- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে ভবিষ্যতে গুনতে হতে পারে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৩০ ডলার। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস ন্যাচারালাইজেশনের আবেদন ফি বড় অঙ্কে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বর্তমানে থাকা কম ফি ও ফি মওকুফের সুযোগও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন ফি এখনো কার্যকর হয়নি। এটি একটি প্রস্তাবিত নিয়ম। ফলে বর্তমানে যারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করছেন, তাদের ১ হাজার ৩৩০ ডলার দিতে হচ্ছে না। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, নাগরিকত্বের জন্য এন-৪০০ ফর্ম কাগজে জমা দিলে ফি বর্তমান ৭৬০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করা হবে। অর্থাৎ ফি বাড়বে ৫৭০ ডলার, যা বর্তমান ফির তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি। অনলাইনে এন-৪০০ আবেদন করলে বর্তমানে ৭১০ ডলার লাগে। প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই ফি বেড়ে ১ হাজার ২৮০ ডলার হবে। কিছু প্রতিবেদনে এই অর্থকে নতুন ‘পাসপোর্ট ফি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সেটি সঠিক নয়। ১ হাজার ৩৩০ ডলারের প্রস্তাবটি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য নয়, বরং ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার এন-৪০০ আবেদনের ফি। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বর্তমান ফি অনুযায়ী, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী একজন ব্যক্তির প্রথমবার পাসপোর্ট বুকের জন্য আবেদন ফি ১৩০ ডলার। এর সঙ্গে ৩৫ ডলারের অ্যাকসেপ্টেন্স ফি দিতে হয়। অর্থাৎ প্রথমবার একজন প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর সাধারণ পাসপোর্ট বুকের মোট সরকারি ফি ১৬৫ ডলার। নাগরিকত্বের আবেদন এবং পাসপোর্ট আবেদন দুটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রক্রিয়া। নতুন প্রস্তাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বর্তমানে থাকা ৩৮০ ডলারের রিডিউসড ফি তুলে দেওয়া। বর্তমান নিয়মে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা যোগ্য আবেদনকারীরা পূর্ণ ফি না দিয়ে ৩৮০ ডলারে এন-৪০০ জমা দিতে পারেন। এ ছাড়া আর্থিক অসচ্ছলতার নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কিছু আবেদনকারী সম্পূর্ণ ফি মওকুফের সুযোগ পান। প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে এন-৪০০ এবং এন-৩৩৬-এর জন্য সাধারণ ফি ওয়েভারের সুযোগও বন্ধ হয়ে যাবে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনকারী বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের জন্য ন্যাচারালাইজেশনের ফি মওকুফের ব্যবস্থা বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে। নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ব্যবহৃত এন-৩৩৬ ফর্মের ফিও বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কাগজে আবেদন করলে প্রস্তাবিত ফি হবে ১ হাজার ৪৭৫ ডলার এবং অনলাইনে করলে ১ হাজার ৪২৫ ডলার। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বলছে, আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনার প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে ফি সামঞ্জস্য করা এবং ইউএসসিআইএসের আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতেই এই পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের কার্যক্রমের বড় অংশই আবেদনকারীদের দেওয়া ফি দিয়ে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিকত্ব প্রস্তুতি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন, ফি এতটা বাড়লে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক গ্রিন কার্ডধারীর জন্য নাগরিকত্বের আবেদন করা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে রিডিউসড ফি ও ফি ওয়েভার তুলে দেওয়া হলে আর্থিকভাবে দুর্বল আবেদনকারীদের ওপর প্রভাব বেশি পড়তে পারে। প্রস্তাবটি ২০২৬ সালের ২৩ জুন ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত দেওয়ার সময়সীমা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত রাখা হয়েছে। মতামত গ্রহণের পর সরকার চূড়ান্ত নিয়ম জারি করতে পারে, আবার প্রস্তাবে পরিবর্তনও আনতে পারে। তাই বর্তমানে নাগরিকত্বের আবেদন করতে ইচ্ছুক গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ১ হাজার ৩৩০ ডলারের ফি এখনো চালু হয়নি। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এন-৪০০ অনলাইনে জমা দিলে ৭১০ ডলার এবং কাগজে জমা দিলে ৭৬০ ডলার ফি প্রযোজ্য। যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য ৩৮০ ডলারের রিডিউসড ফি এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফি ওয়েভারের সুযোগও এখনো বহাল রয়েছে।
সন্তানের কাছে ভালো থাকবেন, শেষ বয়সটা কাটবে নিশ্চিন্তে - এমন আশা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা। কিন্তু নিউইয়র্কে তাদের কারও কারও জীবনের বাস্তবতা নাকি একেবারেই ভিন্ন। সন্তানদের কাছে থাকার পরও দিনের বেলা ঘরের বাইরে কাটানো, পার্কে বসে কান্না করা, এমনকি পরিচিত মানুষের কাছে চা-খাবারের জন্য এক থেকে দশ ডলার চাওয়ার মতো ঘটনা দেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি লাকি খানম। নিউইয়র্কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাকি খানম বলেন, রাস্তাঘাট ও পার্কে চলাফেরার সময় এমন একাধিক বয়স্ক বাংলাদেশির সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ সরাসরি তার কাছে সাহায্য চেয়েছেন। লাকি খানম বলেন, “আমাদের কাছেই হাত পাতে। বলে, দশটা টাকা দেবেন, চা খাব। একটা টাকা দেবেন - এমন কথাও শুনতে পাই।” তার দাবি, এসব বৃদ্ধের অনেককেই ছেলে-মেয়েরা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসেছেন। তাদের দেখাশোনার জন্য হোম কেয়ার সুবিধাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো কোনো পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা সেই সুবিধার সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিজের দেখা একটি ঘটনার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন লাকি খানম। নিউইয়র্কের একটি পার্কের পাশে এক বৃদ্ধের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বসে কথা বলেছিলেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ওই ব্যক্তি শিক্ষিত ও ভালো অবস্থানে ছিলেন। মেয়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় কেঁদেছিলেন। আরেকটি ঘটনার বর্ণনায় লাকি খানম দাবি করেন, এক বৃদ্ধ তাকে জানিয়েছেন, মেয়ে বন্ধুদের নিয়ে বাসায় খাওয়াদাওয়া করার পর চলে যান। পরে তাকেই থালা-বাসন পরিষ্কার করতে হয়। তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বৃদ্ধ বা তাদের পরিবারের বক্তব্য নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে নিউইয়র্কের সব বাংলাদেশি পরিবারের চিত্র হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই। লাকি খানম বিশেষভাবে পরিষ্কার করেছেন, তার অভিযোগ হোম কেয়ার ব্যবস্থা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, হোম কেয়ার কর্মীরা পরিশ্রম করেন এবং বয়স্কদের সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবস্থাকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেন। তার অভিযোগ সেইসব সন্তানের বিরুদ্ধে, যারা বাবা-মায়ের জন্য পাওয়া সুবিধা ব্যবহার করলেও তাদের যথাযথ যত্ন নেন না। লাকি খানম বলেন, “এজেন্সিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না। অভিযোগ হচ্ছে ছেলেমেয়েদের বিরুদ্ধে। টাকা দিচ্ছে, কিন্তু এরা পায় না।” নিউইয়র্কের আইনে বিষয়টি গুরুতর। বয়স্ক ব্যক্তির অর্থ বা সম্পদ অন্য কেউ অনুপযুক্তভাবে ব্যবহার করা কিংবা তাকে নিজের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করাও আর্থিক শোষণের আওতায় পড়তে পারে। একইভাবে খাবার, আশ্রয় বা প্রয়োজনীয় পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত করা অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্যও দেখাচ্ছে, বয়স্কদের নির্যাতন ও অবহেলা নিউইয়র্কে বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়। নিউইয়র্ক স্টেট অফিস ফর দ্য এজিংয়ের হিসাবে, রাজ্যটিতে প্রতিবছর আনুমানিক তিন লাখ ষাটোর্ধ্ব মানুষ কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে আর্থিক শোষণ এবং পরিচর্যাকারীর অবহেলাও রয়েছে। লাকি খানম নিজেও আগে হোম কেয়ারে কাজ করেছেন। তার বক্তব্য, সন্তানদের কর্মব্যস্ততা বাস্তব সমস্যা। কিন্তু বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সময় দেওয়া, যত্ন নেওয়া এবং সম্মানের সঙ্গে রাখার সামর্থ্য আছে কি না - সেটিও ভাবা প্রয়োজন। এ কারণেই বাংলাদেশে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উদ্দেশে কঠিন একটি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি - শুধু আমেরিকায় আসার সুযোগ আছে বলেই চলে আসবেন না, আগে ভাবুন এখানে এসে জীবনটা কেমন হবে। তার মতে, বাংলাদেশে হয়তো অর্থনৈতিক সুযোগ কম, কিন্তু পরিচিত পরিবেশে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে এসে দিনের বড় অংশ একাকী কাটাতে হলে শেষ বয়সে সেই প্রবাসজীবন অনেকের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে কোনো বৃদ্ধ ব্যক্তিকে অবহেলা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় খাবার-আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না কিংবা আর্থিকভাবে শোষণ করা হচ্ছে বলে সন্দেহ হলে নিউইয়র্ক সিটির অ্যাডাল্ট প্রোটেকটিভ সার্ভিসেসে অভিযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে। সংস্থাটি নির্যাতন, অবহেলা ও আর্থিক শোষণের ঝুঁকিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের অভিযোগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে। শেষ পর্যন্ত লাকি খানমের সাক্ষাৎকার নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে - বাবা-মাকে আমেরিকায় নিয়ে আসাই কি সন্তানের দায়িত্বের শেষ কথা? নাকি শেষ বয়সে তাদের হাতে প্রয়োজনীয় অর্থ, মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ, একটু সময় এবং সম্মানের জীবন নিশ্চিত করাটাই আসল দায়িত্ব? এই নিউজটি একজন অনলাইনভিত্তিক ব্লগারের সাক্ষাৎকারের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আমেরিকা বাংলা সরাসরি এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ পায়নি। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো তথ্য বা আপডেট পাওয়া গেলে তা পাঠকদের জানানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রোসারির দাম বাড়তে থাকায় পরিবারের মাসিক বাজেটে চাপও বাড়ছে। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এক বছরে বাসায় খাওয়ার জন্য কেনা খাবারের দাম ২.