সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ফান্ডিংয়ের মাধ্যম সরাসরি ভর্তির সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা সামনে এসেছে, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছুতে স্কলারশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং ফেলোশিপের মাধ্যমে পড়াশোনার খরচ কমানোর সুযোগও রয়েছে। তবে তালিকার সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু নেই এবং সব শিক্ষার্থী ফান্ডিং পাবেন, এমন নিশ্চয়তাও নেই।   তালিকায় রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, মিসৌরি সেন্ট লুইস বিশ্ববিদ্যালয়, উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ডাকোটা, ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই অ্যাট মানোয়া, ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্ট, জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠান।   এ ছাড়া তালিকায় ওয়েস্ট টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিসৌরি, ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটি অব লিঞ্চবার্গ, ফুল সেইল ইউনিভার্সিটি, জ্যাকসনভিল স্টেট ইউনিভার্সিটি, আলবানি স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মেইন এবং ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা ডুলুথের নাম রয়েছে।   তালিকার বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন নিউ হ্যাম্পশায়ার ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট শার্লট, ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস, নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, অবার্ন ইউনিভার্সিটি অ্যাট মন্টগোমারি, ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন ক্লিয়ার লেক, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি কিংসভিল, ফোর্ট হেইস স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনা।   তবে এই ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম একসঙ্গে প্রচার করা হলেও সব প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের উচ্চশিক্ষা ও ফান্ডিং সুবিধা প্রদানকারী হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।   বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অফিসিয়াল একাডেমিক তথ্য অনুযায়ী, ফুল সেইল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স, গেম ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ডিগ্রি তালিকায় পিএইচডি প্রোগ্রামের উল্লেখ নেই। একইভাবে আলবানি স্টেট ইউনিভার্সিটির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের গ্র্যাজুয়েট ক্যাটালগে মাস্টার্স, এডুকেশন স্পেশালিস্ট এবং গ্র্যাজুয়েট সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের তথ্য রয়েছে। সেখানে পিএইচডি ডিগ্রি তালিকাভুক্ত নেই।   ফলে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পছন্দের বিষয়ে মাস্টার্স অথবা পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।   যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ফান্ডিং সাধারণত কয়েকটি উপায়ে পাওয়া যায়। এর মধ্যে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কোনো অধ্যাপকের গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পান। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের সহায়তা কিংবা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের মতো দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।   এসব অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কের স্টাইপেন্ড এবং টিউশন মওকুফের সুবিধা থাকতে পারে। তবে সুবিধার পরিমাণ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, কাজের ধরন ও নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।   অন্যদিকে ফেলোশিপের মাধ্যমে গবেষণা বা একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। কোনো কোনো ফেলোশিপে টিউশন এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়।   ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার গ্র্যাজুয়েট স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, ফেলোশিপ ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দুটি আলাদা ধরনের আর্থিক সহায়তা। ফেলোশিপ সাধারণত গবেষণা বা পড়াশোনার জন্য দেওয়া হয়, আর অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হয়।   একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক থ্রিএম গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য পিএইচডি শিক্ষার্থীরা প্রথম বছরে ২৫ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড, নির্ধারিত টিউশন সহায়তা এবং স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পেতে পারেন। পরবর্তী বছরগুলোতে নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এই ফেলোশিপ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং বিভাগের মনোনয়ন প্রয়োজন।   যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স ও পিএইচডির ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ ফান্ডিং প্যাকেজ দেওয়া হয়। কিন্তু মাস্টার্স পর্যায়ে বিশেষ করে কোর্সভিত্তিক ও পেশাগত প্রোগ্রামে একই ধরনের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে।   ফান্ডিং পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, অধ্যাপকের গবেষণার সঙ্গে মিল এবং বিভাগে অর্থের প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের সাধারণত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, স্নাতক ডিগ্রির সনদ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ জমা দিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম অনুযায়ী আইইএলটিএস, টোয়েফল বা অন্য স্বীকৃত পরীক্ষার স্কোর গ্রহণ করা হতে পারে।   কিছু প্রোগ্রামে জিআরই স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগ নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে জিআরই বাধ্যতামূলক রাখে না। এ কারণে আবেদনকারীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিভাগের বর্তমান অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট দেখতে হবে।   যেসব শিক্ষার্থী গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি করতে চান, তাঁদের জন্য সম্ভাব্য সুপারভাইজারের গবেষণার বিষয় সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি প্রোফাইল এবং সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র দেখে নিজের আগ্রহের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন অধ্যাপকদের চিহ্নিত করা যেতে পারে।   তবে কোনো অধ্যাপকের কাছে ইমেইল পাঠানো কিংবা তাঁর কাছ থেকে ইতিবাচক উত্তর পাওয়ার অর্থ ভর্তি বা ফান্ডিং নিশ্চিত হওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের আনুষ্ঠানিক অ্যাডমিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   ফান্ডিংয়ের বিষয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এবং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া সব সময় একই সিদ্ধান্তের অংশ নয়। অনেক ক্ষেত্রে ভর্তির অফার পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে ফান্ডিংয়ের জন্য আবেদন করতে হয়।   শিক্ষার্থীদের এ বিষয়েও নিশ্চিত হতে হবে যে ফান্ডিংয়ের অফারে পুরো টিউশন মওকুফ করা হচ্ছে, নাকি আংশিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ফি, আবাসন এবং ব্যক্তিগত খরচ বহন করতে হবে কি না, সেটিও জানা জরুরি।   বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ফান্ডিংয়ের পরিমাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানভেদে জীবনযাপনের ব্যয়ের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   এ ছাড়া সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ে আবেদন নেওয়া হয় না। ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারের অ্যাডমিশন ডেডলাইন আলাদা হতে পারে। অনেক বিভাগের ফান্ডিং বিবেচনার সময়সীমাও সাধারণ অ্যাডমিশন ডেডলাইনের আগে শেষ হয়।   যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের তালিকার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রোগ্রামের ধরন, আবেদনযোগ্যতা, ডেডলাইন এবং ফান্ডিংয়ের শর্ত যাচাই করা উচিত।   এই ৩০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজার কাজে সহায়ক হতে পারে। তবে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সব প্রতিষ্ঠানেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি ভর্তি এবং নিশ্চিত ফান্ডিং চালু রয়েছে, এমন কোনো সম্মিলিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।   সুতরাং মাস্টার্স বা পিএইচডিতে আবেদন করার আগে নিজের একাডেমিক প্রোফাইল, গবেষণার আগ্রহ এবং আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের মিল যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১:৫২
নেদারল্যান্ডসে পশু জবাইয়ের আগে অচেতন করা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নেদারল্যান্ডসে হালাল পদ্ধতিতে পশু জবাই নিষিদ্ধের প্রস্তুতিতে সরকারের প্রতিমন্ত্রী

নেদারল্যান্ডসে পশু জবাইয়ের আগে অচেতন করা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির কৃষি ও প্রাণিকল্যাণবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সিলভিও এরকেন্স ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী অচেতন না করে পশু জবাই নিষিদ্ধ করার পক্ষে ব্যক্তিগত অবস্থান জানিয়েছেন। গত ৪ অক্টোবর তিনি বলেন, প্রাণিকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া নেদারল্যান্ডসে এ ধরনের জবাইয়ের প্রচলন থাকা উচিত নয়। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাঁর এই অবস্থান মুসলিম সম্প্রদায় কিংবা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়।   ডাচ সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএনএলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল ভিভিডির রাজনীতিক এরকেন্স বলেছেন, পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালসের পক্ষ থেকে আনা আইন প্রস্তাবটি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। প্রস্তাবটি পাস হলে নেদারল্যান্ডসে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রেও আগে অচেতন করার বাধ্যবাধকতা কার্যকর হতে পারে। তবে দেশটিতে হালাল মাংস কিংবা ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আলোচনাটি মূলত জবাইয়ের আগে পশুকে অচেতন না করার প্রচলিত ব্যতিক্রমী অনুমতি তুলে দেওয়া নিয়ে।   এরকেন্স বলেন, নেদারল্যান্ডস প্রাণিকল্যাণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। অথচ ধর্মীয় কারণে এখনো কিছু ক্ষেত্রে পশুকে অচেতন না করে জবাই করার অনুমতি রয়েছে। এই অবস্থাকে তিনি অসংগতিপূর্ণ বলে মনে করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে প্রথমে অচেতন করা হয়। কিন্তু কিছু ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু সচেতন থাকা অবস্থায় গলা কাটা হয়। এতে পশু অতিরিক্ত যন্ত্রণা অনুভব করতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।   প্রতিমন্ত্রী জানান, ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন কোনো আইন প্রণয়ন করতে হলে সেটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তৈরি করতে হবে, যাতে আদালতে তার বৈধতা টিকে থাকে। নেদারল্যান্ডসে হালাল ও কোশের পদ্ধতিতে পশু জবাই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশ হালাল জবাইয়ের ধর্মীয় শর্ত অনুযায়ী পশু সচেতন থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন। একইভাবে ইহুদি সম্প্রদায়ের কোশের জবাইয়ের ক্ষেত্রেও বিশেষ ধর্মীয় বিধান রয়েছে।   তবে সব হালাল জবাই অচেতন না করে সম্পন্ন হয়, এমন নয়। কিছু হালাল পদ্ধতিতে পশুকে সাময়িকভাবে অচেতন করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়, যদি তা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। প্রতিমন্ত্রী এরকেন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসে ধর্মীয় পদ্ধতিতে জবাই করা পশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে ইতোমধ্যে অচেতন করা হয়। তাই তিনি মনে করেন, অচেতন করার ব্যবস্থা রেখে ধর্মীয় জবাই পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।   এদিকে প্রাণিকল্যাণ নিয়ে কাজ করা রাজনৈতিক দল পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালস নতুন করে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। দলটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে অচেতন না করে পশু জবাই বন্ধে একটি সংশোধিত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে ধর্মীয় কারণে বিদ্যমান ব্যতিক্রমী অনুমতি প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবে আইন কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট জবাইখানাগুলোকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য দেড় বছর সময় দেওয়ার কথাও রয়েছে।   দলটির যুক্তি, পশু জবাইয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা কমাতে সব ক্ষেত্রেই অচেতন করার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি। গত ৬ অক্টোবর নেদারল্যান্ডসের পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলোচনা হয়। সেখানে ডেঙ্ক দলের সংসদ সদস্য দোগুকান এরগিন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন।   পার্লামেন্টের আনুষ্ঠানিক কার্যবিবরণী অনুযায়ী, এরগিন বলেন, অচেতন না করে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাই বন্ধ করার উদ্যোগ মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে অনেক মুসলিম ও ইহুদি নাগরিক উদ্বিগ্ন হয়েছেন বলেও জানান তিনি। জবাবে এরকেন্স বলেন, সরকার হালাল বা কোশের খাবার নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা করছে না। তিনি স্পষ্ট করেন, আলোচনাটি কেবল নেদারল্যান্ডসের ভেতরে অচেতন না করে পশু জবাইয়ের অনুমতি থাকবে কি না, সেই প্রশ্নকে ঘিরে।   তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও বিদেশ থেকে হালাল ও কোশের মাংস আমদানি বন্ধ হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রচলিত বিধানের কারণে এ ধরনের পণ্য আমদানি অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকবে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সর্বশেষ কোরবানির ঈদের সময় নেদারল্যান্ডসে প্রায় ৭০ শতাংশ হালাল জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে অচেতন করার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাই এবং প্রাণিকল্যাণের বিষয়টি একসঙ্গে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।   তবে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলছেন, সব ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাছে অচেতন করার প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে আইন করে একই পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হলে ধর্মীয় আচার পালনের স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে। নেদারল্যান্ডসের তুর্কি ফেডারেশনও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত সংগঠনটির বিবৃতিতে সভাপতি মুরাত গেদিক বলেন, ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাই নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ ঠেকাতে প্রয়োজনে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হতে পারে।   তিনি মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়কে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে প্রাণিকল্যাণবিষয়ক সংগঠন ডিয়েরেনবেসখেরমিং প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সংগঠনটি ৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ায় জানায়, অচেতন না করে পশু জবাই বন্ধের আইন প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।   ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে অচেতন করার বাধ্যবাধকতা নিয়ে আগে থেকেই আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। নেদারল্যান্ডসেও বিষয়টি নতুন নয়। পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালস ২০১১ সালে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। সে সময় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে প্রস্তাবটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেলেও পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় কার্যকর নিষেধাজ্ঞায় রূপ নেয়নি।   এবার নতুন প্রস্তাবটি ঘিরে আবারও সামনে এসেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি হলো পশু জবাইয়ের সময় যন্ত্রণা কমিয়ে প্রাণিকল্যাণ নিশ্চিত করা। অন্যটি হলো মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার। প্রতিমন্ত্রী এরকেন্স জানিয়েছেন, সরকার নিজে এ মুহূর্তে হালাল বা কোশের জবাই নিষিদ্ধ করার কোনো বিল প্রস্তুত করেনি। পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালসের উদ্যোগে প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে এলে সরকার সেটির আইনগত ও বাস্তব দিক পর্যালোচনা করবে।   শেষ পর্যন্ত আইনটি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত এবং প্রস্তাবটির আইনি গ্রহণযোগ্যতার ওপর। ফলে ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসে হালাল মাংস নিষিদ্ধ হয়েছে কিংবা ধর্মীয় পদ্ধতিতে সব ধরনের পশু জবাই বন্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করার সুযোগ নেই। বর্তমানে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু অচেতন না করে পশু জবাইয়ের অনুমতি প্রত্যাহারের সম্ভাব্য আইন। নতুন এই উদ্যোগকে ঘিরে নেদারল্যান্ডসে প্রাণিকল্যাণ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১:৪৩
ক্যালিফোর্নিয়ায় শ্বশুর-শাশুড়ির গুলিতে নিহত হন নিউইয়র্ক টাইমসের প্রযুক্তিবিষয়ক নির্বাহী জোনাথন ম্যাককিনসি। ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রীর নির্যাতনের গর্ভপাত! আদালতে নিউইয়র্ক টাইমসের ট্রান্সজেন্ডার নির্বাহীর চাঞ্চল্যকর তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শ্বশুর-শাশুড়ির গুলিতে নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠা নিউইয়র্ক টাইমসের প্রযুক্তিবিষয়ক নির্বাহী জোনাথন ম্যাককিনসির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ ম্যাককিনসি একসময় গর্ভধারণ করেছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান জন্ম দেওয়ার পর নবজাতকটি মারা যায়। ওই ঘটনার জন্য স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের কথিত নির্যাতনকে দায়ী করেছিলেন তিনি। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন শহরে ৪০ বছর বয়সী ম্যাককিনসিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্ট ও টিএমজেডের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আদালতে জমা দেওয়া একটি নথিতে ম্যাককিনসি তাঁর গর্ভধারণ এবং সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, গর্ভাবস্থায় স্ত্রীর আচরণ ও নির্যাতনের কারণে তাঁকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল।   আদালতের নথির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক দশক আগে স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের আইভিএফ চিকিৎসার মাধ্যমে তৈরি ভ্রূণ নিজের গর্ভে ধারণ করেছিলেন ম্যাককিনসি। ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ হিসেবে গর্ভধারণের সময় পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন তাঁকে আরও কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল বলে দাবি করেন তিনি।   ম্যাককিনসির অভিযোগ, গর্ভাবস্থায় স্ত্রী তাঁর সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া করতেন। এমনকি একবার একটি কাপ ছুড়ে মারলে সেটি তাঁর পেটে লাগে। তাঁকে শোবার ঘরের বিছানা ছেড়ে বসার ঘরে ঘুমাতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও আদালতের নথিতে দাবি করেন তিনি।   পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে গর্ভাবস্থার ২২ সপ্তাহে। সে সময় তাঁরা ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে থেকে সান হোসেতে বাসা পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।   ম্যাককিনসির দাবি অনুযায়ী, বাসা পরিবর্তনের জন্য পেশাদার কর্মী নিয়োগ করা হলেও স্ত্রী তাঁকে ভারী বাক্স বহন করতে বাধ্য করেন। এরপর তিনি রক্তপাত অনুভব করেন এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে যাওয়ার পথে তীব্র ব্যথার কথা জানালেও স্ত্রী তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন।   পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই তাঁদের ছেলে রোমিও প্রেস্টন ম্যাককিনসির জন্ম হয়। কিন্তু জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে নবজাতকটি মারা যায় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ম্যাককিনসি বিশ্বাস করতেন, ভারী জিনিস বহন করতে বাধ্য হওয়ার কারণেই তাঁর অকাল প্রসব হয়েছিল এবং সন্তানকে হারাতে হয়েছিল। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিযোগ। ভারী বাক্স বহন বা স্ত্রীর কথিত আচরণই অকাল প্রসব এবং নবজাতকের মৃত্যুর কারণ ছিল, এমন কোনো স্বাধীন চিকিৎসাগত প্রমাণ প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।   সন্তান হারানোর এই ঘটনা পরবর্তী সময়ে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিরোধসংক্রান্ত আদালতের নথিতে উঠে আসে।   ম্যাককিনসি ও ক্যান্ডিস জ্যাং ২০১১ সালে বিয়ে করেছিলেন। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর তাঁদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও কেকিউইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে রেস্ট্রেইনিং অর্ডারের আবেদন করেন জ্যাং। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে একই বছরের ডিসেম্বরে স্ত্রীর বিরুদ্ধে রেস্ট্রেইনিং অর্ডারের আবেদন করেন ম্যাককিনসি। ওই মাসেই তিনি বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন।   আদালতের নথিতে ম্যাককিনসি অভিযোগ করেন, ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকে বৈষম্য এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি।   তাঁর দাবি অনুযায়ী, একটি অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার সময় শ্বশুর তাঁকে বুকে আঘাত করেছিলেন। শাশুড়ির বিরুদ্ধেও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।   অন্যদিকে, ক্যান্ডিস জ্যাং অভিযোগ করেন, ম্যাককিনসি তাঁর এবং সন্তানদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন।   ২০২৫ সালে ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত দুটি মাইনর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। তবে তিনি উভয় অভিযোগেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তাঁর মৃত্যুর সময়ও ওই মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া চলছিল।   দাম্পত্য বিরোধের পাশাপাশি তাঁদের তিন সন্তানকে নিয়ে কাস্টডি বা অভিভাবকত্বের বিরোধও চলছিল।   এর মধ্যেই গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডসের পার্কিং লটে গুলিবিদ্ধ হন ম্যাককিনসি।   পুলিশ জানায়, বিকেল তিনটার কিছু পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে ম্যাককিনসির শ্বশুর শোইয়ং ঝ্যাং এবং শাশুড়ি শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দুজনেরই বয়স ৭৭ বছর।   আলামেডা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, অভিযুক্ত দম্পতি পরিকল্পিতভাবে ম্যাককিনসিকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপেক্ষা করেছিলেন। পরে পার্কিং লটে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।   আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দুজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।   অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপেক্ষা করে হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।   তবে আদালতে অভিযোগ আনার অর্থ অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   এদিকে ম্যাককিনসির মৃত্যুর তদন্তে নতুন অগ্রগতির খবরও সামনে এসেছে।   এবিসি সেভেনের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর ম্যাককিনসির বিচ্ছিন্ন থাকা স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ডাবলিন পুলিশ।   পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাড়ি থেকে তদন্তের জন্য প্রাসঙ্গিক কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে কী ধরনের আলামত উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।   পুলিশের এই তল্লাশি বা আলামত সংগ্রহের ঘটনা থেকে ক্যান্ডিস জ্যাং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে এ হত্যাকাণ্ডে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।   ম্যাককিনসি নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন। এর আগে একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।   জর্জিয়া টেক থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি।   একদিকে প্রযুক্তি খাতে প্রতিষ্ঠিত কর্মজীবন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ এবং সন্তানদের অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল তাঁর জীবনে।   সেই বিরোধের মধ্যেই প্রকাশ্য পার্কিং লটে গুলিতে প্রাণ হারান তিনি।   তদন্তকারীরা এখনো হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ করেননি। দাম্পত্য বিরোধ ও অতীতের নির্যাতনের অভিযোগগুলো আদালতের নথিতে থাকলেও সেগুলোর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   এদিকে মৃত্যুর পর সামনে আসা পুরোনো আদালতের নথি ম্যাককিনসির ব্যক্তিগত জীবনের আরেকটি বেদনাদায়ক অধ্যায় প্রকাশ করেছে। গর্ভধারণ, অকাল প্রসব এবং নবজাতক সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সেখানে রয়েছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।   তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য নির্ধারণের বিষয়টি এখনো সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১:১৯
বড় ধরনের লোকসান কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় অনন্য সফলতার নজির গড়েছেন তালহা বখত। ছবি: সংগৃহীত
শূন্য থেকে ‘বাফেলোর প্রিন্স’: একসময় চাকরি হারানো বাংলাদেশি তালহা বখতের ১০০ বাড়ি

মাত্র আট বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তালহা বখত। বড় হয়ে চাকরি পান বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এইচপিতে। কিন্তু ক্যারিয়ারে সাফল্যের মধ্যেই আসে চাকরি হারানোর অভিজ্ঞতা। এরপর ব্যবসায় বিনিয়োগ করে প্রায় দুই লাখ ডলার লোকসান গুনতে হয় তাঁকে। এত কিছুর পরও থেমে থাকেননি এই প্রবাসী বাংলাদেশি। নতুন করে ব্যবসা শুরু করে একসময় নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে গড়ে তোলেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছিলেন, তখন বাফেলোতে তাঁর ১০০টি বাড়ি ছিল।   দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালহা বখতের যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা শুরু হয় ১৯৯১ সালে। তখন তাঁর বয়স মাত্র আট বছর। পরিবারের সঙ্গে নতুন দেশে এসে বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং পরবর্তী সময়ে চাকরি ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথটি সহজ ছিল না।   শিক্ষাজীবনের শুরুতে বাণিজ্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন তালহা। পরে তথ্যপ্রযুক্তিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে যোগ দেন হিউলেট প্যাকার্ড বা এইচপিতে। সাধারণ বেতনের চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দ্রুত পদোন্নতি পান। মাত্র চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি প্রতিষ্ঠানটির এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।   তবে চাকরিজীবনের এই সাফল্যও তাঁকে অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত রাখতে পারেনি। পদোন্নতি পেয়ে নতুন একটি বিভাগে যাওয়ার পর সেই বিভাগে কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়। এতে চাকরি হারান তিনি। পরবর্তী সময়ে একই প্রতিষ্ঠান তাঁকে অন্য বিভাগে কাজের সুযোগ দিলেও এই অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন আনে।   তালহা বুঝতে পারেন, শুধু চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। তাই চাকরির পাশাপাশি ব্যবসার সুযোগ খুঁজতে থাকেন তিনি।   অবশ্য উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল আরও আগে। মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি একটি ব্যাংকুয়েট ব্যবসা শুরু করেন। মূলত বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবসায় একপর্যায়ে তাঁর অধীনে প্রায় ৯০০ জন কাজ করতেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন।   এত বড় একটি কর্মীবাহিনী পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁকে ব্যবসার ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্ব সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেয়। পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ভালো অবস্থানে পৌঁছেছিলেন তিনি।   কিন্তু ২০০৮ সালে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের পর বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তালহা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের বাজার পরিস্থিতিতে প্রায় দুই লাখ ডলার হারান তিনি। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে আবার নতুন করে শুরু করার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়।   বড় অঙ্কের লোকসানের পর ব্যবসা থেকে পুরোপুরি সরে যাননি তালহা। প্রথমে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেন। এরপর যুক্ত হন মোবাইল এক্সেসরিজের ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসায়। বিভিন্ন খাতে কাজ করতে গিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর রিয়েল এস্টেট ব্যবসার ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখে।   ২০১২ সালে তাঁর ব্যবসায়িক জীবনে আসে নতুন মোড়। নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে যান তালহা। সেখানে প্রথমে তিনটি বাড়ি তাঁর পছন্দ হয়। নিজের একটি বাড়ি কেনার যে আমেরিকান ড্রিম নিয়ে তিনি এগোচ্ছিলেন, সেই স্বপ্নই ধীরে ধীরে বড় পরিসরের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় রূপ নিতে শুরু করে।   তালহা ২০১৫ সাল পর্যন্ত চাকরি চালিয়ে যান। তবে এর আগেই তিনি রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ শুরু করেছিলেন। একপর্যায়ে দেখতে পান, বাড়িভাড়া ও ব্যবসা থেকে আসা আয় তাঁর চাকরির আয়ের সমপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এরপর চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি নিজের ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় তাঁর কৌশল ছিল অন্য অনেক বিনিয়োগকারীর তুলনায় আলাদা। বাড়ি কিনে দ্রুত বিক্রি করে মুনাফা করার পরিবর্তে তিনি দীর্ঘমেয়াদে বাড়িগুলো নিজের কাছে রেখে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় এই পদ্ধতি বাই অ্যান্ড হোল্ড নামে পরিচিত।   এই পদ্ধতিতে বাড়িভাড়া থেকে নিয়মিত আয় করার পাশাপাশি সম্পত্তির দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ থাকে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, মর্টগেজ, প্রপার্টি ট্যাক্স এবং ভাড়াটিয়াসংক্রান্ত বিভিন্ন ঝুঁকিও রয়েছে।   তালহা ২০২২ সালে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছিলেন, তখন বাফেলোতে তাঁর ১০০টি বাড়ি ছিল। তিনি বাড়িগুলো বিক্রি না করে ভাড়া দিচ্ছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে বাড়িগুলোর মূল্যও দুই থেকে তিনগুণ বেড়েছিল।   তবে এই ১০০টি বাড়ির তথ্য মূলত তালহার নিজের দেওয়া বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর মালিকানাধীন বাড়ির বর্তমান সংখ্যা বা সম্পত্তির মোট মূল্য সম্পর্কে নতুন কোনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১০০টি বাড়িকে তাঁর বর্তমান সম্পত্তির সংখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।   রিয়েল এস্টেট ব্যবসার পাশাপাশি বাফেলোতে কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবসা গড়ে তোলার সঙ্গেও যুক্ত হন তালহা। তাঁর অন্যতম পরিচিত উদ্যোগ আল আকসা সুপার মার্কেট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট।   নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের ১৩৫০ ফিলমোর অ্যাভিনিউতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের ১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বাফেলো মেয়র বায়রন ব্রাউন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেবিডব্লিউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালহা ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার মোহাম্মদ হাসনাত সুপার মার্কেটটি গড়ে তুলতে প্রায় ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেন। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য আরও ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও সে সময় জানিয়েছিলেন তাঁরা।   প্রতিষ্ঠানটি শুধু দক্ষিণ এশীয় খাবার ও হালাল পণ্যের বাজার হিসেবে নয়, স্থানীয় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহের একটি উদ্যোগ হিসেবেও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে বাফেলোর পূর্বাঞ্চলে মানসম্মত গ্রোসারি ও তাজা খাদ্যপণ্যের সহজলভ্যতা বাড়ানোর বিষয়টি উদ্যোক্তারা গুরুত্ব দিয়েছিলেন।   সুপার মার্কেটটিতে তাজা শাকসবজি, ফলমূল, হালাল মাংস, মাছ, বিভিন্ন ধরনের গ্রোসারি ও দক্ষিণ এশীয় খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের তৈরি খাবার। প্রথম আলোর তৎকালীন প্রতিবেদনেও বাফেলোতে আল আকসা সুপার মার্কেটের উদ্বোধন এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ভূমিকার বিষয়টি উঠে আসে। স্থানীয় ব্যবসায়িক তালিকা ও প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অনলাইন তথ্যেও একই ঠিকানায় সুপার মার্কেট ও রেস্টুরেন্টের কার্যক্রমের উল্লেখ রয়েছে।   তালহা বখতের ব্যবসায়িক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি একাধিকবার পেশা ও ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করেছেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, রেস্টুরেন্ট, মোবাইল এক্সেসরিজ এবং রিয়েল এস্টেটের মতো ভিন্ন ভিন্ন খাতে কাজ করেছেন তিনি।   দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া বক্তব্যে তালহা সাফল্যের পেছনে উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা, নিয়মিত পরিশ্রম এবং ব্যর্থতার পর আবার চেষ্টা করার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। তাঁর মতে, শুধু অর্থ উপার্জনের চিন্তার চেয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   ১৯৯১ সালে আট বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সেই বাংলাদেশি শিশুর পরবর্তী জীবনে প্রযুক্তি খাতে চাকরি, বড় আর্থিক ক্ষতি এবং একাধিক ব্যবসায়িক উদ্যোগের অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে। ২০২২ সালে তাঁর নিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাফেলোতে ১০০টি বাড়ির মালিক হওয়ার পাশাপাশি একটি বড় সুপার মার্কেট প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।   তাঁর জীবনের এই ঘটনাগুলো প্রবাসে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার একটি উদাহরণ। তবে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সাফল্যের এই অভিজ্ঞতা অন্য বিনিয়োগকারীর জন্য একই ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না। তালহা বখতের গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এবং চাকরির অনিশ্চয়তার পরও নতুন উদ্যোগ নিয়ে আবার ব্যবসায় ফিরে আসা।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ০:৪৯
নিউইয়র্ক সিটির মার্বেল হিল এলাকায় গোলাগুলির ঘটনার পর জড়ো হওয়া পুলিশ ও আইনপ্রণেতাদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে এক ব্যক্তিকে গুলি করল আইসিই, ক্ষুব্ধ মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে পাঁচ বছরের এক শিশুর উপস্থিতিতে গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তিকে গুলি করে আহত করেছেন ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে শহরের মার্বেল হিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে থাকা ব্যক্তি ও শিশুটিকে ঘিরে ফেলার পর একাধিক গুলি চালানো হয়। শিশুটি শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে নিউইয়র্কে আইসিইর সব অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন মেয়র।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে গুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি এটিকে অত্যন্ত গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।   মামদানির অভিযোগ, ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অভিযানের কারণে নিউইয়র্কের বিভিন্ন কমিউনিটিতে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে পাঁচ বছরের একটি শিশুর উপস্থিতিতে গুলি চালানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।   অন্যদিকে আইসিইর তত্ত্বাবধানকারী যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, ব্রঙ্কসে ডোমিনিকান রিপাবলিকের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করছিলেন কর্মকর্তারা। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তির আগে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানের একপর্যায়ে আইসিইর একজন কর্মকর্তা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালান। এতে অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তি আহত হন। পরে কর্মকর্তারা তাঁকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেন। আহত ব্যক্তি জীবিত রয়েছেন এবং স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।   তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। আহত ব্যক্তির পূর্ণ পরিচয়, তাঁর শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য এবং গাড়িতে থাকা শিশুটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাস্থলের কাছের একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত পেদ্রো আলমারেজ রয়টার্সকে জানান, গুলির শব্দ শুনে তিনি বাইরে বেরিয়ে আসেন। সেখানে আইসিইর পোশাক পরা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে দেখতে পান। ঘটনাস্থলে তিন থেকে চারটি গাড়িও ছিল।   আলমারেজের ধারণা, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে পারে। তিনি জানান, গুলির প্রায় ১০ মিনিট পর নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অ্যাম্বুলেন্স আসার পর আহত ব্যক্তিকে গাড়ি থেকে বের করা হয়।   ঘটনার পর পুলিশ হলুদ ফিতা দিয়ে ঘটনাস্থলের একটি অংশ ঘিরে ফেলে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের সেখানে একটি গাড়ি পরীক্ষা করতে দেখা যায়। এ সময় পাশের একটি ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শিশুদের নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক।   এদিকে মেয়র মামদানি ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ঘটনার ভিন্ন দিক উঠে এসেছে। মেয়র শিশুর উপস্থিতিতে গুলি চালানোর বিষয়টি সামনে এনে অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, এটি নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত অভিযান ছিল।   তবে গুলি চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন কি না কিংবা কেন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে বিতর্ক ও প্রতিবাদ চলছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন মারা গেছেন।   সমালোচকদের অভিযোগ, অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার ফলে ফেডারেল কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সহিংস সংঘাত বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।   নিউইয়র্কের সর্বশেষ ঘটনাটি সেই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের শিশুর উপস্থিতিতে গুলি চালানোর বিষয়টি নিয়ে মেয়রের কঠোর প্রতিক্রিয়া এবং আইসিইর অভিযান বন্ধের দাবি সামনে এসেছে।   আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চললেও গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে মেয়র মামদানি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে নিউইয়র্কে আইসিইর সব অভিযান বন্ধের দাবি জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন।   সূত্র: রয়টার্স।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ০:৩২
সমাজের সব প্রতিকূলতা জয় করে মুই থমাস আজ একজন সফল ইয়োগা প্রশিক্ষক ও রাগবি রেফারি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
জন্মের দিনই ফেলে যায় পরিবার, দত্তক নেওয়া বাবা-মায়ের ভালোবাসায় সেই মুই আজ সফল রাগবি রেফারি

হংকংয়ে ১৯৯২ সালে এক বিরল জেনেটিক রোগ নিয়ে জন্ম নেন মুই থমাস। জন্মের পরপরই তার নিজের বাবা ও মা তাকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যান। চিকিৎসকরাও তখন আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তারা ধারণা করেছিলেন যে এই শিশু হয়তো শৈশব পার হতে পারবে না। কিন্তু ভাগ্যের লিখন ছিল অন্যরকম। অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং এক দম্পতির নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় সেই মুই আজ ৩৩ বছর বয়সে এসে একজন সফল ইয়োগা প্রশিক্ষক এবং রাগবি রেফারি হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন।   মুই থমাস জন্মগতভাবে হারলেকুইন ইচথিওসিস নামের এক অত্যন্ত বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগের কারণে রোগীর পুরো শরীর পুরু ও শক্ত চামড়ার আবরণে ঢাকা থাকে যা ফেটে গিয়ে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি করে। এর ফলে রোগীর শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং শরীরে সহজেই বড় ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। নব্বইয়ের দশকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই রোগটিকে প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। চিকিৎসকদের ধারণা ছিল এই রোগে আক্রান্ত প্রায় কেউই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে না।   তবে শিশুটির জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তার বয়স আঠারো মাস। ফস্টার কেয়ার প্রোগ্রামের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে আসা রগ এবং টিনা থমাস নামের এক দম্পতির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সময় এই দম্পতির দত্তক নেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না বরং তারা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু টিনা যখনই হাসপাতালে মুইকে দেখতে যেতেন তখন শিশুটির সঙ্গে তার এক অদ্ভুত মায়াবী সম্পর্ক তৈরি হয়। টিনা যখন হাসপাতাল থেকে চলে আসতে চাইতেন তখন মুই তার জন্য অঝোরে কাঁদতেন।   শিশুটির এই কান্না টিনাকে মানসিকভাবে প্রবল নাড়া দেয়। এরপর দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় আইনি ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে তারা মুইকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকরা তাদের বারবার সতর্ক করেছিলেন যে শিশুটি যেকোনো সময় মারা যেতে পারে। কিন্তু রগ ও টিনা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। হাসপাতালে মুইয়ের প্রতিটি চিকিৎসাকালীন সময়ে টিনা রাতের পর রাত তার বিছানার পাশে মেঝেতে ঘুমিয়েছেন। তাদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই মুইকে নতুন এক জীবন উপহার দেয়।   দীর্ঘ লড়াই শেষে ৩৩ বছর বয়সী মুই থমাস আজ সমাজের সব প্রতিকূলতাকে জয় করেছেন। তিনি বর্তমানে একজন ইয়োগা প্রশিক্ষক এবং বিশ্বের প্রথম রাগবি রেফারি যিনি এই বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েও মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক গঠনের কারণে তাকে অনেক মানসিক নির্যাতন বা বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল। তবে সেই কষ্টকেই তিনি নিজের শক্তি বানিয়ে দ্য গার্ল বিহাইন্ড দ্য ফেস নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি সমাজের সব ধরনের কুসংস্কার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ০:১৪
লেজার হেয়ার রিমুভালের পর ত্বকে লালচে দানা দেখা দেওয়া একটি সাধারণ শারীরিক প্রতিক্রিয়া মাত্র। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
লেজার হেয়ার রিমুভালের পর ত্বকে লাল ফোলা দানা, বিশেষজ্ঞ জানালেন সম্ভাব্য কারণ

লেজারের সাহায্যে শরীরের অবাঞ্ছিত লোম দূর করার পর ত্বকে ছোট ছোট লাল ফোলা দানা দেখা দিতে পারে। এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর একটি সাধারণ কারণ হলো চুলের গোড়ার চারপাশে সাময়িক ফোলা ও প্রদাহ, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘পেরিফলিকুলার ইডিমা’। স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম ইউপিএসওসিএল ৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, লেজার চিকিৎসার পর ত্বকে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও তা সব সময় গুরুতর জটিলতার ইঙ্গিত দেয় না।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেজার হেয়ার রিমুভালের পর লাল দানায় ভরা ত্বকের কয়েকটি ছবি এক বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠিয়ে এর কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল। ছবিতে চিকিৎসা করা স্থানে ছোট ছোট লাল ও ফোলা দানা দেখা যায়। বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই প্রতিক্রিয়ার একটি সম্ভাব্য কারণ হলো লেজারের তাপ চুলের গোড়ার আশপাশের টিস্যুতে প্রভাব ফেলা। সাধারণত চুলের রং তৈরি করে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থ। লেজার সেই রঞ্জককে লক্ষ্য করে তাপ তৈরি করে, যা চুলের গোড়ার আশপাশের অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।   চুল যে অংশ থেকে জন্মায়, সেই গোড়াকে ঘিরে থাকা টিস্যুতে তাপের প্রভাবে সাময়িক প্রদাহ তৈরি হতে পারে। ফলে ত্বকের ওপর ছোট ছোট লালচে ফোলা দানা দেখা দেয়। এই প্রতিক্রিয়া চেনার একটি লক্ষণ হলো, দানাগুলো সাধারণত ওই এলাকার চুলের গোড়ার বিন্যাস অনুসরণ করে দেখা যায়। তবে ত্বকে লাল দানা দেখা গেলেই সেটিকে পেরিফলিকুলার ইডিমা বলে নিশ্চিত করা যায় না। ত্বকের ধরন, লেজারের মাত্রা, চিকিৎসার পদ্ধতি এবং অন্য কোনো জটিলতা আছে কি না, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।   এ ধরনের ফোলা সাধারণত লেজার চিকিৎসার পরপরই দেখা দিতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে তা নিজে থেকেই কমে যায়। আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং অতিরিক্ত গরম পরিবেশ থেকে দূরে থাকা ত্বকের অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী, ত্বকে জ্বালা তৈরি করতে পারে এমন উপাদান এবং কঠোর ত্বক পরিচর্যার পণ্য সাময়িকভাবে এড়িয়ে চলা ভালো। তবে ত্বকে বরফ সরাসরি লাগানো বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিভিন্ন ওষুধ ও ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়।   কিছু লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টিকে সাধারণ প্রতিক্রিয়া ভেবে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। ফোসকা পড়া, ক্ষত বা খোসা তৈরি হওয়া, তীব্র ব্যথা, ত্বকে কালচে দাগ দেখা দেওয়া কিংবা কয়েক দিন পরও প্রদাহ না কমার মতো সমস্যা হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এসব লক্ষণ কখনো কখনো ত্বকে পুড়ে যাওয়ার ক্ষত বা অন্য কোনো জটিলতার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে লেজার চিকিৎসার পর উপসর্গ বাড়তে থাকলে বা আক্রান্ত স্থানে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।   বিশেষজ্ঞের বার্তায় আরেকটি বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। অবাঞ্ছিত লোম দূর করার জন্য লেজার চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত হওয়া উচিত। অন্য কারও চাপ, সামাজিক প্রত্যাশা কিংবা সৌন্দর্য সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার কারণে কাউকে এ ধরনের চিকিৎসা নিতে বাধ্য করা ঠিক নয়। লেজার হেয়ার রিমুভাল একটি প্রসাধনভিত্তিক চিকিৎসাপদ্ধতি হলেও এর কিছু ঝুঁকি, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই চিকিৎসা শুরুর আগে নিজের ত্বকের ধরন, সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং পরবর্তী যত্ন সম্পর্কে জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   লেজার চিকিৎসার নিরাপত্তা অনেকটাই নির্ভর করে সঠিক যন্ত্র নির্বাচন, উপযুক্ত মাত্রা নির্ধারণ এবং প্রশিক্ষিত পেশাজীবীর মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়ার ওপর। ত্বকের রং, চুলের ধরন ও কিছু শারীরিক অবস্থার কারণে একই চিকিৎসায় মানুষের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। তাই চিকিৎসার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করা এবং চিকিৎসার পর দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২৩:৫৬
ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিরুদ্ধে ক্রিস্টা পাইকের করা মামলাটি নতুন করে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে যাওয়া প্রথম নারী ক্রিস্টা পাইক, আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়

বৃহস্পতিবারের আদেশে ন্যাশভিলের ডেভিডসন কাউন্টি চ্যান্সারি কোর্টের বিচারক আইশিয়া মাইলস জানান, মামলাটি শুনানির জন্য এই আদালতই উপযুক্ত। পাইকের আইনজীবীরা আগে থেকেই টেনেসির প্রাণঘাতী ইনজেকশন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁদের দাবি, অঙ্গরাজ্যের নতুন পদ্ধতিতে এক ধরনের ওষুধ, পেন্টোবারবিটাল, ব্যবহার করা হলেও প্রয়োগের গোপনীয়তা, যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব এবং চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কাজে কারা দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়ে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। তাঁদের মতে, পাইকের শারীরিক অবস্থার কারণে এই পদ্ধতি তাঁর ক্ষেত্রে অসাংবিধানিক হতে পারে।   পাইক গত ৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসির রিভারবেন্ড সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁর শরীরে দুই দফা পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগ করা হলেও তিনি মারা যাননি। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত প্রক্রিয়া চলাকালে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন চালু ছিল। পরে তাঁকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যাওয়া প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি বলে বর্ণনা করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।   পাইকের আইনজীবীরা আগে থেকেই তাঁর শিরায় সুচ প্রবেশ করানোর জটিলতা এবং রক্তসংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, ইনজেকশন প্রয়োগের সময় অন্তত সাতটি সুচ ব্যবহার করা হয় এবং একটি সুচ বাঁকা হয়ে বেরিয়ে আসে। তাঁদের দাবি, ওষুধ শিরার বাইরে আশপাশের টিস্যুতে প্রবেশ করায় তাঁর দুই হাতে গুরুতর ফোলা ও ক্ষত তৈরি হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে আইনজীবীরা এখন সংশ্লিষ্ট নথি ও চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছেন। অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়কার প্রমাণ ইতিমধ্যে সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করা হয়েছে।   আদালতের সাম্প্রতিক আদেশে টেনেসি সংশোধন বিভাগকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওষুধ, সিরিঞ্জ, শিরায় ওষুধ দেওয়ার নল, অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী, ছবি, ভিডিও, অডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ, ই-মেইল এবং ঘটনার সময় কোনো জটিলতা বা বিলম্বের নথি সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। আগে কোনো তথ্য বা সামগ্রী মুছে ফেলা কিংবা নষ্ট করা হয়ে থাকলে, তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও করতে হবে। পাইকের আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁদের তাৎক্ষণিক দাবি সব প্রমাণ হাতে পাওয়া নয়, বরং ভবিষ্যৎ আইনি লড়াইয়ের জন্য সেগুলো অক্ষত রাখা।   পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা ১৯৯৫ সালের একটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। আদালতের নথি অনুযায়ী, টেনেসির নক্সভিলে জব কর্পসের সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় পাইক দোষী সাব্যস্ত হন। প্রসিকিউশনের বক্তব্য ছিল, পাইক ও আরও দুজন কিশোর-কিশোরী স্লেমারকে একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে ছিলেন।   ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর টেনেসির গভর্নর বিল লি ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেন। চলতি বছর টেনেসিতে এটি ছিল দ্বিতীয় ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। এর আগে বসন্তে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া প্রয়োজনীয় বিকল্প শিরাপথ স্থাপন করা না যাওয়ায় বন্ধ করা হয়েছিল। এসব ঘটনার পর অঙ্গরাজ্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   পাইক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং কথা বলতে পারছেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি এখনো অনিশ্চিত। তাঁর হাতে রক্ত জমাট বাঁধা ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কতটা ফিরবে, তা চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করতে পারেননি। আইনজীবীরা তাঁর চিকিৎসা ও আইনি পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা গভর্নর লির কাছে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।   আদালতের এই সিদ্ধান্তে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে আইনি প্রশ্নগুলো আবার সামনে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে মামলার মূল অভিযোগের শুনানি শেষে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একইভাবে, স্থগিতাদেশের পর টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কার্যক্রম কখন আবার শুরু হবে, সে বিষয়েও কোনো নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।   সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২৩:৪৪
কলম্বিয়ান অভিবাসী পরিবারের সন্তান স্যান্ড্রা শর্টার আজ তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
শিক্ষকতা ছেড়ে কাপকেকের ব্যবসা, ১০ বছরে সফল উদ্যোক্তা সান্দ্রা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার লেক নোনায় কাপকেকের ব্যবসা গড়ে তুলে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন সান্দ্রা শর্টার। একসময় তাঁর স্বপ্ন ছিল আইনজীবী কিংবা প্রকৌশলী হওয়ার। পরে শিশুদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ থেকে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। তবে জীবনের পথ তাঁকে নিয়ে যায় ভিন্ন এক জায়গায়। প্রায় ১০ বছর আগে একটি খাবারের ট্রাক দিয়ে শুরু করা তাঁর কাপকেকের ব্যবসা এখন লেক নোনায় বেকারিতে রূপ নিয়েছে। ‘দ্য নেকেড কাপকেক’ নামের এই প্রতিষ্ঠান শুধু মিষ্টান্ন বিক্রির জায়গা নয়, বরং মানুষের জন্য আন্তরিক ও আপন পরিবেশ তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবেও গড়ে উঠেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডোর এক প্রতিবেদনে সান্দ্রার এই পথচলার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দশক আগে নিজের একটি ধারণার ওপর ভরসা করে তিনি খাবারের ট্রাক চালু করেন। নতুন ব্যবসা শুরু করার সেই সময়টি তাঁর কাছে ছিল আবেগ ও অনিশ্চয়তায় ভরা। ট্রাক নিয়ে প্রথমবার আন্তঃরাজ্য মহাসড়ক আই-৪-এ ওঠার স্মৃতি এখনো মনে আছে তাঁর। সান্দ্রা বলেন, প্রথমবার ট্রাকটি নিয়ে মহাসড়কে ওঠার সময় তাঁর চোখে পানি চলে এসেছিল। নিজের উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ নিতে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, এটি সত্যিই তাঁর নিজের কিছু।   সেই ছোট উদ্যোগ ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। খাবারের ট্রাক থেকে ব্যবসাটি একসময় স্থায়ী বেকারিতে পরিণত হয়, যার অবস্থান ফ্লোরিডার লেক নোনা এলাকায়। তবে সান্দ্রার কাছে ব্যবসার সাফল্যের অর্থ কেবল কাপকেক বিক্রি কিংবা আয় বাড়ানো নয়। তিনি চান, তাঁর প্রতিষ্ঠানে আসা মানুষ যেন স্বস্তি অনুভব করেন এবং নিজেদের আপনজনের ঘরে এসেছেন বলে মনে করেন। গ্রাহকদের জীবনের বিশেষ মুহূর্তগুলোর অংশ হতে পারাটাই তাঁর কাছে বড় আনন্দের। সান্দ্রার ভাষায়, তিনি চান ক্রেতারা যেন এমন অনুভূতি পান, যেন তাঁরা কোনো প্রতিবেশীর বাড়িতে প্রবেশ করেছেন।   সান্দ্রার এই দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে রয়েছে তাঁর পারিবারিক ইতিহাস। তাঁর বাবা-মা দুজনই কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। নতুন দেশে জীবন গড়তে তাঁদের যে ত্যাগ ও পরিশ্রম করতে হয়েছে, তা সান্দ্রাকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখতে শিখিয়েছে। শৈশব ও পারিবারিক অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া সেই শিক্ষা পরবর্তী সময়ে তাঁর কর্মজীবনেও প্রভাব ফেলেছে। শিক্ষকতা করার সময় তিনি মূলত স্বল্প আয়ের এবং হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর বসবাস বেশি এমন এলাকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তখন তিনি বিশেষ করে মেয়েদের সামনে এমন একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে চেয়েছিলেন, যাতে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় করে ভাবতে পারে।   শিক্ষকতা ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পরও সেই ভাবনা তাঁর কাজের সঙ্গে রয়ে গেছে। সান্দ্রা মনে করেন, মানুষকে অনুপ্রাণিত করার জন্য সব সময় বড় কোনো পদে থাকা প্রয়োজন হয় না। নিজের কাজের মধ্য দিয়েও অন্যদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেওয়া যায়। একসময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করতেন তিনি। এখন নিজের ব্যবসার মাধ্যমে সেই একই বার্তা পৌঁছে দিতে চান। তাঁর যাত্রা দেখায়, পরিচিত পেশার বাইরে গিয়েও নতুন উদ্যোগ শুরু করা সম্ভব, যদি নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকে এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা বজায় থাকে।   ব্যবসা শুরুর ১০ বছর পরও সান্দ্রার কাছে অনেক মুহূর্ত অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়। পেছনে ফিরে শুরুর দিনের নিজের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে তিনি তাঁকে এগিয়ে যেতে বলতেন। তাঁর মতে, সফল হওয়ার জন্য নিজের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখা এবং বাধা এলেও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। তিনি বলেন, অধ্যবসায় ধরে রাখতে হবে এবং বুঝতে হবে, নিজের মধ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে। এই বিশ্বাস নিয়েই তিনি এক দশক ধরে নিজের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।   সান্দ্রা কখনো বেকার হওয়ার পরিকল্পনা করেননি। কিন্তু শিক্ষকতা থেকে শুরু হওয়া তাঁর কর্মজীবন তাঁকে এমন একটি ব্যবসার মালিক করেছে, যেখানে তিনি নিজের মতো করে মানুষের জীবনে আনন্দ যোগ করতে পারছেন। কাপকেক তৈরির পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য আন্তরিক পরিবেশ তৈরি করাই এখন তাঁর উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। লেক নোনায় ‘দ্য নেকেড কাপকেক’-এর মাধ্যমে তাঁর এই যাত্রা শুধু একটি ব্যবসা গড়ে তোলার গল্প নয়, বরং পারিবারিক শিক্ষা, নিজের ওপর বিশ্বাস এবং দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার উদাহরণও।   সূত্র: ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২৩:১৯
মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ৪৫টি ড্রোন ও বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের তথ্য প্রকাশ করেছে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ যুদ্ধবিমান ধ্বংস, ক্ষতি ৪০ হাজার কোটি টাকা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন ড্রোন রয়েছে। এসব উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে সম্ভাব্য ব্যয় ১৯০ কোটি থেকে ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ কোটি থেকে ৪০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উড়োজাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ উঠে এসেছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে দেশটির কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সিআরএসের ৫ অক্টোবর হালনাগাদ করা প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো উড়োজাহাজের তথ্য সংকলন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য, সরকারি নথি ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তালিকায় থাকা সব উড়োজাহাজ স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়েছে, এমন নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কিছু উড়োজাহাজ মেরামতের পর আবারও সামরিক কাজে ফিরিয়ে আনা হয়ে থাকতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজের তালিকায় রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান এবং সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে চালকবিহীন আকাশযান। তালিকাভুক্ত ৮১টি উড়োজাহাজের মধ্যে ৪৫টিই এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত এসব ড্রোনের একাধিকটি হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সরঞ্জামগত ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ছাড়া তালিকায় বিভিন্ন ধরনের হেলিকপ্টার ও অন্যান্য সামরিক আকাশযানও রয়েছে। সিআরএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সব ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা একই কারণে ঘটেনি। কিছু উড়োজাহাজ শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু ভূপাতিত হয়েছে, আবার কিছু যুদ্ধাঞ্চলে দুর্ঘটনা বা নিজেদের পক্ষের গোলাবর্ষণের ঘটনায় হারানো হয়েছে। কয়েকটি উড়োজাহাজ মাটিতে থাকা অবস্থায় হামলার শিকার হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ৮১ সংখ্যাটি কেবল ইরানের হামলায় ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজের হিসাব নয়, বরং যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো আকাশযানের সম্মিলিত সংখ্যা। সামরিক তথ্যের কিছু অংশ গোপন থাকা এবং সংঘাত অব্যাহত থাকার কারণে এই সংখ্যা ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নৌ কর্মকর্তা ও সরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কিলোওয়েন গ্রুপের চেয়ারম্যান হারলান উলম্যান আল-জাজিরাকে বলেন, আধুনিক যুদ্ধে সামরিক শক্তির পার্থক্য থাকলেও ছোট দেশ বা তুলনামূলক সীমিত সামরিক সক্ষমতার পক্ষও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে পারে। তাঁর মতে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে কিছুটা সাফল্য পেয়েছে। বিশেষ করে কম খরচে তৈরি করা যায় এমন চালকবিহীন আকাশযান বড় সামরিক স্থাপনার জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব আকাশযানের সহজলভ্যতা ও ব্যবহার যুদ্ধের প্রচলিত কৌশলকে বদলে দিচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি। ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট চেয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বাজেট। যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ও সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়টি সামনে রেখে এই বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয়, সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন কতটা হবে, তা নিয়ে কংগ্রেসের সদস্যদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অস্ত্র ও সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি জ্বালানি এবং অন্যান্য সামরিক কার্যক্রমের ব্যয়ও বাড়তে পারে। গত মাসে ৪৫ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও একজন স্বতন্ত্র সিনেটর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি দিয়ে যুদ্ধের ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে কংগ্রেসের বিবেচনার আগে ব্যয়ের স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রয়োজন। সিনেটরদের চিঠিতে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন করদাতাদের অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্য, গৃহঋণ ও বিমান টিকিটের মতো খাতে আরও ৬ হাজার কোটি ডলার বাড়তি ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে এসব ব্যয়ের হিসাব সিনেটরদের দেওয়া দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, স্বাধীনভাবে যাচাই করা চূড়ান্ত হিসাব হিসেবে নয়। সিবিওর সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এই হিসাবে যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও হারানো সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় এবং অন্যান্য সামরিক কার্যক্রমের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, সংঘাত আরও এক মাস চললে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বাড়তে পারে প্রায় ২০০ কোটি ডলার। আর যুদ্ধের তীব্রতা জুলাই মাসের পর্যায়ে পৌঁছালে এক মাসে ব্যয় ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এসব হিসাব যুদ্ধের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সামরিক তৎপরতার মাত্রার ওপর নির্ভরশীল। ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজের সংখ্যা প্রত্যাশিত ছিল কি না এবং এসব ক্ষতি মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটে কী প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে আল-জাজিরা পেন্টাগনের কাছে জানতে চেয়েছিল। জবাবে পেন্টাগন জানায়, তাদের নতুন করে কিছু বলার নেই। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুদ্ধের ব্যয় ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে উলম্যানের মতে, অনেক মার্কিন নাগরিক সামরিক অভিযানে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতিকে প্রত্যাশিত ঘটনা হিসেবে দেখতে পারেন। তাই শুধু এই প্রতিবেদনই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে, এমনটা তিনি মনে করেন না। সূত্র: আল-জাজিরা

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২৩:৬
যুক্তরাষ্ট্রে টিসিএস, ইনফোসিসসহ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পিইআরএম প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় আইটি কর্মীদের গ্রিন কার্ডে বড় ধাক্কা! স্থগিত টিসিএস, ইনফোসিসের পিইআরএম প্রক্রিয়া

ক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ ৮ অক্টোবর আটটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পিইআরএম কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। তালিকায় রয়েছে টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), ইনফোসিস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস, কগনিজ্যান্ট, ক্যাপজেমিনি, মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের নতুন শ্রম-অনুমোদনের আবেদন গ্রহণ করা হবে না এবং আগে জমা দেওয়া আবেদনও আপাতত প্রক্রিয়াকরণ করা হবে না। সরকারের দাবি, বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং মার্কিন কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সুরক্ষিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো তদন্তসংশ্লিষ্ট, এগুলোকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখা যাবে না। পিইআরএম বা স্থায়ী শ্রম-অনুমোদন হলো যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগকর্তার মাধ্যমে কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ড পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তাকে দেখাতে হয়, সংশ্লিষ্ট চাকরির জন্য পর্যাপ্ত যোগ্য ও আগ্রহী মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। শ্রম বিভাগের অনুমোদন পাওয়ার পর যোগ্য কর্মীর নিয়োগকর্তা পরবর্তী ধাপে গ্রিন কার্ডের আবেদন এগিয়ে নিতে পারেন। ফলে পিইআরএম প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে ইচ্ছুক কর্মীদের অপেক্ষা বাড়তে পারে। এই সিদ্ধান্তে বিশেষ করে ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। টিসিএস, ইনফোসিস ও উইপ্রোর মতো প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানিকে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দেয় এবং তাদের মাধ্যমে বহু বিদেশি পেশাজীবী কাজ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মী নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতায় গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়ার কোন পর্যায়ে আবেদন রয়েছে, তার ওপর প্রভাব নির্ভর করবে। নতুন আবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করা কর্মীদের পাশাপাশি আগে আবেদন জমা দিয়েছেন এমন কর্মীরাও বিলম্বের মুখে পড়তে পারেন। তবে এই স্থগিতাদেশের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সব কর্মীর চাকরি বন্ধ হয়ে যাবে, এইচ-১বি ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে কিংবা আগে থেকে পাওয়া সব গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে যাবে। পিইআরএম প্রক্রিয়া এবং এইচ-১বি কর্মভিসা পৃথক ব্যবস্থা। কারও বর্তমান অভিবাসন অবস্থার ওপর সিদ্ধান্তটির প্রভাব নির্ভর করবে তাঁর ভিসার মেয়াদ, আবেদন পর্যায় এবং অন্যান্য প্রযোজ্য নিয়মের ওপর। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগের বিভিন্ন কর্মসূচির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। নতুন এই পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও কর্মকর্তারা কথিত অনিয়ম এবং মার্কিন কর্মীদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার বিষয়টি সামনে এনেছেন। তবে স্থগিতাদেশ কত দিন কার্যকর থাকবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের ফল কী হবে এবং ভবিষ্যতে আবেদন প্রক্রিয়া আবার চালু হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এদিকে, যেসব কর্মীর গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এগোচ্ছিল, তাঁদের জন্য নিয়োগকর্তার কাছ থেকে নিজেদের আবেদনের বর্তমান অবস্থা ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২২:৪৩
ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়ালনাট ক্রিকে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে চার বেডরুমের আধুনিক বাড়ি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১.৫ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ২ লাখ ৬২ হাজার ডলারে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ওয়ালনাট ক্রিকে বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার এই শহরে কম ও অতি কম আয়ের যোগ্য পরিবারগুলোর জন্য তিনটি নতুন বাড়ি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চার শোবার ঘরের একটি বাড়ির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৬২ হাজার ৭৫০ ডলার। বাড়িটির বাজারমূল্য আনুমানিক ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখ ডলার। ফলে নির্ধারিত দামে বাড়িটি কেনার সুযোগ পেলে ক্রেতারা বাজারদরের তুলনায় অনেক কম খরচে নিজেদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারবেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেটিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ালনাট ক্রিক শহরের বাজারদরের নিচে বাড়ির মালিকানা কর্মসূচির আওতায় এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহী এবং নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা পরিবারগুলো আবেদন করতে পারবেন। পুরো কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে বে এরিয়া অ্যাফোর্ডেবল হোমওনারশিপ অ্যালায়েন্স নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে। এ কাজে তাদের সঙ্গে রয়েছে কমিউনিটি হাউজিং ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন এবং মেকানিকস ব্যাংক। যোগ্য ক্রেতাদের জন্য ব্যাংকটি বাড়ির প্রাথমিক জমার অর্থে সহায়তা এবং ঋণসংক্রান্ত ভর্তুকিও দেবে।   বিক্রির জন্য নির্ধারিত বাড়িগুলো নতুন নির্মিত এবং প্রতিটির আয়তন ২ হাজার বর্গফুটের বেশি। তিন থেকে চারটি শোবার ঘরবিশিষ্ট এসব বাড়ির দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ৭৫০ ডলার থেকে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ডলারের মধ্যে। শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মোট তিনটি বাড়ি এই কর্মসূচির আওতায় বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে একটি বাড়ি ওয়ালনাট ক্রিকের অ্যাবিগেইল আবাসন প্রকল্পে অবস্থিত। দোতলা এই বাড়িটির আয়তন আড়াই হাজার বর্গফুটের বেশি। এতে খোলামেলা নকশার বসার জায়গা, মূল শোবার ঘরে পোশাক রাখার আলাদা জায়গা এবং সাজানো পেছনের উঠান রয়েছে।   অ্যাবিগেইল প্রকল্পের বাড়িটি কিনতে হলে আবেদনকারীদের অতি কম আয়ের পরিবারের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। চার সদস্যের পরিবারের বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ ৮১ হাজার ৪০০ ডলার, পাঁচ সদস্যের পরিবারের ৮৭ হাজার ৯০০ ডলার, ছয় সদস্যের পরিবারের ৯৪ হাজার ৪২৫ ডলার, সাত সদস্যের পরিবারের ১ লাখ ৯২৫ ডলার এবং আট সদস্যের পরিবারের ১ লাখ ৭ হাজার ৪৫০ ডলারের মধ্যে থাকতে হবে। এসব আয়সীমা পূরণ করলেই বাড়ি কেনা নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, ন্যূনতম ঋণমান এবং বাড়ির প্রাথমিক জমার অর্থের শর্তও পূরণ করতে হবে।   অন্য দুটি বাড়ি ওয়ালনাট ক্রিকের এনক্লেভ আবাসন প্রকল্পে অবস্থিত। এগুলো কিনতে পারবেন নির্দিষ্ট নিম্ন আয়ের সীমার মধ্যে থাকা পরিবারগুলো। বাড়ি দুটির দাম তিন লাখ ডলারের মাঝামাঝি পর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন সদস্যের পরিবারের বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ২২ হাজার ২০০ ডলার, চার সদস্যের পরিবারের ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫০ ডলার, পাঁচ সদস্যের পরিবারের ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫০ ডলার এবং ছয় সদস্যের পরিবারের ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে থাকতে হবে। সাত সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে আয়সীমা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫০ ডলার এবং আট সদস্যের পরিবারের জন্য ১ লাখ ৭৯ হাজার ২০০ ডলার।   এই কর্মসূচিতে আবেদন করার জন্য পরিবারের সব সদস্যকে গত তিন বছরে কোনো বাড়ির মালিক না থাকার শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ, শুধু আবেদনকারী নিজে বাড়ির মালিক ছিলেন কি না, তা নয়, পরিবারের অন্য সদস্যদের মালিকানার ইতিহাসও বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের নির্ধারিত ন্যূনতম ঋণমান, প্রাথমিক জমার অর্থ এবং আয়-ঋণের অনুপাতসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। যোগ্যতা যাচাইয়ের পর আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বাড়ির ক্রেতা নির্বাচন করা হবে। ওয়ালনাট ক্রিকে বসবাস করেন বা সেখানে কাজ করেন, এমন আবেদনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।   আগ্রহী ক্রেতাদের আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে লটারির জন্য আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বাড়ির মালিকানা কর্মসূচির আয়োজকেরা ২১ অক্টোবর একটি অনলাইন তথ্যসভা আয়োজন করবেন। সেখানে বাড়ির দাম, আয়ের সীমা, আবেদনপ্রক্রিয়া এবং ঋণসংক্রান্ত শর্ত সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকবে। আগ্রহীরা মাই হোম গেটওয়ের ওয়েবসাইটে কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা দেখতে পারবেন।   তবে বাজারদরের তুলনায় কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ পেলেও ক্রেতাদের কিছু দীর্ঘমেয়াদি শর্ত মানতে হবে। বাড়ির মালিককে সম্পত্তি ভালো অবস্থায় রাখতে হবে এবং বছরে অন্তত ১০ মাস সেখানে নিজেকে বসবাস করতে হবে। বাড়িটি অন্য কাউকে ভাড়া দেওয়া যাবে না। ভবিষ্যতে বিক্রি করতে চাইলে শহর কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে হবে। একই সঙ্গে বাড়িটি আগামী ৪৫ বছর বাজারদরের নিচে বিক্রির আবাসন কর্মসূচির আওতায় থাকবে। অর্থাৎ, এটি সাধারণ বাজারে ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি করার মতো সম্পত্তি নয়।   বে এরিয়া অ্যাফোর্ডেবল হোমওনারশিপ অ্যালায়েন্স কনকর্ড, ইস্ট পালো আল্টো ও অ্যান্টিওকসহ বে এরিয়ার বিভিন্ন শহরে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য একই ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করে। সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় বাড়ির উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবার নিজেদের আবাসন কেনার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে। ওয়ালনাট ক্রিকের এই উদ্যোগ সেই পরিস্থিতিতে যোগ্য নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য একটি বিকল্প সুযোগ তৈরি করেছে। তবে বাড়ির সংখ্যা মাত্র তিনটি হওয়ায় আগ্রহী আবেদনকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   সূত্র: কেটিটিভি

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২২:২৩
নিউইয়র্কের কুইন্সে তিন তলা ভবন থেকে পড়েও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায় দুই বছরের এই শিশু। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কে তিন তলা থেকে পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল ২ বছরের শিশু

নিউইয়র্কের কুইন্সে তিনতলা ভবন থেকে পড়ে আহত হয়েছে দুই বছর বয়সী এক শিশু। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ফরেস্ট হিলস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আঘাত আপাতত সামান্য বলে জানা গেছে এবং চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে হাসপাতালের এক্স-রে পরীক্ষার পর আঘাতের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার কিছু আগে কুইন্স বুলেভার্ডের ১০২-১০ নম্বর ঠিকানায় একটি জরুরি ফোনকল পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। সেখানে ভবন থেকে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে মাটিতে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে দ্রুত কোহেন চিলড্রেনস মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। শিশুটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তার আঘাতের মাত্রা প্রাথমিকভাবে কম বলে মনে হচ্ছে।   পুলিশের একটি সূত্র নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছে, শিশুটির আঘাতের বিষয়ে হাসপাতালের এক্স-রে পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে কীভাবে শিশুটি ভবনের জানালা থেকে নিচে পড়ে গেল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন নিউইয়র্কে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এর কয়েক দিন আগেই ব্রঙ্কসে এক মাকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় তিনি নিহত হন এবং একটি শিশু আহত হয়। তবে কুইন্সের এই ঘটনার সঙ্গে আগের ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য পুলিশ দেয়নি।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২২:১
উচ্চতা বাড়ানোর জন্য দেড় লাখ ডলার খরচ করে ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাবা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
তিন ইঞ্চি উচ্চতা বাড়াতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অপারেশন, ছেলের পাশে দাঁড়ালেন বাবা

উচ্চতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অস্বস্তি কাটাতে পায়ের হাড় লম্বা করার অস্ত্রোপচার করিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আল্ট্রাম্যারাথন দৌড়বিদ অ্যারন ত্রিন। এ জন্য তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যদিও বিনিময় হার অনুযায়ী এই অঙ্কে পরিবর্তন হতে পারে। ছেলের অস্ত্রোপচারের পুরো খরচ বহন করেছেন তাঁর বাবা। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অ্যারনের উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি থেকে বেড়ে ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের জন্য তাঁকে দীর্ঘ পুনর্বাসন, তীব্র স্নায়বিক ব্যথা এবং আবার হাঁটতে শেখার মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদন ও জীবনধারাবিষয়ক সাময়িকী পিপলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যারন জানান, আশপাশের মানুষের তুলনায় নিজেকে খাটো মনে করা এবং উচ্চতা নিয়ে বৈষম্যের অভিজ্ঞতা তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। অন্যদের তুলনায় নিজেকে আলাদা মনে হওয়ার বিষয়টি ধীরে ধীরে তাঁর মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত পায়ের হাড় লম্বা করার অস্ত্রোপচারের বিষয়ে জানতে শুরু করেন তিনি। অ্যারনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন বাবা, যিনি নিজেও সারা জীবন উচ্চতা নিয়ে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন।   অ্যারনের বাবা নিজেও মাত্র ৫ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা। তাঁর দাবি, উচ্চতার কারণে পরিবার থেকে শুরু করে পরিচিতজন এবং কর্মক্ষেত্রেও তাঁকে নানা ধরনের অবমূল্যায়নের অভিজ্ঞতা পেতে হয়েছে। পিপলকে তিনি জানান, নিজের উচ্চতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তিতে ছিলেন এবং অনেক সময় সামাজিক মেলামেশা এড়িয়ে চলতেন। অন্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিচ থেকে তাকাতে হওয়া কিংবা অন্যদের তাঁর দিকে নিচের দিকে তাকিয়ে কথা বলার বিষয়টি তাঁকে বিব্রত করত। নিজের অভিজ্ঞতার কারণে ছেলের অনুভূতি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তে তাঁকে সমর্থন দেন।   অ্যারন জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর উচ্চতা নিয়ে বাবা সচেতন ছিলেন। তাঁকে লম্বা করতে সহায়ক হবে বলে মনে করে সকালে দুধ পান করানোর মতো অভ্যাসও গড়ে তুলেছিলেন তাঁর বাবা। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পায়ের হাড় লম্বা করার অস্ত্রোপচারসংক্রান্ত একটি ভিডিও দেখে অ্যারনের আগ্রহ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে খোঁজাখুঁজির পর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে অবস্থিত প্যালে অর্থোপেডিক অ্যান্ড স্পাইন ইনস্টিটিউটের সন্ধান পান তিনি। এরপর চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।   অ্যারনের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পুরো খরচ বহনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাঁর বাবা। এই সিদ্ধান্তকে বাবা-ছেলের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। তাঁর বাবা জানিয়েছেন, নিজের যৌবনে এই প্রযুক্তি সহজলভ্য থাকলে তিনিও হয়তো একই ধরনের অস্ত্রোপচার করাতেন। তবে তাঁরা বিষয়টি অ্যারনের মায়ের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন। অস্ত্রোপচারের আগের দিন তাঁকে বিষয়টি জানানো হয়।   ২০২৫ সালের মে মাসে অ্যারনের প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় পায়ের হাড়ে অস্ত্রোপচার করে বিশেষ ধাতব যন্ত্র বসানো হয়। পরে শরীরের বাইরে থেকে চুম্বকীয় প্রযুক্তির সাহায্যে যন্ত্রটির দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়, যাতে হাড়ের দুই অংশের মধ্যবর্তী দূরত্ব বাড়ে এবং নতুন হাড় গঠনের সুযোগ তৈরি হয়। চিকিৎসাপদ্ধতি অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় এক মিলিমিটার করে হাড় লম্বা করা সম্ভব। পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এ সময় পেশি, স্নায়ু ও আশপাশের অন্যান্য টিস্যুকে নতুন দৈর্ঘ্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।   অ্যারন জানান, অস্ত্রোপচারের দিন তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে পরে তাঁর কাছে অস্ত্রোপচারের দিনটিকেই পুরো অভিজ্ঞতার তুলনায় সবচেয়ে সহজ মনে হয়েছে। সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল স্নায়বিক ব্যথা সহ্য করা। কখনো কখনো ব্যথার তীব্রতায় তাঁকে চিৎকার করে উঠতে হয়েছে এবং কেঁদেও ফেলেছেন। তবু তাঁর মতে, কষ্টটি সহনীয় ছিল এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি অনুতপ্ত নন।   অস্ত্রোপচারের প্রায় আট মাস পর নিজের উচ্চতা বৃদ্ধির বিষয়টি দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্টভাবে অনুভব করতে শুরু করেন অ্যারন। আগে হাত বাড়িয়ে সহজেই যেসব জিনিসে পৌঁছাতে পারতেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে এখন তাঁকে আরও দূরে হাত বাড়াতে হচ্ছিল। তখনই তাঁর কাছে পরিবর্তনটি বাস্তব বলে মনে হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পরপরই স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব হয়নি। নতুন উচ্চতার সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে আবার হাঁটাচলার স্বাভাবিক সক্ষমতা ফিরে পেতে দীর্ঘ পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পায়ের হাড়ে বসানো ধাতব যন্ত্র অপসারণের জন্য পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় আরেকটি অস্ত্রোপচারও করাতে হয়।   বর্তমানে ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অ্যারন নিজের পড়াশোনা শেষ করা, পেশাগত জীবন এবং সামাজিক সম্পর্কের দিকে মনোযোগ দিতে চান। তিনি বলেন, উচ্চতা নিয়ে আগের অস্বস্তি কমে যাওয়ায় এখন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মানসিকভাবে মনোযোগ দিতে পারছেন। নিজের শরীর ও মন নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিতে রয়েছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তটি অন্যদের দেখানোর জন্য ছিল না, বরং নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানসিকভাবে স্বস্তি পাওয়ার জন্যই এটি করেছিলেন।   অ্যারন তাঁর সিদ্ধান্তকে কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য পরিবর্তনের বিষয় হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর মতে, নিজের উন্নতির জন্য কেউ পরিশ্রম করতে চাইলে অন্যের তা নিয়ে বিচার করার অধিকার নেই। তবে পায়ের হাড় লম্বা করার অস্ত্রোপচার একটি বড় চিকিৎসাপদ্ধতি, যার সঙ্গে ব্যথা, দীর্ঘ পুনর্বাসন এবং জটিলতার ঝুঁকি জড়িত। তাই এ ধরনের অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানা জরুরি।   সূত্র: পিপল ম্যাগাজিন

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২১:৪৬
জে-১ ভিসার অপব্যবহার রোধে ৯ শীর্ষ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক তদন্তের ঘোষণা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা জেডি ভ্যান্সের

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তালিকায় রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস ক্যাম্পাস (ইউসি ডেভিস), স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, হার্ভার্ড ও ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশটির কয়েকটি পরিচিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ তদন্তের ঘোষণা দেন। তাঁর অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি গবেষকদের জন্য নির্ধারিত ভিসা কর্মসূচি অতিরিক্ত ব্যবহার করে মার্কিন শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কর্মসংস্থান এবং মজুরির ওপর চাপ তৈরি করছে।   ভ্যান্স বলেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে জে-১ ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে এবং বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, বিদেশি গবেষকদের নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তুলনায় কম ব্যয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। তদন্তের ফল প্রকাশের আগে কোনো প্রতিষ্ঠান ভিসা জালিয়াতি করেছে বলে চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের আওতায় থাকা নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পের কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ বিদেশি নাগরিক। তাঁদের দাবি, জাতীয় পর্যায়ে এই হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান কীভাবে হিসাব করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি গবেষকদের উপস্থিতির হার বেশি হওয়ার অর্থ নিজে থেকেই ভিসা জালিয়াতির প্রমাণ নয়। তদন্তে মূলত ভিসার শর্ত, নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।   তদন্তের তালিকায় থাকা নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসি ডেভিস, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটি। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং ইউসি ডেভিস। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ইতিমধ্যে তদন্তের অংশ হিসেবে সমন জারি করা হয়েছে। বিদেশি প্রভাব, আর্থিক সম্পর্কের অনিয়ম এবং ভিসার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।   ইউসি ডেভিস কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি ভিসাসংক্রান্ত সব কেন্দ্রীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলে। ফক্স৪০-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তদন্তের বিষয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের ভিত্তি, তদন্তে কী ধরনের নথি পরীক্ষা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   জে-১ ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিনিময় কর্মসূচির আওতাভুক্ত অস্থায়ী ভিসা। এর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ বা সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশটিতে যেতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক গবেষক ও পোস্টডক্টরাল গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার ক্ষেত্রে এই ভিসা ব্যবহার করে থাকে। অন্যদিকে, এইচ-১বি ভিসা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ দেয়। দুটি ভিসার উদ্দেশ্য ও শর্ত আলাদা হলেও ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে উভয় কর্মসূচির ব্যবহার নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।   ভ্যান্সের অভিযোগ, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় জে-১ ভিসার মাধ্যমে বিদেশি গবেষকদের নিয়োগ দিয়ে মার্কিন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তুলনায় কম বেতনে কাজ করাচ্ছে। তাঁর মতে, এতে স্থানীয় গবেষকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিদেশি গবেষকদের বেতন তুলনামূলক কম কি না, কিংবা কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভিসার শর্ত ভেঙেছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়োগের শর্ত, কাজের ধরন ও আর্থিক নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রশাসনের অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এই তদন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ। বিদেশি শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী ও গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং কাজের সুযোগ নিয়ে প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও প্রকৌশল গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে ভিসা ব্যবহারের নিয়ম আরও কঠোর হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগ এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোও প্রভাবিত হতে পারে।   শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক ডি’এসপোসিটি বলেছেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে তার পরিচিতি বা মর্যাদার কারণে তদন্তের বাইরে রাখা হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে ভিসার অপব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশি প্রভাব এবং আর্থিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। তবে তদন্ত চলাকালে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নথি পর্যালোচনা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।   সূত্র: ফক্স৪০

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২১:৩০
অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দিতে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করবে পেন্টাগন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফোর্ট হুড হামলাকারীর ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিড়াল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে পেন্টাগন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দেখার সুযোগ সাধারণ মানুষের জন্য নিশ্চিত করা হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তাও বিবিসিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড ঘাঁটিতে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে।   বৃহস্পতিবার রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম রিয়েল আমেরিকাস ভয়েসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেগসেথ বলেন, মানুষ যাতে ঘটনাটি দেখতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। তাঁর মতে, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে মানুষের জানা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, হাসানের মৃত্যুদণ্ড সেনাদের একটি ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে। তবে সরাসরি সম্প্রচার কোন মাধ্যমে হবে, কারা তা দেখতে পারবেন এবং সম্প্রচারে কী ধরনের বিধিনিষেধ থাকবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।   মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেল জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সুপারিশের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাসানের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করেছেন। মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ৩ ডিসেম্বর দণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ১৯৬১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটবে।   ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে গুলির ঘটনা ঘটে। সে সময় মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া সেনাসদস্যরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা নেওয়ার জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে শান্তিকালীন সময়ে সংঘটিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে ঘটনাটি পরিচিত।   হামলাকারী নিড়াল হাসান ছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মনোরোগ চিকিৎসক এবং মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তিনি ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা ছিলেন। আদালতে তিনি হামলার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন। ২০১৩ সালে সামরিক আদালত তাঁকে ১৩ জনকে হত্যাসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। একই বছরের ২৮ আগস্ট সামরিক আদালতের জুরি তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করে। বিচার চলাকালে হাসান বলেছিলেন, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তিনি মুসলিম ও তালেবানকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে কাজ করেছিলেন বলে মনে করতেন।   যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই বিরল। দেশটিতে সর্বশেষ সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৬১ সালে। সে সময় ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক মার্কিন সেনাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। অন্যদিকে, সামরিক বাহিনীতে সর্বশেষ ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল ১৯৪৫ সালের জানুয়ারিতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এডি স্লোভিক নামের এক সেনাসদস্যকে সামরিক বাহিনী ত্যাগ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।   হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রে আইনি ও নৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক ডেবোরা ডেনো, যিনি দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করেছেন, জানিয়েছেন, আধুনিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের নজির নেই। তাঁর মতে, এমন সম্প্রচার হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসাধারণের সামনে নজিরবিহীন স্বচ্ছতা তৈরি হতে পারে। তবে সম্প্রচারটি কোন বয়সের দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর নীতিমালার সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে কি না, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।   মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা আইনজীবী জন মিলস এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, মৃত্যুদণ্ডকে জনসমক্ষে প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত ঘটনাটিকে এক ধরনের প্রদর্শনীতে পরিণত করতে পারে এবং নতুন আইনি প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে মৃত্যুদণ্ডের বৈধতা ও সম্প্রচার পদ্ধতির বৈধতা দুটি পৃথক বিষয়। সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের অবস্থান জানতে বিবিসি যোগাযোগ করেছে। এদিকে সম্প্রচারটি কোথায় দেখা যাবে, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অনেক প্ল্যাটফর্মে সহিংস বা অত্যন্ত স্পষ্ট দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।   অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের ১৭টি দেশে দুই হাজার ৭০০টির বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। এর মধ্যে ইরানে ১১টি এবং আফগানিস্তানে ছয়টি প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়। ওই বছর সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশগুলোর মধ্যে ছিল চীন, ইরান, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে চীনে মৃত্যুদণ্ডের প্রকৃত সংখ্যা রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার কারণে নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর প্রথম মেয়াদের শেষ দিকে ১৭ বছর বিরতির পর কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ধারাবাহিকতা শুরু হয়। ওই মেয়াদের শেষ বছরে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কেন্দ্রীয় মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন এবং মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের লক্ষ্যে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। তবে ফোর্ট হুড হামলাকারীর মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নির্ধারিত তারিখে দণ্ড কার্যকর হবে কি না এবং সম্প্রচারের ব্যবস্থা কীভাবে করা হবে, তা এখনো দেখার বিষয়।   সূত্র: বিবিসি

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২০:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে নিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে কেন এত সংকট, মাসের পর মাস আবেদন করেও কাজ পাচ্ছেন না অনেকে

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম থাকলেও চাকরি খুঁজে পাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। মাসের পর মাস আবেদন করেও সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না বহু চাকরিপ্রার্থী। বিশেষ করে ব্যাংকিং, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, ব্যবসায়িক সেবা ও বিভিন্ন দাপ্তরিক পেশায় নিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতের কিছু অংশে নতুন কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান তৈরি হলেও সব খাতের চাকরিপ্রার্থীরা সমানভাবে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগদাতাদের অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার চাকরির বাজারকে জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারির পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সময় প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে দ্রুত কর্মী নিয়োগ করেছিল, বর্তমানে সেই প্রবণতা আর দেখা যাচ্ছে না। বরং অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের দিয়ে বেশি কাজ করানো এবং ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। চাকরির বাজারের এই পরিস্থিতি শুধু বেকারত্বের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন কাজ না পেলে বাড়ি কেনা, পরিবার গঠন, ঋণ পরিশোধ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে হয়। কর্মজীবনের শুরুতে থাকা তরুণদের জন্য সমস্যাটি আরও প্রকট। কারণ, অভিজ্ঞ কর্মীদের তুলনায় তাঁদের পেশাগত যোগাযোগের সুযোগ কম এবং কাজের অভিজ্ঞতাও সীমিত। ফলে একই পদের জন্য বহু আবেদনকারীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেও তাঁরা সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় নিয়োগে সতর্ক প্রতিষ্ঠানগুলো নিউজউইকের প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি অ্যাট মার্টিনের আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষক অ্যালেক্স বীনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার থেকে শুরু করে কিছু খাতে ভোক্তাদের ব্যয় কমে আসা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় বর্তমান চাকরির বাজারে চাপ তৈরি করছে। তবে নিয়োগদাতাদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি হলো আগামী ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে পণ্য ও সেবার চাহিদা কেমন থাকবে, পরিচালন ব্যয় কতটা বাড়বে এবং নতুন কর্মী নিয়োগ করে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে কি না, তা বিবেচনা করছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সম্ভাব্য শুল্ক এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের মতো আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখছে, বিশেষ করে যেসব পদে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। বীনের মতে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোক্তাদের চাহিদা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত নিয়োগের গতি ধীর থাকতে পারে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মী নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের দায়িত্ব বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব কাজ প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পন্ন করা সম্ভব, সেগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর ফলে চাকরির বাজারে সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও নতুন নিয়োগের জন্য অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। মানবসম্পদবিষয়ক পরামর্শক ব্রায়ান ড্রিসকলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য চাকরিপ্রার্থীদের এককভাবে দায়ী করা যায় না। তাঁর বক্তব্য, অনেক নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী না নিয়েও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। একই সময়ে বাড়িভাড়া, খাবার, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়ায় কর্মীদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয় সমানতালে না বাড়লে কম বেতন বা অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে চাকরি ছেড়ে দেওয়াও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পরিসংখ্যানে কর্মসংস্থান বাড়লেও সব খাতে একই চিত্র নয় যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থানবিষয়ক এডিপি ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ৯০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল। তবে এই প্রবৃদ্ধি সব খাতে সমান ছিল না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৫৫ হাজার এবং অবসর ও আতিথেয়তা খাতে ২২ হাজার কর্মসংস্থান বাড়ে। নির্মাণ খাতে ১৫ হাজার এবং উৎপাদন খাতে ১৭ হাজার কর্মী যুক্ত হন। বিপরীতে আর্থিক কর্মকাণ্ডে ১৬ হাজার এবং পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবায় ১১ হাজার কর্মসংস্থান কমে যায়। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থান বাড়লেও অনেক দাপ্তরিক পেশায় চাকরির সুযোগ সংকুচিত হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। তবে বেসরকারি খাতের এই পরিসংখ্যানকে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো শ্রমবাজারের চিত্র হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২ অক্টোবর প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে কৃষিবহির্ভূত মোট কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। একই সময়ে বেকারত্বের হার আগের মাসের ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। সরকারি ও বেসরকারি খাতের হিসাবের আওতা ও পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় এডিপি এবং সরকারি প্রতিবেদনের সংখ্যাও এক নয়। তবে দুটি হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিক শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সমস্যাটি শুধু বেকারত্বের হার দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়। কোনো দেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও নতুন চাকরির সুযোগ যদি নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে অন্য খাতের আবেদনকারীদের জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের পাশাপাশি নতুন স্নাতকদেরও একই পদের জন্য আবেদন করতে হলে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা প্রার্থীদের সুযোগ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি চাকরির সুযোগ কমাচ্ছে চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তার আরেকটি কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন মূল্যায়ন করছে, প্রযুক্তির সাহায্যে কোন কাজগুলো দ্রুত ও কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব। বিশেষ করে তথ্য বিশ্লেষণ, দাপ্তরিক কাজ, গ্রাহকসেবা এবং কিছু লেখালেখি ও যোগাযোগের দায়িত্বে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতিমধ্যে অধিকাংশ কর্মীকে সরাসরি প্রতিস্থাপন করেছে। বরং প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে কর্মীদের দায়িত্ব কীভাবে বদলে দিতে পারে, তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে কিছু নিয়োগদাতা নতুন কর্মী নেওয়ার আগে অপেক্ষা করছে। যেসব কাজ বিদ্যমান কর্মী বা প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে, সেসব পদে নতুন নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পারেন নতুন চাকরিপ্রার্থীরা। কারণ, কর্মজীবনের শুরুতে থাকা অনেকেই এমন পদে আবেদন করেন, যেগুলোতে আগে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের সুযোগ দেওয়া হতো। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো যদি একই দায়িত্ব বর্তমান কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেয় অথবা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায়, তাহলে নতুনদের প্রবেশের সুযোগ কমে যেতে পারে। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেককে দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। কোন খাতে চাকরির সুযোগ তুলনামূলক বেশি বর্তমান পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু খাতে কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং, আবাসিক পরিচর্যা, বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, নির্মাণ এবং দক্ষ কারিগরি পেশা উল্লেখযোগ্য। দেশটির বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ও পরিচর্যাসেবার চাহিদাও বাড়ছে। ফলে হাসপাতাল, পরিচর্যাকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট সেবাপ্রতিষ্ঠানে কর্মীর প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। এডিপির সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৫৫ হাজার কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। অবসর ও আতিথেয়তা খাতেও ২২ হাজার কর্মসংস্থান বেড়েছে। নির্মাণ খাতে ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান কোনো নির্দিষ্ট পেশায় সারা দেশে সমানসংখ্যক শূন্য পদ থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। অঞ্চল, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগদাতার চাহিদা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ ভিন্ন হতে পারে। নাইনআই ক্যাপিটাল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন থম্পসন নিউজউইককে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশ বর্তমানে তথ্যকেন্দ্র ও নির্মাণের মতো নির্দিষ্ট খাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অবসর ও আতিথেয়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক সেবার মতো খাতে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি তুলনামূলক দুর্বল। অন্যদিকে ব্যাংকিং, আর্থিক কর্মকাণ্ড, পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা, প্রযুক্তি, করপোরেট প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যম ও যোগাযোগ খাতের কিছু অংশে নিয়োগের গতি কমেছে। এসব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। কোথাও নতুন নিয়োগ কমেছে, আবার কোথাও কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা নতুন পদ তৈরির প্রবণতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। থম্পসনের পরামর্শ হলো, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চাকরিপ্রার্থীদের প্রয়োজনে পদমর্যাদা, বেতন কিংবা দায়িত্বের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত লক্ষ্য ঠিক রেখে কাছাকাছি ধরনের অন্য পদ বা চুক্তিভিত্তিক কাজের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগও খতিয়ে দেখা যেতে পারে। চাকরি পেতে কী কৌশল নিতে পারেন প্রার্থীরা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২১ ও ২০২২ সালের তুলনামূলক সক্রিয় নিয়োগের সময়ের মতো শুধু অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষা করার কৌশল এখন অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। বরং কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ চলছে, কী ধরনের দক্ষতা চাওয়া হচ্ছে এবং নিজের অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট পদের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা যাচাই করে আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত যোগাযোগও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাবেক সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট পেশার পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন নিয়োগের খবর পাওয়া যেতে পারে। কিছু পদে পরিচিত ব্যক্তির সুপারিশ বা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যমে প্রার্থীরা নিয়োগদাতার নজরে আসার সুযোগ পান। তবে সুপারিশ থাকলেই চাকরি নিশ্চিত হয় না, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। ড্রিসকল চাকরিপ্রার্থীদের এমন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যেখানে নিয়োগের ধারাবাহিকতা রয়েছে এবং বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ইতিহাস তুলনামূলক কম। পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্তে দায়িত্বের তালিকা দেওয়ার পরিবর্তে আগের কাজের সুনির্দিষ্ট অর্জন ও ফলাফল তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। আবেদন করা পদের প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনবৃত্তান্ত সাজাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে। তবে সেখানে উল্লেখ করা তথ্য অবশ্যই সত্য ও যাচাইযোগ্য হতে হবে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিকল্প পেশার সুযোগ বিবেচনা করা। নিজের মূল ক্ষেত্রের পাশাপাশি কাছাকাছি দক্ষতা প্রয়োজন এমন অন্য খাতেও আবেদন করা যেতে পারে। সাময়িক বা চুক্তিভিত্তিক কাজ দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের একটি ধাপ হতে পারে। তবে বেতন, কাজের শর্ত এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই না করে শুধু চাকরি পাওয়ার তাগিদে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। সামনে কী হতে পারে বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ধসের চেয়ে ধীরগতির নিয়োগ ও তীব্র প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রাখলেও অন্যরা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে চাকরির বাজারে সামগ্রিক কর্মসংস্থান বাড়লেও নতুন চাকরি খোঁজা মানুষের জন্য সুযোগ পাওয়া সহজ হচ্ছে না। বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়ও এই পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। ড্রিসকলের মতে, অনেক কর্মী নিজেদের প্রত্যাশার চেয়ে কম বেতন বা অনুকূল নয় এমন কাজ গ্রহণ করছেন পেশাগত পছন্দের কারণে নয়, বরং নিয়মিত খরচ মেটানোর প্রয়োজন থেকে। চাকরি না থাকার আর্থিক ঝুঁকি বেশি হলে কর্মীদের পক্ষে ভালো সুযোগের অপেক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে বর্তমান চ্যালেঞ্জের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন খাতে অসম কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি, নিয়োগদাতাদের সতর্কতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য প্রভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ভবিষ্যতে নিয়োগের গতি বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে অর্থনীতির অবস্থা, ব্যবসায়িক চাহিদা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের ওপর। সূত্র: নিউজউইক

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২০:৩৭
ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসেও থামছে না শিক্ষার্থীদের বি ক্ষোভ, টানা তৃতীয় সপ্তাহে আন্দোলন
ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসেও থামছে না শিক্ষার্থীদের বি ক্ষোভ, টানা তৃতীয় সপ্তাহে আন্দোলন

শিক্ষক সংকট এবং স্কুল ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ আন্দোলন টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু সমস্যা সমাধানের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজপথ ছাড়তে নারাজ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির তথ্যমতে, বৃহস্পতিবারও ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের স্কুলগুলো অবরোধ করে রাখে বিক্ষোভকারীরা।   শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের টানা এই আন্দোলনের জেরে দেশজুড়ে অন্তত ৩৭৫টি স্কুলের কার্যক্রম আংশিক বা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। নঁত, রেন, ব্রঁ, তুলোঁ ও মার্সেইয়ের মতো শহরগুলোতে লাখো মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা আবারও নতুন করে মিছিল শুরু করেছে।   এর আগে বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু প্রতিশ্রুতি দেন যে, সরকার অক্টোবরের শেষ নাগাদ শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সুনির্দিষ্ট ও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ নেবে। এর জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দেরও আশ্বাস দেন তিনি। তবে তার এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারেনি সাধারণ শিক্ষার্থীরা।   রেন শহরের একটি স্কুলের বাইরে বিক্ষোভরত ১৮ বছর বয়সী হানা এএফপিকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আশ্বস্ত হওয়ার মতো কিছুই ছিল না। সালিনা নামের ১৭ বছর বয়সী আরেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা আরও অনেক বেশি ছিল এবং এমন একটি জরুরি বিষয় মাসের শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার মতো কোনো বিষয় নয়।   আন্দোলন দমাতে পুলিশের কঠোর ভূমিকা নিয়েও দেশটিতে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্যারিসের ২০তম অ্যারোঁদিসঁতে এলাকায় বিক্ষোভকারীরা আবর্জনার বিন দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়। শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে আসা ইংরেজি শিক্ষক শার্লট বোবো পুলিশের এই পদক্ষেপকে 'অতিরিক্ত কঠোর' বলে মন্তব্য করেন।   এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ইতোমধ্যে সাড়ে ৬ হাজারে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গত সোমবার পুলিশের ছোড়া স্টান গ্রেনেডের আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর হাত হারানোর পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সরকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে স্টান গ্রেনেড ব্যবহারের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করতে বাধ্য হয়।   প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ ফুরিয়ে আসার মুহূর্তে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আন্দোলন ফরাসি রাজনীতিতে স্পষ্ট মেরুকরণ তৈরি করেছে। কট্টর ডানপন্থি প্রার্থী মারিন ল্য পেন দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীরা স্কুলের যে ক্ষতি করেছে তার মেরামতের খরচ তাদের বা তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকেই আদায় করতে হবে।   অন্যদিকে কট্টর বামপন্থি প্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে পুলিশের 'বর্বর আচরণের' তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এদিকে, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ ও দাবি জানানোর জন্য চালু করা একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রথম দুই দিনেই ৪৩ হাজারের বেশি সাড়া পড়েছে। বিএফএম টিভির জন্য এলাবের করা এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৭২ শতাংশ ফরাসি নাগরিক শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করলেও ৫৫ শতাংশ মানুষ চান দ্রুত এই বিক্ষোভের অবসান হোক।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৯:৫১
৩৮ বছর পর মমতাময়ী আয়াকে খুঁজে পেলেন ফরাসি নাগরিক, উপহার দিলেন ১৯ লাখ টাকা ও আজীবন ভাতা
৩৮ বছর পর মমতাময়ী আয়াকে খুঁজে পেলেন ফরাসি নাগরিক, উপহার দিলেন ১৯ লাখ টাকা ও আজীবন ভাতা

দীর্ঘ ৩৮ বছরের বিচ্ছিন্নতা, তবে মনের কোণে সযত্নে রয়ে গিয়েছিল ছোটবেলার স্মৃতি ও অকৃত্রিম ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার টানেই নিজের ছোটবেলার আয়াকে খুঁজে বের করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরাসি নাগরিক পিয়েরে ডুপন্ট। গত ২০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই আবেগঘন পুনর্মিলনের খবরটি বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।   পিয়েরে যখন একেবারে ছোট ছিলেন, তখন তার পরিবার পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টে বসবাস করত। সেখানে আয়েশা নামের এক স্থানীয় নারী পরম মমতায় তাকে লালন-পালন করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে পিয়েরের পরিবার ফ্রান্সে ফিরে গেলে আয়েশার সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   তবে পিয়েরে কখনোই তার সেই স্নেহময়ী আয়াকে ভুলে যাননি। দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে তিনি আয়েশাকে খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। পুরনো দিনের অ্যালবামের ছবি ঘেঁটে এবং সাবেক প্রতিবেশীদের সাহায্যে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে সেনেগালের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে তিনি তার সেই প্রিয় আয়ার সন্ধান পান।   খবর পেয়ে এক মুহূর্তও দেরি না করে আয়েশাকে দেখতে সরাসরি সেনেগালে ছুটে যান পিয়েরে। দীর্ঘ প্রায় চার দশক পর একে অপরকে কাছে পেয়ে তারা দুজনেই আবেগে আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের এই পুনর্মিলনের দৃশ্যটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়, যা পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়।   আয়ার অকৃত্রিম স্নেহ ও ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে পিয়েরে তাকে ১৬ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৯ লাখ টাকা উপহার দিয়েছেন। পাশাপাশি আয়েশার শেষ বয়সের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে তার জন্য একটি স্থায়ী মাসিক ভাতারও ব্যবস্থা করেছেন এই ফরাসি নাগরিক।   প্রাপ্ত এই অর্থ দিয়ে আয়েশা তার জরাজীর্ণ ঘর মেরামত করার পাশাপাশি নাতি-নাতনিদের পড়াশোনার খরচ চালাবেন বলে জানিয়েছেন। ছোটবেলার একজন আয়ার প্রতি এমন অভাবনীয় সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের এই ঘটনাটি বর্তমান পৃথিবীতে এক বিরল মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৯:৭
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দিকে ধেয়ে আসছে দুই মহাসাগরের তিন  ভ য়ংকর ঘূর্ণিঝড়
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দিকে ধেয়ে আসছে দুই মহাসাগরের তিন ভ য়ংকর ঘূর্ণিঝড়

প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর—দুই উপকূল থেকেই একই সঙ্গে তিনটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের হুমকির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে 'র‍্যাচেল' (Rachel) ও 'সাইমন' (Simon) নামের দুটি ঝড় দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে, অন্যদিকে আটলান্টিকের দিক থেকে মেক্সিকো উপসাগরের দিকে ধেয়ে আসছে 'ইসায়াস' (Isaias)। আবহাওয়াবিদরা এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিরল 'ট্রিপল থ্রেট' বা ত্রিমুখী হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।   প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ঝড় 'র‍্যাচেল' এই সপ্তাহান্তেই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের শক্তিতে উত্তর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া এবং ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের উত্তরাংশের দিকে এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রবল জলোচ্ছ্বাস, প্রাণঘাতী রিপ কারেন্ট এবং উপকূলীয় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া র‍্যাচেলের প্রভাবে সৃষ্ট আর্দ্রতা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্থলভাগের দিকে ছড়িয়ে পড়বে, যার ফলে সেখানে আকস্মিক বন্যা ও দমকা হাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।   একই সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের আরও দক্ষিণাংশে দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে নতুন সিস্টেম 'সাইমন'। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই এটি একটি পূর্ণাঙ্গ হারিকেনে রূপ নেবে এবং শনিবার মেক্সিকোর পশ্চিম-মধ্য উপকূলে একটি বড় ও ধ্বংসাত্মক হারিকেন (Major Hurricane) হিসেবে আঘাত হানবে। সাইমনের কারণে মেক্সিকো উপকূলে বিধ্বংসী বাতাস, জলোচ্ছ্বাস ও বিপজ্জনক ভূমিধসের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে হারিকেন সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   অন্যদিকে, মেক্সিকোতে সাইমন এবং বাজা ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলে র‍্যাচেলের হুমকির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'ইসায়াস'। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, রাতের বেলা শক্তি সঞ্চয় করে এটি আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হারিকেনে পরিণত হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গাল্ফ কোস্ট বা উপসাগরীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। সব মিলিয়ে এই ত্রিমুখী ঝড়ের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৮:৪৯