- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক হাইস্কুলগুলোর বার্ষিক তালিকায় এবার রাজ্যের শীর্ষস্থান দখলের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে প্রথম ১২-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে মিশিগানের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি। গত ১৮ আগস্ট Patch-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৮ হাজার পাবলিক স্কুলের তথ্য বিশ্লেষণ করে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের এই তালিকা প্রকাশ করেছে ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট। মিশিগানের ব্লুমফিল্ড হিলস, হোয়াইট লেক এবং ট্রয়—এই তিনটি ক্যাম্পাসে বিস্তৃত এই পাবলিক ম্যাগনেট স্কুলটি সারা দেশের মধ্যে ১২তম স্থান অর্জন করেছে। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট মূলত কলেজ প্রস্তুতি, রাজ্যভিত্তিক মূল্যায়নে দক্ষতা, স্নাতক পাসের হার এবং পাঠ্যক্রমের বিস্তৃতির মতো ছয়টি মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে এই র্যাংকিং তৈরি করে থাকে। ইন্টারন্যাশনাল একাডেমির নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে স্নাতক পাসের হার ৯৯ শতাংশ। সব মিলিয়ে ১০০-এর মধ্যে ৯৯.৯৩ স্কোর অর্জন করেছে স্কুলটি। হুরন ভ্যালি স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট পল সালাহ এক ইমেইল বার্তায় এই সাফল্যকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের অসামান্য প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রাজ্যের সেরা এবং জাতীয় পর্যায়ে ১২তম স্বীকৃতি পাওয়াটা একটি অসাধারণ অর্জন, যা শিক্ষার্থীদের জন্য চমৎকার একাডেমিক সুযোগের বিষয়টি তুলে ধরে। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের মূল্যায়নে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সেরা পাবলিক হাইস্কুল নির্বাচিত হয়েছে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মুরফ্রিজবোরোতে অবস্থিত সেন্ট্রাল ম্যাগনেট স্কুল। তবে মিশিগানের অন্যান্য স্কুলগুলোও এই জাতীয় তালিকায় বেশ ভালো অবস্থান তৈরি করেছে। WZZM13-এর সংবাদ অনুযায়ী, ক্লিনটন টাউনশিপের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ম্যাকম্ব জাতীয় পর্যায়ে ২১তম এবং গ্র্যান্ড র্যাপিডসের সিটি হাই মিডল স্কুল ৬০তম স্থানে রয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই ফলাফল মিশিগানের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নেরই একটি ইতিবাচক প্রতিচ্ছবি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ব্যস্ত শপিং মলের বাইরে ৭৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ২০ জুলাই ক্যাপিটোলা মলের কাছে ঘটা এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত হন র্যাচেল সামার্স নামের ওই নারী। তিনি স্থানীয় ‘আর্ট অব সান্তা ক্রুজ’ নামের একটি শিল্পগ্যালারির ব্যবস্থাপক ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত টাইলার লেইবেলের সঙ্গে নিহত র্যাচেলের আগে থেকে কোনো পরিচয় বা শত্রুতা ছিল না। এটি ছিল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যহীন একটি হামলা। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নিজেই জরুরি নম্বরে ফোন করে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং রক্তমাখা পোশাকসহ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তবে তদন্ত এগোতেই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের ভয়ংকর সব তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। আদালতে দাখিল করা নথির বরাত দিয়ে জানা যায়, টাইলার লেইবেল আগে থেকেই মানুষ হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন। এমনকি হামলার দিন ক্যাপিটোলা মলে যাওয়ার আগেও তিনি অন্য কাউকে হত্যার ছক কষেছিলেন, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে গিয়ে র্যাচেল সামার্সকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। জানা গেছে, এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও বড় ধরনের প্রাণহানির হুমকি দেওয়ায় সান্তা ক্রুজ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় তার বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত জরুরি সুরক্ষা আদেশ চেয়েছিল। মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়া এই তরুণ বহু মানুষকে হত্যার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে একটি বিদায়পত্রও লিখেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত লেইবেলের বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার (ফার্স্ট-ডিগ্রি) হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার ও ওত পেতে থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে আগামী ৮ অক্টোবর মামলার প্রাথমিক শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এদিকে, সদ্য নানি হওয়া র্যাচেল সামার্সের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ক্যাপিটোলা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার নাতির ভবিষ্যৎ শিক্ষার জন্য গঠিত তহবিলে ইতিমধ্যেই ১৪ হাজার ৭১২ ডলারের বেশি অর্থ জমা পড়েছে। অতীতে একাধিকবার সহিংসতার ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও কেন এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এড়ানো গেল না, তা নিয়েই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকায় প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে এক যৌন অপরাধীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানের সময় দ্বিতীয় তলার কাঠের বারান্দা হঠাৎ ধসে পড়লে সেখানে থাকা নয়জন কর্মকর্তা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিচে পড়ে যান। পুরো ঘটনাটি সদস্যদের শরীরে থাকা ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ঘটনাটি ঘটে ২১ জুলাই মিসৌরির হান্টসভিল শহরে। যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিসের সমন্বয়ে র্যান্ডলফ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, মবারলি পুলিশ বিভাগ এবং নর্থ মিসৌরি ড্রাগ টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে ওই অ্যাপার্টমেন্টে যান। লক্ষ্য ছিল ২৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করা, যিনি যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধনের শর্ত মানছিলেন না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রকাশিত শরীরের ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কর্মকর্তা অস্ত্র হাতে নিয়ে দ্বিতীয় তলার দরজার ঠিক বাইরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা দরজার দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ তাদের পায়ের নিচের কাঠের কাঠামো ভেঙে নিচের দিকে ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে একসঙ্গে কয়েকজন কর্মকর্তা নিচে পড়ে যান। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বারান্দাটি পাশের দিকে ভেঙে না গিয়ে অনেকটা সরাসরি নিচের দিকে ধসে পড়ে। ফলে কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া জানানোর বা নিজেদের সামলে নেওয়ার সময় প্রায় ছিল না। ঘটনাটিকে মিসৌরির পূর্বাঞ্চলের মার্কিন মার্শাল স্টিভেন লুইস অত্যন্ত গুরুতর পতন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দুর্ঘটনায় সাতজন কর্মকর্তা আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজন ডেপুটি মার্কিন মার্শাল, নর্থ মিসৌরি ড্রাগ টাস্ক ফোর্সের দুই সদস্য এবং র্যান্ডলফ কাউন্টির একজন ডেপুটি ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের হাড় ভেঙেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আহত সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাদের আঘাত প্রাণঘাতী ছিল না এবং পরে চিকিৎসা শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন কর্মকর্তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকলেও পড়ে যাওয়ার সময় কোনো অস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া হয়নি। ভিডিওতে দুর্ঘটনার পর অন্য কর্মকর্তাদের দ্রুত আহত সহকর্মীদের সহায়তায় এগিয়ে আসতেও দেখা যায়। যে ব্যক্তিকে আটক করতে অভিযানটি চালানো হয়েছিল, তিনি তখন অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন না। তবে কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনই তাকে পরে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধনের শর্ত না মানার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি আগে শিশু পর্নোগ্রাফি রাখার অপরাধে দণ্ডিত হয়েছিলেন এবং কারাগার থেকে মুক্তির পর মিসৌরি যৌন অপরাধী নিবন্ধনে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে তিনি তার তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তার কাছে নিয়মিত রিপোর্ট না করায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পরোয়ানা জারি করা হয়। দুর্ঘটনার পর ভবনের দ্বিতীয় তলার কয়েকজন বাসিন্দাও সমস্যায় পড়েন। বারান্দার কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা নিজেদের বাসায় স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারছিলেন না। ভবনের মালিক তাদের অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করেছেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের ফুটেজেই দেখা যায়, একটি স্বাভাবিক গ্রেপ্তারি অভিযান কীভাবে হঠাৎ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পরিণত হয়। তবে কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় কোনো কর্মকর্তা প্রাণ হারাননি এবং অভিযানের লক্ষ্য ব্যক্তিকেও পরে আটক করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালি হার্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের আগ্রহ বেড়েছে। ৩৫ বছর বয়সী হার্প প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী ও নির্বাহী সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাম্পের পাশে প্রায় নিয়মিত উপস্থিতি, তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট তৈরিতে ভূমিকা এবং প্রেসিডেন্টের কাছে সরাসরি প্রবেশাধিকারের কারণে তিনি এখন হোয়াইট হাউসের অন্যতম আলোচিত সহযোগী। এই বিতর্কের মধ্যেই কমেডিয়ান রোজি ও’ডনেল ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি কৌতুক করেন, যেখানে তিনি নাটালি হার্পের নাম সরাসরি উল্লেখ করেন। ‘জিমি কিমেল লাইভ’-এর অতিথি সঞ্চালক হিসেবে অনুষ্ঠানে ও’ডনেল ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে বলেন, এবার তাঁর বিশ্রামে যাওয়ার সময় এবং নাটালি তাঁকে ঘুম পাড়িয়ে দেবেন—এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে স্টুডিও দর্শকদের মধ্যে হাসি ও বিস্ময়ের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ও’ডনেলের মন্তব্যটি এমন সময়ে আসে, যখন হার্পের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগে থেকেই আলোচনা চলছে। জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফও সাম্প্রতিক এক প্রচারণা সমাবেশে ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হার্পকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করার প্রসঙ্গ তুলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যের পর ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এবং হার্পের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ইঙ্গিতকে অনুচিত বলে সমালোচনা করেন। হার্পের প্রভাবের একটি বড় কারণ হলো প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন কাজে তাঁর ভূমিকা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প অনেক সময় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য হার্পকে বলে দেন এবং তিনি তা লিখে প্রকাশ করেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁর সঙ্গে একটি বহনযোগ্য মুদ্রণযন্ত্র থাকার কারণে তিনি ‘মানব মুদ্রণযন্ত্র’ হিসেবে পরিচিতি পান। ট্রাম্পের পছন্দের সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং অন্যান্য তথ্য দ্রুত কাগজে ছাপিয়ে দেওয়াও তাঁর কাজের অংশ ছিল। হার্পের প্রতি ট্রাম্পের আস্থার বিষয়টিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা বইয়ের বরাত দিয়ে সিবিএস জানিয়েছে, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের বলেছিলেন, অন্যরা একসময় চলে গেলেও হার্প তাঁকে ছেড়ে যাবেন না। এমন মন্তব্য তাঁর প্রতি প্রেসিডেন্টের বিশেষ আস্থার ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। হার্পের আনুগত্যের আরেকটি আলোচিত উদাহরণ হলো ২০২৩ সালের একটি ঘটনা। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে ট্রাম্পের একটি আদালত-সংক্রান্ত সফরের সময় গাড়িতে জায়গা না থাকায় হার্প ট্রাম্পের সঙ্গে যাওয়ার জন্য জোর দেন এবং শেষ পর্যন্ত একটি গাড়ির পেছনের অংশে উঠে তাঁর বহরের সঙ্গে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি তাঁর অতিরিক্ত নিষ্ঠার উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রশ্নও উঠেছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে যোগ দেওয়ার পর হার্পের নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ তিনি প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করেন এবং সংবেদনশীল পরিস্থিতিতেও তাঁর সঙ্গে থাকেন। এদিকে বিদেশি নেতারাও কখনো কখনো ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য হার্পের কাছে বার্তা পাঠান বলে নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বোঝা যায়, প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে হার্পের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্প ও হার্পের মধ্যে ব্যক্তিগত বা প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। সাম্প্রতিক মন্তব্য ও আলোচনা মূলত তাঁদের ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্ক, হার্পের প্রভাব এবং প্রেসিডেন্টের কাছে তাঁর বিশেষ প্রবেশাধিকারকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে। ফলে রোজি ও’ডনেলের মন্তব্যকে রাজনৈতিক ও কৌতুকধর্মী ব্যঙ্গ হিসেবে দেখা হচ্ছে, প্রমাণিত কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের তথ্য হিসেবে নয়। হোয়াইট হাউস অবশ্য হার্পের ভূমিকা নিয়ে ওঠা সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁকে প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী সহযোগী হিসেবে তুলে ধরেছেন। ফলে নাটালি হার্পকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক একদিকে যেমন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কর্মপদ্ধতি ও ঘনিষ্ঠ বৃত্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে তাঁর সমর্থকেরা এটিকে একজন বিশ্বস্ত সহযোগীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার মাঝেই বৃহস্পতিবার পূর্ব দিকে একগুচ্ছ স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে পিয়ংইয়ং থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয়। অন্যদিকে, জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও অন্তত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) বাইরে সাগরে পতিত হয়েছে। কোরীয় উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান বার্ষিক 'উলচি ফ্রিডম শিল্ড' সামরিক মহড়া চলাকালেই পিয়ংইয়ং এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মহড়ার পরিসর 'উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর' নির্দেশ দেওয়ায় শুক্রবার নির্ধারিত সময়ের আগেই এই মহড়া শেষ হতে যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো’ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প মহড়া কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেন। গত বুধবার তিনি আরও জানান যে, চলতি বছরের শেষের দিকে কিমের সঙ্গে তার পুনরায় সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের জন্য 'উন্মুক্ত হুমকি' আখ্যা দিয়ে এর কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত নিন্দা ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিয়ংইয়ং নিয়মিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১২ আগস্ট পূর্ব উপকূলে স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় বৃহস্পতিবারের এই নিক্ষেপটি হলো চলতি আগস্ট মাসে উত্তর কোরিয়ার তৃতীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।
চলতি মাসের শুরুতে নিউইয়র্ক হারবারে স্ট্যাচু অব লিবার্টির কাছে নৌকাডুবির ঘটনায় ম্যানুয়েল আর্নেস্তো হার্নান্দেজ-উমানা নামের এক ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)। গত ৮ আগস্ট ঘটা ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী এক নারী ও তার পাঁচ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) তথ্যমতে, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ওই ব্যক্তি সেসময় নৌকার চালকের আসনে ছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগ হার্নান্দেজ-উমানার বিরুদ্ধে অসদাচরণ এবং জাহাজের কর্মকর্তা হিসেবে কর্তব্যে অবহেলার দুটি অভিযোগ এনেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার কারণেই নৌকাটি উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাওয়া ১২ জন যাত্রীকে সামান্য আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ফেডারেল আদালতে প্রথম শুনানির পর এক বিচারক হার্নান্দেজ-উমানাকে মুক্তি দিলেও, অবৈধ অভিবাসী হওয়ার কারণে পরবর্তীতে তাকে আইস হেফাজতে নেওয়া হয়। এই ঘটনার তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছে কোস্টগার্ড ইনভেস্টিগেটিভ সার্ভিস (সিজিআইএস)। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক জশ প্যাকার জানান, বেআইনিভাবে ভাড়ায় চালিত নৌকার ব্যবসা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে এবং এই ক্ষেত্রে চালকের অবহেলার কারণেই এমন অচিন্তনীয় ট্র্যাজেডি ঘটেছে। ডিএইচএস সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন বলেন, এই অপরাধী অবৈধ ও বেপরোয়াভাবে লাইসেন্সবিহীন নৌকায় পর্যটকদের ঘোরাচ্ছিলেন। কোস্টগার্ড ও আইসের কঠোর পরিশ্রমে তাকে রাস্তা এবং জলপথ থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বিচারের মুখোমুখি হওয়ার পরপরই তাকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রথম দিনেই আবর্জনার ট্রাক থেকে পড়ে এক কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, দুর্ঘটনার সময় ওই ট্রাকটির চালকের আসনে ছিলেন নিহত কর্মীরই বাবা। গত সোমবার ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবরটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএইচএনএস-এর বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে চেরোকি কাউন্টি করোনার অফিস। নিহত ওই কর্মীর নাম জন ডেরিক ডোভার (৩২)। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে জন ডোভার ট্রাকটির পেছনের নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে কাজ করছিলেন। ট্রাকটি মোড় ঘোরার সময় তিনি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত স্পার্টানবার্গ মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। জানা গেছে, চেরোকি কাউন্টির সলিড ওয়েস্ট বা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে সেদিনই তিনি নতুন কর্মী হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশ করেছে চেরোকি কাউন্টি কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, "আমাদের এক কর্মীর এই অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এটি আমাদের সম্প্রদায়ের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। এই অত্যন্ত কঠিন সময়ে জনের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মীদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা ও প্রার্থনা রইল।" জনগণের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং ঘটনার সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে বর্তমানে দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাবা-মায়ের গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে পালানোর পর গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে এক কিশোর ভাই-বোন। চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এই দুই কিশোর-কিশোরীর সন্ধানে জরুরি তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, ১৬ বছর বয়সী মুকর্মা এবং তার ১৪ বছর বয়সী ভাই মুহাম্মদ গত সোমবার ভোরের দিকে পরিবারের একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রিয়াস গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যায়, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর কেআর১০ এনটিএফ (KR10 NTF)। সর্বশেষ তাদের গাড়িটি এ৪০ অক্সফোর্ড রোড হয়ে জেরার্ডস ক্রস থেকে বীকনসফিল্ডের দিকে যেতে দেখা গেছে। এরপর থেকে আর কোনো সিসিটিভি ক্যামেরায় গাড়িটির দেখা মেলেনি এবং পরিবারের সঙ্গেও তাদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। নিখোঁজ মুহাম্মদের বর্ণনায় বলা হয়েছে, তার উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি, হালকা গড়নের এই এশীয় কিশোরের কাঁধ পর্যন্ত লম্বা কালো চুল রয়েছে এবং সে নিয়মিত চশমা পরে। অন্যদিকে, তার বোন মুকর্মার উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। হালকা গড়নের এই কিশোরীর লম্বা, কালো ও কোঁকড়ানো চুল সাধারণত বেণীতে বাঁধা থাকে। সে সম্ভবত হিজাব পরিহিত অবস্থায় আছে এবং তার এক গালে টোল রয়েছে। তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া ডিটেকটিভ সার্জেন্ট গ্যারি ওয়াকার জানিয়েছেন, নিখোঁজদের বয়স, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো এবং নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সময়ের কারণে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। পুলিশ এই ঘটনাটিকে তদন্তের একটি অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছে। গ্যারি ওয়াকার জানান, চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এই শিশুরা এখন দেশের যেকোনো স্থানে থাকতে পারে। তাই তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য বা দর্শন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসাধারণকে এগিয়ে আসার জন্য পুলিশ বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে। বিশেষ করে কেউ যদি গত কয়েক দিনে তাদের কোনো প্রকার সাহায্য বা আশ্রয় দিয়ে থাকেন, তবে দ্রুত পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। মুকর্মা বা মুহাম্মদকে দেখতে পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ নম্বরে কল করে ‘CAD 2117/17AUG’ রেফারেন্স উল্লেখ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া কেউ চাইলে ক্রাইমস্টপার্সের ০৮০০ ৫৫৫ ১১১ নম্বরে কল করে সম্পূর্ণ বেনামেও তথ্য প্রদান করতে পারবেন।