৭ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়ালমার্টসহ বিভিন্ন গ্রোসারি স্টোরে ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট পাওয়ার কয়েকটি অ্যাপ কাজে আসতে পারে। তবে কোনো অ্যাপ ব্যবহার করলেই বাজারের মোট খরচে নিশ্চিতভাবে ৩০ শতাংশ বা মাসে ১০০ থেকে ২০০ ডলার সাশ্রয় হবে, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে পণ্য, অফার, স্টোর ও লোকেশনের ওপর। আইবটা যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত ক্যাশব্যাক প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি আইবটা। ওয়ালমার্টসহ বিভিন্ন রিটেইলারে নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর ক্যাশব্যাক অফার পাওয়া যায়। ব্যবহারকারী প্রথমে অ্যাপে নিজের পছন্দের স্টোর নির্বাচন করে কেনাকাটার আগে যোগ্য অফারগুলো অ্যাকাউন্টে যোগ করতে পারেন। এরপর নির্ধারিত পণ্য কিনলে রিসিট সাবমিট করে ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়। কিছু স্টোরে লয়্যালটি অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকলে রিসিট আপলোডের প্রয়োজনও হয় না। ওয়ালমার্টের ক্ষেত্রেও আইবটা অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ওয়ালমার্ট অ্যাকাউন্ট যুক্ত করা যায়। ইন স্টোর, পিকআপ ও ডেলিভারির যোগ্য কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে। একই পণ্যের একই অফার আইবটা ও ওয়ালমার্ট ক্যাশ উভয় জায়গায় যোগ করলে দ্বিগুণ ক্যাশব্যাক পাওয়া যায় না। একই অফার একবারই রিডিম করা যায়। ফ্ল্যাশফুড খাবারের খরচ কমানোর আরেকটি উপায় ফ্ল্যাশফুড। এটি প্রচলিত রিসিট ক্যাশব্যাক অ্যাপের চেয়ে কিছুটা আলাদা। অংশগ্রহণকারী গ্রোসারি স্টোরগুলো যেসব খাবার দ্রুত বিক্রি করতে চায়, বিশেষ করে মেয়াদ ঘনিয়ে আসা বা অতিরিক্ত মজুত থাকা খাবার, সেগুলো অ্যাপের মাধ্যমে ডিসকাউন্টে বিক্রি করা হয়। ব্যবহারকারী অ্যাপে কাছের অংশগ্রহণকারী স্টোরের পণ্য দেখতে পারেন, অ্যাপেই পেমেন্ট করে পরে নির্ধারিত স্টোর থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত দামের তুলনায় বড় ছাড় পাওয়া যায়। এ ব্যবস্থার আরেকটি উদ্দেশ্য খাবারের অপচয় কমানো। তবে কোন স্টোরে কী পণ্য এবং কত শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে, তা প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে এটিকে নির্দিষ্ট মাসিক সাশ্রয়ের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। চেকআউট ৫১ চেকআউট ৫১ মূলত রিসিটভিত্তিক ক্যাশব্যাক অ্যাপ। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সপ্তাহে গ্রোসারি, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য এবং কিছু ক্ষেত্রে গ্যাসের নতুন অফার প্রকাশ করা হয়। ব্যবহারকারী কেনাকাটার আগে অ্যাপে অফার নির্বাচন করেন। পণ্য কেনার পর রিসিটের পরিষ্কার ছবি আপলোড করতে হয়। রিসিট যাচাই হওয়ার পর যোগ্য অফারের ক্যাশব্যাক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অফার সাধারণত রোববার থেকে শুরু হয় এবং পরবর্তী শনিবার পর্যন্ত থাকে। অফার সীমিত সংখ্যায় থাকতে পারে। তাই বাজারে যাওয়ার আগে অফারটি তখনো চালু আছে কি না দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। চেকআউট ৫১ অ্যাকাউন্টে ক্যাশব্যাক ২০ ডলারে পৌঁছালে তা তোলার সুযোগ রয়েছে। ওয়ালমার্ট ক্যাশ ওয়ালমার্টের নিজস্ব ওয়ালমার্ট ক্যাশ ব্যবস্থাও সরাসরি ব্যবহার করা যায়। এটি সাধারণ ক্যাশব্যাক ক্রেডিট কার্ড নয়। নির্দিষ্ট ম্যানুফ্যাকচারার অফার নির্বাচন করে যোগ্য পণ্য কিনলে ওয়ালমার্ট ক্যাশ পাওয়া যায়। ওয়ালমার্ট অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্টের ভেতর থেকে যোগ্য পণ্য ও অফার দেখা যায়। অফার নির্বাচন করার পর সংশ্লিষ্ট পণ্য কিনলে সেই অর্থ ওয়ালমার্ট ক্যাশ ব্যালেন্সে যোগ হয়। জমা হওয়া ওয়ালমার্ট ক্যাশ পরবর্তী ইন স্টোর বা অনলাইন কেনাকাটায় ব্যবহার করা যায়। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, কমপক্ষে ২৫ ডলার জমলে নির্দিষ্ট শর্তে ওয়ালমার্ট স্টোরের মানিসেন্টার বা কাস্টমার সার্ভিস ডেস্ক থেকে নগদ অর্থ হিসেবেও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে একটি প্রচলিত তথ্য এখানে সংশোধন করা প্রয়োজন। ওয়ালমার্টের স্পার্ক ড্রাইভার প্ল্যাটফর্মকে সাধারণ ক্রেতাদের ক্যাশব্যাক প্রোগ্রাম হিসেবে ধরা ঠিক নয়। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য প্রাসঙ্গিক ব্যবস্থা হলো ওয়ালমার্ট ক্যাশ ও সংশ্লিষ্ট ম্যানুফ্যাকচারার অফার। অ্যালডি নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। অ্যালডির যুক্তরাষ্ট্রের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি সাধারণভাবে অনলাইন বা ডিজিটাল কুপন দেয় না। অনলাইনে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া তথাকথিত অ্যালডি কুপনকে প্রতিষ্ঠানটি বৈধ কুপন হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। বিশেষ কোনো স্টোর উদ্বোধন বা আঞ্চলিক প্রচারণায় সীমিত কুপন দেওয়া হতে পারে। তাই অ্যালডির নিজস্ব অ্যাপে নিয়মিত ডিজিটাল কুপন পাওয়া যায় এমন ধারণা সঠিক নয়। অ্যালডিতে সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে মূলত তাদের সাপ্তাহিক অফার, কমদামের পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় উপলব্ধ বৈধ তৃতীয় পক্ষের সেবা বিবেচনা করতে হবে। একই কেনাকাটায় একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সব ক্যাশব্যাক অফার একসঙ্গে ব্যবহার করা যায় না। বিশেষ করে আইবটা ও ওয়ালমার্ট ক্যাশে একই ম্যানুফ্যাকচারার অফার দুবার নেওয়ার সুযোগ নেই। চেকআউট ৫১-ও প্রতিটি রিসিট একবার ব্যবহারের নিয়ম দিয়েছে। সাশ্রয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বাজারে যাওয়ার আগে অ্যাপগুলোতে সেই সপ্তাহের অফার দেখা, প্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে অফার মিলিয়ে নেওয়া এবং শুধু ক্যাশব্যাক পাওয়ার জন্য অপ্রয়োজনীয় পণ্য না কেনা। কোনো একটি অ্যাপ বা পদ্ধতিতে সবার জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের সাশ্রয় নিশ্চিত নয়। তবে নিয়মিত কেনা পণ্যের সঙ্গে ক্যাশব্যাক বা ডিসকাউন্ট মিলিয়ে ব্যবহার করতে পারলে বছরজুড়ে গ্রোসারি খরচের একটি অংশ কমানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে একটি রেস্তোরাঁয় কাঁচা ঝিনুক খাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ৪৪ বছর বয়সী সাবেক মার্কিন মেরিন ও অবসরপ্রাপ্ত ফায়ারফাইটার জো বেলজিও। পরে তার হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় মস্তিষ্কে অক্সিজেন না পৌঁছানোয় স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় শিকাগো এলাকার গিবসনস বার অ্যান্ড স্টেকহাউসের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ অবশ্য খাবারের কারণে বেলজিও অসুস্থ হয়েছেন এমন কোনো প্রমাণ নেই বলে দাবি করেছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে বাগদত্তা মেলানি স্টেয়ার ও মেয়েকে নিয়ে ইলিনয়ের ওক ব্রুকের গিবসনস বার অ্যান্ড স্টেকহাউসে খেতে গিয়েছিলেন বেলজিও। সেখানে তিনি কাঁচা ঝিনুক খান। এর কিছুদিনের মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বেলজিওর আইনজীবীদের দাবি, ঝিনুক খাওয়ার পর তার শরীরে একাধিক ক্ষতিকর জীবাণুর সংক্রমণ ধরা পড়ে। মামলায় বলা হয়েছে, চিকিৎসকেরা মনে করছেন ওই ঝিনুক থেকেই তার অসুস্থতার কারণ হওয়া জীবাণুগুলো শরীরে প্রবেশ করেছিল। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় গত বছরের ৩ জুলাই। ওই দিন বেলজিওর হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়। তার আইনজীবী স্কট ও'সালিভানের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা তাকে পুনরুজ্জীবিত করার আগে প্রায় আট মিনিট তার মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছায়নি। এর ফলে বেলজিও অ্যানক্সিক ব্রেইন ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। অর্থাৎ অক্সিজেনের ঘাটতিতে তার মস্তিষ্কের গুরুতর ক্ষতি হয়। এরপর কয়েক মাস তিনি কোমায় ছিলেন। বর্তমানে তার জ্ঞানীয় ও শারীরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং সার্বক্ষণিক পরিচর্যার প্রয়োজন হচ্ছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বেলজিও সাবেক মার্কিন মেরিন এবং অবসরপ্রাপ্ত ফায়ারফাইটার। তিনি ইরাকেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘদিন অন্য মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করা এই ব্যক্তির জীবন এখন অন্যের সার্বক্ষণিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে। তবে গিবসনস রেস্টুরেন্ট গ্রুপ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বেলজিওর শারীরিক অবস্থার জন্য তাদের রেস্তোরাঁ দায়ী এমন কোনো প্রমাণ তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। একই সময়ে রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়া অন্য কোনো ব্যক্তির কাছ থেকেও একই ধরনের অসুস্থতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ বলেছে, বেলজিওর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তারা তার সুস্থতা কামনা করে। একই সঙ্গে তারা খাদ্য নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং আদালতের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে বলে বিশ্বাস করে। মামলায় রেস্তোরাঁর পাশাপাশি সামুদ্রিক খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম লবস্টার অ্যান্ড সিফুড কোম্পানিকেও বিবাদী করা হয়েছে। তবে মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। কাঁচা ঝিনুক খাওয়ার ক্ষেত্রে খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। কাঁচা বা ঠিকমতো রান্না না করা ঝিনুকে বিভিন্ন ধরনের ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। শুধু দেখে, গন্ধ নিয়ে বা স্বাদ পরীক্ষা করে ঝিনুক জীবাণুমুক্ত কি না তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস বা অন্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কাঁচা ঝিনুক থেকে হওয়া সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিতে পারে। এফডিএ তাই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের কাঁচা ঝিনুক এড়িয়ে সম্পূর্ণ রান্না করা সামুদ্রিক খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেয়। বেলজিও বর্তমানে শিকাগোর শার্লি রায়ান অ্যাবিলিটিল্যাবে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিচ্ছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যয় সামলাতে পরিবার ও পরিচিতজনেরা আর্থিক সহায়তাও সংগ্রহ করছেন। এখন আদালতের প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে বেলজিওর অসুস্থতার সঙ্গে রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা ঝিনুকের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না এবং এ ঘটনায় রেস্তোরাঁ বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো আইনি দায় রয়েছে কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর মাউন্ট এলবার্টে পথ হারিয়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টা নিখোঁজ ছিলেন এক হাইকার। তাকে খুঁজতে রাতভর পাহাড়ে অভিযান চালায় সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম। বারবার ফোন ও টেক্সট মেসেজও পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো উত্তর মেলেনি। পরে জানা যায়, নিখোঁজ হাইকার ফোন দেখেছিলেন ঠিকই, কিন্তু অচেনা নম্বর থেকে কল আসায় ইচ্ছা করেই ধরেননি। অথচ সেই কলগুলোই আসছিল তাকে খুঁজতে থাকা উদ্ধারকারীদের কাছ থেকে। ঘটনাটি ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবরের। লেক কাউন্টি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকাল ৯টার দিকে মাউন্ট এলবার্টের সাউথ ট্রেইলহেড থেকে একা হাইকিং শুরু করেন ওই ব্যক্তি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় রাত ৮টার দিকে উদ্ধারকারী দলের কাছে নিখোঁজ হওয়ার খবর পৌঁছায়। রাত প্রায় ১০টার দিকে পাঁচ সদস্যের একটি রেসকিউ টিম তাকে খুঁজতে পাহাড়ে ওঠে। হাইকাররা সাধারণত যেসব এলাকায় পথ হারিয়ে ফেলেন, সেসব জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তির মোবাইলে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো কলের উত্তর পাওয়া যায়নি। রাতভর অনুসন্ধানের পর ভোর ৩টার দিকে প্রথম দফার অভিযান বন্ধ করা হয়। দিনের আলো ফুটলে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সকাল ৭টার দিকে নতুন একটি দল বিভিন্ন সম্ভাব্য এলাকায় অনুসন্ধান শুরু করে। এর মধ্যেই উদ্ধারকারীরা জানতে পারেন, যাকে খুঁজতে এত আয়োজন, তিনি নিজেই নিরাপদে গাড়ির কাছে ফিরে এসেছেন। পরে ওই হাইকার জানান, সন্ধ্যা নামার পর তিনি মূল ট্রেইল হারিয়ে ফেলেছিলেন। রাতভর হাঁটতে থাকেন এবং একাধিকবার ভুল পথে চলে যান। শেষ পর্যন্ত পরদিন সকালে সঠিক পথ খুঁজে গাড়ির কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন। হাইকিং শুরু করার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর তিনি ফিরে আসেন। কিন্তু পুরো সময়টিতে তাকে খুঁজতে যে বড় ধরনের সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অভিযান চলছে, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণাই ছিল না। সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত বিষয়টি সামনে আসে ফোনকল নিয়ে। উদ্ধারকারী দল জানিয়েছিল, হাইকারের মোবাইলে বারবার কল করা হলেও তিনি সেগুলো ধরেননি। কারণ নম্বরগুলো তার পরিচিত ছিল না। ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই হাইকারকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, পাহাড়ে পথ হারিয়ে যাওয়ার পরও কেউ কেন অচেনা নম্বরের ফোন উপেক্ষা করবেন। তবে লেক কাউন্টি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ওই ব্যক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে মানুষকে দ্রুত বিচার না করার আহ্বান জানায়। সংস্থাটি জানায়, একটি ঘটনার সব তথ্য জানার পর যেটিকে সাধারণ জ্ঞান বলে মনে হয়, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা একজন পথহারা মানুষের কাছে সেটি তখন এতটা স্পষ্ট নাও হতে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ে হারিয়ে গেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখার পরামর্শ দেয় উদ্ধারকারী দল। কেউ নিখোঁজ হওয়ার পর যদি অচেনা নম্বর থেকে বারবার ফোন আসে, সেটি উদ্ধারকারী দলের কল হতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে ফোন ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়। মাউন্ট এলবার্ট কলোরাডোর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এবং যুক্তরাষ্ট্রের রকি মাউন্টেন অঞ্চলেরও সর্বোচ্চ চূড়া। এর উচ্চতা প্রায় ১৪ হাজার ৪৩৩ ফুট। উচ্চতা, দ্রুত বদলে যাওয়া আবহাওয়া এবং দুর্গম ট্রেইলের কারণে সেখানে হাইকিংয়ের সময় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও পথ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। লেক কাউন্টি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারী সংস্থা। কলোরাডোর লিডভিল ও আশপাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হারিয়ে যাওয়া, আহত বা আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে সংস্থাটি কাজ করে। ঘটনাটি কয়েক বছর আগের হলেও এর বার্তাটি এখনো প্রাসঙ্গিক। দুর্গম এলাকায় হারিয়ে গেলে মোবাইল ফোনে আসা অচেনা নম্বরের একটি কলও কখনো কখনো হতে পারে আপনাকে খুঁজতে থাকা উদ্ধারকারী দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ।
যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকায় ২০২৬ সালের শরৎ সেমিস্টারে দেশটির অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার চাকরিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে নতুন এক বিশ্লেষণে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংগঠন নাফসা। নাফসা এবং জেবি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শরতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার কমে যেতে পারে। এই হ্রাসের সরাসরি প্রভাব পড়বে টিউশন ফি, বাসাভাড়া, খাবার, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্থানীয় ব্যবসায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যয়ের ওপর। নাফসার হিসাবে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণে অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান ৩.৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। এর সঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার চাকরি হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক অবদান থেকে সমর্থিত চাকরির সংখ্যা প্রায় ৯ শতাংশ কমে যেতে পারে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ লাখ ৭৮ হাজার। তারা দেশটির অর্থনীতিতে প্রায় ৪২.৯ বিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছিলেন এবং ৩ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি চাকরিকে সমর্থন করেছিলেন। নাফসার মধ্যম পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে প্রায় ১১ লাখ ৫ হাজারে নেমে আসতে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এই সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ ৫৭ হাজারে নামার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে। নাফসা বলছে, আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়াই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির বড় কারণ। কিছু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনেও একই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডক্টরাল প্রোগ্রামে আন্তর্জাতিক আবেদন ২১ শতাংশ কমেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অ্যাডমিশন কমেছে ১৭ শতাংশ। কমন অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদন ৯ শতাংশ কমেছে। ভারতের শিক্ষার্থীদের আবেদন কমেছে ১৪ শতাংশ। নাইজেরিয়ার ক্ষেত্রে এই হার ১৭ শতাংশ এবং ঘানার ক্ষেত্রে ৩৪ শতাংশ। ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যায় পতন বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেমে এসেছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ২৩০ জনে, যা গত ২৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত টানা ১০ মাস ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এই সময়ে মোট পতন প্রায় ১২ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের পতন ছিল মাত্র ৪.৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ৮.৬ শতাংশ কমেছে। পোস্টগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পতন আরও বেশি। এই পর্যায়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক বছরে ১১.৩ শতাংশ কমে ২ লাখ ৬৬ হাজার ১০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ভারত যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর অন্যতম প্রধান উৎস। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বড় উপস্থিতি রয়েছে। ফলে এই শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টিউশন আয় এবং গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছে নাফসা। এর মধ্যে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংকট, ভিসা প্রসেসিংয়ে বিলম্ব, নতুন ইমিগ্রেশন নীতি, কিছু দেশের নাগরিকদের ওপর ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন এবং পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভারত ও চীনের মার্কিন কনস্যুলেটগুলোতে স্টুডেন্ট ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট সীমিত বা বিলম্বিত হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় উৎস দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও চীন শীর্ষে থাকায় এই দুই দেশের পরিস্থিতি সামগ্রিক শিক্ষার্থী সংখ্যার ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। এ ছাড়া এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিন চালু থাকা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্দিষ্ট মেয়াদভিত্তিক থাকার নিয়ম চালুর সিদ্ধান্তও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পাশাপাশি অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাও বিদেশি শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। নাফসা বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি দিয়েই অর্থনীতিতে অবদান রাখেন না। তারা বাসাভাড়া, খাবার, পরিবহন, বিনোদন এবং অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয়ের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকেও সচল রাখেন। ফলে শিক্ষার্থী কমলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরেও ব্যবসা ও চাকরির বাজারে প্রভাব পড়ে। অঙ্গরাজ্যভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য ক্ষতির মুখে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া। সেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক অবদান হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। নিউইয়র্কে সম্ভাব্য ক্ষতি প্রায় ৪৭ কোটি ডলার। ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানে প্রায় ২৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার করে এবং টেক্সাসে প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ক্ষতি হতে পারে। তবে নাফসা স্পষ্ট করেছে, এগুলো চূড়ান্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা নয়, বরং বর্তমান আবেদন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রত্যাশা এবং বিদ্যমান প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি পূর্বাভাস। ২০২৬ সালের শরৎ সেমিস্টারের পূর্ণাঙ্গ এনরোলমেন্ট তথ্য প্রকাশের পর প্রকৃত পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণে দীর্ঘদিন বিশ্বের শীর্ষ গন্তব্যগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু আবেদন ও এনরোলমেন্টের সাম্প্রতিক পতন অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব শুধু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক অবস্থায় নয়, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা, দক্ষ জনশক্তি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে টানা কয়েক দিনের ভয়াবহ ঝড় ও রেকর্ড ভাঙা বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত সাতজনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে চার বছরের এক শিশুও রয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে নদীর পানি শত বছরের বেশি সময়ের রেকর্ড ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বহু মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় নৌকায় উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়েছে। ইন্ডিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ১১ আগস্ট থেকে অঙ্গরাজ্যটিতে ভয়াবহ আবহাওয়া শুরু হয়। কয়েক দফা শক্তিশালী ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা মধ্য ও দক্ষিণ ইন্ডিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। শুরুতে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও রোববার নাগাদ মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে চার বছরের এক শিশু, তিনজন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছেন। চার বছরের শিশুটির মৃত্যু হয় ইন্ডিয়ানার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেনিংস কাউন্টিতে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার প্রবল ঝড়ের সময় একটি গাছ ভেঙে শিশুটির শোবার ঘরের ওপর পড়ে। এতে তার মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ম্যাথিউ মোরে নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণও রয়েছেন। ডেলাওয়ার কাউন্টির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধুদের সঙ্গে মিসিসিনেওয়া নদীর একটি সেতু থেকে প্রবল স্রোতের পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি। তিন দিন পর শনিবার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সম্প্রতি হাই স্কুল শেষ করা ম্যাথিউ পারডু ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আরেক ঘটনায় ৫৮ বছর বয়সী স্টেফানি স্যালির মরদেহ এবং তার কুকুরকে একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। কাছেই পাওয়া যায় তার গাড়ি। তদন্তকারীদের ধারণা, বন্যায় তলিয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় প্রবল স্রোতে তার গাড়িটি ভেসে যায়। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মধ্য ইন্ডিয়ানায়। কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে হোয়াইট রিভারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অ্যান্ডারসন ও নোবলসভিলে নদীর পানি ২৪ ফুটের বেশি উচ্চতায় পৌঁছায়, যা ১৯১৩ সালে তৈরি হওয়া আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। ইন্ডিয়ানাপোলিসের মেয়র জো হগসেট জানিয়েছেন, গত ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে শহরটিতে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। হোয়াইট রিভার ও এর আশপাশের খালের পানি বেড়ে যাওয়ায় শত শত বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে ফার্স্ট রেসপন্ডাররা নৌকা ব্যবহার করেছেন। ইন্ডিয়ানাপোলিসের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রও খোলা রাখা হয়েছে। গভর্নর মাইক ব্রাউনের অফিস জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে তিন শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং বহু উদ্ধার ও ওয়েলফেয়ার চেক পরিচালনা করা হয়েছে। ইন্ডিয়ানাপোলিসের উত্তরে বয়স্কদের একটি মোবাইল হোম কমিউনিটিতেও জরুরি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। কিছু এলাকায় মাত্র দুই দিনে ১১ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে আগে সাধারণত বন্যার ঝুঁকিতে না থাকা এলাকাও এবার পানিতে তলিয়ে গেছে। ঝড়ের প্রভাবে এক পর্যায়ে ইন্ডিয়ানাজুড়ে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো নির্ধারণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ইন্ডিয়ানার গভর্নর মাইক ব্রাউন রাজ্যজুড়ে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইন্ডিয়ানার জন্য ফেডারেল জরুরি সহায়তার অনুরোধ অনুমোদন করেন। এর ফলে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্ধার এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ফেডারেল সহায়তা যুক্ত হয়েছে। শুধু ইন্ডিয়ানা নয়, সাম্প্রতিক এই শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্টের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রভাব ফেলেছে। ইলিনয় থেকে পশ্চিম পেনসিলভানিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় টর্নেডো, ভারী বৃষ্টি ও ফ্ল্যাশ ফ্লাডের কারণে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইন্ডিয়ানায় পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও কর্তৃপক্ষ সতর্কতা তুলে নেয়নি। বন্যার পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং ফুলে ওঠা নদীগুলো এখনো বিপজ্জনক। বিশেষ করে পানিতে তলিয়ে থাকা সড়ক দিয়ে গাড়ি না চালাতে এবং প্রবল স্রোতের নদী থেকে দূরে থাকতে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজের কর্মস্থল থেকে প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ডলার আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর হঠাৎ কাজে যাওয়া বন্ধ করে দেন এক কর্মী। কোম্পানি তার খোঁজ শুরু করলে তিনি কোমায় আছেন বলে জানানো হয়। কিন্তু পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, কোমায় থাকার পুরো ঘটনাটিই ছিল সাজানো। এ ঘটনায় ওয়েস্ট পাম বিচের বাসিন্দা বাহা আবুঘালিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রিভিয়েরা বিচ পুলিশের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিএস১২ জানিয়েছে, আবুঘালিয়া একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টস পেয়েবল বিভাগে কর্মরত ছিলেন। কোম্পানির আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, কোম্পানির বিভিন্ন ভেন্ডরের নামে ইস্যু করা পেমেন্ট নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিতেন আবুঘালিয়া। তদন্তে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৮৮ ডলার ৯১ সেন্ট আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি সামনে আসে যখন আবুঘালিয়া হঠাৎ কর্মস্থলে আসা বন্ধ করে দেন। কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা ছাড়াই তার অনুপস্থিতি নিয়ে কোম্পানির কর্মকর্তাদের সন্দেহ তৈরি হয় এবং তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন তারা। এরপরই গল্পে আসে অপ্রত্যাশিত মোড়। কোম্পানিকে জানানো হয়, আবুঘালিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং কোমায় রয়েছেন। কিন্তু তদন্তকারীরা বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে ওই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। পুলিশের অভিযোগ, কোমায় থাকার তথ্যটি আসলে কোম্পানির অনুসন্ধান থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য ব্যবহার করেছিলেন আবুঘালিয়া। একই সময়ে কোম্পানির আর্থিক হিসাবপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য সামনে আসে। এরপর অর্থ কোথায় গেছে তা অনুসরণ করতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। সেই অনুসন্ধানেই বিপুল পরিমাণ অর্থ আবুঘালিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। পুলিশের তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, কর্মস্থলের আর্থিক ব্যবস্থায় নিজের দায়িত্ব ও প্রবেশাধিকার ব্যবহার করেই এসব লেনদেন করা হয়েছিল। ঘটনার তদন্ত শেষে আবুঘালিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের অর্থ চুরিসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পাশাপাশি তদন্ত এড়াতে কথিত ‘কোমা’র গল্প সাজানোর কারণে। কর্মস্থল থেকে হঠাৎ উধাও হওয়ার পর কোম্পানি যখন তার অবস্থান জানতে চাইছিল, ঠিক তখনই গুরুতর অসুস্থতার তথ্য সামনে আনা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। এখন আদালতে মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ডলার আত্মসাৎ এবং তা আড়াল করতে অসুস্থতার নাটক সাজানোর অভিযোগের পক্ষে প্রসিকিউশন কতটা প্রমাণ হাজির করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশু ও কিশোরদের সামাজিকমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলার বিচার শুরু হচ্ছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘসময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে আসক্তি তৈরি করতে পারে এমন বিভিন্ন সুবিধা পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের তথ্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে। মামলাটিতে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। অঙ্গরাজ্যগুলো মেটার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার দাবি তুলেছে। মেটার আদালতের নথি অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যগুলোর হিসাব অনুসারে সম্ভাব্য জরিমানার পরিমাণ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে মেটা এই অঙ্ককে প্রমাণভিত্তিক নয় বলে দাবি করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মেটা শিশু ও কিশোরদের মনোযোগ ধরে রাখতে লাইক বাটন, অবিরাম স্ক্রল এবং সুপারিশভিত্তিক ব্যবস্থার মতো সুবিধা ব্যবহার করেছে। এসব সুবিধা ব্যবহারকারীদের সামাজিকমাধ্যমে আরও বেশি সময় কাটাতে উৎসাহিত করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, ব্যবহারকারীরা যত বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে থাকেন, বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ তত বাড়ে এবং এর মাধ্যমে মেটা আর্থিকভাবে লাভবান হয়। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মেটা ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুরা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছে বলে জানত এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্য অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া সংগ্রহ করেছে। এটি শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ২৯টি অঙ্গরাজ্য ফেডারেল মামলায় মেটার বিরুদ্ধে শিশুদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ তুলেছে। তবে বর্তমান বিচারপর্বে চার অঙ্গরাজ্যের ভোক্তা সুরক্ষা আইনের অভিযোগও রয়েছে। অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে, মেটা তরুণদের নিরাপত্তার বিষয়ে জনসমক্ষে যে অবস্থান জানিয়েছে, তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডের পার্থক্য ছিল। মামলায় মেটার কর্মী ও কর্মকর্তাদের শতাধিক বক্তব্যকে সম্ভাব্য বিভ্রান্তিকর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার চেয়ে ব্যবহারকারীদের ব্যস্ত রাখা ও ব্যবসায়িক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই এবং তাদের চাওয়া আর্থিক জরিমানাও বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি। মেটা আরও বলেছে, তারা কিশোরদের সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা তৈরি করেছে এবং শিশু ও তরুণদের নিরাপত্তার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান আদালতে তুলে ধরবে। মেটার বিরুদ্ধে এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিকমাধ্যমের শিশুদের ওপর প্রভাব নিয়ে চলমান হাজারো মামলার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে পৃথক মামলাতেও রায় এসেছে। চলতি বছরের মার্চে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি মামলায় মেটা ও গুগলকে এক তরুণীর মানসিক ক্ষতির জন্য দায়ী করা হয় এবং ৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। নিউ মেক্সিকোতেও মেটার বিরুদ্ধে শিশু সুরক্ষা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতে চলা বর্তমান মামলাটি প্রায় ছয় থেকে আট সপ্তাহ চলতে পারে। মামলায় বিচারকের পাশাপাশি একটি পরামর্শমূলক জুরি রয়েছে। জুরির মতামত থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন জেলা আদালতের বিচারক ইয়ভন গনজালেজ রজার্স। ফলে এই বিচার শুধু মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগের নিষ্পত্তিই নয়, সামাজিকমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর শিশু ও কিশোরদের প্রতি দায়িত্ব এবং তাদের পণ্য নকশার বিষয়ে ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় ওমান বাধা সৃষ্টি করলে দেশটিতে সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ১৭ আগস্ট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা এগিয়ে যাওয়ায় অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও ওমানের আলাদা আলোচনার বিষয়ে তিনি কী ভাবছেন। জবাবে তিনি