নিউইয়র্কের আবাসন সংকট রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে
নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া ও সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট এখন নগর রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। উচ্চ ভাড়া, পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতি এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি নিয়ে বাসিন্দা, বাড়ির মালিক ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
মেয়র জোহরান মামদানির আবাসন পরিকল্পনায় ভাড়াটিয়াদের জন্য ব্যয় কমানো এবং সাশ্রয়ী আবাসনের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও নতুন আবাসন নির্মাণের নীতিকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর মধ্যে সমর্থনের পাশাপাশি সমালোচনাও রয়েছে।
সমর্থকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট মোকাবিলায় ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা এবং আরও বেশি সাশ্রয়ী বাড়ি তৈরি করা প্রয়োজন। অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, কঠোর ভাড়া নিয়ন্ত্রণ বাড়ির মালিকদের নতুন বিনিয়োগ ও নির্মাণে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় অনেক পরিবারের আয়ের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। ফলে আগামী দিনে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, নতুন বাড়ি নির্মাণ এবং সাশ্রয়ী আবাসন—এই তিন বিষয়ই নগর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য নিজেদের মৌলিক রাইটস জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রস অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্স বা এমওআইএ বলছে, আইসিইর মুখোমুখি হলেও একজন ব্যক্তির কিছু রাইটস রয়েছে এবং এসব রাইটস সম্পর্কে আগে থেকেই পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে রাখা জরুরি। বিশেষ করে বাসায় আইসিই এলে আতঙ্কিত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে দেওয়া, নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে কথা বলা কিংবা না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর করার আগে পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির সর্বশেষ ‘নো ইয়োর রাইটস’ নির্দেশনায়ও অভিবাসীদের নিজেদের রাইটস সম্পর্কে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। প্রথমত, আইসিই এজেন্ট দরজায় এলেই তাকে ঘরে ঢুকতে দিতে হবে এমন নয়। আপনার সম্মতি ছাড়া সাধারণভাবে বাসায় প্রবেশের জন্য তাদের বিচারকের স্বাক্ষর করা বৈধ জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট প্রয়োজন। আইসিই বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জারি করা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ওয়ারেন্ট এবং আদালতের জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট এক বিষয় নয়। দরজা না খুলেই এজেন্টদের ওয়ারেন্ট দেখাতে বলা যায়। সেটি দরজার নিচ দিয়ে দিতে বা জানালার মাধ্যমে দেখাতে বলতে পারেন। ওয়ারেন্টটি বিচারকের স্বাক্ষর করা কি না, ঠিকানা সঠিক কি না এবং তারা যে জায়গায় প্রবেশ করতে চাইছেন সেটি ওয়ারেন্টের আওতায় আছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বৈধ জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট থাকলে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া উচিত নয়। দ্বিতীয়ত, আপনার চুপ থাকার রাইট রয়েছে। আপনি কোথায় জন্মেছেন, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন কিংবা আপনার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস কী, এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চুপ থাকার রাইট ব্যবহার করতে পারেন। তবে কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা ভুয়া ডকুমেন্ট দেখানো উচিত নয়। তৃতীয়ত, না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর করবেন না। আইসিই হেফাজতে নেওয়ার পরও এমন ডকুমেন্ট সামনে আসতে পারে যার আইনি প্রভাব একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে সঙ্গে সঙ্গে বোঝা কঠিন। তাই কোনো কাগজের অর্থ না বুঝলে আইনজীবীর পরামর্শ ছাড়া স্বাক্ষর না করাই নিরাপদ। চতুর্থত, আটক হলে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের রাইট রয়েছে। তবে ইমিগ্রেশন কোর্টের বিষয়টি ক্রিমিনাল কোর্টের মতো নয়। সরকার সাধারণত নিজের খরচে ইমিগ্রেশন আইনজীবী নিয়োগ করে দেয় না। এ কারণে আগে থেকেই বিশ্বস্ত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি বা লিগ্যাল সার্ভিস সংস্থার যোগাযোগের তথ্য পরিবারের কাছে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির এমওআইএ বর্তমানে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে নিউইয়র্কবাসীদের জন্য বিনামূল্যে ও গোপনীয় ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সহায়তার ব্যবস্থা রেখেছে। আইসিই বাসায় এলে বা