যুক্তরাজ্যের কেন্ট শহরের নর্থফ্লিটে নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেছে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী ব্লেক গ্যালিয়ার। গত বছরের ৩০ অক্টোবর, নিজের ১৩তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর সে এই চরম পথ বেছে নেয়। তার শোকাহত পরিবারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম তাকে ধারাবাহিকভাবে এমন সব ভিডিও দেখাচ্ছিল, যা আত্মহত্যার মতো বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরে। বাইরে থেকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও হাসিখুশি স্বভাবের ব্লেকের মধ্যে মানসিক অবসাদের কোনো লক্ষণই ছিল না বলে জানিয়েছেন তার মা জেমা বেস্ট। ৪৭ বছর বয়সী জেমা বেস্ট জানান, মৃত্যুর পর ব্লেকের ফোন ঘেঁটে তারা দেখতে পান সে নিয়মিত উদ্বেগজনক সব কন্টেন্ট দেখত এবং রিপোস্ট করত। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "সব বন্ধুর ফোন ছিল, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক বয়সও ছিল ১৩, তাই আমি বোকামি করে কখনোই বিষয়টি খতিয়ে দেখিনি। এখন বুঝতে পারছি, সামাজিক মাধ্যমই ব্লেকের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।" এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জেমা এবং ব্লেকের ১৯ বছর বয়সী বড় বোন টায়লা গ্যালিয়ার এখন ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করার ‘রেইজ দ্য এজ’ (Raise The Age) ক্যাম্পেইনের জোরালো সমর্থক। উল্লেখ্য, তরুণদের অনলাইনে সুরক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য সরকার আগামী ২০২৭ সালের বসন্তের মধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে, যা বড়দিনের আগেই পাস হতে পারে। এদিকে, অন্য কোনো শিশুকে যেন ব্লেকের মতো পরিণতি ভোগ করতে না হয়, সেজন্য তার মা ও বোন 'ব্লেকস পিংক প্রমিস' নামে একটি দাতব্য সংস্থা গড়ে তুলেছেন। আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় থাকা এই সংস্থাটি ইতিমধ্যেই গ্রেভসেন্ডের চারটি স্কুলের ৭ থেকে ১৩ বছর বয়সী ৭৬ জন শিক্ষার্থী এবং দুজন প্রাপ্তবয়স্ককে মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিংয়ের জন্য অর্থায়ন করেছে। টায়লা জানান, তাদের পুরো জীবন এলোমেলো হয়ে গেলেও অন্তত একটি শিশুকেও যদি তারা সাহায্য করতে পারেন, তবে এই উদ্যোগ সার্থক হবে। চলতি বছরের শেষের দিকে ব্লেকের মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা ইনকুয়েস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নিউজিল্যান্ড থেকে অ্যান্টার্কটিকা যাওয়ার পথে ‘মহাকাশ সংক্রান্ত সম্ভাব্য বিপজ্জনক কার্যক্রম’-এর সতর্কবার্তা পেয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি পরিবহন বিমান। গত মঙ্গলবার সকালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ থেকে উড্ডয়নের তিন ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ‘সি-১৭ গ্লোবমাস্টার’ মডেলের মার্কিন বিমানটি আবার সেখানে ফিরে আসে। আইসিই২৮ (ICE28) কল সাইনযুক্ত এই ফ্লাইটটি নিউজিল্যান্ডের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএ) জারি করা পাইলটদের জন্য একটি বিশেষ নোটিশ বা 'নোটাম' (NOTAM)-এর কারণেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়। সিএএ-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন তাদেরকে ওই অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপজ্জনক কার্যক্রমের বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছিল। পরবর্তীতে জানানো হয় যে, এটি ছিল মূলত রাশিয়ার একটি পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সতর্কতা। এর ফলে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় সিএএ পাইলটদের জন্য এই নোটাম জারি করে। এই বিপদের আশঙ্কাটি তৈরি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড নিয়ন্ত্রিত ‘ওশেনিক ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন (এফআইআর)’ এলাকার মধ্যে, যা মূলত আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার চুক্তির অধীনে নিউজিল্যান্ড পরিচালনা করে থাকে। নিউজিল্যান্ডের এয়ার ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের মতে, এফআইআর অঞ্চলটি প্রায় তিন কোটি বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এর বেশিরভাগ অংশই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ মহাসাগর এবং তাসমান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্গত। তবে সিএএ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা ওই এলাকাটিকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতা জারি করলেও, তা বিমান চলাচলে কোনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ছিল না; বরং ফ্লাইটের অপারেটরদের সতর্ক করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, মার্কিন বিমানবাহিনীর এই ফ্লাইটটি তাদের বার্ষিক শীতকালীন ফ্লাইটের একটি অংশ ছিল। অ্যান্টার্কটিকায় গ্রীষ্মকালীন গবেষণা মৌসুম শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও নিউজিল্যান্ডের গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও গবেষকদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই প্রতি বছর ক্রাইস্টচার্চ থেকে এই রুটিন ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি ইউনিভার্সিটির (ইউকে) এক মুসলিম নারী কর্মকর্তাকে হেনস্তা, মুখে থুতু নিক্ষেপ এবং হত্যার হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চিলড্রেনস হাসপাতাল থেকে কাজ শেষে ফেরার পথে ড. হুদা শালাশ নামের ওই নারী এই বিদ্বেষমূলক হামলার শিকার হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সোশ্যাল ওয়ার্ক বা সমাজকর্ম বিভাগের একজন প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর মুসলিমদের নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) বুধবার এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে 'হেইট ক্রাইম' বা বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে আমলে নিয়ে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে। ভুক্তভোগী ড. হুদা শালাশ জানান, মাথায় হিজাব পরিহিত অবস্থায় তিনি যখন নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ এক ব্যক্তি তার পথ আটকে দাঁড়ায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যক্তি তার মুখে থুতু ছিটিয়ে দেয় এবং তাদের মতো মানুষদের প্রতি সে কেমন ধারণা পোষণ করে, তা নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করতে থাকে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দেয়। ড. শালাশ সেখান থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বুঝতে পারেন লোকটি তাকে অনুসরণ করছে। এ সময় কাছাকাছি থাকা একজন নির্মাণশ্রমিক নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং ড. শালাশকে ওই আক্রমণকারীর হাত থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পর ড. শালাশ কেন্টাকি ইউনিভার্সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (ইউকেপিডি) এবং লেক্সিংটন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইউকেপিডি এক ভয়েসমেইলের মাধ্যমে তাকে জানিয়েছে যে, তারা ইতোমধ্যে ওই আক্রমণকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের 'মুভ-ইন টিম'-এর টি-শার্ট পরা থাকলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে সে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মী নয়। ড. শালাশ তার এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ফেসবুকে শেয়ার করার পর সারা দেশ থেকে অনেক মুসলিম নারী নিজেদের একই ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তবে এই কঠিন সময়ে স্থানীয় লেক্সিংটন কমিউনিটির মানুষ তাকে ব্যাপক মানসিক সমর্থন ও নিরাপত্তা জুগিয়েছে। বর্তমানে ড. শালাশ সেই সহৃদয়বান নির্মাণশ্রমিককে খুঁজছেন, যেন তাকে সামনাসামনি ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে পারেন।
ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫০ জনেরও বেশি সেনা আহত হয়েছেন এবং ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের হতাহতের তথ্যভান্ডার ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’ (ডিক্যাস) হালনাগাদ করার পর এই চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। গত বুধবার পেন্টাগন নতুন করে আরও ৫০ জনের বেশি আহত সেনার তথ্য এই তালিকায় যুক্ত করেছে। ডিক্যাসের ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ বিভাগের সাথে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে সর্বমোট ১৮ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৭৫৭ জন আহত হয়েছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে যখন আলোচনা পুরোপুরি থমকে আছে, ঠিক তখনই মার্কিন বাহিনীর এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ্যে এল। পেন্টাগনের এই তথ্য প্রকাশ নিয়ে বেশ বিতর্কও তৈরি হয়েছে। গত মাসে ডিক্যাসের তালিকা থেকে নিহত চারজন এবং বেশ কয়েকজন আহত সেনার নাম হঠাৎ করেই বাদ পড়ে যায়, যা নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও আইনপ্রণেতারা চরম সমালোচনা শুরু করেন। পরবর্তীতে পেন্টাগন দাবি করে যে ‘সাময়িক তথ্যগত বিঘ্নের’ কারণে এই ভুল হয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় তালিকায় যুক্ত করা হয়। পেন্টাগন গত মাসেই ডিক্যাসে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে একটি নতুন বিভাগ চালু করেছে, যেখানে ৭ জুলাই থেকে হতাহতদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ঘটনাচক্রে ৭ জুলাই তারিখেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর আওতায় কংগ্রেসকে ইরানের সাথে নতুন সংঘাত শুরুর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। তবে কোন নির্দিষ্ট সংঘাতে এই সেনারা হতাহত হয়েছেন, সে ব্যাপারে পেন্টাগন এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে পেন্টাগন শুরু থেকেই আহত সেনাদের তথ্য প্রকাশে বেশ ধীরগতি অবলম্বন করে আসছে। এতসব উদ্বেগ ও প্রাণহানির মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে পরিস্থিতি বর্তমানে ‘খুব ভালো’। তবে তিনি তেহরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের আলোচনা আপাতত স্থগিত রেখেছেন। এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যে হরমুজ প্রণালি এখনও চরম উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চল হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রযুক্তির এই চরম উৎকর্ষের যুগে যখন সবার চোখ আটকে থাকে মোবাইলের স্ক্রিনে, তখন এক ভিন্ন পথে হাঁটছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির একদল তরুণ। স্মার্টফোনের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে তারা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন অত্যাধুনিক এই যন্ত্রটির ব্যবহার। গড়ে তুলেছেন ‘লুডাইট ক্লাব’ নামের একটি অভিনব সংগঠন। এই ক্লাবের সদস্যদের দাবি, স্মার্টফোন বর্জনের পর তাদের জীবন আগের চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ ও প্রশান্তিময় হয়েছে এবং তারা এখন চারপাশের মানুষের সঙ্গে ভার্চুয়াল জগতের বদলে বাস্তব যোগাযোগের ক্ষেত্রে অধিক মনোযোগী হতে পারছেন। ‘লুডাইট ক্লাব’-এর এই তরুণ সদস্যরা স্মার্টফোনের বদলে ব্যবহার করছেন ইন্টারনেট সুবিধাবিহীন সাধারণ মোবাইল বা ফিচার ফোন। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মোহ, সারাক্ষণ নোটিফিকেশন চেক করার মানসিক চাপ এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে তারা সহজেই নিজেদের দূরে রাখতে সক্ষম হচ্ছেন। ক্লাবের সদস্যদের মতে, হাতে স্মার্টফোন থাকলে মানুষ একই জায়গায় বসেও একে অন্যের সঙ্গে কথা বলার পরিবর্তে নিজের ফোনেই বেশি ব্যস্ত থাকে। কিন্তু স্মার্টফোন ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে তারা পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং কাছের মানুষদের সঙ্গে সরাসরি আড্ডা ও গল্পগুজবে অনেক বেশি গুণগত সময় পার করতে পারছেন। তরুণদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিছক প্রযুক্তি ব্যবহার কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি তরুণ প্রজন্মের ওপর স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বাড়তে থাকা বৈশ্বিক উদ্বেগেরই একটি বাস্তব প্রতিফলন। বিশেষ করে জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্মের একটি বড় অংশ এখন পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের বাইরে গিয়ে স্বাভাবিক ও মানবিক সামাজিক অভিজ্ঞতা খুঁজছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সবার জন্য স্মার্টফোন পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া খুব একটা সহজ বা বাস্তবসম্মত নয়। যোগাযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক কাজ, পড়াশোনা, ব্যাংকিং সেবাসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা অপরিহার্য সেবার সঙ্গে স্মার্টফোনের ব্যবহার এখন গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তা সত্ত্বেও, ডিজিটাল দুনিয়ার আসক্তি কমিয়ে বাস্তব জীবনে মনোযোগ ফেরাতে নিউইয়র্কের এই তরুণদের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি বড় অনুপ্রেরণা।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি এবং ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি তড়িঘড়ি করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসে নিজ বাসভবনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত, এখানে অন্য কিছু হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো সংসদ সদস্য তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দিতে পারবেন না, এখানে গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত। কর্তার ইচ্ছাই কর্ম হবে, দলের পক্ষ থেকে যেখানে ভোট দিতে বলা হবে, সেখানেই ভোট দিতে হবে।" সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে অলি আহমদ বলেন, কেউ দলের মতামতের বাইরে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের ৩১ দফা অনুযায়ী সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ তুলে দেওয়ার কথা বলেছিল। ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, বিএনপি কেন এত দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করল তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, বিএনপি হয়তো ভেবেছিল সংশোধন না করে নির্বাচন করলে তাদের প্রার্থী জয়লাভ করবে, আর সংশোধন হলে সমস্যা হতে পারে। অলি আহমদের এই প্রতিক্রিয়ার কিছুক্ষণ পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং অলি আহমদ ৮৮ ভোট পেয়েছেন। ৩৫০ সদস্যের সংসদে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট প্রদান করেন। তবে সংসদ সদস্য না হওয়ায় অলি আহমদ নিজে ভোট দিতে পারেননি। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে এলডিপি সভাপতি বলেন, বঙ্গভবনে তিনটি মাজার ও একটি মসজিদ আছে, আর সেখানে মাজার জিয়ারত ও নামাজ পড়া ছাড়া রাষ্ট্রপতির স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ খুবই সীমিত। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী দিনে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, "একসঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছি; আপনার কাছ থেকে আমরা কিছু ভালো জিনিস আশা করি। সব জিনিসের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করবেন, এটাই প্রত্যাশা।"
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক লোরেনা স্টেফানির সঙ্গে ভারতের রাবেকের পরিচয় হয় মাদুরাই বিমানবন্দরে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতের সময় রাবেক তাকে গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। সেখান থেকে শুরু হওয়া পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব এবং পরে সম্পর্কে গড়ায়। বর্তমানে তারা বিবাহিত এবং একটি সন্তানের বাবা-মা। তবে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা জটিলতার কারণে স্বামী-স্ত্রীকে এখনো স্থায়ীভাবে একসঙ্গে বসবাসের সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরাই বিমানবন্দর থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার যাত্রাপথেই লোরেনা ও রাবেকের মধ্যে প্রথম ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়। এরপর দুজনের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির হলেও সম্পর্কটি ধীরে ধীরে গভীর হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের বিয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যও একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। রাবেক মুসলিম এবং লোরেনা ক্যাথলিক। দুই পরিবারের মধ্যেও শুরুতে ধর্ম ও সংস্কৃতির পার্থক্য নিয়ে উদ্বেগ ছিল। শেষ পর্যন্ত তারা ভারতের স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের অধীনে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। বিয়ের পরও তাদের একসঙ্গে বসবাসের পথ সহজ হয়নি। লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় নিজের পরিবার ও পেশাগত জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সেখানে থাকেন, আর রাবেক ভারতে অবস্থান করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় স্বামীর যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পার্টনার ভিসার প্রক্রিয়া এখনো তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে আছে। এর মধ্যেই তাদের ঘরে আসে সন্তান। লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় সন্তান জন্ম দিলেও ভিসা না থাকায় রাবেক সেই সময় সেখানে যেতে পারেননি। ফলে সন্তানের জন্মের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাবাকে পাশে পায়নি পরিবারটি। পরে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সম্পন্ন হওয়ার পর রাবেক তার সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। বর্তমানে লোরেনা ও রাবেককে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সময় ভাগ করে চলতে হচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করে শেষ পর্যন্ত একই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক ব্যয়ও জড়িত। অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসার সরকারি আবেদন ফি বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার ৭০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। এর বাইরে আইনজীবী বা মাইগ্রেশন এজেন্টের সহায়তা নিলে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। তবে লোরেনা ও রাবেকের ক্ষেত্রে মোট খরচ ঠিক কত হয়েছে, তা নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় তার পরিবার ও প্রতিষ্ঠিত পেশাগত জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পুরোপুরি ভারতে চলে যাওয়ার বিষয়েও দ্বিধায় রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাদের জন্য সমস্যাটি শুধু ভিসার নয়, বরং কোথায় পরিবার হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গেও জড়িত। তাদের গল্পটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তঃদেশীয় প্রেম, বিয়ে, ধর্ম ও সংস্কৃতির পার্থক্য এবং অভিবাসন ব্যবস্থার জটিলতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি বিমানবন্দরের সাধারণ যাত্রা থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক কীভাবে দুই দেশের সীমানা পেরিয়ে বিয়ে ও পরিবারে রূপ নিয়েছে, সেই গল্পই এখন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পটির কিছু নির্দিষ্ট তথ্য, যেমন সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ বা সন্তানের নাম, নির্ভরযোগ্য সূত্রে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় সেগুলো নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তার স্ত্রীর গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টরা তাকে আটক করলেও ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার জন্য তার কোনো অনুশোচনা নেই। ৭৭ বছর বয়সী মাউঙ্ক "মঙ্ক" বারাজোনের স্ত্রী ৪৬ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক গ্লোরিয়া বারাজোনকে গত জুলাই মাসে নিউজার্সি থেকে মিয়ামি যাওয়ার পথে নেওয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) গ্রেপ্তার করে। সম্প্রতি মার্কিন নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রীদের এ ধরনের আটকের ঘটনা বেশ বেড়েছে। তবে নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনো আক্ষেপ আছে কি না—নিউজউইকের এমন প্রশ্নের জবাবে বারাজোন স্পষ্ট জানিয়েছেন, "না, একেবারেই না। বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় থাকলে আমাদের দেশের অবস্থা আরও খারাপ হতো।" বারাজোন জানান, তার স্ত্রী ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ১৫ বছর আগে তাদের বিয়ের পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করেন। গত তিন বছর ধরে তারা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আটকের সময় গ্লোরিয়ার গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের আবেদন প্রক্রিয়াধীন ছিল। এমনকি তিনি ফ্লোরিডার রিয়েল আইডি ড্রাইভিং লাইসেন্সও পেয়েছিলেন। গ্লোরিয়াকে প্রথমে নিউজার্সিতে রাখা হলেও পরে লুইজিয়ানা এবং সাউথ টেক্সাস আইস প্রসেসিং সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। বারবার এই স্থানান্তরের ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে এবং আইনজীবীদের খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন বারাজোন। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ৩০ জুলাই একটি সুনির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সময় গ্লোরিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংস্থাটির দাবি, ভিসার অনুমোদিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে তিনি দেশের আইন লঙ্ঘন করেছেন। তবে স্ত্রীর এমন পরিস্থিতির শিকার হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্পের নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বারাজোন বলেন, তিনি ট্রাম্পের ৮০ শতাংশ কাজের সাথে একমত। তিনি অপরাধী ও গ্যাং সদস্যদের গ্রেপ্তারের শতভাগ পক্ষে, তবে মার্কিন নাগরিকদের স্ত্রীদের এভাবে আটক করা অনুচিত বলে মনে করেন। তিনি এ ঘটনার জন্য ট্রাম্পকে নয়, বরং 'কিছু খারাপ আইস কর্মকর্তার' দায় দেখছেন। স্ত্রীর মুক্তির জন্য আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে বর্তমানে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এই প্রবীণ ব্যবসায়ী। আইনি খরচ মেটাতে তাকে নিজের মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এবং আত্মীয়দের কাছ থেকেও হাজার হাজার ডলার ঋণ নিতে হয়েছে। পাশাপাশি তিনি হৃদরোগসহ মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। রিপাবলিকান সিনেটর ও প্রতিনিধিদের কাছে সাহায্য চেয়েও বন্দি স্ত্রীর স্বাক্ষরিত সম্মতিপত্রের অভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় তেমন কোনো সহায়তা পাননি তিনি। সবশেষে বারাজোন বলেন, অবৈধ অভিবাসী বিশেষ করে অপরাধীদের জন্য আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেমন কড়াকড়ি থাকা উচিত, তেমনি মার্কিন নাগরিকদের স্বামী-স্ত্রীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ আলাদা মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার ৩৫ বছর বয়সী সহকারী নাটালি হার্পের মধ্যকার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই সম্পর্ক নিয়ে চলমান গুঞ্জনে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প অত্যন্ত বিরক্ত ও হতাশ বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সম্প্রতি ডেমোক্র্যাট দলীয় মার্কিন সিনেটর জন অসফ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হার্পকে জড়িয়ে রসিকতা করার পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। অসফ দাবি করেন, ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প তার সহকারীর সঙ্গে এমন এক সম্পর্কে জড়িয়েছেন যা তাকে বিভ্রান্ত করছে। এমনকি ট্রাম্প নিজের দায়িত্ব পালনের চেয়ে নাটালিকে নিয়ে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে ভ্রমণ করতেই বেশি আগ্রহী বলে মন্তব্য করেন এই সিনেটর। সিনেটর অসফের এমন মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউস তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে সরকারি নানা অনুষ্ঠান ও সফরে ট্রাম্পের পাশে নাটালি হার্পের নিয়মিত উপস্থিতি এবং স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের টানা অনুপস্থিতি এই গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল জন অসফকে কটাক্ষ করে তাকে ‘বিব্রতকর ও থিয়েটারকর্মী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভ চেউং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসফকে চরম ভাষায় আক্রমণ করে তাকে একজন ‘উগ্রপন্থী ডেমোক্র্যাট’ ও ‘হতাশাগ্রস্ত মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, নাটালি হার্প প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অন্যতম বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী একজন কর্মী। এই বিতর্কের রেশ ওভাল অফিস পর্যন্ত গড়িয়েছে। সম্প্রতি এক নারী সাংবাদিক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এমন আক্রমণাত্মক হওয়ার পেছনের মূল কারণ হলো ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের অসন্তোষ, যিনি এসব গুঞ্জন একেবারেই পছন্দ করছেন না। ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কের সাবেক উপস্থাপক নাটালি হার্প গত কয়েক বছর ধরেই ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলে রয়েছেন এবং ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাকে নির্বাহী সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প নাটালিকে ‘মানব প্রিন্টার’ উপাধি দিয়েছিলেন, কারণ তিনি সবসময় সঙ্গে প্রিন্টার রাখতেন এবং ট্রাম্পের পছন্দের খবরগুলো তাৎক্ষণিক প্রিন্ট করে দিতেন। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পের ওপর হার্পের অযাচিত প্রভাব থাকতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানায়, হার্প প্রায়ই ট্রাম্পকে প্রশংসাসূচক খবর এবং ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী বিভিন্ন সংবাদ সরবরাহ করে থাকেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও তার সহকারীর এই ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জন নিয়ে এখন পর্যন্ত নাটালি হার্প বা মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিবিদদের বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।এরই আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন চীনে জন্ম নেওয়া তরুণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক ইউহুয়াই ‘টনি’ উ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৭ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৬১ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল বাড়ি তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাড়িটি টনি উ নিজের নামে কিনেছেন—এমন প্রমাণ প্রকাশ্য নথিতে পাওয়া যায়নি। সম্পত্তির মালিক হিসেবে নথিতে রয়েছে ডাইকন নো হানা ক্যাপিটাল এলএলসি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম। বিভিন্ন সম্পত্তি লেনদেনের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসূত্র বিশ্লেষণ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম তাঁকেই এই সম্পত্তির সম্ভাব্য প্রকৃত ক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার হিলসবোরো শহরের ৩০০০ র্যালস্টন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত এই বিশাল সম্পত্তির নাম ‘ভিলা দে ভেরানো’। প্রায় ১২ একর জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি ইতালির লেক কোমোর বিলাসবহুল স্থাপত্যশৈলীর আদলে তৈরি।বাড়িটির মূল ভবনের আয়তন প্রায় ১২ হাজার বর্গফুট। সেখানে রয়েছে ছয়টি শয়নকক্ষ। এর পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বর্গফুটের আলাদা অতিথিশালা। বিলাসবহুল এই সম্পত্তিতে থাকার ব্যবস্থা ছাড়াও বিনোদন ও খেলাধুলার জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। রয়েছে ব্যায়ামাগার, চলচ্চিত্র প্রদর্শনের কক্ষ, স্পা, গোলাপবাগান, প্রতিফলন পুকুর এবং প্রায় ২ হাজার ১০০ গ্যালন ধারণক্ষমতার লবণাক্ত পানির অ্যাকুরিয়াম। ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য রয়েছে টেনিস কোর্ট, পিকলবল খেলার মাঠ, ভলিবল কোর্ট, বোচে খেলার জায়গা, পাটিং গ্রিন এবং নয়-গর্তের গলফ কোর্স। পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ১৫০ আসনের উন্মুক্ত মঞ্চ।