দেশে এসেছে ইতালিতে নিহত একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশির মরদেহ
ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি হত্যার ৪৯ দিন পর তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনজনের মরদেহ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নেওয়া হয়।
নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু আক্তার (৩৮) এবং তাদের শিশুকন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশা। গত ২৬ জুন রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে তাদের হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির হোসেন অয়ন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনিও দেশে ফিরেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ইতালিতে প্রথম জানাজা শেষে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর পর স্বজনেরা মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে সেগুলো নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নেওয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় চরকাঁকড়া ইউনিয়নের শিশু নিকেতন স্কুল মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তিনজনকে পাশাপাশি দাফনের কথা রয়েছে।
গত ২৬ জুন রাতে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের ক্যাসালোত্তি এলাকায় ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ইতালির পুলিশ ও দেশটির সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাসার ভেতরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কামাল, তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করা হয়। অয়নও হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রোমের পলিক্লিনিকো জেমেলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে তার অস্ত্রোপচারও করা হয়।
ঘটনার পর রোমের প্রসিকিউটর অফিসের নির্দেশে ইতালীয় পুলিশ ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে তার ছবি প্রকাশ করে। তাকে ধরতে ইতালিজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়। রেলস্টেশন, বিমানবন্দর, বাস টার্মিনাল ও সীমান্ত এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। তদন্তকারীরা হত্যার উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পুরো পরিস্থিতি জানতে অনুসন্ধান শুরু করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর অয়ন পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে সন্দেহভাজন শাহাদাতের সঙ্গে তার বিরোধ হয়েছিল। তদন্তকারীরা পরে সন্দেহভাজনের ফোনসহ বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করে হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখেন।
তিনজনের ময়নাতদন্তেও শরীরে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ইতালীয় সংবাদ সংস্থা এডিএনক্রোনোসের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ভুক্তভোগীর শরীরে আত্মরক্ষার চেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আঘাতও পাওয়া গেছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীর পরিবারের পক্ষ থেকে আগের একটি হুমকির ঘটনাও সামনে আনা হয়। স্বজনদের দাবি, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গ্রামের বাড়িতে ‘লাল বাহিনী’ নাম ব্যবহার করে একটি চিঠির মাধ্যমে পরিবারটিকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ওই চিঠিতে স্বর্ণালংকার ও অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। তবে রোমের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সেই হুমকির কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কামাল উদ্দিন বাবুলের পরিবার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা পরিবারটির তিন সদস্য একসঙ্গে নিহত হওয়ার ঘটনায় তখনই এলাকায় শোক নেমে আসে। প্রায় সাত সপ্তাহ পর তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে ফেরায় স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আবারও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreআকাশে সূর্য আর চাঁদের বিরল মিলন, সামনে ফরাসি আল্পসের বিশাল পাহাড়। ঠিক সেই মুহূর্তে সঙ্গীর সামনে হাঁটু গেড়ে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এক ব্যক্তি। ১২ আগস্টের সূর্যগ্রহণকে ঘিরে ফ্রান্সের বিখ্যাত ভ্যাল থোরেন্সে ধারণ করা এমন একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্সের তারেন্তেজ উপত্যকার জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র ভ্যাল থোরেন্সে ঘটনাটি ঘটে। সূর্যগ্রহণ চলার সময় পাহাড়ের দিগন্তে সূর্য যখন চাঁদের আড়ালে অনেকটাই ঢাকা পড়ছিল, তখন সঙ্গীর সামনে হাঁটু গেড়ে বসেন ওই ব্যক্তি। এরপর তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পুরো মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধারণ করেন ফটোগ্রাফার অরেল ড্রু। ভ্যাল থোরেন্স কর্তৃপক্ষও সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে। এরপর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি। অনেকেই পাহাড়, গ্রহণে ঢাকা সূর্য এবং বিয়ের প্রস্তাবের মুহূর্তকে সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে ভ্যাল থোরেন্সে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়েছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বর্ণনা ছড়িয়েছে, সেটি সঠিক নয়। ১২ আগস্ট ফ্রান্সের এই অংশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে। পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সরু পথটি ফ্রান্সের ওপর দিয়ে যায়নি। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ১২ আগস্টের পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথ উত্তর রাশিয়া থেকে শুরু হয়ে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও উত্তর আটলান্টিক অতিক্রম করে স্পেনে পৌঁছায়। পর্তুগালের একেবারে ছোট একটি অংশ থেকেও পূর্ণ গ্রহণ দেখা গেছে। ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দেখা গেছে আংশিক সূর্যগ্রহণ। পূর্ণ গ্রহণের পথে চাঁদ অল্প সময়ের জন্য সূর্যের উজ্জ্বল অংশ পুরোপুরি ঢেকে দেয়। নাসা জানিয়েছে, এবারের গ্রহণে পূর্ণতার সময় অধিকাংশ স্থানে দুই মিনিটেরও কম ছিল। গ্রহণের কেন্দ্রের কাছাকাছি কিছু এলাকায় এই সময় দুই মিনিটের কিছু বেশি স্থায়ী হয়। ভ্যাল থোরেন্সের ওই যুগলের জন্য অবশ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের চেয়ে মুহূর্তটির ব্যক্তিগত তাৎপর্যই ছিল বড়। পাহাড়ের পেছনে গ্রহণে ঢাকা সূর্য অস্ত যাওয়ার কাছাকাছি সময়ে দেওয়া সেই বিয়ের প্রস্তাব এমন এক দৃশ্য তৈরি করেছে, যা একইভাবে দ্বিতীয়বার সাজিয়ে তোলা প্রায় অসম্ভব। সূর্যগ্রহণের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও যখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন ফরাসি আল্পসের এই ছোট্ট ঘটনাটি আলাদা করে মানুষের নজর কেড়েছে। আকাশের বিরল এক দৃশ্যের সঙ্গে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে মিলিয়ে ওই যুগল নিজেদের জন্য তৈরি করেছেন স্মরণীয় এক মুহূর্ত।
দেশে এসেছে ইতালিতে নিহত একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশির মরদেহ
বাসায় হঠাৎ আইসিই এলে কী করবেন? দরজা খোলার আগে বাংলাদেশিদের জানা জরুরি ৫ রাইটস
পরকীয়ার প্রতিশোধে প্রেমিককে আইসিই এর গাতে ধরিয়ে ডিপোর্ট করালেন প্রেমিকা
নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া ও সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট এখন নগর রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। উচ্চ ভাড়া, পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতি এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি নিয়ে বাসিন্দা, বাড়ির মালিক ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানির আবাসন পরিকল্পনায় ভাড়াটিয়াদের জন্য ব্যয় কমানো এবং সাশ্রয়ী আবাসনের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও নতুন আবাসন নির্মাণের নীতিকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর মধ্যে সমর্থনের পাশাপাশি সমালোচনাও রয়েছে। সমর্থকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট মোকাবিলায় ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা এবং আরও বেশি সাশ্রয়ী বাড়ি তৈরি করা প্রয়োজন। অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, কঠোর ভাড়া নিয়ন্ত্রণ বাড়ির মালিকদের নতুন বিনিয়োগ ও নির্মাণে নিরুৎসাহিত করতে পারে। নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় অনেক পরিবারের আয়ের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। ফলে আগামী দিনে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, নতুন বাড়ি নির্মাণ এবং সাশ্রয়ী আবাসন—এই তিন বিষয়ই নগর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউইয়র্কে অপরাধ কমার তথ্য সামনে আনছেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রি কমেছে, ঋণের সুদে চাপ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার, বাড়ছে খেলাপি
শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে বৃহস্পতিবার আলাবামায় জর্জিয়ার বাসিন্দা জেরেমি উইলিয়ামসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। ২০২১ সালে পাঁচ বছর বয়সী কামারি হল্যান্ডকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর জর্জিয়ার কলম্বাসে মায়ের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় কামারি। তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে শিশুটির মায়ের সঙ্গে উইলিয়ামসের যোগাযোগ হয়েছিল। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক ঘণ্টার যৌন নির্যাতনের বিনিময়ে শিশুটিকে ২ হাজার ৫০০ ডলারে উইলিয়ামসের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা উইলিয়ামসের মুঠোফোনের অবস্থান অনুসরণ করে আলাবামার ফেনিক্স সিটির একটি মোটেলে তাকে তার চাচার সঙ্গে আটক করেন। পরে তার ফোনে ১৩ ডিসেম্বর ধারণ করা ভিডিও পাওয়া যায়। তদন্তের সূত্র ধরে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির স্টোরেজ কক্ষ থেকে কামারির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০২৪ সালের মার্চে উইলিয়ামস চারটি গুরুতর হত্যার অভিযোগসহ মরদেহ গোপন করা, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং অপরাধের ভিডিও ধারণের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তবে আলাবামার আইনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আগে জুরি ট্রায়াল বাধ্যতামূলক হওয়ায় পরবর্তী সময়ে জুরি তিন দিন ধরে সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে তাকে সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। পরে বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আদালতের কার্যক্রমে আরও উঠে আসে, ২০০৫ সালে আলাস্কায় নিজের এক মাস বয়সী মেয়েকে হত্যার অভিযোগও ছিল উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া পাঁচ বছর বয়সী সৎমেয়েসহ আরও কয়েকটি শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের তথ্যও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। কামারির বাবা কোরি হল্যান্ড মেয়েকে প্রাণবন্ত শিশু হিসেবে স্মরণ করেন। তিনি জানান, কামারি রাজকন্যার সাজ ও বিভিন্ন পোশাক নিয়ে খেলতে ভালোবাসত এবং অন্যদের হাসাত। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর আলাবামার গভর্নর কে আইভি ঘটনাটিকে ‘অশুভ’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অপরাধটির ভয়াবহতাই আলাবামায় মৃত্যুদণ্ডের বিধানের প্রয়োজনীয়তার কারণ। এ ঘটনায় কামারির মা ক্রিস্টি সিপল শিশুটিকে যৌন পাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকার করে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
ইবেতে কেনা পুরোনো ক্যামেরায় মিলল ২০ বছর আগের হারানো ছবি
ঢাবি থেকে ইয়েল, অর্থনীতিতে নতুন যাত্রা ড. নাহিয়ানের