সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ড্রাইভিং লাইসেন্স। ছবি:সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে থাকেন, ড্রাইভার লাইসেন্স আছে? রিনিউয়ের আগে যা জানা জরুরি

নিউ ইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স রিনিউ করতে যাচ্ছেন? শুধু পুরোনো লাইসেন্স হাতে নিয়ে ডিএমভি অফিসে যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া জরুরি, আপনি শুধু লাইসেন্স রিনিউ করবেন, নাকি স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স থেকে রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সে পরিবর্তন করবেন। কারণ তিনটির নিয়ম এক নয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক না থাকলে ডিএমভিতে গিয়েও কাজ শেষ না করে ফিরে আসতে হতে পারে।   নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিক্যালসের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ ড্রাইভার লাইসেন্স মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগে থেকেই রিনিউ করা যায়। এমনকি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দুই বছরের মধ্যে রিনিউ করার সুযোগ থাকে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়া লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানো বৈধ নয়।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ফেডারেল রিয়েল আইডি ব্যবস্থায়। ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে পরিচয়পত্র হিসেবে সাধারণ স্ট্যান্ডার্ড ড্রাইভার লাইসেন্স আর গ্রহণ করছে না ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ফলে নিউ ইয়র্কের স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানো গেলেও সেটি একা দেখিয়ে এয়ারপোর্টের টিএসএ সিকিউরিটি চেকপয়েন্ট পার হওয়ার ওপর নির্ভর করা যাবে না।   তবে এর অর্থ এই নয় যে স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্সধারীরা প্লেনে ভ্রমণই করতে পারবেন না। তাদের রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড আইডির পরিবর্তে বৈধ যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট, পাসপোর্ট কার্ড, পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড বা টিএসএ অনুমোদিত অন্য পরিচয়পত্র ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।   আপনার নিউ ইয়র্ক ড্রাইভার লাইসেন্সে যদি রিয়েল আইডির তারকা বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সের যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার চিহ্ন না থাকে এবং সেটি স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স হয়, তাহলে ফেডারেল পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয় এমন কাজে সেটি ব্যবহার করা যাবে না।   যারা শুধু বর্তমান স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স একই ধরনের লাইসেন্স হিসেবে রিনিউ করতে চান, তারা যোগ্য হলে অনলাইনে রিনিউ করতে পারেন। আগে থেকেই রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্স থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে রিনিউ করা যায় এবং ডকুমেন্টের ধরন একই থাকে।   কিন্তু স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স থেকে প্রথমবার রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সে পরিবর্তন করতে হলে ডিএমভি অফিসে সরাসরি যেতে হবে। প্রয়োজনীয় পরিচয় ও বসবাসের প্রমাণ জমা দিতে হবে এবং নতুন ছবি তোলা হবে।   রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ডিএমভি আবেদনকারীর পূর্ণ বৈধ নামের প্রমাণ চায়। কোনো ডকুমেন্টে ডাকনাম, সংক্ষিপ্ত নাম বা অন্য নাম থাকলে অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। বিয়ে, ডিভোর্স বা আদালতের আদেশের কারণে নাম পরিবর্তন হয়ে থাকলে আগের ও বর্তমান নামের সংযোগ প্রমাণের কাগজও সঙ্গে রাখতে হতে পারে।   একই সঙ্গে নিউইয়র্কে বসবাসের দুটি গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দিতে হয়। বর্তমান নিউইয়র্ক ঠিকানাসহ ড্রাইভার লাইসেন্স বা নন ড্রাইভার আইডি, সাম্প্রতিক ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পে স্টাব, ইউটিলিটি বিলসহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট গ্রহণযোগ্য হতে পারে। অধিকাংশ রেসিডেন্সি ডকুমেন্ট ডিএমভি অফিসে যাওয়ার আগের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ইস্যু করা হতে হয় এবং পোস্ট অফিস বক্সকে আবাসিক ঠিকানা হিসেবে গ্রহণ করা হয় না।   সোশ্যাল সিকিউরিটি সম্পর্কিত প্রমাণসহ ঠিক কোন ডকুমেন্ট আপনার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে, তা আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই শুধু সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড বা ডব্লিউ-টু সঙ্গে নিলেই সবার ডকুমেন্টের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ডিএমভির ডকুমেন্ট গাইড ব্যবহার করে নিজের জন্য নির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করাই নিরাপদ।   ডিএমভি এখন অনলাইন প্রি-স্ক্রিনিং সুবিধাও দিচ্ছে। রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড আইডির জন্য অফিসে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট কী কী লাগবে তা যাচাই করা যায় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাগজপত্র আগেই রিভিউয়ের জন্য জমা দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। এতে ভুল বা অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট নিয়ে অফিসে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।   রিয়েল আইডির জন্য সাধারণ ট্রানজ্যাকশন ফি ছাড়া আলাদা ৩০ ডলারের কোনো চার্জ নেই। তবে এনহ্যান্সড ড্রাইভার লাইসেন্সের জন্য নিয়মিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৩০ ডলার দিতে হয়।   এনহ্যান্সড লাইসেন্সের একটি বাড়তি সুবিধা রয়েছে। যোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা কানাডা, মেক্সিকো এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের নির্দিষ্ট দেশ থেকে স্থল বা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় এটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে এসব দেশ থেকে আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণের জন্য এনহ্যান্সড লাইসেন্স পাসপোর্টের বিকল্প নয়।   নিউইয়র্কের সবচেয়ে প্রচলিত ক্লাস ডি ড্রাইভার লাইসেন্সের সাধারণ আট বছরের রিনিউ ফি ৬৪ দশমিক ৫০ ডলার। নিউইয়র্ক সিটি এবং মেট্রোপলিটন কমিউটার ট্রান্সপোর্টেশন ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্ভুক্ত কাউন্টিগুলোতে আট বছরের লাইসেন্সের জন্য অতিরিক্ত ১৬ ডলার এমসিটিডি ফি প্রযোজ্য হওয়ায় মোট ফি ৮০ দশমিক ৫০ ডলার হতে পারে। এনহ্যান্সড লাইসেন্স নিলে এর সঙ্গে আরও ৩০ ডলার যোগ হবে।   কমার্শিয়াল ক্লাস এ, বি বা সি লাইসেন্সের সাধারণ রিনিউ ফি ১৬৪ দশমিক ৫০ ডলার। এমসিটিডি এলাকায় তা ১৮০ দশমিক ৫০ ডলার হতে পারে। লাইসেন্সের শ্রেণি ও অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে ফি ভিন্ন হতে পারে।   আরেকটি বিষয় ভুলে গেলে রিনিউ আটকে যেতে পারে। নিউইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স রিনিউ করার জন্য ভিশন টেস্ট পাস করা বাধ্যতামূলক। ডিএমভি অফিসে পরীক্ষা দেওয়া যায়, আবার অনুমোদিত ভিশন প্রোভাইডারের মাধ্যমেও পরীক্ষা করানো যায়। অনলাইনে রিনিউ করলে অনুমোদিত ভিশন টেস্টের তথ্য ডিএমভিতে থাকতে হবে। ভিশন টেস্টের ফল সাধারণত ১২ মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকে।   যাদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হতে এখনো ১২ মাসের বেশি বাকি, তারাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে আগাম রিনিউ করে রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সে পরিবর্তন করতে পারেন। তবে আগাম রিনিউয়ের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের নতুন মেয়াদ ও মোট ফি স্বাভাবিক রিনিউয়ের তুলনায় আলাদা এবং কখনো বেশি হতে পারে।   সব মিলিয়ে ডিএমভিতে যাওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের বর্তমান লাইসেন্সের ধরন এবং কী ধরনের লাইসেন্স নিতে চান তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্স নিতে চাইলে পূর্ণ বৈধ নাম, পরিচয়, বৈধ স্ট্যাটাস ও নিউইয়র্কের ঠিকানার প্রয়োজনীয় প্রমাণ আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি। কয়েক মিনিটের প্রস্তুতি ডিএমভি অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর খালি হাতে ফিরে আসার ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৫:৪৯
মসজিদ অবস্থানর অবস্থায় নারীর। ছবি:সংগৃহীত
মসজিদ সফরে মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহ, শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়ার অভিযোগে স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা

ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টো হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি মসজিদে শিক্ষা সফর ঘিরে ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছেন একদল অভিভাবক। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অধীনে আয়োজিত ওই সফরে শিক্ষার্থীদের ইসলামি পোশাক পরতে উৎসাহিত করা হয়, বাড়িতে নেওয়ার জন্য কোরআন দেওয়া হয় এবং তারা মুসলিমদের নামাজ পর্যবেক্ষণ করে। অভিভাবকদের দাবি, সরকারি স্কুলের শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সীমা অতিক্রম করে এটি ধর্মীয় কার্যক্রমে পরিণত হয়েছিল।   গত ৭ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল কোর্টে মামলাটি করা হয়। এতে পালো অল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং পালো অল্টো হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল ব্রেন্ট ক্লাইনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।   মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের শরৎকালে সান্তা ক্লারার মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের মসজিদে শিক্ষার্থীদের একটি সফর। এটি পালো অল্টো হাই স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অংশ ছিল।   স্কুলটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে তিন বছরের একটি শিক্ষা কর্মসূচি। এতে প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষা, কমিউনিটির সঙ্গে কাজ এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়। শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।   তবে মসজিদ সফরের ক্ষেত্রে সেই শিক্ষামূলক সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।   সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার বাদীরা ‘কমিউনিটি মেম্বারস ফর রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি ইন পাবলিক স্কুলস’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে ইহুদি, হিন্দু ও জরথুস্ত্রী পরিবারের অভিভাবক এবং সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছেন।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সফরের সময় শিক্ষার্থীদের কোরআনের কপি দেওয়া হয়েছিল এবং মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা মসজিদে দুপুরের নামাজও প্রত্যক্ষ করে। এসব কর্মকাণ্ডকে বাদীপক্ষ সরকারি স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করছে।   তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।   মসজিদ সফরের সঙ্গে যুক্ত নাগরিক অধিকারকর্মী জাহরা বিলু অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সফরের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায় সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ দেওয়া। ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল না এবং সফরটি শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।   এই পার্থক্যটিই মামলার গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুলে ধর্ম সম্পর্কে ইতিহাস, সংস্কৃতি বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে পড়ানো নিষিদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করতে পারে। তবে সরকারি স্কুল কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে সমর্থন, প্রচার বা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলনে অংশ নিতে বাধ্য করতে পারে না।   অভিভাবকদের অভিযোগ, মসজিদ সফরের কিছু কার্যক্রম পর্যবেক্ষণমূলক শিক্ষার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে সফরের আয়োজকদের অবস্থান হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের সামনে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও চর্চা তুলে ধরাই ছিল উদ্দেশ্য এবং অংশগ্রহণ ছিল স্বেচ্ছামূলক।   মামলায় শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, যথাযথ অনুমতি ছাড়াই কিছু শিক্ষার্থীর ছবি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছিল। তারা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কাছ থেকে দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘনের স্বীকৃতি চাইছেন।   পালো অল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ডিস্ট্রিক্ট আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার কাগজপত্র হাতে পায়নি। তবে তিনি সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে ডিস্ট্রিক্টের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   এখন ফেডারেল কোর্টে মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, মসজিদ সফরটি সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যে ছিল, নাকি সরকারি স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করেছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৫:২৯
সাত বছর বকশিশ না দিয়ে  বৃদ্ধের দুর্ব্যবহার
সাত বছর বকশিশ না দিয়ে বৃদ্ধের দুর্ব্যবহার, মৃত্যুর পর ওয়েট্রেসকে দিয়ে গেলেন ৫০ হাজার ডলার ও গাড়ি

রেস্টুরেন্টে এলেই অভিযোগ, খাবার হতে হবে প্রচণ্ড গরম, কথায় কথায় রাগ আর কখনো কর্মীদের উদ্দেশে কটু কথা। এমন একজন ক্রেতাকে দেখলে অন্য কর্মীরা যখন এড়িয়ে চলতেন, তখনও হাসিমুখে তার টেবিলে খাবার পৌঁছে দিতেন মেলিনা সালাজার। টানা প্রায় সাত বছর একইভাবে সেবা দেওয়ার পর সেই বৃদ্ধের মৃত্যুর পর মেলিনার জন্য অপেক্ষা করছিল অবিশ্বাস্য এক চমক। উইলে তাকে ৫০ হাজার ডলার এবং নিজের ২০০০ মডেলের একটি বিউইক গাড়ি দিয়ে গিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলের লুবিস ক্যাফেটেরিয়ার। ২০০৭ সালে ঘটনাটি প্রথম আলোচনায় আসে। সে সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।   মেলিনার সেই নিয়মিত ক্রেতার নাম ছিল ওয়াল্টার ‘বাক’ সোর্ডস। ৮৯ বছর বয়সী সোর্ডস ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একজন প্রবীণ সেনাসদস্য। রেস্টুরেন্টে নিয়মিত আসতেন তিনি। তবে কর্মীদের কাছে সহজ মানুষ হিসেবে তার পরিচিতি ছিল না।   মেলিনা সে সময় জানিয়েছিলেন, সোর্ডস চাইতেন তার খাবার অত্যন্ত গরম অবস্থায় পরিবেশন করা হোক। খাবার এতটাই গরম হতে হতো যে তাতে তার মুখ পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তিনি পরোয়া করতেন না। নিজের পছন্দমতো কিছু না হলে রেগে যেতেন, অভিযোগ করতেন এবং কখনো কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণও করতেন।   এসব কারণে অন্য অনেক কর্মী তার টেবিলের দায়িত্ব নিতে চাইতেন না। কিন্তু মেলিনা তাকে এড়িয়ে যাননি। প্রায় সাত বছর ধরে সোর্ডস যখনই আসতেন, তিনি ধৈর্য ধরে তার পছন্দ অনুযায়ী খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করতেন। বৃদ্ধের রাগ বা অভিযোগের জবাবেও নিজের আচরণ বদলাননি।   এরপর ২০০৭ সালের গ্রীষ্মে হঠাৎ করেই রেস্টুরেন্টে আসা বন্ধ করে দেন সোর্ডস। পরে স্থানীয় পত্রিকার মৃত্যুসংবাদ থেকে মেলিনা জানতে পারেন, জুলাই মাসে মারা গেছেন তার দীর্ঘদিনের সেই নিয়মিত ক্রেতা।   সেখানেই গল্পটি শেষ হতে পারত। কিন্তু বড় চমকটি আসে কয়েক মাস পর, বড়দিনের ঠিক আগে।   মেলিনা জানতে পারেন, মৃত্যুর আগে তৈরি করা উইলে সোর্ডস তার জন্য ৫০ হাজার ডলার রেখে গেছেন। শুধু নগদ অর্থ নয়, নিজের ২০০০ মডেলের বিউইক গাড়িটিও মেলিনাকে দিয়ে যান তিনি।   খবরটি পাওয়ার পর মেলিনা এতটাই বিস্মিত হয়েছিলেন যে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। সে সময় টেক্সাসের কেজিবিটি টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঘটনাটি এখনও তার বিশ্বাস হচ্ছে না। সোর্ডসের স্বভাব নিয়েও রাখঢাক করেননি তিনি। তাকে কিছুটা রূঢ় প্রকৃতির মানুষ হিসেবেই বর্ণনা করেছিলেন।   তবে সোর্ডস জীবিত অবস্থায় মেলিনাকে কখনো এত বড় পুরস্কার দেবেন, এমন কোনো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে সেই সময়ের নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। একইভাবে সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তিনি মেলিনার জন্য একটি বিশেষ ধন্যবাদপত্র রেখে গিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে প্রকাশিত মূলধারার প্রতিবেদনগুলোতে এমন কোনো চিঠির তথ্য পাওয়া যায় না।   নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যায়, প্রায় সাত বছর ধরে মেলিনার ধৈর্য ও সেবা পাওয়া এই নিয়মিত ক্রেতা মৃত্যুর পর তার উইলে ৫০ হাজার ডলার এবং একটি গাড়ি মেলিনার নামে রেখে যান।   ঘটনার পর অন্য রেস্টুরেন্ট কর্মীদের জন্য মেলিনার পরামর্শও ছিল খুব সাধারণ। মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে এবং ভালোভাবে আচরণ করতে বলেছিলেন তিনি।   প্রায় দুই দশক আগের ঘটনাটি এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ শেষ পর্যন্ত ৫০ হাজার ডলার বা গাড়ির চেয়েও গল্পটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে আছে সেই সাত বছরের আচরণ। মেলিনা জানতেন না তার ধৈর্যের কোনো পুরস্কার আসবে। অন্যরা যে মানুষটিকে এড়িয়ে চলতেন, তাকেই তিনি প্রতিদিন অন্য ক্রেতাদের মতো সেবা দিয়ে গেছেন। আর জীবদ্দশায় মুখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করলেও মৃত্যুর পর নিজের উইলের মাধ্যমে সেই সেবার মূল্য দিয়ে গেছেন ওয়াল্টার ‘বাক’ সোর্ডস।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৪:৩৪
মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট
মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর সংস্থাটির পাইলটদের নিয়ে শুরু হওয়া মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই পাইলটের নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়ার অর্থ চূড়ান্তভাবে মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হওয়া নয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি নিজেদের পাইলটদের জন্য এককালীন বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় পাঁচ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মসূচির অধীনে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক পাইলটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।   এই ব্যাপক পরীক্ষার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই২৩৭৯-এর গুরুতর ঘটনা। এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।   ঘটনার পর ফ্লাইটটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল আসার পর নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় তার শরীরে গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে।   তবে কোনো ব্যক্তির শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হওয়া এবং ফ্লাইট পরিচালনার সময় তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন, এই দুটি বিষয় এক নয়। তদন্তকারীরা এখন মাদক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি পাইলটদের আচরণ, ফ্লাইট ডেটা, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং ঘটনার সময় ককপিটে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন।   ঘটনাটিতে কারিগরি ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। এয়ারবাসের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক ব্যবস্থাতেই সাময়িকভাবে চাপ কমে যায়। এর ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয়নি। হাইড্রোলিক চাপ ফিরে আসার পর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আবার কার্যকর হয়। এই তথ্যের কারণে ঘটনাটিকে শুধু পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে না। উড়োজাহাজের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কেন একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।   ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে তদন্ত করছে। এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থার বিশেষজ্ঞরাও কারিগরি তদন্তে সহায়তা করছেন।   এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া ও বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুসরণ করে করা হচ্ছে। নতুন পরীক্ষায় যাদের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ আসছে, নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।   ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনার পর এখন তদন্তের দুটি দিক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে পাইলটের নিশ্চিত মাদক পরীক্ষার ফল ও ক্রুদের ফিটনেস, অন্যদিকে একই সময়ে উড়োজাহাজের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় দেখা দেওয়া বিরল কারিগরি ত্রুটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলেই ৩০০ ফুট আকস্মিক পতনের পেছনে ঠিক কোন কোন কারণ ভূমিকা রেখেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৪:২৯
রাতে ঘুরে এসে ব্যাংক অ্যাপ খুলতেই হতবাক নারী
রাতে ঘুরে এসে ব্যাংক অ্যাপ খুলতেই হতবাক নারী, অ্যাকাউন্টে ৫ ঋণ ৫ হাজার কোটি ডলার!

বন্ধুদের সঙ্গে রাতে বারে সময় কাটিয়ে বাসায় ফিরে ব্যাংক অ্যাপ খুলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তরুণী ম্যাডি ম্যাকগিভার্ন। ধারণা ছিল, রাতের খরচের পর অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে সেটিই দেখবেন। কিন্তু স্ক্রিনে যে অঙ্কটি ভেসে উঠল, তা দেখে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান তিনি। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স দেখাচ্ছিল মাইনাস ৪৯ হাজার ৯৯৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯৭ ডলার ৯৮ সেন্ট, অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলারের ঋণ। পরে অবশ্য জানা যায়, পুরো ঘটনাই ছিল ব্যাংকের একটি টেকনিক্যাল গ্লিচ।    ঘটনাটি নতুন নয়। ২০২১ সালে ম্যাডির সঙ্গে এটি ঘটেছিল এবং তখনই তার বন্ধুর ধারণ করা ভিডিও টিকটকে ভাইরাল হয়। সম্প্রতি ভিডিওটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১৬ আগস্ট ২০২৬ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ল্যাডবাইবেল।    ঘটনার সময় ম্যাডির বয়স ছিল ২২ বছর। বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে থেকে ফিরে খাবার অর্ডার করার আগে তিনি চেজ ব্যাংকের অ্যাপ খুলেছিলেন। কিন্তু স্বাভাবিক ব্যালেন্সের বদলে সেখানে প্রায় মাইনাস ৫০ বিলিয়ন ডলার দেখে প্রথমে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।   বন্ধু গেব ফ্লোরেস সেই মুহূর্ত ভিডিও করেন। ভিডিওতে হতভম্ব ম্যাডিকে বন্ধুদের কাছে জানতে চাইতে দেখা যায়, এখন তিনি কী করবেন। পাশে থাকা বন্ধুরাও প্রথমে মনে করেছিলেন, হয়তো ম্যাডি বিষয়টি বাড়িয়ে বলছেন। কিন্তু ফোনের স্ক্রিন দেখার পর তারাও অবাক হয়ে যান। ভিডিওটি পরে টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক মিলিয়ন মানুষ সেটি দেখেন।    আরও মজার বিষয় ছিল, ম্যাডির অন্য একটি অ্যাকাউন্টে তখনও প্রায় ৭৬ ডলার ব্যবহারযোগ্য অর্থ দেখাচ্ছিল। অথচ একই সঙ্গে ব্যাংকিং অ্যাপে তার নামে এমন এক অঙ্কের ঋণ দেখানো হচ্ছিল, যা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।   বিষয়টি বুঝতে না পেরে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ম্যাডি। তিনি ব্যাংক প্রতিনিধিকে জানান, অ্যাপে তাকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার ঋণী দেখানো হচ্ছে। এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কর্মীও প্রথমে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।   অ্যাকাউন্টে আরও একটি অদ্ভুত তথ্য দেখা যাচ্ছিল। সেখানে এমন একটি এন্ট্রি ছিল, যাতে ২০৯৯ সালে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা দেখানো হচ্ছিল। পুরো বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।   পরে চেজ ব্যাংক বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়। ব্যাংকের একজন মুখপাত্র জানান, সপ্তাহান্তে তাদের সিস্টেমে একটি টেকনিক্যাল গ্লিচ হয়েছিল এবং সীমিতসংখ্যক অ্যাকাউন্ট এতে প্রভাবিত হয়। সমস্যাটি সমাধান করার পর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোতে আবার সঠিক ব্যালেন্স দেখানো শুরু হয়। ব্যাংক আরও জানায়, সমস্যার কারণে গ্রাহকেরা তাদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হননি এবং এ জন্য কোনো অতিরিক্ত ফিও দিতে হয়নি।    অর্থাৎ ম্যাডির নামে সত্যিই ৫ হাজার কোটি ডলারের কোনো ঋণ ছিল না। ব্যাংকের ডিজিটাল সিস্টেমে সাময়িক ত্রুটির কারণেই তার অ্যাপে সেই বিপুল অঙ্কটি দেখাচ্ছিল।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। অনেকে মজা করে মন্তব্য করলেও অনেক ব্যবহারকারী বলেন, নিজের ব্যাংক অ্যাপে হঠাৎ এমন বিপুল ঋণ দেখলে আতঙ্কিত হওয়াটাই স্বাভাবিক।   শেষ পর্যন্ত ব্যাংক সমস্যাটি ঠিক করে ম্যাডির প্রকৃত ব্যালেন্স ফিরিয়ে দেয়। তবে একটি সাধারণ রাতের শেষে ব্যাংক অ্যাপ পরীক্ষা করতে গিয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজেকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের ঋণী হিসেবে দেখতে পাওয়া সেই অভিজ্ঞতা এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৩:৫০
দুই কোটির বেশি ফান্ডিং পেলেন বাংলাদেশের ইভা
যুক্তরাষ্ট্রে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি, দুই কোটির বেশি ফান্ডিং পেলেন বাংলাদেশের ইভা

বাংলাদেশ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার পথ পাড়ি দিয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স শেষ করার পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স পিএইচডি প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন। তার পিএইচডি পর্যায়ের মোট ফান্ডিংয়ের আর্থিক মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকার বেশি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার পুত্রবধূ ইভার এই অর্জন ইতোমধ্যে পরিবার ও পরিচিতজনদের মধ্যে আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। তিনি আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের তুলাই শিমুল গ্রামের ব্যবসায়ী জুলমত খাঁনের ছেলে চিকিৎসক রোমান খাঁনের স্ত্রী। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।   ইভার উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে। সেখান থেকে স্নাতক শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে ফান্ডিং নিয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হন। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণায়ও নিজেকে যুক্ত করেন তিনি।   ইভার গবেষণায় সক্রিয় থাকার তথ্যেরও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড রিসার্চ এনডেভার্স এক্সিবিশনে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে ‘মোসাম্মৎ ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা’ পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা ও গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ সংশ্লিষ্ট প্রকাশনায় তার এই অর্জনের তথ্য উঠে আসে।   মাস্টার্স শেষ করার পর এবার তার সামনে খুলেছে পিএইচডির দরজা। সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির ফিজিক্স বিভাগে নিউক্লিয়ার ফিজিক্স ও নিউক্লিয়ার অ্যাস্ট্রোফিজিক্সসহ একাধিক ক্ষেত্রে গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ গ্র্যাজুয়েট বুলেটিন অনুযায়ী, বিভাগটিতে ফিজিক্সে পিএইচডি প্রোগ্রাম রয়েছে এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ক্ষেত্রগুলোর একটি।   বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ফিজিক্স পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি শিক্ষার্থীর একজন অনুমোদিত ফ্যাকাল্টি মেন্টর এবং টিচিং অথবা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত থাকতে হয়। ফিজিক্স বিভাগের গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে প্রতিযোগিতামূলক স্টাইপেন্ড এবং টিউশন ওয়েভারের সুযোগ রয়েছে। ফলে এ ধরনের ফান্ডিং শুধু টিউশন খরচে সীমাবদ্ধ নয়, গবেষণা ও একাডেমিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্যও শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেয়।   তবে ইভার ব্যক্তিগত ফান্ডিং অফারের সুনির্দিষ্ট ডলার মূল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশ্য তথ্য থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। পরিবার ও স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরো পিএইচডি প্রোগ্রামে তার পাওয়া ফান্ডিংয়ের মোট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকার বেশি।   নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির গবেষণা কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স বিভাগে এক্সপেরিমেন্টাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, নিউক্লিয়ার অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, থিওরেটিক্যাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এবং এক্সপেরিমেন্টাল অ্যাটমিক অ্যান্ড নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকরা কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, পিএইচডি প্রোগ্রামটি শিক্ষার্থীদের মৌলিক ও স্বাধীন গবেষণায় দক্ষ করে তোলার জন্য তৈরি করা হয়েছে।   ইভার এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন। ছোটবেলা থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা ছিল তার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে শুরু থেকেই পাশে ছিলেন বাবা। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মেয়েকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া এবং উচ্চশিক্ষার পথে উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাবার ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন ইভা।   বিয়ের পরও তার উচ্চশিক্ষার পথ থেমে যায়নি। ইভার স্বামী চিকিৎসক রোমান খাঁনও তার পড়াশোনা ও গবেষণার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। সংসার ও ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি নিজের দীর্ঘদিনের একাডেমিক লক্ষ্য ধরে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।   নিজের অর্জন সম্পর্কে ইভা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করার স্বপ্ন ছিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সামনে আরও ভালো গবেষণা করার মাধ্যমে দেশের জন্য কিছু করতে চাই।’   স্ত্রীর অর্জনে গর্ব প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক রোমান খাঁন। তিনি বলেন, ‘ইভার নিজের স্বপ্ন ও লক্ষ্য সম্পর্কে শুরু থেকেই আমি জানতাম। সে যেন পড়াশোনা ও গবেষণা চালিয়ে যেতে পারে, সেটাই চেয়েছি। তার এই অর্জনে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আশা করি ভবিষ্যতেও সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।’   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের শ্রেণিকক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগার পর্যন্ত ইভার এই যাত্রা এখন নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি গবেষণার মাধ্যমে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগও তৈরি হয়েছে তার।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৩:৪০
৬১ বছর বয়সে নিজের গর্ভে নাতিকে ধারণ করলেন মা
মেয়ের মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে, ৬১ বছর বয়সে নিজের গর্ভে নাতিকে ধারণ করলেন মা

সন্তানের জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা, একের পর এক ব্যর্থ গর্ভধারণ এবং আইভিএফের পর মৃত যমজ সন্তান প্রসবের বেদনা। সবকিছুর পর যখন সারা কনেল ও তার স্বামী বিল কনেলের বাবা-মা হওয়ার স্বপ্ন প্রায় নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন এগিয়ে আসেন সারার মা ক্রিস্টিন কেসি। ৬১ বছর বয়সে নিজের মেয়ের সন্তানের সারোগেট হয়ে গর্ভে ধারণ করেন নাতিকে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় জন্ম দেন সুস্থ শিশু ফিনিয়ান লি কনেলকে।   ঘটনাটি সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবিসি নিউজসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রিস্টিন তখন তিন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মা এবং প্রায় ১০ বছর আগেই তার মেনোপজ হয়ে গিয়েছিল। বয়স ও শারীরিক বাস্তবতার কারণে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু আধুনিক প্রজনন চিকিৎসার সহায়তায় শেষ পর্যন্ত মেয়ের সন্তানকে পৃথিবীতে আনার সুযোগ পান তিনি।   সারা ও বিল দীর্ঘদিন ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ফার্টিলিটি চিকিৎসা ও একাধিক গর্ভধারণের পরও তাদের সন্তান বেঁচে থাকেনি। একপর্যায়ে আইভিএফের মাধ্যমে যমজ সন্তান গর্ভে এলেও তারা মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। ধারাবাহিক এই অভিজ্ঞতার পর দম্পতির বাবা-মা হওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছিল।   এই অবস্থায় মেয়ের জন্য সারোগেট হওয়ার প্রস্তাব দেন ক্রিস্টিন। তবে শুধু ইচ্ছা থাকলেই এত বেশি বয়সে গর্ভধারণ সম্ভব ছিল না। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার স্বাস্থ্যের বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। বয়সের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় মেডিকেল মূল্যায়নের পর তাকে গর্ভধারণের উপযোগী করতে হরমোন চিকিৎসা দেওয়া হয়।   এই প্রক্রিয়ায় ক্রিস্টিন শিশুটির জৈবিক মা ছিলেন না। সারা কনেলের ডিম্বাণু এবং তার স্বামী বিল কনেলের শুক্রাণু ব্যবহার করে আইভিএফের মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। সেই ভ্রূণ ক্রিস্টিনের জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় সফলভাবে গর্ভধারণ করেন তিনি।   প্রায় ৩৯ সপ্তাহ নাতিকে গর্ভে বহন করেন ক্রিস্টিন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন মেমোরিয়াল হাসপাতালের প্রেন্টিস উইমেন্স হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় ফিনিয়ান লি কনেল। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল প্রায় সাত পাউন্ড।   চিকিৎসকেরা সে সময় জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচারটি জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ক্রিস্টিনের কিডনি-সংক্রান্ত সাময়িক একটি জটিলতা দেখা দেয়, যা দ্রুত চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে আসে।   ক্রিস্টিনের জন্য এটি ছিল প্রায় তিন দশক পর আবার সন্তান প্রসবের অভিজ্ঞতা। তবে এবার যে শিশুটিকে তিনি গর্ভে বহন করেছিলেন, সেই শিশুই ছিল তার নিজের প্রথম নাতি।   ঘটনার পর ক্রিস্টিন জানিয়েছিলেন, নিজের তিন মেয়েকে জন্ম দেওয়ার দিনগুলো তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর মধ্যে ছিল। সেই মাতৃত্বের আনন্দ মেয়েকেও পাওয়ার সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি।   পরবর্তীতে সারা কনেল তাদের এই দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী যাত্রার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও লেখেন। সেখানে সন্তান হারানোর কষ্ট থেকে শুরু করে নিজের মায়ের সারোগেট হওয়ার সিদ্ধান্ত এবং শেষ পর্যন্ত ফিনিয়ানের জন্ম পর্যন্ত পুরো অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।   ফিনিয়ানের জন্মের গল্পের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিকটি ছিল পারিবারিক সম্পর্কের এই সমীকরণ। জৈবিকভাবে সারা ও বিল তার বাবা-মা। কিন্তু যে নারী তাকে নয় মাস গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীতে এনেছিলেন, তিনি একই সঙ্গে তার নানি ক্রিস্টিন কেসি।   ৬১ বছর বয়সে নেওয়া ক্রিস্টিনের সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত এমন একটি পরিবারের বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল, যেখানে একজন মা নিজের মেয়েকে মাতৃত্বের সুযোগ করে দিতে নিজেই হয়ে উঠেছিলেন তার সন্তানের সারোগেট।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৩:১১
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা: আপনার গাড়ির নম্বর পুলিশ খুঁজেছে কি না জানবেন যেভাবে

