সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ডিটেনশনে থাকা নারী ছবি:সংগৃহীত
গর্ভবতী নারী সপ্তাহের পর সপ্তাহ ডিটেনশনে, ইমিগ্রেশন আইনজীবীর প্রতারণায় দিশেহারা পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন ডিটেনশনে থাকা গর্ভবতী বোনকে মুক্ত করতে আইনজীবীর পেছনে ৩ হাজার ডলার খরচ করেছিলেন কেলি ওকাম্পো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ দিয়ে বোনকে ডিটেনশন থেকে বের করা তো সম্ভব হয়নি, বরং তিনি দাবি করছেন, পুরো ঘটনাটিই ছিল একটি প্রতারণা।   বোনকে ডিটেনশন থেকে মুক্ত করার আশায় কেলি একজন আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তিনি ৩ হাজার ডলার পরিশোধ করেন। তার আশা ছিল, আইনজীবী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার গর্ভবতী বোনকে দ্রুত মুক্ত করতে পারবেন।   কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। অর্থ দেওয়ার পরও তার বোন ডিটেনশনেই থেকে যান। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে গিয়ে কেলি বুঝতে পারেন, তিনি যে আইনি সহায়তার জন্য অর্থ দিয়েছিলেন, সেটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।পরে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে কেলি বলেন, “এটা ছিল প্রতারণা।”   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন ডিটেনশনে থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য আইনি সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। বিশেষ করে ডিটেনশনে থাকা স্বজনকে দ্রুত মুক্ত করার আশায় পরিবারগুলো অনেক সময় জরুরি ভিত্তিতে আইনজীবীর সন্ধান করে এবং বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করে।   তবে কোনো আইনজীবীকে অর্থ দেওয়ার আগে তার লাইসেন্স, পরিচয়, আইনজীবী হিসেবে কাজের অনুমোদন এবং দেওয়া আইনি সেবার শর্ত যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি ও রসিদ রাখাও প্রয়োজন।   কেলি ওকাম্পোর ঘটনায় ঠিক কীভাবে প্রতারণাটি ঘটেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফলে এ ঘটনায় কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করা প্রয়োজন।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৮:২৯
শাফি ছবি:সংগৃহীত।
দ্বাদশ শ্রেণিতেই ৩০ হাজার ডলারের বেশি ফান্ডিং, শাফির এআই স্টার্টআপে বাংলাদেশের বিশ্বজয়

ঢাকার সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাফি বিন সুলতান। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগেই তিনি যুক্ত হয়েছেন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তার জগতে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিয়োগপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এজেন্টিকহায়ারের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন তিনি।   শাফির উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার বিষয়টি তার একাডেমিক ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন অর্জনের কারণেও নজর কেড়েছে। ২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক একাডেমিক গবেষণা প্রতিযোগিতার ফলাফলে শাফি বিন সুলতানকে জুনিয়র বিভাগে স্বর্ণপদকজয়ী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। একই ফলাফলে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের নামও রয়েছে।   এজেন্টিকহায়ার মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নিয়োগপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার প্রযুক্তি তৈরি করছে। চাকরিপ্রার্থীদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই থেকে শুরু করে নিয়োগের বিভিন্ন ধাপ প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজ ও দক্ষ করাই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য।   স্টার্টআপটির যাত্রা শুরু হয় সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওয়েভস্পার্কসের তরুণ উদ্যোক্তা সম্মেলনের মাধ্যমে। শাফির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে আয়োজিত ছয় দিনের একটি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর বিভিন্ন দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মিলে এজেন্টিকহায়ার গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর বিভিন্ন দেশ ও সময় অঞ্চলে থাকা দলের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করতে থাকেন।   তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্টার্টআপ তৈরি, পরামর্শ, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং অর্থায়নের সুযোগ দেওয়া হয়। এজেন্টিকহায়ারের দলও পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপনের সুযোগ পায়।   প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তরুণ উদ্যোক্তা সম্মেলনের প্রদর্শনী আয়োজনে তারা নিজেদের পণ্য ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরে। সেখানে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সরাসরি মতামত নেওয়ার সুযোগও পায় দলটি।   এজেন্টিকহায়ার যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়মন্ড চ্যালেঞ্জেও অংশ নেয়। শাফি বিন সুলতানের প্রকাশিত পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতাটিতে এজেন্টিকহায়ার সেরা পাঁচ চূড়ান্ত প্রতিযোগীর তালিকায় জায়গা করে নেয়।   তবে এজেন্টিকহায়ারের ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি অর্থায়ন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তা এবং প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের প্রথম পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রান্ত থেকে প্রান্ত নিয়োগ স্টার্টআপ, এমন দাবিগুলোর স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এসব তথ্যকে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব দাবি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।   শাফির উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক তার বয়স ও শিক্ষাজীবন। সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রধান লক্ষ্য থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি। সেখানে শাফি পড়াশোনার পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক স্টার্টআপের পণ্য উন্নয়ন, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা যোগাযোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।   এজেন্টিকহায়ারের প্রতিষ্ঠাতা দলও আন্তর্জাতিকভাবে বৈচিত্র্যময়। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণরা এই দলের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন দেশের তরুণদের সঙ্গে মিলে প্রযুক্তিনির্ভর একটি ব্যবসা গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা শাফির জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ শেখার সুযোগ তৈরি করেছে।   শাফির এই পথচলা বাংলাদেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পরিবর্তিত প্রবণতারও একটি উদাহরণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে প্রবেশের প্রচলিত পথের পাশাপাশি এখন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় থেকেই প্রযুক্তি, গবেষণা ও স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই আন্তর্জাতিক একটি স্টার্টআপের সঙ্গে যুক্ত হওয়া শাফির জন্য নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। তবে এজেন্টিকহায়ার এখনো তাদের যাত্রার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে নিজেদের প্রযুক্তি কতটা বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নিয়োগবাজারে কতটা জায়গা করে নিতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৮:১৭
অভিযুক্ত স্ত্রী ছবি:সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় গাড়ি চালানোর সময় তর্কের জেরে স্বামীর কান কামড়ে ছিঁড়ে ফেলেন স্ত্রী

ফ্লোরিডার ব্রোওয়ার্ড কাউন্টিতে গাড়ি চালানোর সময় স্বামীর সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে তার কানের একটি অংশ কামড়ে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে ৪৩ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সময় গাড়িতে তাদের ৭ বছর ও ১ বছর বয়সী দুই সন্তানও ছিল।   ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোলের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় নর্থবাউন্ড আই-৯৫ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন অ্যামি আরলিন বেকার ও তার স্বামী। তারা একটি বোট পার্টি থেকে ফিরছিলেন। পথে তাদের মধ্যে সম্পর্কসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তর্ক শুরু হয়।   তদন্তকারীদের কাছে বেকারের স্বামী অভিযোগ করেন, তর্কের সময় বেকার তার মুখে আঘাত করেন। এরপর তার মাথা ধরে কানে কামড় দেন এবং কানের একটি অংশ ছিঁড়ে ফেলেন।   এরপর তিনি গাড়ি চালিয়ে ওয়েস্ট বোকা মেডিকেল সেন্টারে যান। সেখানে বেকারও কানে কামড় দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং জানান, তিনি ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন’। এমনকি ছিঁড়ে যাওয়া কানের অংশটিও তিনি সংগ্রহ করে চিকিৎসাকর্মীদের হাতে দেন।   তবে বেকারের দাবি, প্রথমে তার স্বামীই তাকে আঘাত করেছিলেন। তার স্বামী এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা দুই শিশুর মধ্যে একজনের বয়স ৭ বছর এবং অন্যজনের মাত্র ১ বছর।   ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোলের এক ট্রুপার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বেকারকেই ঘটনার প্রধান হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন। এ সময় তার স্বামী কানের অংশ পুনরায় জোড়া লাগানোর জন্য অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় ছিলেন।   বেকারের বিরুদ্ধে শারীরিক ক্ষতিসহ অ্যাগ্রাভেটেড ব্যাটারি এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতি না ঘটিয়ে শিশু অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর ফ্লোরিডার ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজকে বিষয়টি জানানো হয়।   পরে বেকারকে ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি মেইন জেলে নেওয়া হয়। তিনি অভিযোগগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৮:৩
খাবার গ্রহণ ছবি:সংগৃহীত
বিমানের ফার্স্ট-ক্লাস টিকিট ৩০০ বার রিবুক করে এক বছর খেলেন ফ্রি খাবার!

