বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৪:১৩
যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে  বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা
যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শিক্ষার্থীদের প্রধান গন্তব্য। কিন্তু ভিসা নীতির পরিবর্তন, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, পড়াশোনার খরচ এবং শ্রমবাজারের চাহিদার কারণে এখন অনেকেই বিকল্প দেশ বিবেচনা করছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে দেশ বদলাচ্ছেন। বরং শিক্ষা, চাকরি, দক্ষ কর্মীর চাহিদা, ব্যবসা ও তুলনামূলক সহজ অভিবাসন ব্যবস্থা মিলিয়ে নতুন গন্তব্যের তালিকা তৈরি হচ্ছে। 

 

বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার নতুন শ্রমবাজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারের পাশাপাশি রোমানিয়া, পর্তুগাল, সেশেলসসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠাচ্ছে। জাপানেও টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম রয়েছে। 

 

জাপান এখন বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত বিকল্পগুলোর একটি। বিশেষ করে কারিগরি দক্ষতা, নির্মাণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন নির্দিষ্ট পেশায় কর্মীর চাহিদা থাকায় বাংলাদেশ থেকে জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি রপ্তানির সরকারি প্ল্যাটফর্মেও জাপানের বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। 

 

দক্ষিণ কোরিয়াও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। শিল্প ও উৎপাদন খাতে বিদেশি কর্মীর চাহিদা দেশটিকে এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় শ্রমবাজারে পরিণত করেছে। বাংলাদেশি কর্মীদের পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের তরুণরাও দক্ষিণ কোরিয়াকে কাজের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

 

ইউরোপে জার্মানি এখন দক্ষ কর্মীদের অন্যতম বড় বিকল্প। প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্পখাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের ওপর দেশটির নির্ভরতা রয়েছে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানভিত্তিক বিভিন্ন গাইডেও জার্মানিকে দক্ষ কর্মীদের জন্য শীর্ষ গন্তব্যগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। 

 

পর্তুগালও বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সরকারও পর্তুগালকে বৈধ শ্রমবাজার হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ইউরোপে যেতে আগ্রহীদের কাছে দেশটি ক্রমেই পরিচিত বিকল্পে পরিণত হচ্ছে। 

 

ইতালি অবশ্য নতুন গন্তব্যের চেয়ে বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। বৈধ শ্রমবাজারের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের উপস্থিতি রয়েছে। তাই ইউরোপে অভিবাসনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করতে গেলে ইতালিকে বাদ দেওয়া যায় না।

 

আয়ারল্যান্ডও বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ পেশাজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় হচ্ছে। ইংরেজিভাষী দেশ হওয়া এবং প্রযুক্তি, ওষুধ ও আর্থিক খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় দেশটি যুক্তরাজ্যের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই প্রবণতায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে বিভিন্ন শিক্ষা-অভিবাসন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। 

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই পরিবর্তনের বড় অংশ। বিশেষ করে দুবাই ও আবুধাবি ব্যবসা, প্রযুক্তি, পেশাদারি সেবা ও উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তবে এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো স্থায়ী অভিবাসনের পথ নয়; কাজ ও ব্যবসার সুযোগের পাশাপাশি ভিসার ধরন ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের নিয়ম আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।

 

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়া নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটি তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৬ সালে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। মালয়েশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েছে। 

 

সিঙ্গাপুরও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা ও উচ্চ দক্ষতার চাকরিতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কর্মীরা দেশটির দিকে তাকাচ্ছেন। তবে ছোট শ্রমবাজার এবং তুলনামূলক উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এখানে বড় বিষয়।

 

নিউজিল্যান্ডও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাইরে ইংরেজিভাষী একটি বিকল্প। দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য দেশটির বিভিন্ন ভিসা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দূরত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকের জন্য বড় বাধা।

 

এশিয়ার বাইরে আফ্রিকার কিছু দেশও নতুন সুযোগের কারণে নজরে আসছে। নাইজেরীয়দের ক্ষেত্রে ঘানা, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কেনিয়া গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নাইরোবি আফ্রিকার প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হওয়ায় প্রযুক্তি ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের আকর্ষণ করছে।

 

মরিশাসও বিনিয়োগকারী ও পেশাজীবীদের জন্য একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। পর্যটন, আর্থিক সেবা ও ব্যবসার পরিবেশ দেশটিকে আফ্রিকা অঞ্চলে আলাদা অবস্থান দিয়েছে।

 

উত্তর আফ্রিকার মরক্কো এবং ইউরোপ-এশিয়ার সংযোগস্থল তুরস্কও ব্যবসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কারণে নতুন করে বিবেচনায় আসছে। তবে এসব দেশে সুযোগ থাকলেও ভাষা, ভিসা, স্থানীয় শ্রমবাজার এবং স্থায়ী বসবাসের নিয়ম দেশভেদে ভিন্ন।

 

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের অভিবাসনের চিত্রে একটি পরিবর্তন স্পষ্ট। মানুষ শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশের দিকে তাকিয়ে নেই। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার পাশাপাশি জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, রোমানিয়া, গ্রিস, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও রুয়ান্ডার মতো দেশও বিভিন্ন শ্রেণির অভিবাসী ও শিক্ষার্থীর কাছে বিকল্প হয়ে উঠছে। তবে প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসনের কারণ ও সুযোগ এক নয়।

 

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দেশকে শুধু “সহজে যাওয়ার দেশ” হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ভিসা পাওয়া, কাজের অনুমতি, বেতন, কর, বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সবকিছু যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিশেষ করে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশের সুবিধা থাকলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার দেয় না।

 

অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিশ্বজুড়ে অভিবাসনের মানচিত্র এখন একমুখী নয়। নতুন প্রজন্মের অভিবাসীরা কোথায় বেশি সুযোগ, কম ঝুঁকি এবং ভালো ভবিষ্যৎ পাওয়া যেতে পারে, সেই হিসাবেই বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী
১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী

লন্ডনের ৩৫ বছর বয়সী অ্যাম্বার উইলিয়ামসের জীবনে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলেছে অসহ্য ব্যথা, একের পর এক চিকিৎসা আর অনিশ্চয়তা। তার দাবি, তীব্র মাসিকের ব্যথাকে বছরের পর বছর স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও পিত্তথলির সমস্যার সন্দেহে তার অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণ করেন। পরে এসব অস্ত্রোপচারও তার দীর্ঘদিনের ব্যথার প্রকৃত কারণ খুঁজে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পরীক্ষায় ধরা পড়ে ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস।    উইলিয়ামসের সমস্যা শুরু হয় মাত্র ১১ বছর বয়সে, প্রথম মাসিকের সময়। ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেত। চিকিৎসকের কাছে একাধিকবার যাওয়ার পরও তাকে বলা হতো, মাসিকের সময় এমন ব্যথা স্বাভাবিক। কয়েক বছর জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করেও খুব একটা উপকার পাননি বলে জানান তিনি।   ২০১২ সালে ২১ বছর বয়সে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে গেলে চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস সন্দেহ করেন। তার অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা হয়। কিন্তু পরে উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে জানানো হয় যে অ্যাপেন্ডিক্সে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ অস্ত্রোপচারের পরও তার মূল সমস্যার কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।    এরপরও বছরের পর বছর পেট ও পেলভিক ব্যথা চলতে থাকে। ২০১৬ সালে চিকিৎসকেরা গলস্টোন ও প্যানক্রিয়াটাইটিসের কথা জানান। সে সময় তার গলব্লাডারও অপসারণ করা হয়। উইলিয়ামসের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর তাকেও বলা হয়েছিল যে অঙ্গটিতে উল্লেখযোগ্য সমস্যা পাওয়া যায়নি।    এই সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তিনি অতিরিক্ত রক্তপাত, বমি ও তীব্র ব্যথার কথা জানিয়েছেন। এমনকি ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। একপর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও তার শারীরিক সমস্যার যোগসূত্র খোঁজা হয় এবং তাকে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে তার ভাষ্য।   প্রকৃত রোগের সন্ধান পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও কয়েক বছর। ২০২৫ সালে স্বামীকে নিয়ে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ার পর তিনি ফার্টিলিটি সেবার দ্বারস্থ হন। সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ তার দীর্ঘদিনের উপসর্গ ও এন্ডোমেট্রিওসিস নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠান।    ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ল্যাপারোস্কোপি করার পর চিকিৎসকেরা ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস শনাক্ত করেন। অস্ত্রোপচারের সময় তার ডিম্বাশয় পেলভিক দেয়ালের সঙ্গে জোড়া লেগে থাকার মতো জটিল অবস্থাও পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এন্ডোমেট্রিওসিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে জরায়ুর ভেতরের আবরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বেড়ে ওঠে। এর ফলে তীব্র মাসিকের ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ১৯ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। সংস্থাটি বলছে, রোগটির কারণে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও বন্ধ্যাত্বসহ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়।    অন্যদিকে অ্যাডেনোমায়োসিসে জরায়ুর যে টিস্যু সাধারণত জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ তৈরি করে, সেটি জরায়ুর পেশির দেয়ালের ভেতরে প্রবেশ করে। এর অন্যতম লক্ষণ তীব্র মাসিকের ব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তপাত; কারও কারও ক্ষেত্রে পেলভিক ব্যথা ও যৌনমিলনের সময় ব্যথাও হতে পারে।    উইলিয়ামসের ঘটনা চিকিৎসাব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। তবে তার ক্ষেত্রে অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণকে চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিতভাবে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলা যায় কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন মেডিকেল মূল্যায়নের তথ্য প্রতিবেদনে নেই। তাই বিষয়টি তার নিজের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা উচিত।   দীর্ঘদিনের ব্যথা শেষ পর্যন্ত তার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন উইলিয়ামস। এখনো মাসিকের প্রথম কয়েক দিন তিনি সর্বোচ্চ মাত্রার ব্যথা অনুভব করেন এবং নিয়মিত ব্যথানাশকের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে জানান। সন্তান ধারণের সক্ষমতার ওপর দীর্ঘদিনের রোগের কী প্রভাব পড়েছে, সেটি নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন।    তার অভিজ্ঞতা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, তীব্র ও বারবার ফিরে আসা মাসিকের ব্যথাকে শুধু ‘স্বাভাবিক’ বলে এড়িয়ে যাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, এমন ব্যথা যদি দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, অতিরিক্ত রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথার সঙ্গে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ । 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৫:২
যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে  বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা

১৮ বছর ধরে খুঁজেও হারানো গুহার সন্ধান পাননি, ফিরে পেয়ে দেখলেন ভেতরেই মেঘ, নদী আর জঙ্গল!

১৮ বছর ধরে খুঁজেও হারানো গুহার সন্ধান পাননি, ফিরে পেয়ে দেখলেন ভেতরেই মেঘ, নদী আর জঙ্গল!

স্টেট হাউসের পর এবার সিনেট জয় করে ইতিহাস গড়তে চান মেরিয়াম খান

স্টেট হাউসের পর এবার সিনেট জয় করে ইতিহাস গড়তে চান মেরিয়াম খান

যুক্তরাজ্যই কি এবার ইলন মাস্কের টার্গেট? কিনতে কত খরচ হবে
যুক্তরাজ্যই কি এবার ইলন মাস্কের টার্গেট? কিনতে কত খরচ হবে, জানতে চেয়ে প্রশ্ন করলেন তিনি

যুক্তরাজ্য কিনে সেখানে বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করবেন ইলন মাস্ক। এমন একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেটিতে মজা করে মাত্র চার শব্দের জবাব দিয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক। তাঁর প্রশ্ন, “দাম কত?”   মাস্কের এই মন্তব্য দ্রুতই অনলাইনে আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ, প্রায় একই প্রশ্ন তিনি করেছিলেন ২০১৭ সালে, যখন এক ব্যক্তি মজা করে তাঁকে টুইটার কিনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তখন মাস্কও জবাব দিয়েছিলেন, “দাম কত?” পাঁচ বছর পর সেই রসিকতাই বাস্তবে রূপ নেয়। ২০২২ সালে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কিনে নেন তিনি, যা পরে এক্স নামে পরিচিত হয়।    সাম্প্রতিক ঘটনাটির শুরু একটি ব্যঙ্গাত্মক নিবন্ধকে ঘিরে। ব্যঙ্গধর্মী সংবাদমাধ্যম দ্য ব্যাবিলন বি এমন একটি কাল্পনিক গল্প প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়, মাস্ক যুক্তরাজ্য কিনে নিয়েছেন এবং সেখানে বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে চান। গল্পটি বাস্তব কোনো অধিগ্রহণের খবর নয়, বরং পুরোপুরিই রসিকতা।    পোস্টটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মাস্ক সেখানে মন্তব্য করেন, “দাম কত?” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত জবাবই পুরোনো টুইটার-কেনার ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়।   ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর মাস্ক টুইটারে লিখেছিলেন, তিনি টুইটার ভালোবাসেন। এর জবাবে এক ব্যবহারকারী তাঁকে প্ল্যাটফর্মটি কিনে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তখন মাস্ক পাল্টা জানতে চান, “দাম কত?” ওই সময় মন্তব্যটি নিছক রসিকতা হিসেবেই দেখা হয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালে মাস্ক সত্যিই টুইটার কেনার প্রস্তাব দেন। শেষ পর্যন্ত ৫৪ দশমিক ২০ ডলার শেয়ারমূল্যে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা তাঁর হাতে যায়।   এই পুরোনো ঘটনার কারণেই এবার যুক্তরাজ্য কেনার ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে মাস্কের একই ধরনের জবাব নতুন মাত্রা পেয়েছে। অনেকে রসিকতা করে প্রশ্ন তুলছেন, টুইটার কেনার মতো এবারও কি তাঁর “দাম কত?” প্রশ্নের পেছনে কোনো বাস্তব পরিকল্পনা রয়েছে?   তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য কেনার কোনো বাস্তব প্রস্তাব বা উদ্যোগের তথ্য নেই। মাস্কের মন্তব্যটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের জবাব হিসেবেই এসেছে। এমনকি পরে তিনি যুক্তরাজ্য কেনার কাল্পনিক দৃশ্য নিয়ে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্মিত ভিডিওও শেয়ার করেছেন, যা ঘটনাটিকে আরও হাস্যরসাত্মক করে তুলেছে।    মাস্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তাই মূল আকর্ষণ যুক্তরাজ্য কেনার কোনো বাস্তব পরিকল্পনা নয়, বরং প্রায় এক দশক আগের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রসিকতার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার মজার মিল। ২০১৭ সালে টুইটার কেনার প্রসঙ্গে করা সেই একই প্রশ্নের পর কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি সত্যিই প্রতিষ্ঠানটি কিনে নিয়েছিলেন। এবার একই প্রশ্ন যুক্তরাজ্যকে ঘিরে ওঠায় ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ২:১২
নিজ দেশে গেলে হারাতে পারেন কানাডার স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা

নিজ দেশে গেলে হারাতে পারেন কানাডার স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা

৫০ বছরের পুরোনো প্রতিশ্রুতি রাখতে বন্ধুর শেষ বিদায়ে লাঠি ছেড়ে কফিনের পাশে ৮৩ বছরের সাবেক মেরিন

৫০ বছরের পুরোনো প্রতিশ্রুতি রাখতে বন্ধুর শেষ বিদায়ে লাঠি ছেড়ে কফিনের পাশে ৮৩ বছরের সাবেক মেরিন

ভূমিকম্পের সময় ১০ নবজাতককে উদ্ধারে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন কলম্বিয়ার চিকিৎসক জার্মান সোমোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্পের সময় জীবন বাজি রেখে ১০ শিশুকে বাঁচালেন, সেই চিকিৎসক পেলেন জার্মানিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ

একই মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া যমজ দুই শিশুর বাবা আলাদা হওয়ার বিরল ঘটনা এটি। ছবি: সংগৃহীত
একই মায়ের যমজ সন্তান, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল দুই শিশুর বাবা দুইজন

ব্রাজিলের গোইয়াস রাজ্যের মাইনেইরোস শহরের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর জানতে পারেন, দুই শিশুর জৈবিক বাবা একই ব্যক্তি নন। শিশুদের জন্মের প্রায় আট মাস পর করা ডিএনএ পরীক্ষায় বিষয়টি ধরা পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অত্যন্ত বিরল এই ঘটনাকে বলা হয় ‘হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন’।   ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালে। ওই সময় ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম মেট্রোপোলেসের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সম্প্রতি পুরোনো ঘটনাটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণী একই দিনে দুই ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে তিনি যমজ সন্তানের গর্ভধারণ করেন। শুরুতে তিনি ধারণা করেছিলেন, দুই শিশুর বাবা একই ব্যক্তি। তবে সন্তান জন্মের পর তাদের শারীরিক গঠনে কিছুটা পার্থক্য দেখে বিষয়টি নিয়ে তার মনে প্রশ্ন তৈরি হয়।   শিশুদের বয়স যখন প্রায় আট মাস, তখন সম্ভাব্য বাবাকে নিয়ে নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি দুই শিশুর মধ্যে মাত্র একজনের জৈবিক বাবা। দ্বিতীয় শিশুর সঙ্গে তার কোনো জৈবিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। এরপর তরুণীর মনে পড়ে, গর্ভধারণের সম্ভাব্য সময়ের কাছাকাছি তিনি আরেক ব্যক্তির সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে দ্বিতীয় ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, তিনি অন্য শিশুটির জৈবিক বাবা।   তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার ফল দেখে তিনি নিজেও বিস্মিত হয়ে যান। তিনি জানান, তিনি জানতেনই না যে একই গর্ভধারণে যমজ দুই শিশুর বাবা আলাদা হতে পারেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুই শিশুকে দেখতে অনেকটাই একই রকম। মামলাটি অনুসরণকারী চিকিৎসক তুলিও ফ্রাঙ্কো, ফ্যাকালদাদে মরগানা পোট্রিচের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, ব্যাখ্যা করেন যে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে হলে একই মাসিক চক্রে একজন নারীর দুটি ডিম্বাণু নিঃসরণ করতে হয়। এরপর উর্বর সময়ের কাছাকাছি সময়ে দুই ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দিয়ে ওই দুটি ডিম্বাণু নিষিক্ত হলে দুই ভিন্ন পুরুষের সন্তান একই গর্ভে বেড়ে উঠতে পারে।   এ ক্ষেত্রে দুই শিশু অভিন্ন যমজ নয়, বরং ভ্রাতৃযমজ বা দ্বিযুগ্ম যমজ। অর্থাৎ, তারা দুটি আলাদা ডিম্বাণু ও দুটি আলাদা শুক্রাণু থেকে তৈরি হয়। ফলে তাদের মধ্যে জিনগত মিল সাধারণ ভাই-বোনের মতোই হয়। তবে তারা একই মায়ের গর্ভে একই সময়ে বেড়ে ওঠে। বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও হেটেরোপ্যাটারনাল যমজের এমন ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘সুপারফেকান্ডেশন’ বলতে একই মাসিক চক্রে একাধিক ডিম্বাণু ভিন্ন সময়ে নিষিক্ত হওয়াকে বোঝায়। আর যখন ওই ডিম্বাণুগুলো ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়, তখন তাকে হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন বলা হয়। মানুষের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বিরল।   মাইনেইরোসের এই ঘটনায় চিকিৎসক তুলিও ফ্রাঙ্কো জানিয়েছিলেন, সে সময়ের প্রাথমিক চিকিৎসা-সাহিত্যে এমন প্রায় ২০টি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া গিয়েছিল। তবে এ সংখ্যা বিশ্বব্যাপী প্রকৃত ঘটনার নির্ভুল হিসাব নয়, কারণ এমন ঘটনা সাধারণত ডিএনএ পরীক্ষা না করা পর্যন্ত শনাক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না। এ ধরনের ঘটনা শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যমজ সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দুই শিশুরই নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ২০২০ সালে কলম্বিয়ায় প্রকাশিত একটি চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণাতেও ভিন্ন বাবার যমজ সন্তানের একটি ঘটনা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছিল। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, পিতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু একজন যমজের পরীক্ষা করলে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকতে পারে।   মাইনেইরোসের ওই ঘটনায় দুই শিশুই একই মায়ের সন্তান হলেও তাদের জৈবিক বাবা আলাদা। আর দুই শিশুকে দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় বিষয়টি আরও বিস্ময় তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত ডিএনএ পরীক্ষাই নিশ্চিত করে দেয়, একই গর্ভধারণে জন্ম নেওয়া দুই যমজের পিতৃত্বের গল্প এক নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ২০:৩৫
যুদ্ধ আরও বাড়লে রাষ্ট্র হিসেবে বিলুপ্ত হতে পারে ইসরায়েল - রুশ জেনারেলের

যুদ্ধ আরও বাড়লে রাষ্ট্র হিসেবে বিলুপ্ত হতে পারে ইসরায়েল - রুশ জেনারেলের

ইসরায়েলি দখলদার থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির ছাদে মার্কিন পতাকা

ইসরায়েলি দখলদার থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির ছাদে মার্কিন পতাকা

ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের!

ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের!

0 Comments