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য গাড়ির লাইসেন্স প্লেট এখন শুধু পরিচয় নম্বর নয়, এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থারও অংশ। দেশজুড়ে বিভিন্ন শহর ও সড়কে বসানো ফ্লক সেফটির লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরা প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গাড়ির তথ্য ধারণ করছে। আর এখন নতুন একটি অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে গাড়ির মালিকেরা জানতে পারছেন, তাদের লাইসেন্স প্লেট নম্বর ফ্লকের ডেটাবেজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ব্যবহারকারী খুঁজেছেন কি না।   ‘হ্যাভ আই বিন ফ্লকড’ নামের ওয়েবসাইটটি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকে সংগ্রহ করা অডিট লগ এক জায়গায় এনে এই সুবিধা দিচ্ছে। ফলে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি গাড়ির মালিকদের কাছেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ফ্লক সেফটির স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরা সাধারণ ট্রাফিক ক্যামেরার মতো শুধু ভিডিও ধারণ করে না। গাড়ি ক্যামেরার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় লাইসেন্স প্লেট, সময়, অবস্থান এবং গাড়ির কিছু দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরে নির্দিষ্ট গাড়ি শনাক্ত বা তদন্তের প্রয়োজনে এই তথ্য অনুসন্ধান করতে পারে।   নতুন ওয়েবসাইটে নিজের লাইসেন্স প্লেট নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলে সেটি ফ্লকের অডিট লগে পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা জানা যেতে পারে। অর্থাৎ কোনো পুলিশ বিভাগ বা অনুমোদিত ব্যবহারকারী ওই প্লেট নম্বর দিয়ে ফ্লকের ব্যবস্থায় অনুসন্ধান চালিয়েছেন কি না, তার রেকর্ড থাকলে সেটি সামনে আসতে পারে।   তবে বাংলাদেশি কমিউনিটির গাড়ির মালিকদের এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। ওয়েবসাইটে নিজের লাইসেন্স প্লেট পাওয়া মানেই পুলিশ আপনাকে অপরাধী মনে করছে বা আপনার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, এমন নয়। চুরি যাওয়া গাড়ি খোঁজা, কোনো ঘটনার সাক্ষী বা সংশ্লিষ্ট গাড়ি শনাক্ত করা, নিখোঁজ ব্যক্তির অনুসন্ধান কিংবা অন্য বৈধ আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমের অংশ হিসেবেও একটি প্লেট নম্বর খোঁজা হতে পারে।   আবার ওয়েবসাইটে নিজের প্লেট নম্বর না পাওয়া গেলেও ধরে নেওয়া যাবে না যে সেটি কখনো ফ্লকের ব্যবস্থায় অনুসন্ধান করা হয়নি। ‘হ্যাভ আই বিন ফ্লকড’ মূলত সরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া অডিট লগ ব্যবহার করছে। সব পুলিশ বিভাগ বা সরকারি সংস্থার তথ্য তাদের হাতে নেই। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ফ্লক নেটওয়ার্কের পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ নয়।   এ কারণেই বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো অনলাইন ফলাফল দেখেই পুলিশ নজরদারি করছে, মামলা হয়েছে বা গ্রেফতারের ঝুঁকি রয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।   ফ্লক সেফটির প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে। পুলিশ বিভাগগুলোর বক্তব্য, গাড়ি চুরি, অপহরণ, নিখোঁজ ব্যক্তি এবং গুরুতর অপরাধের তদন্তে স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডার গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে। একটি গাড়ি কখন এবং কোন এলাকায় দেখা গেছে, সেই তথ্য দ্রুত পাওয়ায় তদন্তকারীদের অনুসন্ধানের পরিধি সংকুচিত করা সম্ভব হয়।   তবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্নও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ, পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি ছাড়া বিপুলসংখ্যক ক্যামেরা এবং অনুসন্ধানযোগ্য লাইসেন্স প্লেটের তথ্য সাধারণ মানুষের চলাচলের ইতিহাস অনুসরণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লক ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। কিছু ঘটনায় ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে লাইসেন্স প্লেটের তথ্য অনুসন্ধানের অভিযোগ ওঠার পর কে, কখন এবং কী কারণে এই ডেটাবেজ ব্যবহার করছেন, তার ওপর আরও কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে।   বিতর্কের মধ্যে ফ্লক সেফটিও তাদের ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে। অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক অনুসন্ধান শনাক্ত করা, অনুসন্ধানের সঙ্গে মামলা নম্বর যুক্ত করার নিয়ম শক্ত করা এবং সাধারণভাবে তথ্য সংরক্ষণের সময় কমানোর মতো পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো নিজের লাইসেন্স প্লেট নম্বর কোথায় শেয়ার করছেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকা। লাইসেন্স প্লেট কোনো পাসওয়ার্ড বা সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর নয়, রাস্তায় এটি প্রকাশ্যেই থাকে। তারপরও অপরিচিত বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে গাড়ির নম্বরসহ অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সেই সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গোপনীয়তার নীতি যাচাই করা ভালো।   কোনো ব্যক্তি নিজের গাড়ির প্লেট অনুসন্ধানের রেকর্ড দেখে উদ্বিগ্ন হলে প্রথমেই সেটিকে অপরাধ তদন্তের প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। রেকর্ডে কোন সংস্থার নাম, সময় বা অন্য তথ্য রয়েছে তা ভালোভাবে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ থাকলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ বা প্রয়োজন অনুযায়ী আইনজীবীর কাছ থেকে তথ্য নেওয়া যেতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য মূল বার্তাটি তাই আতঙ্ক নয়, সচেতনতা। রাস্তায় চলাচলের সময় আপনার গাড়ির লাইসেন্স প্লেট স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরায় ধরা পড়তে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্দিষ্ট প্রয়োজনে সেই তথ্য অনুসন্ধানও করতে পারে। নতুন অনলাইন ব্যবস্থা সেই অনুসন্ধানের অন্তত কিছু অংশ সাধারণ মানুষের সামনে দেখার সুযোগ তৈরি করেছে।   তবে একটি রেকর্ড পাওয়া মানেই আপনি পুলিশের টার্গেট নন, আর কোনো রেকর্ড না পাওয়া মানেই আপনার গাড়ির তথ্য কখনো সংগ্রহ বা অনুসন্ধান করা হয়নি, সেটিও নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার এই সময়ে বাংলাদেশি গাড়ির মালিকদের জন্য নিজেদের তথ্য কীভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার হচ্ছে, সে সম্পর্কে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২:৫৪
একটি ফোনকলের পরই ডিপোর্টেশন ফ্লাইট থেকে ফিরিয়ে আনা হলো মার্কিন সেনার স্ত্রীকে
একটি ফোনকলের পরই ডিপোর্টেশন ফ্লাইট থেকে ফিরিয়ে আনা হলো মার্কিন সেনার স্ত্রীকে

এক মাসের বেশি সময় আইসিই হেফাজতে থাকার পর ব্রাজিলে ডিপোর্টেশনের জন্য বিমানে তোলা হয়েছিল মার্কিন সেনার স্ত্রী মাইসা লোপেস এলিয়াসারকে। কিন্তু মাঝআকাশে একটি রহস্যময় ফোনকলের পর বদলে যায় পরিস্থিতি। আইসিই কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ব্রাজিলে যেতে চান নাকি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে চান। মাইসা যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাকে লুইজিয়ানায় ফিরিয়ে এনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী মাইসা ব্রাজিলের নাগরিক। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট অ্যালেক্সিস জারামিলোর স্ত্রী। ২০১৯ সালে ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন মাইসা এবং পরে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন আদেশ দেন। এরপর ৮ জুলাই একটি ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টে গেলে তাকে আটক করা হয়। এক মাসের বেশি সময় তিনি ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজতে ছিলেন।   গত বুধবার তাকে অন্য আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি ডিপোর্টেশন ফ্লাইটে ব্রাজিলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। কিন্তু বিমান চলার সময়ই আইসিই কর্মকর্তাদের কাছে তাকে নিয়ে একটি ফোন আসে।   মাইসার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর একজন আইসিই কর্মকর্তা তার কাছে এসে জানতে চান, তিনি ব্রাজিলের উদ্দেশে যাত্রা চালিয়ে যেতে চান নাকি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে চান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।   বিমানটি ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর অন্য আটক ব্যক্তিদের নামিয়ে দেওয়া হলেও মাইসাকে বিমানে রাখা হয়। পরে একই বিমানে তাকে আবার লুইজিয়ানায় ফিরিয়ে আনা হয়।   কে সেই ফোন করেছিলেন কিংবা কেন শেষ মুহূর্তে তার ডিপোর্টেশন থামানো হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয়।   তার স্বামী অ্যালেক্সিস জারামিলো বলেন, কে ফোন করেছিলেন তারা জানেন না। তবে কেউ একজন ফোন করার পরই তার স্ত্রীকে ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   মাইসা জানিয়েছেন, বিমানে থাকা আইসিই কর্মকর্তারা তাকে বলেছিলেন, তিনি এখন ‘বিখ্যাত’, কারণ তার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।   অ্যালেক্সিস জারামিলো একজন মার্কিন নাগরিক এবং এক দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত। তিনি বর্তমানে লুইজিয়ানার ফোর্ট পোলকে সেনাদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন। স্ত্রী আটক হওয়ার পর মাইসার পাঁচ বছর বয়সী ছেলের দেখাশোনা করতে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে ছুটি নিতে হয়েছিল।   মাইসার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের অভিবাসী স্ত্রী, স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের আটক এবং ডিপোর্টেশন নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এর আগে জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পরিবারের জন্য আগের কিছু সুরক্ষা প্রত্যাহার করার পর মার্কিন সেনাদের কয়েক ডজন স্বামী, স্ত্রী কিংবা বাবা-মা আইসিই হেফাজতের মুখোমুখি হয়েছেন।   এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কংগ্রেসের একদল ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের ডিপোর্টেশন নিয়ে তদন্ত শুরু করেন।   অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর এবং সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা মার্ক কেলিও মাইসার ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, কেলি মাইসাকে আটক রাখা আইসিই ফিল্ড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।   কেলি সামরিক পরিবারের সদস্যদের আটক করার নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার বাস্তব সমাধান প্রয়োজন এবং সেনা পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা সেই সমস্যার সমাধান নয়।   মাইসার পরিবারকে সহায়তা করেছে ‘রিপ্যাট্রিয়েট আওয়ার প্যাট্রিয়টস’ নামে একটি অলাভজনক সংগঠন। সংগঠনটির প্রধান ডানিটজা জেমস বলেছেন, রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে সামরিক পরিবারকে সহায়তা করলে কী সম্ভব, এই পরিবারের পুনর্মিলন তারই উদাহরণ।   মাইসা ও অ্যালেক্সিস ২০২৪ সালে বিয়ে করেন। এখন মাইসা তার ইমিগ্রেশন মামলা পুনরায় খোলার চেষ্টা করছেন এবং গ্রিন কার্ডের আবেদন এগিয়ে নিতে চান।   তার আরেকটি ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ১৭ আগস্ট নির্ধারিত রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের জানানো হয়েছে মামলাটি নিয়ে আর সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তারপরও আবার আটক হওয়ার আশঙ্কায় তারা উদ্বিগ্ন।   এক মাসের বেশি সময় আটক থাকার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন মাইসা। তিনি জানিয়েছেন, এখনো ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না এবং আবার ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হতে পারে, এমন ভয় কাজ করছে তার মধ্যে।   মাইসার ডিপোর্টেশন শেষ মুহূর্তে থামানোর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ব্রাজিলগামী বিমানের মাঝআকাশে আসা সেই ফোনকলটি কে করেছিলেন এবং কী কারণে সিদ্ধান্ত বদলে গেল, সেটিই এখন ঘটনাটির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২:৪৪
ইতালির জাদুঘর থেকে চুরি গেল রেনেসাঁ যুগের ৪টি অমূল্য চিত্রকর্ম
ইতালির জাদুঘর থেকে চুরি গেল রেনেসাঁ যুগের ৪টি অমূল্য চিত্রকর্ম

ইতালির সিসিলি দ্বীপের মেসিনা শহরের একটি জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের খ্যাতিমান শিল্পী আন্তোনেলো দা মেসিনার চারটি অত্যন্ত মূল্যবান চিত্রকর্ম চুরি হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত প্রায় ১০টার দিকে মেসিনার আঞ্চলিক জাদুঘরে এ ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪৭৩ সালের বিখ্যাত ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’-এর তিনটি প্যানেল এবং দুই পাশে আঁকা একটি ছোট প্যানেল।   ইতালির সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আলেসান্দ্রো গিউলি ঘটনাটিকে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য গুরুতর ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। চোরেরা কীভাবে জাদুঘরের নিরাপত্তাব্যবস্থা পেরিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম নিয়ে পালাতে সক্ষম হলো, সেটিও তদন্তের অন্যতম বিষয়।   আন্তোনেলো দা মেসিনা পঞ্চদশ শতকের ইতালীয় রেনেসাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী। তার টিকে থাকা চিত্রকর্মের সংখ্যা খুবই সীমিত। এ কারণে তার প্রতিটি শিল্পকর্মের ঐতিহাসিক ও আর্থিক মূল্য অত্যন্ত বেশি।   জাদুঘর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চোরেরা প্রথমে ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’-এর টিকে থাকা পাঁচটি প্যানেলই সরিয়ে নিয়েছিল। তবে পালানোর সময় দুটি প্যানেল ফেলে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত ওই শিল্পকর্মের তিনটি প্যানেল নিয়ে যেতে সক্ষম হয় তারা।   এর পাশাপাশি চুরি হয়েছে ছোট একটি দুই-পিঠে আঁকা কাঠের প্যানেল। এর এক পাশে শিশু যিশুকে কোলে নিয়ে ভার্জিন মেরি ও একজন ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসীর চিত্র এবং অন্য পাশে ‘ক্রাইস্ট ইন পিয়েতা’ আঁকা রয়েছে। প্যানেলটি একটি সুরক্ষিত প্রদর্শনী বাক্সে রাখা ছিল।   জাদুঘরের পরিচালক মারিসা মারকুরিও জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শনিবার রাত প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটে চুরির ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় জাদুঘরে নিরাপত্তাকর্মী এবং সচল অ্যালার্ম ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও চোরেরা কীভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে ভেতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মূল্য নিয়েও বিভিন্ন হিসাব সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের হিসাবে চারটি শিল্পকর্মের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। তবে এসব শিল্পকর্মের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে শুধু বাজারমূল্য দিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন।   ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’ আন্তোনেলো দা মেসিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি। ১৪৭৩ সালে তৈরি এই শিল্পকর্মটি মেসিনার একটি মঠের জন্য নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯০৮ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ওই মঠ ধ্বংস হলেও শিল্পকর্মটি রক্ষা পায়। শত শত বছর ধরে এটি মেসিনাতেই সংরক্ষিত ছিল।   চুরির পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। শিল্পকর্মগুলো বিশ্বজুড়ে এত পরিচিত যে বৈধ আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলো বিক্রি করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে নির্দিষ্ট কোনো সংগ্রাহকের ফরমায়েশে চুরি হয়েছে কি না, এমন সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আন্তোনেলো দা মেসিনার আরেকটি বিরল চিত্রকর্ম ‘এক্সে হোমো’ প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে কিনেছিল ইতালি সরকার। শিল্পীর কাজের প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ তৈরির মধ্যেই তার জন্মশহরের জাদুঘর থেকে এই চারটি শিল্পকর্ম চুরি হলো।   মেসিনার মেয়র ফেদেরিকো বাসিলে এ ঘটনাকে শহরের জন্য গভীর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চুরির পর তদন্তের স্বার্থে জাদুঘর বন্ধ রাখা হয়। এখন ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে অমূল্য শিল্পকর্মগুলো দ্রুত উদ্ধার এবং চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২:৩৭
মাত্র ৩৬ বছরেই চলে গেলেন ‘‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’ তারকা হেইডেন প্যানেটিয়ার
মাত্র ৩৬ বছরেই চলে গেলেন ‘‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’ তারকা হেইডেন প্যানেটিয়ার

মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ার। ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’ টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর রোববার নিশ্চিত করেছেন তার প্রতিনিধি। তবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্যানেটিয়ারের প্রতিনিধি তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। বিবৃতিতে তাকে এমন একজন প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে, যিনি ব্যক্তিগত জীবন থেকে পর্দা পর্যন্ত অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।   পিপল ম্যাগাজিনও তার প্রতিনিধির বরাতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে মৃত্যুর স্থান, সময় বা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। রয়টার্সও এবিসি নিউজের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে।   ১৯৮৯ সালের ২১ আগস্ট নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া হেইডেন প্যানেটিয়ারের বিনোদনজগতের যাত্রা শুরু হয়েছিল শৈশবেই। মাত্র ১১ মাস বয়সে বিজ্ঞাপনে প্রথম ক্যামেরার সামনে আসেন তিনি। এরপর শিশুশিল্পী হিসেবে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ শুরু করেন।   ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রিমেম্বার দ্য টাইটানস’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে অল্প বয়সেই দর্শকের নজর কাড়েন প্যানেটিয়ার। তবে তার ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে ২০০৬ সালে এনবিসির জনপ্রিয় সিরিজ ‘হিরোস’-এ ক্লেয়ার বেনেট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এক চিয়ারলিডারের চরিত্র তাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়।   পরবর্তী সময়ে ‘ন্যাশভিল’ সিরিজে জুলিয়েট বার্নস চরিত্রে অভিনয় তার ক্যারিয়ারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে। ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রচারিত সিরিজটিতে একজন কান্ট্রি মিউজিক তারকার চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডেও মনোনয়ন পেয়েছিলেন প্যানেটিয়ার।   বড় পর্দাতেও তার উপস্থিতি ছিল পরিচিত। ‘স্ক্রিম’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কিরবি রিড চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ‘আই লাভ ইউ, বেথ কুপার’সহ আরও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি অ্যানিমেশন ও ভিডিও গেমেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।   মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগে, চলতি বছরের মে মাসে নিজের স্মৃতিকথা ‘দিস ইজ মি: আ রেকনিং’ প্রকাশ করেন প্যানেটিয়ার। সেখানে শৈশব থেকেই বিনোদনজগতে বেড়ে ওঠা, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।   নিজের জীবনের কঠিন সময়গুলো নিয়েও অতীতে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন প্যানেটিয়ার। সন্তান জন্মের পর পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন এবং মাদক ও অ্যালকোহল নির্ভরতার সঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার কথা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে তার অতীতের এসব সমস্যার সঙ্গে বর্তমান মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বা পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   ব্যক্তিগত জীবনে প্যানেটিয়ার এক কন্যাসন্তানের মা। সাবেক বাগদত্তা ও ইউক্রেনের সাবেক বিশ্ব হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ভ্লাদিমির ক্লিটসকোর সঙ্গে তার মেয়ে কায়ার জন্ম হয় ২০১৪ সালে।   ২০২৩ সালে প্যানেটিয়ারের ছোট ভাই অভিনেতা জ্যানসেন প্যানেটিয়ার মাত্র ২৮ বছর বয়সে মারা যান। ভাইয়ের অকালমৃত্যুর পর সেই শোক তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তিনি।   হেইডেন প্যানেটিয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে তার দীর্ঘদিনের দর্শক ও বিনোদনজগতের সহকর্মীদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হলেও শিশুশিল্পী থেকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অভিনেত্রী হয়ে ওঠার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘হিরোস’, ‘ন্যাশভিল’ ও ‘স্ক্রিম’-এর মতো জনপ্রিয় কাজের মাধ্যমে দর্শকদের স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১:৩৯
মাঝ আকাশে হার্ট অ্যাটাক, একই বিমানে হার্ট কনফারেন্সে যাচ্ছিলেন ১৫ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ
মাঝ আকাশে হার্ট অ্যাটাক, একই বিমানে হার্ট কনফারেন্সে যাচ্ছিলেন ১৫ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ

মেয়ের বিয়েতে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাচ্ছিলেন ৬৭ বছর বয়সী ডরোথি ফ্লেচার। মাঝআকাশে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয় তার। জীবন যখন সংকটে, তখনই ঘটে অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। কেবিন ক্রুর চিকিৎসক চেয়ে ঘোষণার পর একে একে উঠে দাঁড়ান ১৫ জন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। তাদের দ্রুত চিকিৎসাতেই বেঁচে যান লিভারপুলের এই নারী। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৩ সালের ৭ নভেম্বর।    ডরোথি ফ্লেচার যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে ফ্লোরিডার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন মেয়ে। ফ্লোরিডায় মেয়ের বিয়েতে যোগ দেওয়াই ছিল এই যাত্রার উদ্দেশ্য। উড়োজাহাজে থাকাকালে হঠাৎ তার তীব্র বুকে ব্যথা শুরু হয় এবং দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।    পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কেবিন ক্রুরা জানতে চান, উড়োজাহাজে কোনো চিকিৎসক আছেন কি না। সেই ঘোষণার পর যে দৃশ্য দেখা যায়, তা ছিল অত্যন্ত বিরল। একসঙ্গে ১৫ জন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেন। তারা সবাই একই উড়োজাহাজে করে অরল্যান্ডোতে একটি হৃদরোগবিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।    চিকিৎসকেরা ডরোথির কাছে গিয়ে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন। উড়োজাহাজে থাকা চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করে তার হাতে স্যালাইন দেওয়া হয় এবং জীবনসংকটাপন্ন অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। তাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে ডরোথির অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়।    তার শারীরিক অবস্থার কারণে উড়োজাহাজটি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে নর্থ ক্যারোলাইনায় ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। জরুরি অবতরণের পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়।    ডরোথি পরে জানান, মুহূর্তটির ভয়াবহতা তিনি তখনো ভুলতে পারেননি। চিকিৎসকেরা একসঙ্গে তার দিকে ছুটে আসার দৃশ্য তাকে বিস্মিত করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চিকিৎসকেরাই তার জীবন বাঁচিয়েছিলেন।    তবে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, জীবন বাঁচানো সেই চিকিৎসকদের কারও নামই পরে জানতে পারেননি ডরোথি। তিনি শুধু জানতেন, তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রে একটি হৃদরোগ সম্মেলনে যোগ দিতে অরল্যান্ডো যাচ্ছিলেন।    হার্ট অ্যাটাকের পর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ডরোথি শেষ পর্যন্ত মেয়ের বিয়েতেও যোগ দিতে পেরেছিলেন। ঘটনাটির এক সপ্তাহ পর ফ্লোরিডার কিসিমির লেক বার্কলেতে অনুষ্ঠিত মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হন তিনি।  ঘটনাটি দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ২০২৫ সালে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান স্নোপস ঘটনাটিকে সত্য বলে নিশ্চিত করে। তাদের যাচাই অনুযায়ী, ২০০৩ সালের ৭ নভেম্বর ফ্লোরিডাগামী উড়োজাহাজে ডরোথি ফ্লেচারের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল এবং সেখানে থাকা ১৫ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তার চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছিলেন।    একই সময়ে অরল্যান্ডোতে বড় একটি হৃদরোগবিষয়ক সম্মেলন থাকায় এতজন বিশেষজ্ঞ একই উড়োজাহাজে থাকার বিষয়টিরও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। ফলে ডরোথির জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্তটি একই সঙ্গে পরিণত হয়েছিল অসাধারণ এক সৌভাগ্যের ঘটনায়।   মাঝআকাশে হার্ট অ্যাটাকের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে একজন চিকিৎসক পাওয়া যেখানে ভাগ্যের ব্যাপার, সেখানে একই উড়োজাহাজে ১৫ জন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি ডরোথি ফ্লেচারের জন্য কার্যত জীবন ও মৃত্যুর ব্যবধান তৈরি করেছিল।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১:৩৪
আমেরিকায় ৫০০ ডলারে একর জমি! কিনতে পারবেন বাংলাদেশিরাও
আমেরিকায় ৫০০ ডলারে একর জমি! কিনতে পারবেন বাংলাদেশিরাও

যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৫০০ ডলারে এক একর জমি কেনা যায় এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলেই যেকোনো রাজ্যে সহজে জমির মালিক হওয়া সম্ভব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবির পুরোটা সঠিক নয়। কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় কয়েকশ বা কয়েক হাজার ডলারে ছোট কিংবা অনুন্নত জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জমির সাধারণ বাজারদর হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। বিদেশিদের জমি কেনার নিয়মও রাজ্য এবং জমির ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট স্থাপনাসহ সম্পত্তির গড় মূল্য ছিল একরপ্রতি ৪ হাজার ৩৫০ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই মূল্য ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে এই হিসাবের সঙ্গে আবাসিক জমি কিংবা প্রত্যন্ত মরুভূমির অনুন্নত জমির দাম সরাসরি তুলনা করা যায় না।   রাজ্যভেদে জমির দামে বড় পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোতে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির গড় মূল্য ছিল একরপ্রতি মাত্র ৭২৫ ডলার। নেভাদায় প্রায় ১ হাজার ডলার এবং অ্যারিজোনায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলার। ফলে এসব রাজ্যের কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় তুলনামূলক কম দামে জমি পাওয়া সম্ভব।   তবে মিসিসিপি, আরকানসাস কিংবা টেক্সাসে সাধারণভাবেই ৫০০ থেকে ২ হাজার ডলারে এক একর জমি পাওয়া যায়, এমন দাবি সরকারি গড় মূল্যের সঙ্গে মেলে না। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের হিসাবে এসব রাজ্যে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির গড় মূল্য একরপ্রতি কয়েক হাজার ডলার। শহর, পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি কিংবা উন্নত এলাকার কাছাকাছি হলে দাম আরও বেশি হতে পারে।   সস্তা জমির বিজ্ঞাপন দেখার সময় এখানেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে। অনলাইনে ৫০০, ১ হাজার কিংবা ২ হাজার ডলারে যেসব জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়, সেগুলোর অনেকটি অত্যন্ত প্রত্যন্ত এলাকায় হতে পারে। সেখানে পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নাও থাকতে পারে। এমনকি জমিটি কিনলেও সেখানে বাড়ি নির্মাণের অনুমতি নাও পাওয়া যেতে পারে।   বিশেষ করে অ্যারিজোনায় সস্তায় জমি কিনলেই নিজের ইচ্ছামতো ছোট বাড়ি নির্মাণ করা যাবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। বাড়ির আকার, স্থায়ী কিংবা স্থানান্তরযোগ্য কাঠামো, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানি ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমি ব্যবহার এবং ভবন নির্মাণের নিয়ম মানতে হতে পারে।   বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব কিংবা গ্রিন কার্ড ছাড়া জমি কেনা যায় কি না। সাধারণভাবে বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে জমি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সব বিদেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি কেনার ওপর সার্বিক কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।   তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায় যেকোনো ধরনের জমি বাধাহীনভাবে কেনা যাবে। বিশেষ করে কৃষিজমির বিদেশি মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে আলাদা বিধিনিষেধ এবং তথ্য জানানোর নিয়ম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিদেশিদের কৃষিজমির মালিকানা নিয়ে দেশটির সব রাজ্যে একই নিয়ম নেই। বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা কার্যকর রয়েছে।   বিদেশি কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজমিতে নির্দিষ্ট ধরনের মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থ অর্জন করলে কেন্দ্রীয় আইনের অধীনে কৃষি বিভাগকে সেই তথ্য জানানোর বাধ্যবাধকতাও তৈরি হতে পারে। তাই কৃষিজমি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বর্তমান আইন যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   আরেকটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে জমি কিংবা বাড়ি কিনলে গ্রিন কার্ড, ভিসা অথবা দেশটিতে বসবাসের অধিকার পাওয়া যায় না। সম্পত্তির মালিকানা এবং অভিবাসন মর্যাদা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। একজন বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করেও সেখানে বৈধভাবে সম্পত্তির মালিক হতে পারেন। কিন্তু সেই সম্পত্তির মালিকানা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় না।   সরকারি নিলামেও যুক্তরাষ্ট্রে জমি ও অন্যান্য সম্পত্তি বিক্রি করা হয়। দেশটির সাধারণ সেবা প্রশাসন উদ্বৃত্ত কেন্দ্রীয় জমি ও ভবন নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে থাকে। তবে সরকারি নিলামে বাজারদরের তুলনায় নিশ্চিতভাবে ৫০ শতাংশ কমে জমি পাওয়া যাবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। দরদাতাদের প্রতিযোগিতা, জমির অবস্থান এবং সম্পত্তির শর্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারিত হয়।   একইভাবে মাত্র ৫০ ডলার অগ্রিম দিয়ে এবং মাসে ১০০ ডলার কিস্তিতে জমি কেনার সুযোগ কোনো সরকারি সুবিধা নয়। কোনো বেসরকারি জমির মালিক নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে এমন প্রস্তাব দিতে পারেন। কিন্তু চুক্তির শর্ত, সুদের হার, অতিরিক্ত খরচ, কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে কী হবে এবং জমির মালিকানা বৈধ ও পরিষ্কার কি না, এসব যাচাই না করে এমন চুক্তিতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।   সস্তা জমি কেনার আগে জমির মালিকানা যাচাই করাও জরুরি। জমির ওপর পুরোনো ঋণ কিংবা অন্য কারও আর্থিক দাবি রয়েছে কি না, সম্পত্তি কর বকেয়া আছে কি না, সেখানে যাওয়ার বৈধ রাস্তা রয়েছে কি না, জমিটি বন্যা কিংবা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কি না এবং সেখানে বাড়ি নির্মাণ করা যাবে কি না, এসব বিষয় আগেই যাচাই করা প্রয়োজন।   বিদেশি মালিকদের করের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি মালিক সম্পত্তি বিক্রি করলে বিদেশিদের স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কর আইনের অধীনে বিশেষভাবে অর্থ আটকে রেখে কর পরিশোধের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।   তাই আমেরিকায় কয়েকশ ডলারে জমি কেনার বিজ্ঞাপন বাস্তবে পাওয়া গেলেও শুধু কম দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। জমিটি কোথায়, কী কাজে ব্যবহার করা যাবে, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা আছে কি না, বছরে কত সম্পত্তি কর দিতে হবে, মালিকানা পরিষ্কার কি না এবং বিদেশি নাগরিক হিসেবে সেই জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনো রাজ্যভিত্তিক বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, সবকিছু যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে জমি কিংবা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারেন। তবে জমির মালিক হওয়া মানেই আমেরিকায় বসবাসের অনুমতি, ভিসা কিংবা গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ নয়। সম্পত্তি কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের অধিকার দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১:২৭
ভার্জিনিয়ায় বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, সহজেই চাকরি ও গ্রিন কার্ড
ভার্জিনিয়ায় বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, সহজেই চাকরি ও গ্রিন কার্ড

যুক্তরাষ্ট্রে আইটি, সাইবার সিকিউরিটি কিংবা ফেডারেল কন্ট্রাক্টিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে ভার্জিনিয়া, বিশেষ করে নর্দার্ন ভার্জিনিয়া, গুরুত্বপূর্ণ একটি গন্তব্য। ওয়াশিংটন ডিসির পাশেই অবস্থান, বিপুল ফেডারেল কন্ট্রাক্টিং কার্যক্রম, অ্যামাজনের এইচকিউ২ এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ ডেটা সেন্টার শিল্পের কারণে প্রযুক্তিখাতে এখানে বড় চাকরির বাজার তৈরি হয়েছে। তবে চাকরির সুযোগের পাশাপাশি বাড়িভাড়া ও বাড়ির দামও তুলনামূলক বেশি।   বাংলাদেশি অভিবাসীদের কাছেও নর্দার্ন ভার্জিনিয়া পরিচিত একটি এলাকা। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি, আর্লিংটন, আলেকজান্দ্রিয়া, লাউডন ও প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টিসহ ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি পরিবার বসবাস করছে। বাংলাদেশি গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ ও বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের উপস্থিতিও নতুন অভিবাসীদের জন্য সামাজিকভাবে মানিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ করতে পারে।   তবে নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স, আর্লিংটন ও আলেকজান্দ্রিয়ায় ‘১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি’ থাকার যে সংখ্যা বিভিন্ন অনলাইন পোস্টে উল্লেখ করা হয়, সেটিকে নির্ভরযোগ্য সরকারি হিসাব হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। ইউএস সেনসাস ব্যুরোর তথ্য থেকে ওই তিন এলাকায় বাংলাদেশিদের এমন নির্দিষ্ট মোট সংখ্যা সরাসরি নিশ্চিত করা যায় না। ফলে কমিউনিটির আকার নিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।   চাকরির বাজারই ভার্জিনিয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি। ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে ভার্জিনিয়ায় বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। রাজ্যটিতে মোট ননফার্ম চাকরির সংখ্যা ছিল প্রায় ৪২ লাখ ৪৪ হাজার।   প্রযুক্তিখাতে ভার্জিনিয়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী। বিএলএসের বিস্তারিত পেশাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে কম্পিউটার ও ম্যাথমেটিক্যাল পেশায় প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ মানুষ কাজ করতেন এবং এসব পেশায় গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার ৬১০ ডলার। ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্টদের গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫০ ডলার।   নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় আইটি চাকরির একটি বড় অংশ ফেডারেল সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদনে অ্যামাজন, লেইডোস ও বুজ অ্যালেন হ্যামিল্টনের মতো প্রতিষ্ঠানকে এই অঞ্চলে কম্পিউটার সার্ভিসেস কর্মীদের বড় নিয়োগদাতাদের মধ্যে রাখা হয়েছে। ক্লাউড কম্পিউটিং, এডব্লিউএস, সাইবার সিকিউরিটি, সফটওয়্যার, এআই এবং সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার চাহিদাও রয়েছে।   তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার বহু ফেডারেল কন্ট্রাক্টিং ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট আইটি চাকরিতে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্বও গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে শুধু আইটি ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা থাকলেই সব ফেডারেল কন্ট্রাক্টিং চাকরিতে আবেদন করা সম্ভব হবে, এমন নয়।   অন্যদিকে বেসরকারি প্রযুক্তি খাতও দ্রুত বাড়ছে। আর্লিংটনের ন্যাশনাল ল্যান্ডিংয়ে অ্যামাজনের এইচকিউ২ রয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে ভার্জিনিয়ার গভর্নরের অফিস জানিয়েছে, আইটি সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠান স্পেশাল ফ্রন্ট তাদের সদর দপ্তর আর্লিংটনে স্থানান্তর করে ৪৫০টি নতুন চাকরি তৈরির পরিকল্পনা করেছে।   ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রেও নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। লাউডন, ফেয়ারফ্যাক্স, প্রিন্স উইলিয়াম ও আশপাশের এলাকায় অ্যামাজন ডেটা সার্ভিসেসসহ বহু প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টার রয়েছে এবং নতুন প্রকল্পও যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে ক্লাউড অবকাঠামো, নেটওয়ার্কিং, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইবার সিকিউরিটি ও ডেটা সেন্টার অপারেশনে চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   তবে এখানে বসবাসের খরচ বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে পুরো ভার্জিনিয়ায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া ছিল ১ হাজার ৮০৮ ডলার। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় গড় ভাড়া ছিল আরও বেশি, প্রায় ২ হাজার ২৪৮ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই অঞ্চলে ভাড়া কিছুটা কমলেও এটি এখনো রাজ্যের ব্যয়বহুল হাউজিং মার্কেটগুলোর একটি।   বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। ভার্জিনিয়া রিয়েলটর্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে পুরো রাজ্যে বিক্রি হওয়া বাড়ির মিডিয়ান মূল্য ছিল ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার অনেক এলাকায় বাড়ির দাম রাজ্যব্যাপী মিডিয়ানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে।   নতুন অভিবাসীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাতায়াত। ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো ব্যবস্থার কারণে আর্লিংটন, আলেকজান্দ্রিয়া এবং ফেয়ারফ্যাক্সের কিছু অংশ থেকে গাড়ি ছাড়াও যাতায়াত করা সম্ভব। তবে শহরতলির অনেক এলাকায় গাড়ি প্রায় অপরিহার্য হয়ে ওঠে। অফিস টাইমে আই ৬৬, আই ৯৫ এবং ক্যাপিটাল বেল্টওয়ের বিভিন্ন অংশে ভারী ট্রাফিকও দৈনন্দিন জীবনের একটি বাস্তবতা।   ভার্জিনিয়ার আবহাওয়ায় চারটি ঋতুই স্পষ্ট। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় শীতকালে তুষারপাত হতে পারে, আবার গ্রীষ্মে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া থাকে। ফলে বাংলাদেশের তুলনায় শীত অনেক বেশি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের কিছু রাজ্যের মতো দীর্ঘ ও চরম শীত সাধারণত থাকে না।   তবে ভার্জিনিয়াকে ‘গ্রিন কার্ড পাওয়ার রাজ্য’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড, এইচ ওয়ান বি এবং অন্যান্য কর্মভিত্তিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা ফেডারেল আইনের অধীনে পরিচালিত হয়। কোনো ব্যক্তি ভার্জিনিয়ায় বসবাস বা চাকরি করলেই গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা সুবিধা পান না। চাকরিদাতা স্পনসরশিপ, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরি, যোগ্যতা এবং ফেডারেল নিয়মের ওপর বৈধভাবে স্থায়ী হওয়ার পথ নির্ভর করে।   সব মিলিয়ে প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য ভার্জিনিয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শক্তিশালী আইটি ও সাইবার সিকিউরিটি মার্কেট, ওয়াশিংটন ডিসির কাছাকাছি অবস্থান এবং বড় ফেডারেল ও বেসরকারি নিয়োগদাতাদের উপস্থিতি। অন্যদিকে উচ্চ হাউজিং খরচ, ট্রাফিক এবং অনেক সরকারি কন্ট্রাক্টিং চাকরিতে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের বাধ্যবাধকতা নতুনদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিবেচনায় রাখা জরুরি।   তাই শুধু ‘ভার্জিনিয়ায় গেলেই আইটি চাকরি বা গ্রিন কার্ড পাওয়া সহজ’ এমন ধারণার পরিবর্তে নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, দক্ষতা, চাকরির ধরন, সম্ভাব্য বেতন এবং বসবাসের খরচ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১:০
দুইদিন ধরে  হাঁটতে পারছেন না সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চু্প্পু
দুইদিন ধরে হাঁটতে পারছেন না সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চু্প্পু

ডান পায়ের পুরোনো সমস্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত দুদিন ধরে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না। চিকিৎসকের পরামর্শে ইতোমধ্যে ইনজেকশন নেওয়া শুরু করেছেন এবং টানা তিন সপ্তাহ এই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন তার এক স্বজন।   রোববার রাতে সাবেক রাষ্ট্রপতির ওই স্বজন জানান, গত দুদিন ধরে মো. সাহাবুদ্দিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে ডান পায়ের পুরোনো সমস্যাটি নতুন করে তীব্র হয়েছে।   তিনি বলেন, ‘তিনি দুদিন ধরে খুবই অসুস্থ। ডান পায়ের পুরোনো সমস্যা বেড়েছে। ইতোমধ্যে ইনজেকশন নিয়েছেন।’   চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই ইনজেকশন একবার নিয়েই শেষ হচ্ছে না। টানা তিন সপ্তাহ তাকে চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন ওই স্বজন। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টানা তিন সপ্তাহ তাকে এই ইনজেকশন নিতে হবে। এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না।’   তবে তার পায়ের সমস্যার সুনির্দিষ্ট রোগ নির্ণয়, কী ধরনের ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে কিংবা নতুন করে কোনো হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ফলে পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা তথ্যের বাইরে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে অন্য কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এর আগে গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা জানিয়ে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা তার অটোনমিক নিউরোপ্যাথি শনাক্ত করেছিলেন। এই সমস্যার কারণে মাঝেমধ্যে তিনি সাময়িকভাবে জ্ঞান হারাতেন।   মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র ২৪ জুলাই বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পৌঁছানো হয়। বিকেল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পরে সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ করে তার পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।   রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।   মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। কিন্তু স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন।   পদত্যাগের পর বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসায় ওঠেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন।   নতুন করে ডান পায়ের সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় আপাতত তার স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন সপ্তাহ চিকিৎসকের নির্ধারিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে তাকে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ০:৫৩
ভারতে ফিরছেন প্রিয় প্রতিবেশী, জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মার্কিন নারী
ভারতে ফিরছেন প্রিয় প্রতিবেশী, জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মার্কিন নারী

বছরের পর বছর পাশাপাশি থাকতে থাকতে প্রতিবেশীর সম্পর্ক কখন যে পরিবারের মতো হয়ে ওঠে, অনেক সময় তা বোঝাই যায় না। যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্থায়ীভাবে ভারতে ফিরে যাচ্ছিলেন এক ভারতীয় দম্পতি। বিদায়ের মুহূর্তে তাদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মার্কিন এক নারী। সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।   টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় দম্পতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ডেট্রয়েট বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিদায় নিতে গেলে ঘটে আবেগঘন ঘটনাটি।   ভিডিওতে দেখা যায়, ভারতীয় দম্পতিকে বিদায় জানাতে এসে নিজেকে সামলাতে পারছেন না তাদের মার্কিন প্রতিবেশী। একপর্যায়ে তিনি তাদের জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করেন। দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষগুলো আর পাশের বাড়িতে থাকবেন না, সেই বাস্তবতা বিদায়ের মুহূর্তটিকে আরও আবেগপূর্ণ করে তোলে।   দম্পতি তখন জানতেন না যে তাদের বিদায়ের মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধারণ করা হচ্ছে। তাদের এক বন্ধু দূর থেকে পুরো দৃশ্যটি রেকর্ড করেন। পরে সেই ভিডিও দম্পতির কাছে পাঠানো হয়।   পরবর্তী সময়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য মানুষ প্রতিবেশীদের মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেন।   অনেকের কাছে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে দুই ভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া এই আন্তরিক সম্পর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে লিখেছেন, জাতীয়তা, ভাষা কিংবা সংস্কৃতি আলাদা হলেও দীর্ঘদিন পাশাপাশি থাকার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পারিবারিক বন্ধনের মতো সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।   কেউ কেউ নিজেদের অভিবাসী জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন। পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে বসবাসের সময় প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে তৈরি সম্পর্ক অনেক অভিবাসীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে একটি দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় শুধু একটি বাড়ি বা শহর নয়, পেছনে ফেলে যেতে হয় দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষ ও অসংখ্য স্মৃতিও।   ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে কিংবা দম্পতি কত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে তাদের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।   তবে ভিডিওটির মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বিদায়ের সেই কয়েকটি মুহূর্ত। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে প্রতিবেশীর সঙ্গে সাধারণ একটি বিদায় শেষ পর্যন্ত এমন আবেগঘন হয়ে ওঠে যে সেটিই এখন হাজারো মানুষের নজর কেড়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নিয়ে আলোচনায় অনেকেই এটিকে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের একটি সুন্দর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষায়, একটি ভালো প্রতিবেশী সম্পর্ক অনেক সময় দেশ, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সীমারেখাও ছাড়িয়ে যায়।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ০:৪১
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব, দিতে হতে পারে ১,৩৩০ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ গুনতে হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাবে নাগরিকত্বের আবেদনপত্র Form N-400-এর কাগজে জমা দেওয়ার ফি ৭৬০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করলে বর্তমান ৭১০ ডলারের পরিবর্তে দিতে হবে ১ হাজার ২৮০ ডলার।   তবে এটি এখনো কার্যকর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ২৩ জুন প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছে। আগামী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, কাগজে Form N-400 জমা দেওয়ার ফি ৭৬০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার হলে আবেদনকারীর খরচ বাড়বে ৫৭০ ডলার বা প্রায় ৭৫ শতাংশ। অনলাইনে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ৭১০ থেকে ১ হাজার ২৮০ ডলারে বেড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।   এখানে বিষয়টি পাসপোর্টের আবেদন ফি নিয়ে নয়। Form N-400 হলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদনপত্র। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর একজন ব্যক্তি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে পারেন। ফলে নতুন প্রস্তাবটি সরাসরি পাসপোর্টের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নয়।   শুধু মূল নাগরিকত্বের আবেদন নয়, আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর শুনানির অনুরোধ করার Form N-336-এর ফিও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কাগজে এই ফি ৮৩০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৭৫ ডলার এবং অনলাইনে ৭৮০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪২৫ ডলার হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে কম আয়ের আবেদনকারীদের ওপর। বর্তমানে নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা যোগ্য আবেদনকারীরা ৩৮০ ডলারের কম ফিতে Form N-400 জমা দিতে পারেন। নতুন প্রস্তাবে এই কম ফি ব্যবস্থাটি বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে N-400 ও N-336-এর জন্য বর্তমানে থাকা ফি মওকুফের ব্যবস্থাও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।   তবে সামরিক বাহিনীর নির্দিষ্ট বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব আবেদনের ফি থেকে অব্যাহতি বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যুক্তি, নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়ার প্রকৃত ব্যয় মেটানোর জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকেই পুরো খরচ নেওয়া হলে ইউএসসিআইএসের আর্থিক কাঠামো আরও টেকসই হবে। সংস্থাটি ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ওপর নির্ভর করেই মূলত তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের কাছ থেকে প্রক্রিয়াকরণের প্রকৃত ব্যয়ের কাছাকাছি অর্থ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।   সরকারের নথিতে আরও বলা হয়েছে, কম ফি ও ফি মওকুফের আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করতে ইউএসসিআইএসের অতিরিক্ত প্রশাসনিক সময় ও সম্পদ ব্যয় হয়। এসব ব্যবস্থা বাদ দিলে আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ সহজ হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।   অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী ও নাগরিকত্ব নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো প্রস্তাবটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, কয়েকশ ডলার অতিরিক্ত খরচ এবং কম আয়ের মানুষের জন্য ছাড়ের সুযোগ কমে গেলে অনেক যোগ্য গ্রিন কার্ডধারীর জন্য নাগরিকত্বের আবেদন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।   ভার্জিনিয়ায় নাগরিকত্বের আবেদন প্রস্তুতিতে সহায়তা করা রেবেকা থমাস স্থানীয় এনবিসি অ্যাফিলিয়েট WVIR-কে বলেন, তার শিক্ষার্থীদের অনেকের পক্ষেই প্রস্তাবিত বাড়তি ফি বহন করা সম্ভব নাও হতে পারে।   বর্তমানে Form N-400-এর সাধারণ ফি কাগজে ৭৬০ ডলার এবং অনলাইনে ৭১০ ডলার। কম আয়ের যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য ৩৮০ ডলারের বিকল্প এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফি মওকুফের ব্যবস্থাও রয়েছে।   নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে নাগরিকত্বের আবেদন করতে যাওয়া অনেক অভিবাসীর জন্য আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য আবেদন করার সময় ও সম্ভাব্য খরচ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হতে পারে।   তবে এখনই বাড়তি টাকা দেওয়ার নিয়ম চালু হচ্ছে না। প্রস্তাবটি বর্তমানে জনমত পর্যায়ে রয়েছে এবং ২৪ আগস্টের পর সরকার প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ০:২৫
বিশ্বসেরা বার্কলেতেও শেখাতে হচ্ছে ভগ্নাংশ
বিশ্বসেরা বার্কলেতেও শেখাতে হচ্ছে ভগ্নাংশ! কলেজে পড়া শিক্ষার্থীদের গণিতের ঘাটতি, হতাশায় প্রফেসর