২০১৩ সালে চীনের এক ব্যক্তি ফার্স্ট-ক্লাসের একটি পুরোপুরি রিফান্ডযোগ্য বিমান টিকিটকে এমন কৌশলে ব্যবহার করেছিলেন, যা পরে বিমান কর্তৃপক্ষের নজর কাড়ে। উড়োজাহাজে না চড়েও ওই টিকিট দেখিয়ে তিনি প্রায় এক বছর ধরে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বিনামূল্যে খাবার খেয়েছিলেন।   ঘটনাটি ঘটে চীনের শানসি প্রদেশের শি'আন বিমানবন্দরে। চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট-ক্লাস টিকিটধারীরা বিমান ছাড়ার আগে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পেতেন, যেখানে খাবার ও পানীয় বিনামূল্যে পাওয়া যেত।   ওই ব্যক্তি প্রথমে একটি ফার্স্ট-ক্লাস টিকিট কেনেন। এরপর নির্ধারিত ফ্লাইটে ওঠার বদলে লাউঞ্জে গিয়ে টিকিট দেখিয়ে খাবার খেতেন। খাওয়া শেষ হলে তিনি ফ্লাইটের তারিখ পরবর্তী দিনের জন্য পরিবর্তন করে দিতেন।   পরদিন আবার নতুন তারিখের টিকিট নিয়ে বিমানবন্দরে হাজির হতেন। একইভাবে লাউঞ্জে গিয়ে খাবার খেয়ে আবার ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তন করতেন। এভাবে একই প্রক্রিয়া তিনি বারবার চালিয়ে যান।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে ওই একই টিকিটের বুকিং ৩০০ বারেরও বেশি পরিবর্তন করা হয়েছিল। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের এক কর্মীর নজরে আসে। এরপর বিমান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে ওই যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে এবং তার এই কৌশল বন্ধ হয়ে যায়।   তবে ঘটনার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক ছিল শেষটা। টিকিটটি পুরোপুরি রিফান্ডযোগ্য হওয়ায় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তিনি সেটি বাতিল করেন এবং নিজের দেওয়া পুরো টাকাই ফেরত পান। অর্থাৎ, প্রায় এক বছর ধরে ভিআইপি লাউঞ্জের খাবার ও অন্যান্য সুবিধা নেওয়ার পরও টিকিটটির জন্য শেষ পর্যন্ত তার কোনো খরচই থাকেনি।   তৎকালীন বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক ও বিরল ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তবে ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য মূলত ২০১৪ সালে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৭:৫০
ক্যালিফোর্নিয়ার মানচিত্র ছবি:সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালী আমেরিকার হলে ক্যালিফোর্নিয়াও ইরানের, ট্রাম্পকে তেহরানের পাল্টা জবাব

ট্রাম্পের এই দাবির তাৎক্ষণিক ও ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। এক্সে থাকা ভারতের হায়দ্রাবাদস্থ ইরানি কনস্যুলেটের সরকারি অ্যাকাউন্ট ‘ইরান ইন হায়দ্রাবাদ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র পোস্ট করা হয়। কলম্বিয়া ওয়ান নিউজ এর তথ্যমতে, সেখানে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যকে নীল রঙে চিহ্নিত করে বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে: ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’।   পাশাপাশি ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদিও এক্সে ট্রাম্পের পোস্টের কড়া সমালোচনা করে লিখেছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে তার এই ভ্রান্ত ধারণা শিগগিরই সংশোধন করা হবে, অন্যথায় ইরান নিজেরাই এই ‘ভ্রান্ত ধারণাগ্রস্ত’ লোকটির ভুল ভেঙে দেবে।   ইরানের পক্ষ থেকে ক্যালিফোর্নিয়াকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি নেহাত কাকতালীয় নয়। ক্যালিফোর্নিয়া, বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকাটি ইরানের বাইরে ইরানি বংশোদ্ভূত মানুষের সবচেয়ে বড় আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।   ইউসিএলএ-এর সেন্টার ফর নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ পরিচালিত ইরানি ডায়াসপোরা ড্যাশবোর্ডের তথ্য উদ্ধৃত করে তুর্কিয়ে টুডে জানিয়েছে, শুধু লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতেই প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ইরানি আমেরিকান বসবাস করেন।   ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানি সম্প্রদায়ের ব্যাপক প্রসার ঘটে এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টউড এলাকাটি ইরানিদের জীবনের একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, যা স্থানীয়ভাবে “তেহরানজেলেস” নামে বেশি পরিচিত।   কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই এই অভিনব মানচিত্র-বিতর্ক সামনে এল। যুদ্ধ বন্ধ এবং বৃহত্তর একটি চুক্তির পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল।   কিন্তু চুক্তিটির বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌচলাচল নিয়ে বিরোধ দেখা দেওয়ায় এরপর থেকে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা পুরোপুরি থমকে আছে। এদিকে, এই কৌশলগত জলপথে নৌচলাচলের সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৭:৩৯
হুতি বাহিনী ছবি:সংগৃহীত
হুথিদের দমন করা সৌদি আরবের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়, কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দমন করা সৌদি আরবের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ইরানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম দেফা প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি এই সতর্কবার্তা দেন।   তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হুথিদের ওপর সৌদি আরবের হামলা যত বাড়বে, তাদের ভূখণ্ডে পাল্টা আঘাতের মাত্রাও তত ভয়াবহ হবে।  হুথিদের বিকল্প নাম ‘আনসারুল্লাহ’ উল্লেখ করে আইআরজিসির এই মুখপাত্র বলেন, সৌদি আরব ইয়েমেন ও আনসারুল্লাহকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কুর্দিস্তান ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সৌদি আরব যত বেশি আগ্রাসন চালিয়েছে, তার ওপর পাল্টা হামলার পরিমাণও ঠিক ততটাই বেড়েছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে বৃহত্তর সংঘাতের সূচনা হয়, গত মাসে ইয়েমেন সেই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান একটি ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে।  চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতে পাল্টাপাল্টি হামলার পর হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে আক্রমণ জোরদার করে এবং লোহিত সাগরে সৌদির বন্দরগুলো অবরোধের চেষ্টা চালায়।   ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি ইরানি বিমান অবতরণের পর এই উত্তেজনা আরও চরমে পৌঁছায়। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চললেও, ২০২২ সালে শুরু হওয়া সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে হুথিদের যুদ্ধবিরতি সাম্প্রতিক এই সংঘাতের জেরে পুরোপুরি ভেঙে গেছে।   এদিকে, চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের এক মন্ত্রী ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, হুথিরা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে ভূমি দখলের ছক কষছে।   আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের এই অত্যন্ত সংবেদনশীল রুটে হুথিদের এই পদক্ষেপ বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করতে পারে। ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর একাধিক সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে, হুথিরা তাদের বর্তমান নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে আরও দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়ার সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৭:৩০
উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধা ছবি:সংগৃহীত
ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ দিন পর জীবিত উদ্ধার প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ৮৪ বছরের বৃদ্ধা

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে পলিনা পোবি নামের এক ৮৪ বছর বয়সি বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবারের এই ভয়াবহ দুর্যোগের পর মঙ্গলবার তাকে উদ্ধার করা হয়। টানা তিন দিন পানাহার ছাড়া আটকে থাকলেও তার শরীরে গুরুতর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা এই অভাবনীয় বেঁচে ফেরার ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।   গত শনিবার সকালে ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ এবং বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দা। ভূমিকম্পের পরপরই সৃষ্ট প্রবল ভূমিধসে নিতুংলিয়া গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। সেখানেই নিজের বাঁশের তৈরি ঘরের নিচে আটকা পড়েছিলেন পলিনা। প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তিনি নড়াচড়া করতে বা কাউকে ডাকতেও পারেননি। শেষ পর্যন্ত ঘটনার চতুর্থ দিনে স্বজনরা তাকে ওই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুর্বল অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন।   বর্তমানে ওই অঞ্চলে উদ্ধারকাজ চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও চারপাশের ধ্বংসস্তূপের কারণে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম। তবে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ইতিমধ্যে দুর্গম এলাকাগুলোতে সামরিক বিমান ও জাহাজের মাধ্যমে প্রায় ৩৯৮ টন খাদ্য, তাঁবু এবং জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।   শনিবারের মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি আফটারশক বা অনুকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়াকে নিয়মিতভাবেই এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করতে হয়।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৭:১৮
অস্ত তৈরি প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত।
অস্ত্র উৎপাদনে শক্তিশালী হচ্ছে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে সামরিক চাহিদা ও বিনিয়োগ

ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পে যুক্তরাজ্য আবারও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান জোরদার করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রতিরক্ষা-নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজন—এই তিনটি বিষয় ব্রিটিশ অস্ত্রশিল্পে নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির গতি বাড়িয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যকে বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র রপ্তানিকারক বলা সঠিক হবে না। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২১–২৫ সময়ে যুক্তরাজ্য প্রধান প্রচলিত অস্ত্রের রপ্তানিতে বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে ছিল।   ব্রিটেনের বর্তমান উত্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শুধু অস্ত্র বিক্রি নয়, দেশটির নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা। ২০২৫ সালের প্রতিরক্ষা শিল্প কৌশলে ব্রিটিশ সরকার প্রতিরক্ষা খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্যকে দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির দিকে যেতে হবে।   এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কোম্পানি বিএই সিস্টেমস। প্রতিষ্ঠানটি গোলাবারুদ, নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী অস্ত্র, কামান ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, যুদ্ধযান এবং বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তি তৈরি করে। কোম্পানিটির অর্ডার-বই ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটি ১৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাউন্ডের নতুন অর্ডার পেয়েছে এবং মোট অর্ডার-বই প্রায় ৮৪ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে।   বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর ব্যবসাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। জুলাই ২০২৬-এ বিএই সিস্টেমস ২০২৬ সালের পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধির পূর্বাভাস ১০–১২ শতাংশে উন্নীত করে। কোম্পানির পণ্য তালিকায় রয়েছে যুদ্ধযান, গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, কামান এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি।   ক্ষেত্রবিশেষে ব্রিটেনের সক্ষমতা আরও স্পষ্ট হয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে। এমবিডিএ যুক্তরাজ্য ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং যুক্তরাজ্যে জটিল ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র ব্যবস্থা নকশা, উৎপাদন, সংযোজন ও আধুনিকায়নের সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।ইউক্রেন যুদ্ধ ব্রিটিশ অস্ত্রশিল্পের জন্য একটি বড় পরীক্ষাগারেও পরিণত হয়েছে।   ব্রিটেন ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডোসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনের জন্য ড্রোন সরবরাহ বাড়াতে ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় এবং ওই বছর এক লাখ ড্রোন সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করে।   ২০২৬ সালে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, চালকবিহীন ব্যবস্থা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দুই দেশ দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।   যুক্তরাজ্য এখন নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও আরও বাড়াতে চাইছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনের জন্য নতুন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করে। প্রস্তাবিত ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০০ কেজি পর্যন্ত ওয়ারহেড বহন করে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেও নেওয়া হয়েছে।   এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো তুলনামূলক কম খরচে দূরপাল্লার অস্ত্র তৈরি করার চেষ্টা। ২০২৬ সালে ব্রিটিশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এমন অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর্যায়ে যায়, যেগুলোর লক্ষ্য অন্তত ৫০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত করা এবং তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়ে দ্রুত বড় সংখ্যায় তৈরি করা। এই প্রবণতা দেখায়, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্প শুধু অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল অস্ত্রের ওপর নির্ভর না করে ব্যাপক হারে উৎপাদনযোগ্য ব্যবস্থার দিকেও এগোচ্ছে।   ড্রোন খাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগস্ট ২০২৬-এ ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ইউক্রেনীয় বাহিনীর মাধ্যমে রাশিয়ার গভীর অভ্যন্তরে হামলায় ব্যবহৃত হওয়ার খবর সামনে আসে। ব্রিটিশ সরকার ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইউক্রেনকে এক লাখ ৫০ হাজার ড্রোন সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এসব ঘটনা ব্রিটিশ ড্রোন শিল্পকে সামরিক সহায়তার পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করছে।   তবে ব্রিটেনের অস্ত্রশিল্পকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো—দেশটি এখনও সব ধরনের অস্ত্র উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়লেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, উপাদান ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। এমনকি ইউরোপের দেশগুলোর অস্ত্র আমদানিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক বেড়েছে। ২০২১–২৫ সময়ে ইউরোপ বিশ্বের মোট প্রধান অস্ত্র আমদানির ৩৩ শতাংশ গ্রহণ করেছে, যা আগের পাঁচ বছরের তুলনায় ২১০ শতাংশ বেশি।   ব্রিটেন নিজেও বড় অস্ত্র আমদানিকারক হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ইউরোপে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের পর যুক্তরাজ্য ছিল প্রধান অস্ত্র আমদানিকারকদের অন্যতম। এর অর্থ হলো ব্রিটেনের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প থাকা সত্ত্বেও দেশটি নিজস্ব সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন মেটাতে বিদেশি প্রযুক্তি ও অস্ত্রের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করে।   অন্যদিকে পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতাও ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্পের বড় অংশ। ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় আগামী চার বছরে পারমাণবিক আধুনিকায়নে প্রায় ৬৩ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে ড্রেডনট শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণ, নতুন পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নের মতো প্রকল্প রয়েছে।   সব মিলিয়ে, “যুক্তরাজ্য অস্ত্র উৎপাদনে একটি শক্তিধর দেশ হয়ে উঠছে”—এই বক্তব্যের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ, যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে। কিন্তু এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র উৎপাদক বলা যাবে না। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, চীন ও ইতালির মতো কয়েকটি দেশ প্রধান অস্ত্র রপ্তানিতে ব্রিটেনের ওপরে রয়েছে।   বর্তমান প্রবণতা অবশ্য দেখাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইউরোপের নিরাপত্তা সংকট ব্রিটেনকে দীর্ঘদিনের তুলনায় দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর দিকে ঠেলে দিয়েছে। সরকারি বিনিয়োগ, বিএই সিস্টেমস ও এমবিডিএর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের অর্ডার বৃদ্ধি, ড্রোন প্রযুক্তির বিস্তার এবং নতুন দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র প্রকল্প—সব মিলিয়ে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা শিল্প আবারও ইউরোপের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে সামনে আসছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৭:২২
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত
ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বড় হুমকি, সহায়তা করলে দেশগুলোকেও কঠোর অর্থনৈতিক শাস্তির সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করা যেকোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান বা আর্থিক সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ইরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ ও বিচ্ছিন্নতা তৈরির ঘোষণা দেন।   ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির আওতায় শুধু সরকার নয়—ইরানকে আর্থিক বা বাণিজ্যিকভাবে সহায়তা করা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর ও সরকারি সংস্থাও পড়তে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।   ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য হওয়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ট্রাম্পের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যার দিক থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তেহরান জানিয়েছে, তারা আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি; তবে আলোচনা আত্মসমর্পণের সমার্থক হতে পারে না।   এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীনকে নিয়েও বিশেষ নজর রয়েছে, কারণ চীনের সঙ্গে ইরানের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনসহ অন্যান্য দেশের সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।   ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি ইরানের ওপর শুধু সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নয়, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ইরানের তেল ও বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার পথও সংকুচিত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘোষণাটির বাস্তব প্রয়োগের নির্দিষ্ট কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৬:১৪
ভিসার প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডে অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের পথে নতুন বেতন নিয়ম, ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর

নিউজিল্যান্ডে কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিতে চাওয়া বিদেশিদের জন্য বেতন নির্ধারণের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সময় যে বেতনসীমা কার্যকর ছিল, পরবর্তীতে সেই সীমা বেড়ে গেলেও আবেদনকারীদের নতুন করে বাড়তি বেতনসীমা পূরণ করতে হবে না।   নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে, পরিবর্তনের ফলে স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরি এবং ওয়ার্ক টু রেসিডেন্স ভিসার ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণের নিয়ম আরও পূর্বানুমানযোগ্য হবে। বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট সময় কাজ করে স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা শুরু করার সময়কার বেতনসীমাই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।   বর্তমান নিয়মে স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরি রেসিডেন্ট ভিসার বেতনসীমা নিউজিল্যান্ডের মধ্যম বেতনের সঙ্গে যুক্ত। ৯ মার্চ ২০২৬ থেকে এই মধ্যম বেতন ঘণ্টায় ৩৫ নিউজিল্যান্ড ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণভাবে এএনজেডএসসিও দক্ষতার স্তর ১ থেকে ৩-এর কাজের ক্ষেত্রে অন্তত এই বেতনসীমা পূরণ করতে হয়। আর কিছু স্তর ৪ ও ৫-এর কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বেতনসীমা এর দেড় গুণ, অর্থাৎ ঘণ্টায় ৫২.৫০ নিউজিল্যান্ড ডলার।   নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একজন অভিবাসী যখন নিউজিল্যান্ডে প্রয়োজনীয় দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন শুরু করবেন, তখন যে মধ্যম বেতনসীমা কার্যকর থাকবে, পরবর্তী সময়ে বেতনসীমা বাড়লেও তাকে সেই নতুন উচ্চ সীমায় উঠতে হবে না। তবে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় তাকে কাজের জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমার অন্তত সেই পুরোনো হার বজায় রাখতে হবে।   