সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

১৯ বছরের পর এবার প্রকাশ পেল ২৫ বছরের মার্কিন সেনার পরিচয়: জর্ডানে ইরানি হামলায় প্রাণ দিলেন টাইলার ফিহান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১৩:১০
ছবিতে (বাম থেকে): ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার ফিহান এবং ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস।
ছবিতে (বাম থেকে): ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার ফিহান এবং ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস।

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনাসদস্যের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। তাদের একজন ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান, অন্যজন ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। দুই তরুণ সেনার মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

 

সোমবার প্রকাশিত পেন্টাগনের বিবৃতিতে জানানো হয়, হাওয়াইয়ের ইওয়া বিচের বাসিন্দা ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ক্যারলটনের বাসিন্দা প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস জর্ডানে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী মার্কিন সামরিক মিশনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সপ্তাহান্তে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি এয়ার বেসে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। 

 

টাইলার জেমস ফিহানের বয়স ছিল মাত্র ২৫। তিনি নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে অবস্থানরত ২য় ব্যাটালিয়ন, ৫৫তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সী ইসাবেলা গনজালেস জার্মানির আনসবাখে মোতায়েন ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। 

 

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলার সময় দুই সেনা ঘাঁটির প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন এবং একজন সেনাসদস্যের সন্ধান না পাওয়ার কথাও প্রথমদিকে জানানো হয়েছিল। 

 

এই দুই সেনার মৃত্যু চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মোট নিহতের সংখ্যা ১৭-তে পৌঁছেছে। সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। 

 

মাত্র ১৯ ও ২৫ বছর—জীবনের শুরুতেই দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন দুই তরুণ সেনাসদস্য। তাদের মৃত্যু শুধু দুটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং চলমান সংঘাতের মানবিক মূল্যও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিইর অভিযান জোরদার
“আমেরিকান সড়ক, আমেরিকান গাড়িচালক” - ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিইর অভিযান জোরদার

“আমেরিকান সড়ক, আমেরিকান গাড়িচালক” - এই স্লোগান সামনে রেখে ক্যালিফোর্নিয়ায় কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স বা সিডিএল জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট - আইসিই।   আইসিইর সান ফ্রান্সিসকো কার্যালয়ের স্পেশাল এজেন্টরা স্টকটন, স্যাক্রামেন্টো ও সান হোসে এলাকায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অংশ নিচ্ছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। আইসিইর ভাষ্য, সিডিএল জালিয়াতির কারণে সড়ক নিরাপত্তায় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় সিডিএল নিয়ে ফেডারেল সরকারের কড়াকড়িও বেড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকেলস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চে ফেডারেল সরকারের নির্দেশে প্রায় ১৩ হাজার নন-ডোমিসাইলড কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে ডিএমভি স্পষ্ট করেছে, সংশ্লিষ্ট সব লাইসেন্সধারী জালিয়াতি করেছেন - এমন নয়; অনেকেই তখন বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও কাজের অনুমতি নিয়ে লাইসেন্স পেয়েছিলেন।   ফেডারেল নিয়মে নন-ডোমিসাইলড সিডিএল ইস্যুর ক্ষেত্রে অনিয়ম নিয়ে তদন্তের পর ক্যালিফোর্নিয়ায় লাইসেন্স ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে সীমিত মেয়াদের বৈধ উপস্থিতির ভিত্তিতে নন-ডোমিসাইলড সিডিএল দেওয়া স্থগিত রেখেছে ক্যালিফোর্নিয়া ডিএমভি।   ডিএমভির তথ্য অনুযায়ী, জালিয়াতির মাধ্যমে বা অযোগ্য ব্যক্তির হাতে লাইসেন্স গেলে তা সরাসরি সড়ক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে জালিয়াতির তথ্য পেলে ডিএমভি লাইসেন্স যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।   আইসিইর সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতেও দেশজুড়ে সিডিএল জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি দাবি করছে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য আমেরিকার সড়ক নিরাপদ রাখা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সিডিএল পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:৫৫
ট্রাম্প নিজের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করছেন

‘ক্ষমতা ছাড়লে কেউ স্মৃতিস্তম্ভ বানাবে না’, তাই সবকিছুতেই নিজের নাম দিচ্ছেন ট্রাম্প

প্রশিক্ষিত কুকুরের দেওয়া বিশেষ সংকেতের পরই মূলত ওই দুই যাত্রীর কাছে থাকা নগদ অর্থের সন্ধান পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত

বিমানে ওঠার আগেই কুকুরের ঘ্রাণে গোপনে রাখা ১৯ হাজার ডলার জব্দ করল ইউএস কাস্টমস

আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর করা বিচারিক পরোয়ানা ছাড়া অভিবাসন কর্মকর্তারা ঘরে প্রবেশ করতে পারেন না। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যরাতে পুলিশ বা আইস দরজায় এলে কী করবেন, আদালতের আদেশ ছাড়া ঘরে প্রবেশের নিয়ম কী

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৫ বছর বয়সে খুনের দায়ে ৪০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন আইজ্যাক আরিস্পে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৫ বছর বয়সে খুন, সেই কিশোরের ৪০ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৫ বছর বয়সে খুনের দায়ে ৪০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন আইজ্যাক আরিস্পে। ২০২০ সালে ১৯ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার এল ট্রেভিনোকে হত্যার ঘটনায় তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের কাইল শহরে কিশোর বয়সে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে এক যুবককে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২০ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ১৯ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার এল ট্রেভিনোকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আইজ্যাক আরিস্পের বিরুদ্ধে মামলাটি দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর নিষ্পত্তি হয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর ভোরে। গুলির শব্দের খবর পেয়ে কাইল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রেভিনোর মরদেহ উদ্ধার করে। তার বুকে গুলির আঘাত ছিল। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স থেকে তৎকালীন ১৫ বছর বয়সী আইজ্যাক আরিস্পেকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।   মামলার বিচার চলতি বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত হয়। হত্যার সময় আরিস্পের বয়স ১৮ বছরের কম হলেও তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।   আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন আরিস্পে ট্রেভিনোর ১৫ বছর বয়সী বোনের কাছ থেকে গাঁজা কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন। একই সময়ে তিনি কয়েকজন বন্ধু ও স্বজনের কাছে গুলি বা গুলির সরঞ্জাম চেয়ে বার্তা পাঠান। এসব বার্তায় তিনি কাউকে ডাকাতি করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন বলে আদালতে তথ্য উঠে আসে।   ট্রেভিনোর বোন আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, হত্যার সকালে আরিস্পে একটি অস্ত্র বের করে তার দিকে তাক করেন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে তার ভাই ক্রিস্টোফার এগিয়ে এলে আরিস্পে তার বুকে গুলি করেন। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।   পরে মামলার বিচার শেষে হেইস কাউন্টির জুরি আরিস্পেকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করেন।   শাস্তি ঘোষণার শুনানিতে আরিস্পের কারাগারে থাকা অবস্থার বিভিন্ন তথ্যও আদালতে তুলে ধরা হয়। সংশোধনাগারের কর্মকর্তারা জানান, বন্দি থাকা অবস্থায় অন্য কয়েদিদের ওপর হামলা এবং নিষিদ্ধ সামগ্রী রাখার মতো একাধিক ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।   অন্যদিকে, নিহত ক্রিস্টোফার ট্রেভিনোর পরিবারের সদস্যরাও আদালতে বক্তব্য দেন। তারা ক্রিস্টোফারের ব্যক্তিত্ব, পরিবার ও তার মৃত্যুর পর স্বজনদের ওপর তৈরি হওয়া গভীর মানসিক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন।   সব পক্ষের বক্তব্য ও মামলার বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করে আদালত আইজ্যাক আরিস্পেকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেন।   হত্যার সময় আরিস্পের বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। তবে গুরুতর অপরাধের কারণে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। দীর্ঘ সময় পর দেওয়া এই সাজা আবারও যুক্তরাষ্ট্রে কিশোর বয়সে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার ও শাস্তির বিষয়টি সামনে এনেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১১:৫৬
ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ছবি: সংগৃহীত

‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে নতুন প্রস্তাব!’ মস্কো ও কিয়েভ সফরে ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে তুরস্কের একটি ব্যাংক ও দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের ব্যাংকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াল ওয়াশিংটন

মস্কো সফর শেষে উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যাবেন

যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে মস্কোয় উইটকফ-কুশনার, কিয়েভ সফর ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

ছেলেকে হারানোর শোকের কথা জানিয়ে বাইডেনকে চিঠি, মায়ের হাতে ফিরল আবেগঘন উত্তর
ছেলেকে ক্যানসারে হারিয়ে বাইডেনকে চিঠি, ৫ দিন পর যে উত্তর পেলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার মনেটার বাসিন্দা মেলিনা নিউকম্ব ২০১৯ সালে ক্যানসারে হারিয়েছেন তার ১৯ বছর বয়সী ছেলে লেভিকে। দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে হারানোর শোক বয়ে বেড়ানো এই মা সম্প্রতি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে একটি চিঠি লেখেন। বাইডেনের নিজেরও সন্তান হারানোর বেদনা রয়েছে—তার ছেলে বিউ বাইডেন ২০১৫ সালে মস্তিষ্কের ক্যানসারে মারা যান। নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে বাইডেনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেই চিঠিটি লিখেছিলেন মেলিনা। লেভির বয়স যখন মাত্র চার বছর, তখন তার শরীরে স্টেজ-৪ হাই-রিস্ক মেডুলোব্লাস্টোমা ধরা পড়ে। এটি মস্তিষ্কের একটি মারাত্মক ধরনের টিউমার। অস্ত্রোপচারের পর লেভিকে আবার গিলতে, কথা বলতে, হামাগুড়ি দিতে ও হাঁটতে শিখতে হয়েছিল। পাশাপাশি চলেছে রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপি। দীর্ঘ ১৪ বছর চিকিৎসার পর পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কিছুটা সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে জয়ী হতে পারেনি লেভি। ২০১৮ সালে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, লেভির শরীরে আরেক ধরনের ক্যানসার তৈরি হয়েছে। এবার তার শরীরে ধরা পড়ে আনডিফারেনশিয়েটেড সারকোমা। ছোটবেলায় নেওয়া রেডিয়েশন চিকিৎসার কারণেই এই দ্বিতীয় ক্যানসার তৈরি হয়েছিল বলে জানান তার মা। ২০১৯ সালের বড়দিনের মাত্র চার দিন পর মারা যায় লেভি। ছেলেকে হারানোর পর থেকে মেলিনার জীবনে নেমে আসে গভীর শোক। প্রায় সাত বছর পরও প্রতিদিন ছেলের কথা মনে পড়ে বলে জানিয়েছেন তিনি। মেলিনা বলেন, লেভিকে নিয়ে চাইলে তিনি পুরো একটি বই লিখতে পারেন। স্কুলে প্রতি বছর ‘সিটিজেনশিপ অ্যাওয়ার্ড’ জিতত লেভি, আর তার মৃত্যুর পর স্কুল কর্তৃপক্ষ পুরস্কারটির নাম বদলে ‘লেভি মায়ো অ্যাওয়ার্ড’ রাখে। সুপারহিরো, মজার বাবার কৌতুক, ফ্রাইড চিকেন ও পরিবারের সদস্যদের খুব ভালোবাসত সে। ছেলের এসব স্মৃতি আজও মেলিনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। এদিকে বাইডেনের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার খবর জানার পর মেলিনা মনে করেন, তার সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্টের একটি বিশেষ জায়গায় মিল রয়েছে। দুজনেই ক্যানসারে সন্তান হারানোর শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে বাইডেনের দপ্তর জানিয়েছিল, তার প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়েছে এবং তা হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থ্রেডসে বাইডেনের জন্য শুভকামনা পাঠানোর সুযোগের কথা জানতে পারেন মেলিনা। গত ২০ আগস্ট বাইডেনকে একটি বার্তা পাঠান মেলিনা। সেখানে তিনি জানান, তার জন্য প্রার্থনা করছেন এবং ক্যানসারে সন্তান হারানোর একই ধরনের শোক তারা দুজনেই অনুভব করেন। তবে বার্তা পাঠানোর সময় তিনি কল্পনাও করেননি যে বাইডেন নিজে তাকে উত্তর দেবেন। কিন্তু মাত্র পাঁচ দিন পর নিজের ইনবক্সে একটি উত্তর দেখতে পান তিনি। উত্তরে বাইডেন মেলিনার প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ছেলেকে হারানোর কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মেলিনা যেন তার শোকের সময়েও সান্ত্বনা খুঁজে পান এবং তিনি তার জন্য প্রার্থনা করছেন। বাইডেন আরও লেখেন, জীবনের ভবিষ্যৎ কী নিয়ে আসবে তা আগে থেকে জানা সম্ভব নয়, তবে মানুষ আলো, আশা ও ভালোবাসায় ভরা জীবন খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বাইডেনের বার্তায় আরও বলা হয়, শোক কাটিয়ে উঠতে হয়তো অনেক সময় লাগতে পারে। তবে ছেলের সঙ্গে মেলিনার যে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল, সেটি কোনোদিন হারিয়ে যাবে না—এই ভালোবাসাই তার সঙ্গে সবসময় থাকবে। অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া এই ব্যক্তিগত বার্তা মেলিনার কাছে হয়ে উঠেছে বিশেষ এক মুহূর্ত। ছেলেকে হারানোর দীর্ঘ শোকের মধ্যে বাইডেনের কাছ থেকে পাওয়া এই কথাগুলো তাকে নতুন করে স্পর্শ করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৯:০
ট্রাম্পবিরোধী প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে মাথা ন্যাড়া করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নারী

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মাথা ন্যাড়া করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নারীরা

এনভিডিয়া, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেনারেল মোটরস ও এটিঅ্যান্ডটির মতো বড় প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে

কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই ৬ অঙ্কের বেতন! যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে নতুন ক্যারিয়ারের সুযোগ

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে গবাদিপশু রক্ষার জন্য খামারি ও পশুপালকদের নেকড়ে হত্যার সুযোগ তৈরি হতে পারে

নেকড়ে হত্যা বৈধ করার পথে ট্রাম্প! ৯০ দিনের মধ্যে আসছে বড় সিদ্ধান্ত

0 Comments