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে ভর্তি হওয়া কিছু শিক্ষার্থীকে নতুন করে ভগ্নাংশ ও সূচকের মতো মৌলিক গণিত শেখাতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গণিত বিভাগের অধ্যাপক আলেকজান্ডার পলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক শিক্ষার্থী হাইস্কুলে প্রি ক্যালকুলাস বা ক্যালকুলাস শেষ করে ভালো ফল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেও কলেজ পর্যায়ের গণিতের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তাদের নেই।   বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে ক্যালিফোর্নিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রস্তুতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্কলের অধ্যাপকেরা এমন শিক্ষার্থীদের পাচ্ছেন, যাদের কলেজ পর্যায়ের ক্যালকুলাস শুরু করার আগে ভগ্নাংশ ও সূচকের মতো স্কুল পর্যায়ের বিষয়ও ঝালিয়ে নিতে হচ্ছে।   বার্কলের নিজস্ব তথ্যও সমস্যাটির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ম্যাথ ১এ বা প্রথম ক্যালকুলাস কোর্স শুরু করা শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে প্রায় অর্ধেককে কলেজ পর্যায়ের ক্যালকুলাসের জন্য প্রস্তুত নয় বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাদের অধিকাংশ অবশ্য প্রি ক্যালকুলাস বা কলেজ অ্যালজেব্রার পর্যায়ে প্রস্তুত ছিল।   তবে কিছু শিক্ষার্থীর ঘাটতি আরও মৌলিক জায়গায় ছিল। বার্কলে জানিয়েছে, তাদের মধ্যে এমন শিক্ষার্থীও ছিলেন যাদের ভগ্নাংশ ও সূচকের নিয়ম নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে।   অধ্যাপক আলেকজান্ডার পলিনের মতে, সমস্যাটি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। অনেক শিক্ষার্থী হাইস্কুলে প্রি ক্যালকুলাস বা ক্যালকুলাস কোর্স শেষ করলেও বাস্তবে সেই বিষয়গুলোতে কলেজ পর্যায়ের পড়াশোনা চালানোর মতো দক্ষতা অর্জন করেননি।   এর ফল অনেক সময় প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষাতেই সামনে আসে। শিক্ষার্থীরা হাইস্কুলে ভালো গ্রেড নিয়ে বার্কলের মতো প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছেন, কিন্তু কলেজের প্রথম গণিত পরীক্ষায় গিয়ে বুঝতে পারছেন তাদের ভিত্তিতে বড় ঘাটতি রয়েছে।   সমস্যা মোকাবিলায় বার্কলে কয়েক বছর ধরেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২০ সালে পলিন এবং তৎকালীন লেকচারার কেলি তালাস্কা নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন প্রি ক্যালকুলাস প্রস্তুতি কোর্স চালু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ শুরু করার আগেই গণিতের দুর্বল জায়গাগুলো ঠিক করার সুযোগ দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। শুরুতেই প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী এতে নাম লেখান।   পরবর্তী সময়ে উদ্যোগটি আরও বিস্তৃত হয়ে ‘সলিড ফাউন্ডেশনস প্রোগ্রাম’-এ রূপ নেয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘ফাউন্ডেশনস অব লোয়ার ডিভিশন ম্যাথমেটিকস’ নামে একটি কোর্সও চালাচ্ছে। এর লক্ষ্য বিভিন্ন ধরনের গণিতের প্রস্তুতি নিয়ে বার্কলেতে আসা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচের স্তরের গণিত কোর্সের জন্য প্রয়োজনীয় মানে নিয়ে আসা।   বার্কলের গণিত বিভাগ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ডায়াগনস্টিক টেস্টও রেখেছে। এর মাধ্যমে প্রথম গণিত কোর্স নেওয়ার আগে একজন শিক্ষার্থী নিজের প্রস্তুতির অবস্থা যাচাই করতে পারেন এবং কোন পর্যায় থেকে শুরু করা উচিত সে সম্পর্কে ধারণা পান।   বিতর্কটি আরও বড় হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ায় এসএটি ও এসিটির মতো স্ট্যান্ডার্ডাইজড টেস্ট বাদ দেওয়ার পর। বার্কলের গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মিনা আগানাজিক সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি নির্ভরযোগ্যভাবে পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   তবে শিক্ষার্থীদের গণিতের দুর্বলতার জন্য শুধু টেস্ট অপশনাল বা টেস্ট ফ্রি ভর্তি নীতিকেই দায়ী করা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। স্কুলের মানের পার্থক্য, কোভিড মহামারির সময় শেখার ক্ষতি, গ্রেড ইনফ্লেশন এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যসহ একাধিক কারণ কলেজ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।   বার্কলের পরিস্থিতি অবশ্য ক্যালিফোর্নিয়ার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব প্রতিবেদনে পলিন বলেছেন, ইউসি সান ডিয়েগোতে যে মাত্রার সমস্যা ধরা পড়েছে, বার্কলের পরিস্থিতি ততটা গুরুতর নয়। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কলেজে প্রবেশকারী শিক্ষার্থীদের গণিত প্রস্তুতি কমে যাওয়ার বৃহত্তর সমস্যার অংশ হিসেবে দেখছেন তিনি।   বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ বার্কলের প্রায় ৮০ শতাংশ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কোনো না কোনো সময়ে গণিতের কোর্স নেন। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মলিকিউলার ও সেল বায়োলজিসহ বহু জনপ্রিয় বিষয়ে গণিত বাধ্যতামূলক।   ফলে আলোচনার কেন্দ্রে এখন শুধু একজন শিক্ষার্থী ভগ্নাংশ করতে পারেন কি না, সেই প্রশ্ন নেই। বরং হাইস্কুলের ভালো গ্রেড একজন শিক্ষার্থীর কলেজ প্রস্তুতির প্রকৃত চিত্র কতটা তুলে ধরছে এবং দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর কেন মৌলিক গণিতের ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে, সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০২৬ ০:২১
শর্টস পরার অনুমতি না পেয়ে ইসকা একাডেমির শিক্ষার্থীরা স্কার্ট পরে প্রতিবাদে অংশ নেয়। ছবি: সংগৃহীত
তীব্র গরমে হাফপ্যান্ট পরা নিষেধ, অভিনব প্রতিবাদে স্কার্ট পরেই স্কুলে গেল ছাত্ররা

যুক্তরাজ্যে তীব্র দাবদাহের মধ্যে স্কুল ইউনিফর্মের একটি অদ্ভুত নিয়মের অভিনব প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে একদল কিশোর। তীব্র গরমে হাফপ্যান্ট পরার অনুমতি না পেয়ে তারা বেছে নিয়েছে অভিনব এক পথ, স্কার্ট পরে স্কুলে হাজির হয়েছে তারা। গত ১৬ আগস্ট পাবলো রোমানের লেখা এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিদীপ্ত এই প্রতিবাদের খবরটি উঠে আসে।   সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের তাপমাত্রা যখন প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকে, তখন ডেভন শহরের ইসকা একাডেমির শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলের নির্ধারিত উলের লম্বা ট্রাউজার পরা রীতিমতো যন্ত্রণাদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। প্রচণ্ড গরমে শারীরিক স্বস্তি পেতে ছাত্ররা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে হাফপ্যান্ট বা শর্টস পরে ক্লাসে আসার অনুমতি চায়। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেয়, ইউনিফর্মের কড়া নিয়মে শর্টস পরার কোনো সুযোগ নেই। গরমে কষ্ট হলেও ছেলেদের লম্বা প্যান্টই পরতে হবে।   কর্তৃপক্ষের এমন অনড় অবস্থানের পর ছাত্ররা স্কুলের নিয়মকানুনের নির্দেশিকাটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে শুরু করে। আর তাতেই বেরিয়ে আসে এক অদ্ভুত ফাঁকফোকর। তারা দেখতে পায়, স্কুলের নিয়মে ছেলেদের শর্টস পরা নিষিদ্ধ হলেও, ইউনিফর্ম হিসেবে স্কার্ট পরার ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার কথা বলা নেই। মূলত ছাত্রীদের জন্য স্কার্ট নির্ধারিত থাকলেও, নির্দেশিকার ভাষাগত এই দুর্বলতাকেই কাজে লাগায় ছাত্ররা।   যেমন ভাবা, তেমন কাজ। গরম থেকে বাঁচতে এবং অদ্ভুত এই নিয়মের প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ডজনখানেক ছাত্র দিব্যি স্কার্ট পরে ক্লাসে হাজির হয়। তাদের এই অভিনব ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের দৃশ্য মুহূর্তেই নজর কাড়ে সবার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্কার্ট পরা ছাত্রদের ছবি ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা ছাত্রদের এই উপস্থিত বুদ্ধির দারুণ প্রশংসা করতে শুরু করেন।   শিক্ষার্থীদের এই পদক্ষেপ নিছকই গরম থেকে বাঁচার চেষ্টা ছিল না, বরং এটি ছিল অযৌক্তিক নিয়মের বিরুদ্ধে এক বুদ্ধিদীপ্ত বার্তা। তরুণ শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে যে, কোনো নিয়ম যদি অর্থহীন মনে হয়, তবে বিশৃঙ্খলা না করে সেটি মনোযোগ দিয়ে পড়লেই তার সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। নিয়ম অনুযায়ী যদি স্কার্ট পরার অনুমতি থাকে, তবে হাফপ্যান্ট কেন পরা যাবে না, এমন যৌক্তিক প্রশ্নই তুলে ধরেছে তারা। কোনো ধরনের উগ্রতা ছাড়াই স্কুলের নিজস্ব নিয়মের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তারা কর্তৃপক্ষকে এক মোক্ষম জবাব দিয়েছে, যা এখন অনেকের জন্যই এক দারুণ শিক্ষণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২৩:৩৮
নিউ জার্সির সি আইল সৈকতে উদ্ধার হওয়া ৩৬ লাখ বছরের পুরোনো মেগালোডনের বিশাল দাঁত। ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সির সৈকতে মিলল ৩৬ লাখ বছরের পুরোনো মেগালোডন হাঙরের বিশাল দাঁত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের একটি সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে অভাবনীয় এক আবিষ্কার করে বসেছেন এক বাবা ও ছেলে। সৈকতের পাথরের ফাঁক থেকে তারা উদ্ধার করেছেন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিশাল আকৃতির হাঙর 'মেগালোডন'-এর একটি জীবাশ্ম দাঁত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয়ংকর এই প্রাগৈতিহাসিক হাঙরের দাঁতটি অন্তত ৩৬ লাখ বছরের পুরোনো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।   পেনসিলভানিয়ার মননগাহেলা এলাকার বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী মাইকেল বোওয়ারস তার ১১ বছর বয়সী ছেলে বো-কে নিয়ে গত মঙ্গলবার নিউ জার্সির 'সি আইল সিটি' সৈকতে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। সৈকতের জেটি ধরে হাঁটার সময় হঠাৎ পাথরের একটি সরু খাঁজে বিশাল আকৃতির অদ্ভুত কিছু একটা দেখতে পান তারা। মাইকেল বোওয়ারস জানান, পাথরের ওই খাঁজটি এতোটাই সরু ছিল যে সেখানে তিনি হাত ঢোকাতে পারছিলেন না। তখন তার ছেলে বো খুব সহজেই সেখানে হাত ঢুকিয়ে সেই পুরোনো ও বিশাল দাঁতটি বের করে আনে।   গণমাধ্যমকে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মাইকেল বলেন, "আমি প্রায়ই পানিতে অদ্ভুত সব জিনিস খুঁজে পাই। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি যে এমন অসাধারণ কিছু একটা পেয়ে যাব। দাঁতটি হাতে পাওয়ার পর আমার ছেলে আনন্দে একেবারে নির্বাক হয়ে গিয়েছিল। আর আমার তো খুশিতে পা কাঁপছিল। জীবনে এমন কিছু খুঁজে পাওয়ার স্বপ্নই দেখতাম আমি।" উদ্ধার করা বিশাল এই দাঁতটি আসল কিনা তা যাচাই করার জন্য তারা 'কেপ মে হোয়েল ওয়াচ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার'-এর শরণাপন্ন হন। সেখানকার গবেষকরা নিশ্চিত করেন যে, এটি সত্যিই একটি মেগালোডন হাঙরের জীবাশ্ম।   রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মেলিসা লরিনো জানান, এই বিশাল দাঁতটি একটি মেগালোডনের। ভয়ংকর এই হাঙরগুলো লম্বায় প্রায় ৬০ ফুট পর্যন্ত হতো এবং এদের একেকটি দাঁত মানুষের হাতের তালুর সমান বড় ছিল। আজ থেকে প্রায় ৩৬ লাখ বছর আগেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বিশাল এই সামুদ্রিক শিকারি প্রাণীটি, যা বর্তমানে বিভিন্ন হলিউড হরর সিনেমার কল্যাণে মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। নিউ জার্সির সৈকতে মেগালোডনের জীবাশ্ম পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। নিউ জার্সি স্টেট মিউজিয়ামের কিউরেটর ডানা এহার্টের মতে, এই অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত পাঁচটিরও কম মেগালোডনের দাঁত আবিষ্কৃত হয়েছে।   কিন্তু এত লাখ বছর আগের দাঁত হঠাৎ সৈকতে কীভাবে এল? গবেষকরা ধারণা করছেন, গত জুলাই মাসে ইউএস আর্মি কর্পস অব ইঞ্জিনিয়ার্স-এর উদ্যোগে সি আইল সিটিতে সৈকত সংস্কারের যে কাজ হয়েছিল, তখনই এটি গভীর সমুদ্র থেকে বালুর সঙ্গে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে মেলিসা লরিনো বলেন, "সৈকত সংস্কারের জন্য যদি কয়েক মাইল গভীর সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন করা হয়ে থাকে, তবে সেই বালুর সঙ্গেই এই দাঁতটি সৈকতে চলে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি এমন এক আবিষ্কার, যা বোওয়ারস পরিবার সারাজীবন অমূল্য সম্পদ হিসেবে আগলে রাখবে।"

প্রকাশ : আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২৩:১৪