সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার কার্যক্রম নিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনের কঠোর বার্তা। ছবি: সংগৃহীত
“অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের জন্য আজ দারুণ দিন” হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারির পোস্টে কড়া বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার কার্যক্রম নিয়ে আবারও কঠোর বার্তা দিয়েছেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের জন্য আজ দারুণ একটি দিন। সুপ্রভাত, আমেরিকা।”   পোস্টের সঙ্গে একটি ছবিও প্রকাশ করেন মুলিন। ছবিতে রাতের বেলায় একটি বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিপুলসংখ্যক মানুষকে সারিবদ্ধভাবে একটি বিমানের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের অনেকের পরনে একই ধরনের সাদা পোশাক। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের বহিষ্কার কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই পোস্টের প্রেক্ষাপট থেকে প্রতীয়মান হয়। তবে পোস্টে নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি, ছবিটি কোন বিমানবন্দরে তোলা বা ওই ফ্লাইটে থাকা ব্যক্তিরা কোন দেশের নাগরিক।   মার্কওয়েন মুলিন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি ২০২৬ সালের মার্চে সিনেটের অনুমোদনের পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি হিসেবে শপথ নেন। এর আগে তিনি ওকলাহোমার রিপাবলিকান সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ এবং বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মুলিনও দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভিবাসন আইন কার্যকর করার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইসহ বিভিন্ন সংস্থা এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।   সাম্প্রতিক সময়েও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন দেশের নাগরিককে বহিষ্কারের খবর সামনে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আইনগত ভিত্তি রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।   মুলিনের সর্বশেষ পোস্টটি এমন সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের বহিষ্কার কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন বলছে, অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।   অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী ও সমালোচকেরা বহিষ্কার অভিযান, আটক এবং আইন প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। ফলে মুলিনের প্রকাশ্য বক্তব্যটি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রতি তার সমর্থনের আরেকটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৩:৪
গাজায় ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান তুরস্ক, মিসর ও কাতারের। ছবি: সংগৃহীত
গাজায় ইসরায়েলি হামলার নিন্দা তুরস্ক-মিসর-কাতারের, যুদ্ধবিরতি মানার আহ্বান

গাজা উপত্যকায় সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, মিসর ও কাতার। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তিন দেশ, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা তুরস্ক, মিসর ও কাতার। তারা বলেছে,গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যৌথ বিবৃতিতে তিন দেশ গাজায় বেসামরিক মানুষ, নারী ও শিশুসহ হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান শান্তি প্রচেষ্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নতুন করে সংকট তৈরি করছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের সদস্যরা। তুরস্ক, মিসর ও কাতার বলেছে, গাজা সংঘাতের অবসানে যে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে, সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা সেটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তিন মধ্যস্থতাকারী দেশ ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব বাধ্যবাধকতা পূরণ এবং উত্তেজনা বাড়াতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।   এদিকে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ নিয়েও ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয় রয়েছে। তবে কোনটি আগে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের কারণে আলোচনা এগোতে বাধার মুখে পড়েছে।   তিন দেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রতি যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় নতুন করে উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।   তুরস্ক, মিসর ও কাতারের এই অবস্থান এমন সময়ে এলো, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ১২:৫৭
নিখোঁজ হওয়ার আট দিন পর অস্ট্রেলিয়ার নাত্তাই জাতীয় উদ্যান থেকে লিলি হুপারের মরদেহ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত
আট দিন পর নিখোঁজ অস্ট্রেলীয় তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, জীবিত থাকার ভুল খবরে পরিবারে শোক

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের নাত্তাই জাতীয় উদ্যানে এককভাবে পাহাড়ি পথে হাঁটতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ১৮ বছর বয়সী লিলি হুপারের মরদেহ আট দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মর্মান্তিক এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা মরদেহ উদ্ধারের পর ভুল যোগাযোগের কারণে কিছু সময়ের জন্য তার পরিবারকে জানানো হয়েছিল, লিলিকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে সেই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়।   লিলি হুপার ১২ আগস্ট সকালে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওকডেল এলাকার বাড়ি থেকে একা পাহাড়ি পথে হাঁটতে বের হন। তার গন্তব্য ছিল সিডনি থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নাত্তাই জাতীয় উদ্যানের বন ও পাহাড়ি এলাকা। পুলিশ জানিয়েছিল, সেদিন সকালে তিনি বনাঞ্চল থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন। পরে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।   সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবার তাকে নিখোঁজ ঘোষণা করে। রাত প্রায় ১১টার দিকে উদ্ধারকারী দল নাত্তাই জাতীয় উদ্যানের বোনাম পিক হাঁটার পথের কাছে ওয়াংগান্ডেরি রোডে তার গাড়িটি খুঁজে পায়। গাড়ি পাওয়া গেলেও লিলির কোনো সন্ধান মিলছিল না।এরপর শুরু হয় ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ, রাজ্য জরুরি পরিষেবা, অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী, বন ও জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থা এতে অংশ নেয়।    পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও অভিযানে যোগ দেন। ড্রোন, হেলিকপ্টার, বিশেষ উদ্ধারকারী দল, প্রশিক্ষিত কুকুর, ঘোড়া ও ট্রেইল বাইক ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।   নাত্তাই জাতীয় উদ্যানের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ঘন বন, খাড়া ঢাল ও দুর্গম পথের কারণে অভিযান পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও লিলির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।   অবশেষে ২০ আগস্ট অনুসন্ধানকারী দলের সদস্যরা বনাঞ্চলের ভেতর একটি মরদেহ খুঁজে পান। পুলিশ জানায়, মরদেহটি লিলি হুপারের বলে ধারণা করা হচ্ছে; তবে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্তকরণ ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া তখনও সম্পন্ন হয়নি। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণও তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। প্রাথমিকভাবে পুলিশ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো ইঙ্গিতের কথা জানায়নি।   মরদেহ উদ্ধারের পরই ঘটে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি। অনুসন্ধান দলের সঙ্গে যোগাযোগের সময় ব্যবহৃত একটি বার্তা ভুলভাবে বোঝা হয়। উদ্ধার অভিযানের সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করার জন্য ব্যবহৃত সংকেত বা কোডের অর্থ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে এমন তথ্য পৌঁছে যায় যে লিলিকে জীবিত পাওয়া গেছে। সেই তথ্য তার পরিবারকেও জানানো হয়।   এরপর নিউ সাউথ ওয়েলসের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস মিনসও সংসদে লিলিকে জীবিত উদ্ধারের খবর ঘোষণা করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জানতে পারেন, আগের তথ্যটি সঠিক ছিল না। পরে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পরিবারের কাছে ক্ষমা চান।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুল খবরটি জানার পর লিলির পরিবার কয়েক মিনিটের জন্য ভেবেছিল তাদের মেয়ে জীবিত অবস্থায় ফিরে এসেছে। এরপর প্রকৃত খবর জানার পর সেই আশাই পরিণত হয় গভীর শোকে।    নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশও স্বীকার করেছে যে যোগাযোগের ভুলের কারণে পরিবারকে প্রথমে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। লিলির পরিবার পুরো অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ, জরুরি সেবাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যান্য উদ্ধারকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। আট দিন ধরে শত শত মানুষ দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন।   ঘটনাটি এখন শুধু লিলির মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই; অনুসন্ধান অভিযানের সময় কীভাবে ভুল তথ্য তৈরি হলো এবং যাচাই না করেই তা কীভাবে পরিবার ও জনসমক্ষে পৌঁছে গেল, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুতর যোগাযোগ বিভ্রাট এড়াতে প্রক্রিয়া পর্যালোচনার কথাও বলা হয়েছে।   লিলি হুপারের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়াজুড়ে শোকের সৃষ্টি করেছে। আট দিনের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তার পরিবারের জন্য সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হলো;যে মুহূর্তে তারা মেয়েকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা করেছিলেন, তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই আশার জায়গা নিয়েছে এক অপূরণীয় শোক।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ১২:৪৮
সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির বাইরে মির্জা ফখরুলের পক্ষে পড়েছে ১১ ভোট

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবারের ভোটে তিনি পেয়েছেন মোট ২৫৫ ভোট।   রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ৩৪৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।   বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন এবং মির্জা ফখরুলকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।   বিএনপির নিজস্ব ভোট ২৪৪ নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মির্জা ফখরুল তাঁর দল বিএনপির সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে পেয়েছেন ২৪৪ ভোট। দলটির নির্বাচিত ২০৮ জন সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের ৩৬ জনও তাঁকে ভোট দিয়েছেন।   অর্থাৎ বিএনপির নিজস্ব ভোটের হিসাব দাঁড়ায় ২৪৪টি। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে মির্জা ফখরুল পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। ফলে বিএনপির নিজস্ব ভোটের বাইরে তাঁর পক্ষে পড়েছে আরও ১১টি ভোট।   এই অতিরিক্ত ১১ ভোটের মধ্যে জোটসঙ্গীদের কাছ থেকে এসেছে তিনটি ভোট। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন সাতটি ভোট। আর ‘হাতপাখা’ প্রতীকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যও মির্জা ফখরুলকে ভোট দিয়েছেন।   সব মিলিয়ে বিএনপির ২৪৪ ভোটের সঙ্গে জোটসঙ্গীদের তিন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সাত এবং হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচিত একজনের ভোট যোগ হয়ে তাঁর মোট ভোট দাঁড়িয়েছে ২৫৫টিতে।   অলি আহমদ পেলেন ৮৮ ভোট অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। প্রদত্ত ৩৪৩ ভোটের মধ্যে এই দুই প্রার্থীর ভোট যোগ করলে মোট ভোটের হিসাবও মিলে যায়।   ফল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান।   নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর শুক্রবার ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।   এই ফলাফলে মির্জা ফখরুল শুধু বিএনপির সংসদ সদস্যদের সমর্থনই পাননি, জোটসঙ্গী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের একটি অংশের ভোটও পেয়েছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলে দলীয় ভোটের পাশাপাশি সংসদের বাইরে থেকে পাওয়া এই ১১ ভোটও বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ১২:৩৯
নাগরিকত্বের মাধ্যমে পাসপোর্ট ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধিকারের সুযোগ দেয় ফিনল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্ব পেলে যে ৬টি বিশেষ অধিকার পাওয়া যায়, সেগুলো কী?

ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্ব শুধু দেশটির পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগই তৈরি করে না; এর সঙ্গে যুক্ত হয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, নির্দিষ্ট সরকারি পদে কাজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। দেশটির সরকারি তথ্যসেবা ইনফোফিনল্যান্ডে নাগরিকত্বের সঙ্গে যুক্ত অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।   প্রথমত দেশটির পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার অর্জন করা। নাগরিকদের জন্য ফিনিশ পাসপোর্ট দেশের নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি নাগরিকদের সাধারণ বসবাসের অনুমতির তুলনায় নাগরিকত্বের এই অধিকার আলাদা।   দ্বিতীয়ত, ফিনল্যান্ডের নাগরিকদের নিজের দেশে প্রবেশের অধিকার রয়েছে। বিদেশে অবস্থান করলেও নাগরিকরা ফিনল্যান্ডে ফিরে যেতে পারেন। নাগরিকত্বের সঙ্গে প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিশেষ সুরক্ষাও যুক্ত রয়েছে, যদিও কোনো নির্দিষ্ট মামলায় আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তির বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।   তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হলো নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ফিনিশ নাগরিকরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে অংশ নিতে পারেন। অর্থাৎ নাগরিকত্ব অর্জনের পর একজন বিদেশি শুধু দেশটিতে বসবাসকারী ব্যক্তি হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারেন।   চতুর্থত, ফিনল্যান্ডের নাগরিকরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান। এর ফলে নাগরিকরা শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না; তারা নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।   পঞ্চম অধিকার হলো নির্দিষ্ট সরকারি পদে কাজের সুযোগ। ফিনল্যান্ডের কিছু সরকারি দায়িত্ব ও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশটির নাগরিকত্ব প্রয়োজন হতে পারে। ফলে নাগরিকত্ব অর্জনের মাধ্যমে এমন কিছু সরকারি চাকরি ও দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হয়, যেগুলো বিদেশি নাগরিকদের জন্য সীমিত।   ষষ্ঠ এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্ব। ফিনল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় ফিনিশ নাগরিকরা একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন অধিকার পান। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলোতে অবাধে চলাচল, বসবাস ও কাজের সুযোগ অন্যতম। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্তে অন্য সদস্যদেশে স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়া এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকারও রয়েছে।তবে ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্বের সঙ্গে শুধু অধিকার নয়, কিছু দায়িত্বও রয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের দায়িত্ব রয়েছে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ ফিনিশ নাগরিকদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় পড়তে হতে পারে।   নারীদের জন্য সামরিক সেবা স্বেচ্ছামূলক। ফিনল্যান্ডের নাগরিকদের দেশের আইন মেনে চলার দায়িত্বও রয়েছে।নাগরিকরা বিদেশে অবস্থান করলেও কিছু পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের আইনের আওতায় আসতে পারেন। একই সঙ্গে ফিনল্যান্ড একাধিক নাগরিকত্ব গ্রহণের অনুমতি দিলেও সংশ্লিষ্ট অন্য দেশের আইন ও নাগরিকত্বের বিধান আলাদাভাবে প্রযোজ্য হতে পারে।   তবে নাগরিকত্ব এবং বসবাসের অনুমতি এক বিষয় নয়। ফিনল্যান্ডে দীর্ঘদিন বসবাস করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না।নাগরিকত্বের জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হয়।আবেদনকারীর পরিচয়, ফিনল্যান্ডে বসবাসের সময়কাল, ভাষাজ্ঞান এবং অন্যান্য আইনি শর্ত বিবেচনা করা হতে পারে।    ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্ব একজন বিদেশির জন্য শুধু একটি পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয় নয়। এর মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, নির্দিষ্ট সরকারি পদে কাজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে চলাচল ও কাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধিকার পাওয়া যায়। একই সঙ্গে নাগরিকদের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও আইন মেনে চলার মতো দায়িত্বও পালন করতে হয়।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ১২:২৩
কিশোরীদের অনলাইন শোষণের দায়ে ৭৭ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ২৭ বছর বয়সী কাইল উইলিয়াম স্পিৎজ। ছবি: সংগৃহীত
কিশোরীদের অনলাইনে ফাঁদে ফেলার দায়ে ৭৬৪ নেটওয়ার্ক সদস্যের ৭৭ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে কিশোরীদের অনলাইনে টার্গেট ও শোষণের অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী কাইল উইলিয়াম স্পিৎজকে ৭৭ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দেওয়া এই সাজা ৭৬৪ নামের সহিংস অনলাইন উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের কোনো সহযোগীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ ফেডারেল সাজা বলে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে।   ফ্রেন্ডসভিলের বাসিন্দা স্পিৎজকে শিশু যৌন নিপীড়নের উপকরণ তৈরি, প্রাণীর ওপর নির্যাতনের ভিডিও ছড়াতে সহায়তা এবং শিশু যৌন নিপীড়নের উপকরণ ইচ্ছাকৃতভাবে সংগ্রহ ও দেখার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাকে যাবজ্জীবন তত্ত্বাবধানে রাখার পাশাপাশি যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধনের নির্দেশও দিয়েছে। মার্কিন তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্পিৎজ ৭৬৪ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ‘হার্ম নেশন’ নামে সংশ্লিষ্ট একটি অনলাইন নেটওয়ার্কের প্রশাসক ও নেতৃস্থানীয় সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, এসব নেটওয়ার্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের টার্গেট করে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নেটওয়ার্কটির সদস্যরা ভয়ভীতি, ব্ল্যাকমেইল ও নানা ধরনের মানসিক চাপ ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের যৌন শোষণ, আত্মক্ষতি কিংবা সহিংস কর্মকাণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ কারণে এ ধরনের অনলাইন নেটওয়ার্ককে মার্কিন কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। তদন্তে স্পিৎজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে শিশুদের শোষণ-সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও পাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার ফোনের জন্য তল্লাশি পরোয়ানা নেওয়া হয়েছিল। পরে তদন্তে তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রসিকিউটরদের দাবি, স্পিৎজ অনলাইনে নিজেকে ‘ক্রিমিনাল’সহ বিভিন্ন নামে পরিচয় দিতেন এবং বিপুলসংখ্যক ভুক্তভোগীকে প্রভাবিত করার দাবি করেছিলেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তার কর্মকাণ্ডের অন্তত কিছু অংশে ভুক্তভোগীদের ওপর ভয়াবহ মানসিক চাপ ও জবরদস্তির অভিযোগ রয়েছে। এফবিআই ৭৬৪-কে এমন একটি অনলাইন উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক হিসেবে দেখছে, যার সদস্যরা বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে। সংস্থাটি এ ধরনের কার্যক্রমকে ‘আধুনিক যুগের সন্ত্রাসবাদের’ একটি রূপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। স্পিৎজের ৭৭ বছরের সাজা তাই শুধু একটি অপরাধ মামলার রায় নয়; অনলাইনে শিশুদের শোষণ ও উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অপরাধ সংগঠনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানেরও বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ১২:১৬
ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ছাড়াই ঘরের ভেতরের মানুষের উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ড শনাক্ত করছে ওয়াই-ফাই সংবেদন প্রযুক্তি। ছবি: সংগৃহীত
ক্যামেরা ছাড়াই ঘরের ভেতর নজরদারি, এআইয়ের চোখ হয়ে উঠছে ওয়াই-ফাই রাউটার

নজরদারির ধারণা এত দিন ক্যামেরা, মাইক্রোফোন কিংবা স্মার্টফোনের মতো দৃশ্যমান প্রযুক্তির সঙ্গে বেশি জড়িত ছিল। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে এখন ঘরের সাধারণ ওয়াই-ফাই রাউটারও মানুষের চলাফেরা ও উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য শনাক্ত করার সক্ষমতা অর্জন করছে   প্রযুক্তি নিয়ে লেখক শ্রীজিথ শ্রীধরনের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও এই পরিবর্তনকে ভবিষ্যৎ নজরদারির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ওয়াই-ফাই রাউটার মূলত ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার যন্ত্র। কিন্তু রাউটার থেকে ছড়িয়ে পড়া বেতার সংকেত ঘরের দেয়াল, আসবাবপত্র ও মানুষের শরীরে প্রতিফলিত হয়ে আবার বিভিন্ন ডিভাইসে পৌঁছায়।   মানুষের চলাফেরা বা অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে এসব সংকেতের বৈশিষ্ট্যও বদলে যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ঘরের ভেতরে মানুষের উপস্থিতি, নড়াচড়া কিংবা নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতে পারে। গবেষণায় ওয়াই-ফাই সংকেত ব্যবহার করে দেয়ালের আড়ালেও মানুষের নড়াচড়া শনাক্ত করার সক্ষমতা বহু বছর ধরেই প্রদর্শিত হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ধরনের নজরদারির জন্য সবসময় ক্যামেরা বা মানুষের শরীরে কোনো যন্ত্র বহন করা প্রয়োজন হয় না।   