সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান।ছবি: ঠিকানা নিউজের ভিডিও থেকে
‘খেলা নয়, এবার যুদ্ধ হবে’: শামীম ওসমান

দীর্ঘদিন প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান। নিউইয়র্কে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় শেষে তিনি বলেছেন, ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তির’ সঙ্গে এবার আর খেলা নয়, প্রয়োজনে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ হবে।   ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় জনসম্মুখের বাইরে ছিলেন শামীম ওসমান। তবে গত জুলাইয়ে নিউইয়র্কে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ার খবর আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও তার নিউইয়র্কে অবস্থান ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।    নিউইয়র্কের কুইন্সের একটি রেস্তোরাঁয় যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ঠিকানা নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শামীম ওসমান দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়িত হবে। নেত্রী দেশে ফিরলে নেতাকর্মীরাও তার সঙ্গে ফিরবেন বলে জানান তিনি।   শামীম ওসমান বলেন, শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেন, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। নিজের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নেত্রী ফিরলে অনুসারীরাও দেশে ফিরবেন।   এরপর বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের বহুল আলোচিত ‘খেলা হবে’ স্লোগানকেও নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।   তার ভাষায়, “খেলা হয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে।” বর্তমান পরিস্থিতিতে যাদের তিনি ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করছেন, তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ‘খেলা’ নয়, ‘যুদ্ধ’ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   বিএনপিকে পুরোপুরি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বলতে রাজি নন বলেও জানান শামীম ওসমান। দলটির মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বিএনপি বর্তমানে ভুল রাজনৈতিক পথে এগোচ্ছে।   সাক্ষাৎকারে আরও গুরুতর একটি অভিযোগ করেন শামীম ওসমান। তার দাবি, নারায়ণগঞ্জের চারটি স্থানে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ চলছে এবং এর মধ্যে দুটি মহিলা মাদ্রাসাও রয়েছে। কারা সেখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং কী উদ্দেশ্যে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।   বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আঞ্চলিক শক্তিগুলো বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতসহ উপমহাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ দাবিগুলোর পক্ষে সাক্ষাৎকারে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেননি তিনি।   দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। এখন নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট পাবে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই দাবির পক্ষে সাম্প্রতিক কোনো নির্ভরযোগ্য জাতীয় জনমত জরিপের তথ্য তিনি উল্লেখ করেননি।   শামীম ওসমানের এই প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে আবুল হাসান স্বজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় শেখ হাসিনা, শামীম ওসমানসহ কয়েক ডজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছিল।    চলতি বছরের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং অভিযোগ থাকা মানেই কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।    একসময় ‘খেলা হবে’ স্লোগানের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনায় আসা শামীম ওসমান এবার সেই স্লোগান থেকেই সরে এসে ‘যুদ্ধের’ ভাষা ব্যবহার করলেন। নিউইয়র্ক থেকে দেওয়া তার বক্তব্য একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার বার্তা এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার কঠোর অবস্থানের প্রকাশ হিসেবেই সামনে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৪:০
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্নাতক শেষ করার পর আনন্দঘন মুহূর্তে দুই শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমায় ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে আর্থিক সংকট

ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় আর্থিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা সতর্ক করেছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আয় কমে কর্মী ও কোর্সের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ কমেছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আশঙ্কা করছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভর্তি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।   কিংস কলেজ লন্ডনের উপাচার্য শিতিজ কাপুর বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সক্ষমতা ও কর্মীসংখ্যায় প্রভাব পড়বে। সাবেক বিশ্ববিদ্যালয়মন্ত্রী ডেভিড উইলেটসও সতর্ক করেছেন, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফি’র ওপর আরোপিত ৯২৫ পাউন্ডের কর পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই নীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণে যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল করছে।   আর্থিক চাপের প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটার কর্নওয়ালের পেনরিন ক্যাম্পাসে ভূগোলের কোর্স বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে কর্মী ও শিক্ষা কার্যক্রমে আরও কাটছাঁট হতে পারে।   বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠনগুলো সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমানোর নীতিতে অতিরিক্ত কড়াকড়ি যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাত ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৪:০
আদালতে কয়েদির পোশাকে জেরেমি উইলিয়ামস এবং বাঁ পাশে নিহত পাঁচ বছর বয়সী শিশু কামারি হল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আলাবামায় জর্জিয়ার যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে বৃহস্পতিবার আলাবামায় জর্জিয়ার বাসিন্দা জেরেমি উইলিয়ামসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। ২০২১ সালে পাঁচ বছর বয়সী কামারি হল্যান্ডকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন।   ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর জর্জিয়ার কলম্বাসে মায়ের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় কামারি। তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে শিশুটির মায়ের সঙ্গে উইলিয়ামসের যোগাযোগ হয়েছিল। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক ঘণ্টার যৌন নির্যাতনের বিনিময়ে শিশুটিকে ২ হাজার ৫০০ ডলারে উইলিয়ামসের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছিল।   তদন্তকারীরা উইলিয়ামসের মুঠোফোনের অবস্থান অনুসরণ করে আলাবামার ফেনিক্স সিটির একটি মোটেলে তাকে তার চাচার সঙ্গে আটক করেন। পরে তার ফোনে ১৩ ডিসেম্বর ধারণ করা ভিডিও পাওয়া যায়। তদন্তের সূত্র ধরে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির স্টোরেজ কক্ষ থেকে কামারির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   ২০২৪ সালের মার্চে উইলিয়ামস চারটি গুরুতর হত্যার অভিযোগসহ মরদেহ গোপন করা, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং অপরাধের ভিডিও ধারণের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তবে আলাবামার আইনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আগে জুরি ট্রায়াল বাধ্যতামূলক হওয়ায় পরবর্তী সময়ে জুরি তিন দিন ধরে সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে তাকে সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। পরে বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।   আদালতের কার্যক্রমে আরও উঠে আসে, ২০০৫ সালে আলাস্কায় নিজের এক মাস বয়সী মেয়েকে হত্যার অভিযোগও ছিল উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া পাঁচ বছর বয়সী সৎমেয়েসহ আরও কয়েকটি শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের তথ্যও আদালতে উপস্থাপন করা হয়।   কামারির বাবা কোরি হল্যান্ড মেয়েকে প্রাণবন্ত শিশু হিসেবে স্মরণ করেন। তিনি জানান, কামারি রাজকন্যার সাজ ও বিভিন্ন পোশাক নিয়ে খেলতে ভালোবাসত এবং অন্যদের হাসাত।   মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর আলাবামার গভর্নর কে আইভি ঘটনাটিকে ‘অশুভ’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অপরাধটির ভয়াবহতাই আলাবামায় মৃত্যুদণ্ডের বিধানের প্রয়োজনীয়তার কারণ।   এ ঘটনায় কামারির মা ক্রিস্টি সিপল শিশুটিকে যৌন পাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকার করে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ২:৪০
ইবে থেকে কেনা পুরোনো ক্যামেরায় পাওয়া ফিল্মের ছবি এবং সেগুলোর প্রকৃত মালিক খোঁজা ম্যাট টাইগে। ছবি: সংগৃহীত
ইবেতে কেনা পুরোনো ক্যামেরায় মিলল ২০ বছর আগের হারানো ছবি

ইবেতে কেনা একটি পুরোনো ক্যামেরায় পাওয়া ফিল্ম ডেভেলপ করার পর চমকে ওঠেন এক নারী। পরে ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে প্রায় ২০ বছর আগে তোলা সেই ছবির মানুষদের খুঁজে বের করা সম্ভব হয়। শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে পুরোনো সেই স্মৃতিগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   টেক্সাসের অস্টিনের বাসিন্দা ম্যাট টাইগে ২০২৪ সাল থেকে পুরোনো ছবি, পোস্টকার্ড ও ভিডিও টেপের প্রকৃত মালিকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এখন পর্যন্ত তিনি ১৫ সেট ছবি, দুটি ভিডিও টেপ ও কয়েকটি পোস্টকার্ড তাদের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন।   এ বছরের এপ্রিলে জার্মানির বার্লিনের এক নারী পুরোনো একটি ক্যামেরা কিনে তার ভেতরে ফিল্ম খুঁজে পান। ফিল্মটি ডেভেলপ করার পর সেখানে থাকা মানুষদের পরিচয় জানতে তিনি টাইগের সাহায্য চান। ক্যামেরাটি ১৯৯৬ সালের পর বাজারে আসা একটি ক্যানন মডেলের ছিল।   ছবিগুলোর সময়কাল নির্ধারণ করতে বিভিন্ন সূত্র খুঁজতে থাকেন টাইগে। একটি ছবিতে থাকা আরেকটি ক্যামেরার মডেল দেখে তিনি ধারণা করেন, ছবিগুলো ২০০৩ বা ২০০৪ সালের। এরপর ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বার দেখা হলে ছবিতে থাকা নারীরাই তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।   ছবির একজন ভিক্টোরিয়া লিসন জানান, ছবিগুলো যুক্তরাজ্যের লিডস শহরের একটি রেস্তোরাঁয় তোলা হয়েছিল। একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকের কাজ শেষ হওয়ার পর আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছবিগুলো তোলা হয় বলে জানান তিনি। প্রায় ২০ বছর পর ছবিগুলো দেখতে পেয়ে পুরোনো অনেক স্মৃতি ফিরে আসে তার।   লিসন জানান, ছবিগুলো তার বাবার ক্যানসারে অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর কিছুদিন আগের সময়ের স্মৃতি ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে ছবিগুলো তাকে তার আগের কর্মজীবনের কথাও মনে করিয়ে দেয়।   পরে টাইগে ছবিগুলো তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেন। মূল ছবিগুলোও তাদের কাছে পাঠানো হয়। দীর্ঘ সময় পর পুরোনো সহকর্মীদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ হওয়ার ঘটনাটিও লিসনের জন্য বিশেষ হয়ে ওঠে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ২:১৯
সমাবর্তনের পোশাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ড. নাহিয়ান বিন খালেদ। ছবি: সংগৃহীত
ঢাবি থেকে ইয়েল, অর্থনীতিতে নতুন যাত্রা ড. নাহিয়ানের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ড. নাহিয়ান বিন খালেদ যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টোরাল রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ইয়েল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ অন ইনোভেশন অ্যান্ড স্কেল বা ওয়াই-রাইজে উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করবেন তিনি। তার গবেষণার বড় একটি অংশজুড়ে থাকবে বাংলাদেশ।    সম্প্রতি মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারাল, ফুড অ্যান্ড রিসোর্স ইকোনমিকস থেকে প্রায়োগিক অর্থনীতিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন ড. নাহিয়ান। তার শিক্ষা ও গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।  ইয়েলের ওয়াই-রাইজে তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র হবে উন্নয়ন অর্থনীতি। বিশেষ করে কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ, অভিবাসন, সামাজিক সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের অভিযোজন নিয়ে কাজ করবেন তিনি। বাংলাদেশ ছাড়াও তানজানিয়া, নাইজেরিয়া ও কেনিয়ার বিভিন্ন উন্নয়ন সমস্যার ওপর তার পূর্ববর্তী গবেষণা রয়েছে।  নিজের নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে ড. নাহিয়ান জানিয়েছেন, ওয়াই-রাইজ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সমস্যাগুলো নিয়ে গবেষণা করে এবং সেখানে তার কাজের প্রধান ফোকাস হবে বাংলাদেশ। গবেষণার প্রয়োজনে তিনি কয়েক মাস বাংলাদেশে অবস্থান করে উন্নয়ন সহযোগী, নীতিনির্ধারক এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন।    ড. নাহিয়ানের গবেষণা আগ্রহের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষিতে প্রযুক্তি গ্রহণ, অভিবাসন, সামাজিক সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে থাকার সময়ও তিনি বাংলাদেশ ও তানজানিয়ায় প্রযুক্তি গ্রহণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা করেছেন।    পিএইচডির আগে উন্নয়ন গবেষণায়ও তার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা আইএফপিআরআই এবং ইনোভেশনস ফর পোভার্টি অ্যাকশনে কাজ করেছেন। বাংলাদেশে উন্নয়ন কর্মসূচির নকশা, বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়নসংক্রান্ত গবেষণায়ও তিনি যুক্ত ছিলেন।    তার প্রকাশিত গবেষণার মধ্যে বাংলাদেশের মৎস্য ও চিংড়ি ভ্যালু চেইনে কোভিড-১৯ পরবর্তী ধাক্কা ও স্থিতিস্থাপকতা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সক্ষমতা এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নিয়ে কাজ রয়েছে। কৃষি প্রযুক্তি ও নীতির প্রভাব নিয়েও একাধিক গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন তিনি।    পাঁচ বছরের পিএইচডি যাত্রা শেষ করার পর ড. নাহিয়ান বলেছেন, ডক্টরাল ডিগ্রির মূল্য শুধু একটি সনদে নয়। দীর্ঘ সময় ধরে একটি গবেষণা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করা, ভুল থেকে নতুনভাবে শুরু করা, ধৈর্য ধরে বিশ্লেষণ করা এবং জটিল সমস্যার উত্তর খোঁজার দক্ষতাকেই তিনি এই যাত্রার বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।    পিএইচডির সময় আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত গবেষকদের সঙ্গে কাজ ও মতবিনিময়ের সুযোগ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের বাইরে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা ও গবেষণা করতে গিয়ে নতুন একাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং পরিবার থেকে দূরে থাকার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন।   অর্থনীতিবিদদের আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারকে এবার বিশেষভাবে কঠিন বলেও উল্লেখ করেছেন ড. নাহিয়ান। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন গবেষণায় সুযোগ সংকুচিত হওয়ার মধ্যে ইয়েলের মতো প্রতিষ্ঠানে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।   ইয়েলে তার নতুন গবেষণা যাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে বাস্তব নীতিগত সমস্যার সমাধান। বাংলাদেশে অভিবাসন, কৃষি, সামাজিক সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজনের মতো বিষয়ে মাঠপর্যায়ের তথ্য ব্যবহার করে এমন গবেষণা করতে চান তিনি, যা নীতিনির্ধারণে কার্যকর প্রমাণ দিতে পারে।    ড. নাহিয়ানের ভাষায়, তার লক্ষ্য খুবই সরল: ভালো অর্থনীতি শেখা, ভালো গবেষণা করা এবং সেই গবেষণার মাধ্যমে মানুষের জীবন কিছুটা হলেও উন্নত করতে অবদান রাখা। ইয়েলে তার নতুন অধ্যায় সেই লক্ষ্যকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ২:২
লস অ্যাঞ্জেলেসের পালমডেলে ফস্টার কেয়ার ভিলেজ প্রকল্পের নির্মাণাধীন এলাকা ও ক্রিশ্চিয়ান বেল দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
আশ্রয়ের শিশুরা যেন ভাইবোনের থেকে বিছিন্ন না হয়, ২২ মিলিয়ন ডলারের গ্রাম গড়ছেন ক্রিশ্চিয়ান বেল

ক্যালিফোর্নিয়ার ফস্টার কেয়ার ব্যবস্থায় কোনো শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর যেন নিজের ভাইবোনকেও হারিয়ে না ফেলে, সেই লক্ষ্য নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে কাজ করছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা ক্রিশ্চিয়ান বেল। তার উদ্যোগে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির পালমডেলে গড়ে উঠছে বিশেষ একটি ফস্টার কেয়ার ভিলেজ, যেখানে একই পরিবারের একাধিক ভাইবোনকে একসঙ্গে রাখার ব্যবস্থা থাকবে।    বেলের এই উদ্যোগের শুরু ২০০৮ সালের দিকে। নিজের সন্তান হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফস্টার কেয়ার ব্যবস্থায় থাকা শিশুদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে গিয়ে তিনি আবিষ্কার করেন, অনেক ক্ষেত্রেই ফস্টার কেয়ারে প্রবেশের পর ভাইবোনদের আলাদা বাড়িতে পাঠানো হয়। পরিবার হারানোর ধাক্কার পাশাপাশি পরিচিত ভাই বা বোনের কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।    শুধু অর্থ দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে বেল দীর্ঘমেয়াদি একটি ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেন। পরে চিকিৎসক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক ড. এরিক এসরাইলিয়ানের সঙ্গে মিলে তিনি টুগেদার ক্যালিফোর্নিয়া নামে অলাভজনক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এ কাজে ফস্টার কেয়ার নিয়ে অভিজ্ঞ টিম ম্যাককরমিকও যুক্ত হন।    পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ দিতে অবশ্য দীর্ঘ সময় লেগেছে। জমি খোঁজা, সরকারি অনুমোদন, অর্থ সংগ্রহ, পরিকল্পনা তৈরি এবং কোভিড মহামারির কারণে নানা বাধা পেরিয়ে অবশেষে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পালমডেলে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ শুরু হয়।    প্রায় ৪ দশমিক ৭ একর জায়গার ওপর তৈরি হচ্ছে এই বিশেষ কমিউনিটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে ১২টি ফ্যামিলি হোম থাকবে। প্রতিটি বাড়িতে প্রশিক্ষিত ফুলটাইম ফস্টার প্যারেন্টের তত্ত্বাবধানে একই পরিবারের সর্বোচ্চ ছয় ভাইবোন একসঙ্গে থাকতে পারবে।    এখানেই শেষ নয়। প্রকল্পটিতে দুটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টও রাখা হচ্ছে। ফস্টার কেয়ার থেকে বয়সের কারণে বেরিয়ে আসা তরুণদের সাময়িক আবাসন এবং সন্তানদের সঙ্গে পুনরায় একত্রিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা জন্মদাতা বাবা-মায়ের থাকার জন্য এগুলো ব্যবহার করা হবে।    পুরো গ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে প্রায় ৭ হাজার বর্গফুটের একটি কমিউনিটি সেন্টার। শিশু ও ফস্টার পরিবারের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম, কাউন্সেলিং, শিক্ষা ও সহায়তামূলক সেবা দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটির জন্যও কেন্দ্রটি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে খোলা জায়গা, বাগান ও বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।    প্রকল্পটির ব্যয় প্রথমদিকে প্রায় ২২ মিলিয়ন ডলার ধরা হলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে মোট ব্যয় আরও বাড়ার কথা উঠে এসেছে। অর্থের পুরোটা ক্রিশ্চিয়ান বেল ব্যক্তিগতভাবে দিচ্ছেন না। সরকারি সহায়তা, বিভিন্ন দাতা এবং বেসরকারি অনুদানের সমন্বয়ে প্রকল্পটির অর্থায়ন হচ্ছে। ২০২২ সালে জমি কেনার জন্য পালমডে সিটি ও লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বোর্ড অব সুপারভাইজারস মিলিয়ে ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার সহায়তাও দিয়েছিল।   বেল নিজেও কখনো দাবি করেননি যে পুরো প্রকল্পটি তার নিজের অর্থে তৈরি হচ্ছে। বরং প্রায় দুই দশক ধরে পরিকল্পনাটি টিকিয়ে রাখা, সহযোগী ও দাতা খুঁজে বের করা এবং প্রশাসনিক বাধা অতিক্রম করে বাস্তব নির্মাণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই তার ভূমিকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক। ২০২৪ সালে নির্মাণকাজ উদ্বোধনের সময় তিনি বলেছিলেন, প্রকল্পটির প্রতিটি ধাপের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান এবং ভবিষ্যতে এমন আরও কমিউনিটি তৈরি হওয়ার আশা করেন।    প্রকল্পটি এখন দৃশ্যমান বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১২টি বাড়ির কাঠামো নির্মাণ অনেকটাই এগিয়েছে। টুগেদার ক্যালিফোর্নিয়ার নিজস্ব পরিকল্পনায় ২০২৬ সালেই বাসিন্দাদের সেখানে ওঠার সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    ক্রিশ্চিয়ান বেলের কাছে এই উদ্যোগের মূল বিষয়টি আবাসন নয়, বরং পরিবার। একটি শিশু যখন ফস্টার কেয়ারে যায়, তখন নিজের বাড়ি ও বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিজ্ঞতাই তার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। এর সঙ্গে যেন তাকে ভাইবোনদেরও হারাতে না হয়, সেই ধারণাই টুগেদার ক্যালিফোর্নিয়ার পুরো মডেলের ভিত্তি।    ‘ব্যাটম্যান’ চরিত্রে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ক্রিশ্চিয়ান বেল এবার পর্দার বাইরের একটি দীর্ঘ লড়াইকে বাস্তবে রূপ দিতে চলেছেন। ২০০৮ সালের একটি ভাবনা থেকে শুরু হওয়া পথটি প্রায় ১৮ বছর পর এমন একটি গ্রামে পরিণত হচ্ছে, যার প্রধান উদ্দেশ্য একটাই, ফস্টার কেয়ারে গেলেও ভাইবোন যেন একে অপরকে হারিয়ে না ফেলে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১:৫২
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানান ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি গ্রাম ঘেরাওকারীদের ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাসী’ বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি ফিলিস্তিনি গ্রাম এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিকের বাড়ি ঘিরে রাখা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। তাদের কর্মকাণ্ডকে অপরাধ ও সন্ত্রাস হিসেবে নিন্দা জানিয়ে হাকাবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীকে ওই এলাকা থেকে হামলাকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।   ঘটনাটি ঘটেছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা গ্রামে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা কয়েক দিন ধরে তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে রেখেছিল। এর একটি বাড়ি ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন পরিবারের।   হাকাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীকে কুসরা গ্রাম এবং এক মার্কিন নাগরিকের বাড়ি ঘিরে রাখা ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাসীদের’ সরিয়ে দিতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি ঘটনাটিকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং সন্ত্রাস হিসেবে বর্ণনা করেন।   ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত হাকাবির কাছ থেকে এমন বক্তব্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষেও তিনি অতীতে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। ফলে বসতি স্থাপনকারীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘সন্ত্রাসী’ শব্দ ব্যবহার করাকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক কড়া প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে বসতি স্থাপনকারীরা কুসরার ওই বাড়িগুলোর আশপাশে অবস্থান নেয়। তারা পাথর ছোড়ে, একটি পাথরের দেয়াল ভাঙার চেষ্টা করে এবং বাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের বাইরে বের হতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।   ওহাইওতে থাকা বাড়ির মালিক লুই রিদি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, তার ৪৮ বছর বয়সী ভাই ও ভাতিজা বাড়িটি রক্ষার জন্য ভেতরে অবস্থান করছিলেন। কয়েক দিন তারা সেখান থেকে বের হতে পারেননি এবং খাবার ও পানির স্বাভাবিক সরবরাহ থেকেও বিচ্ছিন্ন ছিলেন।   স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়িগুলোর পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পাঁচ রাত ধরে কয়েকটি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এলাকাটিকে ক্লোজড মিলিটারি জোন ঘোষণা করে এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে। ইসরায়েলি বাহিনী বসতি স্থাপনকারীদের তৈরি কিছু অস্থায়ী স্থাপনাও সরিয়ে দেয়। তবে সেনাবাহিনীর পদক্ষেপের পরও বসতি স্থাপনকারীরা একাধিকবার ফিরে আসে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।   ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত একজনকে আটক করা হয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সহিংসতা ঠেকাতে তারা কাজ করছে।   কুসরা পশ্চিম তীরের এমন একটি এলাকা যেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘাতের ঘটনা আগেও ঘটেছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থার তথ্যেও গ্রামটিকে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার শিকার এলাকাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   চলতি বছর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এক হাজারের বেশি বসতি স্থাপনকারী হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর, যানবাহন, কৃষিজমি ও জলপাই গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার কারণে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনি পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিরা বৃহত্তর বসতি স্থাপনকারী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে না এবং আইন ভাঙলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   হাকাবিও এর আগে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার নিন্দা জানালেও তা পুরো ইসরায়েলি সমাজ বা সব বসতি স্থাপনকারীর প্রতিনিধিত্ব করে না বলে মন্তব্য করেছিলেন।   কুসরার ঘটনায় তার এবারের বক্তব্য আরও কড়া। বিশেষ করে একজন মার্কিন নাগরিকের পরিবারের বাড়ি সরাসরি অবরোধের শিকার হওয়ায় ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বেড়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ওপর সরাসরি চাপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।   ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার মধ্যেই ঘটনাটি সামনে এলো। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করে। ইসরায়েল এই অবস্থানের বিরোধিতা করে আসছে।   এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের মুখে ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাসী’ এবং ‘সন্ত্রাস’ শব্দের ব্যবহার পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে ওয়াশিংটনের বিরল ও কঠোর প্রকাশ্য নিন্দা হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১:৪১
ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ডি-তে আলাদা অজু স্টেশন বসানো হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
মুসলিম যাত্রীদের জন্য সুখবর, অজুর জন্য বিমানবন্দরে বসছে বিশেষ ব্যবস্থা

মুসলিম যাত্রীদের নামাজের আগে অজু করার সুবিধা দিতে ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ডি-এর পুরুষ ও নারীদের রেস্টরুমে আলাদা অজু স্টেশন বসানো হচ্ছে। প্রায় ৩ লাখ ডলারের এই প্রকল্প চলতি বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা।   টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশনের নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটি গত ৩১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। টার্মিনাল ডি-এর কনকোর্স লেভেলে থাকা একটি পুরুষদের রেস্টরুমে একটি এবং একটি নারীদের রেস্টরুমে আরেকটি অজু স্টেশন স্থাপন করা হবে।   প্রকল্পের পুরো অর্থ আসছে বেসরকারি তহবিল থেকে। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ডলার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ নতুন অজু স্টেশনগুলোর কাজ সম্পন্ন হবে।   ইসলামে নামাজের আগে অজু করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিধান। অজুর সময় মুখ, হাত ও পাসহ শরীরের নির্দিষ্ট অংশ পানি দিয়ে ধুতে হয়। সাধারণ রেস্টরুমের উঁচু সিঙ্কে পা ধোয়া অনেক যাত্রীর জন্য অসুবিধাজনক। এ কারণে নিচু উচ্চতায় বিশেষভাবে তৈরি অজু স্টেশন ব্যবহার করা হয়।   ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও রেস্টরুমের অবকাঠামো রক্ষার বিষয়টিও নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে রয়েছে। সাধারণ সিঙ্কে পা ধোয়ার সময় মেঝেতে পানি পড়ে সেটি পিচ্ছিল হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে সিঙ্কের কাউন্টারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে ক্ষতির ঝুঁকিও থাকে। আলাদা অজু স্টেশন থাকলে এই সমস্যাগুলো কমানো সম্ভব হবে।   তবে ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের অজুর ব্যবস্থা একেবারেই নতুন নয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনাল ডি-এর গেট ডি৪০-এর কাছে থাকা ইন্টারফেইথ চ্যাপেল ২০১৯ সালে নতুনভাবে চালুর সময়ই এর পাশে দুটি অজু স্টেশন স্থাপন করা হয়েছিল। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এবার সরাসরি টার্মিনাল ডি-এর সাধারণ পুরুষ ও নারীদের রেস্টরুমে আলাদা অজু স্টেশন যুক্ত হচ্ছে।   টার্মিনাল ডি মূলত ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনের ফ্লাইট ওঠানামা করে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসলিম যাত্রীদেরও প্রতিদিন এই টার্মিনাল ব্যবহার করতে হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে এ ধরনের সুবিধা ডালাসেই প্রথম নয়। শিকাগো ও'হেয়ারসহ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য অজু করার বিশেষ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের জন্য ইন্টারফেইথ প্রেয়ার স্পেস রয়েছে।   ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের যাত্রী ও কর্মীদের জন্য ইন্টারফেইথ চ্যাপেল পরিচালিত হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনাল ডি-এর চ্যাপেলে শুক্রবার মুসলিমদের জুমার নামাজের ব্যবস্থাও রয়েছে।   নতুন অজু স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ ধর্মীয় সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও অন্যরা এটিকে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখছেন।   প্রকল্পের সরকারি নথিতে অবশ্য এর পরিধি স্পষ্ট। টার্মিনাল ডি-এর বিদ্যমান রেস্টরুমে পুরুষ ও নারী যাত্রীদের জন্য দুটি আলাদা অজু স্টেশন যোগ করাই এর মূল কাজ। এর ফলে মুসলিম যাত্রীরা নামাজের আগে অজু করার জন্য সাধারণ সিঙ্ক ব্যবহারের পরিবর্তে নির্ধারিত জায়গা ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১:২৯
মেট্রো আটলান্টায় আবাসনের সীমিত সরবরাহ এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের ধীরগতি মানুষের স্থানান্তরে বাধা দিচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টায় বাড়ির ভয়াবহ সংকট, দামও চড়া, কমছে নতুন মানুষের আগমন

যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বর্ধনশীল মেট্রো এলাকাগুলোর অন্যতম আটলান্টায় জনসংখ্যা এখনও বাড়ছে, তবে সেই বৃদ্ধির গতি কমে এসেছে। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের সর্বশেষ হিসাবে, গত এক বছরে ১১ কাউন্টির মেট্রো আটলান্টায় প্রায় ৫৩ হাজার ৭০০ নতুন বাসিন্দা যোগ হলেও বাড়ির সীমিত সরবরাহ, চড়া দাম এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের ধীরগতি মানুষের স্থানান্তরে বাধা তৈরি করছে।   আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের ২০২৬ সালের পপুলেশন এস্টিমেট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১১ কাউন্টির আটলান্টা অঞ্চলে ৫৩ হাজার ৬৯০ জন নতুন বাসিন্দা যোগ হয়েছেন। এতে অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার।   এক বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ। আগের বছর এই বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং তখন নতুন বাসিন্দা যোগ হয়েছিল ৬৪ হাজার ৪০০ জন। অর্থাৎ আটলান্টায় মানুষ আসা বন্ধ হয়নি, কিন্তু আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার ৭০০ কম মানুষ যুক্ত হয়েছে।   দীর্ঘমেয়াদি হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেট্রো আটলান্টার গড় বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১০-এর দশকে এই হার ছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ২ শতাংশ এবং ১৯৯০-এর দশকে ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।   আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার পেছনে আবাসন সংকটকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অঞ্চলে বাড়ির চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম উঁচু রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন বাড়ি নির্মাণের পারমিট কমে যাওয়া এবং চাকরি বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে আসাও প্রভাব ফেলছে।   বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য এলাকা থেকে আটলান্টায় স্থানান্তর হতে আগ্রহীদের ওপর বাড়ির চড়া দাম প্রভাব ফেলছে। একসময় তুলনামূলক কম খরচে বাড়ি কেনা এবং জীবনযাপনের সুযোগ আটলান্টার অন্যতম আকর্ষণ ছিল। কিন্তু জনসংখ্যা ও আবাসনের চাহিদা বাড়তে থাকায় সেই সুবিধা আগের মতো নেই।   নতুন বাড়ি নির্মাণের তথ্যেও সংকটের চিত্র স্পষ্ট। ২০২৫ সালে ১১ কাউন্টির আটলান্টা অঞ্চলে মোট ২৪ হাজার ১৫টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এটি ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ কম।   বর্তমান নির্মাণের হার দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায়ও অনেক নিচে। ১৯৮০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে বছরে গড়ে প্রায় ৩৩ হাজার ১৫০টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান আবাসন নির্মাণ সেই ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে।   তবে পুরো মেট্রো এলাকার বৃদ্ধির গতি কমলেও সব জায়গায় পরিস্থিতি একই নয়। গত এক বছরে ১১টি কাউন্টির প্রতিটিতেই জনসংখ্যা বেড়েছে। ফুলটন কাউন্টিতে বৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর ফরসাইথ কাউন্টিতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং হেনরি কাউন্টিতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ জনসংখ্যা বেড়েছে।   আটলান্টা শহরেও নতুন বাসিন্দা যোগ হওয়া অব্যাহত রয়েছে। গত এক বছরে শহরটিতে প্রায় ৬ হাজার ৯০০ নতুন বাসিন্দা যোগ হয়ে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে।   আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের মতে, মিডটাউন এবং আটলান্টা বেল্টলাইনের আশপাশে মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং ডেভেলপমেন্ট শহরের সাম্প্রতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহরের কেন্দ্র ও আশপাশে অ্যাপার্টমেন্ট এবং অন্যান্য মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং নির্মাণের কারণে আটলান্টা শহরের বৃদ্ধির হার আগের কয়েক দশকের তুলনায় বেশি রয়েছে।   ২০২৫ সালে আটলান্টা শহরেই ৫ হাজার ৬২২টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু হয়েছে, যা অঞ্চলটির মধ্যে সর্বোচ্চ। আটলান্টা শহরের বাইরের ফুলটন কাউন্টি এলাকায় ইস্যু হয়েছে আরও ৪ হাজার ৩৮টি পারমিট।   ফুলটন কাউন্টিতে মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং নির্মাণের তৎপরতাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে কাউন্টিটিতে এ ধরনের আবাসনের জন্য ২ হাজার ২৫৫টি পারমিট ইস্যু হয়। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ১ হাজার ৩২২। স্যান্ডি স্প্রিংস, জনস ক্রিক, ইউনিয়ন সিটি ও কলেজ পার্কে এর বড় অংশের নির্মাণ কার্যক্রম হয়েছে।   আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন বলছে, অঞ্চলটির অর্থনীতি এখনও শক্তিশালী এবং নতুন বাসিন্দা আসছেন। তবে ভবিষ্যতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী বাড়ি তৈরি করতে না পারলে হাউজিং খরচ আরও বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।   এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন ইতিমধ্যে অঞ্চলব্যাপী একটি হাউজিং স্ট্র্যাটেজি তৈরির কাজ শুরু করেছে। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য বিভিন্ন আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে আরও বাড়ি তৈরি, বিদ্যমান অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং সংরক্ষণ এবং বাসিন্দাদের চাকরি ও প্রয়োজনীয় সেবার কাছাকাছি থাকার সুযোগ বাড়ানো।   সর্বশেষ জনসংখ্যার হিসাব তাই আটলান্টার জন্য দুই ধরনের বাস্তবতা সামনে আনছে। অঞ্চলটিতে মানুষ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত বাড়ি তৈরি না হওয়া এবং হাউজিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় একসময়কার দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি ধীরে ধীরে কমে আসছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১:১৮
ইমিগ্রেশন চেক-ইনে হাজির হওয়ার পর অনেকের পায়ে জিপিএস অ্যাঙ্কেল মনিটর পরিয়ে দিচ্ছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত
টিপিএস হারানোদের আইসিই চেক-ইনে ডেকে পরানো হচ্ছে অ্যাঙ্কেল মনিটর! নতুন নজরদারিতে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রে টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস হারানো হাইতিয়ানদের অনেককে সরাসরি চেক-ইনে হাজির হতে বলছে আইসিই। ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চেক-ইনে হাজির হওয়ার পর অনেকের পায়ে জিপিএস অ্যাঙ্কেল মনিটর পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে ইমিগ্রেশন কোর্টে তাদের মামলার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা যায়।   জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতির টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সুযোগ দেওয়ার পর তিন লাখের বেশি হাইতিয়ানের ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি বদলে যায়। তবে টিপিএস হারানো মানেই প্রত্যেক ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে ডিপোর্টেশনের মুখে পড়বেন, বিষয়টি এমন নয়। যাদের অ্যাসাইলাম আবেদন, অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পৃথক আইনি ভিত্তি রয়েছে, তাদের পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচিত হতে পারে।   দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিই হাইতিয়ানদের চেক-ইনের জন্য ডেকে পাঠাচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে আটক না করে অ্যাঙ্কেল মনিটরের মাধ্যমে তাদের চলাচল পর্যবেক্ষণ করছে। ইমিগ্রেশন বিচারক তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ কোনো ভিত্তি আছে কি না, যেমন অ্যাসাইলাম ক্লেইম, সেটি নির্ধারণ না করা পর্যন্ত এই নজরদারি চলতে পারে।   ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন সিনিয়র কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক মানুষকে ডিটেনশন সেন্টারে রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকাও অ্যাঙ্কেল মনিটর ব্যবহারের একটি কারণ। টিপিএস শেষ হওয়ার ফলে কয়েক লাখ হাইতিয়ান এখন সম্ভাব্য ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের আওতায় পড়েছেন।   অ্যাঙ্কেল মনিটর মূলত আইসিইর অলটারনেটিভস টু ডিটেনশন ব্যবস্থার একটি অংশ। কাউকে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে না রেখে নির্দিষ্ট শর্তে বাইরে থাকার সুযোগ দিয়ে তার অবস্থান পর্যবেক্ষণের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এটি পরানো মানেই ওই ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এমন নয়। ইমিগ্রেশন মামলা সাধারণত সিভিল আইনের আওতায় পরিচালিত হয়।   ২৫ জুন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়ে হাইতি ও সিরিয়ার টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকরের পথ খুলে দেয়। আদালতের সিদ্ধান্তে প্রায় সাড়ে তিন লাখ হাইতিয়ান এবং ছয় হাজারের বেশি সিরিয়ান সরাসরি প্রভাবিত হন।   টিপিএস এমন একটি মানবিক ইমিগ্রেশন প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো গুরুতর সংকটের কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকরা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অনুমতি পান। হাইতিতে ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দেশটির নাগরিকদের জন্য প্রথম টিপিএস চালু করা হয়েছিল।   টিপিএস নিজে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের সরাসরি পথ নয়। তবে একজন টিপিএসধারীর একই সময়ে অ্যাসাইলাম, পারিবারিক পিটিশন বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন সুবিধার আবেদন থাকতে পারে। ফলে টিপিএস শেষ হলেও অন্য বৈধ ভিত্তি থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ থাকতে পারে।   এই কারণেই আইসিই চেক-ইনে ডাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কারও অ্যাসাইলাম ক্লেইম বা অন্য কোনো বৈধ আবেদন থাকলে তা ইমিগ্রেশন কোর্টে বিবেচিত হতে পারে। বিচারক শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনি ভিত্তি রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করবেন।   হাইতিয়ানদের টিপিএস বাতিল এমন সময়ে কার্যকর হচ্ছে, যখন দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, গ্যাং সহিংসতা এবং মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে সামনে রেখে ইমিগ্র্যান্ট অধিকার সংগঠনগুলো হাইতিয়ানদের ডিপোর্ট করার বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হচ্ছে, টিপিএস একটি সাময়িক কর্মসূচি এবং কোনো দেশের জন্য এই সুরক্ষা অনির্দিষ্টকাল চালু থাকার কথা নয়।   টিপিএস হারানো হাইতিয়ানদের মধ্যে যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন ভিত্তি নেই, তারা এখন আটক ও ডিপোর্টেশনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তবে অ্যাঙ্কেল মনিটর পরানো বা আইসিই চেক-ইনে হাজির হওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সঙ্গে সঙ্গেই ডিপোর্ট করা হবে। ইমিগ্রেশন কোর্টে চলমান মামলা এবং ব্যক্তির অন্য কোনো বৈধ ক্লেইম থাকলে তার ফলাফলের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করতে পারে।   ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিরা টিপিএস হারানো ব্যক্তিদের আইসিই চেক-ইন বা কোর্ট হিয়ারিং এড়িয়ে না গিয়ে নিজেদের কেসের বর্তমান অবস্থা এবং অন্য কোনো ইমিগ্রেশন সুবিধার যোগ্যতা আছে কি না, তা দ্রুত যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ একই টিপিএস প্রোগ্রামের আওতায় থাকলেও প্রত্যেক ব্যক্তির ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি ও আইনি বিকল্প এক নয়।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ০:৫৬
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবি: সংগৃহীত
তিন মাস ধরে দুধ নেই! মার্কিন যুদ্ধ জাহাজে খাবার সংকটে নাবিকদের আর্তনাদ

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট এবং নাবিকদের মানসিক চাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাজে থাকা এক নাবিকের পরিবারের কাছে পাঠানো বার্তায় দাবি করা হয়েছে, তিন মাস ধরে তারা দুধ পাননি, তাজা খাবারের সরবরাহও অত্যন্ত সীমিত। কখনো কখনো জাহাজে পৌঁছানো মাংসও নষ্ট অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে।   দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নাবিকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া থেকে তাকে রক্ষা করতেই পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। পরিবারের এক সদস্যের মাধ্যমে তার পাঠানো বার্তাগুলো সংবাদমাধ্যমের কাছে পৌঁছায়।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত বছরের নভেম্বরে প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও সামরিক সদস্য নিয়ে মোতায়েন হয়। চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে মোতায়েন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণে সেটি কয়েক দফা দীর্ঘ হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং স্বাভাবিকের তুলনায় কম পোর্ট কলের কারণে জাহাজের নাবিক ও তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।   পরিবারের কাছে পাঠানো একটি বার্তায় ওই নাবিক জানান, সরবরাহকারী জাহাজ থেকে তাজা ফল ও অন্যান্য দ্রুত নষ্ট হওয়া খাবার নিয়মিত পৌঁছানো যাচ্ছে না। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসব খাবার পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে মূলত হিমায়িত মাংসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।   আরেকটি বার্তার সঙ্গে একটি পাত্রে রাখা সিরিয়ালের ছবি পাঠান তিনি। সেখানে দুধ ছাড়াই সিরিয়াল খাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, তিন মাস ধরে দুধ পাননি।   শুধু খাবারের সংকট নয়, দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে নাবিকদের হতাশার কথাও উঠে এসেছে ওই বার্তাগুলোতে। নাবিকের দাবি, আগে বহুবার মোতায়েন হওয়া সহকর্মীদের কেউ কেউ বর্তমান পরিস্থিতিকে তাদের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করছেন। পরিবার থেকে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় দূরে থাকতে হওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে।   জাহাজটির পরিস্থিতি নিয়ে নাবিকদের পরিবারের অভিযোগ অবশ্য শুধু এসব ব্যক্তিগত বার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মিলিটারি টাইমস এবং স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে খাবার ও পানির সরবরাহ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মেইল পৌঁছাতে বিলম্ব এবং মানসিক চাপের বিষয়ে পরিবারের উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।   সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কয়েকজন নাবিকের ওভারবোর্ডে যাওয়ার ঘটনার অভিযোগ ঘিরে। নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ মোতায়েনের মধ্যে একাধিক নাবিক জাহাজ থেকে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে মার্কিন নৌবাহিনী নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি এবং বর্তমান মোতায়েনে আত্মহত্যার চিন্তা বা আত্মহত্যার চেষ্টার রিপোর্ট বেড়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে।   পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রায় ২০০ পরিবারের সদস্য সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে নেভাল এয়ার স্টেশন নর্থ আইল্যান্ডে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি টাউন হল বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে খাবার, পানি, মেইল, জাহাজের পরিবেশ এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ জানান তারা।   নৌবাহিনীর কর্মকর্তারাও জাহাজে কিছু লজিস্টিক সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে টয়লেট বন্ধ হয়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের অভাবে শাওয়ার এলাকায় ছত্রাক তৈরি হওয়া এবং তাজা ফল ও মেইল পৌঁছাতে বিলম্বের মতো সমস্যা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।   মার্কিন নৌবাহিনী বলেছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্ব নাবিকদের মানসিক প্রস্তুতি ও সুস্থতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। জাহাজে কাউন্সেলর, চ্যাপলেইন, মেডিক্যাল কর্মী এবং অন্যান্য সহায়তাও রয়েছে।   অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জাহাজটির পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। পানামা সফরের সময় তিনি বলেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতিকে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে তা পুরো পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন নয়। তার ভাষ্য, মোতায়েন থাকা প্রতিটি জাহাজ ও ক্রুকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে প্রতিরক্ষা বিভাগ। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কিছু মোতায়েন অন্যগুলোর তুলনায় দীর্ঘ হয় এবং কম পোর্ট কলের মধ্যে নাবিকদের কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে হয়।   এদিকে দীর্ঘ মোতায়েন শেষে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স জানিয়েছে, ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে এবং সেটি আব্রাহাম লিংকনের জায়গা নেবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তন আগে থেকেই পরিকল্পিত রোটেশনের অংশ।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে সমুদ্রে রয়েছে এবং এর মোতায়েন ইতিমধ্যে আট মাস ছাড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় পোর্ট কল ছাড়া সমুদ্রে অবস্থান, সরবরাহ সংকটের অভিযোগ এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ এখন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের নজরেও এসেছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতা পেন্টাগনের কাছে জাহাজটির পরিস্থিতি এবং নাবিকদের জন্য কী ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন।   নৌবাহিনী বলছে, নাবিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়েই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে জাহাজ থেকে আসা অভিযোগ, পরিবারের উদ্বেগ এবং দীর্ঘায়িত মোতায়েনের কারণে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের পরিস্থিতি নিয়ে চাপ ও প্রশ্ন দুটিই বাড়ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ০:৪১
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তে পুরোনো স্টিম ক্যাটাপল্টে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ছবি: সংগৃহীত
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বাদ দিয়ে স্টিম ব্যবস্থায় ফিরতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে ট্রাম্পের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের বিমানবাহী রণতরীতে যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট ব্যবস্থা বাদ দিয়ে পুরোনো স্টিম ক্যাটাপল্টে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নির্মাণাধীন জেরাল্ড আর. ফোর্ড ক্লাসের বিমানবাহী রণতরীর নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এতে বিপুল অতিরিক্ত ব্যয় এবং নির্মাণে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।   বৃহস্পতিবার একটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি মেমোরেন্ডামে স্বাক্ষর করে ট্রাম্প এই নির্দেশ দেন। রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং ইউএসএনআই নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্দেশনার আওতায় ফোর্ড ক্লাসের চতুর্থ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস ডরিস মিলার থেকে পরিবর্তন শুরু হওয়ার কথা। পরবর্তী রণতরীগুলোতেও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেম বা ইএমএএলএসের পরিবর্তে স্টিম ক্যাটাপল্ট ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হবে।   তবে ফোর্ড ক্লাসের প্রথম তিনটি রণতরীতে ইএমএএলএস থাকবে। এর মধ্যে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ইতিমধ্যে অপারেশনাল এবং পরবর্তী রণতরীগুলোর নির্মাণ ও পরীক্ষা বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।   বিমানবাহী রণতরীর স্বল্প দৈর্ঘ্যের ফ্লাইট ডেক থেকে ভারী যুদ্ধবিমানকে দ্রুত আকাশে তুলতে ক্যাটাপল্ট ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো নিমিৎজ ক্লাসের রণতরীগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে স্টিম ক্যাটাপল্ট ব্যবহৃত হয়েছে। নতুন ফোর্ড ক্লাসে এর পরিবর্তে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক শক্তিনির্ভর ইএমএএলএস চালু করা হয়।   মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইএমএএলএসের উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিমান আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে উৎক্ষেপণ করা, রক্ষণাবেক্ষণের চাপ কমানো এবং পুরোনো স্টিম ব্যবস্থার তুলনায় কম জনবল ব্যবহার করা। বিভিন্ন ধরনের ও ওজনের বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থাটি বেশি নমনীয় হওয়ার কথা।   তবে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইএমএএলএসের সমালোচক। প্রথম মেয়াদ থেকেই তিনি স্টিম ক্যাটাপল্টকে তুলনামূলকভাবে সহজ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরে আসছেন। ২০১৭ সালেও তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, নৌবাহিনীর নতুন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ব্যবস্থার পরিবর্তে স্টিম প্রযুক্তিতে ফিরে যাওয়া উচিত।   এবার সেই অবস্থানকে আনুষ্ঠানিক নীতিতে রূপ দিলেন তিনি। তবে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা প্রযুক্তিগতভাবে সহজ হবে না। কারণ ফোর্ড ক্লাসের রণতরীগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ফ্লাইট ডেকের নিচের বিভিন্ন অবকাঠামো ইএমএএলএসকে কেন্দ্র করে ডিজাইন করা হয়েছে।   সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ইউএসএস ডরিস মিলারকে ঘিরে। ইএমএএলএস নির্মাতা জেনারেল অ্যাটমিকস জানিয়েছে, জাহাজটির জন্য সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই পর্যায়ে নকশা পরিবর্তন করলে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ, নির্মাণসূচিতে বিলম্ব এবং বিভিন্ন সিস্টেম সমন্বয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। পুরো পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় আরও বড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ স্টিম ক্যাটাপল্টের জন্য রণতরীর অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নতুন করে ডিজাইন ও স্থাপন করতে হবে।   স্টিম ব্যবস্থায় ফিরে গেলে জনবলের প্রয়োজনও বাড়তে পারে। আধুনিক ইএমএএলএস তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিল বিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় নাবিকের সংখ্যা কমানো। এমন সময়ে এই পরিবর্তন আসছে, যখন মার্কিন নৌবাহিনী বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনবল ও জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত চাপ মোকাবিলা করছে।   ট্রাম্পের নির্দেশ শুধু ক্যাটাপল্ট পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউএসএনআই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নীতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানো, সাবমেরিন মেরামতের সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং একটি নতুন সরকারি নেভাল শিপইয়ার্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিদেশি মিত্রদের জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতাকে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রয়োজনের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।   তবে ক্যাটাপল্ট পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ বিশ্বের অন্যান্য বড় নৌ শক্তি উল্টো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে। চীন তার নতুন ফুজিয়ান বিমানবাহী রণতরীতে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। ফ্রান্সও ভবিষ্যতের বিমানবাহী রণতরীর জন্য একই ধরনের প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হচ্ছে, যুদ্ধের সময় অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তির চেয়ে দীর্ঘদিন পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা বেশি কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে বর্তমান প্রযুক্তি পরিবর্তনের বিরোধীরা বলছেন, ফোর্ড ক্লাসের নকশা অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পর এমন পরিবর্তন করলে খরচ বাড়ার পাশাপাশি জাহাজগুলো নৌবাহিনীর হাতে পৌঁছাতেও আরও সময় লাগতে পারে।   এখন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও নৌবাহিনীকে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। ফলে ইউএসএস ডরিস মিলারের নকশায় ঠিক কতটা পরিবর্তন আসবে, এর জন্য কত অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে এবং জাহাজটির নির্মাণসূচি কতটা পিছিয়ে যাবে, সেসব বিষয় পরবর্তী ধাপে স্পষ্ট হওয়ার কথা।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ০:২৯
তদন্তে উঠে এসেছে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় একাধিক ত্রুটির অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে দাঁতের চিকিৎসার সময় অতিরিক্ত চেতনানাশক প্রয়োগে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ডেন্টিস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চিকিৎসকের চরম অবহেলায় চার বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের ভুলে মাত্রাতিরিক্ত চেতনানাশক বা সিডেটিভ প্রয়োগের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওই দন্ত চিকিৎসককে (ডেন্টিস্ট) গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।   স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেডিএফডব্লিউ (KDFW)-এর প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, নিহত শিশুটির নাম আইথানা আরিয়াগা। গত ১ এপ্রিল টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় অবস্থিত 'কাডল কিডস ডেন্টাল' নামের একটি ক্লিনিকে জিহ্বার চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে গিয়েছিল তার পরিবার। সেখানে ৪৮ বছর বয়সী দন্ত চিকিৎসক ক্রিশেল হেম্পিল শিশুটির চিকিৎসা করছিলেন। চিকিৎসা শুরুর আগে তিনি আইথানাকে মেপেরিডিন (যা ডেমেরল নামেও পরিচিত) নামক একটি চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তিনি শিশুটির শরীরে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় এই ওষুধ পুশ করেছিলেন।   চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক ক্রিশেল হেম্পিল শিশুটি জ্ঞান ফিরলে তাকে খাওয়ার জন্য একটি পপসিকল (বরফ আইসক্রিম) এগিয়ে দেন। কিন্তু তখনই শিশুটির মাথা পেছনের দিকে ঢলে পড়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে হেম্পিল এবং ক্লিনিকে উপস্থিত অন্য একজন ডেন্টিস্ট মিলে দ্রুত শিশুটিকে সিপিআর (CPR) দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং জরুরি সেবায় (৯১১) কল করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   পরবর্তীতে তদন্তে নেমে মেডিকেল পরীক্ষকরা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেন। তারা জানান, চিকিৎসক হেম্পিল শিশু আইথানাকে যে পরিমাণ মেপেরিডিন প্রয়োগ করেছিলেন, তা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্যও যথেষ্ট বিষাক্ত এবং বিপজ্জনক।   তদন্তকারী কর্মকর্তারা আরও জানান, শিশুটির যখন জ্ঞান ফিরছিল না, তখন তাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য হেম্পিলের 'নারক্যান' ব্যবহার করা উচিত ছিল, কিন্তু তিনি ভুল করে 'ফ্লুমাজেনিল' নামের অন্য একটি ওষুধ ব্যবহার করেন। এছাড়া, শিশুটির নাড়ি বা পালস সচল থাকা সত্ত্বেও তিনি পালস পরীক্ষা করার জন্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে এইডি (AED) মেশিন ব্যবহার করেছিলেন। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো, মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগের কারণে শিশুটির যে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল, চিকিৎসক হিসেবে হেম্পিল তা খেয়াল করতেই সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।   চিকিৎসায় এমন ভয়াবহ অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর গত ১৫ জুলাই (বুধবার) পুলিশ চিকিৎসক ক্রিশেল হেম্পিলকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে একটি শিশুকে গুরুতর শারীরিক আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।   ফোর্ট ওয়ার্থ পুলিশের মুখপাত্র ব্র্যাড পেরেজ সংবাদমাধ্যম কেডিএফডব্লিউ-কে জানিয়েছেন, এই ঘটনার আগে চিকিৎসক হেম্পিলের বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ বা রেকর্ড ছিল না এবং টেক্সাস স্টেট বোর্ড অফ ডেন্টাল এক্সামিনার্সের অধীনে তার একটি সক্রিয় লাইসেন্সও ছিল।   এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুলিশের এই মুখপাত্র অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ দিয়ে বলেন, "আমি একটি বিষয় সবাইকে পরামর্শ দেব, যদি আপনার সন্তানের কোনো চিকিৎসার সময় আপনি ভেতরে থাকতে চান, তবে সে বিষয়ে জোরালো দাবি জানাবেন। আমি বিশ্বাস করি, এই শিশুটির মা হয়তো ভেতরে গিয়ে সন্তানের অবস্থা দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু চিকিৎসা চলার কারণে তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। মা যদি ভেতরে থাকতেন, তবে হয়তো তিনি এমন কিছু লক্ষণ খেয়াল করতে পারতেন, যা ওই সময় চিকিৎসক বুঝতে পারেননি।"   এই ঘটনায় পুরো ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অভিভাবকরা শিশুদের চিকিৎসায় চিকিৎসকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার দাবি তুলেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ০:১৮
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিলের হার বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল, ভিসাধারীদের জরুরী ৫ করণীয়

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগসহ বিভিন্ন কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাম্প্রতিক হিসাবে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে অ্যাসল্ট, ড্রাইভিং আন্ডার দ্য ইনফ্লুয়েন্স বা ডিইউআই, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধের মতো ঘটনা রয়েছে। যৌন অপরাধ, শিশু নির্যাতন, প্রতারণা, মানবপাচার এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগের ঘটনাতেও ভিসা বাতিলের উদাহরণ তুলে ধরেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।   তবে আগে প্রকাশিত প্রায় ১৬ হাজার ডিইউআই, ১২ হাজার অ্যাসল্ট এবং ৮ হাজার চুরিসংক্রান্ত ভিসা বাতিলের পরিসংখ্যানটি বর্তমান ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসার পূর্ণাঙ্গ বিভাজন নয়। ওই সংখ্যা ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত প্রায় ৮০ হাজার নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিলের হিসাবের অংশ ছিল। ফলে বর্তমান ১ লাখ ৭৫ হাজারের সঙ্গে ওই তিনটি পুরোনো সংখ্যা মিলিয়ে প্রায় অর্ধেক ভিসা বাতিল হয়েছে বলা সঠিক হবে না।   ভিসা বাতিলের খবর পাওয়ার পর অনেকের প্রথম প্রশ্ন হয়, এখন কী করতে হবে। বিশেষ করে যিনি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তার ক্ষেত্রে ভিসা বাতিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এক বিষয় নয়। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আই-৯৪, বর্তমান স্ট্যাটাস এবং ভিসা বাতিলের কারণ বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।   ভিসা বাতিলের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টাকে কোনো সরকারি আইনি সময়সীমা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তবে পরিস্থিতি দ্রুত যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণের জন্য এই সময়ের মধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।   প্রথমত, ভিসা বাতিলের তথ্য ও নিজের ইমিগ্রেশন রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে কোনো ইমেইল বা নোটিশ পেয়ে থাকলে সেটির কপি রাখুন। অনলাইনে ভিসার স্ট্যাটাস দেখা গেলে তার স্ক্রিনশটও সংরক্ষণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে সিবিপির আই-৯৪ রেকর্ড ডাউনলোড করে নিজের সর্বশেষ প্রবেশের তথ্য এবং অনুমোদিত থাকার মেয়াদ যাচাই করুন।   দ্বিতীয়ত, ভিসা বাতিলের খবর পেয়েই আতঙ্কিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেবেন না। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পোর্ট অব এন্ট্রিতে গিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর একজন নন-ইমিগ্র্যান্ট কত দিন বৈধভাবে থাকতে পারবেন, সেটি সাধারণত তার আই-৯৪ রেকর্ডের অনুমোদিত সময়সীমা বা ডিউরেশন অব স্ট্যাটাসের ওপর নির্ভর করে।   অর্থাৎ পাসপোর্টে থাকা ভিসা বাতিল হওয়া মানেই প্রত্যেক ক্ষেত্রে একই মুহূর্তে আই-৯৪ স্ট্যাটাস শেষ হয়ে যাওয়া নয়। তবে ভিসা বাতিলের ধরন, কারণ এবং ব্যক্তির ইমিগ্রেশন পরিস্থিতির ওপর আইনি পরিণতি ভিন্ন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেরিয়ে গেলে বাতিল হওয়া ভিসা ব্যবহার করে সাধারণভাবে আবার প্রবেশ করা যাবে না এবং নতুন ভিসার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে দেশ ছাড়ার আগে ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   তৃতীয়ত, কোনো অ্যারেস্ট, ডিইউআই, অ্যাসল্ট, ড্রাগ চার্জ, ট্রাফিকসংক্রান্ত গুরুতর ঘটনা বা অন্য কোনো ল এনফোর্সমেন্ট এনকাউন্টার থাকলে সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন। অ্যারেস্ট রিপোর্ট, চার্জ, কোর্ট ডিসপোজিশন, মামলা খারিজের আদেশ, জরিমানা পরিশোধের রিসিট এবং মামলার চূড়ান্ত ফলাফলসহ প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহ করুন। শুধু গ্রেফতার বা অভিযোগ এবং আদালতে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই প্রকৃত আইনি রেকর্ড অ্যাটর্নিকে দেখানো জরুরি।   চতুর্থত, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে তাড়াহুড়া করে তথ্য পরিবর্তন, গোপন বা ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বর্তমানে বিভিন্ন নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে অনলাইন প্রেজেন্স রিভিউ বা সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই সম্প্রসারণ করেছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি ভিসা ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিংস পাবলিক বা ওপেন রাখতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই সব অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট করে রাখা নিরাপদ, এমন সাধারণ পরামর্শ বর্তমান সরকারি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো ভিসা আবেদন বা সরকারি জিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে তথ্য গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপন না করে সত্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।   পঞ্চমত, যত দ্রুত সম্ভব একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কারও ভিসা বাতিল হলে তার বর্তমান আই-৯৪, ভিসার ধরন, কোনো ক্রিমিনাল বা ইমিগ্রেশন রেকর্ড আছে কি না এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট কী কারণে ভিসা বাতিল করেছে, এসব বিষয় একসঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আইনজীবী বা স্থানীয় স্বীকৃত লিগ্যাল এইড সংস্থার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসার মেয়াদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সময়সীমা এক নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্পষ্টভাবে জানায়, পাসপোর্টে থাকা ভিসার মেয়াদ যুক্তরাষ্ট্রে একজন ব্যক্তি কত দিন থাকতে পারবেন তা নির্ধারণ করে না। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় সিবিপি যে আই-৯৪ রেকর্ড দেয়, সেখানে থাকা তারিখ বা ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস সাধারণত অনুমোদিত থাকার সময় নির্ধারণ করে।   তবে ভিসা বাতিলের প্রতিটি ঘটনা আলাদা। কারও ক্ষেত্রে এটি ভবিষ্যৎ ভ্রমণ বা নতুন ভিসা আবেদনের বিষয় হতে পারে, আবার অন্য কারও ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, ক্রিমিনাল মামলা বা এনফোর্সমেন্টের প্রশ্নও জড়িত থাকতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণ পরামর্শ দেখে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করা, স্ট্যাটাস পরিবর্তন করা বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।   এই তথ্য সাধারণ সচেতনতার জন্য। এটি ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। ভিসা বাতিলের নোটিশ পাওয়া ব্যক্তি নিজের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেবেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ০:১৬
১৩ বছর বয়সী জ্যক ওয়াটার্স টানা ৩০০ ঘণ্টা পরিশ্রম করে ২১ মাসের এক শিশুর জন্য এই বিশেষ থ্রিডি প্রিন্টেড হুইলচেয়ারটি তৈরি করেছে। ছবি: সংগৃহীত
গ্রীষ্মের ছুটিতে টানা ৩০০ ঘণ্টা পরিশ্রম, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য থ্রিডি প্রিন্টেড হুইলচেয়ার বানিয়ে প্রশংসায় ১৩ বছরের কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর প্রযুক্তির প্রতি তার ভালোবাসা এবং মানুষের উপকার করার মানসিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। গ্রীষ্মের ছুটিতে বন্ধুরা যখন খেলাধুলা বা বিনোদনে ব্যস্ত, জ্যক ওয়াটার্স নামের এই কিশোর তখন টানা ৩০০ ঘণ্টা ব্যয় করেছে এক মহৎ কাজে। ২১ মাস বয়সী এক শিশুর জন্য সে নিজ হাতে নকশা করে তৈরি করেছে একটি কাস্টম থ্রিডি প্রিন্টেড হুইলচেয়ার। তার এই মানবিক উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি ৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্যক ওয়াটার্স প্রথম থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের জগতের সাথে পরিচিত হয় ইউটিউবের একটি ভিডিও দেখে। এরপরই সে সিদ্ধান্ত নেয়, নিজের এই নতুন আগ্রহকে কোনো অর্থবহ ও ভালো কাজে লাগাবে। সেই ভাবনা থেকেই গ্রীষ্মের লম্বা ছুটিতে স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই বিশেষ প্রজেক্ট হাতে নেয় জ্যক।   নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে জ্যক এবিসি ৪-কে জানায়, “এই কাজটি আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় দুটি জিনিসকে এক করেছে—একটি হলো থ্রিডি প্রিন্টিং, আর অন্যটি হলো অসহায় মানুষের সাহায্য করা। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটাই করা উচিত!”   সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, হুইলচেয়ারটির নকশা করা, প্রিন্ট করা, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করা এবং সবশেষে সেগুলো জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে প্রায় ৩০০ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেছে জ্যক। এর মধ্যে যন্ত্রাংশগুলো জোড়া লাগানোর কাজটিই তার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে বলে জানিয়েছে সে। সম্পূর্ণ হুইলচেয়ারটি ২১ মাস বয়সী এক শিশুকন্যার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।   জ্যক এই পুরো ধারণাটিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে 'মেকগুড' (MakeGood) নামের একটি অলাভজনক সংস্থার সহায়তায়। সংস্থাটি প্রতিবন্ধী বা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে কাস্টমাইজড সহায়ক যন্ত্রপাতি তৈরি করে থাকে। যাদের এসব যন্ত্রপাতির প্রয়োজন, সংস্থাটি তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তা সরবরাহ করে। 'সহায়ক প্রযুক্তি সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত' এই নীতিতে বিশ্বাসী মেকগুড এমন কিছু নকশা তৈরি করে, যা জ্যকের মতো স্থানীয় নির্মাতারা বিনামূল্যে ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারেন।   মেকগুড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নোয়াম প্ল্যাট জ্যকের প্রশংসা করে বলেন, “আমি জ্যকের মতো আমাদের সকল স্বেচ্ছাসেবক নির্মাতাদের বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা অন্যদের সাহায্য করার জন্য নিজেদের সময় ও সম্পদ ব্যয় করছেন। 'টডলার মোবিলিটি ট্রেইনার' নামের এই প্রজেক্টটি যেভাবে বড় হচ্ছে এবং নির্মাতা ও পরিবারগুলোকে এক সুতোয় গাঁথছে, তা দেখে আমরা মেকগুড পরিবার সত্যিই অনেক রোমাঞ্চিত।”   তিনি আরও বলেন, “এই হুইলচেয়ারটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে যে কেউ সহজেই এটি তৈরি করতে পারে। আর এ কারণেই আমরা জ্যকের মতো এমন বিস্ময়কর গল্প দেখতে পাচ্ছি। নির্মাতাদের জন্য এটি নিজেদের সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সত্যিকারের হিরো হওয়ার এক দারুণ সুযোগ।”   হুইলচেয়ারটিতে একটি সহজে খোলা যায় এমন কাপ হোল্ডার এবং ট্রে টেবিল যুক্ত করা হয়েছে। এর পেছনের অংশে ভারী চিকিৎসা সরঞ্জাম রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও রাখা হয়েছে। হুইলচেয়ারটির সবচেয়ে দারুণ দিক হলো এর ফুটরেস্ট (পা রাখার জায়গা) এবং হেডরেস্ট (মাথা রাখার জায়গা) শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইচ্ছামতো পরিবর্তন বা সমন্বয় করা যাবে। ফলে শিশুটি বড় হলেও এটি ব্যবহার করতে পারবে। যেহেতু শিশুটির প্রিয় রং গোলাপি, তাই জ্যক হুইলচেয়ারটিতে গোলাপি রঙের প্রলেপ দিয়েছে। এর পাশাপাশি সবুজ এবং হলুদ রঙের কিছু দারুণ কারুকাজও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।   থ্রিডি প্রিন্টিং সম্প্রদায়ের অংশ হতে পেরে জ্যক অত্যন্ত আনন্দিত। সে আশা করে, ভবিষ্যতে নিজের দক্ষতা ও জ্ঞানকে সে আরও শানিত করতে পারবে। জ্যক উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে, “যাদের আসলেই একটি হুইলচেয়ার প্রয়োজন, সেই পরিবারের মুখে হাসি ফুটতে দেখাটা আমার জন্য সবচেয়ে আনন্দের। এটি প্রিন্ট করে তাদের খুশি হতে দেখাটা আমাকে দারুণ তৃপ্তি দিয়েছে।”   জ্যকের দাদি শার্লট ওয়াটার্স নাতির এই মহৎ কাজে ভীষণ গর্বিত। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি সে সবসময় মনে রাখবে যে, একজন মানুষের রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় কীর্তি হলো অন্য কারও জীবনকে সুন্দর করে তোলা। তার বয়স নয়, বরং তার চরিত্রই প্রমাণ করে সে মানুষের জন্য কতটা পার্থক্য গড়তে পারে।”

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ২৩:৪৯
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন নিয়মে ডেলিভারি কর্মীদের জন্য বাড়ছে ন্যূনতম মজুরি ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় ডেলিভারি কর্মীদের জন্য সুখবর: ঘণ্টায় সর্বনিম্ন মজুরি ৩১ ডলারের বেশি, মিলবে বিমা সুবিধা

অস্ট্রেলিয়ায় খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ডেলিভারির কাজে যুক্ত গিগ কর্মীদের জন্য এক যুগান্তকারী নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় এসব কর্মীর জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরির চেয়েও বেশি বেতন এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার জন্য বিমা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই নিয়মের ফলে দেশটির অন্তত আড়াই লাখ ডেলিভারি কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার শ্রম ও শিল্প খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন' (এফডব্লিউসি) গত মঙ্গলবার গভীর রাতে এই যুগান্তকারী আদেশের অনুমোদন দিয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে।   নতুন আদেশ অনুযায়ী, গিগ কর্মীদের প্রতি ঘণ্টায় ন্যূনতম ৩১ দশমিক ৩০ অস্ট্রেলীয় ডলার (যা প্রায় ২২ দশমিক ১১ মার্কিন ডলার) মজুরি দিতে হবে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি হলো ঘণ্টায় ২৬ দশমিক ৪৪ ডলার। অর্থাৎ, এখন থেকে ডেলিভারি কর্মীরা সাধারণ ন্যূনতম মজুরির চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।   কাজের সময়ের হিসাব কীভাবে হবে, সেটিও আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, একজন কর্মী যখন কোনো কাজের অর্ডার বা ‘জব’ গ্রহণ করবেন এবং সেটি গ্রাহকের কাছে সফলভাবে ডেলিভারি করে শেষ করবেন কেবলমাত্র এই মধ্যবর্তী ‘ব্যস্ত সময়টুকু’ (এনগেজড টাইম) মজুরির হিসাবের আওতায় আসবে।   মজুরির পাশাপাশি কর্মীদের সুরক্ষায় বিমার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন নিয়মে ডেলিভারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের ব্যক্তিগত দুর্ঘটনার জন্য একটি ‘যৌক্তিক ও ন্যূনতম মাত্রার’ বিমা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তবে বিমার আওতা ঠিক কতটুকু হবে, তা আদেশে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। অন্যদিকে, ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত নিজস্ব যানবাহনের ‘থার্ড-পার্টি’ বা তৃতীয় পক্ষের বিমা করার দায়িত্ব আগের মতোই কর্মীদের নিজেদের কাঁধেই থাকছে।   গিগ অর্থনীতিতে কর্মীদের সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ সামনে এল। এর আগে গত জুনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) গিগ কর্মীদের বেতন, নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো একটি বাধ্যতামূলক কর্মসংস্থান মানদণ্ড গ্রহণ করেছিল। আইএলও-এর সেই মানদণ্ডগুলো অবশ্য এখনো বিভিন্ন দেশের সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ার ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (টিডব্লিউইউ) ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের এই আদেশকে দেশের গিগ অর্থনীতির জন্য একটি "ঐতিহাসিক মুহূর্ত" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।   উবার ইটস এবং ডোরড্যাশ-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে টিডব্লিউইউ-এর জাতীয় সম্পাদক মাইকেল কেইন বলেন, "অস্ট্রেলিয়ায় গিগ কর্মীদের অনেক দিন ধরেই আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মপরিবেশের সুযোগ-সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছিল। আগামী সোমবার থেকে তারা সম্পূর্ণ বিশ্বমানের একগুচ্ছ অধিকার ও সুবিধা পেতে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করা হবে।"   শুধু রেস্তোরাঁর খাবারই নয়, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহেও যুক্ত হয়েছে উবার ইটস ও ডোরড্যাশ। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন এই নিয়ম প্রমাণ করে যে কর্মীদের জোরালো সুরক্ষা এবং গিগ কাজের নমনীয়তা দুটি বিষয়ই একসঙ্গে বজায় রাখা সম্ভব।   দীর্ঘদিন ধরেই ট্রেড ইউনিয়ন ও গিগ কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। সাধারণ কর্মীদের মতো সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো এসব গিগ কর্মীকে সাধারণত 'স্বাধীন চুক্তিনামা'র ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে থাকে। ফলে তারা প্রচলিত শ্রম আইনের অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।   এই বৈষম্য দূর করতে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান সেন্টার-লেফট বা মধ্য-বামপন্থী লেবার সরকার ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বেশ কিছু আইন পাস করে। ওই আইনগুলোর মাধ্যমেই মূলত ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনকে গিগ কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি ও বিমার মানদণ্ড নির্ধারণের আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন দেখা গেল এই নতুন আদেশের মাধ্যমে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ২৩:৩৫
নিউ জার্সির ডিলানি হল অভিবাসন আটককেন্দ্রে আরও এক অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সির আইসিই অভিবাসন আটককেন্দ্রে আরও এক অভিবাসীর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩

ক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্কে অবস্থিত আইসিই (ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) পরিচালিত ডিলানি হল অভিবাসন আটককেন্দ্রে আটক থাকার পর আরও এক অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি গুয়াতেমালার নাগরিক হোসে চাখোন-রাখসোন। ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটককেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পুনরায় চালু হওয়া ডিলানি হল আটককেন্দ্রে এটি তৃতীয় মৃত্যুর ঘটনা। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রটি আবার চালু করা হয়েছিল।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটককেন্দ্রে থাকা অবস্থায় হোসে চাখোন-রাখসোন হঠাৎ খিঁচুনির মতো শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হন। দায়িত্বরত একজন নার্স তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেন এবং পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের ডাকা হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।   আইসিই জানায়, গত ১৮ জুলাই চাখোন-রাখসোনকে গ্রেপ্তার করে ডিলানি হলে আনা হয়। তবে চার দিন পর, ২২ জুলাই তাকে আইসিইর হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। কেন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল বা এরপর হাসপাতালে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।   ডিএইচএস এক বিবৃতিতে বলেছে, আইসিইর নীতিমালা অনুযায়ী, কেউ হেফাজতের বাইরে চলে গেলে তার পরবর্তী মৃত্যু পর্যবেক্ষণ বা পর্যালোচনার দায়িত্ব সংস্থার থাকে না।   তবে এই অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছেন নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রব মেনেনডেজ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, এই নীতির কারণে একটি "ফাঁক" তৈরি হয়েছে। এর ফলে কাউকে হেফাজত থেকে ছেড়ে দিয়ে পরে তার মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত বা কংগ্রেস ও জনগণকে জানানো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের শুরুতে আইসিই একটি নীতিগত পরিবর্তন আনে। এর আগে বাইডেন প্রশাসনের সময় ২০২১ সালে চালু হওয়া নীতি অনুযায়ী, হেফাজত থেকে মুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে সেটিও প্রকাশ করা হতো। নতুন নীতিতে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। চাখোন-রাখসোনের মৃত্যুর বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আসেনি। গত সপ্তাহে কংগ্রেসম্যান রব মেনেনডেজ বিষয়টি প্রকাশ করার পর ঘটনাটি সামনে আসে।   ডিলানি হল আটককেন্দ্রে এর আগেও দুটি মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে আইসিইর হেফাজতে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার পর এল সালভাদরের নাগরিক এডউইন লোপেজ-করনেহোর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ডিসেম্বরে একই কেন্দ্রে আটক থাকা হাইতির নাগরিক জিন উইলসন ব্রুটাসেরও মৃত্যু হয়।   মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর হেফাজতে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এসব সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোর চিকিৎসাসেবা ও বন্দিদের জীবনযাপনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।   ডিলানি হল আটককেন্দ্র নিয়েও গত কয়েক মাসে নানা অভিযোগ উঠেছে। বন্দিদের ওপর প্রহরীদের শারীরিক নির্যাতন, নষ্ট খাবার সরবরাহ এবং অপর্যাপ্ত সেবার অভিযোগে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। মে মাসের শেষ দিকে অন্তত ৩০০ অভিবাসী অনশন ও কর্মবিরতিতে অংশ নেন। পরে নারী বন্দিরাও পৃথকভাবে অনশন শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল, আটককেন্দ্রের পরিস্থিতির উন্নতি এবং ২১ বছরের কম বয়সী নারী, অসুস্থ নারী ও মায়েদের মুক্তি দেওয়া।   তবে আইসিইর দাবি, তাদের হেফাজতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ২২:৫৪
মেক্সিকান নাগরিক মারিয়া গুয়াদালুপে আরেওলা রিভেরা
আগুন দিয়ে ২৩ মাসের মেয়েকে হত্যার দায়ে জেল, মুক্তির পর মেক্সিকোয় ডিপোর্ট

নিজের ২৩ মাস বয়সী মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা ও অগ্নিসংযোগের মামলায় দোষী সাব্যস্ত মেক্সিকান নাগরিক মারিয়া গুয়াদালুপে আরেওলা রিভেরাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় ডিপোর্ট করেছে আইসিই। দীর্ঘ কারাদণ্ড শেষে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে ইমিগ্রেশন হেফাজতে নেওয়া হয় এবং গত ৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।   ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯৮ সালে ইলিনয়ের কুক কাউন্টিতে। আরেওলা রিভেরা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছিলেন বলে মামলায় প্রমাণিত হয়। ওই আগুনে তার ২৩ মাস বয়সী মেয়ে মারা যায় এবং চার বছর বয়সী ছেলে গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়। মামলায় আরেওলা রিভেরাকে হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং অ্যাগ্রাভেটেড আর্সনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাকে দুটি ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। সাজা দুটি একই সময়ে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ৬০ বছর আলাদাভাবে কারাগারে থাকতে হয়নি। আইসিইর আগের তথ্য অনুযায়ী, কুক কাউন্টিতে তার বিরুদ্ধে দুটি অ্যাগ্রাভেটেড আর্সন এবং হত্যার দণ্ড ছিল। তার ক্রিমিনাল রেকর্ডে অ্যাগ্রাভেটেড চাইল্ড অ্যাবিউজের ঘটনাও ছিল।   কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পর বিষয়টি ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের আওতায় আসে। আইসিই শিকাগোর কর্মকর্তারা তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন। পরবর্তী ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ৮ জুলাই তাকে মেক্সিকোয় ডিপোর্ট করা হয়। এর আগে ২০২৬ সালের এপ্রিলে আইসিই শিকাগোর ফিউজিটিভ অপারেশনস টিম আরেওলা রিভেরাকে টার্গেটেড অপারেশনের মাধ্যমে হেফাজতে নেওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছিল। সে সময় সংস্থাটি তাকে মেক্সিকোর নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করে এবং প্রায় তিন দশক আগের কুক কাউন্টির গুরুতর অপরাধের দণ্ডের তথ্য তুলে ধরে।   আইসিই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ক্রিমিনাল সাজা শেষ হওয়া মানেই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সমাপ্তি নয়। কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত অধিকার হারালে বা তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রিমুভাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কারাগার থেকে মুক্তির পর তাকে আইসিই হেফাজতে নিয়ে ডিপোর্ট করা হতে পারে। আরেওলা রিভেরার ক্ষেত্রেও কারাদণ্ড শেষে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। আইসিই শিকাগোর কর্মকর্তারা তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ২২:৪৯
ম্যাসাচুসেটসের অ্যাকটনে মা ও ভাই হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার কিশোরকে নিয়ে তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত
চ্যাটজিপিটি থেকে ধারণা নিয়ে মা ও ভাইকে খুন! যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছেলে গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যাকটন শহরে এক মর্মান্তিক জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। আপন মা এবং ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নিজের পরিবারকে হত্যার আগে ধারণা পেতে সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 'চ্যাটজিপিটি' (ChatGPT) ব্যবহার করেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান সিবিএস বস্টনকে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ওই কিশোরের নাম অর্জুন অরবিন্দ। তার বিরুদ্ধে ৪৫ বছর বয়সী মা সুধা ভেঙ্কটেশন এবং ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাই সিদ্ধার্থ অরবিন্দকে হত্যার দায়ে জোড়া খুনের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গত বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অর্জুনের বাবা মার্থা লেনে অবস্থিত নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে পুলিশকে ফোন করেন। কারণ তিনি অনেক চেষ্টা করেও কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। এর আগে ওই দিন সকালে একজন গৃহশিক্ষক পড়ানোর জন্য তাদের বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে অর্জুনের বাবা কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় তার স্ত্রীকে শেষবার দেখেছিলেন। অন্যদিকে, ছোট ভাই সিদ্ধার্থকে মঙ্গলবার সকালে একটি বিনোদন কেন্দ্রে দেখা গিয়েছিল এবং সে দুপুর নাগাদ বাড়ি ফেরে। তদন্তকারীদের ধারণা, সকাল থেকে দুপুরের পর এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেই মা ও ছেলেকে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে।   মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ ওই বাড়িতে প্রবেশ করে নিচতলায় (ফার্স্ট ফ্লোর) সিদ্ধার্থের এবং বেসমেন্টে সুধার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, দুজনের শরীরেই মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন অস্ত্র দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জোড়া খুনের পর মায়ের হোন্ডা অ্যাকর্ড গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় অর্জুন। বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ডের একটি পার্কিং লটে একটি অ্যালার্ম বাজার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখান থেকেই ওই গাড়িসহ অর্জুনকে গ্রেপ্তার করে। তাকে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই হেফাজতে নেওয়া হয় বলে বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি।   অর্জুনের বিরুদ্ধে হত্যা, মারধর এবং গাড়ি চুরিসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার বিকেলে লোয়েল জুভেনাইল কোর্টে গাড়ি চুরির অভিযোগে তাকে হাজির করা হয়। বৃহস্পতিবার কনকর্ড ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তার বিরুদ্ধে হত্যার মূল অভিযোগগুলো উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। তবে মারিয়ান রায়ান জানিয়েছেন, "অর্জুন সম্প্রতি কিছু উদ্বেগজনক আচরণ করছিল। এর মধ্যে ইন্টারনেট এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে পরিবারকে হত্যার তাত্ত্বিক ধারণা বা কল্পকাহিনি খোঁজার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।"   অ্যাকটনের পুলিশ প্রধান ডগ স্টুরনিওলো জানান, অর্জুন পুলিশের কাছে অপরিচিত ছিল না। গত বছর সে একবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল তার পরিবার। এই ঘটনাকে একটি "বর্ণনাতীত ট্র্যাজেডি" ও "অত্যন্ত অন্ধকার দিন" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি। বস্টন থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত অ্যাকটন শহরের এই ঘটনা পুরো সম্প্রদায়কে স্তব্ধ করে দিয়েছে।   মার্থা লেনের এক প্রতিবেশী সংবাদমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাদের কাছে এসে কিছু দেখেছে কি না জানতে চায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিবেশী বলেন, "কৌতূহলবশত আমি উঁকি দিয়ে দেখি রাস্তায় ফায়ার ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশের গাড়ি। অফিসাররা কাউকে বা কিছু খুঁজছিলেন। পরিবারটির সাথে আমার কখনো দেখা হয়নি, তবে ঘটনাটি সত্যিই মর্মান্তিক।"   ডেভন রিপ নামে আরেক প্রতিবেশী বলেন, "আমাদের রাস্তার পাশেই এমন ঘটনা ঘটেছে, এটি অবিশ্বাস্য রকমের দুঃখজনক এবং আতঙ্কজনক। আমি এখানে এমন জরুরি অবস্থা বা পুলিশের এত উপস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।"

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ২২:৪৩
দীর্ঘদিন ভুল রোগ নির্ণয়ের পর বিরল জন্মগত হৃদরোগ ধরা পড়ে অ্যাবিগেইল লুইসের। ছবি: সংগৃহীত
চার বছর ধরে বলা হয়েছিল ‘প্যানিক অ্যাটাক’, পরে ধরা পড়ল বিরল জন্মগত হৃদরোগ

চার বছর ধরে শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বুকব্যথা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন যুক্তরাজ্যের দুই সন্তানের জননী অ্যাবিগেইল লুইস। বারবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও তাকে বলা হয়, তিনি উদ্বেগজনিত সমস্যা ও প্যানিক অ্যাটাকে ভুগছেন। এমনকি পাঁচ থেকে ছয়বার তাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার হৃদযন্ত্রের একটি ভালভে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে এবং তিনি বিরল জন্মগত হৃদরোগ ‘এবস্টেইনের অ্যানোমালি’-তে আক্রান্ত।   ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা এসডব্লিউএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী অ্যাবিগেইল ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বহুবার পারিবারিক চিকিৎসকের কাছে যান। সে সময় তিনি শ্বাসকষ্ট, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, ওজন বৃদ্ধি এবং শরীরচর্চা করতে গিয়ে অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো সমস্যার কথা জানান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তার সমস্যাকে উদ্বেগ ও প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেন।   ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কর্মস্থলে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে না পেরে এবং তীব্র বুকব্যথা অনুভব করলে তিনি জরুরি বিভাগে যান। সেখানে পরীক্ষায় তার হৃদযন্ত্রে ‘রাইট বান্ডল ব্রাঞ্চ ব্লক (আরবিবিবি)’ নামে একটি বৈদ্যুতিক সংকেতজনিত সমস্যা এবং হার্ট মারমারের সন্দেহ ধরা পড়ে। পরে তাকে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়। ২৪ ঘণ্টার ইসিজি পর্যবেক্ষণ ও ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, তার হৃদযন্ত্রের ট্রাইকাসপিড ভালভ দিয়ে রক্ত ফিরে যাচ্ছে, অর্থাৎ ভালভে লিক রয়েছে।   আরও বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য তাকে লন্ডনের রয়্যাল ব্রম্পটন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই নিশ্চিত করা হয় যে তিনি ‘এবস্টেইনের অ্যানোমালি’ নামের একটি বিরল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত। এই রোগে ট্রাইকাসপিড ভালভ স্বাভাবিকভাবে গঠিত হয় না। ফলে হৃদযন্ত্রের প্রকোষ্ঠগুলোর মধ্যে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয় এবং রক্ত উল্টো দিকে ফিরে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি অত্যন্ত বিরল। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়, যাদের অধিকাংশই শিশু।   রোগ শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, অ্যাবিগেইলের জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচার জরুরি। তবে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি কমাতে প্রথমে তাকে প্রায় ১০ কেজি (২২ পাউন্ড) ওজন কমাতে বলা হয়। এরপর ২০২৬ সালের মে মাসে তার ওপর প্রায় নয় ঘণ্টাব্যাপী ‘কোন প্রক্রিয়া’ নামে একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে চিকিৎসকেরা তার নিজের টিস্যু ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাইকাসপিড ভালভ পুনর্গঠন করেন।   অস্ত্রোপচারের পরও তাকে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। বাইপাস অস্ত্রোপচারের পর তার নিউমোনিয়া হয়, দুই ফুসফুস সাময়িকভাবে ভেঙে পড়ে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যক্রমও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি চিকিৎসকেরা পেসমেকার বসানোর বিষয়টিও বিবেচনা করেছিলেন। তবে দুই সপ্তাহ পর হৃদযন্ত্র আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।   প্রায় চার সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর জুন মাসের মাঝামাঝি তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের নয় সপ্তাহ পর তিনি সুস্থতার পথে রয়েছেন। আগস্টের শেষ দিকে তার ১২ সপ্তাহের কার্ডিয়াক পুনর্বাসন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।   অ্যাবিগেইল জানান, ছোটবেলাতেও তিনি অন্য শিশুদের মতো দৌড়ঝাঁপ করতে পারতেন না। ঠান্ডা না থাকলেও তার ঠোঁট নীলচে হয়ে যেত। তবে এত বছরেও কেউ তার জন্মগত হৃদরোগ শনাক্ত করতে পারেননি। তিনি বলেন, "আমি বুঝতেই পারি না কীভাবে ৩৬ বছর বয়স পর্যন্ত এই রোগ ধরা পড়েনি। এমনকি দুটি গর্ভধারণের সময়ও কেউ এটি শনাক্ত করতে পারেনি।"   তিনি আরও বলেন, "আমি বারবার চিকিৎসকদের বলেছি, শুধু প্যানিক অ্যাটাক হলে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা অসম্ভব হয়ে যায় না। কিন্তু তারা বারবার বলতেন আমার উদ্বেগজনিত সমস্যা রয়েছে। একসময় আমিও সেটাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম।" অ্যাবিগেইল জানান, যেসব থেরাপিস্টের কাছে তাকে পাঠানো হয়েছিল, তারাও অবাক হয়েছিলেন। তাদের ভাষায়, তার মধ্যে উদ্বেগ বা বিষণ্নতার কোনো লক্ষণই ছিল না।   অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, "অস্ত্রোপচারের আগের দিনটাই ছিল সবচেয়ে ভয়ের। পরে চিকিৎসকেরা জানান, অপারেশন ছয় ঘণ্টা নয়, প্রায় নয় ঘণ্টা লাগবে।" তবে এখন তিনি আশাবাদী।   তার ভাষায়, "আমি পুরোপুরি আগের মতো সুস্থ হব কি না জানি না। হয়তো আগের মতো স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাব, হয়তো একটু ধীরগতির জীবন হবে। তবে দুই বছর আগে আমি জানতাম না আদৌ বেঁচে থাকব কি না। তাই এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী।"

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ২২:১