আমেরিকা

পাইলট সংকট কাটাতে আটলান্টার স্কুলে বিমানচালনা প্রশিক্ষণ

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১০:৪১
বিমানশিল্পে কর্মীর সংকট দূর করতে মেট্রো আটলান্টার বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পাইলট হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
বিমানশিল্পে কর্মীর সংকট দূর করতে মেট্রো আটলান্টার বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পাইলট হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিমানশিল্পে কর্মীর সংকট বাড়তে থাকায় মেট্রো আটলান্টার বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পাইলট ও বিমানশিল্পের কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। জাতীয় বিমান দিবস উপলক্ষে বিমানশিল্পে কর্মীর ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিষয়টি সামনে এসেছে।

 

জর্জিয়ার গুইনেট কাউন্টির ম্যাক্সওয়েল উচ্চবিদ্যালয়ের বিমান পরিচালনা কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের বিমান চালনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচিটির প্রশিক্ষক লিন্ডা মাইনর নিজেও ছোটবেলা থেকে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার বাবা ও ভাই বিমান চালাতেন এবং তার স্বামী ও ছেলেরাও বিমান চালনার সঙ্গে যুক্ত।

 

ম্যাক্সওয়েল উচ্চবিদ্যালয়ের এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আভা হিল জানান, কিশোর বয়সেই এমন প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এ ধরনের সুযোগ না থাকলে পাইলটের সনদ অর্জন ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেতে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে।

 

ফুলটন, ডিকালব ও ক্লেটন কাউন্টির স্কুল জেলাগুলোতেও বিমানচালনা বিষয়ক কর্মসূচি চালু রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন অনুমোদিত বিমানচালনা সিমুলেটর ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নেয়। সিমুলেটরে প্রশিক্ষণের কিছু সময় পাইলটের সনদ অর্জনের প্রয়োজনীয় সময়ের হিসাবেও যুক্ত হতে পারে।

 

এসব কর্মসূচির সাবেক শিক্ষার্থীদের কেউ বাণিজ্যিক ও সামরিক পাইলট হয়েছেন। কেউ বোয়িং ও লকহিড মার্টিনে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন। আবার কেউ ডেল্টা এয়ার লাইন্সের কারিগরি পরিচালনা বিভাগে যুক্ত হয়েছেন।

 

বিমানশিল্পে নতুন কর্মীর প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বাড়ছে। বোয়িংয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে চাহিদা পূরণ করতে প্রায় ২৫ লাখ নতুন বিমানশিল্প পেশাজীবীর প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার পাইলটের প্রয়োজন হতে পারে।

 

তবে বিমানশিল্পে শুধু পাইলটেরই চাহিদা নেই। প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু এবং বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকদেরও প্রয়োজন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন এপ্রিল মাসের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, পরবর্তী তিন বছরে প্রায় ৭ হাজার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে।

 

লিন্ডা মাইনরের মতে, বিমানশিল্পকে শুধু পাইলটের পেশা হিসেবে দেখলে এই খাতের বড় একটি অংশ বাদ পড়ে যায়। বিমান তৈরি, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।

 

জর্জিয়াতেও বিমানশিল্প বড় কর্মসংস্থান ক্ষেত্রগুলোর একটি বলে জানান মাইনর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে বিমান তৈরি, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো বিভিন্ন কাজের সুযোগ রয়েছে। গালফস্ট্রিম ও লকহিডের মতো প্রতিষ্ঠানও সেখানে বিমানশিল্পের সঙ্গে যুক্ত।

 

মাইনর মনে করেন, তার শিক্ষার্থীদের অর্জিত দক্ষতা ভবিষ্যতে বিমানশিল্পের ক্রমবর্ধমান কর্মী চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষার্থীদের কেউ ইতোমধ্যে বিমানচালক হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, আবার অনেকে বিমানশিল্পের অন্যান্য পেশার দিকেও এগিয়ে যেতে পারেন।

 

জাতীয় বিমান দিবসের সময়ে আটলান্টার উচ্চবিদ্যালয়গুলোর এসব কর্মসূচি তাই ভবিষ্যৎ বিমানশিল্পের কর্মী তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। শিল্পে পাইলটের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুল পর্যায় থেকেই প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসি প্রেসিডেন্টের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে চলমান বিরোধ আরও তীব্র করল যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালতের সিনিয়র ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন।   নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আকানে ও সেয়ের কোনো সম্পদ থাকলে তা জব্দ বা ফ্রিজ করা হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় তাদের প্রবেশাধিকারও কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।   মার্কো রুবিওর অভিযোগ, আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার স্বীকার করেনি এমন দেশের কর্মকর্তাদের তদন্ত, গ্রেপ্তার বা বিচারের আওতায় আনার প্রচেষ্টায় আকানে ও সেয়ে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কোনো দেশ আইসিসির এখতিয়ার মেনে না নিলে সেই দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে আদালতের এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।   নিষেধাজ্ঞার পেছনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। গাজা যুদ্ধ ঘিরে কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।   নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা আবদুলায়ে সেয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে জাপানের নাগরিক তোমোকো আকানে ২০২৪ সাল থেকে আইসিসির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসি প্রতিষ্ঠাকারী রোম স্ট্যাটিউটের সদস্য হয়নি। ফলে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নাগরিকদের ওপর এই আদালতের বিচারিক ক্ষমতা থাকার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের মতো আইসিসির সদস্য নয় এমন দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের পদক্ষেপ জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ।   তবে আইসিসির যুক্তি ভিন্ন। রোম স্ট্যাটিউটের অধীনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি সদস্য নয় এমন দেশের নাগরিক হলেও আদালত বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।   নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক আদালতটি। আইসিসি বলেছে, এ ধরনের ব্যবস্থা আদালতের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এবং আইনের শাসনকে দুর্বল করে। আদালত তার কর্মকর্তা ও কর্মীদের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপানও সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছে। জাপান সরকার তাদের নাগরিক ও আইসিসি প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে 'অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক' বলে উল্লেখ করেছে। নেদারল্যান্ডসও নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আইসিসির এই বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও আদালতের প্রধান প্রসিকিউটরসহ একাধিক বিচারক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন। আফগানিস্তানে মার্কিন কর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির তদন্ত এবং গাজা যুদ্ধ ঘিরে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের পদক্ষেপের পর দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিসির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কো রুবিও। যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য আদালতটিকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে সদস্য দেশগুলোকে আইসিসি থেকে সরে আসতে চাপ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।   অন্যদিকে আইসিসি বলছে, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপের মুখেও যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব থেকে তারা সরে আসবে না। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন আরও গভীর হলো।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১১:৪৬
আলাস্কার ইউএস সিনেট প্রাইমারিতে বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানকে (বামে) পেছনে ফেলে বড় চমক দেখিয়েছেন মেরি পেল্টোলা (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

আলাস্কায় দলনিরপেক্ষ সিনেট প্রাইমারিতে সুলিভানকে পেছনে ফেললেন ডেমোক্র্যাট মেরি পেল্টোলা

বিমানশিল্পে কর্মীর সংকট দূর করতে মেট্রো আটলান্টার বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পাইলট হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

পাইলট সংকট কাটাতে আটলান্টার স্কুলে বিমানচালনা প্রশিক্ষণ

রোগীদের চিকিৎসা নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে হিউস্টনের সাবেক ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসক ডা. জন স্টিভেনসন বাইনন জুনিয়রের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

রোগীর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট ঠেকানোর অভিযোগ, সেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা

গ্রিন কার্ড থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ নিশ্চিত হয় না বলে ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ থেকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পরও এই ৩ ভুলে আটকে যেতে পারে নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর অনেকেই মনে করেন নাগরিকত্বের পথ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। বাস্তবে গ্রিন কার্ড থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিটিজেনশিপ নিশ্চিত হয় না। দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা, নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ট্যাক্স ফাইল করা কিংবা আইনগত অধিকার না থাকা অবস্থায় ভোট দেওয়ার মতো বিষয় ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের আবেদনে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।   ২০২৬ সালের কার্যকর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ন্যাচারালাইজেশনের সময় ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিক বসবাস, বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস, ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য এবং ভোট দেওয়া বা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের মতো বিষয় যাচাই করতে পারে।   প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা। সাধারণ নিয়মে নাগরিকত্বের জন্য একজন গ্রিন কার্ডধারীকে নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিকভাবে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হয়। অধিকাংশ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই সময় পাঁচ বছর। মার্কিন নাগরিকের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে তিন বছরের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।   তবে একটানা ছয় মাসের বেশি কিন্তু এক বছরের কম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলেই যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে যাবে বা নাগরিকত্বের যোগ্যতা শেষ হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের অনুপস্থিতি ন্যাচারালাইজেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাস ভেঙে গেছে বলে ধরে নেওয়ার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তখন আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রেই তার স্থায়ী বসবাস বজায় ছিল।   আর একটানা এক বছর বা তার বেশি দেশের বাইরে থাকা সাধারণভাবে নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাসে আরও বড় বাধা তৈরি করে। একই সঙ্গে দীর্ঘ অনুপস্থিতি গ্রিন কার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা স্ট্যাটাস বজায় রাখা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।   এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা রয়েছে। রি-এন্ট্রি পারমিট থাকলেই নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্ষা হয় না। রি-এন্ট্রি পারমিট মূলত দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দার উদ্দেশ্য প্রমাণে সহায়ক হতে পারে। নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক পরিস্থিতিতে ধারাবাহিক বসবাস সংরক্ষণের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে।   দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ট্যাক্স রিটার্ন। আইআরএসের ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে বৈধ গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তি ফেডারেল ট্যাক্সের ক্ষেত্রে রেসিডেন্ট এলিয়েন হিসেবে বিবেচিত হন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মতোই বিশ্বব্যাপী আয় রিপোর্ট করার নিয়মের আওতায় পড়েন।   তাই কোনো গ্রিন কার্ডধারী ভুলভাবে নিজেকে নন-রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে ট্যাক্স রিটার্ন করলে বিষয়টি পরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এমন অবস্থান যদি যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে দাবি করার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হতে পারে।   তবে ট্যাক্সের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ও আন্তর্জাতিক ট্যাক্স ট্রিটির নিয়ম থাকতে পারে। ফলে সব পরিস্থিতিতে একই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য নয়। বিদেশে আয়, দ্বৈত ট্যাক্স রেসিডেন্সি বা ট্যাক্স ট্রিটির সুবিধা নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ ট্যাক্স পেশাজীবী বা ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   তৃতীয় এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি হলো ভোট দেওয়া। গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজের অধিকার দিলেও এটি মার্কিন নাগরিকত্ব নয়। ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তির ভোট দেওয়া বেআইনি। ইউএসসিআইএস ২০২৫ সালে ন্যাচারালাইজেশন সংক্রান্ত নীতিমালায় বেআইনি ভোট, বেআইনিভাবে ভোটার রেজিস্ট্রেশন এবং নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করার বিষয়গুলো নিয়ে নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করেছে।   তবে এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি ধরনের নির্বাচনের নিয়ম এক নয়। কিছু অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানীয় নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তাই "গ্রিন কার্ডধারী কোনো নির্বাচনেই ভোট দিতে পারবেন না" এমন সার্বিক বক্তব্য সঠিক নয়। কিন্তু ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ এবং অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে ভোট দিলে গুরুতর ইমিগ্রেশন পরিণতি হতে পারে।   বিশেষ করে ভোটার রেজিস্ট্রেশনের সময় নিজেকে ভুলভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বেআইনি ভোট বা মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি কিছু ক্ষেত্রে শুধু ন্যাচারালাইজেশন আবেদনকেই প্রভাবিত করে না, ডিপোর্টেশনের আইনি ভিত্তিও তৈরি করতে পারে।   তাই গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের প্রস্তুতি শুধু এন-৪০০ ফর্ম জমা দেওয়ার সময় শুরু হয় না। বিদেশে কতদিন থাকা হচ্ছে, ট্যাক্স কীভাবে ফাইল করা হচ্ছে এবং ভোট বা ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতা কী, এসব বিষয়ে শুরু থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি।   কোনো ভুল ইতোমধ্যে হয়ে থাকলে তা গোপন করার পরিবর্তে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে যোগ্য ইমিগ্রেশন আইনজীবীর সঙ্গে নিজের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা নিরাপদ। কারণ একই ঘটনা একজনের ক্ষেত্রে সামান্য ব্যাখ্যার বিষয় হলেও অন্য কারও ক্ষেত্রে তার ইমিগ্রেশন ইতিহাস ও পরিস্থিতির কারণে গুরুতর আইনি সমস্যা তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৯:৫২
পাঁচ শতাধিক পেশার মানুষের মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মধ্যে ক্যানসারে মৃত্যুর অনুপাত সবচেয়ে বেশি। ছবি: সংগৃহীত

আকাশে লুকিয়ে থাকা বিপদ, ক্যানসারে মৃত্যু ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে মিশিগান থেকে ইউএস সিনেটের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হয়েছেন আবদুল এল সাইদ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার ইতিহাস গড়তে চলেছেন এল সাইদ!

ভালোবাসার মানুষ ডনেলের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছিলেন নিউইয়র্কের চিকিৎসক রিচার্ড বাতিস্তা। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীকে বাঁচাতে দিয়েছিলেন কিডনি, ডিভোর্স চাইতেই ফেরত কিডনি চাইলেন স্বামী

বর কনে বিমান থেকে লাফ। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ১৪ হাজার ফুট ওপরে বিয়ের শুরু, আকাশ থেকে লাফ দিয়ে নতুন জীবনে বর-কনে

বিয়ের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের এক যুগল বেছে নিয়েছেন একেবারেই ভিন্ন পথ। প্রচলিতভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু না করে স্কাইডাইভার মাইকেল মিসরুন ও মেগান ওয়ালশ আকাশে উড়ে যান এবং প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে লাফ দিয়ে শুরু করেন তাদের বিশেষ দিনের আয়োজন।   নিউইয়র্কের ফিঙ্গার লেকস অঞ্চলের স্কাইডাইভ সেনেকা লেকের সঙ্গে যুক্ত মাইক ও মেগান দুজনই অভিজ্ঞ স্কাইডাইভার। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে তাদের অভিনব বিয়ের আয়োজনের কথা উঠে এসেছে।   সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল, শুধু বর-কনেই নন, তাদের বিয়ের কয়েকজন অতিথিও এই আকাশযাত্রায় অংশ নেন। বিমান থেকে লাফ দেওয়ার পর ঘণ্টায় প্রায় ১২০ মাইল গতিতে ফ্রি ফল করেন তারা। পরে প্যারাসুট খুলে নিরাপদে মাটিতে নেমে আসেন।   বিশেষ এই দিনের জন্য মেগানের বিয়ের পোশাকও ছিল আলাদা। স্কাইডাইভিংয়ের সময় নিরাপদে ব্যবহার করা যায় এমনভাবে পরিবর্তন করা একটি সাদা বিয়ের পোশাক পরেছিলেন তিনি। আকাশ থেকে লাফ দেওয়ার সময় তার হাতে ছিল ফুলের তোড়াও।   অন্যদিকে মাইক লাফ দেন স্যুট পরে। কয়েক হাজার ফুট ওপরে বিমান থেকে একসঙ্গে ঝাঁপ দেওয়ার পর দুজনই নিরাপদে নির্ধারিত স্থানে অবতরণ করেন।মাটিতে নামার পরও ছিল আরেক চমক। প্যারাসুটের আড়ালে মেগান স্কাইডাইভিংয়ের জন্য তৈরি পোশাক বদলে মূল বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য আরেকটি বিয়ের পোশাক পরে নেন। এরপর পরিবার ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে চলে তাদের বিয়ের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা।   স্কাইডাইভিংয়ের সঙ্গে মাইক ও মেগানের সম্পর্ক অবশ্য শুধু পেশাগত নয়। তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তও জড়িয়ে আছে আকাশের সঙ্গে। মাইক মেগানকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন স্কাইডাইভিংয়ের সময় আকাশে থাকা অবস্থায়।   তাই বিয়ের দিনেও সেই গল্পের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন তারা। যে আকাশে তাদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় শুরু হয়েছিল, সেখান থেকেই লাফ দিয়ে এবার শুরু করলেন দাম্পত্য জীবন।   মাইকেল মিসরুন ও মেগান ওয়ালশের স্কাইডাইভিং অভিজ্ঞতার বিষয়টি অন্য নথিতেও পাওয়া যায়। ইয়েটস কাউন্টির সরকারি নথিতে দুজনকে স্কাইডাইভ সেনেকা লেকের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিউইয়র্কের ফিঙ্গার লেকস অঞ্চলে ১১ হাজার থেকে ১৪ হাজার ফুট পর্যন্ত উচ্চতা থেকে স্কাইডাইভিংয়ের সুযোগ দিয়ে থাকে।   তাদের বিয়ের ভিডিও ও ছবি প্রকাশের পর অভিনব আয়োজনটি নজর কেড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। সাধারণত যেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বর-কনের প্রবেশ নিয়েই থাকে বিশেষ আয়োজন, সেখানে মাইক ও মেগান নিজেদের নতুন জীবনের শুরুটাই করলেন হাজার হাজার ফুট ওপর থেকে একসঙ্গে ঝাঁপ দিয়ে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৯:১৫
কেন্টাকির লুইসভিলের বাসিন্দাআরমেল বন্ডোঙ্গা এবং টেরেন্স ব্র্যাডশকেতাদের শিশু ছবি:সংগৃহীত।

গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে শিশু সন্তানের সামনেই আইসের হাতে আটক মা

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবি:সংগৃহীত।

টিকটকে মামদানিকে ট্যাগ করে দেখালেন দুই গর্ত, কাজ শেষে ফিরে দেখলেন দুটিই মেরামত

আমেরিকার আইস ছবি:সংগৃহীত

গির্জা, মসজিদ, মন্দিরে আইসের অভিবাসন অভিযান সীমিত রাখার আদেশ বহাল মার্কিন আপিল আদালতের

0 Comments