আগুন দিয়ে ২৩ মাসের মেয়েকে হত্যার দায়ে জেল, মুক্তির পর মেক্সিকোয় ডিপোর্ট
নিজের ২৩ মাস বয়সী মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা ও অগ্নিসংযোগের মামলায় দোষী সাব্যস্ত মেক্সিকান নাগরিক মারিয়া গুয়াদালুপে আরেওলা রিভেরাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় ডিপোর্ট করেছে আইসিই। দীর্ঘ কারাদণ্ড শেষে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে ইমিগ্রেশন হেফাজতে নেওয়া হয় এবং গত ৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯৮ সালে ইলিনয়ের কুক কাউন্টিতে। আরেওলা রিভেরা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছিলেন বলে মামলায় প্রমাণিত হয়। ওই আগুনে তার ২৩ মাস বয়সী মেয়ে মারা যায় এবং চার বছর বয়সী ছেলে গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়।
মামলায় আরেওলা রিভেরাকে হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং অ্যাগ্রাভেটেড আর্সনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাকে দুটি ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। সাজা দুটি একই সময়ে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ৬০ বছর আলাদাভাবে কারাগারে থাকতে হয়নি।
আইসিইর আগের তথ্য অনুযায়ী, কুক কাউন্টিতে তার বিরুদ্ধে দুটি অ্যাগ্রাভেটেড আর্সন এবং হত্যার দণ্ড ছিল। তার ক্রিমিনাল রেকর্ডে অ্যাগ্রাভেটেড চাইল্ড অ্যাবিউজের ঘটনাও ছিল।
কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পর বিষয়টি ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের আওতায় আসে। আইসিই শিকাগোর কর্মকর্তারা তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন। পরবর্তী ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ৮ জুলাই তাকে মেক্সিকোয় ডিপোর্ট করা হয়।
এর আগে ২০২৬ সালের এপ্রিলে আইসিই শিকাগোর ফিউজিটিভ অপারেশনস টিম আরেওলা রিভেরাকে টার্গেটেড অপারেশনের মাধ্যমে হেফাজতে নেওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছিল। সে সময় সংস্থাটি তাকে মেক্সিকোর নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করে এবং প্রায় তিন দশক আগের কুক কাউন্টির গুরুতর অপরাধের দণ্ডের তথ্য তুলে ধরে।
আইসিই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ক্রিমিনাল সাজা শেষ হওয়া মানেই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সমাপ্তি নয়। কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত অধিকার হারালে বা তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রিমুভাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কারাগার থেকে মুক্তির পর তাকে আইসিই হেফাজতে নিয়ে ডিপোর্ট করা হতে পারে।
আরেওলা রিভেরার ক্ষেত্রেও কারাদণ্ড শেষে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। আইসিই শিকাগোর কর্মকর্তারা তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর প্রযুক্তির প্রতি তার ভালোবাসা এবং মানুষের উপকার করার মানসিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। গ্রীষ্মের ছুটিতে বন্ধুরা যখন খেলাধুলা বা বিনোদনে ব্যস্ত, জ্যক ওয়াটার্স নামের এই কিশোর তখন টানা ৩০০ ঘণ্টা ব্যয় করেছে এক মহৎ কাজে। ২১ মাস বয়সী এক শিশুর জন্য সে নিজ হাতে নকশা করে তৈরি করেছে একটি কাস্টম থ্রিডি প্রিন্টেড হুইলচেয়ার। তার এই মানবিক উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি ৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্যক ওয়াটার্স প্রথম থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের জগতের সাথে পরিচিত হয় ইউটিউবের একটি ভিডিও দেখে। এরপরই সে সিদ্ধান্ত নেয়, নিজের এই নতুন আগ্রহকে কোনো অর্থবহ ও ভালো কাজে লাগাবে। সেই ভাবনা থেকেই গ্রীষ্মের লম্বা ছুটিতে স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই বিশেষ প্রজেক্ট হাতে নেয় জ্যক। নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে জ্যক এবিসি ৪-কে জানায়, “এই কাজটি আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় দুটি জিনিসকে এক করেছে—একটি হলো থ্রিডি প্রিন্টিং, আর অন্যটি হলো অসহায় মানুষের সাহায্য করা। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটাই করা উচিত!” সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, হুইলচেয়ারটির নকশা করা, প্রিন্ট করা, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করা এবং সবশেষে সেগুলো জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে প্রায় ৩০০ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেছে জ্যক। এর মধ্যে যন্ত্রাংশগুলো জোড়া লাগানোর কাজটিই তার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে বলে জানিয়েছে সে। সম্পূর্ণ হুইলচেয়ারটি ২১ মাস বয়সী এক শিশুকন্যার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। জ্যক এই পুরো ধারণাটিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে 'মেকগুড' (MakeGood) নামের একটি অলাভজনক সংস্থার সহায়তায়। সংস্থাটি প্রতিবন্ধী বা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে কাস্টমাইজড সহায়ক যন্ত্রপাতি তৈরি করে থাকে। যাদের এসব যন্ত্রপাতির প্রয়োজন, সংস্থাটি তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তা সরবরাহ করে। 'সহায়ক প্রযুক্তি সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত' এই নীতিতে বিশ্বাসী মেকগুড এমন কিছু নকশা তৈরি করে, যা জ্যকের মতো স্থানীয় নির্মাতারা বিনামূল্যে ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারেন। মেকগুড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নোয়াম প্ল্যাট জ্যকের প্রশংসা করে বলেন, “আমি জ্যকের মতো আমাদের সকল স্বেচ্ছাসেবক নির্মাতাদের বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা অন্যদের সাহায্য করার জন্য নিজেদের সময় ও সম্পদ ব্যয় করছেন। 'টডলার মোবিলিটি ট্রেইনার' নামের এই প্রজেক্টটি যেভাবে বড় হচ্ছে এবং নির্মাতা ও পরিবারগুলোকে এক সুতোয় গাঁথছে, তা দেখে আমরা মেকগুড পরিবার সত্যিই অনেক রোমাঞ্চিত।” তিনি আরও বলেন, “এই হুইলচেয়ারটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে যে কেউ সহজেই এটি তৈরি করতে পারে। আর এ কারণেই আমরা জ্যকের মতো এমন বিস্ময়কর গল্প দেখতে পাচ্ছি। নির্মাতাদের জন্য এটি নিজেদের সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সত্যিকারের হিরো হওয়ার এক দারুণ সুযোগ।” হুইলচেয়ারটিতে একটি সহজে খোলা যায় এমন কাপ হোল্ডার এবং ট্রে টেবিল যুক্ত করা হয়েছে। এর পেছনের অংশে ভারী চিকিৎসা সরঞ্জাম রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও রাখা হয়েছে। হুইলচেয়ারটির সবচেয়ে দারুণ দিক হলো এর ফুটরেস্ট (পা রাখার জায়গা) এবং হেডরেস্ট (মাথা রাখার জায়গা) শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইচ্ছামতো পরিবর্তন বা সমন্বয় করা যাবে। ফলে শিশুটি বড় হলেও এটি ব্যবহার করতে পারবে। যেহেতু শিশুটির প্রিয় রং গোলাপি, তাই জ্যক হুইলচেয়ারটিতে গোলাপি রঙের প্রলেপ দিয়েছে। এর পাশাপাশি সবুজ এবং হলুদ রঙের কিছু দারুণ কারুকাজও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। থ্রিডি প্রিন্টিং সম্প্রদায়ের অংশ হতে পেরে জ্যক অত্যন্ত আনন্দিত। সে আশা করে, ভবিষ্যতে নিজের দক্ষতা ও জ্ঞানকে সে আরও শানিত করতে পারবে। জ্যক উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে, “যাদের আসলেই একটি হুইলচেয়ার প্রয়োজন, সেই পরিবারের মুখে হাসি ফুটতে দেখাটা আমার জন্য সবচেয়ে আনন্দের। এটি প্রিন্ট করে তাদের খুশি হতে দেখাটা আমাকে দারুণ তৃপ্তি দিয়েছে।” জ্যকের দাদি শার্লট ওয়াটার্স নাতির এই মহৎ কাজে ভীষণ গর্বিত। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি সে সবসময় মনে রাখবে যে, একজন মানুষের রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় কীর্তি হলো অন্য কারও জীবনকে সুন্দর করে তোলা। তার বয়স নয়, বরং তার চরিত্রই প্রমাণ করে সে মানুষের জন্য কতটা পার্থক্য গড়তে পারে।”
নিউ জার্সির আইসিই অভিবাসন আটককেন্দ্রে আরও এক অভিবাসীর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩
আগুন দিয়ে ২৩ মাসের মেয়েকে হত্যার দায়ে জেল, মুক্তির পর মেক্সিকোয় ডিপোর্ট
চ্যাটজিপিটি থেকে ধারণা নিয়ে মা ও ভাইকে খুন! যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছেলে গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ওপর ছুরি হামলার ঘটনায় দ্রুত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে কয়েকজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হামলার পর তারা অভিযুক্ত সহপাঠীকে মাটিতে ফেলে নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় শেরিফের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আরও বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার লি কাউন্টির জোনসভিল মিডল স্কুলে। অভিযুক্ত ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ছুরি দিয়ে একজন শিক্ষককে আঘাত করে বলে অভিযোগ উঠেছে। লি কাউন্টির শেরিফ গ্যারি পারসন্স জানান, শিক্ষককে আঘাত করার পরপরই কয়েকজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এগিয়ে আসে। তারা হামলাকারীকে মাটিতে ফেলে ধরে রাখে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেরিফ পারসন্স বলেন, "শিক্ষার্থীরা প্রশংসার দাবিদার। তাদের দ্রুত পদক্ষেপ সম্ভবত আরও বড় ক্ষতি ঠেকিয়েছে। অন্তত শিক্ষকের জীবন রক্ষা করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।" শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, আহত শিক্ষক প্রাণঘাতী নয় এমন আঘাত পেয়েছেন। তার ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থী ও কর্মীরা নিরাপদ ছিলেন। হামলার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আর কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের রান্নাঘর থেকে একটি রান্নার ছুরি নিয়ে এসেছিল। সেই ছুরি দিয়েই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর ১২ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর জখমের উদ্দেশ্যে হামলা এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সম্ভাব্য কারণ এবং হামলার পেছনের প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। ভার্জিনিয়ার এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্ট্রলারে মেয়েকে নিয়ে ১ মাইল দৌড় ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে, বিশ্বরেকর্ড গড়ার অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের এক বাবা
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের সামনেই আটক অভিবাসী দম্পতি, ১৮ বছরের মেয়ের কাঁধে চার ভাইবোনের দায়িত্ব
ম্যানহাটনে গড় বাড়িভাড়া পৌঁছাল ৫ হাজার ডলারে, তীব্র আবাসন সংকটে নিউইয়র্কবাসী
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বেকার ভাতার আবেদনে বিশাল উল্লম্ফন দেখা গেছে। নতুন এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত মাসের একটি নির্দিষ্ট সপ্তাহে রাজ্যটিতে ৩ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৭টি 'কন্টিনিউড আনএমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট' বা চলমান বেকার ভাতার আবেদন জমা পড়েছে। এই সংখ্যা তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা অঙ্গরাজ্যটির মোট আবেদনের দ্বিগুণেরও বেশি। মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেকার ভাতার আবেদনের ক্ষেত্রে 'গোল্ডেন স্টেট' খ্যাত ক্যালিফোর্নিয়া নিউইয়র্ক (১ লাখ ৬৮ হাজার ৪২৭) এবং টেক্সাসকে (১ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৭) অনেক বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রডাক্টিভিটি প্ল্যাটফর্ম 'প্লাস' (Plus) মার্কিন শ্রম দপ্তরের ওই নির্দিষ্ট সপ্তাহের তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণটি চালিয়েছে। ৪ জুলাই থেকে ১১ জুলাইয়ের মধ্যকার তথ্যানুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বেকারত্ব বিমা ব্যবস্থার আওতাভুক্ত প্রতি এক লাখ কর্মীর মধ্যে ১ হাজার ৯০৫ দশমিক ৬টি বেকার ভাতার আবেদন জমা পড়েছে। দেশব্যাপী সামগ্রিক হারের দিক থেকে এই অঙ্গরাজ্যটি সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। তবে এই হার প্রতি এক লাখ কর্মীতে জাতীয় গড় (১,০২৭টি আবেদন) থেকে প্রায় ৮৬ শতাংশ বেশি। কর্মীর সংখ্যার সাথে আনুপাতিক হিসাব বিবেচনা করলে ক্যালিফোর্নিয়ার আগে কেবল নিউ জার্সি, রোড আইল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিনেসোটা, ওরেগন এবং ওয়াশিংটন রয়েছে। সাধারণত কোনো আবেদনকারী প্রাথমিক আবেদনের পর অব্যাহতভাবে ভাতা পেতে থাকলে তাকে 'কন্টিনিউড আনএমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট ক্লেইম' বলা হয়, যা মূলত চলমান বেকারত্ব পরিস্থিতির একটি বড় নির্দেশক। ক্যালিফোর্নিয়ার বিশাল শ্রমশক্তির কারণেই মূলত মোট আবেদনের সংখ্যাটি এত বেশি দেখাচ্ছে। তবে কর্মীর আনুপাতিক হিসাব বিবেচনায় নিলেও অঙ্গরাজ্যটি দেশের সর্বোচ্চ বেকার ভাতার আবেদনের তালিকায় উপরের দিকেই অবস্থান করছে। 'প্লাস'-এর সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল লি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেকারত্বের চাপ কীভাবে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলছে, তা এই বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে আটটি অঙ্গরাজ্য ছাড়া ২০২৫ সালের পর থেকে বাকি সব অঙ্গরাজ্যেই বেকার ভাতার আবেদন কমার প্রবণতা দেখা গেছে। মোট আবেদনের সংখ্যা এবং সামগ্রিক বেকারত্বের হারের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় মোট চলমান আবেদনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও, আনুপাতিক হারে কয়েকটি ছোট অঙ্গরাজ্য এর চেয়ে এগিয়ে আছে। যেমন, প্রতি এক লাখ কর্মীতে ২ হাজার ৬৫০ দশমিক ৬টি আবেদন নিয়ে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নিউ জার্সি, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১৫৮ শতাংশ বেশি। যদিও তাদের মোট আবেদনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ২২২, যা ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় অনেক কম। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে রোড আইল্যান্ড ও ম্যাসাচুসেটস। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম বেকার ভাতার আবেদন দেখা গেছে সাউথ ডাকোটায়, যেখানে প্রতি এক লাখে আবেদনকারীর সংখ্যা মাত্র ২৮৪ দশমিক ৯ জন।
রাশিয়ায় বন্দি অবস্থায় মৃ ত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলেন, অবশেষে দেশে ফিরলেন সাবেক মার্কিন সেনা
কোমা, হুইলচেয়ার আর ১০ বছরের সংগ্রাম; না ফেরার দেশে চলে গেলেন বক্সার প্রিচার্ড কোলন