ওয়াই-ফাইয়ের ‘চ্যানেল স্টেট ইনফরমেশন’ বা সংকেতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে মানবদেহের নড়াচড়া, কার্যকলাপ এবং পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য বের করা সম্ভব। ২০২৬ সালের গবেষণাতেও বলা হয়েছে, ওয়াই-ফাইভিত্তিক এই প্রযুক্তি ডিভাইস ছাড়াই মানুষের কার্যকলাপ শনাক্ত করতে পারে এবং একই সঙ্গে ব্যক্তির পরিচয় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি কেবল গবেষণাগারের প্রযুক্তি হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কমকাস্ট ১৮ আগস্ট ২০২৬ থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক্সফিনিটি রাউটার ব্যবহারকারীদের জন্য ‘ওয়াইফাই মোশন’ নামে একটি সুবিধা চালু করেছে। এতে অতিরিক্ত ক্যামেরা বা সেন্সর ছাড়াই ঘরের ওয়াই-ফাই সংকেতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে নড়াচড়া শনাক্ত করা যায়।   ব্যবহারকারী চাইলে এই সুবিধা চালু করতে পারেন এবং এটি বাড়ির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।কমকাস্টের প্রযুক্তিতে ক্যামেরা বা অডিও রেকর্ড করা হয় না বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। তবে রাউটার ও সংযুক্ত ডিভাইসের মধ্যে ওয়াই-ফাই সংকেতের পরিবর্তন থেকে ঘরে নড়াচড়া শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে প্রযুক্তিটি প্রচলিত ক্যামেরাভিত্তিক নজরদারির তুলনায় কম দৃশ্যমান হলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন তৈরি করছে। এখানেই এআইয়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিপুল পরিমাণ ওয়াই-ফাই সংকেত থেকে মানুষের আচরণের ধরন আলাদা করা মানুষের পক্ষে কঠিন হলেও মেশিন-লার্নিং ব্যবস্থা একই ধরনের সংকেতের পুনরাবৃত্তি বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু ‘কেউ ঘরে আছে কি না’ তা নয়, বরং কখন মানুষ চলাফেরা করছে, কোন ঘরে বেশি সক্রিয়তা রয়েছে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের আচরণে পরিবর্তন হয়েছে কি না—এসব তথ্যও বিশ্লেষণ করার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। গবেষণায় ওয়াই-ফাই সংকেত ব্যবহার করে মানব চলাচল, অঙ্গভঙ্গি এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো শারীরিক গতিবিধি শনাক্ত করার সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছে।   তবে এর ইতিবাচক ব্যবহারও রয়েছে। বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষের ঘরে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা শনাক্ত করা, বাড়ির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, স্মার্ট-হোম ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়া—এসব ক্ষেত্রে ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো, অনেক ক্ষেত্রে নতুন ক্যামেরা বা আলাদা সেন্সর স্থাপন না করেই বিদ্যমান নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবহার করা যায়।   কিন্তু একই প্রযুক্তি অপব্যবহার হলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে। কোনো ব্যক্তির স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া তাঁর ঘরের ভেতরের চলাফেরা বা আচরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে স্মার্ট-হোমে একাধিক ডিভাইস পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকায় একটি দুর্বল ডিভাইস পুরো নেটওয়ার্কের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় ৫৬টি বাণিজ্যিক স্মার্ট-হোম যন্ত্রের ব্যবহারকারী-অ্যাক্সেস ভাগাভাগির ব্যবস্থা পরীক্ষা করে নয় ধরনের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অপর্যাপ্ত অনুমতি নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশাধিকার বাতিল করতে না পারা, অতিরিক্ত অনুমতি পাওয়া এবং অনিচ্ছাকৃত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের মতো সমস্যাও রয়েছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব ধরনের নজরদারি দৃশ্যমান নয়। ক্যামেরা থাকলে মানুষ সাধারণত বুঝতে পারে যে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কিন্তু ওয়াই-ফাই সংকেত দিয়ে কোনো ধরনের সংবেদন করা হলে ব্যবহারকারীর কাছে সেটি আলাদা করে দৃশ্যমান নাও হতে পারে।   এ কারণে প্রযুক্তিবিদদের কাছে স্বচ্ছতা, ব্যবহারকারীর সম্মতি এবং তথ্য সংরক্ষণের সীমা নির্ধারণ এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকেরা ইতোমধ্যে ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তির গোপনীয়তা রক্ষার পদ্ধতি নিয়েও কাজ করছেন। ২০২৬ সালের গবেষণায় ব্যক্তির পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের অনিচ্ছাকৃত প্রকাশ কমানোর জন্য গোপনীয়তা-সুরক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের স্মার্ট-হোম হয়তো শুধু এমন একটি বাড়ি হবে না যেখানে রাউটার ইন্টারনেট সরবরাহ করে, বাতি নিজে থেকে জ্বলে এবং দরজা মোবাইল দিয়ে খোলা যায়। একই নেটওয়ার্ক মানুষের উপস্থিতি ও আচরণ সম্পর্কেও তথ্য দিতে সক্ষম হতে পারে।   এই প্রযুক্তি নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও, ব্যক্তিগত জীবনের অদৃশ্য নজরদারি ঠেকাতে শক্তিশালী গোপনীয়তা নীতি, স্পষ্ট সম্মতি এবং ব্যবহারকারীর তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ১২:০
যুক্তরাজ্যে অবিবাহিত দম্পতিদের অধিকার বাড়ানোর নতুন প্রস্তাব নিয়ে শঙ্কিত ক্লেয়ার লংহার্স্ট ও তাঁর পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ে না করেও সংসার, নতুন আইনি প্রস্তাবে সঞ্চয় নিয়ে শঙ্কায় ব্রিটিশ নারী

যুক্তরাজ্যে বিয়ে না করে দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাসকারী দম্পতিদের আর্থিক ও উত্তরাধিকার অধিকার বাড়ানোর সরকারি প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।   এর মধ্যেই ৩৭ বছর বয়সী ব্রিটিশ নারী ক্লেয়ার লংহার্স্ট আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রস্তাবিত আইনি পরিবর্তন কার্যকর হলে সম্পর্ক ভেঙে গেলে তাঁর নিজের উপার্জন ও সঞ্চয়ের ওপরও আর্থিক দাবি তৈরি হতে পারে।   দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লেয়ার ও তাঁর সঙ্গী ইউসুফ আব্রাকি ২০২২ সালে বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। বিয়ের পোশাক, অনুষ্ঠানস্থল, তিন স্তরের কেক, আলোকচিত্রগ্রাহক এবং প্রায় ৬৫ জন অতিথির প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁরা আইনগতভাবে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন। অনুষ্ঠানটি বিয়ের মতো হলেও সেখানে আইনগত নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা ছিলেন না। ক্লেয়ার ও ইউসুফের বয়সের ব্যবধান সাত বছর। ক্লেয়ারের বয়স ৩৭ এবং ইউসুফের ৩০। তাঁদের পরিচয় হয় ইউসুফ যখন ক্লেয়ারের কর্মস্থল ডেভিড লয়েড জিমে বারটেন্ডার হিসেবে কাজ করতেন। ক্লেয়ার জানিয়েছেন, তিনি ইউসুফকে নিয়ে সন্দিহান ছিলেন না; বরং নিজের আর্থিক স্বাধীনতা হারানোর আশঙ্কা থেকেই আইনগত বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর বাবা-মায়ের তিক্ত বিবাহবিচ্ছেদের অভিজ্ঞতাও তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমানে তাঁদের তিন বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে এবং ক্লেয়ার দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন। ক্লেয়ার বছরে প্রায় এক লাখ পাউন্ডের কাছাকাছি আয় করেন এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সঞ্চয় গড়ে তুলেছেন।    অন্যদিকে ইউসুফ সপ্তাহান্তে একটি বেকারিতে খণ্ডকালীন কাজ করেন। তাঁদের তিন কক্ষের ভাড়া বাসার ভাড়া, বিভিন্ন বিল ও স্থানীয় করের বড় অংশ ক্লেয়ারই বহন করেন।ক্লেয়ারের বক্তব্য, তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবেই বিয়ে করেননি এবং এই সিদ্ধান্ত তাঁদের সম্পর্কের প্রতি অনাস্থার প্রকাশ নয়। বরং দুজনের সম্মতিতেই তাঁরা এমন একটি সম্পর্ক বেছে নিয়েছেন যেখানে প্রত্যেকে নিজের আর্থিক অবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবেন।    তিনি আশঙ্কা করছেন, নতুন আইনি কাঠামো কার্যকর হলে ভবিষ্যতে সম্পর্ক ভেঙে গেলে তাঁর সঞ্চয় বা অন্যান্য সম্পদের একটি অংশ নিয়ে আইনি দাবি উঠতে পারে। যুক্তরাজ্য সরকারের প্রস্তাবটি এসেছে ‘এ ফেয়ারার এন্ড টু রিলেশনশিপস’ নামে একটি বিস্তৃত পারিবারিক আইন সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে। ৫ জুন ২০২৬ সরকার এ বিষয়ে পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করে এবং ১৪ আগস্ট তা শেষ হয়। প্রস্তাবের আওতায় বিয়ে না করা দম্পতিদের বিচ্ছেদ এবং কোনো একজনের মৃত্যুর পর আর্থিক সুরক্ষা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো দম্পতি অন্তত তিন বছর একসঙ্গে বসবাস করলে অথবা তাঁদের সন্তান থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় আসতে পারেন। তবে শুধু একসঙ্গে বসবাস করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবাহিত দম্পতির সমান অধিকার পাওয়া যাবে না। আদালতকে আগে নিশ্চিত হতে হবে যে তাঁরা একটি স্থায়ী পারিবারিক সম্পর্কে ছিলেন।   প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সম্পর্ক ভেঙে গেলে আদালত প্রয়োজনের ভিত্তিতে সম্পদ, বাসস্থান, পেনশন বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদ নিয়ে আদেশ দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে সরকারের নথিতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক ব্যক্তি আইনগতভাবে নিজের মালিকানাধীন সম্পদের মালিকানা বজায় রাখবেন; বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ও পারিবারিক বাস্তবতা বিবেচনায় আদালত সম্পদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবে। সন্তানের কল্যাণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।   সরকারের যুক্তি হলো, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ৩৫ লাখের বেশি দম্পতি বিয়ে বা নাগরিক অংশীদারত্ব ছাড়াই একসঙ্গে বসবাস করছেন। ২০২৫ সালে এমন পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখে পৌঁছায়, যা মোট পরিবারের ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ। বর্তমান আইনে এসব পরিবারের অনেকেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে পর্যাপ্ত আর্থিক সুরক্ষা পান না। বর্তমান আইনে বিয়ে না করা কোনো দম্পতির একজনের সম্পত্তি, সঞ্চয় বা পেনশনের ওপর অন্যজনের বিবাহিত স্বামী বা স্ত্রীর মতো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নেই। একইভাবে, কেউ উইল না করে মারা গেলে তাঁর সহবাসকারী সঙ্গীও বিবাহিত স্বামী বা স্ত্রীর মতো স্বয়ংক্রিয় উত্তরাধিকারী হন না। নতুন প্রস্তাবে এই বিষয়গুলোও সংস্কারের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।   সরকার বলছে, সংস্কারের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এমন ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়া, যারা সন্তান লালন-পালনের জন্য চাকরি বা আয় কমিয়ে দেন কিংবা সম্পর্কের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা এবং সঙ্গীর মৃত্যুর পর আর্থিক অনিশ্চয়তার শিকার ব্যক্তিদের জন্য বর্তমান আইনে যে ঘাটতি রয়েছে, তা কমাতে চায় সরকার। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, অনেক মানুষ সচেতনভাবেই বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ তাঁরা নিজেদের সম্পদ ও আর্থিক স্বাধীনতা আলাদা রাখতে চান। তাঁদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নতুন আইনি কাঠামো অনিচ্ছাকৃতভাবে বিয়ের মতো আর্থিক দায় তৈরি করতে পারে। দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে ক্লেয়ার লংহার্স্টের ঘটনাকে এই বিতর্কের একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞ জুলিয়ান হকহেডও বিষয়টিকে জটিল বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে এমন মানুষদের সিদ্ধান্ত ও আর্থিক স্বাধীনতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে, যারা সচেতনভাবে আইনগত বিয়ে না করার পথ বেছে নিয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনের মতো নতুন আইন ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে—এমন তথ্য সঠিক নয়। ১৪ আগস্ট ২০২৬-এ সরকারের পরামর্শ গ্রহণের সময়সীমা শেষ হয়েছে; এখন সরকার মতামত ও তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। সরকারের ঘোষণাতেও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সংস্কার সংসদীয় সময়সূচি ও পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।   ফলে ক্লেয়ার লংহার্স্টের উদ্বেগটি বর্তমানে কোনো কার্যকর আইনের কারণে তাঁর সঞ্চয় হারানোর ঘটনা নয়; বরং ভবিষ্যতে প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তাঁর আশঙ্কা। যুক্তরাজ্যে বিয়ে না করে একসঙ্গে বসবাসকারী লাখো দম্পতির আর্থিক অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য তৈরি করা হবে, সেই প্রশ্নই এখন সংস্কার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ১১:৪৫
নিজ হাতে পবিত্র কোরআন লিপিবদ্ধ করছেন কুমিল্লার মাদ্রাসাছাত্রী সুরাইয়া জান্নাত। ছবি: সংগৃহীত
রিলস দেখে সময় নষ্ট না করে ৮ মাসে পুরো কোরআন লিখলেন সুরাইয়া

কুমিল্লার লাকসামের মাদ্রাসাছাত্রী সুরাইয়া জান্নাত নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময় কাজে লাগিয়ে নিজ হাতে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা লেখার উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রায় আট মাসের প্রচেষ্টায় তিনি ১ হাজার ১১৯ পৃষ্ঠায় সম্পূর্ণ কোরআন লিপিবদ্ধ করেছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কাজে তিনি প্রায় ৫৫০টি কলম ব্যবহার করেছেন।   সুরাইয়া জান্নাত কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের টানদগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সৌদি প্রবাসী নূর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির মেয়ে। বর্তমানে তিনি মুদাফরগঞ্জ এ ইউ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।   দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি হাতে কোরআন লেখার কাজ শুরু করেন সুরাইয়া। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময় তিনি এই কাজে ব্যয় করেন। প্রায় আট মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে ৩০ পারার কোরআন হাতে লেখেন তিনি। পুরো পাণ্ডুলিপিতে মোট ১ হাজার ১১৯টি পৃষ্ঠা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   কোরআন লেখার সময় পবিত্রতা ও শুদ্ধতা বজায় রাখতে বিশেষ সতর্ক ছিলেন বলে জানিয়েছেন সুরাইয়া। প্রতিদিন কাজ শুরুর আগে অজু করতেন তিনি। এরপর নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে কোরআন লেখার কাজে বসতেন।   নিজ হাতে কোরআন লেখার এই উদ্যোগের পর ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও জানিয়েছেন সুরাইয়া। হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সহিহ বুখারি’ নিজের হাতে লেখার ইচ্ছা রয়েছে তার। পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন এই শিক্ষার্থী।   মেয়ের এমন উদ্যোগে গর্বিত বাবা নূর হোসেন লিটন। মেয়ের হাতে লেখা কোরআন দেখে খুশি হয়ে তিনি তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরাইয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিস সুলতানা।   এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুরাইয়া জান্নাতকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের হাতে কোরআন লেখার এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুরাইয়া পরিবারের কাছ থেকে পুরস্কার এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।   সুরাইয়ার এই উদ্যোগের পেছনে নিজের অবসর সময়কে কাজে লাগানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে কোরআন লেখার কাজ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তিনি ৩০ পারার পাণ্ডুলিপি সম্পন্ন করেছেন বলে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে।   তবে তাঁর হাতে লেখা কোরআন সম্পন্ন করার সময় নিয়ে দেওয়া তথ্যে একটি সময়গত অসঙ্গতি রয়েছে। সেখানে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি কাজ শুরুর কথা বলা হলেও আগস্টের শেষ দিকে পুরো কাজ শেষ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০ আগস্টের হিসাবে আগস্টের শেষ সময় এখনো আসেনি। তাই কাজটি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলার জন্য আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ১১:১১
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের ক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
যশোরে সিজারের পর নবজাতকের মৃত্যু, শরীরে কাটার চিহ্ন নিয়ে অভিযোগ

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সিজার করাতে এসে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, সিজারের সময় শিশুটির মাথা, ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটার চিহ্ন দেখা যায় এবং চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় পরে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। তাদের দাবি, নবজাতকের শরীরে থাকা ক্ষত সিজারের সময় কাটার কারণে হয়নি এবং সিজারের আগেই অন্য কোনো কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাটি তদন্তের কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।   বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদর উপজেলার রায়মানিক কচুয়া গ্রামের সাগর হাসানের স্ত্রী তাসমিরাকে ভোরে প্রসব ব্যথা ওঠার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর তাকে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করেন এবং পরে সিজারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   সকাল ১০টার দিকে গাইনি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে প্রসূতির অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর পরিবারের সদস্যদের ছেলে সন্তান হওয়ার কথা জানানো হয় এবং নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানানো হয়। স্বজনদের দাবি, তারা শিশুটিকে দেখতে চাইলেও প্রথমে দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা পর শিশুটিকে দেখতে গেলে তার মাথা, ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটার চিহ্ন দেখতে পান তারা।   নবজাতকের খালা রহিমা খাতুন অভিযোগ করেন, পাঁচ দিন আগে শিশুটির নড়াচড়া না থাকায় তার বোন তাজমিরাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা মা ও শিশু ভালো থাকার কথা জানিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। সিজারের পর শিশুটিকে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে শিশুটিকে দেখে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটার চিহ্ন পাওয়ার দাবি করেন স্বজনেরা।   স্বজনদের দাবি, পরে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য অন্য একটি শিশু হাসপাতাল এবং একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে তারা জানান। শিশুটির বাবা সাগর হাসান চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।   তবে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আহসান কবির বাপ্পী বলেছেন, নবজাতকের শরীরে থাকা ক্ষত সিজারের সময় কেটে যাওয়ার কারণে হয়েছে বলে তারা মনে করছেন না। তার ধারণা, সিজারের আগেই অন্য কোনো কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। স্বজনদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ ও চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।   ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে নবজাতকের মৃত্যু ও শরীরে কাটার চিহ্নের বিষয়ে স্বজনদের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভিন্ন বক্তব্যও প্রতিবেদনে রয়েছে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সিজারের সময় শিশুটির শরীরে ক্ষত সৃষ্টি বা চিকিৎসকের অবহেলাকে নবজাতকের মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ হিসেবে উল্লেখ করা তথ্যনির্ভর হবে না।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ১১:০
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
ভারত-পাকিস্তানের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের খবর

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির চেয়ারম্যান ও ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন।   মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবরটি প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমেও গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতের ইন্ডিয়া টুডে বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, কারণ ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচনের আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছিল, বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ছিলেন শক্তিশালী অবস্থানে।   পাকিস্তানের জিও নিউজ মির্জা ফখরুলকে বিএনপির দীর্ঘদিনের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তাঁর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলটির ক্ষমতায় ফেরার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো। পাকিস্তানের দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনও একই দিনে তাঁর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, সংসদে ৩৪৯ জন আইনপ্রণেতা ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন এবং ভোটগ্রহণ উন্মুক্ত ব্যালট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়।অন্যদিকে পাকিস্তানি গণমাধ্যমগুলো মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্পর্কও তুলে ধরেছে।   জিও নিউজ ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্ররা সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় ফিরে আসে। এর পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান।রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের পেছনে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁকে দলীয় পদ ছাড়তে হয়। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে বিরোধী রাজনীতিতে এবং শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখপাত্র ও নেতা হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। দেশের নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকে। ফলে মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের রাজনৈতিক তাৎপর্য তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার চেয়ে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় তাঁর অবস্থান এবং বিএনপির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সও মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের বিষয়টিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় ফেরার পর দীর্ঘদিনের এই বিরোধী নেতা এখন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নিতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মির্জা ফখরুলের বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।   এদিকে বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন।   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমেও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং বিএনপির দীর্ঘদিনের শীর্ষ নেতার রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়া দুটি বিষয়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর সংবাদমাধ্যমে খবরটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ১১:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ট্যাক্স সুবিধা বন্ধে নতুন বিধির প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ অভিবাসীদের ট্যাক্স ফেরত বন্ধে নতুন বিধির প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

অবৈধ অভিবাসী ও অন্যান্য অযোগ্য ব্যক্তিদের ফেরতযোগ্য ট্যাক্স সুবিধা পাওয়া বন্ধ করতে নতুন বিধির প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ১৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ এই প্রস্তাব প্রকাশ করে। এতে চার ধরনের ব্যক্তিগত আয়কর সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতা স্পষ্ট করার কথা বলা হয়েছে।   প্রস্তাবিত বিধির আওতায় রয়েছে দত্তক ট্যাক্স সুবিধা, শিশু ট্যাক্স সুবিধা, আমেরিকান শিক্ষা ট্যাক্স সুবিধা এবং অর্জিত আয় ট্যাক্স সুবিধা। এসব সুবিধা ফেরতযোগ্য হওয়ায় কোনো করদাতার প্রাপ্য ট্যাক্স সুবিধা তার ফেডারেল ট্যাক্সের দায়ের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত অর্থ সরকার থেকে ফেরত পাওয়া যায়। নতুন বিধিতে এই ফেরতযোগ্য অংশকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।   অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় এবং আইনে নির্ধারিত যোগ্য অ-নাগরিকরা এসব ট্যাক্স সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্য হবেন। যোগ্য অ-নাগরিকদের মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা, শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং ১৯৯৬ সালের আইনে নির্ধারিত অন্যান্য শ্রেণির মানুষ অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন বিধি কার্যকর হলে অবৈধ অভিবাসী ও অন্যান্য অযোগ্য ব্যক্তিরা মার্কিন ট্যাক্সদাতাদের অর্থে অর্থায়িত এসব ট্যাক্স সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পেতে পারবেন না। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আইনের কারণে যারা এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের জন্য মার্কিন ট্যাক্সদাতাদের অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়।   অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বিধি ১৯৯৬ সালের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও কর্মসংস্থান সুযোগ পুনর্মিলন আইনের প্রয়োগ আরও জোরদার করবে। ওই আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ও যোগ্য অ-নাগরিকদের ফেডারেল সরকারি সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট যোগ্যতার নিয়ম রয়েছে।   তবে প্রস্তাবিত বিধি পুরো ট্যাক্স সুবিধা বাতিল করছে না। যারা ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্য নন, তারা এসব ট্যাক্স সুবিধা ব্যবহার করে নিজেদের ফেডারেল আয়কর দায় কমাতে পারবেন। অর্থাৎ বিধিটির মূল লক্ষ্য ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা।   নতুন বিধি চূড়ান্ত হওয়ার পর যেসব করবর্ষ শেষ হবে, সেই করবর্ষগুলোতে এর প্রয়োগ করা হবে। প্রস্তাবিত বিধি নিয়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে এবং ১৪ অক্টোবর এ বিষয়ে একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ জানিয়েছে।   অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিধির কারণে প্রায় ২ লাখ থেকে ৭ লাখ ট্যাক্সদাতা ফেরতযোগ্য ট্যাক্স সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হতে পারেন। তবে সংস্থা দুটি জানিয়েছে, বিধির কারণে ট্যাক্সদাতাদের অর্থ থেকে ঠিক কতটা সাশ্রয় হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় তথ্য তাদের কাছে নেই।   সরকারের অনুমান, প্রস্তাবিত বিধির আওতায় অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত ট্যাক্স সুবিধার পরিমাণ প্রায় ৭০ কোটি থেকে ২৬০ কোটি ডলার হতে পারে। এই হিসাব সম্ভাব্য অযোগ্য ট্যাক্স সুবিধার পরিমাণ নিয়ে সরকারের অনুমান, চূড়ান্ত সাশ্রয়ের হিসাব নয়।   এই প্রস্তাবের সঙ্গে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশেরও সম্পর্ক রয়েছে। ওই আদেশে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ফেডারেল অর্থায়নে পরিচালিত আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এমন কর্মসূচি শনাক্ত করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ফেডারেল সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা উন্নত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ১০:৪৭
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবারের প্রাণঘাতী হামলার পর গাজায় যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার মার্কিন উদ্যোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।   সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তুরস্ক, মিসর ও কাতার যৌথভাবে ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছে। তিন দেশ বলেছে, গাজায় হামলা জোরদার হলে চলমান শান্তি প্রচেষ্টা ও যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।   এদিকে গাজায় সম্প্রতি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া ৫০ ফিলিস্তিনির মরদেহ নিয়ে গণদাফন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহতরা তিনটি পরিবারের সদস্য ছিলেন। যুদ্ধের সময় তাদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিল।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যান হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব এটি স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ যাচাই করা সম্ভব নয়।এর মধ্যেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায় প্রথমবারের মতো ফৌজদারি তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।   এর মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাব ও তার পরিবারের সদস্যদের এবং ১৫ জন ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীর মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে গাজায় হামলা অব্যাহত থাকা এবং যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধের কারণে নতুন করে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ১০:২৪
ক্যালিফোর্নিয়ার কার্ন কাউন্টিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক মা ও তার দুই মেয়ে নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও দুই মেয়ে নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কনসার্ট থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির ধাক্কায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক মা ও তার দুই কন্যাসন্তান নিহত হয়েছেন।   ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল জানিয়েছে, গত রবিবার ভোরে কার্ন কাউন্টির বেকার্সফিল্ডের কাছে মহাসড়কে এই ভয়াবহ হেড-অন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।   নিহত তিন জন একটি হোন্ডা অ্যাকর্ড কারে করে ভ্রমণ করছিলেন এবং দুর্ঘটনার পরপরই গাড়িটিতে আগুন ধরে গেলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।   পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে খোলা একটি তহবিল সংগ্রহের পেজে নিহতদের নাম ভ্যানেসা এবং তার দুই কন্যা ক্লোই ও কাইলি বলে শনাক্ত করা হয়েছে।   নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, ক্লোইয়ের আসন্ন সপ্তদশ জন্মদিন উদ্‌যাপন উপলক্ষে ফ্রেসনো শহরে একটি কনসার্টে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তারা এবং অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় অন্য একটি গাড়ি ভুল দিক দিয়ে বেপরোয়া গতিতে এসে বিপরীত দিক থেকে চলা গাড়িগুলোকে সজোরে ধাক্কা দেয়।   এই ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় বিএমডব্লিউ গাড়ির চালক ও এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং অন্য একটি গাড়ির দুই আরোহী সামান্য আঘাত পেয়েছেন।   দুর্ঘটনার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দিয়ে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ১০:১১
কংগ্রেসওম্যান সারা জ্যাকবস ও ১৭ বছর বয়সী তরুণী সারাহ আবদিন। ছবি: সংগৃহীত
সান দিয়েগোতে মসজিদে হামলার পর শিশুদের পাশে দাঁড়ানো তরুণীর প্রশংসা কংগ্রেস সদস্যের, পেলেন বিশেষ স্বীকৃতি

সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে প্রাণঘাতী হামলার পর সেখানকার শিশুদের জন্য ঈদ উপহারের ব্যাগের উদ্যোগ নেওয়া ১৭ বছর বয়সী সারাহ আবদিনের প্রশংসা করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসওম্যান সারা জ্যাকবস। সারাহর মানবিক উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ‘আউটস্ট্যান্ডিং ইয়ুথ’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়েছে।   সারা জ্যাকবসের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে সারাহর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, নিজের শৈশবের মসজিদ ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়েগোর শিশুদের জন্য ঈদকে আনন্দময় করে তুলতে সারাহ তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। জ্যাকবস সারাহর এই উদারতা ও কমিউনিটির প্রতি তার অবদানের প্রশংসা করেন।   সারাহর উদ্যোগটি শুরু হয়েছিল গত মে মাসে ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়েগোতে বন্দুক হামলার পর। ১৮ মে ওই হামলায় তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হন। হামলার সময় মসজিদটির সঙ্গে থাকা স্কুলে শিশুরাও উপস্থিত ছিল। পুলিশ ও এফবিআই ঘটনাটিকে হেট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করছে। হামলার দুই কিশোর সন্দেহভাজনও পরে মারা যায়।   হামলার পর শিশুদের মানসিকভাবে স্বস্তি দেওয়া এবং তাদের প্রতি কমিউনিটির ভালোবাসা ও সমর্থনের বার্তা পৌঁছে দিতে সারাহ ও তার এক বন্ধু ঈদের জন্য গুডি ব্যাগ তৈরির উদ্যোগ নেন। সারাহর তহবিল সংগ্রহের আবেদন অনুযায়ী, এসব ব্যাগে শিশুদের জন্য ট্রিট, বিভিন্ন খেলাধুলার সামগ্রী, বিনোদনমূলক উপকরণ ও উপহার রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।   সারাহর জন্য উদ্যোগটি ছিল ব্যক্তিগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজেও ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়েগোর সঙ্গে ছোটবেলা থেকে যুক্ত ছিলেন। তার বন্ধুর ছোট বোন হামলার সময় মসজিদের স্কুলে উপস্থিত শিশুদের একজন ছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিশুদের জন্য ঈদের সময় আনন্দ ও স্বস্তির একটি পরিবেশ তৈরি করার উদ্যোগ নেন তারা।   কংগ্রেসওম্যান সারা জ্যাকবসের সাম্প্রতিক প্রশংসার মাধ্যমে কয়েক মাস আগে নেওয়া সারাহর সেই উদ্যোগটি আবারও আলোচনায় এসেছে। একজন তরুণীর এই উদ্যোগ মসজিদে হামলার মতো কঠিন পরিস্থিতির পর শিশুদের পাশে কমিউনিটির দাঁড়ানোর একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ১০:১
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় সহকর্মীকে খুন করে মরদেহ পুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
ভার্জিনিয়ায় সহকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশ প্রধান কেভিন ডেভিস এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত সোমবার ওয়াশিংটনের অদূরে গ্রেট ফলস এলাকার একটি পার্কের পার্কিং লট থেকে এক নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   নিহত নারীর নাম কারমেন লিসেত পুচ। তিনি তিন বছরের একটি কন্যা সন্তানের জননী ছিলেন এবং পুলিশ তাকে একজন অত্যন্ত স্নেহশীল মা হিসেবে বর্ণনা করেছে।   তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, অভিযুক্ত তরুণ এবং নিহত নারী ভার্জিনিয়ার হার্নডন এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে কাজ করতেন এবং তাদের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।   পুলিশের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, অভিযুক্ত তরুণ হত্যাকাণ্ডের রাতে রেস্তোরাঁ থেকে একটি ধারালো ছুরি, কালো ল্যাটেক্স গ্লাভস এবং একটি পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে বের হয়েছিলেন।   ঘটনার দিন সকালে এক পথচারী পার্কের একটি গাড়ির পাশে নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে জরুরি সেবায় কল করেন এবং পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ শুরু করে।   অভিযুক্ত তরুণ একটি মোটরসাইকেল থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে পানির বোতলে ভরে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান এবং ওই নারীর শরীরে একাধিকবার ছুরিকাঘাতের পর আগুন দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চালান।   পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে বর্তমানে তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন।   এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রেস্তোরাঁর মালিকসহ নিহতের সহকর্মীরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তারা নিহতের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য একটি আর্থিক তহবিল গঠন করেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৯:৫০
অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে শাস্তি ছবি:সংগৃহীত
পরকীয়ার অভিযোগে চার জনকে প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাত, শাস্তি দেওয়ার সময় ‘মায়া’ হলো জল্লাদেরও

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে শরিয়াহ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের সময় ব্যতিক্রমী এক মুহূর্তের দেখা মিলেছে। পরকীয়ার অভিযোগে চারজনকে বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়ার সময় মুখোশধারী ‘আলগোজো’ বা শাস্তি কার্যকরকারী এক নারীর প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   আচেহ ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র প্রদেশ, যেখানে বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের আওতায় শরিয়াহ আইন কার্যকর রয়েছে। সেখানে বিয়ে-বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক, পরকীয়া, মদ্যপান, জুয়া এবং কিছু যৌন আচরণের মতো অপরাধে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাস্তি কার্যকরের সময় অভিযুক্তদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মুখোশধারী আলগোজো। তবে চারজনের মধ্যে এক নারীকে বেত্রাঘাত করার সময় পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা হয়ে যায়। ওই নারীর কাছে গিয়ে আলগোজো নিচু স্বরে কিছু বলেন এবং তাকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   আচেহতে এ ধরনের শাস্তি সাধারণত জনসমক্ষে দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের নির্দিষ্ট সংখ্যক বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন শরিয়াহ পুলিশ ও কর্মকর্তারা। বিভিন্ন ঘটনায় শাস্তি দেখতে সেখানে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও দেখা যায়।‘   আলগোজো’ শব্দটি মূলত শাস্তি কার্যকরকারী ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আচেহর নিয়ম অনুযায়ী, নারী অভিযুক্তদের শাস্তি কার্যকরের ক্ষেত্রে নারী আলগোজো ব্যবহারের ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। ২০২০ সালে সেখানে প্রথমবার নারী আলগোজোদের একটি দল গঠন করা হয় বলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল।   প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের এই প্রথা দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এমন শাস্তি নিষ্ঠুর ও অমানবিক। অন্যদিকে আচেহর স্থানীয় আইন ও সামাজিক ব্যবস্থার সমর্থকেরা এটিকে শরিয়াহভিত্তিক আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখেন।   আচেহতে প্রকাশ্য বেত্রাঘাত বন্ধ করে তা কারাগারের ভেতরে নেওয়ার আলোচনা ও উদ্যোগ আগেও হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়েও জনসমক্ষে এই শাস্তি কার্যকর হওয়ার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।   চারজনের শাস্তির সময় ওই আলগোজোর কথিত সহানুভূতির মুহূর্তটি তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিশেষ নজর কেড়েছে। কঠোর শাস্তি কার্যকর করার দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির এমন মানবিক আচরণই ঘটনাটিকে অন্য অনেক বেত্রাঘাতের ঘটনার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৯:২৩
অর্থনীতিবিদ স্টেফান ম্যান্ডেল ছবি:সংগৃহীত
লটারি জিততে ভাগ্য নয়, গণিতকে ব্যবহার করে ১৪ বার জিতলেন জ্যাকপট!

লটারি মানেই ভাগ্যের খেলা। কিন্তু রোমানিয়ায় জন্ম নেওয়া অর্থনীতিবিদ স্টেফান ম্যান্ডেল সেই ধারণাকে যেন চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে গাণিতিক হিসাব ও কৌশল কাজে লাগিয়ে তিনি জীবনে মোট ১৪ বার লটারি জিতেছিলেন। তার সবচেয়ে আলোচিত সাফল্য আসে ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া লটারিতে। সেবার ম্যান্ডেলের নেতৃত্বাধীন একটি বিনিয়োগকারী সিন্ডিকেট ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জ্যাকপট জেতে।   ম্যান্ডেলের কৌশল শুনতে সহজ হলেও বাস্তবে তা ছিল অত্যন্ত জটিল। কোনো লটারিতে সম্ভাব্য নম্বরের মোট কম্বিনেশন যদি তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকে এবং সব কম্বিনেশনের টিকিট কেনার খরচ জ্যাকপটের অর্থের তুলনায় কম হয়, তাহলে সম্ভাব্য সব নম্বর কিনে জ্যাকপট জেতার সম্ভাবনা অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়। ম্যান্ডেল এই গাণিতিক সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছিলেন।   ১৯৫০-এর দশকে রোমানিয়ায় লটারি খেলে প্রথম বড় সাফল্য পান ম্যান্ডেল। সেখানে তিনি দুবার লটারি জেতেন। সেই অর্থ কাজে লাগিয়ে পরে পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তার গাণিতিক কৌশল আরও বড় পরিসরে প্রয়োগ করেন এবং সেখানে আরও ১২ বার লটারি জেতেন। সব মিলিয়ে তার লটারি জয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪।   অস্ট্রেলিয়ায় ম্যান্ডেল শুধু নিজের অর্থ দিয়ে টিকিট কিনতেন না। তিনি বিনিয়োগকারীদের নিয়ে একটি দল গড়ে তোলেন। কম্পিউটার প্রোগ্রাম ও প্রিন্টারের সাহায্যে সম্ভাব্য নম্বরের বিপুলসংখ্যক কম্বিনেশন তৈরি করা হতো। এরপর বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই কম্বিনেশন অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ টিকিট কেনা হতো।   তবে অস্ট্রেলিয়ায় লটারির নিয়ম পরিবর্তন হওয়ার পর ম্যান্ডেলের এই কৌশল আগের মতো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লটারির দিকে নজর দেন।   ১৯৯২ সালে ম্যান্ডেলের নজরে আসে ভার্জিনিয়া লটারি। সে সময় জ্যাকপটের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছেছিল। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, লটারিতে সম্ভাব্য নম্বরের মোট কম্বিনেশনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭১ লাখ। ম্যান্ডেলের হিসাব অনুযায়ী, সব কম্বিনেশনের টিকিট কিনতে যে অর্থ লাগবে, তা জ্যাকপটের তুলনায় কম।   এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি International Lotto Fund নামে একটি বিনিয়োগকারী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বিনিয়োগকারী যুক্ত ছিলেন। পরিকল্পনা ছিল বিপুল পরিমাণ অর্থ একত্র করে সম্ভাব্য সব নম্বরের কম্বিনেশন কেনা।   টিকিট কেনার জন্য শুধু একটি দোকানের ওপর নির্ভর করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন গ্যাস স্টেশন, গ্রোসারি স্টোরসহ নানা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বিপুলসংখ্যক টিকিট কেনা হয়। অস্ট্রেলিয়া থেকে আগে থেকেই সম্ভাব্য নম্বরের কম্বিনেশন তৈরি করে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল।   তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী সব টিকিট কেনা সম্ভব হয়নি। মোট প্রায় ৭১ লাখ সম্ভাব্য কম্বিনেশনের মধ্যে সিন্ডিকেট প্রায় ৫৬ লাখ টিকিট কিনতে পেরেছিল। অর্থাৎ তাদের হাতে সম্ভাব্য সব নম্বর ছিল না। তারপরও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য তাদের পক্ষেই যায়।   ১৯৯২ সালের ওই ড্রতে ম্যান্ডেলের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের একটি টিকিটই ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জ্যাকপট জিতে নেয়। এত বিপুলসংখ্যক টিকিট কেনার ঘটনা লটারি কর্মকর্তাদের নজর কাড়ে। পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়।   ম্যান্ডেলের কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও অনুসন্ধান করে। তবে সে সময়কার নিয়ম অনুযায়ী তার ব্যবহৃত পদ্ধতিকে অবৈধ হিসেবে প্রমাণ করা হয়নি। পরবর্তীতে লটারির নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়, যাতে একই ধরনের পরিকল্পনা ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি বা একটি সিন্ডিকেট বিপুলসংখ্যক টিকিট কিনে পুরো কম্বিনেশন কভার করতে না পারে।   তবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জ্যাকপট জেতার পর ম্যান্ডেলের গল্পের শেষটা পুরোপুরি সাফল্যের ছিল না। টিকিট কেনা, পরিচালনাসহ বিভিন্ন খরচ এবং কর পরিশোধের পর বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা অর্থ প্রত্যাশার তুলনায় কমে যায়। পরে ম্যান্ডেল নিজেও আর্থিক ও আইনি সমস্যার মুখে পড়েন এবং ১৯৯৫ সালে দেউলিয়া ঘোষণা করেন।   ম্যান্ডেলের গল্প তাই শুধু ১৪ বার লটারি জেতার গল্প নয়। তিনি দেখিয়েছিলেন, লটারির মতো ভাগ্যনির্ভর একটি খেলাতেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গণিত ও সম্ভাবনার হিসাব কাজে লাগানো সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন ছিল বিপুল অর্থ, বিশাল পরিমাণ টিকিট কেনার সক্ষমতা, বিনিয়োগকারীদের একটি বড় দল এবং অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনা।   বর্তমান লটারির নিয়ম ও টিকিট কেনার সীমাবদ্ধতার কারণে ম্যান্ডেলের সেই কৌশল এখন সাধারণ মানুষের জন্য বাস্তবসম্মত নয়। তার গল্প বরং একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে আছে, যেখানে গণিত, অর্থ, সংগঠন এবং ঝুঁকি নেওয়ার সাহস একসঙ্গে মিলে লটারির প্রচলিত ধারণাকেই একসময় বদলে দিয়েছিল।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৯:৮
শহরের বাড়ির দৃশ্য আমেরিকার। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্ক-ক্যালিফোর্নিয়ার চড়া খরচ ছেড়ে কম দামে বাড়ি, সাশ্রয়ী জীবনে নতুন গন্তব্য আইওয়া

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা ও সংসার চালানোর খরচ দিন দিন অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা অন্যান্য ব্যয়বহুল রাজ্যে বাড়ির দাম ও রেন্টের কারণে নতুন করে থিতু হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম খরচে বাড়ি কেনা, কম রেন্টে থাকা এবং স্থিতিশীল চাকরির সুযোগের কারণে আইওয়া অনেক পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।   মার্কিন মধ্যাঞ্চলের এই রাজ্যটি বড় শহরের কোলাহল থেকে দূরে হলেও অর্থনৈতিক দিক থেকে একেবারে পিছিয়ে নেই। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, আইওয়ায় একটি বাড়ির গড় মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার ২৫৫ ডলার। গত এক বছরে বাড়ির মূল্য ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে রাজ্যজুড়ে বাড়ির মধ্যম তালিকাভুক্ত মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ডলার এবং মধ্যম রেন্ট ১ হাজার ১৫০ ডলার।   বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে আবাসন খরচ। আইওয়ার রাজধানী ডেস মইনসে ২০২৬ সালের জুনে বাড়ির মধ্যম তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার এবং মধ্যম রেন্ট ১ হাজার ৮৫ ডলার।ডেভেনপোর্টে বাড়ির মধ্যম তালিকাভুক্ত মূল্য প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৪৯৮ ডলার এবং ওয়াটারলুতে প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯০০ ডলার। অর্থাৎ বড় শহরের তুলনায় কম বাজেটে বাড়ি কেনার সুযোগ কিছু এলাকায় এখনও পাওয়া যাচ্ছে।   তবে শুধু বাড়ির দাম কম হলেই হবে না, মাস শেষে হাতে কত টাকা থাকে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের একটি ব্যয় বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আইওয়ার সামগ্রিক জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। আবাসন ব্যয় জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। খাদ্য, ইউটিলিটি, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবার খরচও জাতীয় গড়ের তুলনায় তুলনামূলক কম।   আরেকটি বিশ্লেষণে আইওয়ার সামগ্রিক জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কম এবং আবাসন ব্যয় ২৬ শতাংশ কম বলে হিসাব করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবার যদি বড় শহরের উচ্চ রেন্ট বা মর্টগেজ থেকে বেরিয়ে তুলনামূলক ছোট শহরে যেতে চায়, তাহলে মাসিক বাজেটে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হতে পারে।   বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও আইওয়ার অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের একটি আবাসন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আয়ের তুলনায় বাড়ি কেনার সামর্থ্যের দিক থেকে আইওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসনবাজার। শুধু নতুন মর্টগেজের খরচ বিবেচনা করলে রাজ্যটি অষ্টম এবং মর্টগেজের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্স ধরলে নবম সবচেয়ে সাশ্রয়ী রাজ্যের অবস্থানে ছিল।   তবে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। বাড়ির দাম তুলনামূলক কম হলেও আইওয়ায় প্রপার্টি ট্যাক্সের বোঝা একেবারে কম নয়। ২০২৬ সালের ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি বাড়ির মোট মাসিক মালিকানা ব্যয়ের গড়ে ১৯ শতাংশই প্রপার্টি ট্যাক্সের অংশ ছিল। তাই শুধু বাড়ির দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মর্টগেজ, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে হিসাব করা দরকার।   চাকরির বাজারের দিক থেকেও আইওয়া বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। আইওয়া ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্টের সর্বশেষ জুন ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে জাতীয় বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। জুন মাসে আইওয়ার নিয়োগকর্তারা আরও ৬০০টি চাকরি যোগ করেছেন।   অর্থাৎ আইওয়া শুধু কৃষিনির্ভর রাজ্য হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, উৎপাদনশিল্প, আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যারা কম খরচের এলাকায় থেকে স্থিতিশীল আয় করতে চান, তাদের জন্য রাজ্যটি বিবেচনার তালিকায় থাকতে পারে।   ছোট শহরগুলোর অর্থনৈতিক সুবিধাও আলাদা। ডেস মইনসের মতো বড় শহরে কাজ ও ব্যবসার সুযোগ বেশি হলেও আশপাশের ছোট শহরগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি ও রেন্ট আরও কম হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ওয়াটারলুতে ২০২৬ সালের মধ্যম রেন্ট ছিল প্রায় ৭০০ ডলার। তবে শহরভেদে রেন্ট, চাকরি এবং জীবনযাত্রার খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তাই আইওয়া বেছে নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের আয় কত, চাকরি কোথায়, সন্তানের স্কুল কোথায়, বাড়ি কেনার পরিকল্পনা আছে কি না এবং প্রতিদিন কতটা যাতায়াত করতে হবে, এসব হিসাব করেই শহর নির্বাচন করা উচিত।   যারা রিমোট জব করেন, তাদের জন্য আইওয়ার ছোট শহরগুলো আরও আকর্ষণীয় হতে পারে। বড় শহরের তুলনায় কম রেন্ট বা বাড়ির দামে তুলনামূলক বড় জায়গা পাওয়া গেলে একই আয়ে পরিবারের জন্য বেশি অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব হতে পারে। তবে ইন্টারনেটের মান, স্থানীয় সেবা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা আগে যাচাই করা জরুরি।   আইওয়ার জীবন অবশ্য সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। শীত এখানে কঠিন হতে পারে, ছোট শহরে বড় মেট্রোপলিটন এলাকার মতো বিনোদন ও গণপরিবহনের সুবিধা সব জায়গায় পাওয়া যায় না। বাংলাদেশি কমিউনিটির আকারও নিউইয়র্ক, নিউজার্সি বা ক্যালিফোর্নিয়ার বড় শহরগুলোর মতো নয়।   তারপরও যারা উচ্চ রেন্ট, বাড়ির চড়া দাম ও প্রতিদিনের ব্যয়ের চাপ থেকে বের হয়ে তুলনামূলক কম খরচে পরিবার নিয়ে স্থিতিশীল জীবন গড়তে চান, তাদের জন্য আইওয়া এখন গুরুত্ব দিয়ে দেখার মতো একটি রাজ্য। ২০২৬ সালের আবাসন ও শ্রমবাজারের তথ্য বলছে, এখানে কম খরচের সঙ্গে তুলনামূলক শক্তিশালী চাকরির বাজারও রয়েছে।   তবে কম খরচ মানেই সবার জন্য বেশি সঞ্চয় নয়। কোন শহরে থাকছেন, কত আয় করছেন, বাড়ি কিনছেন নাকি রেন্টে থাকছেন এবং প্রপার্টি ট্যাক্সসহ অন্যান্য খরচ কত, তার ওপর প্রকৃত আর্থিক সুবিধা নির্ভর করবে। তাই বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য আইওয়ায় যাওয়ার আগে স্থানীয় বাড়ির দাম, রেন্ট, চাকরি, স্কুল ও ট্যাক্সের হিসাব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৮:৪১
ডিটেনশনে থাকা নারী ছবি:সংগৃহীত
গর্ভবতী নারী সপ্তাহের পর সপ্তাহ ডিটেনশনে, ইমিগ্রেশন আইনজীবীর প্রতারণায় দিশেহারা পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন ডিটেনশনে থাকা গর্ভবতী বোনকে মুক্ত করতে আইনজীবীর পেছনে ৩ হাজার ডলার খরচ করেছিলেন কেলি ওকাম্পো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ দিয়ে বোনকে ডিটেনশন থেকে বের করা তো সম্ভব হয়নি, বরং তিনি দাবি করছেন, পুরো ঘটনাটিই ছিল একটি প্রতারণা।   বোনকে ডিটেনশন থেকে মুক্ত করার আশায় কেলি একজন আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তিনি ৩ হাজার ডলার পরিশোধ করেন। তার আশা ছিল, আইনজীবী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার গর্ভবতী বোনকে দ্রুত মুক্ত করতে পারবেন।   কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। অর্থ দেওয়ার পরও তার বোন ডিটেনশনেই থেকে যান। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে গিয়ে কেলি বুঝতে পারেন, তিনি যে আইনি সহায়তার জন্য অর্থ দিয়েছিলেন, সেটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।পরে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে কেলি বলেন, “এটা ছিল প্রতারণা।”   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন ডিটেনশনে থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য আইনি সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। বিশেষ করে ডিটেনশনে থাকা স্বজনকে দ্রুত মুক্ত করার আশায় পরিবারগুলো অনেক সময় জরুরি ভিত্তিতে আইনজীবীর সন্ধান করে এবং বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করে।   তবে কোনো আইনজীবীকে অর্থ দেওয়ার আগে তার লাইসেন্স, পরিচয়, আইনজীবী হিসেবে কাজের অনুমোদন এবং দেওয়া আইনি সেবার শর্ত যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি ও রসিদ রাখাও প্রয়োজন।   কেলি ওকাম্পোর ঘটনায় ঠিক কীভাবে প্রতারণাটি ঘটেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফলে এ ঘটনায় কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করা প্রয়োজন।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৮:২৯