আমেরিকা

বাংলাদেশে থাকা ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে স্বীকার করল মিয়ানমার

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৫:৪২
রোহিঙ্গা ছবি:সংগৃহীত
রোহিঙ্গা ছবি:সংগৃহীত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করেছে দেশটির সামরিক-সমর্থিত সরকার। তবে রাখাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে না বলে জানিয়েছে মিয়ানমার।

 

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনের জন্য মোট ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার নাম পাঠিয়েছিল। এর মধ্যে যাচাই শেষে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

 

তবে এই স্বীকৃতির পরও প্রত্যাবাসনের পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি। মিয়ানমারের বক্তব্য, রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরই প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হবে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

 

বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। তাদের বড় অংশ ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপর থেকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শিবিরে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

 

মিয়ানমারের এই নতুন যাচাইকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও প্রত্যাবাসনের বাস্তব পরিবেশ নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়েছে।

 

ফলে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও তাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেতা আকৃষ্ট করতে নতুন বাড়ির নির্মাতারা মূল্যছাড় ও বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছেন। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রিতে নির্মাতাদের ছাড়, ৩৫ শতাংশ কমিয়েছে দাম গড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নতুন বাড়ির নির্মাতারা ছাড় ও বিভিন্ন প্রণোদনার ওপর আরও বেশি নির্ভর করছেন। আগস্টের নতুন তথ্য বলছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নির্মাতা ক্রেতাদের কোনো না কোনো ধরনের বিক্রয়-প্রণোদনা দিচ্ছেন।   একই সময়ে ৩৫ শতাংশ নির্মাতা বাড়ির দাম কমিয়েছেন, আর গড় মূল্যছাড় রয়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব হোম বিল্ডার্স (এনএএইচবি) ও ওয়েলস ফার্গোর আবাসন বাজার সূচকের আগস্টের জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, আগস্টে ৩৫ শতাংশ নির্মাতা চাহিদা বাড়াতে বাড়ির তালিকাভুক্ত দাম কমিয়েছেন।   এই হার জুলাইয়ের ৩৭ শতাংশের তুলনায় কিছুটা কম হলেও, গড় মূল্যছাড় ৬ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে।অন্যদিকে, প্রায় ৬৩ শতাংশ নির্মাতা ক্রেতাদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছেন। এর মধ্যে বন্ধকি ঋণের সুদ কমানোর ব্যবস্থা, নির্মাণকাজ বা বাড়ির বিভিন্ন সুবিধা বিনামূল্যে দেওয়া এবং অন্যান্য বিক্রয়-সুবিধা থাকতে পারে।   আবাসন বাজারে এই ছাড়ের প্রবণতার পেছনে অন্যতম কারণ হলো উচ্চ বন্ধকি ঋণের সুদ। ৩০ বছরের স্থির সুদের গৃহঋণের হার আগস্টের শুরুতেও প্রায় ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ ছিল, যা অনেক সম্ভাব্য ক্রেতার জন্য মাসিক কিস্তির বোঝা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে অনেকে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন।   এ পরিস্থিতিতে নির্মাতাদের জন্য বাড়ি বিক্রি করা কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নতুন নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে মূল্যছাড় ও প্রণোদনা দেওয়া এখন বিক্রয় কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   তবে আবাসন বাজারে কিছুটা ইতিবাচক সংকেতও দেখা গেছে। আগস্টে নতুন একক পরিবারের বাড়ির বাজার নিয়ে নির্মাতাদের আস্থার সূচক জুলাইয়ের ৩৪ থেকে বেড়ে ৩৫ হয়েছে। যদিও ৫০-এর নিচের সূচক সাধারণত বাজার পরিস্থিতি নিয়ে নির্মাতাদের মধ্যে আশাবাদের চেয়ে হতাশা বেশি থাকার ইঙ্গিত দেয়।   এনএএইচবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ছিল টানা ১৬তম মাস, যখন অন্তত ৩০ শতাংশ নির্মাতা বাড়ির দাম কমানোর কথা জানিয়েছেন। একই সময়ে নির্মাতাদের আস্থার সূচকও টানা ১৬ মাস ৪০-এর নিচে রয়েছে।   নির্মাণ ব্যয়ও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। জ্বালানি ও ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি নির্মাণসামগ্রী ও নির্মাণকাজের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে নির্মাতারা একদিকে ক্রেতাদের জন্য ছাড় দিতে বাধ্য হচ্ছেন, অন্যদিকে নিজেদের লাভের মার্জিনও ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।   বাড়ির দাম কমানো ও বিক্রয়-প্রণোদনা বাড়ানোর প্রবণতা ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির সুযোগ তৈরি করছে। তবে উচ্চ বন্ধকি সুদ ও নির্মাণ ব্যয় কম না হলে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় ধরনের পুনরুদ্ধার কতটা দ্রুত হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৬:১৮
নিউ ইয়র্কে অভিবাসন নীতি নিয়ে অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বিরোধ তীব্র হয়েছে। ছবি:সংগৃহীত