বলেন, ওমান যদি যুক্তরাষ্ট্রের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তিনি অশালীন শব্দ ব্যবহার করে ওমানে ব্যাপক বোমা হামলার হুমকি দেন। এটি ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের প্রথম এমন হুঁশিয়ারি নয়। গত মে মাসেও তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরুদ্ধে গেলে ওমানকে হামলার মুখে পড়তে হতে পারে। সে সময়ও তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো একটি দেশকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া হবে না। নতুন হুমকিটি এসেছে এমন সময়ে, যখন ইরান জানিয়েছে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের রুট নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ট্রানজিট রুটের মানচিত্র নিয়ে দুই পক্ষ একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে এবং যৌথ ঘোষণার বিস্তারিত চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা রুট তৈরির কথা রয়েছে। এর একটি ইরানের উপকূলের কাছাকাছি এবং অন্যটি ওমানের দিক দিয়ে পরিচালিত হতে পারে। সাময়িক ব্যবস্থার অধীনে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধ্যতামূলক টোল না রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এর আগে ওমান উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে এমন একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে দিয়েছিল, যাতে হরমুজ ব্যবহারকারী জাহাজগুলো স্বেচ্ছায় অর্থ দিতে পারে এবং সেই অর্থ নৌপথের নিরাপত্তা ও পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই হরমুজে বাধ্যতামূলক টোল বা কোনো একটি দেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আসছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সরু জলপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামরিক সংঘাত বা জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাসের বাজারে দ্রুত প্রভাব পড়ে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রকাশ্য বিরোধ চলছে। সম্প্রতি ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, প্রণালীটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। ইরান বলেছে, তাদের অনুমতি ছাড়া প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক নয়। হরমুজ ঘিরে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান প্রণালীতে চলাচল সীমিত করে দেয়। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও একাধিকবার নতুন হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়েছে। ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তার প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সরাসরি যোগাযোগের একটি ব্যাকচ্যানেল রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার মধ্যে নেই এবং সমঝোতায় পৌঁছাতে তাড়াহুড়া করছেন না বলেও জানান। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নিজের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনায় এই বিষয়টি এখনও অন্যতম প্রধান বিরোধ হিসেবে রয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ওমান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকার পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রেখেছে মাস্কাট। এই নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণেই অতীতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ একাধিক সংকটে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পেরেছে দেশটি। তবে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের নতুন সমঝোতার উদ্যোগ এখন মাস্কাটকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ফেলেছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকির পর ওয়াশিংটন ও মাস্কাটের সম্পর্ক কোন দিকে যায় এবং ইরান ও ওমানের প্রস্তাবিত হরমুজ চুক্তি বাস্তবায়িত হয় কি না, সেটিই এখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার একটি জঙ্গলে কার্ডবোর্ডের বাক্সের ভেতর পাওয়া গিয়েছিল চার বছরের এক শিশুর মরদেহ। পরিচয় জানতে শহরজুড়ে ছবি ছড়িয়েছিল পুলিশ, তদন্ত হয়েছিল হাজারো সূত্র ধরে। তবু দশকের পর দশক তার নামটুকুও জানা যায়নি। শেষ পর্যন্ত আধুনিক ডিএনএ ও জেনেটিক জিনিয়োলজি প্রযুক্তির সাহায্যে ৬৫ বছর পর পরিচয় ফিরে পায় সেই শিশু। তার নাম জোসেফ অগাস্টাস জারেলি। ঘটনার শুরু ১৯৫৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ফিলাডেলফিয়ার ফক্স চেজ এলাকার একটি জঙ্গলঘেরা জায়গায় জেসিপেনির একটি কার্ডবোর্ড বাক্সের মধ্যে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। তখন তার বয়স আনুমানিক চার বছর বলে ধারণা করেছিলেন তদন্তকারীরা। মরদেহ উদ্ধারের পর শুরু হয় শিশুটির পরিচয় জানার চেষ্টা। ফিলাডেলফিয়া পুলিশ তার ছবি প্রকাশ করে এবং ব্যাপক প্রচার চালায়। হাজারো তথ্য ও সূত্র যাচাই করা হয়। কিন্তু শিশুটির নাম কিংবা সে কোন পরিবারের সন্তান, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় না পাওয়ায় মামলাটি একসময় ‘বয় ইন দ্য বক্স’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। এটি পরবর্তী সময়ে ফিলাডেলফিয়ার সবচেয়ে আলোচিত অমীমাংসিত শিশু হত্যাকাণ্ডগুলোর একটিতে পরিণত হয়। শিশুটিকে প্রথমে ফিলাডেলফিয়ার একটি পটার্স ফিল্ডে সমাহিত করা হয়েছিল। পরে তার মরদেহ অন্য কবরস্থানে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন তার কবরের ফলকে লেখা ছিল ‘আমেরিকাস আননোন চাইল্ড’। অর্থাৎ মৃত্যুর বহু বছর পরও তার পরিচয় ছিল শুধুই একটি অজ্ঞাত শিশু। কিন্তু তদন্ত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সময়ের সঙ্গে ডিএনএ বিশ্লেষণ প্রযুক্তির উন্নতি হলে পুরোনো এই মামলাটি নতুন করে সামনে আসে। তদন্তকারীরা শিশুটির দেহাবশেষ থেকে পাওয়া জেনেটিক তথ্য ব্যবহার করে সম্ভাব্য আত্মীয়দের খুঁজতে শুরু করেন। ফরেনসিক জেনেটিক জিনিয়োলজির মাধ্যমে ডিএনএ তথ্যের সঙ্গে বংশপরিচয়ের রেকর্ড মিলিয়ে সম্ভাব্য পরিবারের একটি কাঠামো তৈরি করা হয়। তদন্তকারীরা শিশুটির মা ও বাবার উভয় দিকের আত্মীয়দের সূত্র ধরে এগোতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পারিবারিক সংযোগ একটি শিশুর পরিচয়ের দিকেই নির্দেশ করে। ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর ফিলাডেলফিয়া পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ৬৫ বছর ধরে ‘বয় ইন দ্য বক্স’ নামে পরিচিত শিশুটির আসল নাম জোসেফ অগাস্টাস জারেলি।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জোসেফের জন্ম হয়েছিল ১৯৫৩ সালের ১৩ জানুয়ারি। অর্থাৎ মরদেহ উদ্ধারের সময় তার বয়স ছিল চার বছর। তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন, ডিএনএ বিশ্লেষণ ও দীর্ঘ অনুসন্ধানের সমন্বয়েই জোসেফের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তার মা ও বাবার পরিবারের দিক থেকে পাওয়া জেনেটিক সংযোগও পরিচয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে ফিলাডেলফিয়া ইনকোয়ারারের অনুসন্ধানে জোসেফের জৈবিক বাবা-মায়ের পরিচয়ও সামনে আসে। তবে পুলিশ তাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি এবং জোসেফের মৃত্যুর জন্য পরিবারের কোনো নির্দিষ্ট সদস্যকে দায়ীও করেনি। শিশুটির পরিচয় জানা গেলেও সবচেয়ে বড় প্রশ্নটির উত্তর এখনো মেলেনি। জোসেফকে কে হত্যা করেছিল এবং কেন তার মরদেহ একটি কার্ডবোর্ডের বাক্সে ফেলে রাখা হয়েছিল, তা এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারীরা। জোসেফের পরিচয় প্রকাশের সময় ফিলাডেলফিয়া পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সক্রিয় রয়েছে। শিশুটির পরিচয় শনাক্ত হওয়াকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও এটি হত্যার রহস্য সমাধানের সমান নয়। পরিচয় প্রকাশের পর অনলাইনে জোসেফের পরিবার ও হত্যাকারীকে ঘিরে অসংখ্য তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। তবে তদন্তকারীরা প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যকে দায়ী না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। জোসেফের হত্যাকারীর পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে অভিযুক্ত করেনি। এই মামলার অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রে বহু পুরোনো অজ্ঞাত মরদেহ ও কোল্ড কেস তদন্তে ফরেনসিক জেনেটিক জিনিয়োলজির সম্ভাবনাও সামনে আনে। একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন পুরোনো মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ১৯৫৭ সালে যে শিশুকে পৃথিবী চিনেছিল শুধু ‘বয় ইন দ্য বক্স’ নামে, ৬৫ বছর পর অন্তত সেই পরিচয়হীনতার অবসান হয়েছে। তার হত্যার বিচার এখনো হয়নি, হত্যাকারীর নামও জানা যায়নি। তবে কবরের ফলকে আর তাকে শুধু ‘আমেরিকার অজ্ঞাত শিশু’ হয়ে থাকতে হয়নি। সে ফিরে পেয়েছে নিজের নাম, জোসেফ অগাস্টাস জারেলি।
প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলামে ইংরেজি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কথা বলার দক্ষতা যাচাইয়ে স্পিকিং টেস্ট চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে প্রাথমিকের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি ইউনিক আইডির আওতায় আনা এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সমন্বিত আইটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার ১৬ আগস্ট ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক ওই কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী কারিকুলামে ইংরেজি শেখানোর ক্ষেত্রে শুধু লিখিত পরীক্ষার ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীরা বাস্তবে কতটা ইংরেজিতে যোগাযোগ করতে পারছে, সেটিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ জন্য ইংরেজি বলার সক্ষমতা যাচাইয়ে স্পিকিং টেস্ট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের প্রাথমিক স্তরে ইংরেজি শিক্ষা মূলত পড়া, লেখা, শোনা ও বলার দক্ষতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হলেও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষাই বেশি গুরুত্ব পায়। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে কথা বলা এবং যোগাযোগের সক্ষমতাও আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের অংশ হবে। শুধু কারিকুলাম নয়, শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনাতেও বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি সমন্বিত আইটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। এর আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আলাদা ইউনিক আইডি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ইউনিক আইডির মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য আরও সংগঠিতভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে। তবে ইউনিক আইডিতে ঠিক কোন কোন তথ্য যুক্ত থাকবে এবং এটি কবে থেকে সব শিক্ষার্থীর জন্য কার্যকর হবে, সে বিষয়ে কর্মশালায় বিস্তারিত সময়সূচি জানানো হয়নি। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশেও পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, আলাদা জায়গায় ওয়াশ ব্লক তৈরির পরিবর্তে স্কুল ভবনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লক রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও নিরাপদ ও ব্যবহারবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। এজন্য কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষক নীতিমালা, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, ক্রীড়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি। সরকারের লক্ষ্য কোনো শিশুকে শ্রেণিকক্ষের বাইরে না রাখা বলেও উল্লেখ করেন ববি হাজ্জাজ। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী রাখা এবং পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে পুষ্টিকর মিড-ডে মিলের পাশাপাশি বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগসহ বিভিন্ন সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক এবং স্থানীয় মানুষও প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের বলে মনে করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি মসজিদের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটলেও মসজিদে সাধারণত এমন ঘটনা দেখা যায় না। কারণ স্থানীয় মানুষ মসজিদকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখেন। একইভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিও স্থানীয় মানুষের মালিকানাবোধ তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনা, পাইলটিং ও বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করেন ববি হাজ্জাজ। আগামী ছয় মাসের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যগুলোও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন কারিকুলামের স্পিকিং টেস্ট কীভাবে নেওয়া হবে, কোন শ্রেণি থেকে এটি শুরু হবে, কত নম্বর থাকবে কিংবা চূড়ান্ত মূল্যায়নে এর গুরুত্ব কতটা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি। পরিকল্পনাগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাতে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা সৌদি প্রবাসী জামাল উদ্দিন মারা গেছেন। সোমবার ১৭ আগস্ট দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে উপজেলার কালমেঘা এলাকায় ভাতিজির বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের বরাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। জামাল উদ্দিন কালমেঘা এলাকার মৃত ফজর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। জামালের ভাতিজির স্বামী শাহ আলম জানান, অসুস্থ অবস্থায় জামালকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার পর তারা নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাও করানো হয়। গত শুক্রবার হাসপাতাল থেকে আবার ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল। শাহ আলম বলেন, সোমবার দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে জামাল মারা যান। তার ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পৌঁছানোর পর সবার সঙ্গে আলোচনা করে জানাজার ব্যবস্থা করা হবে। জামাল উদ্দিনকে ঘিরে আলোচনার শুরু আগস্টের প্রথম দিকে। ১ আগস্ট গভীর রাতে তাকে কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক ভিটার কাছাকাছি একটি রাস্তার পাশে রেখে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা অসুস্থ অবস্থায় তাকে সেখানে দেখতে পান। পরে বৃষ্টি শুরু হলে তার ভাতিজি ইসমত আরা তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। জামাল কিডনির সমস্যার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না বলে সে সময় তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, জামাল দীর্ঘদিন আগে নিজের পৈতৃক এলাকা ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে যান এবং প্রায় ১২ বছর সেখানে কাজ করেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রবাসে উপার্জিত অর্থের বড় অংশ তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠাতেন। তবে জামালের দেশে ফেরার সময় নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে। পরিবারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলা হয়েছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রায় আট মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। অন্যদিকে আগস্টের শুরুতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পরিবারের সদস্যদের বরাতে বলা হয়েছিল, তিনি প্রায় তিন মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছিলেন। ফলে দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট সময় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দেশে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। তখন চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের অভিযোগ সামনে আসে। জামালকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছিলেন তার স্ত্রী রিনা আক্তার। সে সময় তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস আগেই জামালকে ডিভোর্স দিয়েছেন এবং রাতে তাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। ঘটনার পর জামালের ছেলে আবু রায়হানও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বাবাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। বাবার সঙ্গে এমন আচরণ ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অসুস্থ একজন মানুষকে এভাবে রাস্তায় রেখে যাওয়ার অভিযোগকে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছিলেন। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন সে সময় জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। রাস্তায় অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর প্রকাশের প্রায় দুই সপ্তাহ পর মারা গেলেন জামাল উদ্দিন। জীবনের দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটানো এই ব্যক্তির শেষ দিনগুলো কেটেছে নিজের পৈতৃক এলাকার ভাতিজির বাড়িতে, যেখানে তাকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছিলেন স্বজনরা।
মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া উপকূলে সাগরে ডুবে যাওয়া ছয়জনকে উদ্ধারের পর নিজেই আর তীরে ফিরতে পারেননি ১৮ বছর বয়সী তরুণ জিয়াদ মোহাম্মদ আহমেদ মাহমুদ। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক পোস্টে উঠে এসেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উপকূলের কাছে সাগরে হঠাৎ তীব্র স্রোত তৈরি হলে কয়েকজন সাঁতারু স্রোতের টানে তীর থেকে দূরে চলে যান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যান জিয়াদ। প্রবল ঢেউ ও স্রোতের মধ্যেও বারবার সাগরে নেমে তিনি একে একে ছয়জনকে নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনেন। প্রতিবারই নিজের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে স্রোতের বিপরীতে লড়াই করে তাদের তীরে পৌঁছে দেন তিনি। তবে শেষবার একজনকে উদ্ধারের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে একের পর এক উদ্ধারে অংশ নেওয়ায় জিয়াদ শারীরিকভাবে প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে তিনি আর তীরে ফিরতে পারেননি। মাত্র ১৮ বছর বয়সে অন্যের জীবন রক্ষায় এমন ঝুঁকি নেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিয়াদের সাহস ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করছেন অনেকে। মুসলিমদের অনেকে তার জন্য দোয়া করছেন এবং মহান আল্লাহর কাছে তার আত্মত্যাগ কবুল করার প্রার্থনা জানাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার ও ফেডারেল ঠিকাদারি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য ভার্জিনিয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি চাকরির বাজার। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ডিসির কাছাকাছি উত্তর ভার্জিনিয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ফেডারেল ঠিকাদার, তথ্যকেন্দ্র ও সরকারি প্রকল্পের উপস্থিতি এই অঞ্চলের কর্মসংস্থানের বাজারকে আরও শক্তিশালী করেছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে ভার্জিনিয়ায় বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে রাজ্যে মোট কৃষি খাতের বাইরের চাকরি ছিল প্রায় ৪২ লাখ ৪৪ হাজার। তবে সামগ্রিক বেকারত্বের হার কম হওয়াকে সরাসরি যেকোনো চাকরি সহজে পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট পেশায় সুযোগ নির্ভর করে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগদাতার চাহিদার ওপর। প্রযুক্তিখাতে ভার্জিনিয়ার অবস্থান বিশেষভাবে শক্তিশালী। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পেশাভিত্তিক সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে কম্পিউটার ও গণিতভিত্তিক পেশায় প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ মানুষ কাজ করছিলেন। এসব পেশায় গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার ৬১০ ডলার। তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫০ ডলার। সফটওয়্যার উন্নয়ন, মেঘভিত্তিক কম্পিউটিং, নেটওয়ার্কিং, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা প্রকৌশল ও তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশায় এই প্রযুক্তি অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে উত্তর ভার্জিনিয়ার সঙ্গে ফেডারেল সরকারের ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে ফেডারেল ঠিকাদারদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। তবে এসব চাকরির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপত্তা ছাড়পত্র। প্রতিরক্ষা ও কিছু সরকারি প্রকল্পের চাকরিতে নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রয়োজন হতে পারে এবং নির্দিষ্ট পদে মার্কিন নাগরিকত্বও বাধ্যতামূলক হতে পারে। তাই শুধু তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা থাকলেই সব ধরনের ফেডারেল ঠিকাদারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি তথ্যকেন্দ্র শিল্পও ভার্জিনিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উত্তর ভার্জিনিয়ার লাউডন ও আশপাশের এলাকায় বড় তথ্যকেন্দ্র অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। এর সঙ্গে মেঘভিত্তিক অবকাঠামো, নেটওয়ার্কিং, বৈদ্যুতিক প্রকৌশল, সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার মতো ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আর্লিংটনের ন্যাশনাল ল্যান্ডিং এলাকায় অ্যামাজনের প্রধান কার্যালয়-২-ও এই অঞ্চলের প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে উত্তর ভার্জিনিয়া প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য শুধু চাকরির বাজার নয়, বড় একটি প্রযুক্তি পরিবেশ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। তবে চাকরির সুযোগের সঙ্গে বসবাসের খরচও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। ভার্জিনিয়া আবাসন ব্যবসায়ী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে পুরো ভার্জিনিয়া রাজ্যে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। উত্তর ভার্জিনিয়ার অনেক এলাকায় বাড়ি ও ভাড়ার খরচ রাজ্যের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি। বাংলাদেশিদের কাছেও ভার্জিনিয়া ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে শুধু চাকরি ও পেশাগত সুযোগের কারণে নয়, শক্তিশালী সম্প্রদায়ের উপস্থিতির কারণেও। উত্তর ভার্জিনিয়ায় বাংলাদেশি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন নিয়মিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা, নর্দার্ন ভার্জিনিয়া বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন বাংলা সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পহেলা বৈশাখ, ঈদ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাংলা ভাষা ও শিশুদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানসহ নানা আয়োজনও বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করছে। আগামী ২৩ আগস্ট ভার্জিনিয়ায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান আয়োজনের খবরও প্রকাশ হয়েছে, যেখানে খাবারের পাশাপাশি সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন রয়েছে। এই সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নতুন বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পেশাগত জীবনের পাশাপাশি নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ অনেক পরিবারের বসবাসের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। ভার্জিনিয়ার বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনও নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে ভার্জিনিয়ায় বসবাস করলেই চাকরি নিশ্চিত হবে এমন নয়। একইভাবে কোনো নির্দিষ্ট রাজ্যে বসবাসের কারণে অভিবাসনের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো সুবিধাও তৈরি হয় না। চাকরির সুযোগ নির্ভর করে প্রার্থীর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চাকরির ধরন এবং অভিবাসন সুবিধা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল নিয়ম ও যোগ্যতার ওপর। সব মিলিয়ে, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি পেশায় শক্তিশালী কর্মসংস্থান বাজার, ফেডারেল ঠিকাদারির বড় উপস্থিতি, তথ্যকেন্দ্র শিল্প এবং ওয়াশিংটন ডিসির কাছাকাছি অবস্থান ভার্জিনিয়াকে পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। আর এর সঙ্গে সক্রিয় বাংলাদেশি সম্প্রদায় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশি পেশাজীবী ও পরিবারগুলোর কাছেও রাজ্যটি ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
হিউস্টনের গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ — পুলিশ ঘটনার নজরদারি ভিডিও ও সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে। হিউস্টনের গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে একটি গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ। হিউস্টন পুলিশ বিভাগ সম্প্রতি ঘটনাটির নজরদারি ভিডিও ও সন্দেহভাজনের দুটি প্রতিকৃতি প্রকাশ করে জনগণের সহায়তা চেয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই দুপুর প্রায় ১২টা ২০ মিনিটে দক্ষিণ-পূর্ব হিউস্টনের সাবো রোডের একটি গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। এ সময় এক সন্দেহভাজন তার কাছে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে টাকা দাবি করে।ভুক্তভোগী গাড়ি থেকে মানিব্যাগ নেওয়ার চেষ্টা করলে সন্দেহভাজন তার পেটে গুলি করে পালিয়ে যায়। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার সময় কাছাকাছি থাকা হ্যারিস কাউন্টির দ্বিতীয় এলাকার একজন ডেপুটি কনস্টেবল গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। তিনি সন্দেহভাজনকে পালিয়ে যেতে দেখে অনুসরণ শুরু করলে সন্দেহভাজন ঘুরে তার গাড়ির দিকে একাধিক গুলি চালায়। গাড়িতে একাধিক গুলি লাগলেও ডেপুটি আহত হননি। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন পরে একটি আবাসিক ভবন এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং সেখান থেকে তাকে আর দেখা যায়নি। পুলিশ তাকে তরুণ কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ হিসেবে বর্ণনা করেছে; ঘটনার সময় তার পরনে বেগুনি রঙের হুডযুক্ত পোশাক ও হাফপ্যান্ট ছিল। পুলিশের প্রকাশ করা নজরদারি ভিডিও ও প্রতিকৃতির মাধ্যমে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তথ্য থাকলে হিউস্টন পুলিশের ডাকাতি তদন্ত বিভাগে ৭১৩-৩০৮-০৭০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রেইমেইন (আইএলআর) পাওয়ার ক্ষেত্রে ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। দেশটিতে বসবাসের নির্দিষ্ট সময় পূরণের পাশাপাশি চাকরি, বেতন, বৈধ ভিসা এবং যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থানের মতো বিষয়ও বিবেচনায় আসে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে কর্মরত অধিকাংশ বাংলাদেশি—বিশেষ করে স্কিলড ওয়ার্কার ও সংশ্লিষ্ট কর্মভিত্তিক ভিসাধারীদের—সাধারণত পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাসের পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকে। তবে শুধু পাঁচ বছর পূর্ণ করলেই আবেদন অনুমোদন নিশ্চিত হয় না; অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়। কেন বাংলাদেশিদের জন্য পাঁচ বছরের নিয়ম স্কিলড ওয়ার্কার, হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ওয়ার্কার, ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টসপারসনসহ কয়েকটি কর্মভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে সাধারণত পাঁচ বছরের বসবাসের শর্ত রয়েছে।এসব ভিসাধারীকে নির্ধারিত চাকরি ও বেতনসংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হয়। ফলে যুক্তরাজ্যে কর্মরত কোনো বাংলাদেশি যদি স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করেন, তাহলে তার ভিসার শর্ত অনুযায়ী চাকরি ও আয়ের যোগ্যতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া বসবাসের সময়ের হিসাবেও নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে আবেদনকারীর প্রতি ১২ মাসে যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থানের সময় ১৮০ দিনের বেশি হওয়া উচিত নয়। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমী নিয়ম থাকতে পারে। কিছু বাংলাদেশি তিন বছর পরও আবেদন করতে পারেন সব কর্মীর জন্য পাঁচ বছরের নিয়ম প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসাধারীদের কেউ কেউ তিন বছর যুক্তরাজ্যে থাকার পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। একইভাবে ইনোভেটর ফাউন্ডার ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও তিন বছর পর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যবসার কার্যক্রম ও নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।অর্থাৎ একজন বাংলাদেশি কোন ভিসায় যুক্তরাজ্যে গেছেন, সেই ভিসার অধীনে কী ধরনের কাজ করছেন এবং নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করছেন কি না—তার ওপরই মূলত স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার সময়সীমা নির্ভর করবে। বেতন ও চাকরির শর্তও গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সময় শুধু বসবাসের মেয়াদ নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মীর চাকরি ও বেতনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। স্কিলড ওয়ার্কারদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বেতনসীমা বা সংশ্লিষ্ট পেশার ‘গোয়িং রেট’ পূরণের শর্ত রয়েছে। তবে পেশা, ভিসা কখন নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন নিয়ম অনুযায়ী বেতনসংক্রান্ত শর্তে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই সব বাংলাদেশি কর্মীর জন্য একই বেতনসীমা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। স্থায়ী বসবাস মানেই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নয় ইনডেফিনিট লিভ টু রেইমেইন বা আইএলআর পাওয়ার অর্থ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়া নয়। এটি যুক্তরাজ্যে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসবাস ও কাজের অধিকার দেয়।পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে আলাদাভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। ফলে যুক্তরাজ্যে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করার আগে নিজের ভিসার ধরন, প্রয়োজনীয় বসবাসের সময়, চাকরি, বেতন এবং যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থানের হিসাব ঠিক আছে কি না—তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্থায়ী বসবাসের নিয়ম সবার জন্য এক নয়। তাই কোনো বাংলাদেশি পাঁচ বছর পূর্ণ করেছেন বলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইএলআর এর জন্য যোগ্য হয়ে যাবেন এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সংশ্লিষ্ট ভিসা রুটের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করেই আবেদন করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসে একই অটোজোন দোকানে টানা দুই রাতে সংঘবদ্ধভাবে ঢুকে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে মোট ২৭ জনের ছবি প্রকাশ করেছে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের বিভাগ। শেরিফ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত ৮ আগস্ট ভোররাতে। রাত প্রায় ২টা ২০ মিনিটে সাউথ আটলান্টিক বুলেভার্ডের ১১০০ ব্লকের ওই অটোজোন-এ অননুমোদিতভাবে প্রবেশের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ডেপুটিরা। তদন্তকারীরা জানান, একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি প্রথমে দোকানের কাচের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এরপর আরও প্রায় ১০ জন তার সঙ্গে যোগ দেয়। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সমন্বিত ‘মব-সদৃশ’ লুটপাট হিসেবে বর্ণনা করেছে। এতে দোকানের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির ক্ষতি হয়। প্রথম হামলার সময় ওই এলাকায় একটি স্ট্রিট টেকওভার চলছিল। স্ট্রিট টেকওভারের সময় সাধারণত বিপুলসংখ্যক মানুষ ও গাড়ি সড়কে জড়ো হয় এবং অবৈধভাবে গাড়ি চালানো, ড্রিফটিং ও বিভিন্ন ধরনের স্টান্ট করা হয়। প্রথম ঘটনার তদন্তে দোকানের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ থেকে সন্দেহভাজনদের ছবি সংগ্রহ করে শেরিফ বিভাগ। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পাঁচ পুরুষ ও ছয় নারীর ছবি প্রকাশ করা হয়। তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একই দোকানে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। ৯ আগস্ট ভোর সাড়ে ৩টার দিকে কিছু একই সন্দেহভাজনসহ আরও কয়েকজন দোকানটিতে ঢুকে আগের মতোই সংঘবদ্ধভাবে লুটপাট চালায় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয় ঘটনার সময়ও এলাকায় আরেকটি স্ট্রিট টেকওভার চলছিল। শেরিফ বিভাগের দাবি, দ্বিতীয়বারের হামলাতেও দোকানের পণ্য লুট করা হয় এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির ক্ষতি করা হয়। দুই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দ্বিতীয় দফায় আরও সন্দেহভাজনের ছবি সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে কর্তৃপক্ষ ১১ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারীর—মোট ২৭ জনের ছবি প্রকাশ করেছে। শেরিফ বিভাগ জানিয়েছে, প্রকাশিত ছবিগুলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ধার করা ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ব্যক্তিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হলেও আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সহযোগিতা চেয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের বিভাগ। কারও কাছে এ বিষয়ে তথ্য থাকলে ইস্ট লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেশনের গোয়েন্দা কর্মকর্তা লু অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়াচ কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। পরিচয় গোপন রেখেও তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, প্রকাশিত ছবির ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে টানা দুই রাতের এই সংঘবদ্ধ লুটপাটের তদন্ত এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।
