কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্সে ফুল ফ্রি টিউশন, সঙ্গে প্রায় ৩২ লাখ টাকার স্টাইপেন্ড
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন এমন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি প্রশ্ন হলো, কীভাবে টিউশন ফি ছাড়ের পাশাপাশি পড়াশোনার খরচ চালানোর মতো আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়। শুধু ভালো সিজিপিএ নয়, নিজের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং যে প্রোগ্রামে আবেদন করা হচ্ছে তার সঙ্গে নিজের প্রোফাইলের সঠিক মিলও যে গুরুত্বপূর্ণ, তার একটি বাস্তব উদাহরণ উঠে এসেছে কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সাফল্যে।
প্রকাশিত একটি কেস স্টাডি অনুযায়ী, বাংলাদেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে পড়াশোনা করা ওই শিক্ষার্থী কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির ইংরেজিতে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পেয়েছেন। এর আওতায় তাঁর পুরো টিউশন ফি মওকুফ এবং প্রতি একাডেমিক বছরে ১৩ হাজার ১০৮ ডলার স্টাইপেন্ড পাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে কেস স্টাডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই বছরে এই স্টাইপেন্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৬ হাজার ২১৬ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৩২ লাখ টাকা। তবে স্টাইপেন্ডের পরিমাণ নিয়োগের সময়কাল, চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাদের অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের বড় অংশই গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পান। বিভাগের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, নয় মাসের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ চুক্তিতে স্টাইপেন্ড ১২ হাজার ৩৯৩ ডলার এবং এর সঙ্গে ফুল টিউশন মওকুফের সুবিধাও রয়েছে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর এই সাফল্যের পেছনে শুধু ফলাফল নয়, ছিল শক্তিশালী একাডেমিক ও গবেষণা প্রোফাইল। তাঁর ব্যাচেলর পর্যায়ে সিজিপিএ ছিল ৪-এর মধ্যে ৩.৩৭ এবং তিনি নিজ ক্লাসে প্রথম হন। মাস্টার্সে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৫৫ এবং তিনি নিজ ব্যাচে পঞ্চম অবস্থানে ছিলেন।
গবেষণার ক্ষেত্রেও তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল উল্লেখযোগ্য। মাস্টার্সে তিনি বাংলা ও ইংরেজি কবিতা নিয়ে থিসিস করেন। পাশাপাশি তাঁর পাঁচটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। এর মধ্যে একটি গবেষণাপত্রে তিনি প্রথম লেখক ছিলেন।
শুধু একাডেমিক পড়াশোনাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি। ২০২১ সাল থেকে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে লেকচারার হিসেবেও কাজ করছিলেন। সেখানে সাহিত্য, সমালোচনামূলক তত্ত্ব ও ভাষাবিজ্ঞান পড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের থিসিস ও গবেষণা প্রকল্প তত্ত্বাবধানের অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন। পরবর্তীতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
ইংরেজি ভাষার দক্ষতাও তাঁর আবেদনের একটি শক্তিশালী দিক ছিল। আইইএলটিএস একাডেমিকে তাঁর মোট স্কোর ছিল ৭.৫। এর মধ্যে লিসেনিংয়ে ৮.৫, রিডিংয়ে ৭.৫, রাইটিংয়ে ৬.৫ এবং স্পিকিংয়ে ৭.০ স্কোর করেন তিনি।
তবে এই আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পরিকল্পনা। কেস স্টাডি অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়ার শুরুতেই তাঁর প্রোফাইলের শক্তিশালী ও দুর্বল দিকগুলো বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিংয়ের দিকে না তাকিয়ে প্রোগ্রামের কাঠামো, শিক্ষক সদস্যদের গবেষণার ক্ষেত্র, ফান্ডিংয়ের সুযোগ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং আবেদনকারীর একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে সামঞ্জস্য খোঁজা হয়।
এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম বেছে নেওয়া হয়। এরপর সম্ভাব্য শিক্ষক সদস্যদের গবেষণার ক্ষেত্র, প্রকাশনা ও আগ্রহের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে আবেদনকারীর গবেষণার সঙ্গে যাদের সবচেয়ে বেশি মিল রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়।
এখানে আরেকটি বিষয় আমেরিকান বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রোগ্রামে আবেদন করার আগে কোনো নির্দিষ্ট সুপারভাইজারের সম্মতি বাধ্যতামূলক ছিল না। তারপরও সম্ভাব্য শিক্ষক সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কেস স্টাডি অনুযায়ী, একজন শিক্ষক আবেদনকারীর গবেষণার আগ্রহে ইতিবাচক সাড়া দেন এবং তাঁকে তত্ত্বাবধান করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এরপর আবেদনকারীর মাস্টার্স থিসিস, প্রকাশিত গবেষণা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার লক্ষ্যকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সদস্যের গবেষণার সঙ্গে মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট গবেষণার দিক তৈরি করা হয়।
