ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বাদ দিয়ে স্টিম ব্যবস্থায় ফিরতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে ট্রাম্পের নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের বিমানবাহী রণতরীতে যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট ব্যবস্থা বাদ দিয়ে পুরোনো স্টিম ক্যাটাপল্টে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নির্মাণাধীন জেরাল্ড আর. ফোর্ড ক্লাসের বিমানবাহী রণতরীর নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এতে বিপুল অতিরিক্ত ব্যয় এবং নির্মাণে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার একটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি মেমোরেন্ডামে স্বাক্ষর করে ট্রাম্প এই নির্দেশ দেন। রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং ইউএসএনআই নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্দেশনার আওতায় ফোর্ড ক্লাসের চতুর্থ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস ডরিস মিলার থেকে পরিবর্তন শুরু হওয়ার কথা। পরবর্তী রণতরীগুলোতেও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেম বা ইএমএএলএসের পরিবর্তে স্টিম ক্যাটাপল্ট ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হবে।
তবে ফোর্ড ক্লাসের প্রথম তিনটি রণতরীতে ইএমএএলএস থাকবে। এর মধ্যে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ইতিমধ্যে অপারেশনাল এবং পরবর্তী রণতরীগুলোর নির্মাণ ও পরীক্ষা বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
বিমানবাহী রণতরীর স্বল্প দৈর্ঘ্যের ফ্লাইট ডেক থেকে ভারী যুদ্ধবিমানকে দ্রুত আকাশে তুলতে ক্যাটাপল্ট ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো নিমিৎজ ক্লাসের রণতরীগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে স্টিম ক্যাটাপল্ট ব্যবহৃত হয়েছে। নতুন ফোর্ড ক্লাসে এর পরিবর্তে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক শক্তিনির্ভর ইএমএএলএস চালু করা হয়।
মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইএমএএলএসের উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিমান আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে উৎক্ষেপণ করা, রক্ষণাবেক্ষণের চাপ কমানো এবং পুরোনো স্টিম ব্যবস্থার তুলনায় কম জনবল ব্যবহার করা। বিভিন্ন ধরনের ও ওজনের বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থাটি বেশি নমনীয় হওয়ার কথা।
তবে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইএমএএলএসের সমালোচক। প্রথম মেয়াদ থেকেই তিনি স্টিম ক্যাটাপল্টকে তুলনামূলকভাবে সহজ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরে আসছেন। ২০১৭ সালেও তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, নৌবাহিনীর নতুন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ব্যবস্থার পরিবর্তে স্টিম প্রযুক্তিতে ফিরে যাওয়া উচিত।
এবার সেই অবস্থানকে আনুষ্ঠানিক নীতিতে রূপ দিলেন তিনি। তবে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা প্রযুক্তিগতভাবে সহজ হবে না। কারণ ফোর্ড ক্লাসের রণতরীগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ফ্লাইট ডেকের নিচের বিভিন্ন অবকাঠামো ইএমএএলএসকে কেন্দ্র করে ডিজাইন করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ইউএসএস ডরিস মিলারকে ঘিরে। ইএমএএলএস নির্মাতা জেনারেল অ্যাটমিকস জানিয়েছে, জাহাজটির জন্য সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই পর্যায়ে নকশা পরিবর্তন করলে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ, নির্মাণসূচিতে বিলম্ব এবং বিভিন্ন সিস্টেম সমন্বয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। পুরো পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় আরও বড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ স্টিম ক্যাটাপল্টের জন্য রণতরীর অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নতুন করে ডিজাইন ও স্থাপন করতে হবে।
স্টিম ব্যবস্থায় ফিরে গেলে জনবলের প্রয়োজনও বাড়তে পারে। আধুনিক ইএমএএলএস তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিল বিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় নাবিকের সংখ্যা কমানো। এমন সময়ে এই পরিবর্তন আসছে, যখন মার্কিন নৌবাহিনী বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনবল ও জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত চাপ মোকাবিলা করছে।
ট্রাম্পের নির্দেশ শুধু ক্যাটাপল্ট পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউএসএনআই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নীতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানো, সাবমেরিন মেরামতের সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং একটি নতুন সরকারি নেভাল শিপইয়ার্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিদেশি মিত্রদের জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতাকে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রয়োজনের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তবে ক্যাটাপল্ট পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ বিশ্বের অন্যান্য বড় নৌ শক্তি উল্টো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে। চীন তার নতুন ফুজিয়ান বিমানবাহী রণতরীতে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। ফ্রান্সও ভবিষ্যতের বিমানবাহী রণতরীর জন্য একই ধরনের প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হচ্ছে, যুদ্ধের সময় অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তির চেয়ে দীর্ঘদিন পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা বেশি কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে বর্তমান প্রযুক্তি পরিবর্তনের বিরোধীরা বলছেন, ফোর্ড ক্লাসের নকশা অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পর এমন পরিবর্তন করলে খরচ বাড়ার পাশাপাশি জাহাজগুলো নৌবাহিনীর হাতে পৌঁছাতেও আরও সময় লাগতে পারে।
এখন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও নৌবাহিনীকে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। ফলে ইউএসএস ডরিস মিলারের নকশায় ঠিক কতটা পরিবর্তন আসবে, এর জন্য কত অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে এবং জাহাজটির নির্মাণসূচি কতটা পিছিয়ে যাবে, সেসব বিষয় পরবর্তী ধাপে স্পষ্ট হওয়ার কথা।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বর্ধনশীল মেট্রো এলাকাগুলোর অন্যতম আটলান্টায় জনসংখ্যা এখনও বাড়ছে, তবে সেই বৃদ্ধির গতি কমে এসেছে। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের সর্বশেষ হিসাবে, গত এক বছরে ১১ কাউন্টির মেট্রো আটলান্টায় প্রায় ৫৩ হাজার ৭০০ নতুন বাসিন্দা যোগ হলেও বাড়ির সীমিত সরবরাহ, চড়া দাম এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের ধীরগতি মানুষের স্থানান্তরে বাধা তৈরি করছে। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের ২০২৬ সালের পপুলেশন এস্টিমেট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১১ কাউন্টির আটলান্টা অঞ্চলে ৫৩ হাজার ৬৯০ জন নতুন বাসিন্দা যোগ হয়েছেন। এতে অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার। এক বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ। আগের বছর এই বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং তখন নতুন বাসিন্দা যোগ হয়েছিল ৬৪ হাজার ৪০০ জন। অর্থাৎ আটলান্টায় মানুষ আসা বন্ধ হয়নি, কিন্তু আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার ৭০০ কম মানুষ যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেট্রো আটলান্টার গড় বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১০-এর দশকে এই হার ছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ২ শতাংশ এবং ১৯৯০-এর দশকে ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার পেছনে আবাসন সংকটকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অঞ্চলে বাড়ির চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম উঁচু রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন বাড়ি নির্মাণের পারমিট কমে যাওয়া এবং চাকরি বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে আসাও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য এলাকা থেকে আটলান্টায় স্থানান্তর হতে আগ্রহীদের ওপর বাড়ির চড়া দাম প্রভাব ফেলছে। একসময় তুলনামূলক কম খরচে বাড়ি কেনা এবং জীবনযাপনের সুযোগ আটলান্টার অন্যতম আকর্ষণ ছিল। কিন্তু জনসংখ্যা ও আবাসনের চাহিদা বাড়তে থাকায় সেই সুবিধা আগের মতো নেই। নতুন বাড়ি নির্মাণের তথ্যেও সংকটের চিত্র স্পষ্ট। ২০২৫ সালে ১১ কাউন্টির আটলান্টা অঞ্চলে মোট ২৪ হাজার ১৫টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এটি ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ কম। বর্তমান নির্মাণের হার দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায়ও অনেক নিচে। ১৯৮০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে বছরে গড়ে প্রায় ৩৩ হাজার ১৫০টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান আবাসন নির্মাণ সেই ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে। তবে পুরো মেট্রো এলাকার বৃদ্ধির গতি কমলেও সব জায়গায় পরিস্থিতি একই নয়। গত এক বছরে ১১টি কাউন্টির প্রতিটিতেই জনসংখ্যা বেড়েছে। ফুলটন কাউন্টিতে বৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর ফরসাইথ কাউন্টিতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং হেনরি কাউন্টিতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ জনসংখ্যা বেড়েছে। আটলান্টা শহরেও নতুন বাসিন্দা যোগ হওয়া অব্যাহত রয়েছে। গত এক বছরে শহরটিতে প্রায় ৬ হাজার ৯০০ নতুন বাসিন্দা যোগ হয়ে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের মতে, মিডটাউন এবং আটলান্টা বেল্টলাইনের আশপাশে মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং ডেভেলপমেন্ট শহরের সাম্প্রতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহরের কেন্দ্র ও আশপাশে অ্যাপার্টমেন্ট এবং অন্যান্য মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং নির্মাণের কারণে আটলান্টা শহরের বৃদ্ধির হার আগের কয়েক দশকের তুলনায় বেশি রয়েছে। ২০২৫ সালে আটলান্টা শহরেই ৫ হাজার ৬২২টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু হয়েছে, যা অঞ্চলটির মধ্যে সর্বোচ্চ। আটলান্টা শহরের বাইরের ফুলটন কাউন্টি এলাকায় ইস্যু হয়েছে আরও ৪ হাজার ৩৮টি পারমিট। ফুলটন কাউন্টিতে মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং নির্মাণের তৎপরতাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে কাউন্টিটিতে এ ধরনের আবাসনের জন্য ২ হাজার ২৫৫টি পারমিট ইস্যু হয়। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ১ হাজার ৩২২। স্যান্ডি স্প্রিংস, জনস ক্রিক, ইউনিয়ন সিটি ও কলেজ পার্কে এর বড় অংশের নির্মাণ কার্যক্রম হয়েছে। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন বলছে, অঞ্চলটির অর্থনীতি এখনও শক্তিশালী এবং নতুন বাসিন্দা আসছেন। তবে ভবিষ্যতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী বাড়ি তৈরি করতে না পারলে হাউজিং খরচ আরও বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন ইতিমধ্যে অঞ্চলব্যাপী একটি হাউজিং স্ট্র্যাটেজি তৈরির কাজ শুরু করেছে। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য বিভিন্ন আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে আরও বাড়ি তৈরি, বিদ্যমান অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং সংরক্ষণ এবং বাসিন্দাদের চাকরি ও প্রয়োজনীয় সেবার কাছাকাছি থাকার সুযোগ বাড়ানো। সর্বশেষ জনসংখ্যার হিসাব তাই আটলান্টার জন্য দুই ধরনের বাস্তবতা সামনে আনছে। অঞ্চলটিতে মানুষ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত বাড়ি তৈরি না হওয়া এবং হাউজিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় একসময়কার দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি ধীরে ধীরে কমে আসছে।
টিপিএস হারানোদের আইসিই চেক-ইনে ডেকে পরানো হচ্ছে অ্যাঙ্কেল মনিটর! নতুন নজরদারিতে বিতর্ক
তিন মাস ধরে দুধ নেই! মার্কিন যুদ্ধ জাহাজে খাবার সংকটে নাবিকদের আর্তনাদ
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বাদ দিয়ে স্টিম ব্যবস্থায় ফিরতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে ট্রাম্পের নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চিকিৎসকের চরম অবহেলায় চার বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের ভুলে মাত্রাতিরিক্ত চেতনানাশক বা সিডেটিভ প্রয়োগের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওই দন্ত চিকিৎসককে (ডেন্টিস্ট) গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেডিএফডব্লিউ (KDFW)-এর প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, নিহত শিশুটির নাম আইথানা আরিয়াগা। গত ১ এপ্রিল টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় অবস্থিত 'কাডল কিডস ডেন্টাল' নামের একটি ক্লিনিকে জিহ্বার চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে গিয়েছিল তার পরিবার। সেখানে ৪৮ বছর বয়সী দন্ত চিকিৎসক ক্রিশেল হেম্পিল শিশুটির চিকিৎসা করছিলেন। চিকিৎসা শুরুর আগে তিনি আইথানাকে মেপেরিডিন (যা ডেমেরল নামেও পরিচিত) নামক একটি চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তিনি শিশুটির শরীরে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় এই ওষুধ পুশ করেছিলেন। চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক ক্রিশেল হেম্পিল শিশুটি জ্ঞান ফিরলে তাকে খাওয়ার জন্য একটি পপসিকল (বরফ আইসক্রিম) এগিয়ে দেন। কিন্তু তখনই শিশুটির মাথা পেছনের দিকে ঢলে পড়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে হেম্পিল এবং ক্লিনিকে উপস্থিত অন্য একজন ডেন্টিস্ট মিলে দ্রুত শিশুটিকে সিপিআর (CPR) দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং জরুরি সেবায় (৯১১) কল করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে তদন্তে নেমে মেডিকেল পরীক্ষকরা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেন। তারা জানান, চিকিৎসক হেম্পিল শিশু আইথানাকে যে পরিমাণ মেপেরিডিন প্রয়োগ করেছিলেন, তা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্যও যথেষ্ট বিষাক্ত এবং বিপজ্জনক। তদন্তকারী কর্মকর্তারা আরও জানান, শিশুটির যখন জ্ঞান ফিরছিল না, তখন তাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য হেম্পিলের 'নারক্যান' ব্যবহার করা উচিত ছিল, কিন্তু তিনি ভুল করে 'ফ্লুমাজেনিল' নামের অন্য একটি ওষুধ ব্যবহার করেন। এছাড়া, শিশুটির নাড়ি বা পালস সচল থাকা সত্ত্বেও তিনি পালস পরীক্ষা করার জন্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে এইডি (AED) মেশিন ব্যবহার করেছিলেন। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো, মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগের কারণে শিশুটির যে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল, চিকিৎসক হিসেবে হেম্পিল তা খেয়াল করতেই সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। চিকিৎসায় এমন ভয়াবহ অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর গত ১৫ জুলাই (বুধবার) পুলিশ চিকিৎসক ক্রিশেল হেম্পিলকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে একটি শিশুকে গুরুতর শারীরিক আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফোর্ট ওয়ার্থ পুলিশের মুখপাত্র ব্র্যাড পেরেজ সংবাদমাধ্যম কেডিএফডব্লিউ-কে জানিয়েছেন, এই ঘটনার আগে চিকিৎসক হেম্পিলের বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ বা রেকর্ড ছিল না এবং টেক্সাস স্টেট বোর্ড অফ ডেন্টাল এক্সামিনার্সের অধীনে তার একটি সক্রিয় লাইসেন্সও ছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুলিশের এই মুখপাত্র অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ দিয়ে বলেন, "আমি একটি বিষয় সবাইকে পরামর্শ দেব, যদি আপনার সন্তানের কোনো চিকিৎসার সময় আপনি ভেতরে থাকতে চান, তবে সে বিষয়ে জোরালো দাবি জানাবেন। আমি বিশ্বাস করি, এই শিশুটির মা হয়তো ভেতরে গিয়ে সন্তানের অবস্থা দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু চিকিৎসা চলার কারণে তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। মা যদি ভেতরে থাকতেন, তবে হয়তো তিনি এমন কিছু লক্ষণ খেয়াল করতে পারতেন, যা ওই সময় চিকিৎসক বুঝতে পারেননি।" এই ঘটনায় পুরো ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অভিভাবকরা শিশুদের চিকিৎসায় চিকিৎসকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার দাবি তুলেছেন।
১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল, ভিসাধারীদের জরুরী ৫ করণীয়
গ্রীষ্মের ছুটিতে টানা ৩০০ ঘণ্টা পরিশ্রম, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য থ্রিডি প্রিন্টেড হুইলচেয়ার বানিয়ে প্রশংসায় ১৩ বছরের কিশোর
নিউ জার্সির আইসিই অভিবাসন আটককেন্দ্রে আরও এক অভিবাসীর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩
নিজের ২৩ মাস বয়সী মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা ও অগ্নিসংযোগের মামলায় দোষী সাব্যস্ত মেক্সিকান নাগরিক মারিয়া গুয়াদালুপে আরেওলা রিভেরাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় ডিপোর্ট করেছে আইসিই। দীর্ঘ কারাদণ্ড শেষে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে ইমিগ্রেশন হেফাজতে নেওয়া হয় এবং গত ৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯৮ সালে ইলিনয়ের কুক কাউন্টিতে। আরেওলা রিভেরা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছিলেন বলে মামলায় প্রমাণিত হয়। ওই আগুনে তার ২৩ মাস বয়সী মেয়ে মারা যায় এবং চার বছর বয়সী ছেলে গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়। মামলায় আরেওলা রিভেরাকে হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং অ্যাগ্রাভেটেড আর্সনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাকে দুটি ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। সাজা দুটি একই সময়ে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ৬০ বছর আলাদাভাবে কারাগারে থাকতে হয়নি। আইসিইর আগের তথ্য অনুযায়ী, কুক কাউন্টিতে তার বিরুদ্ধে দুটি অ্যাগ্রাভেটেড আর্সন এবং হত্যার দণ্ড ছিল। তার ক্রিমিনাল রেকর্ডে অ্যাগ্রাভেটেড চাইল্ড অ্যাবিউজের ঘটনাও ছিল। কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পর বিষয়টি ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের আওতায় আসে। আইসিই শিকাগোর কর্মকর্তারা তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন। পরবর্তী ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ৮ জুলাই তাকে মেক্সিকোয় ডিপোর্ট করা হয়। এর আগে ২০২৬ সালের এপ্রিলে আইসিই শিকাগোর ফিউজিটিভ অপারেশনস টিম আরেওলা রিভেরাকে টার্গেটেড অপারেশনের মাধ্যমে হেফাজতে নেওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছিল। সে সময় সংস্থাটি তাকে মেক্সিকোর নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করে এবং প্রায় তিন দশক আগের কুক কাউন্টির গুরুতর অপরাধের দণ্ডের তথ্য তুলে ধরে। আইসিই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ক্রিমিনাল সাজা শেষ হওয়া মানেই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সমাপ্তি নয়। কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত অধিকার হারালে বা তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রিমুভাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কারাগার থেকে মুক্তির পর তাকে আইসিই হেফাজতে নিয়ে ডিপোর্ট করা হতে পারে। আরেওলা রিভেরার ক্ষেত্রেও কারাদণ্ড শেষে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। আইসিই শিকাগোর কর্মকর্তারা তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
চ্যাটজিপিটি থেকে ধারণা নিয়ে মা ও ভাইকে খুন! যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছেলে গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষকের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা, প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল শিক্ষার্থীরা