আমেরিকা

টেক্সাসের সরকারি স্কুলে অভিবাসী শিক্ষক নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে চান গভর্নর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৩:৫৯
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে অভিবাসী শিক্ষক নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে চান গভর্নর
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে অভিবাসী শিক্ষক নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে চান গভর্নর

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলগুলোতে এইচ-১বি ভিসায় বিদেশি শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। আগামী বছর অঙ্গরাজ্য আইনসভায় এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব তোলার কথা জানিয়েছেন তিনি।

 

টেক্সাসে সরকারি স্কুলগুলোতে বর্তমানে ৩৪০ জনের বেশি এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মী রয়েছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী রয়েছেন ডালাস ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টে বা ডালাস আইএসডিতে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৭১ জন এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মী কাজ করছেন।

 

এইচ-১বি ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন এমন পেশায় বিদেশি কর্মীদের সাময়িকভাবে নিয়োগের সুযোগ দেয়। শিক্ষা খাতেও স্থানীয়ভাবে যোগ্য কর্মী পাওয়া কঠিন হলে স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো এই ভিসার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ করতে পারে।

 

ডালাস আইএসডি জানিয়েছে, তারা মূলত যেসব পদে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক পাওয়া কঠিন, সেসব পদ পূরণে এইচ-১বি ভিসা ব্যবহার করে। বিশেষ করে ইংরেজি-স্প্যানিশ দ্বিভাষিক শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

ডালাস আইএসডির তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষকদেরও টেক্সাসের নির্ধারিত শিক্ষক সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার মতো শর্ত পূরণ করতে হয়। অর্থাৎ এই ভিসায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের স্থানীয় শিক্ষকদের মতোই নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে হয়।

 

তবে গভর্নর অ্যাবটের প্রস্তাবের পেছনে শুধু শিক্ষক নিয়োগের বিষয় নয়, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় বিদেশি প্রভাব কমানোর বিষয়টিও রয়েছে। তিনি টেক্সাসের সরকারি স্কুলগুলোতে বিদেশি সরকার বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উপহার ও অর্থায়নের ওপরও আরও কঠোর বিধিনিষেধ চান।

 

অ্যাবটের উদ্যোগের সমর্থকদের যুক্তি, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি স্কুলে স্থানীয় কর্মীদের চাকরির সুযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, এইচ-১বি নিয়োগ বন্ধ হলে শিক্ষক সংকটে থাকা স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো আরও চাপে পড়তে পারে।

 

বিশেষ করে টেক্সাসে দ্বিভাষিক শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে যোগ্য শিক্ষক পাওয়া অনেক স্কুলের জন্য ইতিমধ্যেই বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ হলে এসব শূন্য পদ পূরণে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নতুন ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

এইচ-১বি নিয়োগ নিয়ে অ্যাবটের অবস্থানও নতুন নয়। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি টেক্সাসের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য সংস্থা ও সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুন এইচ-১বি আবেদন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার সরকারি স্কুলগুলোতেও একই ধরনের বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি।

 

তবে প্রস্তাবটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। আগামী বছর টেক্সাস আইনসভায় এটি উত্থাপনের পর আইনপ্রণেতাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে সরকারি স্কুলে বিদেশি শিক্ষক ও অন্যান্য এইচ-১বি কর্মীদের ভবিষ্যৎ।

 