বাড়িটি নির্মাণ ও সাজসজ্জার পেছনে কাজ করেছেন স্থপতি অ্যান্ড্রু স্কারম্যান এবং অভ্যন্তরীণ নকশাবিদ সুজান টাকার। পুরো সম্পত্তিকে অনেকটা ব্যক্তিগত অবকাশকেন্দ্রের আদলে সাজানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাড়িটির দাম চাওয়া হয়েছিল ৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। প্রায় চার মাস বাজারে থাকার পর এর দাম কমিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি ডলারে সম্পত্তিটি হাতবদল হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ ডলার ১২৩ টাকা ধরে ৭ কোটি ডলারের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৮৬১ কোটি টাকা। তবে বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রকৃত মূল্য কিছুটা কমবেশি হতে পারে।৩১ বছর বয়সী ইউহুয়াই ‘টনি’ উ একজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী। তিনি বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন। টনি উ ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি ওপেনএআই এবং গুগল ডিপমাইন্ডের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও গবেষণামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।তাঁর গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো যন্ত্রকে মানুষের মতো যুক্তি প্রয়োগ, গাণিতিক সমস্যা সমাধান এবং জটিল বিষয় বিশ্লেষণে আরও দক্ষ করে তোলা। ২০২৩ সালে ইলন মাস্ক এক্সএআই প্রতিষ্ঠা করার সময় যে ছোট দলটি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেন, টনি উ ছিলেন সেই দলের একজন।২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক্সএআই থেকে তাঁর পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়। পরে তিনি বার্ধক্য ও দীর্ঘায়ু নিয়ে কাজ করা একটি নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত হন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মাত্র ছয় বছরের পেশাজীবনে টনি উ ৮৬১ কোটি টাকার বাড়ির মালিক হয়েছেন। তবে এই বক্তব্য পুরোপুরি নির্ভুল নয়।টনি উ-এর গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম ছয় বছরের চেয়েও পুরোনো। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনা, গবেষণা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গবেষণামূলক কাজের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর বিপুল সম্পদের প্রকৃত পরিমাণও প্রকাশ্যে নিশ্চিত নয়। এক্সএআইয়ে তাঁর মালিকানার অংশ কত ছিল, বিভিন্ন চুক্তি থেকে তিনি কত অর্থ পেয়েছেন কিংবা বাড়িটি কেনার অর্থের উৎস কী এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণে তাঁকে সরাসরি ৮৬১ কোটি টাকার বাড়ির ব্যক্তিগত মালিক হিসেবে উল্লেখ করার পরিবর্তে বলা বেশি নির্ভুল যে, তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৭ কোটি ডলারের সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই বিপুল মূল্যের বাড়ি কেনার খবর ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তবে টনি উ নিজে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত উত্থান যে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের জন্য অভূতপূর্ব আর্থিক সুযোগ তৈরি করেছে, টনি উ-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই সম্পত্তি কেনার ঘটনা তারই একটি আলোচিত উদাহরণ। তবে বাড়িটির প্রকৃত ব্যক্তিগত মালিকানা এবং টনি উ-এর মোট সম্পদের পরিমাণ নিয়ে নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করা থেকে বিরত থাকাই যুক্তিসঙ্গত।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার কার্যক্রম নিয়ে আবারও কঠোর বার্তা দিয়েছেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের জন্য আজ দারুণ একটি দিন। সুপ্রভাত, আমেরিকা।” পোস্টের সঙ্গে একটি ছবিও প্রকাশ করেন মুলিন। ছবিতে রাতের বেলায় একটি বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিপুলসংখ্যক মানুষকে সারিবদ্ধভাবে একটি বিমানের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের অনেকের পরনে একই ধরনের সাদা পোশাক। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের বহিষ্কার কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই পোস্টের প্রেক্ষাপট থেকে প্রতীয়মান হয়। তবে পোস্টে নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি, ছবিটি কোন বিমানবন্দরে তোলা বা ওই ফ্লাইটে থাকা ব্যক্তিরা কোন দেশের নাগরিক। মার্কওয়েন মুলিন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি ২০২৬ সালের মার্চে সিনেটের অনুমোদনের পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি হিসেবে শপথ নেন। এর আগে তিনি ওকলাহোমার রিপাবলিকান সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ এবং বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মুলিনও দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভিবাসন আইন কার্যকর করার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইসহ বিভিন্ন সংস্থা এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন দেশের নাগরিককে বহিষ্কারের খবর সামনে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আইনগত ভিত্তি রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। মুলিনের সর্বশেষ পোস্টটি এমন সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের বহিষ্কার কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন বলছে, অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী ও সমালোচকেরা বহিষ্কার অভিযান, আটক এবং আইন প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। ফলে মুলিনের প্রকাশ্য বক্তব্যটি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রতি তার সমর্থনের আরেকটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে সামনে এসেছে।
গাজা উপত্যকায় সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, মিসর ও কাতার। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তিন দেশ, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা তুরস্ক, মিসর ও কাতার। তারা বলেছে,গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যৌথ বিবৃতিতে তিন দেশ গাজায় বেসামরিক মানুষ, নারী ও শিশুসহ হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান শান্তি প্রচেষ্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নতুন করে সংকট তৈরি করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের সদস্যরা। তুরস্ক, মিসর ও কাতার বলেছে, গাজা সংঘাতের অবসানে যে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে, সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা সেটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তিন মধ্যস্থতাকারী দেশ ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব বাধ্যবাধকতা পূরণ এবং উত্তেজনা বাড়াতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ নিয়েও ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয় রয়েছে। তবে কোনটি আগে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের কারণে আলোচনা এগোতে বাধার মুখে পড়েছে। তিন দেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রতি যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় নতুন করে উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। তুরস্ক, মিসর ও কাতারের এই অবস্থান এমন সময়ে এলো, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।