এর ফলে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের মাঝপথে বেতনসীমা বেড়ে যাওয়ায় যোগ্যতা হারানোর আশঙ্কা কিছুটা কমবে। অভিবাসীদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার আগে কয়েক বছর ধরে নির্দিষ্ট দক্ষতার কাজে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে।   নিউজিল্যান্ড সরকার বেতনসীমা বেড়ে যাওয়ার কারণে মাঝপথে সমস্যায় পড়তে পারেন এমন কিছু কর্মীর জন্য গ্রেস পিরিয়ডের ব্যবস্থাও রেখেছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কাজের ভিসা পাওয়ার পর পাঁচ মাসের মধ্যে দক্ষ কাজ শুরু করা কর্মীরা ভিসা অনুমোদনের সময়কার বেতনসীমা ধরে রাখতে পারবেন।   তবে এই পরিবর্তনকে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পুরোপুরি সহজ হয়ে যাওয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আবেদনকারীদের যোগ্য পেশা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বেতন এবং অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হবে।   ২৪ আগস্ট থেকেই স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরিতে আরও কিছু পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট পেশার কর্মীদের জন্য আলাদা পথ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষ কারিগরি ও টেকনিশিয়ান পেশার জন্য একটি নতুন পথও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা এবং নিউজিল্যান্ডে নির্দিষ্ট সময়ের দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে।   স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরির অধীনে আবেদনকারীদের মোট ছয়টি দক্ষতা পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। পেশাগত নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা আয় থেকে তিন থেকে ছয়টি পয়েন্ট পাওয়া যেতে পারে এবং নিউজিল্যান্ডে দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা থেকে সর্বোচ্চ আরও তিনটি পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ রয়েছে।   সবচেয়ে বেশি দক্ষতার অধিকারী কর্মীদের জন্য অপেক্ষার সময়ও তুলনামূলক কম হতে পারে। যেমন ডক্টরেটধারী বা নির্দিষ্ট উচ্চমাত্রার পেশাগত যোগ্যতা থাকা ব্যক্তিরা বেশি পয়েন্ট পেতে পারেন। আবার উচ্চ আয়ের কিছু কর্মীর জন্যও দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথ রয়েছে।   বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিউজিল্যান্ডে কাজের ভিসা নিয়ে গিয়ে ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য কাজের ধরন, বেতনসীমা, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা এবং ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর নতুন নিয়মগুলো আগে থেকেই যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, শুধু নির্দিষ্ট বেতন পেলেই নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট ভিসার সব যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং আবেদন ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যাচাই হবে।   অর্থাৎ, ২৪ আগস্টের পরিবর্তনের মূল সুবিধা হলো বেতনসীমা বৃদ্ধির কারণে দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনরত অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং শুরুতেই তাদের জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমা সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা তৈরি করা। নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের পথ খুঁজছেন বিদেশিদের জন্য তাই নতুন নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আবেদন করার আগে ব্যক্তিগত যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বশেষ সরকারি শর্ত যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৫:৪৮
মার্কিন মুদ্রা ছবি:সংগৃহীত
যেখানে সেবাই নেই, সেখানেও টিপের দাবি; যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ক্রেতাদের ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রে টিপ দেওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রেস্তোরাঁর মতো প্রচলিত সেবার জায়গা ছাড়িয়ে এখন স্বয়ংক্রিয় কিয়স্ক, কাউন্টার এবং এমনকি কিছু স্বয়ংক্রিয় লেনদেনেও টিপ চাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে অস্বস্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিপ মূলত সেবার স্বীকৃতি, তাই যেখানে কোনো কর্মী সরাসরি সেবা দিচ্ছেন না, সেখানে টিপ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।   সম্প্রতি একটি ভাইরাল ঘটনায় এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়। সল্টলেক সিটি বিমানবন্দরের শেক শ্যাকের একটি কিয়স্কে এক ক্রেতা অভিযোগ করেন, তিনি টিপ না দেওয়ার বিকল্প বেছে নেওয়ার পর তার খাবারের মোট দাম বেড়ে যায়। শেক শ্যাক অবশ্য পরে জানায়, দাম পরিবর্তনের ঘটনাটি ছিল একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং টিপ না দেওয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক ছিল না।   তবু ঘটনাটি মার্কিন ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। যদি ক্রেতা নিজেই কিয়স্কে অর্ডার করেন, পেমেন্ট করেন এবং খাবার সংগ্রহ করেন, তাহলে অতিরিক্ত টিপটি আসলে কিসের জন্য?   টিপিং ও ভোক্তা আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম মাইকেল লিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে টিপ দেওয়ার বিষয়ে মানুষের বিরক্তি বাড়ছে। তার গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ৩২ শতাংশ মানুষ টিপিং ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পক্ষে ছিলেন। ২০২২ সালে সেই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ শতাংশে।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টিপের পরিমাণ বাড়ার প্রবণতাও। একসময় রেস্তোরাঁয় ১৫ শতাংশ টিপকে সাধারণ হিসেবে ধরা হলেও এখন অনেক ডিজিটাল পেমেন্ট স্ক্রিনে ২০ শতাংশ থেকে শুরু করে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত টিপের বিকল্প দেখা যায়।টিপ চাওয়ার ক্ষেত্র বাড়ার পাশাপাশি চাওয়া টাকার পরিমাণও বাড়তে থাকায় মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে তথাকথিত টিপিং ক্লান্তি।   শিষ্টাচার বিশেষজ্ঞ জ্যাকুলিন হুইটমোরের মতে, যেখানে কোনো কর্মী সরাসরি সেবা দিচ্ছেন না, সেখানে টিপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় কিয়স্কে অর্ডার করার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের টিপ দিতে বাধ্য বোধ করার কোনো কারণ নেই। তবে খাবার প্যাক করে দেওয়া, বিশেষ অনুরোধ পূরণ করা বা ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত সেবা দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে টিপ দেওয়া যুক্তিসংগত হতে পারে।   বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিলে আগে থেকেই সার্ভিস চার্জ বা স্বয়ংক্রিয় গ্র্যাচুইটি যুক্ত থাকলে আলাদা করে টিপ দেওয়ার আগে সেটি যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে কর্মীকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা যায়, বিলে কোনো সার্ভিস চার্জ অন্তর্ভুক্ত আছে কি না।   টিপ দেওয়ার বিষয়ে ডিজিটাল স্ক্রিন কেন মানুষের ওপর বেশি মানসিক চাপ তৈরি করে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন গবেষকেরা। পুরোনো দিনের টিপ জারে টাকা না দিলেও সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যেত। কিন্তু ডিজিটাল স্ক্রিনে টিপ না দিতে হলে সক্রিয়ভাবে ‘নো টিপ’ নির্বাচন করতে হয়। ফলে অন্যরা দেখছে এমন পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতা অস্বস্তি বোধ করেন।   যুক্তরাষ্ট্রে টিপিং সংস্কৃতির সঙ্গে শ্রমবাজারের কাঠামোরও সম্পর্ক রয়েছে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশ যেখানে রেস্তোরাঁর মতো কিছু খাতে কর্মীদের মজুরি ব্যবস্থায় টিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় কম মূল্যে খাবার বা সেবা দেওয়ার পাশাপাশি টিপের ওপর কর্মীদের আয়ের একটি অংশ নির্ভর করে রাখে।   তবে অতিরিক্ত টিপ চাওয়ার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত ব্যবসার জন্যও সমস্যার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। টিপের পরিমাণ বাড়লে কর্মীদের আয় বাড়তে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে রেস্তোরাঁয় খাবারের প্রকৃত খরচও ভোক্তার কাছে বেশি মনে হতে পারে। পাশাপাশি টেবিলের সামনে কাজ করা কর্মী এবং রান্নাঘরের কর্মীদের আয়ের পার্থক্যও বাড়তে পারে।   এ কারণে টিপিং বিশেষজ্ঞদের একটি পরামর্শ হলো, প্রচলিত সেবার ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মতো একটি যুক্তিসংগত সীমা বজায় রাখা। আর স্বয়ংক্রিয় কিয়স্ক বা সম্পূর্ণ স্ব-সেবার ক্ষেত্রে টিপ না দিলেও ক্রেতার অপরাধবোধ করার প্রয়োজন নেই।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৫:৪৯
১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী
১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী

লন্ডনের ৩৫ বছর বয়সী অ্যাম্বার উইলিয়ামসের জীবনে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলেছে অসহ্য ব্যথা, একের পর এক চিকিৎসা আর অনিশ্চয়তা। তার দাবি, তীব্র মাসিকের ব্যথাকে বছরের পর বছর স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও পিত্তথলির সমস্যার সন্দেহে তার অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণ করেন। পরে এসব অস্ত্রোপচারও তার দীর্ঘদিনের ব্যথার প্রকৃত কারণ খুঁজে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পরীক্ষায় ধরা পড়ে ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস।    উইলিয়ামসের সমস্যা শুরু হয় মাত্র ১১ বছর বয়সে, প্রথম মাসিকের সময়। ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেত। চিকিৎসকের কাছে একাধিকবার যাওয়ার পরও তাকে বলা হতো, মাসিকের সময় এমন ব্যথা স্বাভাবিক। কয়েক বছর জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করেও খুব একটা উপকার পাননি বলে জানান তিনি।   ২০১২ সালে ২১ বছর বয়সে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে গেলে চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস সন্দেহ করেন। তার অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা হয়। কিন্তু পরে উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে জানানো হয় যে অ্যাপেন্ডিক্সে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ অস্ত্রোপচারের পরও তার মূল সমস্যার কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।    এরপরও বছরের পর বছর পেট ও পেলভিক ব্যথা চলতে থাকে। ২০১৬ সালে চিকিৎসকেরা গলস্টোন ও প্যানক্রিয়াটাইটিসের কথা জানান। সে সময় তার গলব্লাডারও অপসারণ করা হয়। উইলিয়ামসের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর তাকেও বলা হয়েছিল যে অঙ্গটিতে উল্লেখযোগ্য সমস্যা পাওয়া যায়নি।    এই সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তিনি অতিরিক্ত রক্তপাত, বমি ও তীব্র ব্যথার কথা জানিয়েছেন। এমনকি ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। একপর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও তার শারীরিক সমস্যার যোগসূত্র খোঁজা হয় এবং তাকে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে তার ভাষ্য।   