গবেষণা প্রস্তাবে গবেষণার পটভূমি, সমস্যার বিবরণ, আগের গবেষণায় ঘাটতি, গবেষণার উদ্দেশ্য, গবেষণা প্রশ্ন, সাহিত্য পর্যালোচনা, তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি, পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য গবেষণাগত অবদান তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে আগের গবেষণা, বর্তমান একাডেমিক অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে একটি ধারাবাহিক কাঠামোর মধ্যে উপস্থাপন করা হয়।
শেষ ধাপে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, জীবনবৃত্তান্ত, আইইএলটিএস ফলাফল, গবেষণা প্রকাশনা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনা করে ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের আবেদন প্রস্তুত করা হয়। ব্যক্তিগত বিবৃতিতেও তাঁর একাডেমিক যাত্রা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজ এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনার মধ্যে যোগসূত্র তুলে ধরা হয়।
আমেরিকান বাঙালি কমিউনিটির যেসব শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এই ঘটনাটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিতে পারে। শুধু সিজিপিএ ভালো হলেই যে ফান্ডিং নিশ্চিত হবে, বিষয়টি এমন নয়। আবার কোনো অধ্যাপকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলেই যে ভর্তি বা আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হয়ে যাবে, সেটিও ঠিক নয়।
বরং নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানানসই বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম খুঁজে বের করা, গবেষণার আগ্রহ স্পষ্ট করা, সঠিক শিক্ষক সদস্য নির্বাচন, শক্তিশালী গবেষণা প্রস্তাব তৈরি এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদন সাজানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির এই উদাহরণ কোনো নির্দিষ্ট বৃত্তি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। তবে এটি দেখিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার সময় শুধু নম্বরের ওপর নির্ভর না করে নিজের পুরো প্রোফাইলকে কীভাবে সঠিক প্রোগ্রামের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করা যায়। আমেরিকান বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য সেটিই হতে পারে ফান্ডিং পাওয়ার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreগাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স বা আইএসএফ গঠনে ২০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তবে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতবিরোধ থাকায় ফোর্সটি কবে গাজায় মোতায়েন হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। স্টেট ডিপার্টমেন্ট ৩০ জুলাই মার্কিন কংগ্রেসকে অর্থায়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। এর মধ্যে আইএসএফের সরঞ্জাম, অবকাঠামো, যানবাহন ও অপারেশনাল খরচের জন্য ২০ কোটি ডলার রাখা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৬৩ লাখ ডলার ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার এই ফোর্সের কাজে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাস করা হবে। রয়টার্সের হাতে আসা কংগ্রেশনাল নোটিফিকেশন অনুযায়ী, গাজায় আইএসএফ নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা এবং মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন সামগ্রী নিরাপদে পৌঁছাতে ভূমিকা রাখবে। ফোর্সটির চূড়ান্ত কাঠামো ও সদস্যসংখ্যা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তার ২১ দফা শান্তি পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আইএসএফ ওই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফোর্সকে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া আইএসএফে সেনা পাঠাতে সম্মতি জানিয়েছে। মিসর ও জর্ডান ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ফোর্সটি কবে গাজায় প্রবেশ করবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। এরই মধ্যে পরিকল্পনাটি বড় ধরনের রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জুলাইয়ের শেষ দিকে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের একটি রোডম্যাপ সামনে আনলেও ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে এর বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। অন্যদিকে হামাসও পরিকল্পনাটিতে সম্মতির কথা বললেও ইসরায়েলকে আগে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছে। এই অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার চলতি সপ্তাহে হামাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিসরে এবং পরে ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে জেরুজালেমে বৈঠক করেছেন। তবে এসব বৈঠকে মূল বিরোধগুলোর কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও জানিয়েছে, গাজায় আন্তর্জাতিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স প্রবেশের জন্য এখনো ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কোনো অনুমোদন দেয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র অর্থায়নের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি এগিয়ে নিলেও এর বাস্তবায়ন এখনো নির্ভর করছে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে নিরাপত্তা, নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে সমঝোতার ওপর।
অন্যের জমি দখল শুধু মানুষের নয়, ঈশ্বরের আইনেরও লঙ্ঘন: ইসরায়েলিদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র
কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্সে ফুল ফ্রি টিউশন, সঙ্গে প্রায় ৩২ লাখ টাকার স্টাইপেন্ড
জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত পুলিশ অফিসারকে মুক্তির দাবি ইলন মাস্কের, ফের তীব্র বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাবেক প্রেমিকাকে অপহরণ, যৌন নির্যাতন ও হত্যার রোমহর্ষক পরিকল্পনা করার অভিযোগে ড্যারেন ঝো নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই ভয়ংকর অপরাধের পুরো ছকটি তিনি কষেছিলেন জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’র সঙ্গে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই ওই যুবকের অস্বাভাবিক কথোপকথন শনাক্ত করে এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে জানিয়ে দেয়। এরপরই তদন্তে নেমে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মার্কিন আইনি সংবাদমাধ্যম ম্যাসাচুসেটস লয়্যারস উইকলি এবং এনডিটিভির প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য সামনে এসেছে। আদালতের নথির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ড্যারেন ঝো ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসে একজন বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করতেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে তার ছয় মাসের প্রেমের সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর থেকেই তিনি সাবেক প্রেমিকাকে নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা শুরু করেন। তদন্তকারীদের কাছে ঝো স্বীকার করেছেন যে, বিচ্ছেদের পর সাবেক প্রেমিকার আশপাশে অন্য পুরুষদের উপস্থিতি নিয়ে তিনি প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত ছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ঝোর কথোপকথনগুলো কেবল আবেগ বা ক্ষোভ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং মাসের পর মাস ধরে সেখানে নিখুঁতভাবে সহিংসতার পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছিল। এমনকি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কীভাবে সামাল দিতে হবে, তারও বিস্তারিত আলোচনা ছিল ওই চ্যাটে। একপর্যায়ে ঝো চ্যাটজিপিটিকে জানান, তিনি ফুল হাতে তার সাবেক প্রেমিকার জিমের পার্কিং এলাকায় অপেক্ষা করবেন এবং সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লাগানোর প্রস্তাব দেবেন। যদি তরুণী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তবে তাকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করবেন। পরবর্তীতে এই পরিকল্পনার মাত্রা আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। চ্যাটজিপিটির সঙ্গে আলোচনায় ঝো তার সাবেক প্রেমিকাকে জিম্মি করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার এবং সেখানে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন করার ছক কষেন। পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী হস্তক্ষেপ করলে তাদের ওপরও হামলা চালানোর পাশাপাশি তরুণীর পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষতি করার হুমকি উঠে আসে ওই কথোপকথনে। এই ঘটনাগুলো আঁচ করতে পেরেই ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ এফবিআইকে সতর্ক করে। তদন্তের অংশ হিসেবে ২১ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গেও কথা বলে পুলিশ। তিনি জানান, ড্যারেন ঝোর অস্বাভাবিক, সন্দেহবাতিক ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের কারণেই তিনি সম্পর্কটি শেষ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এমনকি ঝোর উগ্র আচরণে এতটাই ভয় পেয়েছিলেন যে, সামনাসামনি কথা না বলে ফোনেই তিনি বিচ্ছেদের কথা জানান। ওই তরুণীর অভিযোগ, বিচ্ছেদের পরও ঝো ফোন, খুদে বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ক্রমাগত হয়রানি করতে থাকেন। অন্য পুরুষদের নিয়ে অবান্তর প্রশ্ন করা এবং তিনি দ্রুত নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন—এমন ভিত্তিহীন অভিযোগও করতেন ঝো। একপর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে তরুণী ঝোর ফোন নম্বর ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেন। কিন্তু এরপর বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে নতুন নতুন ভুয়া নম্বর থেকে ঝো যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। এসব বার্তায় চরম হয়রানি, অপমানজনক বক্তব্য, যৌন ইঙ্গিত এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। প্রমাণ হিসেবে ওই তরুণী এসব কথোপকথনের স্ক্রিনশট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। গ্রেপ্তারের মাত্র ছয় দিন আগে এফবিআই পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়কে ঝোর এই ভয়ংকর কথোপকথনের বিষয়ে সতর্ক করে। পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের একজন ডেপুটি জানান, তদন্তে তারা চ্যাটজিপিটির প্রায় দুই মাসের চ্যাট হিস্ট্রি বা কথোপকথনের ইতিহাস পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, এটি কেবল হতাশা বা রাগের বহিঃপ্রকাশ ছিল না, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি অপরাধের প্রস্তুতি ছিল। গত মে মাসে ড্যারেন ঝোকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাম বিচ কাউন্টি কারাগারে দুই দিন বন্দি থাকার পর এক লাখ ডলারের মুচলেকায় তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে গুরুতরভাবে অনুসরণ বা হয়রানি করা (স্টকিং), লিখিতভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং মোবাইল ফোনের অবৈধ ব্যবহারের মতো সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও নজরদারির ক্ষেত্রে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিউইয়র্কের ক্যাপিটল ভবনে বোমা হামলার পরিকল্পনা, আইএস অনুসারী নারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড ঋণে শীর্ষ ছয়ে ফ্লোরিডা, গড় বকেয়া ৫ হাজার ডলারের বেশি
সন্তান জন্ম দিতে বিদেশে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেন-জি বাবা-মায়েরা, পছন্দ কানাডা-যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ
যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত অভিবাসীদের জন্য কিছু ফেরতযোগ্য কর সুবিধা সীমিত করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নির্দিষ্ট চার ধরনের কর ক্রেডিট থেকে করের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন যোগ্যতা না থাকা অভিবাসীরা। তবে তাঁরা নিজেদের বকেয়া আয়কর কমানোর জন্য এসব কর ক্রেডিটের মূল অংশ ব্যবহার করতে পারবেন। বুধবার প্রকাশিত প্রস্তাবিত বিধিমালায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস) বলেছে, ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল কল্যাণ আইন অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ নন এমন ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ওপর যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তার আওতায় ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশও পড়বে। প্রস্তাবটি এখন জনমত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামতের জন্য উন্মুক্ত। নতুন প্রস্তাবটি চার ধরনের কর ক্রেডিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এগুলো হলো দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিট, শিশু কর ক্রেডিট, আমেরিকান অপরচুনিটি কর ক্রেডিট এবং অর্জিত আয় কর ক্রেডিট। এই কর ক্রেডিটগুলোর বিশেষত্ব হলো, এগুলো ফেরতযোগ্য। অর্থাৎ কোনো করদাতার পাওনা করের পরিমাণের চেয়ে ক্রেডিট বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ সাধারণত কর ফেরত হিসেবে পাওয়া যায়। নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলে অননুমোদিত অভিবাসীরা তাঁদের করের দায় কমানোর জন্য ক্রেডিট ব্যবহার করতে পারলেও অতিরিক্ত অংশ নগদ ফেরত হিসেবে পাবেন না। অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের ফেরতযোগ্য অংশ পেতে হলে করদাতাকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বসম্পন্ন ব্যক্তি অথবা ১৯৯৬ সালের আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ হতে হবে। কর ক্রেডিট প্রথমবার দাবি করার সময় এই যোগ্যতা থাকতে হবে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, করদাতাদের অর্থ এমন ব্যক্তিদের সুবিধায় ব্যবহার করা উচিত নয়, যাঁরা ফেডারেল আইনের অধীনে ওই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। আইআরএস কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানোও বলেছেন, নতুন প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো ফেডারেল অর্থায়নে দেওয়া সুবিধা কেবল যোগ্য করদাতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। আইআরএসের হিসাবে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে সরকারের বছরে সর্বোচ্চ ২.৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। তবে এই হিসাব প্রস্তাবিত নিয়মের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, নিশ্চিত সাশ্রয়ের পরিমাণ নয়। এই উদ্যোগের পেছনে ১৯৯৬ সালের ‘পার্সোনাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড ওয়ার্ক অপরচুনিটি রিকনসিলিয়েশন অ্যাক্ট’ বা কল্যাণ সংস্কার আইনকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই আইনে নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসীদের জন্য যোগ্যতার শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। তবে কয়েক দশক ধরে কর ক্রেডিটকে ওই আইনের আওতায় সরাসরি ‘সরকারি সুবিধা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনের ব্যাখ্যা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। নতুন প্রস্তাবের যুক্তি হলো, কোনো কর ক্রেডিট শুধু করের দায় কমিয়ে দিলে সেটি এক বিষয়, কিন্তু করের দায়ের অতিরিক্ত অর্থ সরকার থেকে সরাসরি ফেরত দেওয়া হলে সেটি সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম অবশ্য সব ধরনের অভিবাসন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে না। আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, শরণার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত এক বছরের জন্য বিশেষ ‘প্যারোল’ মর্যাদায় প্রবেশের অনুমতি পাওয়া কিছু ব্যক্তিকে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রতিটি কর ক্রেডিটের নিজস্ব আয়সীমা ও অর্থ পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিটের একটি নির্দিষ্ট অংশ ফেরতযোগ্য। আবার শিশু কর ক্রেডিট ও অর্জিত আয় কর ক্রেডিট মূলত নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা পরিবার ও কর্মজীবীদের করের বোঝা কমাতে সহায়তা করে। আইআরএসের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, কোনো দম্পতি যৌথভাবে কর বিবরণী জমা দিলে তাঁদের মধ্যে একজন সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের যোগ্য হলেই ফেরতযোগ্য অংশ দাবি করার সুযোগ থাকতে পারে। অর্থাৎ যৌথ কর বিবরণীর ক্ষেত্রে উভয় ব্যক্তির একই ধরনের যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে নতুন বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা শেষে ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস প্রস্তাবটি পরিবর্তন, চূড়ান্ত বা প্রত্যাহার করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের একটি নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ। ওই নির্দেশনায় ফেডারেল সংস্থাগুলোকে ১৯৯৬ সালের কল্যাণ সংস্কার আইনের বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর ট্রেজারি বিভাগ বিচার বিভাগের আইন পরামর্শ দপ্তরের কাছে ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশ ওই আইনের আওতায় পড়ে কি না, সে বিষয়ে মতামত চায়। প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইন পরামর্শ দপ্তর মত দিয়েছে যে কর ক্রেডিটের যে অংশ করদাতাকে নগদ অর্থ হিসেবে ফেরত দেওয়া হয়, সেটি সরকারি সুবিধার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। নতুন নিয়মটি অবশ্য ওবামা প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ‘ওবামাকেয়ার’-এর প্রিমিয়াম কর ক্রেডিটে প্রযোজ্য হবে না। ট্রেজারি ও আইআরএস জানিয়েছে, ওই কর সুবিধা নিয়ে ইতোমধ্যেই পৃথক আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। একইভাবে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য চালু হওয়া নতুন ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ এবং যোগ্য শিশুদের জন্য নির্ধারিত এককালীন ১ হাজার ডলারের অর্থও এই প্রস্তাবের আওতায় পড়বে না। কারণ এসব সুবিধা আইন অনুযায়ী শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে চলমান বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের অংশ। তবে প্রস্তাবিত বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় বাস্তবে কখন থেকে এর প্রভাব পড়বে এবং কোন কোন করদাতা ঠিক কতটা সুবিধা হারাবেন, তা চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস, প্রায় সব অঙ্গরাজ্যে বাড়ছে সংক্রমণ
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা দুই চাকরিতে ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি: বলছে গবেষণা