সবজি বিক্রি বাড়াতে দোকানের সামনে নাচের আয়োজন, চেন্নাইয়ে ভিডিও ভাইরাল
ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিক্রি বাড়াতে ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের প্রচলিত ও অভিনব কৌশল ব্যবহার করেন। তবে সবজি বিক্রির জন্য দোকানের সামনে নৃত্যশিল্পী এনে নাচানোর ঘটনা বেশ ব্যতিক্রমী। ভারতের চেন্নাইয়ে এমনই এক অভিনব প্রচারণার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সবজির দোকানের সামনে শাড়ি পরা এক তরুণী বলিউডের জনপ্রিয় গান ‘ছম্মক ছল্লো’র তালে নাচছেন। তার পেছনে সারি করে রাখা রয়েছে আলু ও পেঁয়াজের বস্তা। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনের দৃষ্টি তখন পুরোপুরি ওই নৃত্য পরিবেশনার দিকে।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, দোকানের ভেতরে বসে থাকা সবজি বিক্রেতা ওই নাচ উপভোগ করছেন। কখনও তাকে হাসতে, আবার কখনও হাততালি দিতে দেখা যায়। অপ্রত্যাশিত এই আয়োজন দেখতে দোকানের সামনে পথচারী ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের ভিড়ও জমতে দেখা যায়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা এবং দোকানের বিক্রি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এমন ব্যতিক্রমী প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণত সবজির দোকানে ক্রেতা টানতে দাম কমানো, বিশেষ ছাড় বা বিভিন্ন ধরনের অফারের প্রচলন থাকলেও এখানে নাচকে প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
‘ছম্মক ছল্লো’ গানটি শাহরুখ খান ও কারিনা কাপুর অভিনীত ২০১১ সালের বলিউড সিনেমা Ra.One-এর অন্যতম পরিচিত গান। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন আকন ও হামসিকা আইয়ার। গানটি মুক্তির পর থেকেই ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ব্যাপক পরিচিতি পায়।
চেন্নাইয়ে এই ধরনের জনপ্রচারণার নজির একেবারে নতুন নয়। শহরটিতে অতীতেও জনপ্রিয় গানের সঙ্গে জনসমক্ষে নাচ ও ফ্ল্যাশ মবের আয়োজন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।তবে এবারের ভিডিওটির বিশেষত্ব হলো—কোনো মঞ্চ, অনুষ্ঠান বা উৎসবের পরিবর্তে একটি সাধারণ সবজির দোকানকে ঘিরেই নৃত্য পরিবেশনার আয়োজন করা হয়েছে। ফলে এটি শুধু দোকানের সামনে উপস্থিত মানুষের নজর কাড়েনি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কৌতূহল তৈরি করেছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে ক্রেতা আকর্ষণের অভিনব বিপণন কৌশল হিসেবে দেখছেন। ব্যবসায় প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট ব্যবসায়ীরাও এখন প্রচলিত বিজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে মানুষের নজর কাড়ার নতুন উপায় খুঁজছেন। চেন্নাইয়ের এই সবজি বিক্রেতার উদ্যোগ সেই প্রবণতারই একটি মজার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, দোকানটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান কোথায় এবং এই প্রচারণার পর বাস্তবে সবজি বিক্রি কতটা বেড়েছে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দাবিগুলোকে সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই দেখা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করেছে দেশটির সামরিক-সমর্থিত সরকার। তবে রাখাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে না বলে জানিয়েছে মিয়ানমার। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনের জন্য মোট ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার নাম পাঠিয়েছিল। এর মধ্যে যাচাই শেষে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এই স্বীকৃতির পরও প্রত্যাবাসনের পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি। মিয়ানমারের বক্তব্য, রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরই প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হবে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। তাদের বড় অংশ ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপর থেকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শিবিরে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের এই নতুন যাচাইকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও প্রত্যাবাসনের বাস্তব পরিবেশ নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়েছে। ফলে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও তাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, ফ্রান্স-বেলজিয়াম-গ্রিসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
সবজি বিক্রি বাড়াতে দোকানের সামনে নাচের আয়োজন, চেন্নাইয়ে ভিডিও ভাইরাল
চারবার গুলিবিদ্ধ হয়েও ৯১১-এ ফোন, ১৩ বছরের কিশোরীর সাহসিকতায় মুগ্ধ মিশিগান
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রাশ কাউন্টিতে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে দুই বছরের শিশু আলায়না পরিবারের বাড়ির বেসমেন্টে পানিতে ডুবে যায়। ঘটনাটি ঘটে ১২ আগস্ট সন্ধ্যায়, যখন প্রবল বৃষ্টিতে এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দেয়। শিশুটিকে বেসমেন্টে ডুবে থাকতে দেখে তার ১৩ বছরের ভাই দ্রুত জরুরি নম্বরে ফোন করে। একই সময়ে মা শিশুটিকে উদ্ধারের পর জীবন বাঁচানোর জন্য সিপিআর দিতে শুরু করেন। কিন্তু বন্যার পানিতে বাড়িটির চারপাশের রাস্তা এতটাই ডুবে গিয়েছিল যে উদ্ধারকারী দলের ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় এক কৃষক ট্রাক্টর নিয়ে উদ্ধারকারীদের বাড়িতে পৌঁছাতে সহায়তা করেন এবং পরে পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন। উদ্ধারকারীরা শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর ইন্ডিয়ানাপোলিসের একটি হাসপাতালে আকাশপথে পাঠান। গুরুতর অবস্থায় তাকে শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য যন্ত্রের সহায়তা দেওয়া হয়। তবে ১৬ আগস্ট পরিবারের জন্য আসে আশার খবর। শিশুটি যন্ত্রের সহায়তা ছাড়াই নিজে থেকে শ্বাস নিতে শুরু করেছে। পরিবার জানিয়েছে, সামনে এখনও দীর্ঘ চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার পথ রয়েছে, তবে শিশুটির এই উন্নতিকে তারা বড় জয় হিসেবে দেখছেন। রাশ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্তে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হয়েছে। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও মায়ের দ্রুত পদক্ষেপ, কিশোর ভাইয়ের জরুরি ফোন এবং স্থানীয় কৃষকের সহায়তা শিশুটিকে বাঁচানোর প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭৩ বছরের দাম্পত্যের ইতি, আগুনে প্রাণ গেল বৃদ্ধ দম্পতির
মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা
টানা তিনবার ট্রাম্পকে ভোট, এবার ইমিগ্রেশন অভিযানে আটক নিজেরই স্ত্রী
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি কুইন্সের ফ্লোরাল পার্কে অনুষ্ঠিত কুইন্স ইন্ডিয়া ডে প্যারেডে অংশ নিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতি ও প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে নিজের সংযোগের কথা তুলে ধরেছেন। ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ ও স্মরণীয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনুষ্ঠানের কয়েকটি ছবি নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করে মামদানি লিখেছেন, তিনি এই সপ্তাহান্তে আবারও ফ্লোরাল পার্কে ফিরেছিলেন কুইন্স ইন্ডিয়া ডে প্যারেডে অংশ নিতে। তবে এবার তাঁর পরিচয় ছিল ভিন্ন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে এবং নিজের ভাষায়, শহরের প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র হিসেবে তিনি এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। মামদানি লিখেছেন, ‘এটি এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা আমি কখনো ভুলব না।’ প্যারেডে ভারতীয় সংস্কৃতির নানা রঙের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ভারতের স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। মামদানিকেও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কমিউনিটি সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে মামদানি নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র ডেভিড ডিনকিন্সের একটি পরিচিত বর্ণনার কথাও স্মরণ করেন। ডিনকিন্স নিউইয়র্ককে একসময় ‘গর্জিয়াস মোজাইক’ বা অসংখ্য সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অপূর্ব সমন্বয় হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ফ্লোরাল পার্কের এই আয়োজনে মামদানি বলেন, তিনি সেই বৈচিত্র্যেরই প্রতিচ্ছবি দেখেছেন ভারতীয় ডায়াস্পোরার মধ্যে। সেখানে হিন্দু, খ্রিস্টান, মুসলিম, জৈন, বৌদ্ধ ও শিখসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা উদযাপন করতে দেখা গেছে। তাঁদের উদ্দেশে মামদানি বলেন, নিউইয়র্ককে আজকের শহরে পরিণত করার ক্ষেত্রে ভারতীয় ডায়াস্পোরার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে পাশাপাশি কাজ করতে পারা তাঁর জন্য সম্মানের। মামদানির নিজের পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গেও ভারতীয় সংস্কৃতির একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মাহমুদ মামদানি ভারতীয় বংশোদ্ভূত গুজরাটি মুসলিম এবং তাঁর মা মীরা নায়ার ভারতীয় বংশোদ্ভূত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পাঞ্জাবি হিন্দু পরিবারের সন্তান। ছোটবেলায় তিনি পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কে চলে আসেন। এর আগে মেয়র নির্বাচনের সময়ও মামদানি তাঁর মায়ের পরিবারের হিন্দু ঐতিহ্য এবং ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে নিজের পরিচয়ের কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, দীপাবলি, হোলি ও রাখিবন্ধনের মতো ভারতীয় ঐতিহ্য তাঁর বেড়ে ওঠার অংশ ছিল। একই সঙ্গে তিনি নিজের মুসলিম পরিচয়কেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। ফলে ফ্লোরাল পার্কের এই আয়োজন মামদানির জন্য কেবল একজন মেয়র হিসেবে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিল না। নিজের পারিবারিক শিকড়, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং নিউইয়র্কের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে একই মঞ্চে উদযাপনের একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবেও এটি সামনে এসেছে। পোস্টের শেষদিকে ভারতীয় কমিউনিটির উদ্দেশে মামদানি লিখেছেন, ‘হ্যাপি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স ডে।’ তাঁর শেয়ার করা ছবিগুলোতেও সেই উদযাপনের আবহ স্পষ্ট। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা মানুষ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং উচ্ছ্বসিত কমিউনিটি সদস্যদের মাঝে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির উপস্থিতি যেন শহরটির বৈচিত্র্যময় পরিচয়েরই একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
কাজ শেষে ক্লান্তি কমাতে শপিং ছিল অভ্যাস, পে চেক টু পে চেক জীবন থেকে যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন শিক্ষিকা
মার্কিন নাগরিকত্বের পথে বাড়ছে খরচ, আবেদন ফি ১,৩৩০ ডলার করার প্রস্তাব