প্রকৃত রোগের সন্ধান পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও কয়েক বছর। ২০২৫ সালে স্বামীকে নিয়ে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ার পর তিনি ফার্টিলিটি সেবার দ্বারস্থ হন। সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ তার দীর্ঘদিনের উপসর্গ ও এন্ডোমেট্রিওসিস নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠান।    ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ল্যাপারোস্কোপি করার পর চিকিৎসকেরা ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস শনাক্ত করেন। অস্ত্রোপচারের সময় তার ডিম্বাশয় পেলভিক দেয়ালের সঙ্গে জোড়া লেগে থাকার মতো জটিল অবস্থাও পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এন্ডোমেট্রিওসিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে জরায়ুর ভেতরের আবরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বেড়ে ওঠে। এর ফলে তীব্র মাসিকের ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ১৯ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। সংস্থাটি বলছে, রোগটির কারণে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও বন্ধ্যাত্বসহ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়।    অন্যদিকে অ্যাডেনোমায়োসিসে জরায়ুর যে টিস্যু সাধারণত জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ তৈরি করে, সেটি জরায়ুর পেশির দেয়ালের ভেতরে প্রবেশ করে। এর অন্যতম লক্ষণ তীব্র মাসিকের ব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তপাত; কারও কারও ক্ষেত্রে পেলভিক ব্যথা ও যৌনমিলনের সময় ব্যথাও হতে পারে।    উইলিয়ামসের ঘটনা চিকিৎসাব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। তবে তার ক্ষেত্রে অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণকে চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিতভাবে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলা যায় কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন মেডিকেল মূল্যায়নের তথ্য প্রতিবেদনে নেই। তাই বিষয়টি তার নিজের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা উচিত।   দীর্ঘদিনের ব্যথা শেষ পর্যন্ত তার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন উইলিয়ামস। এখনো মাসিকের প্রথম কয়েক দিন তিনি সর্বোচ্চ মাত্রার ব্যথা অনুভব করেন এবং নিয়মিত ব্যথানাশকের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে জানান। সন্তান ধারণের সক্ষমতার ওপর দীর্ঘদিনের রোগের কী প্রভাব পড়েছে, সেটি নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন।    তার অভিজ্ঞতা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, তীব্র ও বারবার ফিরে আসা মাসিকের ব্যথাকে শুধু ‘স্বাভাবিক’ বলে এড়িয়ে যাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, এমন ব্যথা যদি দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, অতিরিক্ত রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথার সঙ্গে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ । 

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৫:২
যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে  বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা
যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শিক্ষার্থীদের প্রধান গন্তব্য। কিন্তু ভিসা নীতির পরিবর্তন, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, পড়াশোনার খরচ এবং শ্রমবাজারের চাহিদার কারণে এখন অনেকেই বিকল্প দেশ বিবেচনা করছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে দেশ বদলাচ্ছেন। বরং শিক্ষা, চাকরি, দক্ষ কর্মীর চাহিদা, ব্যবসা ও তুলনামূলক সহজ অভিবাসন ব্যবস্থা মিলিয়ে নতুন গন্তব্যের তালিকা তৈরি হচ্ছে।    বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার নতুন শ্রমবাজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারের পাশাপাশি রোমানিয়া, পর্তুগাল, সেশেলসসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠাচ্ছে। জাপানেও টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম রয়েছে।    জাপান এখন বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত বিকল্পগুলোর একটি। বিশেষ করে কারিগরি দক্ষতা, নির্মাণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন নির্দিষ্ট পেশায় কর্মীর চাহিদা থাকায় বাংলাদেশ থেকে জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি রপ্তানির সরকারি প্ল্যাটফর্মেও জাপানের বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়মিত দেখা যাচ্ছে।    দক্ষিণ কোরিয়াও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। শিল্প ও উৎপাদন খাতে বিদেশি কর্মীর চাহিদা দেশটিকে এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় শ্রমবাজারে পরিণত করেছে। বাংলাদেশি কর্মীদের পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের তরুণরাও দক্ষিণ কোরিয়াকে কাজের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।   ইউরোপে জার্মানি এখন দক্ষ কর্মীদের অন্যতম বড় বিকল্প। প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্পখাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের ওপর দেশটির নির্ভরতা রয়েছে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানভিত্তিক বিভিন্ন গাইডেও জার্মানিকে দক্ষ কর্মীদের জন্য শীর্ষ গন্তব্যগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।    পর্তুগালও বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সরকারও পর্তুগালকে বৈধ শ্রমবাজার হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ইউরোপে যেতে আগ্রহীদের কাছে দেশটি ক্রমেই পরিচিত বিকল্পে পরিণত হচ্ছে।    ইতালি অবশ্য নতুন গন্তব্যের চেয়ে বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। বৈধ শ্রমবাজারের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের উপস্থিতি রয়েছে। তাই ইউরোপে অভিবাসনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করতে গেলে ইতালিকে বাদ দেওয়া যায় না।   আয়ারল্যান্ডও বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ পেশাজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় হচ্ছে। ইংরেজিভাষী দেশ হওয়া এবং প্রযুক্তি, ওষুধ ও আর্থিক খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় দেশটি যুক্তরাজ্যের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই প্রবণতায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে বিভিন্ন শিক্ষা-অভিবাসন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।    সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই পরিবর্তনের বড় অংশ। বিশেষ করে দুবাই ও আবুধাবি ব্যবসা, প্রযুক্তি, পেশাদারি সেবা ও উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তবে এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো স্থায়ী অভিবাসনের পথ নয়; কাজ ও ব্যবসার সুযোগের পাশাপাশি ভিসার ধরন ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের নিয়ম আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়া নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটি তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৬ সালে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। মালয়েশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েছে।    সিঙ্গাপুরও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা ও উচ্চ দক্ষতার চাকরিতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কর্মীরা দেশটির দিকে তাকাচ্ছেন। তবে ছোট শ্রমবাজার এবং তুলনামূলক উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এখানে বড় বিষয়।   নিউজিল্যান্ডও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাইরে ইংরেজিভাষী একটি বিকল্প। দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য দেশটির বিভিন্ন ভিসা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দূরত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকের জন্য বড় বাধা।   এশিয়ার বাইরে আফ্রিকার কিছু দেশও নতুন সুযোগের কারণে নজরে আসছে। নাইজেরীয়দের ক্ষেত্রে ঘানা, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কেনিয়া গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নাইরোবি আফ্রিকার প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হওয়ায় প্রযুক্তি ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের আকর্ষণ করছে।   মরিশাসও বিনিয়োগকারী ও পেশাজীবীদের জন্য একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। পর্যটন, আর্থিক সেবা ও ব্যবসার পরিবেশ দেশটিকে আফ্রিকা অঞ্চলে আলাদা অবস্থান দিয়েছে।   উত্তর আফ্রিকার মরক্কো এবং ইউরোপ-এশিয়ার সংযোগস্থল তুরস্কও ব্যবসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কারণে নতুন করে বিবেচনায় আসছে। তবে এসব দেশে সুযোগ থাকলেও ভাষা, ভিসা, স্থানীয় শ্রমবাজার এবং স্থায়ী বসবাসের নিয়ম দেশভেদে ভিন্ন।   সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের অভিবাসনের চিত্রে একটি পরিবর্তন স্পষ্ট। মানুষ শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশের দিকে তাকিয়ে নেই। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার পাশাপাশি জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, রোমানিয়া, গ্রিস, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও রুয়ান্ডার মতো দেশও বিভিন্ন শ্রেণির অভিবাসী ও শিক্ষার্থীর কাছে বিকল্প হয়ে উঠছে। তবে প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসনের কারণ ও সুযোগ এক নয়।   আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দেশকে শুধু “সহজে যাওয়ার দেশ” হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ভিসা পাওয়া, কাজের অনুমতি, বেতন, কর, বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সবকিছু যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিশেষ করে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশের সুবিধা থাকলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার দেয় না।   অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিশ্বজুড়ে অভিবাসনের মানচিত্র এখন একমুখী নয়। নতুন প্রজন্মের অভিবাসীরা কোথায় বেশি সুযোগ, কম ঝুঁকি এবং ভালো ভবিষ্যৎ পাওয়া যেতে পারে, সেই হিসাবেই বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৪:১৩
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে অভিবাসী শিক্ষক নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে চান গভর্নর
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে অভিবাসী শিক্ষক নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে চান গভর্নর

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলগুলোতে এইচ-১বি ভিসায় বিদেশি শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। আগামী বছর অঙ্গরাজ্য আইনসভায় এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব তোলার কথা জানিয়েছেন তিনি।   টেক্সাসে সরকারি স্কুলগুলোতে বর্তমানে ৩৪০ জনের বেশি এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মী রয়েছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী রয়েছেন ডালাস ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টে বা ডালাস আইএসডিতে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৭১ জন এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মী কাজ করছেন।   এইচ-১বি ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন এমন পেশায় বিদেশি কর্মীদের সাময়িকভাবে নিয়োগের সুযোগ দেয়। শিক্ষা খাতেও স্থানীয়ভাবে যোগ্য কর্মী পাওয়া কঠিন হলে স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো এই ভিসার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ করতে পারে।   ডালাস আইএসডি জানিয়েছে, তারা মূলত যেসব পদে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক পাওয়া কঠিন, সেসব পদ পূরণে এইচ-১বি ভিসা ব্যবহার করে। বিশেষ করে ইংরেজি-স্প্যানিশ দ্বিভাষিক শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   ডালাস আইএসডির তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষকদেরও টেক্সাসের নির্ধারিত শিক্ষক সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার মতো শর্ত পূরণ করতে হয়। অর্থাৎ এই ভিসায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের স্থানীয় শিক্ষকদের মতোই নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে হয়।   তবে গভর্নর অ্যাবটের প্রস্তাবের পেছনে শুধু শিক্ষক নিয়োগের বিষয় নয়, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় বিদেশি প্রভাব কমানোর বিষয়টিও রয়েছে। তিনি টেক্সাসের সরকারি স্কুলগুলোতে বিদেশি সরকার বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উপহার ও অর্থায়নের ওপরও আরও কঠোর বিধিনিষেধ চান।   অ্যাবটের উদ্যোগের সমর্থকদের যুক্তি, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি স্কুলে স্থানীয় কর্মীদের চাকরির সুযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, এইচ-১বি নিয়োগ বন্ধ হলে শিক্ষক সংকটে থাকা স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো আরও চাপে পড়তে পারে।   বিশেষ করে টেক্সাসে দ্বিভাষিক শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে যোগ্য শিক্ষক পাওয়া অনেক স্কুলের জন্য ইতিমধ্যেই বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ হলে এসব শূন্য পদ পূরণে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নতুন ব্যবস্থা নিতে হবে।   এইচ-১বি নিয়োগ নিয়ে অ্যাবটের অবস্থানও নতুন নয়। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি টেক্সাসের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য সংস্থা ও সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুন এইচ-১বি আবেদন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার সরকারি স্কুলগুলোতেও একই ধরনের বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি।   তবে প্রস্তাবটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। আগামী বছর টেক্সাস আইনসভায় এটি উত্থাপনের পর আইনপ্রণেতাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে সরকারি স্কুলে বিদেশি শিক্ষক ও অন্যান্য এইচ-১বি কর্মীদের ভবিষ্যৎ।   ফলে টেক্সাসে একদিকে স্থানীয় কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানোর দাবি, অন্যদিকে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন—এই দুই অবস্থানের মধ্যেই নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে এইচ-১বি কর্মসূচি।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৩:৫৯
নিউইয়র্কে বাড়ছে সরকারি চাকরির সুযোগ, ২০২৬ সালে এসব পদে রয়েছে নতুন সুযোগ
নিউইয়র্কে বাড়ছে সরকারি চাকরির সুযোগ, ২০২৬ সালে এসব পদে রয়েছে নতুন সুযোগ

নিউইয়র্কে সরকারি চাকরি পেতে আবেদনকারীদের জন্য ২০২৬ সালে এসেছে বেশ কিছু নতুন সুযোগ। বিশেষ করে যারা প্রথমবার সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে চান, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটিতে পরীক্ষার ফি মওকুফের সুবিধা চালু হয়েছে। পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেটের একটি বিশেষ নিয়োগ কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু পদে কোনো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ছাড়াই চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। ফলে নতুন চাকরিপ্রার্থী এবং ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চাওয়া প্রবাসীদের জন্য সরকারি চাকরির পথ আগের তুলনায় কিছুটা সহজ হয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটির সিটি প্রশাসনের প্রশাসনিক সেবা বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের একটি নতুন স্থানীয় আইনের আওতায় ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে প্রথমবার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় আবেদনকারী এবং নিউইয়র্ক সিটির হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফি মওকুফের সুবিধা পাচ্ছেন। অর্থাৎ যোগ্য আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট পরীক্ষার জন্য আর ফি দিতে হচ্ছে না।   তবে পরীক্ষার ফি মওকুফ হওয়ার অর্থ এই নয় যে চাকরির জন্য পরীক্ষা দিতে হবে না। নিউইয়র্ক সিটির অধিকাংশ সিভিল সার্ভিস পদে এখনো পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।   নিউইয়র্ক স্টেটের সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর একটি হলো এনওয়াই হেল্পস বা নিউইয়র্ক হায়ারিং ফর ইমার্জেন্সি লিমিটেড প্লেসমেন্ট স্টেটওয়াইড কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু পদে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে পরীক্ষার প্রয়োজন না থাকলেও আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট পদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করতে হবে।   ২০২৬ সালে এই কর্মসূচির আওতায় প্রশাসনিক সহকারী, অফিস সহকারী, মোটর ভেহিকল প্রতিনিধি এবং এ ধরনের বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, নিউইয়র্ক স্টেটের একটি প্রশাসনিক সহকারী পদে বছরে ৪০ হাজার ৩৯১ ডলার থেকে ৫৮ হাজার ৪৪৭ ডলার পর্যন্ত বেতনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পদটি বিশেষ নিয়োগ কর্মসূচির মাধ্যমে পরীক্ষাবিহীন নিয়োগের জন্য উন্মুক্ত ছিল।   নিউইয়র্ক সিটির সরকারি চাকরির তালিকায় স্কুল নিরাপত্তা এজেন্ট এবং ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্টের মতো পদও রয়েছে। ২০২৬ সালের তালিকা অনুযায়ী, স্কুল নিরাপত্তা এজেন্ট এবং ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট পদের পরীক্ষার জন্য ১ জুলাই থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী স্কুল নিরাপত্তা এজেন্ট পদের পরীক্ষা ২০ অক্টোবর এবং ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট পদের পরীক্ষা ২২ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।   ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট পদে বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের জন্য ন্যূনতম বেতন বছরে ৪৮ হাজার ৭১৯ ডলার। এই চাকরিতে ট্রাফিক ও পার্কিং আইন কার্যকর করা, লঙ্ঘনের নোটিশ দেওয়া এবং প্রয়োজনে প্রশাসনিক শুনানি বা আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো দায়িত্ব থাকে। চাকরিটিতে দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করতে হতে পারে এবং বিভিন্ন শিফটে দায়িত্ব পালনের প্রয়োজন হয়।   নিউইয়র্ক সিটির স্যানিটেশন কর্মীর চাকরিও দীর্ঘদিন ধরে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে জনপ্রিয়। তবে এটিকে পরীক্ষা ছাড়াই সহজে পাওয়া যায় এমন চাকরি বলা ঠিক হবে না। এই পদে প্রথমে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হয়। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর শারীরিক সক্ষমতা যাচাই, মেডিকেল পরীক্ষা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেকসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ পার হতে হয়।   স্যানিটেশন কর্মীর প্রাথমিক বার্ষিক বেতন ৪৭ হাজার ৭৫২ ডলার। পাঁচ বছর ছয় মাস চাকরি করার পর বেতন ৯৫ হাজার ৩১৬ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা, পেনশন এবং অতিরিক্ত সময় কাজের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে এই চাকরির জন্য হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডির পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেটের ক্লাস এ বা বি বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং নির্দিষ্ট অনুমোদন ও লাইসেন্সের শর্ত পূরণ করতে হয়।   মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির বা এমটিএর ট্রানজিট ক্লিনার পদও তুলনামূলক কম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। এমটিএর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই পদের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের মূল্যায়ন পরীক্ষা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই, বৈধভাবে কাজের অনুমতি যাচাই, মাদক পরীক্ষা এবং মেডিকেল পরীক্ষাসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ পার হতে হয়।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের মেইল ক্যারিয়ারসহ বিভিন্ন পদও নিউইয়র্কে বসবাসকারীদের জন্য সম্ভাব্য সরকারি চাকরির সুযোগ তৈরি করে। এটি সিটি বা স্টেটের চাকরি নয়, ফেডারেল সরকারের চাকরি। সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হয়। পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, মাদক পরীক্ষা ও মেডিকেল যাচাইয়ের মতো নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধাপ রয়েছে। কিছু পদের ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অতিরিক্ত যোগ্যতাও প্রয়োজন হতে পারে।   তবে ২০২৬ সালে নিউইয়র্কে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য একটি পদকে সবচেয়ে সহজ বলা যাবে না। চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স, শারীরিক সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফলের ওপর।   যারা নিউইয়র্কে নতুন করে সরকারি চাকরির চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য প্রথমেই নিউইয়র্ক স্টেটের পরীক্ষাবিহীন নিয়োগের পদগুলো খুঁজে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির নতুন পরীক্ষার ফি মওকুফের সুবিধাও কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের ন্যূনতম যোগ্যতা, আবেদনের শেষ তারিখ এবং নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৩:১৮
১৮ বছর ধরে খুঁজেও হারানো গুহার সন্ধান পাননি, ফিরে পেয়ে দেখলেন ভেতরেই মেঘ, নদী আর জঙ্গল!
১৮ বছর ধরে খুঁজেও হারানো গুহার সন্ধান পাননি, ফিরে পেয়ে দেখলেন ভেতরেই মেঘ, নদী আর জঙ্গল!

ভিয়েতনামের ঘন জঙ্গলে বৃষ্টির মধ্যে আশ্রয় নিতে গিয়ে যে গুহাটির সন্ধান পেয়েছিলেন হো খান, সেটিই পরে পরিচিত হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুহা হিসেবে। কিন্তু প্রথম দেখার পর ঘন জঙ্গলের ভেতর গুহাটির অবস্থান হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। এরপর প্রায় ১৮ বছর ধরে খুঁজতে খুঁজতে শেষ পর্যন্ত ২০০৯ সালে আবার সেই গুহার সন্ধান পান তিনি। নাম দেওয়া হয় হ্যাং সন দুং।   ঘটনাটির শুরু ১৯৯০ সালে। ভিয়েতনামের কোয়াং বিন প্রদেশের ফং না-ক্য বাং এলাকার জঙ্গলে ঘুরতে গিয়ে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পড়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা হো খান। আশ্রয়ের খোঁজে তিনি একটি গুহায় ঢোকেন। সেখানে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে আসতে এবং ভেতর থেকে নদীর পানির শব্দ শুনতে পান। তবে অন্ধকার ও অজানা পরিবেশের কারণে আর গভীরে যাওয়ার সাহস করেননি।   পরে গুহাটির অবস্থান আবার খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও ঘন, চিহ্নহীন জঙ্গলের কারণে তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু জায়গাটির কথা তিনি ভুলে যাননি। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজ চালানোর পর ২০০৯ সালে অবশেষে গুহাটির প্রবেশপথ আবার খুঁজে পান হো খান। এরপর ব্রিটিশ কেভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের অভিযাত্রীদের একটি দল তার সঙ্গে সেখানে যায় এবং গুহাটির বিশালত্ব দেখে বিস্মিত হয়।    সন দুংয়ের বিশালতা সাধারণ কোনো গুহার সঙ্গে তুলনা করার মতো নয়। ভিয়েতনামের সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, গুহাটি প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ, কোনো কোনো অংশ প্রায় ২০০ মিটার উঁচু এবং ১৫০ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত। এর বিশাল কক্ষগুলোর আকার এতটাই বড় যে একটি ৪০ তলা ভবনের সমান উচ্চতার কাঠামোও সেখানে কল্পনা করা যায়।    গুহার ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে ভূগর্ভস্থ নদী। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি হলো এর ছাদের বিশাল দুটি অংশ ধসে গিয়ে তৈরি হয়েছে ‘ডোলাইন’ বা প্রাকৃতিক উন্মুক্ত অংশ। সেখান দিয়ে সূর্যের আলো ও বৃষ্টির পানি গুহার গভীরে পৌঁছায়। ফলে মাটির নিচেই তৈরি হয়েছে ঘন সবুজ বনাঞ্চল, যেখানে গাছপালা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে।    শুধু বন নয়, গুহার ভেতরের পরিবেশও আলাদা। বিশাল ভূগর্ভস্থ কক্ষগুলোর নিজস্ব ক্ষুদ্র জলবায়ু তৈরি হয়। উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে মিশে সেখানে কুয়াশা ও মেঘের মতো পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এ কারণেই সন দুংকে শুধু একটি গুহা নয়, বরং মাটির নিচে গড়ে ওঠা এক স্বতন্ত্র প্রাকৃতিক জগত হিসেবে দেখা হয়।    গুহাটিতে রয়েছে বিশাল স্ট্যালাগমাইট, অনন্য পাথরের গঠন এবং ‘কেভ পার্ল’ নামে পরিচিত ক্যালসাইটের গোলাকার গঠন। কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে পানি ও ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার প্রভাবে তৈরি এসব গঠন গুহাটিকে আরও অনন্য করে তুলেছে।    সন দুং অবস্থিত ফং না-ক্য বাং ন্যাশনাল পার্কে, যা ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এই এলাকায় ৩০০টিরও বেশি গুহা ও ভূগর্ভস্থ নদীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে সন দুংয়ের পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সেখানে প্রবেশ ও অভিযান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।    একসময় কাঠ সংগ্রহ ও শিকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন হো খান। পরে তার খুঁজে পাওয়া এই গুহা বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং ফং না-ক্য বাং অঞ্চলের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়। তবে সন দুংয়ের গল্পের সবচেয়ে বিস্ময়কর অংশ হয়তো এর বিশালত্ব নয়, বরং একটি বৃষ্টিভেজা রাতের কৌতূহল কীভাবে প্রায় দুই দশক পর পৃথিবীর অন্যতম অসাধারণ প্রাকৃতিক বিস্ময়ের দরজা খুলে দিয়েছিল।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৩:১৩
মায়ের জন্মের মাত্র এক বছর পরই ফ্রোজেন হয়েছিল ভ্রূণ, ২৪ বছর পর সেই ভ্রূণ থেকেই জন্ম নিলেন এমা
মায়ের জন্মের মাত্র এক বছর পরই ফ্রোজেন হয়েছিল ভ্রূণ, ২৪ বছর পর সেই ভ্রূণ থেকেই জন্ম নিলেন এমা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আছে। ২০১৭ সালে এমা রেন গিবসন নামে এক কন্যাশিশুর জন্ম হয় এমন একটি ভ্রূণ থেকে, যা জন্মের আগে প্রায় ২৪ বছর ফ্রোজেন অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ভ্রূণটি যখন ফ্রোজেন করা হয়, তখন এমার মা টিনা গিবসনের বয়স ছিল মাত্র দেড় বছর।   এমার জন্ম হয় ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর। তার মা টিনা ও বাবা বেঞ্জামিন গিবসন পূর্ব টেনেসিয়ায় বসবাস করতেন। এমার জন্মের সময় তার ওজন ছিল প্রায় ৬ পাউন্ড ৮ আউন্স এবং দৈর্ঘ্য ছিল ২০ ইঞ্চি।   এমার গল্পের শুরু অবশ্য ২০১৭ সালে নয়। ভ্রূণটি ১৯৯২ সালের ১৪ অক্টোবর তৈরি হওয়ার পর ক্রায়োপ্রিজারভেশনের মাধ্যমে ফ্রোজেন করে রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ, টিনা গিবসন যখন পৃথিবীতে মাত্র দেড় বছরের শিশু, তখনই ভবিষ্যতের এই সন্তানটির ভ্রূণ ল্যাবে সংরক্ষিত হয়ে যায়।   বহু বছর পর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন টিনা ও বেঞ্জামিন। তারা টেনেসির নক্সভিলের ন্যাশনাল এমব্রিও ডোনেশন সেন্টারের মাধ্যমে একটি দান করা ভ্রূণ গ্রহণ করেন। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে আইভিএফের মাধ্যমে তৈরি এবং অন্য দম্পতির অব্যবহৃত ভ্রূণ অন্য পরিবারকে গর্ভধারণের জন্য দেওয়া হয়।   ২০১৭ সালের মার্চে ভ্রূণটি গলিয়ে টিনার জরায়ুতে স্থানান্তর করা হয়। কয়েক মাসের গর্ভাবস্থার পর নভেম্বর মাসে জন্ম নেয় এমা। তখন এটি দীর্ঘ সময় ফ্রোজেন থাকা কোনো মানব ভ্রূণ থেকে সফলভাবে জন্ম নেওয়ার অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে আলোচিত হয়।   ঘটনাটির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল সময়ের হিসাব। এমার ভ্রূণটি ১৯৯২ সালে ফ্রোজেন হয়েছিল, অথচ তার মা টিনা জন্মেছিলেন ১৯৯১ সালে। অর্থাৎ, মা যখন শৈশবে, তখনই ভবিষ্যৎ মেয়ের ভ্রূণ একটি ল্যাবে ফ্রোজেন অবস্থায় অপেক্ষা করছিল।   তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভ্রূণ কত বছর ফ্রোজেন ছিল, সেটিই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। ভ্রূণ গলানোর পর সেটি স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়ে সফল গর্ভধারণ ও জন্মের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এমার সুস্থ জন্ম সেই প্রক্রিয়ার সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছিল।   এমার জন্মের কয়েক বছর পর অবশ্য এই রেকর্ড আরও দীর্ঘ হয়। ২০২০ সালে একই পরিবারের আরেকটি শিশু, মলি গিবসন, এমন একটি ভ্রূণ থেকে জন্ম নেয় যা প্রায় ২৭ বছর ফ্রোজেন ছিল। মলির জন্মের মাধ্যমে এমার সেই সময়কার রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।   তবু এমা গিবসনের গল্পটি বিশেষ হয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য সময়ের ব্যবধানের কারণে। ১৯৯২ সালে ফ্রোজেন হওয়া একটি ক্ষুদ্র ভ্রূণ দুই দশকেরও বেশি সময় অপেক্ষা করে ২০১৭ সালে একটি সুস্থ শিশুর জন্মের মাধ্যমে পৃথিবীর আলো দেখে। আর সেই শিশুকে পৃথিবীতে আনেন এমন একজন মা, যিনি নিজেই ভ্রূণটি ফ্রোজেন হওয়ার সময় ছিলেন মাত্র এক বছরের শিশু।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ৩:৭
স্টেট হাউসের পর এবার সিনেট জয় করে ইতিহাস গড়তে চান মেরিয়াম খান
স্টেট হাউসের পর এবার সিনেট জয় করে ইতিহাস গড়তে চান মেরিয়াম খান

কানেকটিকাটের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী মেরিয়াম খান। ১১ আগস্টের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে দ্বিতীয় স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়ে তিনি এখন নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে কানেকটিকাটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হওয়ার মাইলফলক অর্জন করবেন তিনি।    প্রাইমারিতে মেরিয়াম খান পেয়েছেন ৩ হাজার ৫২১ ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী উইন্ডসর বোর্ড অব এডুকেশনের প্রেসিডেন্ট আয়ানা টেলর পেয়েছেন ২ হাজার ৮৭৪ ভোট। বর্তমান স্টেট সিনেটর ডগ ম্যাকক্রোরি পেয়েছেন ২ হাজার ২৫৫ ভোট। এই ফলের মধ্য দিয়ে ম্যাকক্রোরিকে হারিয়ে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের টিকিট নিশ্চিত করেছেন খান।    দ্বিতীয় সিনেট ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে হার্টফোর্ড, ব্লুমফিল্ড ও উইন্ডসরের কিছু অংশ রয়েছে। ১১ আগস্টের প্রাইমারির আগে মেরিয়াম খানই ডেমোক্রেটিক পার্টির দলীয় সমর্থন পেয়েছিলেন। মে মাসের দলীয় কনভেনশনে তিন দফা ভোটের পর তিনি সেই সমর্থন নিশ্চিত করেন।    মেরিয়াম খানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় কয়েক বছর আগে। ২০২২ সালের মার্চে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি কানেকটিকাট স্টেট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রবেশ করেন। এরপর ২০২২ সালের নভেম্বরে পূর্ণ মেয়াদে নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালে আবারও জয় পান।    স্টেট হাউসে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়েই তিনি কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা হিসেবে ইতিহাস গড়েন। তাঁর আগে মুসলিম আইনপ্রণেতা হিসেবে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন সৌদ আনোয়ার। ফলে খান এবার সিনেটে জয়ী হলে মুসলিম নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে আরও একটি নতুন অধ্যায় তৈরি হবে।    রাজনীতিতে আসার আগে মেরিয়াম খান শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি স্টেট হাউসের তিনটি কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিশেষ শিক্ষা বিষয়ক নির্বাচিত কমিটির কো-চেয়ার। শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   প্রাইমারির এই জয় শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অগ্রগতি নয়, কানেকটিকাটের মুসলিম ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী হিসেবে রাজ্যের আইনসভায় তাঁর সম্ভাব্য উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম প্রতিনিধিত্বের বিস্তারের দিকটিও সামনে আনছে।   তবে ইতিহাস গড়ার আগে মেরিয়াম খানের সামনে আরও একটি নির্বাচনী লড়াই বাকি। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জয় পেলেই দ্বিতীয় সিনেট ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি এবং কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হিসেবে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবেন। বর্তমানে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য তাঁর প্রার্থিতা সক্রিয় রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ২:২২
