সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ইরানে সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন
ইরানে সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন, প্রতিরক্ষার বদলে ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশলে জোর

ইরান তাদের সামরিক কমান্ড কাঠামোতে ব্যাপক রদবদল আনছে এবং দেশের ভেতরে-বাইরে শত্রুদের বিরুদ্ধে 'আক্রমণাত্মক' ব্যবস্থা নিতে কট্টরপন্থীদের শীর্ষ পদে নিয়োগ দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নতুন 'আক্রমণাত্মক নীতি' বাস্তবায়নের জন্য ছয়জন প্রবীণ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ইরান তাদের যুদ্ধপূর্ব রক্ষণাত্মক কৌশল থেকে সরে এসে শত্রুর ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে।    ক্লিনগেনডাল ইনস্টিটিউট থিংক ট্যাংকের হামিদরেজা আজিজি সিএনএন-কে বলেন, "আক্রমণাত্মক অভিযান, ঐক্যবদ্ধ কমান্ড এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া থেকে বোঝা যায় যে, ইরানের নেতৃত্ব তাদের ঐতিহ্যগত সতর্কতামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ ব্যবস্থার দিকে এগোতে চাইছে।"   এই রদবদলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নিয়োগ পেয়েছেন আইআরজিসি-র প্রধান (কমান্ডার-ইন-চিফ) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আহমাদ ওয়াহিদি। খামেনি তাকে শত্রুর বিরুদ্ধে শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। ওয়াহিদির ওপর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং বিদেশে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাকে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং খামেনির যুদ্ধপন্থী অবস্থানের প্রধান রূপকার হিসেবে মনে করা হয়। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় হস্তক্ষেপ এবং হরমুজ প্রণালিতে হামলার সমর্থক হিসেবে ওয়াহিদির পরিচিতি রয়েছে। তার এই নিয়োগের ফলে ইরান আরও কট্টর অবস্থানে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ওয়াহিদি তার কাজে আইআরজিসি-র সাবেক প্রধান মহসিন রেজাইয়েরও সমর্থন পাবেন, যাকে সম্প্রতি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন প্রধান করা হয়েছে। রেজাই গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকে, তবে মার্কিন সেনারা বিপদে পড়বে। এদিকে, ওয়াহিদি ও রেজাইয়ের এই নিয়োগকে কট্টরপন্থার প্রতি তেহরানের চরম প্রতিশ্রুতির প্রমাণ বলে আখ্যা দিয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক্স-এ তারা জানায়, "ইরানি শাসকগোষ্ঠী সন্ত্রাসের উপাসনা করে এবং এর কারিগরদের পুরস্কৃত করে সর্বোচ্চ ক্ষমতার আসনে বসায়।"   অভ্যন্তরীণ বিষয়েও আরও কঠোর শাসনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। খামেনি আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের নতুন প্রধান হিসেবে হোসেইন তায়েবকে নিয়োগ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই বাসিজ বাহিনীই এ বছরের শুরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়েছিল, যেখানে অন্তত ৭,০০০ মানুষ নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়; যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। হোসেইন তায়েব এর আগেও বাসিজের নেতৃত্বে ছিলেন এবং ২০১০ সালের বিক্ষোভে হত্যা ও গ্রেপ্তারের কারণে তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।   এই নিয়োগ এমন এক সময়ে এল, যখন গত প্রায় ছয় মাস ধরে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তার বাবার (সাবেক সর্বোচ্চ নেতা) কম্পাউন্ডে হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তার বাবা নিহত হওয়ার পরই তিনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হন। গত রোববার ইরান একটি ভিডিও প্রকাশ করে তাকে সুস্থ দেখানোর চেষ্টা করলেও, ধারণা করা হচ্ছে ভিডিওটি সংঘাতের আগের। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিংক ট্যাংক 'ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার'-এর মতে, এই রদবদলের মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচির উন্নয়ন। এর মাধ্যমে খামেনি ও তার মিত্ররা নিজেদের ক্ষমতা আরও সুসংহত করে যুদ্ধবিরতি চাইতে থাকা উদারপন্থীদের কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৮:৭
বমিতে শ্বাসনালি আটকে যাওয়া তিন বছর বয়সী এক মুমূর্ষু শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা
ক্যালিফোর্নিয়ায় শ্বাসনালিতে বমি আটকে মৃত্যুর মুখে তিন বছরের শিশু, প্রাণ বাঁচাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বমিতে শ্বাসনালি আটকে যাওয়া তিন বছর বয়সী এক মুমূর্ষু শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। স্যান বার্নার্ডিনো কাউন্টির রিয়াল্টো পুলিশের এই বীরত্বপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের একটি শ্বাসরুদ্ধকর ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। মায়ের চোখের সামনেই দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া ওই শিশুকে একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনেন তারা।   জানা যায়, গত ৫ আগস্ট দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ওই শিশুর মা তার সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে হঠাৎ তিনি বুঝতে পারেন যে তার সন্তানের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে এবং সে বমি করে ফেলেছে। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি ইস্ট ফুটহিল বুলেভার্ডের ৩০০ ব্লকের কাছে গাড়ি থামিয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় ৯১১ নম্বরে কল করেন। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন ওই অসহায় মা ফুটপাতে তার সন্তানের নিথর দেহ কোলে নিয়ে বসে ছিলেন। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শিশুটির মা বলেন, "আমার মনে হচ্ছিল ছেলেটা আমার চোখের সামনেই মারা যাচ্ছে।"   পরিস্থিতি বুঝতে পেরে এক পুলিশ কর্মকর্তা দ্রুত তার গাড়ি থেকে ‘লাইফভ্যাক’ (LifeVac) নামের একটি বিশেষ ডিভাইস বের করে আনেন। এরপর অন্য কর্মকর্তাদের সহায়তায় শিশুটিকে ফুটপাতে শুইয়ে ডিভাইসটির মাধ্যমে তার শ্বাসনালিতে আটকে থাকা প্রতিবন্ধকতা সরাতে পাম্প বা সাকশন তৈরি করতে থাকেন। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর অবশেষে শিশুটি শ্বাস নেয় এবং তার জ্ঞান ফেরে। এরপর রিয়াল্টো ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।   বডি-ক্যামেরার অপর একটি ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালে সুস্থ হয়ে ওঠা সন্তানকে কোলে নিয়ে বসে আছেন ওই মা এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের মাধ্যমে জীবন বাঁচানোর জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এ বিষয়ে রিয়াল্টো পুলিশের ক্যাপ্টেন ল্যামন্ট কোয়ার্কার গণমাধ্যমকে বলেন, "এই ঘটনাটি আমাদের প্রথম সাড়াদানকারী (ফার্স্ট রেসপন্ডার) কর্মীদের জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করার গুরুত্ব প্রমাণ করে। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসায় কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঠিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।"

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৭:৪২
বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা শাজিয়া হক
ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান শাজিয়া হক

ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা শাজিয়া হক। আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে তিনি কাউন্সিলমেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।   ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ শাজিয়া হক ব্যবসা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় নাগরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া শাজিয়া যুক্তরাষ্ট্রে এসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন কমিউনিটি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন।   তার প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, তিনি লালমাটিয়া কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলেস ভ্যালি কলেজ থেকে লিবারেল আর্টসে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি এবং ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি চ্যানেল আইল্যান্ডস থেকে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেন। বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় একাধিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন।   স্থানীয় নাগরিক নেতৃত্বেও শাজিয়া হকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের উইলশায়ার সেন্টার-কোরিয়াটাউন নেবারহুড কাউন্সিলের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের নেবারহুড কাউন্সিলের নথিতে তাকে দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সক্রিয় ছিলেন।   শাজিয়া হকের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে স্থানীয় জননিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, দায়িত্বশীল বাজেট ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় ব্যবসার বিকাশ এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের সঙ্গে সিটি সরকারের যোগাযোগ আরও সহজ করা এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যা সরাসরি সিটি কাউন্সিলে তুলে ধরার ওপরও তিনি জোর দিচ্ছেন।   ব্যবসা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন শাজিয়া। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা এবং স্থানীয় ছোট ব্যবসার বিকাশে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার জীবনীতে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও শাজিয়া হকের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সংগঠন ও বিভিন্ন আয়োজনে তার সম্পৃক্ততার কথা তার প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও সঞ্চালক ও আয়োজক হিসেবে কাজ করেছেন।   বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছেন শাজিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসের লিটল বাংলাদেশ এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা ও স্বার্থ নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।   অভিবাসন ইস্যুতেও সাম্প্রতিক সময়ে তার বক্তব্য জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের অভিবাসী পরিবারগুলোর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে স্পেকট্রাম নিউজ। ওই প্রতিবেদনে শাজিয়া হক তার বাবা-মা ও ভাইবোনদের বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং নতুন সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কথা বলেন।   কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশি-আমেরিকান সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও শাজিয়া হকের দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা বা ফোবানার বিভিন্ন কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস-হলিউডভিত্তিক ফোবানা আয়োজনের কার্যক্রমেও তিনি যুক্ত রয়েছেন বলে কমিউনিটি পর্যায়ে জানানো হয়েছে।   মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিলের নির্বাচনে শাজিয়া হকের প্রার্থিতা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্যও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ বাড়ার ধারাবাহিকতায় তার এই নির্বাচনী প্রচেষ্টা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   মন্টেবেলো সিটির সরকারি নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সাধারণ পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। ওই নির্বাচনে ডিস্ট্রিক্ট ১-এর কাউন্সিলমেম্বার পদও রয়েছে। নির্বাচিত কাউন্সিলমেম্বারের মেয়াদ হবে ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।   শাজিয়া হকের সামনে এখন মূল লক্ষ্য স্থানীয় ভোটারদের কাছে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সমর্থন বাড়ানো। নির্বাচনে জয়ী হলে ব্যবসা ও কমিউনিটি নেতৃত্বের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় প্রশাসনে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বের একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করার সুযোগ পাবেন তিনি।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৭:৩০
সন্তানদের নিরাপদ রাখতে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন এক সাহসী মা ড্যানিয়েল রিভেরা (৪০)
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাক্তন প্রেমিকের গুলিতে প্রাণ দিলেন পাঁচ সন্তানের মা

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে প্রাক্তন প্রেমিকের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ড্যানিয়েল রিভেরা (৪০) নামের পাঁচ সন্তানের এক মা। পরিবারের দাবি, সন্তানদের সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতেই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন তিনি। শনিবার মধ্যরাতে ইলিনয়ের কাহোকিয়া হাইটসে একটি পরিত্যক্ত আমেরিকান লিজিয়ন পোস্টের বাইরে জেভিয়ার হ্যারিসন (৩০) নামের ওই ব্যক্তি রিভেরাকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেন। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে রিভেরার ১৬ বছর বয়সী মেয়ের চোখের সামনেই।   পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা জানালেও রিভেরার পরিবার তা অস্বীকার করেছে। পরিবারের ভাষ্যমতে, তাদের মধ্যে একসময় সম্পর্ক থাকলেও হ্যারিসন গত কয়েক বছর ধরে রিভেরাকে ক্রমাগত হয়রানি করে আসছিল। ঘটনার রাতে রিভেরা হ্যারিসনের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়েছিলেন কেবল তার সন্তান এবং বয়স্ক মাকে বাঁচানোর তাগিদে। পরিবারের সদস্য তেরেসা ফিউডো জানান, রিভেরা যদি সেদিন হ্যারিসনের সাথে দেখা না করতেন, তবে সে সরাসরি তাদের বাড়িতে এসে আরও বড় ধরনের ক্ষতি বা ট্র্যাজেডির জন্ম দিতে পারত। রিভেরার মা কারেন রিভেরা বলেন, "সে মূলত আমাদের জীবন বাঁচাতেই নিজের জীবন বিপন্ন করেছে।" ঘটনার সময় রিভেরার কিশোরী মেয়ে কোনোমতে দৌড়ে পালিয়ে নিজের প্রাণ রক্ষা করে এবং ৯১১ নম্বরে কল করে পুলিশকে খবর দেয়।   আদালতের নথি থেকে জানা যায়, রিভেরা গত মার্চ মাসে হ্যারিসনের বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষা আদেশের (অর্ডার অব প্রটেকশন) আবেদন করেছিলেন, যা কয়েক সপ্তাহ পর এপ্রিলে বাতিল হয়ে যায়। শুধু রিভেরাই নন, গত মাসে এবং ২০১৯ সালেও আরও দুই নারী হ্যারিসনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা আদেশ পেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, হ্যারিসন এর আগেও রিভেরা ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়েছিল। গত কয়েক বছরে বেলভিলে অবস্থিত রিভেরার বাড়িতে অন্তত ৫০ বার পারিবারিক সহিংসতার কারণে পুলিশকে ডাকতে হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তার বোনেরা।   পরিবারের ভাষ্যমতে, রিভেরাই ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পাঁচ সন্তান ও মায়ের ভরণপোষণের জন্য তিনি প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা কাজ করতেন। তেরেসা ফিউডো বলেন, "সে তার সন্তানদের নিজের পুরো হৃদয় দিয়ে ভালোবাসত। সন্তানদের জন্য সে করতে পারে না, এমন কিছুই ছিল না।" এখন থেকে নিহত এই সাহসী মায়ের পাঁচ সন্তানের লালনপালনে তার মা কারেন রিভেরা সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৭:১৫
স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ম্যাককেসন
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ম্যাককেসনে শত শত চাকরি, বাংলাদেশিদের জন্য যেসব সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ম্যাককেসন। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৩৬৩টি পদে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী ম্যাককেসনের মোট ৫৩৯টি পদে নিয়োগ কার্যক্রম চলছে।   বর্তমান নিয়োগে ডিস্ট্রিবিউশন অপারেশন, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসা ও কৌশল, গ্রাহকসেবা, ফার্মেসি, চিকিৎসা ও চিকিৎসা গবেষণা, অর্থ ও হিসাব এবং বিপণন ও বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিভাগে কর্মী নেওয়া হচ্ছে।   সবচেয়ে বেশি নিয়োগ চলছে ডিস্ট্রিবিউশন অপারেশন বিভাগে। এই বিভাগে ১১৫টি পদে কর্মী নিচ্ছে ম্যাককেসন। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিতে ৬৭টি, ব্যবসা ও কৌশলে ৩৯টি, গ্রাহকসেবা ও সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় ৩২টি, অর্থ ও হিসাব বিভাগে ৩১টি, বিপণন ও বিক্রয়ে ২২টি, ফার্মেসিতে ১৬টি এবং চিকিৎসা ও চিকিৎসা গবেষণায় ১৪টি পদে নিয়োগ চলছে।   বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি আগ্রহের হতে পারে ওয়্যারহাউস ও ডিস্ট্রিবিউশন-সংক্রান্ত চাকরিগুলো। জর্জিয়ার এলাবেল ও বুফোর্ড, টেক্সাসের গ্রেপভাইন ও হিউস্টন, ক্যালিফোর্নিয়ার চিনো ও রোজভিল, ভার্জিনিয়ার ক্লিয়ার ব্রুক, নিউ জার্সির রবিনসভিল এবং মিসৌরির কানসাস সিটি ও ও’ফ্যালনসহ বিভিন্ন শহরে ওয়্যারহাউস কর্মী নিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানটি।   ডেলিভারি পেশাতেও কর্মী নিচ্ছে ম্যাককেসন। অ্যারিজোনার টলেসনে ১২ আগস্ট নতুন করে ডেলিভারি প্রফেশনাল–পার্সেল ভ্যান পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। নিউ জার্সি ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও ডেলিভারি-সংক্রান্ত পদে নিয়োগ চলছে। এসব পদের ক্ষেত্রে সাধারণত বৈধ ড্রাইভার লাইসেন্স, গ্রহণযোগ্য ড্রাইভিং রেকর্ড এবং নির্দিষ্ট শারীরিক সক্ষমতার শর্ত থাকতে পারে।   অফিসভিত্তিক কাজ বা গ্রাহকসেবায় আগ্রহীদের জন্যও রয়েছে একাধিক সুযোগ। কাস্টমার সার্ভিস রিপ্রেজেন্টেটিভ, কাস্টমার অনবোর্ডিং স্পেশালিস্ট, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার এবং গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদে কর্মী নেওয়া হচ্ছে। টেক্সাসের আরভিংয়ে ১২ আগস্ট কাস্টমার অনবোর্ডিং স্পেশালিস্ট এবং ১০ আগস্ট অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার পদে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।   তথ্যপ্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ বাংলাদেশিদের জন্যও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সুযোগ। সফটওয়্যার ডেভেলপার, ফুল-স্ট্যাক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিক্যাল আর্কিটেক্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা পদে নিয়োগ দিচ্ছে ম্যাককেসন। টেক্সাসের আরভিং ও ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট একাধিক পদে কর্মী নেওয়া হচ্ছে।   ফার্মেসি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতেও নিয়োগ চলছে। নিউ জার্সির ডেলরান টাউনশিপে ফার্মাসিস্ট, নর্থ ক্যারোলিনায় রিইম্বার্সমেন্ট কেস ম্যানেজার এবং বিভিন্ন স্থানে রোগী সহায়তা ও ক্লিনিক্যাল-সংক্রান্ত পদে কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। তবে এসব চাকরির অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের পেশাগত লাইসেন্স, যুক্তরাষ্ট্রে স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হতে পারে।   বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রে কাজের বৈধ অনুমতি। ম্যাককেসনের সব পদে বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা স্পনসরশিপ দেওয়া হয় না। প্রতিষ্ঠানটির বেশ কিছু বর্তমান চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীকে কোম্পানির ইমিগ্রেশন স্পনসরশিপ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন কাজ করার বৈধ অনুমতি থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে।   ফলে মার্কিন নাগরিক, গ্রিন কার্ডধারী, বৈধ ওয়ার্ক পারমিটধারী অথবা অন্য কোনো বৈধ ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি থাকা বাংলাদেশিরা যোগ্যতা অনুযায়ী এসব চাকরিতে আবেদন করতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আবেদন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট পদে ভিসা স্পনসরশিপের সুযোগ রয়েছে কি না, সেটি অবশ্যই আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।   ম্যাককেসনের কর্মসংস্থানের সুযোগ আগামী কয়েক বছরে আরও বাড়তে পারে। ওকলাহোমার মুর শহরে ৩ লাখ ৩০ হাজার বর্গফুটের নতুন একটি আঞ্চলিক বিতরণকেন্দ্র নির্মাণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ২৪ জুন প্রকল্পটির ঘোষণা দেয় ওকলাহোমা ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স।   নতুন কেন্দ্রটিতে প্রাথমিকভাবে ২০০-এর বেশি সরাসরি চাকরি তৈরি হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে সরাসরি ও পরোক্ষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মিলিয়ে প্রায় ৬৩৩টি কর্মসংস্থানের প্রভাব তৈরি হতে পারে। তবে এই ৬৩৩টির সবই ম্যাককেসনের সরাসরি চাকরি নয়।   চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ প্রতারণা সম্পর্কেও সতর্ক করেছে ম্যাককেসন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চাকরির আবেদন বা নিয়োগের নামে তাদের নিয়োগ কর্মকর্তারা কখনো অর্থ বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চান না। সাধারণ জিমেইল বা হটমেইল ঠিকানা কিংবা অনলাইন চ্যাটরুম ব্যবহার করেও আনুষ্ঠানিক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না।   সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ম্যাককেসনের বর্তমান নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। উচ্চ দক্ষতার প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা পদের পাশাপাশি ওয়্যারহাউস, ডেলিভারি এবং গ্রাহকসেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রেও চাকরি রয়েছে। তবে চাকরির তালিকা নিয়মিত পরিবর্তিত হওয়ায় আবেদন করার আগে পদের অবস্থান, যোগ্যতা, বেতন, কাজের সময়, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং ইমিগ্রেশন বা ভিসা স্পনসরশিপের শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৬:৫১
বামে: মিফতাহ সিদ্দিকী | ডানে: জুয়েল সাদত
মিফতাহ সিদ্দিকীর নিয়োগে সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদ জুয়েল সাদতের

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মিফতাহ সিদ্দিকীর নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জুয়েল সাদত। সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে মিফতাহ সিদ্দিকীর নিয়োগের প্রসঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি এ মন্তব্য করেন।   জুয়েল সাদত বলেন, ১৯৯০ সালে সিলেটের এমসি কলেজে পড়ার সময় থেকেই মিফতাহ সিদ্দিকীর সঙ্গে তার পরিচয়। রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অবস্থানে থাকলেও তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল। তার ভাষায়, ১৯৯০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় মিফতাহ সিদ্দিকী যে ইমেজ ধরে রেখেছেন, তা সহজ বিষয় নয়।   তিনি বলেন, মিফতাহ সিদ্দিকী শান্ত স্বভাবের এবং ঠান্ডা মাথার মানুষ। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন সিলেটে সাংবাদিকতা করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মিফতাহ সিদ্দিকী ও এমরান আহমদ চৌধুরীকে তার দেখা উল্লেখযোগ্য ছাত্রনেতাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন।   মিফতাহ সিদ্দিকী বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে।   জুয়েল সাদত বলেন, সিলেটের উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। তার মতে, এখন সিলেটের উন্নয়নে সরকার ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ, আইনশৃঙ্খলা ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।   সিলেট নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। তার প্রত্যাশা, মিফতাহ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ওয়াসা কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে নগরবাসীর নিরাপদ ও সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে অগ্রগতি হবে।   জুয়েল সাদত বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সিলেটের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি সিলেটে রাজনৈতিক সহাবস্থান, আইনের শাসন ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   তার ভাষায়, “ভালকে ভাল এবং সত্যকে সত্য বলতে হয়। কাউকে খুশি করার জন্য নয়, বিবেক ও দায়িত্ববোধ থেকেই কথা বলতে হয়।”   সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জুয়েল সাদত। তিনি রাজপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারীদের নিরাপদ চলাচল এবং পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান।   সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে সিলেটের অর্থনীতি ও পর্যটন খাত আরও এগিয়ে যাবে।   মিফতাহ সিদ্দিকীর নতুন দায়িত্বকে সামনে রেখে সিলেটের উন্নয়নে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান জুয়েল সাদত।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৬:২৮
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের ধরতে আইসিইর নতুন হাতিয়ার ‘ইলেকট্রিক শক’ গ্লাভস
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের ধরতে আইসিইর নতুন হাতিয়ার ‘ইলেকট্রিক শক’ গ্লাভস, উদ্বেগ মানবাধিকার কর্মীদের

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তারা খুব শিগগিরই এমন এক ধরনের বিশেষ গ্লাভস বা হাতমোজা ব্যবহার করতে যাচ্ছেন, যা দিয়ে সন্দেহভাজনদের বৈদ্যুতিক শক বা 'ইলেকট্রিক শক' দেওয়া যাবে। মূলত গ্রেপ্তারের সময় বাধা দেওয়া বা আক্রমণাত্মক ব্যক্তিদের দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এই গ্লাভস ব্যবহার করা হবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী মার্চের মধ্যে আইসিই এই বিশেষ গ্লাভস কিনতে ১ থেকে ২ কোটি (১০-২০ মিলিয়ন) ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে।   এই বিশেষ গ্লাভসটি ‘জি.এল.ও.ভি.ই’ (G.L.O.V.E.) নামে পরিচিত, যার পূর্ণরূপ হলো ‘জেনারেটেড লো আউটপুট ভোল্টেজ এমিটার’। কেনটাকির লেক্সিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি এটি তৈরি করেছে। দেখতে সাধারণ পেট্রোল গ্লাভসের মতো হলেও এতে একটি সুইচ রয়েছে, যা চাপলেই বৈদ্যুতিক মোড চালু হয়ে যায়। এটি সরাসরি কারও ত্বকে স্পর্শ করলে যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতির সৃষ্টি হয়, যাকে বিশেষজ্ঞরা মৌমাছির হুলের মতো তীক্ষ্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। কোম্পানির দাবি, এই ব্যথা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আক্রমণাত্মক ব্যক্তিকে শান্ত ও বাধ্য করতে সাহায্য করে। বয়স্ক বা শারীরিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল কর্মকর্তাদের জন্য এটি শারীরিক ধস্তাধস্তি এড়ানোর একটি দারুণ হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।   তবে আইসিই-র এই উদ্যোগ ঘিরে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)-সহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা কর্মীরা। তাদের মতে, অভিবাসন ধরপাকড় অভিযানে আইসিই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এসিএলইউ-এর এক কর্মকর্তা জানান, বোতাম টিপেই কাউকে ভয়ংকর বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার এই সুযোগ জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ হতে পারে। যদিও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সতর্ক করে বলেছে, এই গ্লাভস কোনোভাবেই শাস্তিস্বরূপ কিংবা শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীদের ওপর ব্যবহার করা যাবে না। এটি ব্যবহারের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করার পাশাপাশি প্রতি দুই বছর পরপর পুনরায় সনদ নিতে হবে।   হোয়াইট হাউসের চাপে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আইসিই যখন দেশজুড়ে তাদের অভিযান জোরদার করেছে, ঠিক এমন সময়েই এই বৈদ্যুতিক গ্লাভস কেনার উদ্যোগ সামনে এলো। সাম্প্রতিক ধরপাকড় অভিযানে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত মাসে বডি ক্যামেরা ছাড়াই আইসিই এজেন্টদের গুলিতে দুই অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সেই সমালোচনার মুখে ডিএইচএস প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, এখন থেকে আইসিই-র প্রতিটি গ্রেপ্তারকারী দলের অন্তত একজন কর্মকর্তার কাছে বডি ক্যামেরা থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে।  

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৬:০
যুক্তরাষ্ট্রে কার্ড স্কিমিংয়ের ভয়াল ফাঁদ, সোয়াইপ করলেই হাতিয়ে নিচ্ছে লাখো ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে কার্ড স্কিমিংয়ের ভয়াল ফাঁদ, সোয়াইপ করলেই হাতিয়ে নিচ্ছে লাখো ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি সহায়তাভোগীরা বর্তমানে এক অভিনব ও ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। 'কার্ড স্কিমিং' নামের এই কৌশলের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং সরকারি বেনিফিট কার্ডের তথ্য চুরি করে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, এটিএম বা কার্ড রিডারে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অত্যন্ত সুকৌশলে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে দেওয়া সম্ভব। এরপর মেশিনে যতবার কার্ড সোয়াইপ করা হয়, ততবারই স্কিমারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ওয়্যারলেস ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে গ্রাহকের পিন নম্বর ও অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য প্রতারকদের কাছে চলে যায়। সিক্রেট সার্ভিসের বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, একটিমাত্র স্কিমার ব্যবহার করে প্রায় ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত চুরি করা সম্ভব।   এই অপরাধের মাত্রা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সিক্রেট সার্ভিসকে এখন প্রেসিডেন্টকে নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে স্কিমার-বিরোধী অভিযান চালাতে হচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালেই তারা ৪০০টির বেশি অবৈধ স্কিমিং ডিভাইস উদ্ধার করেছে। তবে এটি দেশটিতে ছড়িয়ে থাকা মোট ডিভাইসের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। সিবিএস নিউজের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশটির ১৫টি অঙ্গরাজ্যে ৩২টি সক্রিয় ফেডারেল তদন্ত চলছে। সিক্রেট সার্ভিসের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ ডিভিশনের সহকারী স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ মাইকেল পেক জানান, পূর্ব ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র এই কাজের সাথে জড়িত। তারা প্রায়শই মেক্সিকো সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। এই জালিয়াতির ফলে প্রতি বছর আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ গ্রাহকদের সম্মিলিতভাবে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারেরও বেশি ক্ষতি হচ্ছে।   এই প্রতারক চক্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো 'ইবিটি' (EBT) বা সরকারি সহায়তা কার্ডগুলো, কারণ এগুলোতে আধুনিক 'ট্যাপ-অ্যান্ড-পে' বা চিপ প্রযুক্তির নিরাপত্তা নেই, ফলে এগুলো বাধ্য হয়ে মেশিনে সোয়াইপ করতে হয়। প্রতিটি কার্ডে প্রতি মাসে করদাতাদের হাজার হাজার ডলারের সরকারি সহায়তা (যেমন: খাদ্য সহায়তা ও বাড়িভাড়া) জমা থাকে। একবার এই টাকা চুরি হয়ে গেলে তা পুনরায় ফিরে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। মেরি বোয়েন নামের ছয় সন্তানের এক মা জানান, গত সপ্তাহে তাঁর কার্ড থেকে সব টাকা চুরি হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন বাড়িভাড়া বা খাবার কিছুই কিনতে পারছেন না। তিনি বলেন, "সব টাকা উধাও হয়ে গেছে। আমার কাছে নগদ কোনো অর্থ নেই, বাধ্য হয়ে আমাকে বন্ধুদের কাছ থেকে খাবার চেয়ে আনতে হচ্ছে।"   সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিচালিত এক অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৩২৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১,৭৪৯টি ডিভাইস পরিদর্শন করে ১৬টি স্কিমার জব্দ করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় এক কোটি ৬৬ লাখ ডলারের আর্থিক ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সিক্রেট সার্ভিস। বড় শহরগুলোর পাশাপাশি ছোট শহরগুলোতেও এই চক্রের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। তাই এই ডিজিটাল প্রতারণা থেকে বাঁচতে গ্রাহকদের যতটা সম্ভব কার্ড সোয়াইপ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাদের কার্ডে সুযোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে 'ট্যাপ-অ্যান্ড-পে' বা স্পর্শবিহীন লেনদেন পদ্ধতি ব্যবহার করাই নিজেকে সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে সেরা উপায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।  

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৫:৪৯
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দুটি স্বীকৃতি পেল পলাশ-ইভানা অভিনীত ‘মিস্টার বাদল’
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দুটি স্বীকৃতি পেল পলাশ-ইভানা অভিনীত ‘মিস্টার বাদল’

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া ‘মিস্টার বাদল’ এবার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দুটি সম্মানজনক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। সুইডেনে অনুষ্ঠিত ‘সিটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল স্টকহোম ২০২৬’-এ চলচ্চিত্রটির নির্মাতা আশরাফুজ্জামান সেরা পরিচালকের (বেস্ট ডিরেক্টর) পুরস্কার জিতে নিয়েছেন। একই সঙ্গে কানাডার ‘১১তম কানাডা ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এ কনটেন্টটি ‘অফিসিয়াল সিলেকশন’ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।   আশরাফুজ্জামানের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত এই কনটেন্টটি সুলতান এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পায়। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ, পারসা ইভানা, সৈয়দ জামান শাওন, নিকিতা সাহা, আবু হেনা রনি ও খায়রুল আলম টিপুসহ আরও অনেকে।   চলচ্চিত্রটির গল্প এগিয়েছে জিয়াউল হক পলাশের একটি স্টেজ পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাইয়ের চরিত্রে সৈয়দ জামান শাওনের উপস্থিতিতে গল্পে যুক্ত হয় অতীতের স্মৃতি, আনন্দ-বেদনা ও নস্টালজিয়া। প্রথম ক্লাইম্যাক্সের পর ‘রিতা’ চরিত্রে পর্দায় হাজির হন পারসা ইভানা।   তাঁর অভিনীত চরিত্রটির একটি সংলাপ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গল্পের পরতে পরতে থাকা একাধিক ক্লাইম্যাক্স ও চরিত্রের বাঁকবদল কাহিনিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে কমেডি, রোম্যান্স ও আবেগঘন দৃশ্যে ‘বাদল’ চরিত্রে পলাশের অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে।   অভিনয়ের পাশাপাশি কারিগরি নির্মাণেও ‘মিস্টার বাদল’ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফি, এডিটিং ও কালার গ্রেডিংয়ের দারুণ সমন্বয়ে গল্পের আবহ সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। সজিব দাশের করা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক (বিজিএম) গল্পের বিভিন্ন মুহূর্তকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। সার্বিকভাবে, আন্তর্জাতিক উৎসবের এই জোড়া স্বীকৃতি নির্মাতা আশরাফুজ্জামান ও পুরো টিমের জন্য এক বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৫:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রে চীনা নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পাইয়ে দিতে ভুয়া বিয়ের রমরমা ব্যবসা, অভিযুক্ত ১১ জন
যুক্তরাষ্ট্রে চীনা নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পাইয়ে দিতে ভুয়া বিয়ের রমরমা ব্যবসা, অভিযুক্ত ১১ জন

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বুধবার ১১ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি বিশাল 'ভুয়া বিয়ে' বা প্রতারণামূলক বিবাহ চক্র চালানোর অভিযোগ গঠন করেছে। গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের এক হাজারেরও বেশি ভুয়া বিয়ের আয়োজন করেছে এই চক্রটি।   নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রাপ্ত ২১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই প্রতারণা চক্রটি ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়ে আসছিল। অ্যামি চেং, জিয়াও মেই চ্যান এবং গ্যাং ঝেং নামের অভিযুক্তরা মূলত এই চক্রের নেতৃত্ব দিতেন। অভিযোগ গঠনের সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এটিকে "যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিবাহ জালিয়াতির অন্যতম বড় মামলা" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, এটি কোনো ক্ষণস্থায়ী বা রাতারাতি গড়ে ওঠা চক্র ছিল না, বরং যারা বৈধভাবে মার্কিন নাগরিক হতে পারতেন না, তাদের বেআইনিভাবে সাহায্য করার জন্য এটি ছিল বহু বছরের এবং কয়েক মিলিয়ন ডলারের একটি লাভজনক ব্যবসা।   অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা বিদেশি নাগরিকদের, বিশেষ করে চীনের নাগরিকদের কাছে এই প্রতারণামূলক ইমিগ্রেশন সেবার প্রচার চালাতে মুখে মুখে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপনের আশ্রয় নিত। বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি ভুয়া বিয়ের আয়োজনে সহায়তার জন্য বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে মাথাপিছু প্রায় এক লাখ ডলার পর্যন্ত হাতিয়ে নিত চক্রটি। অন্যদিকে, এই কাজের মধ্যস্থতাকারীরা প্রায় পাঁচ হাজার ডলার করে কমিশন পেতেন।   মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ধোঁকা দিতে ভুয়া বিয়ের অনুষ্ঠানের নানা ছবি জমা দেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটররা। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় স্থানীয় রেস্তোরাঁয় বিয়ের আয়োজন করা হতো, যেখানে বর-কনে ঐতিহ্যবাহী চীনা বিয়ের পোশাক পরতেন। এমনকি অনুষ্ঠানটিকে আসল প্রমাণ করতে এবং লোকদেখানোর জন্য বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদেরও আমন্ত্রণ জানানো হতো। নিউইয়র্ককে কেন্দ্র করে এই চক্র পরিচালিত হলেও, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, পেনসিলভানিয়া, কেনটাকি, টেনেসি, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, ভানুয়াতু এবং চীন জুড়ে এই ভুয়া বিয়ের জাল বিছিয়েছিল অভিযুক্তরা।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৫:১৪
চট্টগ্রামের মেজবানের স্বাদে মাতবে ভার্জিনিয়া, নকিব খান-প্রতীক হাসানের গানে জমবে প্রবাসীদের মিলনমেলা
চট্টগ্রামের মেজবানের স্বাদে মাতবে ভার্জিনিয়া, নকিব খান-প্রতীক হাসানের গানে জমবে প্রবাসীদের মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য এক আনন্দঘন মিলনমেলার প্রস্তুতি চলছে। আগামী ২৩ আগস্ট আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার ওয়ানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আমেরিকাপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন’ বা বাইটপো-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব ঘিরে প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের আয়োজনটি বিগত বছরগুলোর তুলনায় পরিসরে আরও বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ হবে।   চট্টগ্রামের সুস্বাদু মেজবানের পাশাপাশি এই আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো জমকালো সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের গানে গানে মাতাতে মঞ্চে উঠবেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকিব খান এবং প্রতীক হাসানসহ আরও বেশ কয়েকজন গুণী শিল্পী। সুস্বাদু খাবার আর আড্ডার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র-এর ব্যবস্থা। এতে ভাগ্যবান বিজয়ীদের জন্য হিরের আংটি, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনসহ নানা মূল্যবান পুরস্কার জেতার সুযোগ রাখা হয়েছে।   আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য স্যাম রিয়া জানান, প্রবাসীদের এক ছাদের নিচে এনে আনন্দময় সময় উপহার দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি সবাইকে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। আয়োজকদের মতে, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি ও চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সামাজিক ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করতে এই মেজবান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উত্তর ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৫:৩২
গর্ভপাত চেয়েছিলেন চুক্তিবদ্ধ বাবা-মা, রাজি হননি সারোগেট মা; শিশুর প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে এলো টেক্সাস আদালত
গর্ভপাত চেয়েছিলেন চুক্তিবদ্ধ বাবা-মা, রাজি হননি সারোগেট মা; শিশুর প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে এলো টেক্সাস আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত এক বিরল আইনি বিবাদে যুগান্তকারী রায় দিয়েছে। আলাস্কার অধিবাসী ম্যাকক্যানা ওয়েস্ট নামের এক সারোগেট মায়ের গর্ভে থাকা 'গ্যাব্রিয়েল' নামের একটি শিশুর প্রাণ রক্ষায় এই রায় দেওয়া হয়। গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহের দিকে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি 'হাইপোপ্লাস্টিক লেফট হার্ট সিনড্রোম' নামক একটি জটিল ও বিরল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত।   এই রোগে হৃদপিণ্ডের বাম দিকটি সঠিকভাবে বিকশিত হয় না। এই খবর শোনার পর ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা চুক্তিবদ্ধ বাবা-মা নওশীন গিলকার ও ওমর আহমেদ সারোগেট মাকে গর্ভপাতের নির্দেশ দেন। কিন্তু ম্যাকক্যানা ওয়েস্ট তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং শিশুটিকে বাঁচাতে উন্নত চিকিৎসার আশায় টেক্সাসের ডালাসে পাড়ি জমান।   এই মর্মান্তিক ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন। তাঁর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, চুক্তিবদ্ধ বাবা-মা শিশুটির প্রথম অস্ত্রোপচারে সম্মতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এবং তাকে টেক্সাসের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। এই পরিস্থিতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতের দ্বারস্থ হন। অবশেষে বুধবার টেক্সাসের আদালত নির্দেশ দেয় যে, গ্যাব্রিয়েল জন্ম নেওয়ার পর তাকে অবশ্যই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। কেন প্যাক্সটনের কার্যালয় থেকে আরও জানানো হয় যে, কোনো গর্ভকালীন চুক্তি শিশুর জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।   ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্যমতে, এই ধরনের হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণত তিনটি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়, যার প্রথমটি জন্মের দুই সপ্তাহের মধ্যেই করতে হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও তাকে আজীবন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বাঁচতে হতে পারে। আদালত চিকিৎসায় বাধা দেওয়া ঠেকাতে চুক্তিবদ্ধ বাবা-মায়ের ওপর একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এছাড়া চিকিৎসার স্বার্থে আদালত শিশুটির জন্য একজন আইনি প্রতিনিধি বা 'গার্জিয়ান অ্যাড লাইটেম' নিয়োগ করেছে। আগামী ২৫ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার ডে-কেয়ারে অন্য শিশুদের সামনেই স্ত্রী-সন্তানকে হ ত্যার পর বাবার আত্মহ ত্যা
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার ডে-কেয়ারে অন্য শিশুদের সামনেই স্ত্রী-সন্তানকে হ ত্যার পর বাবার আত্মহ ত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে হপকিন্স শহরের ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুসহ তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা, যেখানে এক বাবা তার স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করে এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। নিহত তিনজন একই পরিবারের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।   স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে হপকিন্সের টাইলার এভিনিউ নর্থের ২০০ ব্লকে অবস্থিত একটি বাড়ির ডে-কেয়ারে এই নারকীয় ঘটনা ঘটে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক অভিভাবক তার সন্তানকে ডে-কেয়ারে নামিয়ে দেওয়ার সময় এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান এবং আতঙ্কিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৯১১-এ কল করে পুলিশকে খবর দেন। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য শিশুদের চোখের সামনেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারী কর্মকর্তারা।   পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে মোট সাতজন শিশু উপস্থিত ছিল। তবে নিহত শিশুটি এই সাতজনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়। স্বস্তির বিষয় হলো, ভুক্তভোগী পরিবারটি ছাড়া সেখানে থাকা অন্য কোনো শিশুর শারীরিক ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিজ নিজ বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।   মিনিয়াপোলিসের ঠিক দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত হপকিন্স শহরতলির এই ঘটনায় প্রশাসন ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার এক বক্তব্যে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এই হামলাকে একটি "সংকটজনক ঘটনা" (ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমাদের হৃদয় ও প্রার্থনা হপকিন্সের মানুষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে রয়েছে।" তিনি ইতোমধ্যে হপকিন্সের মেয়র হ্যানলনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন এবং এই সংকটময় মুহূর্তে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:১২
ফ্লোরিডায় কুমিরের আক্রমণে হাত হারালেন ৫৮ বছর বয়সী নারী, টিকটকারদের দুষছেন ছেলে
ফ্লোরিডায় কুমিরের আক্রমণে হাত হারালেন ৫৮ বছর বয়সী নারী, টিকটকারদের দুষছেন ছেলে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কুমিরের ভয়াবহ হামলায় হাত হারিয়েছেন ডিনা স্প্যান (৫৮) নামের এক নারী। শনিবার ম্যারিয়ন কাউন্টির সিলভার রিভারে ভাসার সময় একটি বিশাল কুমির তাকে আক্রমণ করে। এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য অতিরিক্ত পর্যটক এবং সস্তা জনপ্রিয়তালোভী টিকটকারদের দায়ী করেছেন তার ছেলে জ্যাক গুয়েরিনা। তার দাবি, পর্যটকরা নদীর ধারে কুমিরকে খাবার দিচ্ছেন এবং তাদের গায়ে হাত বুলিয়ে ভিডিও বানাচ্ছেন। এতে করে এসব হিংস্র প্রাণী মানুষের প্রতি ভয় হারিয়ে ফেলছে এবং মানুষের আশেপাশে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।   জ্যাক জানান, তিনি নিজে এই নদীতে শত শত বার সাঁতার কেটেছেন, কিন্তু কখনোই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। তিনি বলেন, ফ্লোরিডায় নতুন আসা অনেকেই আগে কখনো কুমির দেখেনি। টিকটকে কুমিরের সাথে মানুষের অতি-ঘনিষ্ঠতার ভিডিও দেখে তারা এসব প্রাণীর কাছে যাওয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ঘটনার দিন ডিনা স্প্যান একটি নিষিদ্ধ এলাকায় সাঁতার কাটছিলেন। কুমিরের হামলায় তার ডান হাত কনুইয়ের নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হয় এবং বাম হাতের অন্তত একটি আঙুল কাটা পড়ে। জ্যাকের আশঙ্কা, মানুষ এভাবে কুমিরকে খাবার দেওয়া অব্যাহত রাখলে ভবিষ্যতে এমন আক্রমণ আরও ঘটবে।   সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লোরিডায় কুমিরের হামলার বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ জুন সেমিনোল কাউন্টির একনলক্যাচি নদীতে ১৩ ফুট লম্বা একটি কুমিরের হামলায় ব্রিটানি ক্লার্ক (৩১) নামের এক নারী নিহত হন। এর একদিন আগে, ২৭ জুন ম্যারিয়ন কাউন্টিতে বাবার সাথে মাছ ধরার সময় ১১ বছর বয়সী কিশোর ব্রোডি টেরি কুমিরের হামলায় তার এক হাত হারায়। জ্যাক গুয়েরিনা মনে করেন, ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের (এফডব্লিউসি) উচিত কুমির শিকারের আরও বেশি অনুমতি দেওয়া, কারণ সেখানে কুমিরের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এদিকে, রোববারের ঘটনার পর সিলভার রিভার থেকে ৯ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা একটি কুমির ধরে সরিয়ে নিয়েছেন বন বিভাগের কর্মীরা, যার ফলে নদীটি ফের জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।   পেশায় কাঠমিস্ত্রি জ্যাক তার মাকে একজন 'হিপি সোল' বা মুক্তমনা মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি প্রাণীদের ভালোবাসেন এবং বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। সম্প্রতি আফ্রিকা সফর থেকে ফ্লোরিডায় ফিরেছিলেন তিনি। জ্যাক জানান, এত বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিজের একটি হাত হারিয়েও তার মা মানসিকভাবে যথেষ্ট দৃঢ় ও শান্ত রয়েছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৩:৫২
কানসাসের উইনফিল্ডে চার সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত। ছবি: সংগৃহীত
চার সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বাবার, পুলিশকে ফোন করে নিজেই জানালেন

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের উইনফিল্ডে চার সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন ৫৩ বছর বয়সী এক বাবা। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ওই ব্যক্তি নিজেই জরুরি নম্বরে ফোন করে পরিবারের সবাইকে হত্যার কথা জানান এবং এরপর নিজেকে হত্যা করতে যাচ্ছেন বলে জানান। পরে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে ওই ব্যক্তি, তার স্ত্রী এবং চার সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে জরুরি নম্বরে ফোনটি আসে। ফোনে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি তার পুরো পরিবারকে হত্যা করেছেন এবং এখন নিজেকেও হত্যা করতে যাচ্ছেন। ওই সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত বাড়িটির দিকে রওনা হন।   পুলিশ বাড়ির কাছে পৌঁছানোর সময় একটি গুলির শব্দ শোনে। এরপর কর্মকর্তারা নিরাপদ অবস্থানে সরে গিয়ে বাড়িটিকে ঘিরে ফেলেন। ঘটনাটিকে তখন ব্যারিকেড পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করে স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে সকাল ১১টার কিছু আগে পুলিশ বাড়ির সামনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ছয়জনের মরদেহ দেখতে পায়।   কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত নারী হলেন ৪৪ বছর বয়সী কেলি জর্জ। তার চার সন্তান হলেন ৯ বছর বয়সী ক্যারল উইলিয়ামস, ৭ বছর বয়সী রোনাল্ড উইলিয়ামস জুনিয়র, ৫ বছর বয়সী সারাহ উইলিয়ামস এবং ৩ বছর বয়সী কেলি ম্যাগি উইলিয়ামস। সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে শিশুদের বাবা ৫৩ বছর বয়সী রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়রকে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই বাড়িতে শুধু এই ছয়জন পরিবারের সদস্যই থাকতেন। পুলিশ বলেছে, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এটি বিচ্ছিন্ন একটি পারিবারিক ঘটনা। বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো চলমান হুমকি নেই বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের বিশেষ এজেন্ট জেসন দিয়াজ বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি জরুরি নম্বরে ফোন করে যে তথ্য দিয়েছিলেন, সেটি সঠিক ছিল বলেই তিনি মনে করছেন। কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর যে শেষ গুলির শব্দ শুনেছিলেন, সেটি ওই ব্যক্তির নিজের গুলিতে আত্মহত্যার ঘটনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ঘটনার আগে ওই পরিবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। পুলিশ প্রধান রব্বি ডিলং জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে রোনাল্ড উইলিয়ামসকে ঘিরে কয়েকটি অভিযোগ পুলিশ পেয়েছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ, মানুষের সঙ্গে কথা কাটাকাটি এবং চিৎকার করার মতো ঘটনাও ছিল।   তবে পুলিশ প্রধান বলেছেন, আগের ওই ঘটনাগুলো থেকে মঙ্গলবারের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে, এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত তারা পাননি। দুই দশকের বেশি সময়ের পুলিশি কর্মজীবনে তিনি এমন ঘটনা দেখেননি বলেও জানিয়েছেন। পরিবারটির ছয় সদস্যের মৃত্যুতে উইনফিল্ডে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৩:১৭
নিষিদ্ধ উইঘুর উপন্যাস পড়ার মধ্য দিয়ে প্রেমে পড়া ইয়ালকুন উলুইওল ও রাবিয়া। ছবি: সংগৃহীত
নিষিদ্ধ বইয়ে প্রেমের শুরু, বহু বাধা পেরিয়ে বিয়ে চীনা মুসলিম দম্পতির

চীনের শিনচিয়াং অঞ্চলে নিষিদ্ধ একটি উপন্যাস হাতে পাওয়ার পর দুই কিশোর-কিশোরীর মধ্যে প্রেমের শুরু হয়। সেই প্রেম নানা বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বিয়েতে গড়ায়। ২০০৯ সালে ১৬ বছর বয়সী ইয়ালকুন উলুইওল আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে একটি সাত খণ্ডের নিষিদ্ধ উইঘুর উপন্যাস খুঁজে পান। পরে সেই বইটি সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাবিয়ার সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি। বই নিয়ে হাতে লেখা চিঠি আদান-প্রদানের মধ্য দিয়েই তাদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে প্রেমে রূপ নেয়।   ঘটনাটি ২০০৯ সালের এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যার। চীনের শিনচিয়াং অঞ্চলের কুমুলে বাবার সঙ্গে এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন ইয়ালকুন। সেখানে বড়দের গল্প ও আড্ডার মধ্যে বসে থাকতে তার ভালো লাগছিল না। তাই বাড়ির একটি পড়ার ঘরে যাওয়ার অনুমতি নেন তিনি। ঘরটিতে শত শত বই ছিল। সেখানেই একটি কোণে রাখা সাত খণ্ডের একটি উইঘুর উপন্যাস তার নজরে আসে।   বইটির নাম ছিল ‘লেইঘান বুলাক’, যার অর্থ কর্দমাক্ত ঝরনা। বইটির লেখক ছিলেন পরিচিত উইঘুর ঔপন্যাসিক জালালিদিন বাহরাম। বাড়ির মালিক ইয়ালকুনকে জানান, বইটি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নৃশংসতা নিয়ে লেখা এবং সরকার এটি নিষিদ্ধ করেছে। তাকে বইটি কাউকে না দেখাতে, স্কুলে না নিতে এবং পড়া শেষ হলে ফেরত দিতে বলা হয়। কিন্তু কৌতূহলী ইয়ালকুন বাড়ি ফিরে মধ্যরাতের পর বইটির প্রথম খণ্ড পড়া শুরু করেন। এরপর তিনি বইটির চরিত্র ও কাহিনিতে গভীরভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।   উপন্যাসটিতে নিজ দেশের একটি গ্রামীণ এলাকার শিক্ষকদের জীবন, জোরপূর্বক শ্রম, আত্মীকরণ ও রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় উঠে এসেছিল। একই সঙ্গে তিন তরুণ দম্পতির গল্পের মধ্য দিয়ে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছিল। বইটির এই বিষয়গুলো ইয়ালকুনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। পরে তিনি বইটি তার সহপাঠী রাবিয়ার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   রাবিয়া ছিলেন ইয়ালকুনের পড়াশোনার প্রতিদ্বন্দ্বী এবং গোপন বন্ধু। রক্ষণশীল মুসলিম শহরে ছেলে ও মেয়ের বন্ধুত্বকে স্বাভাবিকভাবে দেখা হতো না। তাই তারা বই নিয়ে হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে কথা বলতেন। রাবিয়া স্কুলে ইয়ালকুনকে এড়িয়ে চললেও তাদের লেখা খাতাগুলো তাদের জন্য একটি ব্যক্তিগত জগত তৈরি করেছিল। ইয়ালকুন নিষেধ অমান্য করে বইটি স্কুলে নিয়ে গিয়ে রাবিয়ার ব্যাগে তার খাতার সঙ্গে রেখে দেন। বইটির বন্ধুত্বের গল্প তাদের নিজেদের সম্পর্কের সঙ্গেও মিল খুঁজে পেতে শুরু করে।   একপর্যায়ে বইয়ের চরিত্রদের কথা বলতে বলতে তাদের নিজেদের অনুভূতিও সেই আলোচনায় মিশে যায়। ইয়ালকুন বইয়ের প্রধান চরিত্রদের উল্লেখ করে রাবিয়াকে জানান, তারও তার প্রতি অনুভূতি তৈরি হয়েছে। সেই সময় থেকেই তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়। প্রায় এক বছর পর ইয়ালকুন উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে চলে যান। দূরত্ব তৈরি হলেও ফোন ও বার্তার মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক টিকে থাকে।   তবে একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে গিয়ে তাদের সামনে বড় বাধা তৈরি হয়। রাবিয়ার পাসপোর্ট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ শিনচিয়াং কর্তৃপক্ষ উইঘুরদের পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ করত। এর মধ্যে মাথায় ওড়না পরার কারণে রাবিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি। পরে তিনি ভাষা শেখার জন্য বেইজিংয়ে চলে যান। এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের শহরের কঠোর পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়।   ইয়ালকুন বাড়ি ছাড়ার চার বছর পর ২০১৪ সালে রাবিয়া তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। সেখানে তখন ইয়ালকুন পড়াশোনা করছিলেন। পরে ২০২০ সালে তারা বিয়ে করেন। তবে বিয়েতে রাবিয়ার বাবা-মা ও ভাই-বোনসহ ইয়ালকুনের বাবাও উপস্থিত থাকতে পারেননি। এরপরও তারা একসঙ্গে জীবন শুরু করেন। কিন্তু নিজ দেশে চলমান পরিস্থিতির কারণে তাদের শেষ পর্যন্ত দেশত্যাগ করে নির্বাসিত জীবন বেছে নিতে হয়।   চীনা কর্তৃপক্ষের অভিযানের কারণে তাদের পরিবারের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয়। ইয়ালকুনের বাবাসহ বিপুলসংখ্যক উইঘুরকে কোনো ধরনের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই আটক করা হয়েছিল বলে ইয়ালকুন জানান। বিদেশে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে চীনা সরকারের শাস্তির আশঙ্কায় তারা পরিবারের সঙ্গে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোও ভাগ করে নিতে পারতেন না।   ২০২৩ সালের নভেম্বরে তাদের দুই বছর বয়সী মেয়ে দুরারোগ্য অসুস্থতায় মারা যায়। ইস্তাম্বুলের একটি কবরস্থানে মেয়েটিকে দাফন করেন তারা। মেয়েটির জীবনের সঙ্গে তার নিজ দেশের দাদা-দাদিসহ পরিবারের সদস্যদের যে স্মৃতি তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেটিও আর সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাও তাদের জীবনে গভীর শোকের স্মৃতি হয়ে থাকে।   ২০২৪ সালের শেষ দিকে ইয়ালকুন ও রাবিয়া লন্ডনে চলে যান। সেখানে নতুন জীবন শুরু করার সময় তারা পুরোনো স্কুলের খাতাগুলো বের করেন। এক ডজনের বেশি খাতায় একসময় গোপনে লেখা তাদের পুরোনো চিঠিগুলো পড়তে গিয়ে তারা নিজেদের দীর্ঘ পথচলার কথা আবার মনে করেন। যে নিষিদ্ধ বই তাদের কৈশোরের বন্ধুত্বকে প্রেমে পরিণত করেছিল, সেই বইয়ের মতোই তাদের জীবনেও ছিল বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, কঠিন সময় এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৩:০
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য: ‘বাইডেনের জন্য আমার খারাপ লাগে না, সহানুভূতির দরকার নেই’

ক্যানসারে আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরোনো একটি মন্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, বাইডেনের স্টেজ ফোর প্রোস্টেট ক্যানসারের কারণে তার প্রতি সহানুভূতি না দেখাতে মার্কিনিদের বলেছিলেন ট্রাম্প। তবে বক্তব্যটির মূল ভিডিও ও সরকারি ট্রান্সক্রিপ্ট যাচাই করে দেখা যায়, ট্রাম্প কথাগুলো বললেও তিনি ওই সময় সরাসরি বাইডেনের ক্যানসারের কথা উল্লেখ করেননি।   ট্রাম্প মন্তব্যটি করেছিলেন ২০২৫ সালের ৩০ মে হোয়াইট হাউসে ইলন মাস্ককে সঙ্গে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে। এর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে, ১৮ মে বাইডেনের অফিস থেকে তার প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।   সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে কথা বলছিলেন ট্রাম্প। একপর্যায়ে বাইডেন সম্পর্কে তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট তার রাজনৈতিক জীবনে মোটামুটি মধ্যপন্থী ছিলেন, তবে তিনি একজন ‘ভয়ংকর’ ব্যক্তি।   এরপর ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার যদি তার জন্য খারাপ লাগে, তাহলে এতটা খারাপ লাগার দরকার নেই। কারণ তিনি ভয়ংকর।’   বাইডেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও অন্য অনেক মানুষের ক্ষতি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। এরপর তিনি বলেন, ‘তাই তার জন্য আমার সত্যিই খারাপ লাগে না।’   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বাইডেনের ক্যানসার বা তার চিকিৎসার কথা সরাসরি উল্লেখ করেননি। সরকারি ট্রান্সক্রিপ্টেও দেখা যায়, মন্তব্যটি এসেছিল বাইডেন প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘ বক্তব্যের মধ্যে।   ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘বাইডেনের ক্যানসারের জন্য সহানুভূতি দেখাতে নিষেধ করেছেন ট্রাম্প’ এমন সরাসরি ব্যাখ্যা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ট্রাম্প যে বাইডেনকে ‘ভয়ংকর’ বলেছেন এবং তার জন্য নিজের সহানুভূতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন, সেটি ভিডিও ও সরকারি নথিতে নিশ্চিত। কিন্তু তিনি ওই মন্তব্যের মাধ্যমে বিশেষভাবে বাইডেনের ক্যানসারকেই বোঝাচ্ছিলেন কি না, তা বক্তব্যের প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট নয়।   বাইডেনের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পর ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। ১৮ মে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বাইডেনের চিকিৎসাজনিত খবর শুনে তিনি ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প দুঃখিত। একই সঙ্গে বাইডেনের দ্রুত ও সফল আরোগ্য কামনা করেন।   পরদিন থেকেই অবশ্য বাইডেনের ক্যানসার কখন শনাক্ত হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন ট্রাম্প। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, বাইডেনের অসুস্থতার তথ্য আগে থেকেই জানা ছিল কি না।   বাইডেনের অফিস ২০২৫ সালের মে মাসে জানায়, তার প্রোস্টেট ক্যানসার হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকেরা ক্যানসারটির গ্লিসন স্কোর ৯ এবং গ্রেড গ্রুপ ৫ হিসেবে শনাক্ত করেন, যা রোগটির উচ্চমাত্রার আক্রমণাত্মক ধরন নির্দেশ করে। তবে ক্যানসারটি হরমোন সংবেদনশীল হওয়ায় কার্যকর চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে বলেও সে সময় জানানো হয়েছিল।   নিজের চিকিৎসা নিয়ে পরে বাইডেন জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকেরা তার পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী এবং তিনি চিকিৎসা শুরু করেছেন।   এক বছরের বেশি সময় আগের ট্রাম্পের ওই বক্তব্য এখন আবার ভাইরাল হওয়ায় এর সঙ্গে বাইডেনের ক্যানসারকে সরাসরি যুক্ত করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে মূল বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট বলছে, ট্রাম্প বাইডেনের প্রতি সহানুভূতি না থাকার কথা বলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই মুহূর্তে তিনি ক্যানসারের প্রসঙ্গ তোলেননি। তাই বক্তব্যটির রাজনৈতিক ও চিকিৎসাজনিত প্রেক্ষাপট আলাদা করে দেখা জরুরি।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১২:৪১
কঠোর সঞ্চয় ও নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ ডলারের সম্পদ গড়া লন্ডনের তরুণী মিয়া ম্যাকগ্রাথ। ছবি: সংগৃহীত
সস্তা নাশতা খেয়ে ২৪ বছরেই সঞ্চয় ৯৭ হাজার ডলার! ৪০-এ অবসর যা পারছেন তাই করছেন

বয়স মাত্র ২৪ বছর। অথচ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ডলারের সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন লন্ডনের তরুণী মিয়া ম্যাকগ্রাথ। লক্ষ্য আরও বড়। ৪০ বছরের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই এমন আর্থিক অবস্থানে যেতে চান, যেখানে জীবন চালানোর জন্য নিয়মিত চাকরি করা আর বাধ্যতামূলক থাকবে না।   এই লক্ষ্য পূরণে মিয়া বেছে নিয়েছেন কঠোর সঞ্চয় ও নিয়মিত বিনিয়োগের পথ। দামি কফি কেনা থেকে শুরু করে নিয়মিত বাইরে খাওয়া, অপ্রয়োজনীয় পোশাক কিংবা সৌন্দর্যচর্চায় বড় অঙ্কের খরচ, সবকিছুতেই লাগাম টেনেছেন তিনি।   তার দৈনন্দিন সাশ্রয়ের সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ সকালের নাশতা। অধিকাংশ দিন ডিমের সঙ্গে রুটি বা অর্ধেক ব্যাগেল খেয়ে সকাল শুরু করতেন মিয়া। খরচ পড়ত প্রায় ৫০ পেন্স, যা এক ডলারেরও কম।   তবে শুধু সস্তা নাশতা খেয়ে যে তিনি এত অর্থ জমিয়েছেন, বিষয়টি তা নয়। মিয়ার আর্থিক অবস্থান তৈরির পেছনে আরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সুবিধা ও সিদ্ধান্ত রয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর প্রায় দুই বছর বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকায় তাকে রেন্ট দিতে হয়নি। মিয়া নিজেও এই সুবিধার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িতে থাকার সুযোগ তাকে আর্থিকভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।   রেন্ট ও বাসাবাড়ির অন্যান্য বড় খরচ না থাকায় আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগে দিতে পেরেছেন তিনি। এর পাশাপাশি ফুলটাইম চাকরির সঙ্গে বিভিন্ন সাইড হাসল থেকেও বাড়তি আয় করেছেন।   মিয়া নিজেই জানিয়েছেন, শুরু থেকেই তার আয় অস্বাভাবিক বেশি ছিল না। বরং অল্প বয়সে পার্সোনাল ফাইন্যান্স সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হওয়া এবং আয় হাতে আসার পর নিয়মিত বিনিয়োগ করাই তাকে দ্রুত এগিয়ে দিয়েছে।   তার বাড়তি আয়ের পথগুলোর মধ্যে ছিল বিভিন্ন পণ্য পুনরায় বিক্রি, ব্যাংক সুইচিং, সার্ভে, কনটেন্ট তৈরি এবং ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড গড়ে তোলা। ছোট অঙ্কের বাড়তি আয়কেও তিনি বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখেছেন।   মিয়ার এই পরিকল্পনা মূলত ‘ফায়ার’ ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফায়ার অর্থ ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনডিপেনডেন্স, রিটায়ার আর্লি’। এই ধারণার অনুসারীরা কর্মজীবনের শুরুর দিক থেকেই আয়ের বড় অংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করেন, যাতে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের আয় দিয়েই জীবনযাপনের ব্যয় চালানো সম্ভব হয়।   ২০২৫ সালের শুরুর দিকে মিয়া জানিয়েছিলেন, তার সঞ্চয় ও বিনিয়োগ প্রায় ৭০ হাজার পাউন্ডে পৌঁছেছে। সে সময় তার নির্ধারিত ‘ফায়ার নম্বর’ ছিল প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড। অর্থাৎ তার হিসাবে ওই পরিমাণ বিনিয়োগ তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে সেখান থেকে পাওয়া আয়ের ওপর নির্ভর করে আর্থিকভাবে স্বাধীন থাকা সম্ভব হতে পারে।   পরবর্তী সময়ে তার সঞ্চয় আরও দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি নাগাদ মিয়া জানান, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ প্রায় এক লাখ পাউন্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে নিজের লেখায় তিনি জানান, ২৫ বছর বয়সে তার নেট ওয়ার্থ প্রায় তিন লাখ পাউন্ডে পৌঁছেছে এবং তিনি নিজের ব্যবসাও পরিচালনা করছেন।   তবে মিয়ার কাছে ‘আগে অবসর’ মানেই ৪০ বছর বয়সে সব ধরনের কাজ বন্ধ করে দেওয়া নয়। তার লক্ষ্য ‘সফট রিটায়ারমেন্ট’। অর্থাৎ অর্থ উপার্জনের বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে নিজের পছন্দ অনুযায়ী কতটা এবং কখন কাজ করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা অর্জন করা।   তিনি চান এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে, যখন ছুটি নেওয়ার জন্য প্রতিবার বসের অনুমতির অপেক্ষা করতে হবে না এবং শুধু মাসিক বিল পরিশোধের জন্য অপছন্দের চাকরি ধরে রাখার প্রয়োজন হবে না।   মিয়ার গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নিজের আর্থিক সুবিধার বিষয়টি তিনি আড়াল করেননি। বাবা-মায়ের সঙ্গে রেন্ট ছাড়া থাকার সুযোগ তার সঞ্চয়ের গতিকে বাড়িয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। ফলে তার সাফল্যের পেছনে শুধু দৈনিক কফি বাদ দেওয়া বা ৫০ পেন্সের নাশতা নয়, কম খরচে থাকার সুযোগ, ধারাবাহিক বিনিয়োগ, বাড়তি আয়ের একাধিক পথ এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা একসঙ্গে কাজ করেছে।   অল্প বয়সে কিছু ভোগব্যয় কমিয়ে মিয়া যে লক্ষ্যটি অর্জন করতে চাইছেন, সেটি শুধু নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জমা করা নয়। তার কাছে মূল লক্ষ্য এমন আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করা, যেখানে জীবনের সময় কীভাবে ব্যয় করবেন, সেই সিদ্ধান্ত অর্থের প্রয়োজন নয়, বরং নিজের ইচ্ছাই নির্ধারণ করবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১২:২৮
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া বৃদ্ধি। ছবি: সংগৃহীত
মামদানির রেন্ট ফ্রিজ ও নতুন করের শঙ্কার মধ্যে ম্যানহাটনে বাড়িভাড়ার রেকর্ড! মাসে ৬ হাজার ৬৫৫ ডলার

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নতুন রেকর্ড গড়েছে। জুলাইয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৫৫ ডলারে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মিডিয়ান রেন্টও বেড়ে ৫ হাজার ২৯৫ ডলারে পৌঁছেছে।   বুধবার প্রকাশিত রিয়েল এস্টেট মার্কেটের নতুন তথ্যের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ম্যানহাটনে প্রায় সব ধরনের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াই বেড়েছে। বিশেষ করে দুই ও তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে বছরওয়ারি বৃদ্ধির হার দুই অঙ্কে পৌঁছেছে।   নতুন তথ্য অনুযায়ী, ম্যানহাটনে একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া এখন ৪ হাজার ৮৮ ডলার। এক বেডরুমের গড় ভাড়া ৫ হাজার ৪৮৬ ডলার, দুই বেডরুমের ৮ হাজার ৫৪ ডলার এবং তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ১২ হাজার ২২৮ ডলারে পৌঁছেছে।   গত বছরের একই সময়ের তুলনায় স্টুডিওর ভাড়া ৮ শতাংশ এবং এক বেডরুমের ভাড়া ৭ শতাংশ বেড়েছে। দুই বেডরুমের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ১৩ শতাংশ এবং তিন বেডরুমে ১২ শতাংশ। স্টুডিও, এক বেডরুম ও দুই বেডরুমের গড় ভাড়াও সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।   তবে গড় ভাড়ার পাশাপাশি মিডিয়ান রেন্টের হিসাবটি ম্যানহাটনের সাধারণ ভাড়াটিয়াদের জন্য বাজারের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ে মিডিয়ান রেন্ট ছিল ৫ হাজার ২৯৫ ডলার, যা গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত ভাড়ার অর্ধেক এর চেয়ে বেশি এবং অর্ধেক কম।   ম্যানহাটনের ভাড়া বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় চাপগুলোর একটি আবাসনের সীমিত সরবরাহ। নিউইয়র্ক সিটিতে ভ্যাকেন্সি রেট মাত্র ১ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ১৯৬৮ সালের পর সর্বনিম্ন। সাধারণভাবে ৫ শতাংশের নিচে ভ্যাকেন্সি রেটকে বাড়িওয়ালাদের অনুকূলে থাকা বাজার হিসেবে দেখা হয়।   একদিকে ভাড়া দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে নিউইয়র্কে হাজার হাজার রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্ট খালি পড়ে থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। বাড়িওয়ালাদের দেওয়া স্টেট রেজিস্ট্রেশন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরজুড়ে প্রায় ৫৭ হাজার রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ইউনিট খালি ছিল। এটি নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার মোট অ্যাপার্টমেন্টের প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।   কেন এত ইউনিট খালি রয়েছে, তা নিয়ে বাড়িওয়ালা ও টেন্যান্ট অ্যাডভোকেটদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কিছু বাড়িওয়ালা নিয়ন্ত্রিত ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট বাজারে না ছেড়ে খালি রাখছেন। অন্যদিকে বাড়িওয়ালাদের দাবি, ২০১৯ সালের রেন্ট আইন সংস্কারের পর পুরোনো অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে নির্ধারিত ভাড়ায় আবার বাজারে দেওয়া অনেক ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে লাভজনক নয়।   এদিকে মেয়র জোহরান মামদানির রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া স্থগিত রাখার পরিকল্পনা ঘিরেও রিয়েল এস্টেট খাতে বিতর্ক চলছে। রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের আশঙ্কা, রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ইউনিটের ভাড়া স্থির থাকলে বাড়িওয়ালাদের বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের চাপ মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াটিয়াদের ওপর পড়তে পারে।   তবে এই বক্তব্য মূলত রিয়েল এস্টেট শিল্পসংশ্লিষ্টদের মূল্যায়ন। ভাড়া স্থগিত রাখার নীতিই ম্যানহাটনের বর্তমান রেকর্ড ভাড়ার কারণ, এমন সরাসরি প্রমাণ প্রকাশিত তথ্য থেকে পাওয়া যায় না। আবাসনের ঘাটতি, কম ভ্যাকেন্সি রেট, উচ্চ মর্টগেজ রেট এবং দীর্ঘদিন ধরে নতুন আবাসনের চাহিদার তুলনায় সীমিত সরবরাহসহ একাধিক বিষয় নিউইয়র্কের রেন্টাল মার্কেটে চাপ তৈরি করছে।   নিউইয়র্ক পোস্টকে দ্য করকোরান গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার গ্যারি ম্যালিন বলেন, শহর ও স্টেটের সাম্প্রতিক কয়েকটি হাউজিং নীতি রেন্টাল হাউজিংয়ের সরবরাহ সীমিত করেছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সরবরাহ কমে যাওয়ার বিপরীতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।   মামদানি প্রশাসনের পিয়েদ-আ-তের কর পরিকল্পনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও রিয়েল এস্টেট খাতে আলোচনা চলছে। শহরে মূল বাসস্থানের বাইরে দ্বিতীয় বা অতিরিক্ত বাড়ির মালিকদের ওপর বাড়তি কর আরোপের এই উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত কর এড়াতে কিছু সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়ার দিকে ঝুঁকলে উচ্চমূল্যের রেন্টাল মার্কেটে চাহিদা আরও বাড়তে পারে।   উচ্চ মর্টগেজ রেটও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। যারা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বাড়ি বা কনডো কিনতেন, তাদের একটি অংশ উচ্চ ঋণ ব্যয়ের কারণে কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়ে রেন্টাল মার্কেটেই থেকে যাচ্ছেন। এতে সীমিত সংখ্যক অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে ম্যানহাটনে বাসা ভাড়া নেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ব্যয়বহুল। গড় মাসিক ভাড়া ৬ হাজার ৬৫৫ ডলার এবং মিডিয়ান রেন্ট ৫ হাজার ২৯৫ ডলারে পৌঁছানো নিউইয়র্কের আবাসন সংকটের চাপ আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১২:১১
কলোরাডোতে পাঁচ কিশোর নিহত হওয়ার পর পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকারীদের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
কলোরাডোয় খাড়া পাহাড়ে রাস্তা থেকে গাড়ি ছিটকে নিহত ১৭ বছরের পাঁচ কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাড়া পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে গেলে ১৭ বছর বয়সী পাঁচ কিশোর নিহত হয়েছে। গ্র্যান্ড জংশন শহরের লুকআউট লেন এলাকায় শনিবার (৮ আগস্ট) গভীর রাতে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।   গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ এবং মেসা কাউন্টি করোনারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটিতে থাকা পাঁচজনই গ্র্যান্ড জংশনের বাসিন্দা এবং তাদের সবার বয়স ১৭ বছর। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গাড়িটি লুকআউট লেন ধরে দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে সেটি রাস্তা থেকে ছিটকে খাড়া পাহাড়ি ঢালের নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।   মেসা কাউন্টি করোনারের কার্যালয় জানিয়েছে, পাঁচ কিশোরের মধ্যে তিনজন সিটবেল্ট পরেছিল। তাদের মধ্যে গাড়ির চালক ও সামনের আসনের যাত্রীও ছিল। পেছনের আসনে থাকা দুই কিশোর সিটবেল্ট না পরায় দুর্ঘটনার সময় গাড়ি থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যায়।   ময়নাতদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাড়ি দুর্ঘটনায় পাওয়া আঘাতের কারণেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সরকারি কর্তৃপক্ষ তাদের নাম প্রকাশ করেনি।   তবে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের বরাতে কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিহতদের ব্রেডেন টেইলর, ট্রিস্টান টাকার, টাইটাস গোল্ড, উইলিয়াম সিমস ও টাইলার মার্টিনেজ হিসেবে শনাক্ত করেছে। তারা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল বলে জানানো হয়েছে।   একসঙ্গে পাঁচ কিশোরের মৃত্যুতে গ্র্যান্ড জংশন কমিউনিটিতে শোক নেমে এসেছে। পরিবার ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে তাদের স্মরণে বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। কয়েকটি পরিবারের সহায়তায় অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।   গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ জানিয়েছে, এমন ঘটনায় শুধু নিহতদের পরিবার নয়, বন্ধু, সহপাঠী এবং পুরো কমিউনিটি গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে এবং বিশেষ করে গাড়ির গতি কত ছিল, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১১:৫৫