পরিবারের কেউ আটক হলে এমওআইএ ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট হটলাইনে ৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। ৩১১ নম্বরে ফোন করে ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল’ বললেও সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। পঞ্চমত, পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলা করুন। পালানোর চেষ্টা, শারীরিক বাধা, ধাক্কাধাক্কি বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। নিজের রাইটস ব্যবহার করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে শারীরিকভাবে বাধা না দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। আইসিইর উপস্থিতি রেকর্ড করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এবং এজেন্টদের কাজে বাধা না দিয়ে ঘটনা নথিবদ্ধ করা যেতে পারে। তবে ব্যক্তিগত বাসার ভেতরে অন্য কারও কথোপকথনের অডিও রেকর্ড করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। পরিবারের কেউ আটক হওয়ার আগেই একটি ইমার্জেন্সি প্ল্যান তৈরি করে রাখা উপকারী। গুরুত্বপূর্ণ ইমিগ্রেশন ডকুমেন্টের কপি, আইনজীবীর যোগাযোগের তথ্য এবং জরুরি অবস্থায় সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যদের দায়িত্ব কে নেবেন, এসব আগেই ঠিক করে রাখা যেতে পারে। মূল ডকুমেন্ট এমন জায়গায় রাখা উচিত যেখানে প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত পরিবারের সদস্য সেটি খুঁজে পাবেন। নিউইয়র্ক সিটির সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, এমওআইএর লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টারগুলো বিভিন্ন অভিবাসী এলাকায় বিনামূল্যে ইমিগ্রেশন সহায়তা দেয় এবং বাংলা ভাষাতেও তথ্য পাওয়া যায়। কারও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস না থাকলেও সহায়তা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইসিই দরজায় এসেছে মানেই নিজের সব রাইটস শেষ হয়ে গেছে এমন নয়। আবার রাইটস ব্যবহার করার অর্থ এজেন্টদের শারীরিকভাবে বাধা দেওয়াও নয়। দরজা খোলার আগে ওয়ারেন্ট যাচাই করা, চুপ থাকার রাইট ব্যবহার করা, না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর না করা, দ্রুত বিশ্বস্ত আইনি সহায়তা নেওয়া এবং পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলা করাই পরিবারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি। এই প্রতিবেদন সাধারণ তথ্য ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। প্রত্যেকের ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি আলাদা হওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন আইনজীবী বা স্বীকৃত লিগ্যাল সার্ভিস প্রোভাইডারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পরকীয়ার প্রতিশোধে প্রেমিককে আইসিই এর গাতে ধরিয়ে ডিপোর্ট করালেন প্রেমিকা
নিউইয়র্কের আবাসন সংকট রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে
নিউইয়র্কে অপরাধ কমার তথ্য সামনে আনছেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে আবারও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। জুলাই মাসে ব্যবহৃত বাড়ি বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৪০ লাখ ৬০ হাজার ইউনিটে নেমেছে। বাড়ি বিক্রি কমলেও দাম কমেনি। জুলাইয়ে ব্যবহৃত বাড়ির জাতীয় মধ্যম বিক্রয়মূল্য এক বছর আগের তুলনায় ২ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে বাজারে থাকা বাড়ির মজুতও ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রায় ১৫ লাখ ৪০ হাজার ইউনিট হয়েছে। ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে গৃহঋণের সুদ। জুলাইয়ের শেষ দিকে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের গৃহঋণের হার প্রায় ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশে পৌঁছায়, যা এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। আগস্টের ১৩ তারিখে গড় হার সামান্য কমে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ হলেও তা গত বছরের একই সময়ের ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশের চেয়ে বেশি। উচ্চ সুদ ও বাড়ির বাড়তি দাম একসঙ্গে কাজ করায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। বিশেষ করে প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। জুলাইয়ে মোট বাড়ি বিক্রির মাত্র ২৯ শতাংশ ছিল প্রথমবারের ক্রেতাদের, যেখানে একটি স্বাস্থ্যকর বাজারে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, পুরোনো বাড়ির মালিকদের একটি বড় অংশও কম সুদের পুরোনো গৃহঋণ ছেড়ে নতুন ঋণে যেতে চাইছেন না। ফলে বাজারে বাড়ির সরবরাহ কম থাকছে এবং এতে দামও তুলনামূলকভাবে উঁচু থাকছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার, বাড়ছে খেলাপি
শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আলাবামায় জর্জিয়ার যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