ফলে টেক্সাসে একদিকে স্থানীয় কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানোর দাবি, অন্যদিকে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন—এই দুই অবস্থানের মধ্যেই নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে এইচ-১বি কর্মসূচি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মার্কিন মুদ্রা ছবি:সংগৃহীত
যেখানে সেবাই নেই, সেখানেও টিপের দাবি; যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ক্রেতাদের ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রে টিপ দেওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রেস্তোরাঁর মতো প্রচলিত সেবার জায়গা ছাড়িয়ে এখন স্বয়ংক্রিয় কিয়স্ক, কাউন্টার এবং এমনকি কিছু স্বয়ংক্রিয় লেনদেনেও টিপ চাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে অস্বস্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিপ মূলত সেবার স্বীকৃতি, তাই যেখানে কোনো কর্মী সরাসরি সেবা দিচ্ছেন না, সেখানে টিপ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।   সম্প্রতি একটি ভাইরাল ঘটনায় এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়। সল্টলেক সিটি বিমানবন্দরের শেক শ্যাকের একটি কিয়স্কে এক ক্রেতা অভিযোগ করেন, তিনি টিপ না দেওয়ার বিকল্প বেছে নেওয়ার পর তার খাবারের মোট দাম বেড়ে যায়। শেক শ্যাক অবশ্য পরে জানায়, দাম পরিবর্তনের ঘটনাটি ছিল একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং টিপ না দেওয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক ছিল না।   তবু ঘটনাটি মার্কিন ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। যদি ক্রেতা নিজেই কিয়স্কে অর্ডার করেন, পেমেন্ট করেন এবং খাবার সংগ্রহ করেন, তাহলে অতিরিক্ত টিপটি আসলে কিসের জন্য?   টিপিং ও ভোক্তা আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম মাইকেল লিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে টিপ দেওয়ার বিষয়ে মানুষের বিরক্তি বাড়ছে। তার গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ৩২ শতাংশ মানুষ টিপিং ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পক্ষে ছিলেন। ২০২২ সালে সেই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ শতাংশে।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টিপের পরিমাণ বাড়ার প্রবণতাও। একসময় রেস্তোরাঁয় ১৫ শতাংশ টিপকে সাধারণ হিসেবে ধরা হলেও এখন অনেক ডিজিটাল পেমেন্ট স্ক্রিনে ২০ শতাংশ থেকে শুরু করে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত টিপের বিকল্প দেখা যায়।টিপ চাওয়ার ক্ষেত্র বাড়ার পাশাপাশি চাওয়া টাকার পরিমাণও বাড়তে থাকায় মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে তথাকথিত টিপিং ক্লান্তি।   শিষ্টাচার বিশেষজ্ঞ জ্যাকুলিন হুইটমোরের মতে, যেখানে কোনো কর্মী সরাসরি সেবা দিচ্ছেন না, সেখানে টিপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় কিয়স্কে অর্ডার করার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের টিপ দিতে বাধ্য বোধ করার কোনো কারণ নেই। তবে খাবার প্যাক করে দেওয়া, বিশেষ অনুরোধ পূরণ করা বা ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত সেবা দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে টিপ দেওয়া যুক্তিসংগত হতে পারে।   বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিলে আগে থেকেই সার্ভিস চার্জ বা স্বয়ংক্রিয় গ্র্যাচুইটি যুক্ত থাকলে আলাদা করে টিপ দেওয়ার আগে সেটি যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে কর্মীকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা যায়, বিলে কোনো সার্ভিস চার্জ অন্তর্ভুক্ত আছে কি না।   টিপ দেওয়ার বিষয়ে ডিজিটাল স্ক্রিন কেন মানুষের ওপর বেশি মানসিক চাপ তৈরি করে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন গবেষকেরা। পুরোনো দিনের টিপ জারে টাকা না দিলেও সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যেত। কিন্তু ডিজিটাল স্ক্রিনে টিপ না দিতে হলে সক্রিয়ভাবে ‘নো টিপ’ নির্বাচন করতে হয়। ফলে অন্যরা দেখছে এমন পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতা অস্বস্তি বোধ করেন।   যুক্তরাষ্ট্রে টিপিং সংস্কৃতির সঙ্গে শ্রমবাজারের কাঠামোরও সম্পর্ক রয়েছে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশ যেখানে রেস্তোরাঁর মতো কিছু খাতে কর্মীদের মজুরি ব্যবস্থায় টিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় কম মূল্যে খাবার বা সেবা দেওয়ার পাশাপাশি টিপের ওপর কর্মীদের আয়ের একটি অংশ নির্ভর করে রাখে।   তবে অতিরিক্ত টিপ চাওয়ার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত ব্যবসার জন্যও সমস্যার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। টিপের পরিমাণ বাড়লে কর্মীদের আয় বাড়তে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে রেস্তোরাঁয় খাবারের প্রকৃত খরচও ভোক্তার কাছে বেশি মনে হতে পারে। পাশাপাশি টেবিলের সামনে কাজ করা কর্মী এবং রান্নাঘরের কর্মীদের আয়ের পার্থক্যও বাড়তে পারে।   এ কারণে টিপিং বিশেষজ্ঞদের একটি পরামর্শ হলো, প্রচলিত সেবার ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মতো একটি যুক্তিসংগত সীমা বজায় রাখা। আর স্বয়ংক্রিয় কিয়স্ক বা সম্পূর্ণ স্ব-সেবার ক্ষেত্রে টিপ না দিলেও ক্রেতার অপরাধবোধ করার প্রয়োজন নেই।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৫:১৯
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে অভিবাসী শিক্ষক নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে চান গভর্নর

টেক্সাসের সরকারি স্কুলে অভিবাসী শিক্ষক নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে চান গভর্নর

নিউইয়র্কে বাড়ছে সরকারি চাকরির সুযোগ, ২০২৬ সালে এসব পদে রয়েছে নতুন সুযোগ

নিউইয়র্কে বাড়ছে সরকারি চাকরির সুযোগ, ২০২৬ সালে এসব পদে রয়েছে নতুন সুযোগ

মায়ের জন্মের মাত্র এক বছর পরই ফ্রোজেন হয়েছিল ভ্রূণ, ২৪ বছর পর সেই ভ্রূণ থেকেই জন্ম নিলেন এমা

মায়ের জন্মের মাত্র এক বছর পরই ফ্রোজেন হয়েছিল ভ্রূণ, ২৪ বছর পর সেই ভ্রূণ থেকেই জন্ম নিলেন এমা

প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্কদের এসএসআই সুবিধা বন্ধের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের
পরিবারের সঙ্গে থাকাই কি বোঝা! প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্কদের এসএসআই সুবিধা বন্ধের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সমর্থনে এগিয়ে নেওয়া একটি প্রস্তাবিত নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবর্তনটি কার্যকর হলে সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই পাওয়া প্রায় ৪ লাখ নিম্নআয়ের প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাসিক সহায়তা কমে যেতে পারে, এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ডাউন সিনড্রোম, ডিমেনশিয়া ও অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী মানুষও রয়েছেন। বিষয়টি সামনে এসেছে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক প্রতিবেদনে।    প্রস্তাবিত পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে পরিবারের কেউ সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা স্ন্যাপ সুবিধা পান কি না, সেই বিষয়টি। এসএসআই মূলত বয়স্ক, অন্ধ ও প্রতিবন্ধী নিম্নআয়ের মানুষকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি ফেডারেল কর্মসূচি।   বর্তমান নিয়মে স্ন্যাপ পাওয়া পরিবারের সদস্যের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাসকারী এসএসআই গ্রহীতারা তুলনামূলকভাবে বেশি সুরক্ষা পাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নিয়মে স্ন্যাপকে ‘পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ড’ নির্ধারণের তালিকায় যুক্ত করা হয়। একই পরিবারের অন্তত একজন এসএসআই আবেদনকারী বা গ্রহীতা এবং অন্য একজন সদস্য নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তা পেলে পরিবারটি এই শ্রেণির আওতায় পড়তে পারে।    এর ফলে পরিবারের সদস্যরা খাবার বা থাকার খরচে সহায়তা করলেও সেই সহায়তাকে আগের মতো এসএসআই গ্রহীতার আয় হিসেবে গণনা করার প্রয়োজন হয় না। এসএসএ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল নিয়ম সহজ করা, নিম্নআয়ের পরিবারের ওপর প্রশাসনিক চাপ কমানো এবং কিছু ক্ষেত্রে এসএসআই সুবিধা বাড়ানো।    এখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সেই পরিবর্তনটি উল্টে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় এসএসএ স্ন্যাপকে পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ডের সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার এবং পুরোনো নিয়মে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব রেখেছে। পুরোনো ব্যবস্থায় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে নির্দিষ্ট সরকারি আয় সহায়তা পেতে হতো, তবেই পরিবারটি এই বিশেষ শ্রেণিতে পড়ত।    এই পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষ করে এমন পরিবারে পড়তে পারে, যেখানে প্রতিবন্ধী কোনো সন্তান বা বয়স্ক স্বজন এসএসআই পান, কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা স্ন্যাপ সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। প্রোপাবলিকার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ৪ লাখ মানুষের এসএসআই সুবিধা কমে যেতে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।   এসএসআইয়ের নিয়মে পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া খাবার বা থাকার সহায়তা সাধারণত ‘ইন কাইন্ড সাপোর্ট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং তা সুবিধার পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ২০২৪ সালের সংস্কারের পর খাবার আর এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এসএসএর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, অন্য কেউ ভাড়া, মর্টগেজ বা ইউটিলিটি বিলের মতো থাকার খরচে সহায়তা করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসএসআই পেমেন্ট কমতে পারে।    প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সমালোচকেরা বলছেন, একই পরিবারের সদস্যরা যখন নিজেদের জীবনযাপন চালাতেই সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তখন তাদের সহায়তাকে এসএসআই গ্রহীতার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী প্রতিবন্ধী তরুণ এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।   তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। এসএসএর নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় এটিকে প্রস্তাবিত নিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি কীভাবে চূড়ান্ত হবে এবং শেষ পর্যন্ত এসএসআই গ্রহীতাদের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।    এদিকে এসএসএর বর্তমান নিয়মে স্ন্যাপ সুবিধা এখনও পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ডের একটি স্বীকৃত কর্মসূচি হিসেবে রয়েছে। ফলে নতুন প্রস্তাব কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য এসএসআই গ্রহীতারা এই সুরক্ষা পেতে থাকবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ২:১৭
ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্র নাগরিকত্ব নীতিতে কোন কোন দেশের মানুষ বেশি চাপে

ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্র নাগরিকত্ব নীতিতে কোন কোন দেশের মানুষ বেশি চাপে? বাংলাদেশিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

মুসলিম রিপোর্টারকে সাধারণ বেসিনেই পা ধোয়ার নির্দেশ কর্মীদের

ডালাস বিমানবন্দরে ওজু নিয়ে বিতর্ক, মুসলিম রিপোর্টারকে সাধারণ বেসিনেই পা ধোয়ার নির্দেশ কর্মীদের

অবৈধ অভিবাসীদের কর সুবিধা দাবি ঠেকাতে আইআরএসের নতুন পদক্ষেপ

অবৈধ অভিবাসীদের কর সুবিধা দাবি ঠেকাতে আইআরএসের নতুন পদক্ষেপ

আমেরিকায় স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ওয়েবসাইটে চাকরি খুঁজছেন?
আমেরিকায় স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ওয়েবসাইটে চাকরি খুঁজছেন? আবেদন করার সহজ নিয়ম জানুন

যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলোতে শুধু শিক্ষক নয়, প্রশাসনিক সহকারী, স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ থাকে। বেশিরভাগ ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব চাকরির পেজ বা অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলেও স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, অভিভাবক সমন্বয়কসহ বিভিন্ন স্কুলভিত্তিক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।   চাকরি খুঁজতে প্রথমে যে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে কাজ করতে চান, সেটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। গুগলে শহর বা কাউন্টির নামের সঙ্গে ‘স্কুল ডিস্ট্রিক্ট চাকরি’ অথবা ডিস্ট্রিক্টের নামের সঙ্গে ‘চাকরি’ লিখে খুঁজলে সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির পেজ পাওয়া যায়। তবে আবেদন করার আগে ওয়েবসাইটটি যে সত্যিই সংশ্লিষ্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট, তা নিশ্চিত করা জরুরি।   ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘চাকরি’, ‘নিয়োগ’, ‘মানবসম্পদ’ বা ‘চাকরির সুযোগ’ ধরনের বিভাগ খুঁজতে হবে। এরপর ‘বর্তমান শূন্যপদ’, ‘চাকরি খুঁজুন’ বা ‘আবেদন করুন’ অপশনে গিয়ে খালি পদগুলো দেখা যায়।   চাকরি খোঁজার সময় শুধু শিক্ষক পদে সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই। শিক্ষকতার লাইসেন্স না থাকলেও অনেক ডিস্ট্রিক্টে বিভিন্ন সহায়ক পদে আবেদন করা যায়। যেমন স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, অফিস সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মীর পদ থাকতে পারে।   নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলের চাকরির তালিকায় শিক্ষক ও স্কুল প্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য স্কুলভিত্তিক চাকরির আলাদা বিভাগও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সেখানে স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী ও অভিভাবক সমন্বয়কের মতো পদও পাওয়া যায়।   চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোলার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যোগ্যতার শর্ত পড়া। সেখানে সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স বা সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত উল্লেখ থাকে। কিছু পদে বিশেষ পেশাগত লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও সব স্কুলের চাকরিতে শিক্ষকতার লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না।   যোগ্যতা মিলে গেলে ‘আবেদন করুন’ অপশনে ক্লিক করে অনলাইন আবেদন শুরু করতে হবে। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্ট নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থা ব্যবহার করে, আবার কেউ অন্য নিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন নেয়। আবেদন করার সময় সাধারণত একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয় এবং নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়।   জীবনবৃত্তান্ত বা রেজুমে আপলোড করাও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পদে আবেদনকারীর কাছ থেকে কভার লেটার, শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, পেশাগত লাইসেন্স বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। শুধু রেজুমে জমা দিলেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া উচিত নয়। অনেক ডিস্ট্রিক্টে অনলাইন ফর্মের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শেষে আবেদন জমা দিতে হয়।   আবেদন করার আগে কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য রেজুমের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, অফিস পরিচালনা, কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা, দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা বা সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত।   আবেদনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের প্রকৃত কর্মসংস্থান ও অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক তথ্য দিতে হবে। কোনো তথ্য অনুমান করে বা ভুলভাবে দেওয়া উচিত নয়।   স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরির ক্ষেত্রে অপরাধমূলক রেকর্ড যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা পদে নিয়োগের আগে অতিরিক্ত যাচাই বা আঙুলের ছাপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। নির্দিষ্ট পদে কী ধরনের যাচাই লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ নির্দেশনায় উল্লেখ থাকে।   কিছু ডিস্ট্রিক্টে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর একই প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিক চাকরিতে আবেদন করা যায়। ফলে প্রথমবার আবেদন করার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও রেজুমে ভালোভাবে প্রস্তুত করে রাখলে পরবর্তী পদগুলোতে আবেদন করা তুলনামূলক সহজ হয়।   আবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি সেখানেই শেষ নয়। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের অনলাইন পোর্টালে আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখা যায়। কোথাও আবার ই-মেইলের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের খবর দেওয়া হয়। তাই আবেদন করার পর নিয়মিত ই-মেইল এবং অপ্রয়োজনীয় মেইলের ফোল্ডারও দেখা জরুরি।   ডালাসের মতো বড় স্কুল ডিস্ট্রিক্টে অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি চাকরির মেলা ও নিয়োগ অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়। সেখানে চাকরিপ্রার্থীরা রেজুমে ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার প্রমাণ নিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতে পারেন।   যারা শিক্ষক নন বা যাদের শিক্ষকতার লাইসেন্স নেই, তাদের জন্য স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সহায়ক কর্মী, অশিক্ষক পদ, স্কুলভিত্তিক পদ, প্রশাসনিক পদ, শ্রেণিকক্ষ সহকারী বা অন্যান্য কর্মী বিভাগের চাকরিগুলো বিশেষভাবে দেখা যেতে পারে। এসব বিভাগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদ থাকতে পারে।   তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। সব স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিয়োগের নিয়ম এক নয়। শিক্ষক, কাউন্সেলর, নার্স বা বিশেষায়িত পেশার ক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স বা সনদ প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট পদের যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরি খোঁজার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিজের এলাকার পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট খুঁজে বের করা, চাকরির বিভাগে গিয়ে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল আছে এমন পদ বেছে নেওয়া, যোগ্যতার শর্ত পড়া, রেজুমে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং অনলাইনে আবেদন সম্পূর্ণভাবে জমা দেওয়া।   শুধু শিক্ষক পদ খুঁজলে অনেক চাকরির সুযোগ চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। তাই নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, অফিস কর্মী, বিকল্প শিক্ষক, পরিবারবিষয়ক কর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক পদও খুঁজে দেখা যেতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ০:২৯
যুক্তরাষ্ট্রের ডলার স্টোরে কম দামে খাবার পাওয়া গেলেও খাবারের মান নিয়ে নতুন গবেষণায় উদ্বেগ উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ডলার স্টোরের সাশ্রয়ী মূল্যের খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকি? গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য

বাড়ির চাহিদা থাকলেও ক্রেতাদের সামর্থ্য ও নির্মাণ ব্যয়ের চাপ নতুন বাড়ি তৈরির গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির চাহিদা থাকলেও কমছে নির্মাণ, আবাসন সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এআই-নির্ভর সাইবার হামলার আশঙ্কা, সতর্ক করল কর্তৃপক্ষ

0 Comments