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার আগে প্রস্তাবটিকে অবশ্যই ফেডারেল স্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হতে হবে এবং অংশীজনদের মতামত নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন প্রস্তাবটি সামনে এনেছে। এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু এইচ-১বি কর্মীর ওপর ১ লাখ ডলারের বিপুল ফি আরোপ করেছিল প্রশাসন। নতুন এই প্রস্তাব ছাড়াও এইচ-১বি কর্মসূচিতে আরও কিছু বড় পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ভিসার যোগ্যতা যাচাই, নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগকর্তাদের ওপর কঠোর নজরদারি এবং থার্ড-পার্টি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে তদারকি বাড়ানোর প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে। মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কাজের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবেই ভারতীয় নাগরিকদের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। তাই আবেদন ফি বা অন্যান্য খরচ বাড়লে তা সরাসরি সেসব কোম্পানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যারা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের স্পনসর করে থাকে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন ফি পরিবর্তন করেছিল। বর্তমানে এইচ-১বি কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, নতুন এই প্রস্তাবিত ফি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। তবে এই উদ্যোগ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি পেশাজীবী ও তাদের স্পনসর করা কোম্পানিগুলোকে আরও কঠোর নিয়ম এবং অতিরিক্ত খরচের মুখোমুখি হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ব্রডওয়ে থিয়েটারের টিকিট দেওয়ার একটি নতুন উদ্যোগের প্রচারণায় ইংরেজি ছাড়াও বাংলা, ম্যান্ডারিন এবং স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন শহরের মেয়র জোহরান মামদানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা ওই ভিডিওগুলোতে মেয়র মামদানি তিন ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলে এই বিশেষ কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। নিউইয়র্ক সিটি এবং থিয়েটার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (টিডিএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির আওতায় একটি উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুই হাজারেরও বেশি ফ্রি ব্রডওয়ে টিকিট দেওয়া হবে। মেয়রের এমন ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলার দক্ষতা দেখে অবাক হয়েছেন সাধারণ নেটিজেনরা। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর নিখুঁত উচ্চারণ এবং বাচনভঙ্গির ভূয়সী প্রশংসা করছেন অনেকেই। বাংলা ভিডিওটির নিচে একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, "মাতৃভাষা বাংলা এমন একজন মানুষ হিসেবে বলছি, এই ব্যক্তি বাংলাদেশের বর্তমান জেন-জি প্রজন্মের চেয়েও ভালো বাংলা বলছেন।" আরেকজন ব্যবহারকারী বাংলার শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিভাকে 'অতুলনীয়' বলে আখ্যা দিয়েছেন। একইভাবে, ম্যান্ডারিন ভাষায় তাঁর সতর্ক ও নিখুঁত উচ্চারণের প্রশংসাও করেছেন অনেকে, যেখানে একজন মন্তব্য করেছেন যে মেয়রের ম্যান্ডারিন তাঁর নিজের চেয়েও ভালো। অবশ্য রাজনৈতিক প্রচারণায় মামদানির এই বহুমাত্রিক ভাষার ব্যবহার নতুন কোনো বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক পরিসরেও মেয়রের এই দক্ষতার কথা বেশ আলোচিত। নিজের নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও তিনি নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় অভিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে বাংলা, স্প্যানিশ ও উর্দু ভাষার ব্যবহার করেছিলেন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি ইংরেজি ছাড়াও অন্যান্য ভাষা ব্যবহার করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে শহরের নানা উদ্যোগ পৌঁছে দেওয়ার সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। ব্রডওয়ে টিকিট কর্মসূচির সর্বশেষ এই ভিডিওগুলো তাই কেবল লটারির খবরই দিচ্ছে না, বরং শহরের বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য যোগাযোগ সক্ষমতাকেও নতুন করে সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ডাকযোগে পাঠানো প্রায় পাঁচ লাখ ডলার মূল্যের দুটি চেক চুরির অভিযোগে রেমন্ড নাগালু নামে ৩১ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাসাউ কাউন্টির উডবেরির একটি প্রতিষ্ঠান থেকে পাঠানো চেক দুটি প্রাপকের কাছে পৌঁছানোর আগেই মাঝপথ থেকে গায়েব হয়ে যায়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালের ২৩ জুন উডবেরির ওই প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪ লাখ ৯৫ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের দুটি চেক ডাকযোগে পাঠিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রাপক সেটি না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বুঝতে পারে যে চেকগুলো অজ্ঞাত কেউ মাঝপথেই আটকে দিয়েছে। এরপরই তারা পুলিশের দ্বারস্থ হয়। ঘটনাটির তদন্তে নামে নাসাউ কাউন্টি পুলিশের ইলেকট্রনিক্স স্কোয়াড ও জালিয়াতি-জাল নথি তদন্ত শাখা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তারা রেমন্ড নাগালুকে শনাক্ত করে এবং তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। বিপুল অঙ্কের এই চুরির ঘটনায় নাগালুর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার গুরুতর চুরির দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর নাগালুকে নাসাউ কাউন্টির হেম্পস্টেডে অবস্থিত ফার্স্ট ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করার কথা রয়েছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে। তবে তদন্তকারীরা এখনো প্রকাশ করেননি যে, ডাকযোগে পাঠানো চেক দুটি কীভাবে আটকানো হয়েছিল বা সেগুলো ভাঙিয়ে অর্থ আত্মসাতের কোনো চেষ্টা হয়েছিল কি না। এই জালিয়াতির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ইদানীং ডাকযোগে পাঠানো আর্থিক নথি ও চেক চুরির মাধ্যমে জালিয়াতির ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোরেরা সাধারণত এসব চেকের তথ্য পরিবর্তন করে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে আইনি বিধান অনুযায়ী, আদালতে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত রেমন্ড নাগালু নির্দোষ হিসেবেই বিবেচিত হবেন।