ইবেতে কেনা পুরোনো ক্যামেরায় মিলল ২০ বছর আগের হারানো ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ড. নাহিয়ান বিন খালেদ যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টোরাল রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ইয়েল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ অন ইনোভেশন অ্যান্ড স্কেল বা ওয়াই-রাইজে উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করবেন তিনি। তার গবেষণার বড় একটি অংশজুড়ে থাকবে বাংলাদেশ। সম্প্রতি মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারাল, ফুড অ্যান্ড রিসোর্স ইকোনমিকস থেকে প্রায়োগিক অর্থনীতিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন ড. নাহিয়ান। তার শিক্ষা ও গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ইয়েলের ওয়াই-রাইজে তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র হবে উন্নয়ন অর্থনীতি। বিশেষ করে কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ, অভিবাসন, সামাজিক সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের অভিযোজন নিয়ে কাজ করবেন তিনি। বাংলাদেশ ছাড়াও তানজানিয়া, নাইজেরিয়া ও কেনিয়ার বিভিন্ন উন্নয়ন সমস্যার ওপর তার পূর্ববর্তী গবেষণা রয়েছে। নিজের নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে ড. নাহিয়ান জানিয়েছেন, ওয়াই-রাইজ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সমস্যাগুলো নিয়ে গবেষণা করে এবং সেখানে তার কাজের প্রধান ফোকাস হবে বাংলাদেশ। গবেষণার প্রয়োজনে তিনি কয়েক মাস বাংলাদেশে অবস্থান করে উন্নয়ন সহযোগী, নীতিনির্ধারক এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন। ড. নাহিয়ানের গবেষণা আগ্রহের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষিতে প্রযুক্তি গ্রহণ, অভিবাসন, সামাজিক সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে থাকার সময়ও তিনি বাংলাদেশ ও তানজানিয়ায় প্রযুক্তি গ্রহণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা করেছেন। পিএইচডির আগে উন্নয়ন গবেষণায়ও তার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা আইএফপিআরআই এবং ইনোভেশনস ফর পোভার্টি অ্যাকশনে কাজ করেছেন। বাংলাদেশে উন্নয়ন কর্মসূচির নকশা, বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়নসংক্রান্ত গবেষণায়ও তিনি যুক্ত ছিলেন। তার প্রকাশিত গবেষণার মধ্যে বাংলাদেশের মৎস্য ও চিংড়ি ভ্যালু চেইনে কোভিড-১৯ পরবর্তী ধাক্কা ও স্থিতিস্থাপকতা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সক্ষমতা এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নিয়ে কাজ রয়েছে। কৃষি প্রযুক্তি ও নীতির প্রভাব নিয়েও একাধিক গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন তিনি। পাঁচ বছরের পিএইচডি যাত্রা শেষ করার পর ড. নাহিয়ান বলেছেন, ডক্টরাল ডিগ্রির মূল্য শুধু একটি সনদে নয়। দীর্ঘ সময় ধরে একটি গবেষণা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করা, ভুল থেকে নতুনভাবে শুরু করা, ধৈর্য ধরে বিশ্লেষণ করা এবং জটিল সমস্যার উত্তর খোঁজার দক্ষতাকেই তিনি এই যাত্রার বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। পিএইচডির সময় আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত গবেষকদের সঙ্গে কাজ ও মতবিনিময়ের সুযোগ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের বাইরে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা ও গবেষণা করতে গিয়ে নতুন একাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং পরিবার থেকে দূরে থাকার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন। অর্থনীতিবিদদের আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারকে এবার বিশেষভাবে কঠিন বলেও উল্লেখ করেছেন ড. নাহিয়ান। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন গবেষণায় সুযোগ সংকুচিত হওয়ার মধ্যে ইয়েলের মতো প্রতিষ্ঠানে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। ইয়েলে তার নতুন গবেষণা যাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে বাস্তব নীতিগত সমস্যার সমাধান। বাংলাদেশে অভিবাসন, কৃষি, সামাজিক সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজনের মতো বিষয়ে মাঠপর্যায়ের তথ্য ব্যবহার করে এমন গবেষণা করতে চান তিনি, যা নীতিনির্ধারণে কার্যকর প্রমাণ দিতে পারে। ড. নাহিয়ানের ভাষায়, তার লক্ষ্য খুবই সরল: ভালো অর্থনীতি শেখা, ভালো গবেষণা করা এবং সেই গবেষণার মাধ্যমে মানুষের জীবন কিছুটা হলেও উন্নত করতে অবদান রাখা। ইয়েলে তার নতুন অধ্যায় সেই লক্ষ্যকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
আশ্রয়ের শিশুরা যেন ভাইবোনের থেকে বিছিন্ন না হয়, ২২ মিলিয়ন ডলারের গ্রাম গড়ছেন ক্রিশ্চিয়ান বেল
ফিলিস্তিনি গ্রাম ঘেরাওকারীদের ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাসী’ বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত