পানীয়তে মা দক শনাক্তের নেলপলিশ তৈরি করলেন যুক্তরাষ্ট্রের চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
পানীয়তে অ জ্ঞা তে মা দক মেশানো হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করার জন্য বিশেষ ধরনের নেলপলিশ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। ২০১৪ সালে নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির চার শিক্ষার্থী মিলে তৈরি করা এই পরীক্ষামূলক নেলপলিশের নাম দেওয়া হয় ‘আন্ডারকভার কালার্স’। পানীয়তে নির্দিষ্ট কিছু মা দক উপস্থিত থাকলে নেলপলিশের রং বদলে যাওয়ার কথা ছিল।
এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আনকেশ মাদান, স্টিফেন গ্রে, ট্যাসো ভন উইন্ডহেইম ও টাইলার কনফ্রে-ম্যালোনি। চারজনই নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের অভিজ্ঞতা থেকে তারা বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা, যার মাধ্যমে কেউ নিজের পানীয় গ্রহণের আগে সেটিতে সম্ভাব্য ক্ষতিকর কোনো পদার্থ আছে কি না, তা সহজভাবে যাচাই করতে পারেন।
পরিকল্পনাটি ছিল তুলনামূলকভাবে সহজ। নেলপলিশটি আঙুলে ব্যবহার করার পর পানীয়ের সংস্পর্শে আনলে নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতিতে এর রং পরিবর্তিত হওয়ার কথা ছিল। সে সময় পরীক্ষামূলকভাবে রোহিপনল, জ্যানাক্স ও জিএইচবির মতো পদার্থ শনাক্ত করার সক্ষমতা নিয়ে কাজ চলছিল।
উদ্যোগটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে আলোচনায় আসে। ‘আন্ডারকভার কালার্স’ শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পায়। পরে একজন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ডলারের বিনিয়োগও আকর্ষণ করে। এর ফলে চার শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নেয়।
তবে শুরু থেকেই এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি ছিল। ২০১৪ সালে নেলপলিশটি সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে বিক্রির উপযোগী চূড়ান্ত পণ্য ছিল না। তখনও এর কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল। ফলে এটিকে বাজারে সহজলভ্য কোনো প্রস্তুত পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
উদ্ভাবনটি আলোচনায় আসার পাশাপাশি সমালোচনারও মুখে পড়ে। সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেছিল, এ ধরনের প্রযুক্তি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকেই নিজের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাদের মতে, যৌ ন নি র্যা ত ন বা এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর নয়; অপরাধীকে প্রতিহত করা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য অবশ্য ছিল ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষকে সম্ভাব্য বিপদ শনাক্ত করার একটি উপায় দেওয়া। তাদের ধারণা ছিল, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি একটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
পরবর্তী সময়ে ‘আন্ডারকভার কালার্স’ নেলপলিশের ধারণাটি আর বাজারজাত করা হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা ‘সিপচিপ’ নামে ভিন্ন ধরনের পানীয় পরীক্ষার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো পোস্টের মাধ্যমে নেলপলিশটিকে এখনো বাজারে পাওয়া যায় বা এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন দাবি সঠিক নয়।
তবে প্রায় এক দশক আগে চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর এই উদ্যোগ পানীয়তে অ জ্ঞা তে মা দক মেশানোর ঝুঁকি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছিল। একই সঙ্গে উদ্ভাবনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনে—প্রযুক্তি সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্তে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু যৌ ন নি র্যা ত নসহ কোনো অপরাধের দায় কখনোই সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর ওপর বর্তায় না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিজ্ঞান
View moreপানীয়তে অ জ্ঞা তে মা দক মেশানো হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করার জন্য বিশেষ ধরনের নেলপলিশ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। ২০১৪ সালে নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির চার শিক্ষার্থী মিলে তৈরি করা এই পরীক্ষামূলক নেলপলিশের নাম দেওয়া হয় ‘আন্ডারকভার কালার্স’। পানীয়তে নির্দিষ্ট কিছু মা দক উপস্থিত থাকলে নেলপলিশের রং বদলে যাওয়ার কথা ছিল। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আনকেশ মাদান, স্টিফেন গ্রে, ট্যাসো ভন উইন্ডহেইম ও টাইলার কনফ্রে-ম্যালোনি। চারজনই নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের অভিজ্ঞতা থেকে তারা বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা, যার মাধ্যমে কেউ নিজের পানীয় গ্রহণের আগে সেটিতে সম্ভাব্য ক্ষতিকর কোনো পদার্থ আছে কি না, তা সহজভাবে যাচাই করতে পারেন। পরিকল্পনাটি ছিল তুলনামূলকভাবে সহজ। নেলপলিশটি আঙুলে ব্যবহার করার পর পানীয়ের সংস্পর্শে আনলে নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতিতে এর রং পরিবর্তিত হওয়ার কথা ছিল। সে সময় পরীক্ষামূলকভাবে রোহিপনল, জ্যানাক্স ও জিএইচবির মতো পদার্থ শনাক্ত করার সক্ষমতা নিয়ে কাজ চলছিল। উদ্যোগটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে আলোচনায় আসে। ‘আন্ডারকভার কালার্স’ শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পায়। পরে একজন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ডলারের বিনিয়োগও আকর্ষণ করে। এর ফলে চার শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নেয়। তবে শুরু থেকেই এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি ছিল। ২০১৪ সালে নেলপলিশটি সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে বিক্রির উপযোগী চূড়ান্ত পণ্য ছিল না। তখনও এর কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল। ফলে এটিকে বাজারে সহজলভ্য কোনো প্রস্তুত পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। উদ্ভাবনটি আলোচনায় আসার পাশাপাশি সমালোচনারও মুখে পড়ে। সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেছিল, এ ধরনের প্রযুক্তি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকেই নিজের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাদের মতে, যৌ ন নি র্যা ত ন বা এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর নয়; অপরাধীকে প্রতিহত করা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য অবশ্য ছিল ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষকে সম্ভাব্য বিপদ শনাক্ত করার একটি উপায় দেওয়া। তাদের ধারণা ছিল, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি একটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পরবর্তী সময়ে ‘আন্ডারকভার কালার্স’ নেলপলিশের ধারণাটি আর বাজারজাত করা হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা ‘সিপচিপ’ নামে ভিন্ন ধরনের পানীয় পরীক্ষার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো পোস্টের মাধ্যমে নেলপলিশটিকে এখনো বাজারে পাওয়া যায় বা এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন দাবি সঠিক নয়। তবে প্রায় এক দশক আগে চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর এই উদ্যোগ পানীয়তে অ জ্ঞা তে মা দক মেশানোর ঝুঁকি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছিল। একই সঙ্গে উদ্ভাবনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনে—প্রযুক্তি সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্তে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু যৌ ন নি র্যা ত নসহ কোনো অপরাধের দায় কখনোই সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর ওপর বর্তায় না।
প্রায় ১০ কোটি বছর আগের পোকার সন্ধান, শরীরের দ্বিগুণ লম্বা মুখ: নাম টেলিটাবিজের নু-নু
নোবেল জিতে সুখবর সবার আগে সন্তানদের দিলেন বাবা, নিজ হাতে বানালেন স্যান্ডউইচ
রোবটের আঙুলে এখন জীবন্ত মানবচামড়া, সাধারণ ব্যান্ডেজে নিজেই সারাল ক্ষত
২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বরকে ‘ডুমসডে’ বা বিপর্যয়ের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছিল ১৯৬০ সালে সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র। সেই তারিখ সামনে আসায় গবেষণাটি আবার আলোচনায় এসেছে। তবে এটিকে ওই দিন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। গবেষণার মূল বিষয় ছিল অতীতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে কী ঘটতে পারে, তার গাণিতিক হিসাব। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালের ৪ নভেম্বর। এর শিরোনাম ছিল ‘ডুমসডে: ফ্রাইডে, ১৩ নভেম্বর, এডি ২০২৬’। গবেষণার লেখক হাইঞ্জ ফন ফোরস্টার, প্যাট্রিসিয়া এম. মোরা ও লরেন্স ডব্লিউ. অ্যামিয়ট তখন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গবেষণাপত্রের শুরুতেই বলা হয়েছিল, আগের দুই হাজার বছরের মতো জনসংখ্যা বাড়তে থাকলে আলোচিত তারিখে মানুষের সংখ্যা অসীমের দিকে এগোবে। এই হিসাব তৈরিতে গবেষকেরা ঐতিহাসিক জনসংখ্যার তথ্য ব্যবহার করেন। তাঁদের সমীকরণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি সময়ের সঙ্গে আরও দ্রুত হওয়ার ধারণা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই প্রবণতাকে ভবিষ্যতে সম্প্রসারণ করেই ২০২৬ সালের তারিখটি পাওয়া যায়। ফলে গবেষণার সিদ্ধান্তটি নির্ভর করছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের ওপর: অতীতের বৃদ্ধির ধারা ভবিষ্যতেও একইভাবে চলতে হবে। এটি পৃথিবী ধ্বংসের কোনো ভৌত প্রক্রিয়া শনাক্ত করার গবেষণা ছিল না। কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক অ্যালান ম্যাকইচার্ন সম্প্রতি দ্য কনভারসেশনে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে গবেষণাটির দীর্ঘদিনের প্রভাব তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্বাভাবিক শিরোনাম এবং গাণিতিক যুক্তির কারণে গবেষণাটি সংবাদমাধ্যম ও শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক মনোযোগ পায়। টাইম ও নিউইয়র্ক টাইমসে এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। জিনতত্ত্ব, বাস্তুসংস্থান ও জনমিতির বিভিন্ন পাঠ্যবইয়েও সমীকরণটির উল্লেখ আসে। ম্যাকইচার্নের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে ওই সমীকরণ থেকে পাওয়া জনসংখ্যার পূর্বাভাস অনেক জনমিতিবিদের হিসাবের তুলনায় ভালোভাবে মিলেছিল। তবে প্রায় ১৯৯৩ সাল থেকে বাস্তব জনসংখ্যা গবেষণাটির পূর্বাভাসের তুলনায় কম হতে থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, গবেষকেরা বৈশ্বিক জন্মহার অর্ধেকে নামানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই হার ১৯৬০ সালের অর্ধেকেরও কিছুটা নিচে নেমেছে। বিশ্বের জনসংখ্যা নিয়ে জাতিসংঘের পূর্বাভাসও ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪’ অনুযায়ী, বৈশ্বিক জনসংখ্যা ২০২৪ সালের প্রায় ৮২০ কোটি থেকে বেড়ে ২০৮০-এর দশকের মাঝামাঝি প্রায় ১ হাজার ৩০ কোটিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এরপর শতাব্দীর শেষ নাগাদ তা কিছুটা কমে প্রায় ১ হাজার ২০ কোটিতে নামতে পারে। এই পূর্বাভাসে জনসংখ্যা অসীমের দিকে যাওয়ার কথা বলা হয়নি। সুতরাং ১৯৬০ সালের গবেষণাটি বুঝতে এর শিরোনামের পাশাপাশি হিসাবের শর্তও বিবেচনায় নিতে হবে। অতীতের তথ্য থেকে তৈরি একটি জনসংখ্যা সমীকরণকে নির্দিষ্ট দিনে পৃথিবী ধ্বংসের প্রমাণ হিসেবে দেখানোর ভিত্তি নেই। পরবর্তী দশকগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা বদলে যাওয়ায় ‘ডুমসডে’র সেই হিসাবও বাস্তব প্রবণতার সঙ্গে আর মিলছে না।
শনির চাঁদে প্রাণের সম্ভাবনা, নতুন গবেষণায় মিলল আশাব্যঞ্জক তথ্য
এআইয়ের সহায়তায় ৯ মাসে ২০০ গবেষণাপত্র, সমালোচনার মুখে শিকাগোর অধ্যাপক!
বিশ্বের অন্ধকারতম আকাশেও স্যাটেলাইটের আলো, ১৬ হাজারের মধ্যে ১০ হাজারের বেশি মাস্কের
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষক জ্যাকব কক্সন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগের পর সতর্ক করে বলেছেন, ক্রমেই শক্তিশালী এআই তৈরির প্রতিযোগিতা একসময় মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। চ্যাটজিপিটির প্রতিদ্বন্দ্বী এআই ‘ক্লড’-এর নির্মাতা অ্যানথ্রপিক এআই নিরাপত্তা ও অ্যালাইনমেন্টের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য পরিচিত। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক পোস্টে কক্সন জানান, গত তিন বছর তিনি অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই উভয় প্রতিষ্ঠানে এআই প্রিট্রেনিং নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো ‘স্ব-উন্নয়নশীল সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির দিকে ছুটছে এবং এর মাধ্যমে মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে। কক্সনের মতে, ভবিষ্যতের অতিমানবীয় এআই যেকোনো কিছু হ্যাক করার পাশাপাশি বাস্তব ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জনে সক্ষম হতে পারে। তিনি দাবি করেন, প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে অনেক এআই নির্বাহী ও গবেষকের মধ্যেই ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এআই তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করেন, এই দশকের শেষ নাগাদ এআই মানবজাতির সবাইকে হত্যা করতে পারে। অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স লিড ইভান হাবিঙ্গারও প্রকাশ্যে কক্সনের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, "কিছু গবেষক সত্যিই বিশ্বাস করেন যে উন্নত এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।" হাবিঙ্গার নিজে মনে করেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান এআই মডেলগুলো তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁর মূল উদ্বেগ ভবিষ্যতে এমন সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই ব্যবস্থার আবির্ভাব নিয়ে, যা নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা বারবার উন্নত করতে পারবে অর্থাৎ ‘রিকরসিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’-এর মাধ্যমে নিজেই নিজের সক্ষমতা বাড়াতে থাকবে। এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ে অ্যানথ্রপিকও এর আগে এআই নিরাপত্তা ও ঝুঁকি সংক্রান্ত আলোচনায় সতর্ক করেছে।
৬ কোটি ৬০ লাখ বছর পর জানা গেল, কীভাবে মারা গিয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে ভারী মাংসাশী ডাইনোসর
একই ধরনের অটিজম বৈশিষ্ট্যের মানুষদের মধ্যেই বন্ধুত্ব-সম্পর্কের টান বেশি