- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মালেই নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের নীতিকে আরও সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৬ আগস্ট তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ন্ত্রণে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা বিদেশিদের ভিসা, প্রবেশাধিকার এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোরতার মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক সারোগেসির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার কিছু ব্যবস্থাকেও নতুন নাগরিকত্ব নীতির আওতায় আনা হয়েছে। নতুন নির্বাহী আদেশের একটি নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির শিশুদের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের সরকারি স্বীকৃতি সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এতে এমন শিশুদের কথা বলা হয়েছে, যাদের কোনো অভিভাবকই মার্কিন নাগরিক নন এবং যাদের বাবা-মায়ের মধ্যে কেউ বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য, বিদেশি সরকারের নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মী, অথবা সন্তানের জন্মের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনে যুক্ত ছিলেন। বাণিজ্যিক সারোগেসির ব্যবস্থাও এই তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য নির্বাহী আদেশটি মূলত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকানোর দিকে নজর দিয়েছে। অর্থাৎ কেউ যদি অস্থায়ী ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে সন্তান জন্ম দেওয়াকে বেছে নেন, তাহলে তাঁর ভিসা বাতিল, প্রবেশে বাধা বা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছে। এই নীতির আওতায় বার্থ ট্যুরিজমে সহায়তাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে সেই দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের ঘটনা তুলনামূলক বেশি নথিভুক্ত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের একটি শুনানিতে চীন ও রাশিয়ার নাগরিকদের বার্থ ট্যুরিজমে বড় অংশগ্রহণের কথা উঠে এসেছে। একই শুনানিতে একজন সাক্ষী চীনকে সবচেয়ে বড় এবং ভারতকে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে বার্থ ট্যুরিজম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান নেই। ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের ঘটনা থাকলেও সংগঠিত বার্থ ট্যুরিজম ব্যবসার বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে চীন ও রাশিয়ার ধনী গ্রাহকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের নাগরিকদেরও এ ধরনের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্য বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে। তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সব শিশুর নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ৬ আগস্টের আদেশটি নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প যে বিস্তৃত নির্বাহী আদেশে অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাবা-মায়ের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করেছিলেন, সেটি আরও বড় পরিসরের ছিল। ওই আগের উদ্যোগের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। শেষ পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ মামলার রায়ে ২০২৫ সালের নির্বাহী আদেশের নাগরিকত্ব সীমিত করার বিধানকে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা হয়। আদালতের রায়ে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি পুনরায় সামনে আসে। এর কয়েক সপ্তাহ পর নতুন নির্বাহী আদেশ দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এবার তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট কয়েকটি পরিস্থিতিকে লক্ষ্য করেছে। এর মধ্যে বার্থ ট্যুরিজম ও বাণিজ্যিক সারোগেসি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশি পরিবারের জন্য ভিসা যাচাই আরও কঠোর হতে পারে। বিশেষ করে ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্য গোপন করলে তা ভিসা জটিলতা তৈরি করতে পারে। এর আগে থেকেই মার্কিন ভিসা নীতিতে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ভ্রমণকে অনুমোদিত পর্যটন উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। মার্কিন প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপের ফলে বার্থ ট্যুরিজমকে ঘিরে গড়ে ওঠা হাসপাতাল বুকিং, বাসস্থান, ভিসা পরামর্শ এবং অন্যান্য সেবা দেওয়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নজরদারি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সারোগেসির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া বিদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের সরকারি নথি পাওয়ার বিষয়েও নতুন আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নির্বাহী আদেশগুলোর বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষা, ফেডারেল আইন এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপও আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি নজরে রাখার মতো। বিশেষ করে যারা ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, সন্তান জন্মদান বা সারোগেসির পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য, ভিসার শর্ত এবং বর্তমান মার্কিন অভিবাসন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন নির্বাহী আদেশের আওতায় কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা বাস্তবে নির্ধারিত হবে প্রশাসনিক নির্দেশনা ও পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজু করার সুবিধা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডালাস এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনের দাবি, তাদের একজন রিপোর্টার গোপন অনুসন্ধানের সময় বিমানবন্দরের দুই কর্মীর কাছে মুসলিমদের নামাজের আগে ওজু করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা সম্পর্কে জানতে চাইলে, দুই কর্মীই আলাদাভাবে সাধারণ শৌচাগারের বেসিনে পা ধোয়ার পরামর্শ দেন। ওজু হলো নামাজের আগে মুসলিমদের পবিত্রতা অর্জনের একটি ধর্মীয় প্রক্রিয়া। এতে মুখ, হাত, মাথা ও পা ধোয়ার মতো নির্দিষ্ট কিছু ধাপ রয়েছে। বিমানবন্দরের মতো দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করতে হয় এমন জায়গায় মুসলিম যাত্রীদের জন্য ওজুর উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকা ধর্মীয় অনুশীলন সহজ করতে পারে। ডালাস এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের একজন রিপোর্টার গোপনে বিমানবন্দরের কর্মীদের কাছে ওজু করার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় দুই কর্মী পৃথকভাবে তাঁকে সাধারণ শৌচাগারের বেসিন ব্যবহারের কথা জানান। প্রতিবেদনে ওই কর্মীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরে ওজুর সুবিধা একেবারে নতুন কোনো বিষয় নয়। বিমানবন্দরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনাল ডির আন্তধর্মীয় প্রার্থনাকক্ষের পাশে আগে থেকেই দুটি ওজুর ব্যবস্থা রয়েছে। ২০১৯ সালে প্রার্থনাকক্ষটি নতুন জায়গায় স্থানান্তরের সময় এই সুবিধা যুক্ত করা হয়। বিমানবন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালে আন্তধর্মীয় প্রার্থনার স্থানও রয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয় টার্মিনাল ডিতে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা ওজুর ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে। প্রকল্পের নথিতে প্রায় ৩ লাখ ডলারের সংস্কারকাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরুষ ও নারীদের দুটি বিদ্যমান শৌচাগারে আলাদা ওজুর ব্যবস্থা যুক্ত করার কথা ছিল। এই পরিকল্পনা নিয়ে টেক্সাসে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট বিমানবন্দরগুলোতে মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচ্ছন্নতার জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিমানবন্দরগুলোর অর্থায়ন ও এ ধরনের সুবিধা নিয়ে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ওজুর ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরের আগের নথিতে দেখা যায়, মুসলিম যাত্রীদের ধর্মীয় প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ২০১৯ সালেই আন্তধর্মীয় প্রার্থনাকক্ষের পাশে ওজুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই প্রার্থনাকক্ষ ও ধর্মীয় সুবিধাগুলো বিভিন্ন ধর্মের যাত্রী, কর্মী ও দর্শনার্থীদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে। ডালাস এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে কর্মীদের সাধারণ বেসিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিমানবন্দরে ধর্মীয় অনুশীলনের জন্য যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সুবিধা সম্পর্কে কর্মীদের মধ্যে যথেষ্ট স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে কি না। বিমানবন্দরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডিএফডব্লিউতে পাঁচটি টার্মিনালজুড়ে বিভিন্ন ধরনের যাত্রীসেবা ও সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে আন্তধর্মীয় প্রার্থনাকক্ষও অন্তর্ভুক্ত। তবে ওজু করার জন্য সাধারণ শৌচাগারের বেসিন ব্যবহারের বিষয়ে বিমানবন্দরের বর্তমান নীতিমালা সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে আলাদা কোনো সরকারি নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে দুই কর্মী রিপোর্টারকে কী কারণে সাধারণ বেসিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন, সেটি তাঁদের ব্যক্তিগত নির্দেশনা ছিল নাকি বিমানবন্দরের প্রচলিত নিয়মের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই চূড়ান্ত অবস্থান বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কানাডায় প্রায় তিন দশক ধরে বসবাস করেও এখন বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছেন ৫৮ বছর বয়সী রোমান স্লেপসিক। যে দেশ থেকে নির্যাতনের ভয়ে পালিয়ে এসে কানাডায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় পেয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে সেই চেক প্রজাতন্ত্রে একাধিকবার যাতায়াত এবং দেশটির পাসপোর্ট ব্যবহার করায় তাঁর শরণার্থী সুরক্ষা বাতিল হয়েছে। এর সঙ্গে হারিয়েছেন কানাডার স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদাও। বিষয়টি কানাডায় শরণার্থী হিসেবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বরে চেক প্রজাতন্ত্রে রোমা জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা থেকে বাঁচতে কানাডায় আসেন স্লেপসিক। ১৯৯৮ সালের আগস্টে তাঁকে কনভেনশন শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরের বছর, ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে তিনি কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা হন। এরপর প্রায় ২৪ বছর একই নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন তিনি। কানাডাতেই দুই মেয়েকে বড় করেছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিয়েছেন এবং নাতি-নাতনির মুখ দেখেছেন। দীর্ঘ সময় কানাডায় বসবাসের পর টরন্টিকেই নিজের ঘর হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন স্লেপসিক। কিন্তু আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে আটবার চেক প্রজাতন্ত্রে যান। প্রতিবারই ব্যবহার করেন চেক পাসপোর্ট। শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর ওই পাসপোর্ট দুবার নবায়নও করেছিলেন তিনি। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চেক প্রজাতন্ত্র থেকে কানাডায় ফেরার সময় তাঁর ভ্রমণের ইতিহাস সীমান্ত কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর কানাডা সরকার তাঁর শরণার্থী সুরক্ষা বাতিলের জন্য ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডে আবেদন করে। ২০২৩ সালে বোর্ড সিদ্ধান্ত দেয়, নিজ দেশে বারবার যাওয়া এবং চেক পাসপোর্ট ব্যবহার করার মাধ্যমে স্লেপসিক স্বেচ্ছায় আবার চেক প্রজাতন্ত্রের সুরক্ষা গ্রহণ করেছেন। কানাডার অভিবাসন আইনে এই বিষয়টি ‘রিঅ্যাভেইলমেন্ট’ নামে পরিচিত। এই সিদ্ধান্তের পর তাঁর শরণার্থী সুরক্ষা বাতিল হয় এবং এর আইনি ফল হিসেবে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদাও হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইনের ১০৮ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো শরণার্থী স্বেচ্ছায় নিজের দেশের সুরক্ষা আবার গ্রহণ করলে, আগের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে নিলে, নতুন কোনো দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে সেই দেশের সুরক্ষা গ্রহণ করলে অথবা যে দেশ থেকে পালিয়ে এসেছিলেন সেখানে আবার স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলে তাঁর শরণার্থী সুরক্ষা বাতিল হতে পারে। তবে শুধু নিজ দেশে যাওয়া মানেই যে প্রত্যেকের শরণার্থী সুরক্ষা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভ্রমণের কারণ, পরিস্থিতি, যাতায়াতের ধরন এবং নিজ দেশের সুরক্ষা নেওয়ার অভিপ্রায়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের আইনি নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, নিজ দেশে ফিরে যাওয়া বা নিজ দেশের পাসপোর্ট নবায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে, তবে ব্যক্তির ব্যাখ্যা ও সামগ্রিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হয়। স্লেপসিকের ক্ষেত্রে আদালতের নথিতে তাঁর একাধিকবার চেক প্রজাতন্ত্রে যাওয়া এবং চেক পাসপোর্ট ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি পারিবারিক প্রয়োজন, অসুস্থ স্বজনের দেখাশোনা এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মতো কারণ দেখালেও এসব কারণ তাঁর মামলার আইনি পরিণতি ঠেকাতে পারেনি। ২০১২ সালে কানাডার আইনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। এরপর নির্দিষ্ট কারণে কোনো স্থায়ী বাসিন্দার শরণার্থী সুরক্ষা চূড়ান্তভাবে বাতিল হলে তিনি অভিবাসন আইনের আওতায় অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়তে পারেন। আইনের ৪০.১ ধারায় বলা হয়েছে, ১০৮ ধারার নির্দিষ্ট কারণের ভিত্তিতে কোনো স্থায়ী বাসিন্দার শরণার্থী সুরক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তাঁকে কানাডায় অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। স্লেপসিক এই আইনি ব্যবস্থাকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ফেডারেল কোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। তবে মামলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন উচ্চ আদালতে আপিলের জন্য অনুমোদন করা হয়েছে। কানাডিয়ান সিভিল লিবার্টিজ অ্যাসোসিয়েশনও মামলাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, শরণার্থী সুরক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা হারানোর বিষয়টি সরাসরি যুক্ত হয়ে যায়। এদিকে শরণার্থী সুরক্ষা বাতিলের ঘটনা কানাডায় একেবারে বিচ্ছিন্ন নয়। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সরকার শরণার্থী সুরক্ষা বাতিলের জন্য ১৭০টি নতুন আবেদন করে। ওই বছর ১৯১টি মামলার নিষ্পত্তি হয়। এর মধ্যে ১২৯টি আবেদনে সরকারের আবেদন মঞ্জুর এবং ৩৫টি আবেদন খারিজ হয়। ২০২৫ সালের শেষে আরও ৩১৪টি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত নতুন করে ২৭টি আবেদন জমা পড়ে এবং মার্চ শেষে অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১৫। বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কানাডায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনেক মানুষ শরণার্থী হিসেবে সুরক্ষা চেয়ে পরে সুরক্ষিত ব্যক্তি এবং স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ দীর্ঘদিন পর অসুস্থ বাবা-মাকে দেখতে, স্বজনের মৃত্যুতে অংশ নিতে, পারিবারিক সমস্যা সমাধান করতে কিংবা সম্পত্তিসংক্রান্ত কাজে বাংলাদেশে যাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করতে পারেন। কিন্তু শরণার্থী হিসেবে যে দেশের বিরুদ্ধে সুরক্ষা চাওয়া হয়েছিল, সেখানে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর সম্ভাব্য আইনি প্রভাব বুঝে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে নিজ দেশের পাসপোর্ট নেওয়া বা নবায়ন করা, সেই পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশে যাওয়া এবং সেখানে সরকারি সুরক্ষা নেওয়ার মতো বিষয় পরবর্তীতে কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, নিজ দেশের পাসপোর্ট নেওয়া বা নবায়ন করা থেকে কখনো কখনো নিজ দেশের সুরক্ষা আবার গ্রহণের বিষয়টি অনুমান করা হতে পারে। তবে শুধু পাসপোর্ট নবায়নের ঘটনাই সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; কেন পাসপোর্ট নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি কী ছিল, সেটিও বিবেচনায় আসে। তাই কানাডায় শরণার্থী হিসেবে সুরক্ষা পাওয়ার পর স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া ব্যক্তিদের জন্য নিজ দেশে ভ্রমণ একটি সাধারণ বিদেশ সফরের মতো বিষয় নাও হতে পারে। বিশেষ করে যে দেশের বিরুদ্ধে শরণার্থী সুরক্ষা চাওয়া হয়েছিল, সেখানে যাওয়ার আগে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি সফর, পাসপোর্ট নবায়ন কিংবা নিজ দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ভবিষ্যতে শরণার্থী সুরক্ষা ও কানাডায় স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে চার ধরনের ফেরতযোগ্য আয়কর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির ট্রেজারি বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব দপ্তর বা আইআরএস। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ফেডারেল আইনে যেসব ব্যক্তি এসব সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্য নন, তারা করদাতাদের অর্থে দেওয়া এসব সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাবেন না। ১৯ আগস্ট ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস যৌথভাবে প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও কর্মসংস্থান সুযোগ পুনর্মিলন আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফেরতযোগ্য আয়কর সুবিধার ফেরত দেওয়া অংশকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে স্পষ্টভাবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নিয়মের আওতায় পড়বে চার ধরনের কর সুবিধা। এগুলো হলো দত্তক গ্রহণ কর সুবিধা, শিশু কর সুবিধা, আমেরিকান সুযোগ কর সুবিধা এবং অর্জিত আয় কর সুবিধা। নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলে এসব সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পেতে করদাতাকে ফেডারেল আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার তারিখে মার্কিন নাগরিক, মার্কিন জাতীয় অথবা আইনে নির্ধারিত যোগ্য বিদেশি হতে হবে। যোগ্য বিদেশিদের মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, শরণার্থী এবং আইনে নির্ধারিত আরও কিছু শ্রেণির মানুষ অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। করদাতাকে নিজের ট্যাক্স রিটার্নে শপথভঙ্গের শাস্তির বিধান মাথায় রেখে ঘোষণা করতে হবে যে তিনি সংশ্লিষ্ট কর সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার জন্য আইনগতভাবে যোগ্য। যৌথভাবে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া দম্পতিদের ক্ষেত্রে নিয়মটি কিছুটা আলাদা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক, মার্কিন জাতীয় অথবা যোগ্য বিদেশি হলেই সংশ্লিষ্ট কর সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতা পূরণ হবে। তবে প্রস্তাবিত নিয়মের অর্থ এই নয় যে যোগ্য নন এমন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কর সুবিধার কোনো অংশই দাবি করতে পারবেন না। যে অংশটি সরাসরি আয়করের দায় কমাতে ব্যবহৃত হয়, অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে সেটি দাবি করা যেতে পারে। মূলত করের দায়ের চেয়ে বেশি হয়ে যে অর্থ করদাতাকে ফেরত দেওয়া হয়, নতুন নিয়মে সেই অংশটিকেই সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বিধিমালার উদ্দেশ্য হলো ফেডারেল আইনে যাদের এসব সরকারি সুবিধা পাওয়ার অনুমতি নেই, তাদের কাছে করদাতাদের অর্থে দেওয়া সুবিধা পৌঁছানো ঠেকানো। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আইন অনুযায়ী যারা এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের হাতে করদাতাদের অর্থ যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করাই সরকারের লক্ষ্য। আইআরএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো বলেন, ফেরতযোগ্য কর সুবিধা বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মার্কিন পরিবার এবং কর্মজীবীদের আর্থিক সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে এসব সুবিধা কেবল আইনগতভাবে যোগ্য করদাতাদের জন্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি করব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত নিয়ম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত এবং প্রকাশ্য শুনানির অনুরোধ গ্রহণ করবে। নিয়ম চূড়ান্ত হলে চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশের তারিখে বা তার পরে শেষ হওয়া কর বছরের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে করা একটি ছোট্ট প্রতিশ্রুতি প্রায় পাঁচ দশক পরও ভুলে যাননি সাবেক মার্কিন মেরিন মাস্টার সার্জেন্ট উইলিয়াম এইচ. ‘বিল’ কক্স। ১৯৬৮ সালে যুদ্ধের সময় এক বাঙ্কারে প্রাণ বাঁচানোর লড়াইয়ে পরিচয় হওয়া সহযোদ্ধা ফার্স্ট সার্জেন্ট জেমস ‘হলি’ হলিংসওয়ার্থের সঙ্গে তিনি কথা দিয়েছিলেন, বেঁচে ফিরলে প্রতি বছর নববর্ষের রাতে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। সেই প্রতিশ্রুতি তারা প্রায় ৫০ বছর ধরে পালন করেন। ১৯৬৮ সালের নিউ ইয়ার্স ইভে ভিয়েতনামের মার্বেল মাউন্টেনে গোলাবর্ষণের মধ্যে একটি বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছিলেন কক্স ও হলিংসওয়ার্থ। তখন তারা জানতেন না রাতটি শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য কী নিয়ে আসবে। সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দুজন সিদ্ধান্ত নেন, যদি তারা যুদ্ধ থেকে জীবিত ফিরে আসতে পারেন, তাহলে জীবনের বাকি সময় প্রতি ৩১ ডিসেম্বর একে অপরের সঙ্গে কথা বলবেন। যুদ্ধের পর দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। জীবনের নানা পরিবর্তন, দূরত্ব ও আলাদা পথ তাদের সম্পর্ককে থামাতে পারেনি। প্রতি বছর নববর্ষের রাতে তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ভিয়েতনামে একই মেরিন হেলিকপ্টার স্কোয়াড্রন ভিএমও-২-এ কাজ করার সময় তারা ২০০টিরও বেশি মিশনে একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে হলিংসওয়ার্থ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কক্স দক্ষিণ ক্যারোলাইনার পিডমন্ট থেকে জর্জিয়ার হেফজিবাহতে তার বন্ধুর সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করতে যান। সেই সাক্ষাতে হলিংসওয়ার্থ বন্ধুর কাছে জীবনের শেষ একটি অনুরোধ রাখেন। তিনি চান, মৃত্যুর পর কক্স যেন তার শেষকৃত্যে প্রশংসাবক্তব্য দেন এবং তার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। কক্স সেই প্রতিশ্রুতিও রাখেন। ৮৩ বছর বয়সে, ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর হলিংসওয়ার্থের শেষকৃত্যে তিনি মেরিনদের আনুষ্ঠানিক পোশাক পরে বন্ধুর কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে পাহারা দেন। নিয়মিত হাঁটার জন্য তাকে লাঠি ব্যবহার করতে হলেও সেদিন সেই লাঠি পাশে রেখে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। পাশাপাশি বন্ধুর স্মরণে শেষকৃত্যে প্রশংসাবক্তব্যও দেন। দুজনের দীর্ঘ বন্ধুত্বের আরেকটি বিশেষ দিক ছিল তাদের বিদায়ের একটি নির্দিষ্ট বাক্য। ফোনে কথা শেষ করার সময় তারা একে অপরকে বলতেন, “হলি, তুমি উড়তে থাকো, আমি গুলি চালাতে থাকব।” হলিংসওয়ার্থের শেষকৃত্যে বক্তব্য শেষ করার সময়ও কক্স সেই পরিচিত বাক্যটি স্মরণ করেন। হলিংসওয়ার্থের ছেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কক্স ও তার বাবার একটি ছবি প্রকাশ করার পর ঘটনাটি ব্যাপক মানুষের নজরে আসে। ছবিতে ৮৩ বছরের কক্সকে বন্ধুর কফিনের পাশে মেরিন পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যুদ্ধের ময়দানে তৈরি সেই সম্পর্ক তাই শুধু স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রায় ৫০ বছর ধরে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং বন্ধুর জীবনের শেষ মুহূর্তে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে কক্স দেখিয়েছেন, কিছু বন্ধুত্ব সময় ও দূরত্ব পেরিয়েও অটুট থাকতে পারে। তাদের গল্পে যুদ্ধের স্মৃতির পাশাপাশি উঠে এসেছে দায়িত্ব, বিশ্বস্ততা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এক বিরল দৃষ্টান্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলোতে শুধু শিক্ষক নয়, প্রশাসনিক সহকারী, স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ থাকে। বেশিরভাগ ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব চাকরির পেজ বা অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলেও স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, অভিভাবক সমন্বয়কসহ বিভিন্ন স্কুলভিত্তিক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরি খুঁজতে প্রথমে যে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে কাজ করতে চান, সেটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। গুগলে শহর বা কাউন্টির নামের সঙ্গে ‘স্কুল ডিস্ট্রিক্ট চাকরি’ অথবা ডিস্ট্রিক্টের নামের সঙ্গে ‘চাকরি’ লিখে খুঁজলে সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির পেজ পাওয়া যায়। তবে আবেদন করার আগে ওয়েবসাইটটি যে সত্যিই সংশ্লিষ্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘চাকরি’, ‘নিয়োগ’, ‘মানবসম্পদ’ বা ‘চাকরির সুযোগ’ ধরনের বিভাগ খুঁজতে হবে। এরপর ‘বর্তমান শূন্যপদ’, ‘চাকরি খুঁজুন’ বা ‘আবেদন করুন’ অপশনে গিয়ে খালি পদগুলো দেখা যায়। চাকরি খোঁজার সময় শুধু শিক্ষক পদে সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই। শিক্ষকতার লাইসেন্স না থাকলেও অনেক ডিস্ট্রিক্টে বিভিন্ন সহায়ক পদে আবেদন করা যায়। যেমন স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, অফিস সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মীর পদ থাকতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলের চাকরির তালিকায় শিক্ষক ও স্কুল প্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য স্কুলভিত্তিক চাকরির আলাদা বিভাগও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সেখানে স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী ও অভিভাবক সমন্বয়কের মতো পদও পাওয়া যায়। চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোলার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যোগ্যতার শর্ত পড়া। সেখানে সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স বা সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত উল্লেখ থাকে। কিছু পদে বিশেষ পেশাগত লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও সব স্কুলের চাকরিতে শিক্ষকতার লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না। যোগ্যতা মিলে গেলে ‘আবেদন করুন’ অপশনে ক্লিক করে অনলাইন আবেদন শুরু করতে হবে। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্ট নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থা ব্যবহার করে, আবার কেউ অন্য নিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন নেয়। আবেদন করার সময় সাধারণত একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয় এবং নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। জীবনবৃত্তান্ত বা রেজুমে আপলোড করাও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পদে আবেদনকারীর কাছ থেকে কভার লেটার, শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, পেশাগত লাইসেন্স বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। শুধু রেজুমে জমা দিলেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া উচিত নয়। অনেক ডিস্ট্রিক্টে অনলাইন ফর্মের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শেষে আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন করার আগে কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য রেজুমের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, অফিস পরিচালনা, কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা, দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা বা সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। আবেদনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের প্রকৃত কর্মসংস্থান ও অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক তথ্য দিতে হবে। কোনো তথ্য অনুমান করে বা ভুলভাবে দেওয়া উচিত নয়। স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরির ক্ষেত্রে অপরাধমূলক রেকর্ড যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা পদে নিয়োগের আগে অতিরিক্ত যাচাই বা আঙুলের ছাপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। নির্দিষ্ট পদে কী ধরনের যাচাই লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ নির্দেশনায় উল্লেখ থাকে। কিছু ডিস্ট্রিক্টে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর একই প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিক চাকরিতে আবেদন করা যায়। ফলে প্রথমবার আবেদন করার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও রেজুমে ভালোভাবে প্রস্তুত করে রাখলে পরবর্তী পদগুলোতে আবেদন করা তুলনামূলক সহজ হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি সেখানেই শেষ নয়। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের অনলাইন পোর্টালে আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখা যায়। কোথাও আবার ই-মেইলের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের খবর দেওয়া হয়। তাই আবেদন করার পর নিয়মিত ই-মেইল এবং অপ্রয়োজনীয় মেইলের ফোল্ডারও দেখা জরুরি। ডালাসের মতো বড় স্কুল ডিস্ট্রিক্টে অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি চাকরির মেলা ও নিয়োগ অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়। সেখানে চাকরিপ্রার্থীরা রেজুমে ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার প্রমাণ নিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতে পারেন। যারা শিক্ষক নন বা যাদের শিক্ষকতার লাইসেন্স নেই, তাদের জন্য স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সহায়ক কর্মী, অশিক্ষক পদ, স্কুলভিত্তিক পদ, প্রশাসনিক পদ, শ্রেণিকক্ষ সহকারী বা অন্যান্য কর্মী বিভাগের চাকরিগুলো বিশেষভাবে দেখা যেতে পারে। এসব বিভাগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদ থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। সব স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিয়োগের নিয়ম এক নয়। শিক্ষক, কাউন্সেলর, নার্স বা বিশেষায়িত পেশার ক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স বা সনদ প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট পদের যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরি খোঁজার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিজের এলাকার পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট খুঁজে বের করা, চাকরির বিভাগে গিয়ে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল আছে এমন পদ বেছে নেওয়া, যোগ্যতার শর্ত পড়া, রেজুমে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং অনলাইনে আবেদন সম্পূর্ণভাবে জমা দেওয়া। শুধু শিক্ষক পদ খুঁজলে অনেক চাকরির সুযোগ চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। তাই নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, অফিস কর্মী, বিকল্প শিক্ষক, পরিবারবিষয়ক কর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক পদও খুঁজে দেখা যেতে পারে।
এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে চান, কিন্তু এখনো আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর নেই? সে ক্ষেত্রে সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি ভাষা কোর্স এবং শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মতো বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে। তবে এর অর্থ ইংরেজি দক্ষতা ছাড়াই সরাসরি ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া নয়। বরং নির্দিষ্ট ইংরেজি কোর্স, নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মাধ্যমে পরে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পাঁচটি সম্ভাব্য বিশ্ববিদ্যালয় হলো জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি, ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস, পেনসিলভানিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটি এবং আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম, যোগ্যতা ও প্রোগ্রামের শর্ত আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা জরুরি। কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়া জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। তবে শিক্ষার্থীরা এই নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে সেই শর্ত পূরণের পথ নিতে পারেন। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই কার্যক্রমে এফ-১ শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনার সুযোগ এবং আই-২০ পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। একই সময়ে স্নাতক পর্যায়ের ডিগ্রি প্রোগ্রামে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে থাকা অবস্থায় শর্তসাপেক্ষ ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। নির্ধারিত উচ্চতর ইংরেজি স্তর সফলভাবে শেষ করার পর শর্তসাপেক্ষ ভর্তি পূর্ণাঙ্গ ভর্তিতে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়। অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলে সরাসরি ডিগ্রি ক্লাস শুরু করার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এগোনোর সুযোগ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, ফ্লোরিডা ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি সম্ভাব্য পথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করা শিক্ষার্থীরা এই কার্যক্রমে আবেদন করতে পারেন। এখানে শিক্ষার্থীর ইংরেজির বর্তমান দক্ষতা নির্ধারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত স্তরে রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের অষ্টম স্তর সফলভাবে শেষ করার পর স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইইএলটিএস, টোফেল বা ডুয়োলিঙ্গো স্কোরের প্রয়োজন থাকে না। ফলে এইচএসসি বা সমমানের স্কুল শিক্ষা শেষ করা কোনো শিক্ষার্থীর কাছে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর প্রস্তুত না থাকলেও ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার একটি পথ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস, টেক্সাস টেক্সাসের ডেন্টনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ইংরেজি প্রস্তুতির সুযোগ দেয়। এখানে নতুন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা দিতে হয়। এই পরীক্ষায় শ্রবণ, পড়া, ব্যাকরণ ও লিখিত ইংরেজি দক্ষতা যাচাই করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত স্তরে রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউটের ষষ্ঠ স্তর সফলভাবে শেষ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণ করার সুযোগ রয়েছে। শর্তসাপেক্ষে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ইংরেজি কোর্সের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কোর্সেও পড়তে পারেন। অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি মূল্যায়ন ও নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। টেম্পল ইউনিভার্সিটি, পেনসিলভানিয়া পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত টেম্পল ইউনিভার্সিটিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি শিক্ষা এবং শর্তসাপেক্ষ ভর্তির ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, একাডেমিকভাবে যোগ্য কোনো শিক্ষার্থী যদি টোফেল বা আইইএলটিএস স্কোর জমা না দেন, তাহলে তাকে অস্থায়ী বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মাধ্যমে নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনীয় ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের পর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথ তৈরি হয়। টেম্পলের আমেরিকান ভাষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের বিশেষ ইংরেজি প্রস্তুতি কার্যক্রমও এমন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পথ, যাদের ইংরেজির স্কোর সরাসরি ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য যথেষ্ট নয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন ইংরেজি ক্লাস, একাডেমিক সহায়তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে টেম্পল ইউনিভার্সিটির সরাসরি স্নাতক ভর্তির জন্য নির্দিষ্ট ইংরেজি দক্ষতার স্কোর রয়েছে। তাই “আইইএলটিএস ছাড়া ভর্তি” বলতে এখানে সরাসরি ডিগ্রি ক্লাসে ঢুকে যাওয়া নয়; বরং অস্থায়ী বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তি এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার সুযোগকে বোঝায়। ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা, আলাবামা আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য শর্তসাপেক্ষ ভর্তির ব্যবস্থা রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী একাডেমিক ভর্তির শর্ত পূরণ করেন কিন্তু ইংরেজি ভাষা দক্ষতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেন না, তারা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ব্যবস্থায় আবেদনের সময় ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। শর্তসাপেক্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। প্রয়োজনীয় ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের পর তারা ডিগ্রি প্রোগ্রামে যেতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউটের ছয়টি স্তর রয়েছে। শিক্ষার্থীর শুরুতে থাকা ইংরেজি দক্ষতা এবং শেখার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে প্রোগ্রাম শেষ করতে কত সময় লাগবে তা নির্ধারিত হয়। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ষষ্ঠ স্তর সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট ফলাফল অর্জন করাও ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণের একটি স্বীকৃত পথ। তবে শর্তসাপেক্ষ ভর্তি পেতে শুধু ইংরেজি ভাষার শর্ত পূরণ করলেই হবে না। একাডেমিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে। আইইএলটিএস বা টোফেল একেবারেই লাগবে না? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বুঝতে হবে। “আইইএলটিএস বা টোফেল ছাড়াই” কথাটির অর্থ ইংরেজি দক্ষতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শিক্ষার্থীর ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা, দক্ষতা পরীক্ষা বা ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম ব্যবহার করা হতে পারে। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্তসাপেক্ষ ভর্তি নিয়ে প্রথমে নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে হয়। অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও বিকল্প পথে ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার সুযোগ থাকতে পারে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর থাকলে সেটি অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ভর্তি বা ভাষার স্তর নির্ধারণের কাজে ব্যবহার করা যায়। তাই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয় বলে আইইএলটিএস বা টোফেল সব পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয়, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এফ-১ ভিসা ও আই-২০-এর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি হওয়া বা আই-২০ পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী ভিসা নিশ্চিত নয়। এফ-১ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-২০ পাওয়ার পর সেভিস প্রক্রিয়া, ভিসা আবেদন এবং সাক্ষাৎকারের ধাপ রয়েছে। কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য আই-২০ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখে। তবে আই-২০ পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ভিসা সাক্ষাৎকারে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উদ্দেশ্য, নির্বাচিত প্রোগ্রাম, শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে। তাই আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকলেও ইংরেজিতে নিজের পড়াশোনার পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার মতো প্রস্তুতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। খরচ ও একাডেমিক যোগ্যতাও দেখতে হবে আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকার কারণে শুধু ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি হলেই যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা নিশ্চিত হয়ে যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে একাডেমিক যোগ্যতা, একাডেমিক সনদ ও নম্বরপত্র, আর্থিক সক্ষমতা, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য কাগজপত্রের শর্ত থাকতে পারে। এ ছাড়া নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য আলাদা শিক্ষার ফি ও অন্যান্য খরচ থাকতে পারে। শর্তসাপেক্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার আগে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় ইংরেজি শেখার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম আলাদা। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার অষ্টম স্তর, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের ষষ্ঠ স্তর, ইউনিভার্সিটি অব আলাবামার ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউট এবং কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের শর্ত এক নয়। টেম্পল ইউনিভার্সিটিতেও অস্থায়ী ভর্তি ও ইংরেজি প্রস্তুতি কার্যক্রমের আলাদা নিয়ম রয়েছে। তাই এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম ও শর্তসাপেক্ষ ভর্তি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করে। তবে এগুলোকে আইইএলটিএস বা টোফেলের “বিকল্প পরীক্ষা” হিসেবে নয়, বরং ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের বিকল্প ভর্তি-পথ হিসেবে দেখা উচিত। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ভর্তি নীতি, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার ফি, আর্থিক যোগ্যতা এবং এফ-১ ভিসাসংক্রান্ত নির্দেশনা অবশ্যই যাচাই করা উচিত। ভর্তি ও ইংরেজি ভাষার শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার খরচ কমাতে ডলার স্টোর থেকে খাবার কিনছেন। কিন্তু এসব দোকানে পাওয়া খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ নিয়ে নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক একটি চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় ডলার স্টোরের আশপাশে বসবাস এবং স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ কয়েকটি স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিভারসাইড ক্যাম্পাসের গবেষকেরা ২০২৬ সালে প্রকাশিত এই গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার ডলার স্টোর ও প্রচলিত মুদি দোকানের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘বিএমসি পাবলিক হেলথ’ সাময়িকীতে। গবেষণার প্রধান লেখক রায়ান ব্রুয়েলম্যানসহ গবেষক দল ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের দোকানের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের ৫০০ সিটি প্রকল্পের স্বাস্থ্যতথ্য ব্যবহার করেন। গবেষণায় বিশেষভাবে দেখা হয়েছে, কোনো আবাসিক এলাকা থেকে ডলার স্টোর বা প্রচলিত মুদি দোকানে পৌঁছাতে কতটা সহজ। এ জন্য ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণ সফটওয়্যার ব্যবহার করে দোকানগুলোর অবস্থান ও আশপাশের জনগোষ্ঠীর তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি আয়, বেকারত্বসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের পাওয়া ফলাফলে দেখা যায়, প্রচলিত মুদি দোকানের কাছাকাছি বসবাসের সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো প্রতিকূল স্বাস্থ্য ফলাফলের তুলনামূলক কম সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ডলার স্টোরের কাছাকাছি বসবাসের সঙ্গে এসব স্বাস্থ্য সমস্যার উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক বিভিন্ন অঞ্চলে বজায় ছিল। তবে গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষকেরা ডলার স্টোরের খাবারকে এসব রোগের সরাসরি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেননি। গবেষণাটি মূলত বিভিন্ন এলাকার খাবারের পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যগত ফলাফলের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজেছে। অর্থাৎ কোনো এলাকায় ডলার স্টোর বেশি থাকার কারণেই সেখানকার মানুষ স্থূলতা বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন, এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত এই গবেষণা থেকে দেওয়া যায় না। গবেষক রায়ান ব্রুয়েলম্যানের মতে, মূল সমস্যা খাবারের দাম নয়, বরং কী ধরনের খাবার মানুষ সহজে কিনতে পারছেন সেটি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার কম দামে বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকতে পারেন। ডলার স্টোরে স্বাস্থ্যকর খাবারের তুলনায় এ ধরনের খাবারের প্রাপ্যতা বেশি হলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রচলিত মুদি দোকান ও ডলার স্টোরের খাবারের ধরনে পার্থক্য রয়েছে। তাজা ফলমূল, শাকসবজি, সম্পূর্ণ শস্য এবং কম চর্বিযুক্ত প্রোটিনের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার অনেক ডলার স্টোরে তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টিজাতীয় খাবার ও হালকা খাবারের উপস্থিতি বেশি হওয়ার বিষয়টি আগের গবেষণাগুলোতেও উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণাতেও ডলার স্টোর থেকে কেনা খাবার অন্যান্য বিক্রয়কেন্দ্র থেকে কেনা খাবারের তুলনায় সামগ্রিকভাবে কম স্বাস্থ্যকর বলে দেখা যায়। তবে সেই গবেষণায় এটাও দেখা হয়েছিল যে ডলার স্টোরে বেশি কেনাকাটা করা পরিবারগুলো অন্য জায়গা থেকে স্বাস্থ্যকর খাবার কিনে খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্য কিছুটা পূরণ করতে পারে। অন্যদিকে, কম আয়ের পরিবারের জন্য ডলার স্টোরের গুরুত্বও গবেষকেরা উপেক্ষা করেননি। এসব দোকানে খাবারের দাম তুলনামূলক কম এবং অনেক এলাকায় এগুলো সহজে পৌঁছানো যায়। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় কম আয়ের ডলার স্টোর ক্রেতারা জানিয়েছেন, সাশ্রয়ী দাম ও সুবিধাজনক অবস্থানের কারণেই তারা এসব দোকানে কেনাকাটা করেন। তবে তাদের অনেকেই ডলার স্টোরে আরও বেশি ফল, শাকসবজি ও উন্নতমানের প্রোটিনজাত খাবার চান। এই বাস্তবতার কারণে গবেষকেরা ডলার স্টোর কমিয়ে দেওয়াকেই সমাধান হিসেবে দেখছেন না। বরং এসব দোকানেই স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিমাণ ও বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ফল ও সবজি বিক্রি, স্থানীয় কৃষক বাজার বা খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের প্রসার এবং ডলার স্টোরে স্বাস্থ্যকর খাবার সহজলভ্য করার মতো উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। পুষ্টিবিদ ও খাদ্যবিজ্ঞানী শাই বিষ্ণুমোহনও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, মানুষ সাধারণত নিজের বাজেট, সময় ও আশপাশে থাকা দোকানের সুযোগ বিবেচনা করেই খাবার বেছে নেন। তাই মানুষ কোথা থেকে কেনাকাটা করছেন, সেটিকে দায়ী করার বদলে সাশ্রয়ী দামে পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যাচ্ছে কি না, সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে ডলার স্টোরকে খাবারের দোকান হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টিও গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রচলিত সরকারি শ্রেণিবিন্যাসে এসব প্রতিষ্ঠান অনেক সময় সাধারণ পণ্য বিক্রির দোকান হিসেবে চিহ্নিত হয়। ফলে খাদ্য পরিবেশ বা জনস্বাস্থ্য নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন বিশ্লেষণে এগুলো বাদ পড়ে যেতে পারে। গবেষকদের মতে, মানুষের খাদ্যাভ্যাস বোঝার ক্ষেত্রে ডলার স্টোরের ভূমিকা এখন আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী খাবার ও জনস্বাস্থ্যের মধ্যে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। কম দামের খাবার মানুষের নাগালের মধ্যে থাকলেও সেই খাবার কতটা পুষ্টিকর, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবারকে শুধু বড় সুপারমার্কেটেই নয়, কম আয়ের মানুষ যেসব দোকানে নিয়মিত কেনাকাটা করেন, সেখানেও সহজলভ্য করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির সংকট কাটাতে নতুন নির্মাণ বাড়ানো প্রয়োজন হলেও উল্টো কমছে বাড়ি তৈরির গতি। জুলাইয়ে একক পরিবারের নতুন বাড়ি নির্মাণের হার আগের মাসের তুলনায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৮ লাখ ৮ হাজার ইউনিটে নেমে এসেছে বলে মার্কিন জনগণনা ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এটি ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সবচেয়ে কম পর্যায়ের হার। একক পরিবারের বাড়িই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন নির্মাণের সবচেয়ে বড় অংশ। ফলে এই খাতে এমন পতন আবাসন সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই মাসে অ্যাপার্টমেন্টসহ সব ধরনের নতুন আবাসিক ইউনিটের নির্মাণ শুরুর হারও কমেছে বলে সরকারি তথ্যে উঠে এসেছে। এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে রয়েছে বাড়ি কেনার ঋণের উচ্চ সুদ। ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাজারে প্রবেশ না করে অপেক্ষা করছেন। অন্যদিকে নির্মাণসামগ্রী, শ্রম ও জমির ব্যয়ও বেশি থাকায় নির্মাতাদের জন্য কম দামে নতুন বাড়ি বাজারে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। জাতীয় আবাসন নির্মাতা সমিতি বা এনএএইচবির সাম্প্রতিক তথ্যও একই ধরনের চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগস্টে নতুন একক পরিবারের বাড়ি নির্মাণ নিয়ে নির্মাতাদের আস্থা এক পয়েন্ট বেড়ে ৩৫ হয়েছে। তবে সূচকটি ৫০-এর নিচে থাকায় সামগ্রিকভাবে নির্মাতাদের বড় অংশ এখনো বাজার পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন না। আগস্ট ছিল টানা ১৬তম মাস, যখন এই সূচক ৪০-এর নিচে রয়েছে। জুলাইয়ে নির্মাতাদের আস্থার সূচক ছিল ৩৪। তখন বর্তমান বিক্রয় পরিস্থিতির সূচক ৩৭, আগামী ছয় মাসের বিক্রয় প্রত্যাশা ৪৩ এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের যাতায়াতের সূচক ছিল মাত্র ২৩। অর্থাৎ বাড়ি কিনতে আগ্রহী মানুষের উপস্থিতিও তুলনামূলক দুর্বল ছিল। বাড়ির দামও ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা হয়ে আছে। জাতীয় পর্যায়ে বাড়ির দাম উচ্চ অবস্থানে থাকায় কম সুদের ঋণের জন্য অপেক্ষা করছেন অনেক ক্রেতা। ফলে একদিকে বাড়ির প্রয়োজন ও চাহিদা রয়েছে, অন্যদিকে বর্তমান দামে অনেক পরিবারের পক্ষে বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর দেশটির আবাসন নির্মাণ খাত বড় ধাক্কা খায়। বহু নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ব্যবসা বন্ধ করে, কর্মীরা খাতটি ছেড়ে যান এবং নতুন প্রকল্পে ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে কয়েক বছর ধরে প্রয়োজনের তুলনায় কম বাড়ি নির্মাণ হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় সুদের হার ঐতিহাসিকভাবে কমে যাওয়ার পর বাড়ি কেনার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। কিন্তু তখনও বাজারে পর্যাপ্ত বাড়ি ছিল না। সীমিত সরবরাহের বিপরীতে ক্রেতাদের প্রতিযোগিতা বাড়ায় বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। মহামারির পর নির্মাণ কিছুটা বাড়লেও দীর্ঘদিনের ঘাটতি এখনো কাটেনি। ফ্রেডি ম্যাকের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৩৭ লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। আবাসন সংকটের আকার নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব ভিন্ন হলেও, পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাব যে বাজারের বড় সমস্যা, তা নিয়ে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে। অন্যদিকে নির্মাতাদের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা জটিল। দেশে বাড়ির ঘাটতি থাকলেও ক্রেতারা বর্তমান দামে পর্যাপ্ত বাড়ি কিনতে পারছেন না। ফলে নতুন বাড়ি নির্মাণ করে বিক্রি না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে নির্মাতারা নতুন প্রকল্প শুরু করার ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে পড়ছেন। এনএএইচবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ৩৭ শতাংশ নির্মাতা বাড়ির দাম কমিয়েছিলেন। গড়ে দাম কমানোর হার ছিল ৬ শতাংশ। একই সময়ে ৬৩ শতাংশ নির্মাতা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের বিক্রয় সুবিধা বা প্রণোদনা দিয়েছেন। আগস্টেও নির্মাতাদের মধ্যে এই চাপ পুরোপুরি কাটেনি। এনএএইচবির চেয়ারম্যান বিল ওওয়েন্স বলেন, উচ্চ নির্মাণ ব্যয় ও আবাসনের সামর্থ্যসংক্রান্ত চাপ নির্মাতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। উচ্চ বন্ধকি ঋণের হার সম্ভাব্য ক্রেতাদের বাজারের বাইরে রাখছে, আর নির্মাণসামগ্রী, জ্বালানি ও অন্যান্য ব্যয় বাড়ায় ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে বাড়ি তৈরি করা কঠিন হয়ে উঠছে। তবে পুরো চিত্রই নেতিবাচক নয়। জুলাইয়ে আবাসিক ভবনের নির্মাণ অনুমোদনের হার বেড়েছে। জনগণনা ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মোট নির্মাণ অনুমোদন বার্ষিক হিসাবে প্রায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার ইউনিটে উঠেছে। একক পরিবারের বাড়ির অনুমোদনও বেড়েছে। অর্থাৎ নির্মাতাদের একটি অংশ ভবিষ্যতের চাহিদা নিয়ে এখনো পুরোপুরি আশাহত হননি। এখানে নির্মাণ অনুমোদন এবং নির্মাণ শুরু হওয়ার মধ্যে পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বাড়ির নির্মাণ অনুমোদন পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণ শুরু হয়ে গেছে এমন নয়। ফলে অনুমোদন বাড়লেও প্রকৃত নির্মাণ শুরু হতে সময় লাগতে পারে। আবাসন বাজারের এই চাপ শুধু বাড়ি নির্মাতা বা ক্রেতাদের বিষয় নয়। নতুন বাড়ির সরবরাহ কম থাকলে পুরোনো বাড়ির বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে। আবার বাড়ির দাম দীর্ঘদিন উচ্চ থাকলে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে। বিশেষ করে তরুণ পরিবার ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনার সামর্থ্য এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণের সুদ, ডাউন পেমেন্ট, বাড়ির মূল্য এবং মাসিক কিস্তি সব মিলিয়ে বাড়ি কেনার মোট খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার এখন এক ধরনের বৈপরীত্যের মধ্যে রয়েছে। একদিকে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি বাড়ির ঘাটতি পূরণ করতে আরও নির্মাণ প্রয়োজন, অন্যদিকে উচ্চ সুদ ও নির্মাণ ব্যয়ের কারণে নির্মাতারা নতুন প্রকল্পে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। ক্রেতাদের সামর্থ্য না বাড়লে শুধু নির্মাণ বাড়ালেই সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। আগামী মাসগুলোতে বন্ধকি ঋণের সুদ, নির্মাণসামগ্রীর দাম, বাড়ির বিক্রি এবং নির্মাতাদের আস্থার সূচক আবাসন বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের দুর্বল নির্মাণের পরও নির্মাণ অনুমোদনের কিছুটা উন্নতি বাজারে সম্ভাব্য পুনরুদ্ধারের আশা ধরে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ, বর্জ্যপানি, বিদ্যুৎ ও রাসায়নিক স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি সাইবার হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে শিল্পকারখানা ও পানি শোধনাগারে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা খুঁজতে হামলাকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর সরঞ্জাম ব্যবহার করছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা (সিআইএসএ), এফবিআই, এনএসএ এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থার সতর্কতার ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে এসেছে। এতে সিমেন্সের এস৭ সিরিজের প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার বা পিএলসিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পানি শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাসায়নিক কারখানা ও বিভিন্ন শিল্প স্থাপনার স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের যন্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সিমেন্সের নিজস্ব নিরাপত্তা সতর্কতাতেও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে তাদের এস৭ পিএলসি চলমান সাইবার হুমকি অভিযানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জুলাইয়ের হালনাগাদ সতর্কতায় এস৭-১২০০ পিএলসিকেও নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে সিমেন্স জানিয়েছে, তাদের শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এ হুমকির মাধ্যমে সফলভাবে হামলা চালানোর কোনো ঘটনা এখনো তারা শনাক্ত করেনি। সতর্কতায় বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে উন্মুক্ত থাকা এমন পিএলসি খুঁজছে, যেগুলো পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করছে অথবা যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই অনলাইনে সংযুক্ত রয়েছে। এসব যন্ত্রে প্রবেশাধিকার পাওয়া গেলে হামলাকারীরা সংশ্লিষ্ট শিল্প নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্কে আরও গভীরভাবে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। বিষয়টি বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ, এসব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শুধু কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণ করে না। এগুলো বাস্তব জগতের যন্ত্রপাতি ও শিল্প প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। ফলে কোনো সিস্টেমে সফলভাবে অনুপ্রবেশ করা গেলে পানি শোধনের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়া কিংবা রাসায়নিক উৎপাদন ব্যবস্থায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এই সতর্কতার মূল লক্ষ্য পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পরিচালকদের। কোনো নির্দিষ্ট এলাকার পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পানি ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছে, এমন তথ্যও প্রকাশিত হয়নি। সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, এআই ব্যবহারের কারণে সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো প্রযুক্তি, ভুলভাবে কনফিগার করা যন্ত্র এবং সরাসরি ইন্টারনেটে যুক্ত শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হামলাকারীদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে। কারণ এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সেবা এবং অনেক পানি ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের পুরোনো যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি এখনো ব্যবহৃত হয়। এসব ব্যবস্থা আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনা ব্যয়বহুল ও জটিল হতে পারে। সিআইএসএ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইন্টারনেটে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উন্মুক্ত পিএলসি বিচ্ছিন্ন করা, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও ফার্মওয়্যার হালনাগাদ করা এবং নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে। সিমেন্সও গ্রাহকদের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার, শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ারওয়ালসহ অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে সিমেন্সের কয়েকটি এস৭-সংশ্লিষ্ট পণ্যের নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে ২০২৬ সালেও একাধিক সতর্কতা প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ত্রুটির ক্ষেত্রে সফটওয়্যার হালনাগাদ করে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাইবার হামলার ঝুঁকি শুধু বড় অবকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাড়ির রাউটার ও স্মার্ট ডিভাইসে শক্তিশালী আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, সম্ভব হলে বহুস্তরীয় যাচাই চালু রাখা এবং নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ করা উচিত। এ ছাড়া অচেনা ই-মেইল, খুদে বার্তা বা ফোনে দেওয়া সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এআইয়ের সাহায্যে তৈরি করা বিশ্বাসযোগ্য দেখতে বার্তা ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা বাড়তে পারে বলে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ঘিরে সাইবার হুমকি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি মূলত সম্ভাব্য হামলা ও প্রস্তুতি শনাক্ত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। সিআইএসএ ও অন্যান্য সংস্থার সতর্কতার পাশাপাশি সিমেন্সও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হর্টনে লেকের পাড়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি এখন ক্রেতার অপেক্ষায়। চারপাশে নির্মল পানি, প্রশস্ত খোলা জায়গা এবং আধুনিক সব সুবিধা থাকা পাঁচ শয়নকক্ষের এই বাড়িটির বর্তমান তালিকামূল্য ১২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান, যদিও বিনিময় হার অনুযায়ী টাকার অঙ্কে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। বাড়িটির ঠিকানা ২৬০ পাইন হিল লেক ড্রাইভ। রিয়েল এস্টেট তালিকায় বাড়িটি বিক্রির জন্য সক্রিয় রয়েছে। জ্যাকসন কাউন্টির হর্টনে অবস্থিত বাড়িটি পাইন হিল লেকের তীরে তৈরি। বিক্রির বিজ্ঞাপনে এটিকে এমন একটি আবাসন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মিশিগানের উত্তরাঞ্চলের অবকাশযাপনের আবহ পাওয়া যাবে, কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে চার ঘণ্টা গাড়ি চালানোর প্রয়োজন হবে না। বাড়িটির আয়তন ৩ হাজার ৩৫৩ বর্গফুট। এতে পাঁচটি শয়নকক্ষ, চারটি বাথরুম এবং দুই গাড়ি রাখার গ্যারেজ রয়েছে। ২০১৭ সালে নির্মিত বাড়িটির নকশাকে আধুনিক প্রেইরি-ধাঁচের বিলাসবহুল স্থাপত্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বর্তমানে বাড়িটি বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রিয়েলম্যাক্স মিড-মিশিগান। বাড়িটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই এর লেকমুখী অবস্থান। তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির প্রায় ৭৭ ফুট দীর্ঘ জলসীমা রয়েছে এবং এটি ফারওয়েল ও পাইনহিল হ্রদশ্রেণির সঙ্গে যুক্ত এলাকায় অবস্থিত। পাইন হিল লেকের পানি বসন্তের প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসা এবং স্বচ্ছ বলে বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির পেছনের দিক থেকে লেকের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। বাড়ির পেছনে রয়েছে বড় আচ্ছাদিত প্যাটিও বা বসার জায়গা। সেখানে আরামদায়ক চেয়ার, পানিতে ডুবে আরাম করার জন্য স্থায়ী গরম পানির ব্যবস্থা, ঘোরানো যায় এমন টেলিভিশন এবং বাইরের রান্নাঘর রয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্য বা অতিথিদের নিয়ে দীর্ঘ সময় বাইরে বসে লেকের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। প্যাটিও থেকে ইটের তৈরি একটি পথ গিয়ে পৌঁছেছে আরেকটি আলাদা বসার জায়গায়। সেখানে রয়েছে অগ্নিকুণ্ড এবং খোলা আকাশের নিচে বসার ব্যবস্থা। ফলে সন্ধ্যায় লেকের পাশে বসে সময় কাটানো থেকে শুরু করে অতিথিদের নিয়ে আয়োজন, সবকিছুর জন্যই জায়গাটি উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। বাড়ির ভেতরে ঢুকলে বড় প্রবেশপথ থেকে একটি উন্মুক্ত নকশার বসার জায়গায় যাওয়া যায়। উঁচু ছাদ এবং লেকের দিকে থাকা বড় বড় জানালা ঘরগুলোতে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে জানালাগুলো থেকে লেকের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। প্রধান তলায় রয়েছে বসার ঘর, যেখানে পাথর দিয়ে তৈরি অগ্নিকুণ্ড রয়েছে। এর পাশেই আধুনিক রান্নাঘর। রান্নাঘরে রয়েছে ক্যামব্রিয়া কোয়ার্টজের প্রশস্ত দ্বীপ, স্টেইনলেস স্টিলের সরঞ্জাম এবং কাচের টাইলসের পেছনের দেয়াল। রান্নাঘর ও বসার জায়গার উন্মুক্ত বিন্যাস পুরো তলাটিকে আরও প্রশস্ত দেখায়। এই তলাতেই রয়েছে লেকমুখী দুটি শয়নকক্ষ এবং দেড়টি বাথরুম। ভেতরের সিঁড়িটি প্রচলিত সিঁড়ির মতো নয়। ভাসমান কাঠামোর এই সিঁড়ি একটি খোলা সংযোগপথের ওপর দিয়ে দ্বিতীয় তলায় পৌঁছেছে। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে আরও তিনটি শয়নকক্ষ ও দুটি পূর্ণাঙ্গ বাথরুম। বাড়িটির প্রধান শয়নকক্ষটি দ্বিতীয় তলায়। এর সঙ্গে রয়েছে আলাদা পোশাক রাখার ঘর এবং ব্যক্তিগত বাথরুম। বাথরুমে রয়েছে আলাদা রাখা বড় পানিতে ভেজার টব এবং ওপর থেকে বৃষ্টির মতো পানি পড়ার ব্যবস্থা করা ঝরনা। বাড়িটির নকশায় অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক বিনোদনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভেতর ও বাইরে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা, তারবিহীন রেলিং, রান্নাঘরের ওপরে ঝুলন্ত ছাদ, বিশেষ নকশার আলোকসজ্জা এবং রঙ পরিবর্তন করা যায় এমন কলসহ বেশ কিছু আধুনিক সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া বাড়িতে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা, প্রশস্ত কংক্রিটের প্রবেশপথ, সংরক্ষণাগার এবং পুরো বাড়ির জন্য স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ জেনারেটরও রয়েছে। এসব সুবিধার কারণে বাড়িটি শুধু ছুটির দিনে ব্যবহারের জন্য নয়, সারা বছর বসবাসের উপযোগী হিসেবেও বাজারজাত করা হচ্ছে। লেকের আশপাশেও রয়েছে দৈনন্দিন প্রয়োজন ও বিনোদনের বিভিন্ন সুযোগ। কাছেই নৌযানের জ্বালানি নেওয়ার জন্য একটি জলপথের ঘাট, আইসক্রিমের দোকান, রেস্তোরাঁ এবং গলফ কোর্স রয়েছে। ফলে বাড়িতে থাকার পাশাপাশি আশপাশে বিনোদনের সুযোগও পাওয়া যাবে। বাড়িটি একটি ব্যক্তিগত শান্ত পরিবেশের আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। একই সঙ্গে মিশিগানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও এলাকার সঙ্গে এর যোগাযোগও তুলনামূলক সহজ। তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, মনরো, টলেডো, নোভাই, নর্থভিল, ল্যান্সিং ও অ্যান আরবার থেকে বাড়িটি প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে। বাড়িটি প্রথমবার ২০২৬ সালের ৬ জুন ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার মূল্যে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। পরে ১৮-১৯ জুন এর দাম কমিয়ে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার করা হয়। বর্তমানে সেটিই তালিকাভুক্ত মূল্য হিসেবে রয়েছে। লেকের পানির দৃশ্য, ব্যক্তিগত জলসীমা, বড় প্যাটিও, গরম পানির ব্যবস্থা, বাইরের রান্নাঘর এবং আধুনিক অভ্যন্তরীণ নকশা মিলিয়ে বাড়িটি মিশিগানের লেকফ্রন্ট আবাসনের একটি বিলাসবহুল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তাই যারা শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা চান, তাদের জন্য বাড়িটি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি পুলিশ হেলিকপ্টার ও ছোট একটি বিমানের মধ্যে মাঝ আকাশে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় কার্লাইল বিমানবন্দরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন (এফএএ) ও জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (এনটিএসবি) ঘটনাটি তদন্ত করছে। এফএএর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৫০ মিনিটে কাম্বারল্যান্ড কাউন্টির কার্লাইল বিমানবন্দরের কাছে পেনসিলভেনিয়া স্টেট পুলিশের একটি বেল ৪০৭ হেলিকপ্টারের সঙ্গে একটি সেসনা ১৫০ ছোট বিমানের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর উভয় উড়োজাহাজই বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। পুলিশের হেলিকপ্টারে দুইজন আরোহী ছিলেন বলে এফএ জানিয়েছে। তবে ছোট বিমানটিতে ঠিক কতজন ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা বিভাগের বিপুলসংখ্যক যান পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে একটি মাঠের মধ্যে পুলিশ হেলিকপ্টারটিকে কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আশপাশে ছড়িয়ে ছিল উড়োজাহাজের বিভিন্ন অংশ ও ধ্বংসাবশেষ। উদ্ধারকারী ও তদন্তকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছুটে যান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যাট্রিক ব্রাউন ও লয়েড স্লাসার নামের দুই স্থানীয় বাসিন্দা একটি বেড়া টপকে মাঠে গিয়ে সহায়তার চেষ্টা করেন। তারা পুলিশ হেলিকপ্টারের ভেতরে দুইজন এবং ছোট বিমানটিতে একজনকে দেখেছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান। তবে আরোহীদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের বক্তব্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, দুর্ঘটনার আগে পুলিশ হেলিকপ্টারটি তুলনামূলক নিচু দিয়ে উড়ছিল এবং বিমানবন্দরের কাছে কয়েকটি কৌশলগত উড্ডয়ন অনুশীলন করছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিমানবন্দর এলাকায় এ ধরনের উড্ডয়ন ও অনুশীলন অস্বাভাবিক নয়। তবে এসব কর্মকাণ্ডই সংঘর্ষের কারণ ছিল কি না, তা এখনো জানা যায়নি। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, পেনসিলভেনিয়া স্টেট পুলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি দুর্ঘটনায় জড়িতদের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। ঘটনাস্থলে একজন কাউন্টি করোনারকেও ডাকা হয়েছিল। তবে দুর্ঘটনার পরপরই কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি কোনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারে থাকা দুইজনের পরিচয় এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কার্লাইল শহরটি পেনসিলভেনিয়ার রাজধানী হ্যারিসবার্গের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। কার্লাইল বিমানবন্দরটি স্থানীয় উড্ডয়ন কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়। দুর্ঘটনাটি বিমানবন্দরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে দ্রুত জরুরি উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে সক্ষম হয়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। উভয় উড়োজাহাজের গতিপথ, উচ্চতা, আবহাওয়া, বিমানবন্দরের কার্যক্রম এবং পাইলটদের যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এফএএ ও এনটিএসবি তদন্তের মাধ্যমে সংঘর্ষের সঠিক কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করছে। এ ধরনের তদন্তে সাধারণত ঘটনাস্থলের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ, উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ নথি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট উড্ডয়ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত উড়োজাহাজ দুটির আরোহী এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কেও আরও তথ্য প্রকাশ পেতে পারে। এটি একটি চলমান ঘটনা। কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ বা হতাহতের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় আগামী ২৩ আগস্ট বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানকে ঘিরে বড় ধরনের প্রবাসী মিলনমেলা। বাংলাদেশ-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো) এর উদ্যোগে আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকছে ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবার, লাইভ সংগীত, ফ্যাশন শো, বিভিন্ন ধরনের গেমস, র্যাফেল ড্র এবং নানা বিনোদনমূলক আয়োজন। রোববার, ২৩ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার-০০এ১-এ অনুষ্ঠিত হবে অনুষ্ঠানটি। এর ঠিকানা ৮৯৯৯ ফোর্ট হান্ট রোড, আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়া ২২৩০৮। বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকা ছাড়াও ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও আশপাশের স্টেটের বাংলাদেশিদের পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা। এবারের আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খানের লাইভ পারফরম্যান্স। আয়োজকরা জানান, ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় প্রথমবারের মতো নকীব খান এই অনুষ্ঠানে সরাসরি সংগীত পরিবেশন করবেন। তার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানও মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করবেন। নকীব খান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম পরিচিত শিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক। তার গান বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। ফলে প্রবাসের মাটিতে তার সরাসরি সংগীত পরিবেশনাকে ঘিরে বৃহত্তর ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মেজবানির মূল আকর্ষণ থাকছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক অতিথির জন্য খাবার প্রস্তুতের লক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আগের দিন থেকেই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হবে। রোববার সকাল থেকে অনুষ্ঠানস্থলে অতিথিদের স্বাগত জানানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হবে। দুপুরের দিকে মেজবানি খাবার পরিবেশন করা হবে। খাবারের পাশাপাশি দিনব্যাপী চলবে আড্ডা, পারিবারিক মিলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিনোদনমূলক আয়োজন। আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে বাইটপোর ইভেন্ট ডিরেক্টর স্যাম রিয়া জানান, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানকে কেন্দ্র করে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি সংযোগ তৈরি করতেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। আয়োজক শামসুদ্দিন মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, মেজবান সফল করতে আগের দিন থেকেই খাবার প্রস্তুতি ও অন্যান্য আয়োজনের কাজ শুরু হবে। রোববার সকাল থেকে অতিথিদের স্বাগত জানানো এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক মঞ্চে সংগীত পরিবেশনাও থাকবে। মেজবানি ও সংগীতের পাশাপাশি এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে বিশেষ র্যাফেল ড্র। প্রথম পুরস্কার হিসেবে রয়েছে একটি হিরের আংটি। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৪কে টেলিভিশন এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ল্যাপটপ দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ গেমসের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ ফ্যাশন শোরও আয়োজন থাকছে।সারাহ, দিশা ও স্মিতার নাম ফ্যাশন শোর অংশগ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘পুট দ্য মাস্ট্যাশ অন আঙ্কেল স্যাম’ নামে একটি বিনোদনমূলক আয়োজনও থাকছে। এটি এনায়েত খান ও আবু রুমি আয়োজন করছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের মেজবানকে আগের আয়োজনগুলোর তুলনায় আরও বড় ও বৈচিত্র্যময় করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুধু খাবার বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, পুরো দিনটিকে পরিবার ও কমিউনিটির মানুষের জন্য একটি আনন্দময় মিলনমেলায় পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্য তুলে ধরাও এবারের আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্দেশ্য। মেজবানের খাবার, সংগীত, ফ্যাশন ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ভিন্ন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের একসঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগাম রিজার্ভেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রচারপত্রে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে রিজার্ভেশন করা যাবে। জেল-এর মাধ্যমে যোগাযোগ বা অর্থ প্রদানের জন্য baitpodc@gmail.com ইমেইল ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানসংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য বাইটপোর ইভেন্ট ডিরেক্টর স্যাম রিয়ার ফোন নম্বর ৭০৩-৩৩২-৫৯৫৮ দেওয়া হয়েছে।
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় হাসপাতালের নবজাতক বিভাগ থেকে ১০ শিশুকে নিরাপদে সরিয়ে আলোচনায় আসা শিশু বিশেষজ্ঞ জার্মানিতে আরও উচ্চতর চিকিৎসা প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। জার্মানিতে কর্মরত স্প্যানিশভাষী চিকিৎসকদের সংগঠন রেড দে মেডিকোস হিস্পানোহাবলান্তেস এন আলেমানিয়া বা রেমা চিকিৎসক জার্মান আন্দ্রেস সোমোয়ারকে পেশাগতভাবে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ১০ আগস্ট কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের সময়। অ্যান্টিওকিয়া বিভাগের আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকানার ষষ্ঠ তলায় তখন নবজাতক বিভাগে ১০টি শিশু ছিল। ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর চিকিৎসক সোমোয়ার অন্য চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে নিয়ে শিশুদের ভবন থেকে নিরাপদে বের করে আনেন। সোমোয়ারের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় হাসপাতালের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি প্রথমে রোগী ও স্বজনদের বের হওয়ার পথ দেখান। এরপর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা নবজাতকদের কাছে ফিরে যান। দুই চিকিৎসক ও তিন নার্সের সহায়তায় তারা একে একে শিশুদের কোলে নিয়ে ভবন থেকে বের করে আনেন। উদ্ধার করা শিশুদের মধ্যে একজন ওই দিনই জন্মেছিল বলে সোমোয়ার জানিয়েছেন। নবজাতকদের মধ্যে যাদের নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল, তাদের সবাইকে একইভাবে বের করা সম্ভব হয়নি। সোমোয়ার জানান, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা কিছু শিশুর দায়িত্ব একজন সহকর্মী সামলাচ্ছিলেন। ভূমিকম্পের সময় ওই সহকর্মী অন্য এক রোগীকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করছিলেন। অন্যদিকে, যারা নিজেরা নিরাপদে বের হতে পারছিল না, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্ধার করা হয়। ভূমিকম্পের পর সোমোয়ারের দুই নবজাতককে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি দ্রুত কলম্বিয়ায় সাহসিকতা ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে আলোচনায় আসে। অ্যান্টিওকিয়ার গভর্নর আন্দ্রেস হুলিয়ান রেনদোনও তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে সাহসিকতার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান। সোমোয়ার মূলত কলম্বিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিদ্যা ও শিশু চিকিৎসায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকায় শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। চিকিৎসক হিসেবে তার পেশাগত পরিচয়ও অনলাইনে যাচাই করা যায়, যেখানে তার শিশু চিকিৎসায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং ওই হাসপাতালের সঙ্গে কাজের তথ্য রয়েছে। ভূমিকম্পের সময় তার ভূমিকার খবর জার্মানিতে কর্মরত স্প্যানিশভাষী চিকিৎসকদের সংগঠন রেমার কাছেও পৌঁছে যায়। এরপর সংগঠনটি সোমোয়ারকে জার্মানিতে তার পেশাগত ভবিষ্যৎ এগিয়ে নিতে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা সনদ জার্মানিতে স্বীকৃত করার প্রক্রিয়া, শিশু চিকিৎসায় তার বিশেষায়িত যোগ্যতা যাচাই এবং ভবিষ্যতে শিশু হৃদরোগ বিষয়ে আরও উচ্চতর প্রশিক্ষণের পথে সহায়তার কথা জানানো হয়েছে। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রেমা এখন পর্যন্ত তাকে সহায়তা করার উদ্যোগ ও আগ্রহের কথা জানিয়েছে এবং সোমোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করছে। সংগঠনটি বিদেশি চিকিৎসকদের জার্মানিতে সনদ স্বীকৃতি, ভাষা শিক্ষা, নথিপত্রের অনুবাদ এবং বিশেষায়ন বা চাকরির প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। তাই মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সব খরচ ইতোমধ্যে নিশ্চিতভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে, এমন দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। রেমার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে চিকিৎসকদের পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে সনদ স্বীকৃতি, চিকিৎসকদের জন্য জার্মান ভাষা শেখা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং হাসপাতাল খোঁজার মতো বিভিন্ন ধাপে সহায়তা দেওয়া হয়। সংগঠনটির সঙ্গে জার্মানিতে বসবাস ও কর্মরত ৪৫ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী যুক্ত রয়েছেন এবং ৯০০ জনের বেশি মানুষকে তারা প্রাথমিকভাবে পরামর্শ দিয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। সোমোয়ারের জন্য জার্মানিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগটি তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত পেশাগত অর্জন নয়, বরং ভূমিকম্পের মুহূর্তে তার নেওয়া সিদ্ধান্তের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও হয়ে উঠেছে। কয়েক মিনিটের সেই উদ্ধার অভিযানে তিনি নিজের নিরাপত্তার চেয়ে হাসপাতালের সবচেয়ে অসহায় রোগীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। কলম্বিয়ায় ১০ আগস্টের ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রেও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকায় সোমোয়ার ও তার সহকর্মীদের নবজাতক উদ্ধারের ঘটনা সেই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত মানবিক ঘটনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে। সোমোয়ারের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, দুর্যোগের সময় চিকিৎসকদের দায়িত্ব শুধু রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনো কখনো কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্তই রোগীর জীবন রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই সিদ্ধান্তই এবার কলম্বিয়ার এই শিশু বিশেষজ্ঞের সামনে জার্মানিতে নতুন পেশাগত সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
নিউইয়র্কের পাউন্ড রিজে প্রকৃতির সঙ্গে এমনভাবে মিশে থাকা একটি ব্যতিক্রমী ‘মিরর হাউস’ ১৫ মিলিয়ন ডলার দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। কাঁচ, স্টেইনলেস স্টিল ও জিংক-কোটেড কপারের প্রতিফলনশীল বহিরাবরণের কারণে বাড়িটি চারপাশের গাছপালা, আকাশ ও পাথুরে ভূদৃশ্যকে প্রতিফলিত করে। ফলে দূর থেকে দেখলে বাড়িটির সীমানা আলাদা করে বোঝা কঠিন। ৪,৪৮৫ বর্গফুটের এই বাড়িটি প্রায় ১৯ দশমিক ৫ একর জমির ওপর অবস্থিত। চার শয়নকক্ষের বাড়িটি নকশা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান কিয়েরানটিম্বারলেক। বাড়িটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর স্থাপনাটির দৃশ্যমান প্রভাব যতটা সম্ভব কম থাকে। বাড়িটির বাইরের অংশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিফলনশীল উপকরণ ব্যবহারের কারণে দিনের আলো, আবহাওয়া ও ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে এর চেহারাও বদলে যায়। বিশেষ করে পালিশ করা স্টেইনলেস স্টিলের প্যানেলগুলো বাড়ির কোণগুলোকে এমনভাবে প্রতিফলিত করে যে স্থাপনাটির প্রান্ত অনেকটা অদৃশ্য হয়ে যায়। বাড়িটির ভেতরেও রয়েছে বিলাসবহুল নানা সুবিধা। এর মধ্যে রয়েছে কাস্টম কাঠের কাজ, একটি আধুনিক রান্নাঘর, ২ হাজার ৪০০ বোতল ধারণক্ষমতার ওয়াইন সেলার, হোম থিয়েটার এবং বড় কাচের দেয়াল। রয়েছে জিওথার্মাল হিটিং ও কুলিং ব্যবস্থা এবং ট্রিপল-পেন জানালা। স্থাপনাটি নির্মাণের সময় জমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়। বড় পাথুরে গঠন ও ভূপ্রকৃতির মধ্যে বাড়ির দুটি অংশ স্থাপন করা হয়েছে এবং একটি কাচঘেরা ব্রিজ দিয়ে সেগুলো যুক্ত করা হয়েছে। স্থাপত্যবিষয়ক প্রকাশনা আর্কিটেকচারাল রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটি নির্মাণে প্রাকৃতিক পাথুরে ভূখণ্ডকে যতটা সম্ভব অক্ষত রাখা হয়েছিল। বাড়িটির মালিক মাইকেল ও ওলগা কাগান ২০০৯ সালে ৩৩ একর জমি কিনেছিলেন। পরে জমির একটি অংশ বিক্রি এবং ১০ একর সংরক্ষণ কাজে দেওয়ার পর অবশিষ্ট প্রায় ১৯ দশমিক ৫ একর জমিতে বাড়িটি গড়ে তোলা হয়। স্থাপনাটি ২০১৪ সালে সম্পন্ন হয়। এখন ১৫ মিলিয়ন ডলারের এই বাড়িটি শুধু বিলাসবহুল আবাসন হিসেবেই নয়, প্রকৃতি ও আধুনিক স্থাপত্যের ব্যতিক্রমী সমন্বয় হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। পাউন্ড রিজের বনভূমির মধ্যে প্রতিফলিত এই বাড়িটি যেন আশপাশের প্রকৃতির অংশ হয়েই দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসায় ব্যবহৃত একাধিক ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ‘ক্যান্ডিডা অরিস’ নামের এক ধরনের ছত্রাকের উপস্থিতি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশটির ২৭ অঙ্গরাজ্যে এই ছত্রাকের ৩ হাজার ৪৩৭টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। একই সময়ে ২০২৫ সালে ৪ হাজার ২৯০টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছিল। ক্যান্ডিডা অরিস মূলত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ছড়ায় এবং গুরুতর অসুস্থ, দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকা কিংবা জটিল চিকিৎসা প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শ্বাস নেওয়ার যন্ত্র, কেন্দ্রীয় শিরায় ক্যাথেটার বা অন্য কোনো আক্রমণাত্মক চিকিৎসা-যন্ত্র ব্যবহার করা রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্র ও নার্সিংহোমের বাসিন্দারাও তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। ক্যান্ডিডা অরিস এক ধরনের ইস্ট বা ছত্রাক। এটি প্রথম শনাক্ত হয় ২০০৯ সালে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০১৬ সালে। এরপর দেশটিতে প্রতিবছর ক্লিনিক্যাল কেসের সংখ্যা বেড়েছে। সিডিসির ২০২৬ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ৮৮২টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৪ হাজার ৪২৮ এবং ২০২৪ সালে ৬ হাজার ১৯৭-এ পৌঁছায়। তবে বছরওয়ারি বৃদ্ধির হার সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক হিসাবেও ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে বেশি কেস শনাক্ত হয়েছে। ২৫ জুলাই পর্যন্ত সেখানে ৮৭৩টি কেস পাওয়া যায়। এরপর টেক্সাসে ৪৩৩ এবং টেনেসিতে ২৮৩টি কেস শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, ক্যান্ডিডা অরিসের অনেক ধরন প্রচলিত ছত্রাকনাশক ওষুধে প্রতিরোধী। সিডিসির জুলাই ২০২৬-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্যান্ডিডা অরিস নমুনা ফ্লুকোনাজল নামের বহুল ব্যবহৃত ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী। সাধারণত এ ধরনের সংক্রমণের চিকিৎসায় ইকাইনোক্যান্ডিন শ্রেণির ওষুধকে প্রথম সারির চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইকাইনোক্যান্ডিন প্রতিরোধী এবং একাধিক শ্রেণির ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী কিছু ধরনও শনাক্ত হয়েছে। এতে চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। তবে ক্যান্ডিডা অরিস শনাক্ত হলেই যে ব্যক্তি অসুস্থ, এমন নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে শরীরে ছত্রাকটির উপস্থিতি কিন্তু কোনো উপসর্গ না থাকাকে ‘কলোনাইজেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ, ছত্রাকটি ত্বক বা শরীরের অন্য কোনো অংশে থাকতে পারে, কিন্তু তখনও সংক্রমণ বা অসুস্থতা তৈরি নাও করতে পারে। সিডিসি বলছে, ক্যান্ডিডা অরিসের ক্লিনিক্যাল সংক্রমণের উপসর্গ নির্দিষ্ট নয়। শরীরের কোন অংশে সংক্রমণ হয়েছে এবং সংক্রমণের মাত্রা কতটা, তার ওপর উপসর্গ নির্ভর করে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি রক্তে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। রক্তে ছত্রাক পাওয়া সাধারণত আক্রমণাত্মক সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিডিসি জানিয়েছে, ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১৩ হাজার ৫০৭টি ক্লিনিক্যাল কেস রিপোর্ট করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ রোগীর বয়স ছিল ৪৫ বছর বা তার বেশি। সবচেয়ে বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তীব্র চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতাল এবং দীর্ঘমেয়াদি তীব্র চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে। ক্যান্ডিডা অরিসের বিস্তার সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর মতো নয়। বরং আক্রান্ত বা ছত্রাক বহনকারী ব্যক্তির শরীরের সংস্পর্শ এবং দূষিত চিকিৎসা-সরঞ্জাম বা পৃষ্ঠের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। হাসপাতালের বিছানার রেলিং, দরজার হাতলসহ বিভিন্ন পৃষ্ঠে ছত্রাকটি দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে। এ কারণে হাসপাতাল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জীবাণুনাশক ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে সুস্থ মানুষের জন্য দৈনন্দিন জীবনে ক্যান্ডিডা অরিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা নেই এমন মানুষের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে না। বরং দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকা, গুরুতর অসুস্থতা, আক্রমণাত্মক চিকিৎসা-যন্ত্রের ব্যবহার এবং সাম্প্রতিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো ঝুঁকি বাড়ায়। ক্যান্ডিডা অরিস মোকাবিলায় তাই দ্রুত শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চঝুঁকির রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা করলে শরীরে ছত্রাকটি থাকা অবস্থায়ই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। সিডিসির জুলাই ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাত পরিষ্কার রাখা, ক্যান্ডিডা অরিসের বিরুদ্ধে কার্যকর জীবাণুনাশক ব্যবহার, প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্পর্শভিত্তিক সতর্কতা এবং রোগী এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সময় তার ক্যান্ডিডা অরিসের অবস্থার তথ্য জানানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্ডিডা অরিসের শনাক্তকরণ আরও বাড়তে পারে। এর একটি কারণ হলো এখন আগের তুলনায় বেশি পরীক্ষা ও নজরদারি হচ্ছে। ফলে কেসের সংখ্যা বাড়ার একটি অংশ উন্নত শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ফলও হতে পারে। সিডিসিও জানিয়েছে, ক্যান্ডিডা অরিস শনাক্ত করার সক্ষমতা এবং স্ক্রিনিং বাড়ার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে এটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সিডিসির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ক্যান্ডিডা অরিসের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এর বিরুদ্ধে ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা চিকিৎসাকে কঠিন করে তুলতে পারে। তাই উচ্চঝুঁকির রোগীদের শনাক্তকরণ, নিয়মিত নজরদারি এবং হাসপাতালগুলোতে কঠোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে দত্তক পরিবারের কাছে বড় হয়ে ওঠা এক তরুণীর সঙ্গে তার জন্মদাতা বাবার পুনর্মিলনের পর ঘটে যায় ভয়াবহ এক ঘটনা। জন্মদাতা বাবার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে তাকে বিয়ে করেন তরুণী। পরে তাদের একটি সন্তানও জন্ম নেয়। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ওই বাবা নিজের মেয়েকে, তাদের শিশুসন্তানকে এবং মেয়েটির দত্তক বাবাকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেন। ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলাইনা, কানেকটিকাট ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যজুড়ে। নিহত তরুণীর নাম কেটি প্ল্যাডল। তার জন্মদাতা বাবা স্টিভেন প্ল্যাডল। তাদের সাত মাস বয়সী ছেলে বেনেট প্ল্যাডলও ওই ঘটনায় নিহত হয়। কেটির দত্তক বাবা অ্যান্থনি ফুসকোও গুলিতে নিহত হন। পরে স্টিভেন নিউইয়র্কের ডোভার এলাকায় আত্মহত্যা করেন। সে সময় কেটির বয়স ছিল ২০ বছর। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তিন অঙ্গরাজ্যে তদন্ত চালায়। ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য আরও আগে। ১৯৯৫ সালে ২০ বছর বয়সী স্টিভেন অনলাইনে ১৫ বছর বয়সী অ্যালিসার সঙ্গে পরিচিত হন। অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যালিসা গর্ভবতী হন এবং একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির নাম রাখা হয় ডেনিস। মাত্র আট মাস বয়সে তাকে দত্তক দেওয়া হয়। পরে টনি ও কেলি ফুসকো শিশুটিকে দত্তক নিয়ে তার নাম রাখেন কেটি। নিউইয়র্কের কাছাকাছি ডোভার এলাকায় কেটি দত্তক পরিবারের সঙ্গে বড় হতে থাকেন। প্রায় ১৮ বছর পর কেটি তার জন্মদাতা বাবা-মাকে খুঁজে বের করেন। ২০১৬ সালে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি ভার্জিনিয়ায় প্ল্যাডল পরিবারের কাছে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। শুরুতে এটি ছিল দীর্ঘদিন পর বাবা-মেয়ের পুনর্মিলন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবারের পরিস্থিতি বদলে যায়। কেটির জন্মদাতা মা অ্যালিসার বর্ণনা অনুযায়ী, স্টিভেনের আচরণ ধীরে ধীরে উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে। কেটি পরিবারের সঙ্গে থাকার কয়েক সপ্তাহ পর স্টিভেন তার ঘরে মেঝেতে ঘুমাতে শুরু করেন। অ্যালিসা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। শেষ পর্যন্ত অ্যালিসা ২০১৬ সালের নভেম্বরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। ২০১৭ সালের মে মাসে অ্যালিসা জানতে পারেন, কেটি গর্ভবতী এবং শিশুটির বাবা স্টিভেন। পরিবারের ১১ বছর বয়সী এক মেয়ের ডায়েরি থেকে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন বলে পরবর্তী সময়ে অ্যালিসা জানান। এরপর তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানান। এর মধ্যেই কেটি ও স্টিভেন তাদের সম্পর্ককে বিয়ের পর্যায়ে নিয়ে যান। ২০১৭ সালের ২০ জুলাই মেরিল্যান্ডের পার্কটনে তারা বিয়ে করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিয়ের আবেদনপত্রে তারা নিজেদের পরস্পরের আত্মীয় নন বলে তথ্য দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের বাবা-মেয়ের সম্পর্ক গোপন করেছিলেন। কেটি ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির নাম রাখা হয় বেনেট। পরে কেটি ও স্টিভেন উত্তর ক্যারোলাইনার নাইটডেলে বসবাস শুরু করেন। তবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ায়নি। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে কেটি ও স্টিভেনকে অজাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেন। তাদের শিশুসন্তান বেনেটকে স্টিভেনের মায়ের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়। কেটি ফিরে যান তার দত্তক বাবা-মায়ের কাছে। স্টিভেনের আইনজীবী সে সময় দাবি করেছিলেন, তার মক্কেলকে কেটির সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করার কোনো অভিযোগ ছিল না। তবে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আইনগত তদন্ত চলছিল এবং আদালতের নির্দেশে তাদের আলাদা থাকতে হচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে কেটি ওই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে মোড় নেয়। ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল সকালে উত্তর ক্যারোলাইনার নাইটডেলে পুলিশ একটি বাড়িতে গিয়ে সাত মাস বয়সী বেনেটকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, শিশুটি বাড়িতে একা ছিল। স্টিভেনের মা এর আগে জরুরি নম্বরে ফোন করে জানিয়েছিলেন, তার ছেলে শিশুটিকে হত্যা করার কথা বলেছেন। এরপর একই দিন কানেকটিকাটের নিউ মিলফোর্ডে একটি গাড়ির ভেতর কেটি ও তার দত্তক বাবা অ্যান্থনি ফুসকোর মরদেহ পাওয়া যায়। অ্যান্থনির বয়স ছিল ৫৬ বছর। পুলিশ জানায়, দুজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা গুলির শব্দ শোনার কথা জানান। তদন্তে উঠে আসে, কেটি ও অ্যান্থনি যখন ডোভার থেকে কানেকটিকাটের ওয়াটারবেরির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন স্টিভেন তাদের গতিবিধি নজরে রাখছিলেন। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজেও কাছাকাছি এলাকায় তার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। এরপর নিউ মিলফোর্ডে তাদের গাড়ির কাছে গুলির ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর স্টিভেন নিউইয়র্কের ডোভার এলাকায় পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে। একটি গাড়ির ভেতর তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, তিনি নিজেই গুলি করে আত্মহত্যা করেছিলেন। এভাবে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে একই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত চারজনের মৃত্যু হয়। পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেটি ও স্টিভেনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াই হত্যাকাণ্ডের আগে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ছিল। স্টিভেনের মা জরুরি নম্বরে দেওয়া বক্তব্যে জানিয়েছিলেন, কেটি সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ায় তার ছেলে ক্ষুব্ধ ছিল। পরে স্টিভেন তার কাছে কেটি, শিশুসন্তান ও অ্যান্থনিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে পুলিশকে জানানো হয়। স্টিভেনের বিরুদ্ধে চলমান অজাচার মামলাটি অবশ্য তার মৃত্যুর কারণে বিচার পর্যন্ত গড়ায়নি। পরবর্তী নথি ও প্রতিবেদনগুলোতে ঘটনাটিকে পারিবারিক সহিংসতা, নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ এবং ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনার পর কেটির জন্মদাতা মা অ্যালিসা প্ল্যাডল বলেন, তিনি এই ঘটনার মধ্যেও মানুষকে অজাচার ও এর সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করতে চান। তার কাছে ঘটনাটি ছিল বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মেয়ের সঙ্গে একটি আনন্দের পুনর্মিলন থেকে শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হওয়ার গল্প।
ব্রাজিলের গোইয়াস রাজ্যের মাইনেইরোস শহরের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর জানতে পারেন, দুই শিশুর জৈবিক বাবা একই ব্যক্তি নন। শিশুদের জন্মের প্রায় আট মাস পর করা ডিএনএ পরীক্ষায় বিষয়টি ধরা পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অত্যন্ত বিরল এই ঘটনাকে বলা হয় ‘হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন’। ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালে। ওই সময় ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম মেট্রোপোলেসের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সম্প্রতি পুরোনো ঘটনাটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণী একই দিনে দুই ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে তিনি যমজ সন্তানের গর্ভধারণ করেন। শুরুতে তিনি ধারণা করেছিলেন, দুই শিশুর বাবা একই ব্যক্তি। তবে সন্তান জন্মের পর তাদের শারীরিক গঠনে কিছুটা পার্থক্য দেখে বিষয়টি নিয়ে তার মনে প্রশ্ন তৈরি হয়। শিশুদের বয়স যখন প্রায় আট মাস, তখন সম্ভাব্য বাবাকে নিয়ে নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি দুই শিশুর মধ্যে মাত্র একজনের জৈবিক বাবা। দ্বিতীয় শিশুর সঙ্গে তার কোনো জৈবিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। এরপর তরুণীর মনে পড়ে, গর্ভধারণের সম্ভাব্য সময়ের কাছাকাছি তিনি আরেক ব্যক্তির সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে দ্বিতীয় ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, তিনি অন্য শিশুটির জৈবিক বাবা। তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার ফল দেখে তিনি নিজেও বিস্মিত হয়ে যান। তিনি জানান, তিনি জানতেনই না যে একই গর্ভধারণে যমজ দুই শিশুর বাবা আলাদা হতে পারেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুই শিশুকে দেখতে অনেকটাই একই রকম। মামলাটি অনুসরণকারী চিকিৎসক তুলিও ফ্রাঙ্কো, ফ্যাকালদাদে মরগানা পোট্রিচের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, ব্যাখ্যা করেন যে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে হলে একই মাসিক চক্রে একজন নারীর দুটি ডিম্বাণু নিঃসরণ করতে হয়। এরপর উর্বর সময়ের কাছাকাছি সময়ে দুই ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দিয়ে ওই দুটি ডিম্বাণু নিষিক্ত হলে দুই ভিন্ন পুরুষের সন্তান একই গর্ভে বেড়ে উঠতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুই শিশু অভিন্ন যমজ নয়, বরং ভ্রাতৃযমজ বা দ্বিযুগ্ম যমজ। অর্থাৎ, তারা দুটি আলাদা ডিম্বাণু ও দুটি আলাদা শুক্রাণু থেকে তৈরি হয়। ফলে তাদের মধ্যে জিনগত মিল সাধারণ ভাই-বোনের মতোই হয়। তবে তারা একই মায়ের গর্ভে একই সময়ে বেড়ে ওঠে। বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও হেটেরোপ্যাটারনাল যমজের এমন ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘সুপারফেকান্ডেশন’ বলতে একই মাসিক চক্রে একাধিক ডিম্বাণু ভিন্ন সময়ে নিষিক্ত হওয়াকে বোঝায়। আর যখন ওই ডিম্বাণুগুলো ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়, তখন তাকে হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন বলা হয়। মানুষের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বিরল। মাইনেইরোসের এই ঘটনায় চিকিৎসক তুলিও ফ্রাঙ্কো জানিয়েছিলেন, সে সময়ের প্রাথমিক চিকিৎসা-সাহিত্যে এমন প্রায় ২০টি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া গিয়েছিল। তবে এ সংখ্যা বিশ্বব্যাপী প্রকৃত ঘটনার নির্ভুল হিসাব নয়, কারণ এমন ঘটনা সাধারণত ডিএনএ পরীক্ষা না করা পর্যন্ত শনাক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না। এ ধরনের ঘটনা শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যমজ সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দুই শিশুরই নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ২০২০ সালে কলম্বিয়ায় প্রকাশিত একটি চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণাতেও ভিন্ন বাবার যমজ সন্তানের একটি ঘটনা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছিল। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, পিতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু একজন যমজের পরীক্ষা করলে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। মাইনেইরোসের ওই ঘটনায় দুই শিশুই একই মায়ের সন্তান হলেও তাদের জৈবিক বাবা আলাদা। আর দুই শিশুকে দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় বিষয়টি আরও বিস্ময় তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত ডিএনএ পরীক্ষাই নিশ্চিত করে দেয়, একই গর্ভধারণে জন্ম নেওয়া দুই যমজের পিতৃত্বের গল্প এক নয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে একটি ইসলামিক সেন্টারকে লক্ষ্য করে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া হুমকি ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা কেয়ার-এলএ। সংগঠনটির অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্যের ভিত্তিতে একটি ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইসলামোফোবিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যার পর মসজিদ ও মুসল্লিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকিও দেখা দিয়েছে। কেয়ার-এলএ চলতি সপ্তাহে এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে একটি অনলাইন ‘অ্যান্টি-মুসলিম স্মিয়ার ক্যাম্পেইন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গার্ডেন গ্রোভে অবস্থিত ইসলামিক সোসাইটি অব অরেঞ্জ কাউন্টি বা আইএসওসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো পোস্টে অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটি মসজিদের কাছে আরও কয়েকটি ভবন কিনে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রযোজ্য নয় এমন একটি ‘প্যারালাল সোসাইটি’ তৈরির চেষ্টা করছে। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেয়ার-এলএ বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্যের কারণে মসজিদ ও এর মুসল্লিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং উদ্বেগজনক সহিংসতার হুমকি বেড়েছে। কেয়ার-এলএর নির্বাহী পরিচালক হুসাম আইলুশ আইএসওসিকে অরেঞ্জ কাউন্টিতে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও কমিউনিটি সার্ভিসের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটিকে লক্ষ্য করে এমন হুমকি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় মুসলিমরা ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষ ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন। আইলুশ আরও বলেন, ইসলামোফোবিক বক্তব্য শুধু অনলাইনে সীমাবদ্ধ থাকে না। এ ধরনের বক্তব্য বাস্তব জীবনে সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো মৌলিক মার্কিন মূল্যবোধ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অরেঞ্জ কাউন্টির ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ক্যালিফোর্নিয়ার মুসলিম কমিউনিটি কয়েক মাসের ব্যবধানে আরেকটি ভয়াবহ ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। গত ১৮ মে সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত হন। দুই কিশোর সন্দেহভাজনও পরে আত্মঘাতী গুলিতে মারা যায়। সান ডিয়েগো পুলিশ ও এফবিআই ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হেট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করেছে। কেয়ার-এলএর অভিযোগ অনুযায়ী, অরেঞ্জ কাউন্টির ইসলামিক সেন্টারকে ঘিরে অনলাইনে ছড়ানো দাবিগুলোও একই ধরনের বিদ্বেষমূলক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে অনলাইনে করা প্রতিটি মন্তব্য বা হুমকির পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো চূড়ান্ত তদন্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে এপ্রিলেও কেয়ার-এলএ ইসলামিক সোসাইটি অব অরেঞ্জ কাউন্টিকে ঘিরে অনলাইনে ছড়ানো হুমকি ও ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছিল। স্থানীয় কংগ্রেস সদস্যরাও তখন সহিংসতার হুমকির নিন্দা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানান। স্থানীয় মুসলিম নেতারা বলছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে মতবিরোধ বা সমালোচনা থাকতেই পারে। কিন্তু ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণা, হুমকি বা সহিংসতার আহ্বান পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। এ কারণে অনলাইনে ছড়ানো এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে সতর্কতা এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ছয় বছর বসবাসের পর সন্তানদের নিয়ে আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টের শেষ দিকে তারা যুক্তরাজ্যে গিয়ে একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে বসবাস শুরু করতে পারেন। তাদের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেট আগামী সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যের স্কুলে পড়াশোনা শুরু করবে। তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ তারা আবার কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন, এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। ২০২০ সালে রাজপরিবারের সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার পর হ্যারি ও মেগান যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এবার তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরার পেছনে সবচেয়ে স্পষ্ট কারণ হিসেবে সামনে এসেছে সন্তানদের শিক্ষা। আর্চি ও লিলিবেটকে ইতোমধ্যে ব্রিটিশ স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে এবং সেপ্টেম্বর থেকেই তাদের নতুন শিক্ষাজীবন শুরু হওয়ার কথা। হ্যারি ও মেগান যুক্তরাজ্যে কোনো রাজকীয় সম্পত্তিতে উঠবেন না। বরং লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত, রাজপরিবারের সম্পত্তির বাইরে থাকা বাড়িতে বসবাস করবেন বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোর বাড়ির সঙ্গে সম্পর্কও পুরোপুরি ছিন্ন হচ্ছে না। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সম্পূর্ণ বিদায় নাকি দুই দেশের মধ্যে বসবাসের নতুন ব্যবস্থা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এই প্রত্যাবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাজপরিবারের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্ক। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর সাম্প্রতিক সময়ে তার বাবা কিং চার্লসের সঙ্গে যোগাযোগ কিছুটা বেড়েছে। গত জুলাইয়ে হ্যারি, মেগান ও তাদের দুই সন্তান হাইগ্রোভে কিং চার্লস ও কুইন ক্যামিলার সঙ্গে দেখা করেন। ২০২২ সালের পর সেটিই ছিল চার্লসের সঙ্গে আর্চি ও লিলিবেটের প্রথম সাক্ষাৎ। কিং চার্লসকে তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে গত রোববার জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে হ্যারি-মেগান গত মাসে যুক্তরাজ্য সফরের সময় তাকে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানাননি বলেও খবর এসেছে। হ্যারির জন্য যুক্তরাজ্যে থাকা শুধু পারিবারিক বিষয় নয়। তার গুরুত্বপূর্ণ দাতব্য উদ্যোগ ইনভিক্টাস গেমসের সঙ্গেও ব্রিটেনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৭ সালের ইনভিক্টাস গেমস বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে যুক্তরাজ্যে তার ব্যক্তিগত ও দাতব্য কর্মকাণ্ডও আগের তুলনায় বেশি সময় দাবি করতে পারে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে হ্যারির দীর্ঘদিনের উদ্বেগও এই প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজপরিবারের দায়িত্ব ছাড়ার পর যুক্তরাজ্যে তার সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি আইনি লড়াই করেছেন। চলতি বছরের শুরুতেও পরিবারকে নিয়ে ব্রিটেনে ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছিল। হ্যারি ও মেগান ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়ার পর রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়। ২০২১ সালের অপরাহ উইনফ্রে সাক্ষাৎকার, হ্যারির স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’ এবং নিরাপত্তা নিয়ে আইনি লড়াই সেই সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে অন্তত কিং চার্লসের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে যুক্তরাজ্যে ফিরলেও হ্যারি ও মেগান আগের রাজকীয় দায়িত্বে ফিরছেন না। ২০২০ সালের চুক্তি অনুযায়ী তারা নন-ওয়ার্কিং রয়্যাল হিসেবেই থাকবেন। অর্থাৎ রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তন হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে রাজকীয় দায়িত্ব পালনের কোনো নতুন ঘোষণা নেই। সব মিলিয়ে সন্তানদের শিক্ষা, যুক্তরাজ্যে পারিবারিক যোগাযোগ এবং হ্যারির দাতব্য কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই এই প্রত্যাবর্তন সবচেয়ে বেশি ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। ছয় বছর পর তাদের এই সিদ্ধান্ত রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।