নিউ ইয়র্কে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন সংঘাত, মুখোমুখি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ

রোহিঙ্গা ছবি:সংগৃহীত

বাংলাদেশে থাকা ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে স্বীকার করল মিয়ানমার

ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে বন, বসতি; বাড়ছে প্রাণহানি ও উদ্বেগ। ছবি:সংগৃহীত

ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, ফ্রান্স-বেলজিয়াম-গ্রিসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

সবজি বিক্রি বাড়াতে নৃত্যের আয়োজন, চেন্নাইয়ের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি:সংগৃহীত
সবজি বিক্রি বাড়াতে দোকানের সামনে নাচের আয়োজন, চেন্নাইয়ে ভিডিও ভাইরাল

ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিক্রি বাড়াতে ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের প্রচলিত ও অভিনব কৌশল ব্যবহার করেন। তবে সবজি বিক্রির জন্য দোকানের সামনে নৃত্যশিল্পী এনে নাচানোর ঘটনা বেশ ব্যতিক্রমী। ভারতের চেন্নাইয়ে এমনই এক অভিনব প্রচারণার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।   সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সবজির দোকানের সামনে শাড়ি পরা এক তরুণী বলিউডের জনপ্রিয় গান ‘ছম্মক ছল্লো’র তালে নাচছেন। তার পেছনে সারি করে রাখা রয়েছে আলু ও পেঁয়াজের বস্তা। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনের দৃষ্টি তখন পুরোপুরি ওই নৃত্য পরিবেশনার দিকে।   ভিডিওতে আরও দেখা যায়, দোকানের ভেতরে বসে থাকা সবজি বিক্রেতা ওই নাচ উপভোগ করছেন। কখনও তাকে হাসতে, আবার কখনও হাততালি দিতে দেখা যায়। অপ্রত্যাশিত এই আয়োজন দেখতে দোকানের সামনে পথচারী ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের ভিড়ও জমতে দেখা যায়।   প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা এবং দোকানের বিক্রি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এমন ব্যতিক্রমী প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণত সবজির দোকানে ক্রেতা টানতে দাম কমানো, বিশেষ ছাড় বা বিভিন্ন ধরনের অফারের প্রচলন থাকলেও এখানে নাচকে প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।   ‘ছম্মক ছল্লো’ গানটি শাহরুখ খান ও কারিনা কাপুর অভিনীত ২০১১ সালের বলিউড সিনেমা Ra.One-এর অন্যতম পরিচিত গান। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন আকন ও হামসিকা আইয়ার। গানটি মুক্তির পর থেকেই ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ব্যাপক পরিচিতি পায়।   চেন্নাইয়ে এই ধরনের জনপ্রচারণার নজির একেবারে নতুন নয়। শহরটিতে অতীতেও জনপ্রিয় গানের সঙ্গে জনসমক্ষে নাচ ও ফ্ল্যাশ মবের আয়োজন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।তবে এবারের ভিডিওটির বিশেষত্ব হলো—কোনো মঞ্চ, অনুষ্ঠান বা উৎসবের পরিবর্তে একটি সাধারণ সবজির দোকানকে ঘিরেই নৃত্য পরিবেশনার আয়োজন করা হয়েছে। ফলে এটি শুধু দোকানের সামনে উপস্থিত মানুষের নজর কাড়েনি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কৌতূহল তৈরি করেছে।   ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে ক্রেতা আকর্ষণের অভিনব বিপণন কৌশল হিসেবে দেখছেন। ব্যবসায় প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট ব্যবসায়ীরাও এখন প্রচলিত বিজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে মানুষের নজর কাড়ার নতুন উপায় খুঁজছেন। চেন্নাইয়ের এই সবজি বিক্রেতার উদ্যোগ সেই প্রবণতারই একটি মজার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।   তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, দোকানটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান কোথায় এবং এই প্রচারণার পর বাস্তবে সবজি বিক্রি কতটা বেড়েছে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দাবিগুলোকে সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই দেখা উচিত।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:৩৬
প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত

চারবার গুলিবিদ্ধ হয়েও ৯১১-এ ফোন, ১৩ বছরের কিশোরীর সাহসিকতায় মুগ্ধ মিশিগান

বন্যা পরিস্থিতি। ছবি:সংগৃহীত

ইন্ডিয়ানায় বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া দুই বছরের শিশুকে বাঁচাতে মায়ের মরিয়া লড়াই

ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকায় আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ৯২ বছর বয়সী দম্পতি অ্যান্থনি ও হেলেন স্পলডিং। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭৩ বছরের দাম্পত্যের ইতি, আগুনে প্রাণ গেল বৃদ্ধ দম্পতির

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত
মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিম কমিউনিটির ভেতরে ঢুকে তথ্য সংগ্রহের জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা এক গোপন ইনফরম্যান্টকেই শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য উগ্রবাদী হিসেবে এফবিআই ও স্থানীয় পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেছিলেন মুসল্লিরা। ২০০৬ সালে শুরু হওয়া ওই নজরদারি অভিযানের কেন্দ্রে ছিলেন ক্রেইগ মন্টেইল নামের এক ফিটনেস প্রশিক্ষক, যিনি ‘ফারুক আল আজিজ’ নাম নিয়ে মুসলিম পরিচয়ে অরেঞ্জ কাউন্টির বিভিন্ন মসজিদে যাতায়াত শুরু করেন। ঘটনাটি পরে বড় ধরনের নাগরিক অধিকার মামলায় রূপ নেয় এবং একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছায়।   সুপ্রিম কোর্টের নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালের জুলাইয়ের আগে মন্টেইলকে পেইড ইনফরম্যান্ট হিসেবে নিয়োগ করে এফবিআই। তাকে আরভাইন এলাকার মুসলিমদের সম্পর্কে গোপনে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।   এরপর মন্টেইল ইসলামিক সেন্টার অব আরভাইনের ইমামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি নিজেকে ফরাসি ও সিরীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে ইসলাম গ্রহণের আগ্রহের কথা জানান। পরে জুমার নামাজে শত শত মুসল্লির সামনে শাহাদাহ পাঠ করে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং কিছুদিন পর ‘ফারুক আল আজিজ’ নাম ব্যবহার শুরু করেন।   মুসলিম হিসেবে পরিচিত হওয়ার পর তিনি নিয়মিত মসজিদে যেতে থাকেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কখনো কখনো দিনে একাধিকবার নামাজে অংশ নিতেন তিনি। বিভিন্ন ধর্মীয় ক্লাস ও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি অরেঞ্জ কাউন্টির আরও কয়েকটি বড় মসজিদেও যাতায়াত করতেন।   এভাবে কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। মুসল্লিদের সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে খাওয়া এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে সম্পর্ক তৈরির মধ্য দিয়ে তিনি এমন জায়গায় পৌঁছান, যেখানে অনেকেই তাকে নিজেদের পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য মানুষ হিসেবে দেখতে শুরু করেছিলেন।   কিন্তু আড়ালে চলছিল নজরদারি। সুপ্রিম কোর্টের নথিতে মামলাকারীদের অভিযোগ হিসেবে বলা হয়েছে, ওই অভিযানে শত শত ফোন নম্বর, হাজার হাজার ইমেইল ঠিকানা এবং বিপুল পরিমাণ অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং সংগ্রহ করা হয়েছিল। মসজিদ, বাড়ি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত স্থানেও রেকর্ডিংয়ের অভিযোগ ওঠে।   লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে মন্টেইল পরে দাবি করেন, প্রায় ১৪ মাসের ওই কাজে এফবিআই তাকে ১ লাখ ৭৭ হাজার ডলার দিয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অরেঞ্জ, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির প্রায় এক ডজন মসজিদে তিনি তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন।   ঘটনার সবচেয়ে অস্বাভাবিক মোড় আসে যখন মন্টেইল সহিংস জিহাদ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। সুপ্রিম কোর্টের ২০২২ সালের রায়ে উল্লেখ করা হয়, মামলাকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী এফবিআইয়ের নির্দেশে ইনফরম্যান্ট কমিউনিটির সদস্যদের কাছে সহিংস জিহাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।   তার কথাবার্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন কয়েকজন মুসল্লি। শেষ পর্যন্ত যে ব্যক্তিকে এফবিআই তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পাঠিয়েছিল, তাকেই সম্ভাব্য উগ্রবাদী মনে করে এফবিআই ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রিপোর্ট করেন তারা। ২০০৭ সালে কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনসের স্থানীয় কর্মকর্তারাও তার বিষয়ে এফবিআইকে সতর্ক করেছিলেন বলে সে সময় লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানিয়েছিল।   মন্টেইলের বিরুদ্ধে মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। তখন মুসল্লিরা জানতেন না, যাকে তারা নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করছেন, তিনি আসলে এফবিআইয়ের হয়ে কাজ করছেন।   ২০০৯ সালে মন্টেইলের পরিচয় ও তার ভূমিকা প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে। মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদের অভিযোগ ছিল, অপরাধের সুনির্দিষ্ট সন্দেহের ভিত্তিতে নয়, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের ব্যাপক নজরদারির আওতায় আনা হয়েছিল।   ২০১১ সালে ইয়াসির ফাজাগা, আলী মালিক ও ইয়াসের আবদেলরহিমসহ বাদীরা যুক্তরাষ্ট্র সরকার, এফবিআই ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের অভিযোগের মধ্যে ধর্মীয় বৈষম্য, গোপন নজরদারি এবং সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয় ছিল।   ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বনাম ফাজাগা নামে পরিচিত মামলাটি পরে সুপ্রিম কোর্টে যায়। ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে রায় দেয়। আদালত বলেছিল, ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভেইল্যান্স অ্যাক্ট সরকারের ‘স্টেট সিক্রেটস’ বিশেষাধিকারকে বাতিল করে না। তবে সেই রায়ে মুসলিম বাদীদের সব অভিযোগ সত্য বা মিথ্যা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।   আইনি লড়াই সেখানেই শেষ হয়নি। মামলাটি পরবর্তী বছরগুলোতেও আদালতে চলতে থাকে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট আবারও মামলাটিতে হস্তক্ষেপ করে আগের রায় বাতিল করে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির আলোকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়।   প্রায় দুই দশক আগের এই গোপন অভিযান তাই শুধু একটি এফবিআই ইনফরম্যান্টের গল্পে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নজরদারি করা হয়েছিল কি না এবং জাতীয় নিরাপত্তার তদন্তে সরকারের ক্ষমতার সীমা কোথায়, সেই প্রশ্ন ঘিরে এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী নাগরিক অধিকার মামলাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১২:২৪
ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক ব্রেন্ট জিনড্রা এবং ইমিগ্রেশন অভিযানে আটক হওয়া তার রুশ বংশোদ্ভূত স্ত্রী গালিনা বোব্রেনেভা। ছবি: সংগৃহীত

টানা তিনবার ট্রাম্পকে ভোট, এবার ইমিগ্রেশন অভিযানে আটক নিজেরই স্ত্রী

কুইন্সের ফ্লোরাল পার্কে আয়োজিত ইন্ডিয়া ডে প্যারেডে মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন নিউইয়র্ক অ্যাসেম্বলি মেম্বার জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় সংস্কৃতির উৎসবে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি, ‘এই অভিজ্ঞতা কখনো ভুলব না’

মানসিক চাপ সামলাতে অতিরিক্ত কেনাকাটার অভ্যাসে পড়ে আর্থিক সংকটে ভোগা মার্কিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ম্যাডি বেকার। ছবি: সংগৃহীত

কাজ শেষে ক্লান্তি কমাতে শপিং ছিল অভ্যাস, পে চেক টু পে চেক জীবন থেকে যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন শিক্ষিকা

0 Comments