গাজায় যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনা পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার। মিসরে হামাসের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তার। মিসরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গাজায় যুদ্ধবিরতি, হামাসের সঙ্গে সমঝোতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনা কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। হামাসের সঙ্গে আলোচনার পর কুশনারের নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠককে গাজা যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ শান্তি পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে হামাস ও ইসরাইল—দুই পক্ষের সম্মতি এবং বেশ কিছু জটিল শর্তের সমাধান প্রয়োজন। এদিকে গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর ওপর চাপ বাড়ছে। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর পাশাপাশি কয়েকটি মুসলিম-অধ্যুষিত দেশও ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, যুদ্ধ বন্ধ এবং গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে আলোচনার পথই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তবে শান্তি পরিকল্পনার বেশ কিছু বিষয় এখনো জটিল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে হামাসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা, অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ, গাজার নিরাপত্তা এবং ইসরাইলি বাহিনীর অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। হামাসের সঙ্গে কুশনারের সরাসরি আলোচনাও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ওয়াশিংটন একদিকে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে, অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধ ও জিম্মি মুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরোক্ষ ও কখনো সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এখন কুশনার ও নেতানিয়াহুর বৈঠকে ইসরাইল শান্তি পরিকল্পনাটি কতটা গ্রহণ করতে প্রস্তুত, সেটিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। পাশাপাশি হামাসের সঙ্গে মিসরের আলোচনায় যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, সেগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের অবস্থান কতটা সমন্বয় করা যায়, তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গাজায় হামলা চলতে থাকা অবস্থায় এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা বাস্তব অগ্রগতি তৈরি করতে পারে, তা নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতির শর্ত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমানোর ওপর।
নিউ ইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স রিনিউ করতে যাচ্ছেন? শুধু পুরোনো লাইসেন্স হাতে নিয়ে ডিএমভি অফিসে যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া জরুরি, আপনি শুধু লাইসেন্স রিনিউ করবেন, নাকি স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স থেকে রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সে পরিবর্তন করবেন। কারণ তিনটির নিয়ম এক নয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক না থাকলে ডিএমভিতে গিয়েও কাজ শেষ না করে ফিরে আসতে হতে পারে। নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিক্যালসের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ ড্রাইভার লাইসেন্স মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগে থেকেই রিনিউ করা যায়। এমনকি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দুই বছরের মধ্যে রিনিউ করার সুযোগ থাকে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়া লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানো বৈধ নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ফেডারেল রিয়েল আইডি ব্যবস্থায়। ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে পরিচয়পত্র হিসেবে সাধারণ স্ট্যান্ডার্ড ড্রাইভার লাইসেন্স আর গ্রহণ করছে না ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ফলে নিউ ইয়র্কের স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানো গেলেও সেটি একা দেখিয়ে এয়ারপোর্টের টিএসএ সিকিউরিটি চেকপয়েন্ট পার হওয়ার ওপর নির্ভর করা যাবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্সধারীরা প্লেনে ভ্রমণই করতে পারবেন না। তাদের রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড আইডির পরিবর্তে বৈধ যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট, পাসপোর্ট কার্ড, পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড বা টিএসএ অনুমোদিত অন্য পরিচয়পত্র ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। আপনার নিউ ইয়র্ক ড্রাইভার লাইসেন্সে যদি রিয়েল আইডির তারকা বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সের যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার চিহ্ন না থাকে এবং সেটি স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স হয়, তাহলে ফেডারেল পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয় এমন কাজে সেটি ব্যবহার করা যাবে না। যারা শুধু বর্তমান স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স একই ধরনের লাইসেন্স হিসেবে রিনিউ করতে চান, তারা যোগ্য হলে অনলাইনে রিনিউ করতে পারেন। আগে থেকেই রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্স থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে রিনিউ করা যায় এবং ডকুমেন্টের ধরন একই থাকে। কিন্তু স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স থেকে প্রথমবার রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সে পরিবর্তন করতে হলে ডিএমভি অফিসে সরাসরি যেতে হবে। প্রয়োজনীয় পরিচয় ও বসবাসের প্রমাণ জমা দিতে হবে এবং নতুন ছবি তোলা হবে। রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ডিএমভি আবেদনকারীর পূর্ণ বৈধ নামের প্রমাণ চায়। কোনো ডকুমেন্টে ডাকনাম, সংক্ষিপ্ত নাম বা অন্য নাম থাকলে অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। বিয়ে, ডিভোর্স বা আদালতের আদেশের কারণে নাম পরিবর্তন হয়ে থাকলে আগের ও বর্তমান নামের সংযোগ প্রমাণের কাগজও সঙ্গে রাখতে হতে পারে। একই সঙ্গে নিউইয়র্কে বসবাসের দুটি গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দিতে হয়। বর্তমান নিউইয়র্ক ঠিকানাসহ ড্রাইভার লাইসেন্স বা নন ড্রাইভার আইডি, সাম্প্রতিক ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পে স্টাব, ইউটিলিটি বিলসহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট গ্রহণযোগ্য হতে পারে। অধিকাংশ রেসিডেন্সি ডকুমেন্ট ডিএমভি অফিসে যাওয়ার আগের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ইস্যু করা হতে হয় এবং পোস্ট অফিস বক্সকে আবাসিক ঠিকানা হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। সোশ্যাল সিকিউরিটি সম্পর্কিত প্রমাণসহ ঠিক কোন ডকুমেন্ট আপনার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে, তা আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই শুধু সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড বা ডব্লিউ-টু সঙ্গে নিলেই সবার ডকুমেন্টের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ডিএমভির ডকুমেন্ট গাইড ব্যবহার করে নিজের জন্য নির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করাই নিরাপদ। ডিএমভি এখন অনলাইন প্রি-স্ক্রিনিং সুবিধাও দিচ্ছে। রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড আইডির জন্য অফিসে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট কী কী লাগবে তা যাচাই করা যায় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাগজপত্র আগেই রিভিউয়ের জন্য জমা দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। এতে ভুল বা অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট নিয়ে অফিসে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। রিয়েল আইডির জন্য সাধারণ ট্রানজ্যাকশন ফি ছাড়া আলাদা ৩০ ডলারের কোনো চার্জ নেই। তবে এনহ্যান্সড ড্রাইভার লাইসেন্সের জন্য নিয়মিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৩০ ডলার দিতে হয়। এনহ্যান্সড লাইসেন্সের একটি বাড়তি সুবিধা রয়েছে। যোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা কানাডা, মেক্সিকো এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের নির্দিষ্ট দেশ থেকে স্থল বা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় এটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে এসব দেশ থেকে আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণের জন্য এনহ্যান্সড লাইসেন্স পাসপোর্টের বিকল্প নয়। নিউইয়র্কের সবচেয়ে প্রচলিত ক্লাস ডি ড্রাইভার লাইসেন্সের সাধারণ আট বছরের রিনিউ ফি ৬৪ দশমিক ৫০ ডলার। নিউইয়র্ক সিটি এবং মেট্রোপলিটন কমিউটার ট্রান্সপোর্টেশন ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্ভুক্ত কাউন্টিগুলোতে আট বছরের লাইসেন্সের জন্য অতিরিক্ত ১৬ ডলার এমসিটিডি ফি প্রযোজ্য হওয়ায় মোট ফি ৮০ দশমিক ৫০ ডলার হতে পারে। এনহ্যান্সড লাইসেন্স নিলে এর সঙ্গে আরও ৩০ ডলার যোগ হবে। কমার্শিয়াল ক্লাস এ, বি বা সি লাইসেন্সের সাধারণ রিনিউ ফি ১৬৪ দশমিক ৫০ ডলার। এমসিটিডি এলাকায় তা ১৮০ দশমিক ৫০ ডলার হতে পারে। লাইসেন্সের শ্রেণি ও অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে ফি ভিন্ন হতে পারে। আরেকটি বিষয় ভুলে গেলে রিনিউ আটকে যেতে পারে। নিউইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স রিনিউ করার জন্য ভিশন টেস্ট পাস করা বাধ্যতামূলক। ডিএমভি অফিসে পরীক্ষা দেওয়া যায়, আবার অনুমোদিত ভিশন প্রোভাইডারের মাধ্যমেও পরীক্ষা করানো যায়। অনলাইনে রিনিউ করলে অনুমোদিত ভিশন টেস্টের তথ্য ডিএমভিতে থাকতে হবে। ভিশন টেস্টের ফল সাধারণত ১২ মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকে। যাদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হতে এখনো ১২ মাসের বেশি বাকি, তারাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে আগাম রিনিউ করে রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সে পরিবর্তন করতে পারেন। তবে আগাম রিনিউয়ের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের নতুন মেয়াদ ও মোট ফি স্বাভাবিক রিনিউয়ের তুলনায় আলাদা এবং কখনো বেশি হতে পারে। সব মিলিয়ে ডিএমভিতে যাওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের বর্তমান লাইসেন্সের ধরন এবং কী ধরনের লাইসেন্স নিতে চান তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্স নিতে চাইলে পূর্ণ বৈধ নাম, পরিচয়, বৈধ স্ট্যাটাস ও নিউইয়র্কের ঠিকানার প্রয়োজনীয় প্রমাণ আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি। কয়েক মিনিটের প্রস্তুতি ডিএমভি অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর খালি হাতে ফিরে আসার ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে।