বাসায় হঠাৎ আইসিই এলে কী করবেন? দরজা খোলার আগে বাংলাদেশিদের জানা জরুরি ৫ রাইটস
নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য নিজেদের মৌলিক রাইটস জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রস অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্স বা এমওআইএ বলছে, আইসিইর মুখোমুখি হলেও একজন ব্যক্তির কিছু রাইটস রয়েছে এবং এসব রাইটস সম্পর্কে আগে থেকেই পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে রাখা জরুরি।
বিশেষ করে বাসায় আইসিই এলে আতঙ্কিত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে দেওয়া, নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে কথা বলা কিংবা না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর করার আগে পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির সর্বশেষ ‘নো ইয়োর রাইটস’ নির্দেশনায়ও অভিবাসীদের নিজেদের রাইটস সম্পর্কে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।
প্রথমত, আইসিই এজেন্ট দরজায় এলেই তাকে ঘরে ঢুকতে দিতে হবে এমন নয়। আপনার সম্মতি ছাড়া সাধারণভাবে বাসায় প্রবেশের জন্য তাদের বিচারকের স্বাক্ষর করা বৈধ জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট প্রয়োজন। আইসিই বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জারি করা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ওয়ারেন্ট এবং আদালতের জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট এক বিষয় নয়।
দরজা না খুলেই এজেন্টদের ওয়ারেন্ট দেখাতে বলা যায়। সেটি দরজার নিচ দিয়ে দিতে বা জানালার মাধ্যমে দেখাতে বলতে পারেন। ওয়ারেন্টটি বিচারকের স্বাক্ষর করা কি না, ঠিকানা সঠিক কি না এবং তারা যে জায়গায় প্রবেশ করতে চাইছেন সেটি ওয়ারেন্টের আওতায় আছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বৈধ জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট থাকলে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া উচিত নয়।
দ্বিতীয়ত, আপনার চুপ থাকার রাইট রয়েছে। আপনি কোথায় জন্মেছেন, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন কিংবা আপনার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস কী, এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চুপ থাকার রাইট ব্যবহার করতে পারেন। তবে কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা ভুয়া ডকুমেন্ট দেখানো উচিত নয়।
তৃতীয়ত, না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর করবেন না। আইসিই হেফাজতে নেওয়ার পরও এমন ডকুমেন্ট সামনে আসতে পারে যার আইনি প্রভাব একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে সঙ্গে সঙ্গে বোঝা কঠিন। তাই কোনো কাগজের অর্থ না বুঝলে আইনজীবীর পরামর্শ ছাড়া স্বাক্ষর না করাই নিরাপদ।
চতুর্থত, আটক হলে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের রাইট রয়েছে। তবে ইমিগ্রেশন কোর্টের বিষয়টি ক্রিমিনাল কোর্টের মতো নয়। সরকার সাধারণত নিজের খরচে ইমিগ্রেশন আইনজীবী নিয়োগ করে দেয় না। এ কারণে আগে থেকেই বিশ্বস্ত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি বা লিগ্যাল সার্ভিস সংস্থার যোগাযোগের তথ্য পরিবারের কাছে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
নিউইয়র্ক সিটির এমওআইএ বর্তমানে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে নিউইয়র্কবাসীদের জন্য বিনামূল্যে ও গোপনীয় ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সহায়তার ব্যবস্থা রেখেছে। আইসিই বাসায় এলে বা পরিবারের কেউ আটক হলে এমওআইএ ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট হটলাইনে ৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। ৩১১ নম্বরে ফোন করে ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল’ বললেও সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়।
পঞ্চমত, পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলা করুন। পালানোর চেষ্টা, শারীরিক বাধা, ধাক্কাধাক্কি বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। নিজের রাইটস ব্যবহার করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে শারীরিকভাবে বাধা না দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
আইসিইর উপস্থিতি রেকর্ড করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এবং এজেন্টদের কাজে বাধা না দিয়ে ঘটনা নথিবদ্ধ করা যেতে পারে। তবে ব্যক্তিগত বাসার ভেতরে অন্য কারও কথোপকথনের অডিও রেকর্ড করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
পরিবারের কেউ আটক হওয়ার আগেই একটি ইমার্জেন্সি প্ল্যান তৈরি করে রাখা উপকারী। গুরুত্বপূর্ণ ইমিগ্রেশন ডকুমেন্টের কপি, আইনজীবীর যোগাযোগের তথ্য এবং জরুরি অবস্থায় সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যদের দায়িত্ব কে নেবেন, এসব আগেই ঠিক করে রাখা যেতে পারে। মূল ডকুমেন্ট এমন জায়গায় রাখা উচিত যেখানে প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত পরিবারের সদস্য সেটি খুঁজে পাবেন।
নিউইয়র্ক সিটির সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, এমওআইএর লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টারগুলো বিভিন্ন অভিবাসী এলাকায় বিনামূল্যে ইমিগ্রেশন সহায়তা দেয় এবং বাংলা ভাষাতেও তথ্য পাওয়া যায়। কারও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস না থাকলেও সহায়তা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইসিই দরজায় এসেছে মানেই নিজের সব রাইটস শেষ হয়ে গেছে এমন নয়। আবার রাইটস ব্যবহার করার অর্থ এজেন্টদের শারীরিকভাবে বাধা দেওয়াও নয়। দরজা খোলার আগে ওয়ারেন্ট যাচাই করা, চুপ থাকার রাইট ব্যবহার করা, না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর না করা, দ্রুত বিশ্বস্ত আইনি সহায়তা নেওয়া এবং পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলা করাই পরিবারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।
এই প্রতিবেদন সাধারণ তথ্য ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। প্রত্যেকের ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি আলাদা হওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন আইনজীবী বা স্বীকৃত লিগ্যাল সার্ভিস প্রোভাইডারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreঅভিবাসী পরিচয়কে শক্তিতে রূপান্তর করে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে নিজের বলিষ্ঠ অবস্থান তৈরি করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণ সংগঠক তাহমিদ চৌধুরী। কমিউনিটির ক্ষমতায়ন, তৃণমূলের মানুষকে সংগঠিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে জনসেবামূলক কাজে উজ্জীবিত করার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্মানজনক ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’। মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জমকালো এক আয়োজনে তাহমিদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন রাজ্যের লেফটেন্যান্ট গভর্নর গারলিন গিলক্রিস্ট এবং ওয়াশটেনো কাউন্টির প্রসিকিউটর এলি সাভিত। মঞ্চে সে সময় ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার, মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কার্টিস হার্টেল, মার্কিন কংগ্রেসওম্যান হিলারি স্কলটেন এবং মিশিগান সিনেটের মেজরিটি লিডার উইনি ব্রিংকসের মতো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। ম্যাকম্ব কাউন্টি ও মিশিগানের ১০ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক অধিকার এবং তরুণদের সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ। এমন বড় স্বীকৃতির মুহূর্তেও তৃণমূলের সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাহমিদ চৌধুরী। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সম্মাননা তার একার কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে তার শিক্ষক, মেন্টর, সহযোগী সংগঠক এবং নিরলস স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত শ্রম ও ভালোবাসা। তরুণদের সাথে নিয়েই আগামী দিনে জনকল্যাণমূলক কাজ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের সভাপতি জাবেদ চৌধুরী ও উপদেষ্টা সুমন কবিরসহ বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাকে অনুপ্রাণিত করেন।
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের জয়যাত্রা, কাজ করছেন এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা তৈরির ঘোষণা ট্রাম্পের, প্রকল্পে ১৫ বিলিয়ন ডলার
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, প্রেস রুম ভেঙে সুইমিং পুল বানানোর ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতেই এইচ-১বি (H-1B) ভিসা চালু করা হয়েছিল, কম বেতনে মার্কিন কর্মীদের বদলি হিসেবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। সম্প্রতি এই ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার নিয়ে কোম্পানিগুলোকে এভাবেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের দেশীয় কর্মী ছাঁটাই করে এই ভিসার অধীনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে, তাদের ওপর নজরদারি ও কড়াকড়ি আরও বাড়ানো হবে। জেডি ভ্যান্স ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক কোম্পানি কর্মী সংকটের অজুহাত দেখিয়ে এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করে। অথচ তাদের অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, তারা এর আগেই হয়তো পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে, তবে শূন্যস্থান পূরণে তাদের বিদেশি কর্মীর খোঁজ করা উচিত নয়। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ৬০ হাজার ডলার বেতনের একজন মার্কিন হিসাবরক্ষককে ছাঁটাই করে যদি ৪৫ হাজার ডলারে একজন বিদেশি হিসাবরক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে তা এই ভিসা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে যারা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবেন, কেবল তাদেরই এই ভিসা পাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। ভাইস প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যার কিছুদিন আগেই (১৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ওই আদেশে শ্রম, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এইচ-১বি ভিসার আবেদন পর্যালোচনার সময় কোম্পানিগুলো মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করেছে কি না বা করার পরিকল্পনা করছে কি না, তা যেন খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি, পূর্বের আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে আইনি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের মাধ্যমে আইন সংশোধনের জন্য অপেক্ষা না করে ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি প্রশাসনিক পর্যায়ে এই পরিবর্তনগুলো আনছে বলে জানিয়েছেন ভ্যান্স। ভিসা ব্যবস্থায় বিদ্যমান জালিয়াতি রোধে তারা কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ভিসার আবেদনে ১ লাখ ডলার ফি প্রদানের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। তবে আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্বীকার করে ভ্যান্স জানান, প্রশাসনের নেওয়া এইচ-১বি সংক্রান্ত বেশ কিছু পদক্ষেপ এরই মধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
পেনসিলভানিয়ায় ডেটা সেন্টারের জন্য পরিবারপ্রতি ১০ হাজার ডলারের প্রস্তাব, তবুও নারাজ বাসিন্দারা
যুক্তরাষ্ট্রের জ্যাকসনভিলে রাস্তার গর্তে কলাগাছ লাগালেন বাসিন্দারা, তারপরই নড়েচড়ে বসল কর্তৃপক্ষ!
প্যাটেন্ট লঙ্ঘনের মামলায় অ্যাপলকে ৫.৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে বিল এনেছেন রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ২৪ সেপ্টেম্বর উত্থাপিত ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ পাস হলে নাগরিকদের বাবা-মা ও ভাইবোনের জন্য প্রচলিত পারিবারিক গ্রিন কার্ডের পথ বন্ধ হবে। তবে বিলটি এখনো আইন হয়নি; আবেদনকারীদের জন্য বর্তমান নিয়মই বহাল রয়েছে। প্রস্তাবিত বিলে পারিবারিক ইমিগ্রেশন মূলত স্বামী বা স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের মধ্যে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি বাতিল এবং চাকরিভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রচলিত ক্যাটাগরির জায়গায় পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। সিনেটর টিউবারভিলের দপ্তর প্রকাশিত বিলের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষা, দক্ষতা, ইংরেজিতে পারদর্শিতা, বেশি বেতনের চাকরির প্রস্তাবসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা করার শর্তও প্রস্তাবে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশিসহ যাঁরা বাবা-মা বা ভাইবোনের জন্য পারিবারিক গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাছে বিলটির পরবর্তী অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্তাব উত্থাপন আর আইন কার্যকর হওয়া এক বিষয় নয়। কংগ্রেসের দুই কক্ষে অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া গ্রিন কার্ডের নিয়মে এই পরিবর্তন আসবে না।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে অবস্থানের নির্দেশ
টাকার বিনিময়ে অনুমোদন করতেন গ্রিন কার্ডের আবেদন, সাবেক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আটক