প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্কদের এসএসআই সুবিধা বন্ধের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের
পরিবারের সঙ্গে থাকাই কি বোঝা! প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্কদের এসএসআই সুবিধা বন্ধের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সমর্থনে এগিয়ে নেওয়া একটি প্রস্তাবিত নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবর্তনটি কার্যকর হলে সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই পাওয়া প্রায় ৪ লাখ নিম্নআয়ের প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাসিক সহায়তা কমে যেতে পারে, এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ডাউন সিনড্রোম, ডিমেনশিয়া ও অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী মানুষও রয়েছেন। বিষয়টি সামনে এসেছে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক প্রতিবেদনে।    প্রস্তাবিত পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে পরিবারের কেউ সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা স্ন্যাপ সুবিধা পান কি না, সেই বিষয়টি। এসএসআই মূলত বয়স্ক, অন্ধ ও প্রতিবন্ধী নিম্নআয়ের মানুষকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি ফেডারেল কর্মসূচি।   বর্তমান নিয়মে স্ন্যাপ পাওয়া পরিবারের সদস্যের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাসকারী এসএসআই গ্রহীতারা তুলনামূলকভাবে বেশি সুরক্ষা পাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নিয়মে স্ন্যাপকে ‘পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ড’ নির্ধারণের তালিকায় যুক্ত করা হয়। একই পরিবারের অন্তত একজন এসএসআই আবেদনকারী বা গ্রহীতা এবং অন্য একজন সদস্য নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তা পেলে পরিবারটি এই শ্রেণির আওতায় পড়তে পারে।    এর ফলে পরিবারের সদস্যরা খাবার বা থাকার খরচে সহায়তা করলেও সেই সহায়তাকে আগের মতো এসএসআই গ্রহীতার আয় হিসেবে গণনা করার প্রয়োজন হয় না। এসএসএ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল নিয়ম সহজ করা, নিম্নআয়ের পরিবারের ওপর প্রশাসনিক চাপ কমানো এবং কিছু ক্ষেত্রে এসএসআই সুবিধা বাড়ানো।    এখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সেই পরিবর্তনটি উল্টে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় এসএসএ স্ন্যাপকে পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ডের সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার এবং পুরোনো নিয়মে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব রেখেছে। পুরোনো ব্যবস্থায় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে নির্দিষ্ট সরকারি আয় সহায়তা পেতে হতো, তবেই পরিবারটি এই বিশেষ শ্রেণিতে পড়ত।    এই পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষ করে এমন পরিবারে পড়তে পারে, যেখানে প্রতিবন্ধী কোনো সন্তান বা বয়স্ক স্বজন এসএসআই পান, কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা স্ন্যাপ সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। প্রোপাবলিকার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ৪ লাখ মানুষের এসএসআই সুবিধা কমে যেতে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।   এসএসআইয়ের নিয়মে পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া খাবার বা থাকার সহায়তা সাধারণত ‘ইন কাইন্ড সাপোর্ট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং তা সুবিধার পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ২০২৪ সালের সংস্কারের পর খাবার আর এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এসএসএর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, অন্য কেউ ভাড়া, মর্টগেজ বা ইউটিলিটি বিলের মতো থাকার খরচে সহায়তা করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসএসআই পেমেন্ট কমতে পারে।    প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সমালোচকেরা বলছেন, একই পরিবারের সদস্যরা যখন নিজেদের জীবনযাপন চালাতেই সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তখন তাদের সহায়তাকে এসএসআই গ্রহীতার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী প্রতিবন্ধী তরুণ এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।   তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। এসএসএর নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় এটিকে প্রস্তাবিত নিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি কীভাবে চূড়ান্ত হবে এবং শেষ পর্যন্ত এসএসআই গ্রহীতাদের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।    এদিকে এসএসএর বর্তমান নিয়মে স্ন্যাপ সুবিধা এখনও পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ডের একটি স্বীকৃত কর্মসূচি হিসেবে রয়েছে। ফলে নতুন প্রস্তাব কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য এসএসআই গ্রহীতারা এই সুরক্ষা পেতে থাকবেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ২:১৭
যুক্তরাজ্যই কি এবার ইলন মাস্কের টার্গেট? কিনতে কত খরচ হবে
যুক্তরাজ্যই কি এবার ইলন মাস্কের টার্গেট? কিনতে কত খরচ হবে, জানতে চেয়ে প্রশ্ন করলেন তিনি

যুক্তরাজ্য কিনে সেখানে বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করবেন ইলন মাস্ক। এমন একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেটিতে মজা করে মাত্র চার শব্দের জবাব দিয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক। তাঁর প্রশ্ন, “দাম কত?”   মাস্কের এই মন্তব্য দ্রুতই অনলাইনে আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ, প্রায় একই প্রশ্ন তিনি করেছিলেন ২০১৭ সালে, যখন এক ব্যক্তি মজা করে তাঁকে টুইটার কিনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তখন মাস্কও জবাব দিয়েছিলেন, “দাম কত?” পাঁচ বছর পর সেই রসিকতাই বাস্তবে রূপ নেয়। ২০২২ সালে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কিনে নেন তিনি, যা পরে এক্স নামে পরিচিত হয়।    সাম্প্রতিক ঘটনাটির শুরু একটি ব্যঙ্গাত্মক নিবন্ধকে ঘিরে। ব্যঙ্গধর্মী সংবাদমাধ্যম দ্য ব্যাবিলন বি এমন একটি কাল্পনিক গল্প প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়, মাস্ক যুক্তরাজ্য কিনে নিয়েছেন এবং সেখানে বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে চান। গল্পটি বাস্তব কোনো অধিগ্রহণের খবর নয়, বরং পুরোপুরিই রসিকতা।    পোস্টটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মাস্ক সেখানে মন্তব্য করেন, “দাম কত?” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত জবাবই পুরোনো টুইটার-কেনার ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়।   ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর মাস্ক টুইটারে লিখেছিলেন, তিনি টুইটার ভালোবাসেন। এর জবাবে এক ব্যবহারকারী তাঁকে প্ল্যাটফর্মটি কিনে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তখন মাস্ক পাল্টা জানতে চান, “দাম কত?” ওই সময় মন্তব্যটি নিছক রসিকতা হিসেবেই দেখা হয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালে মাস্ক সত্যিই টুইটার কেনার প্রস্তাব দেন। শেষ পর্যন্ত ৫৪ দশমিক ২০ ডলার শেয়ারমূল্যে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা তাঁর হাতে যায়।   এই পুরোনো ঘটনার কারণেই এবার যুক্তরাজ্য কেনার ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে মাস্কের একই ধরনের জবাব নতুন মাত্রা পেয়েছে। অনেকে রসিকতা করে প্রশ্ন তুলছেন, টুইটার কেনার মতো এবারও কি তাঁর “দাম কত?” প্রশ্নের পেছনে কোনো বাস্তব পরিকল্পনা রয়েছে?   তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য কেনার কোনো বাস্তব প্রস্তাব বা উদ্যোগের তথ্য নেই। মাস্কের মন্তব্যটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের জবাব হিসেবেই এসেছে। এমনকি পরে তিনি যুক্তরাজ্য কেনার কাল্পনিক দৃশ্য নিয়ে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্মিত ভিডিওও শেয়ার করেছেন, যা ঘটনাটিকে আরও হাস্যরসাত্মক করে তুলেছে।    মাস্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তাই মূল আকর্ষণ যুক্তরাজ্য কেনার কোনো বাস্তব পরিকল্পনা নয়, বরং প্রায় এক দশক আগের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রসিকতার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার মজার মিল। ২০১৭ সালে টুইটার কেনার প্রসঙ্গে করা সেই একই প্রশ্নের পর কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি সত্যিই প্রতিষ্ঠানটি কিনে নিয়েছিলেন। এবার একই প্রশ্ন যুক্তরাজ্যকে ঘিরে ওঠায় ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২৬ ২:১২