অনেকে সারা দিন কাজের চাপ ও ক্লান্তির পরও রাতে ঘুমাতে পারেন না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ওয়্যারড–টায়ার্ড’ চক্র। অর্থাৎ, শারীরিকভাবে ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও মস্তিষ্ক জাগ্রত অবস্থায় থাকে।
স্নায়ুবিজ্ঞানীরা এই সমস্যার কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছেন। প্রথমত, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে শরীরের কর্টিসল হরমোন বেশি মাত্রায় থাকে। ফলে মস্তিষ্ক মনে করে বিপদের মধ্যে আছেন এবং ঘুম বাধাগ্রস্ত হয়। দ্বিতীয়ত, রাতের দিকে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি থেকে বের হওয়া নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে।
তৃতীয়ত, ‘বেডটাইম প্রোকাস্টিনেশন’ বা অতিরিক্ত চিন্তা—দিনের কাজ, আগামীকালের পরিকল্পনা বা পুরনো স্মৃতি নিয়ে বিশ্লেষণ—মস্তিষ্কের প্রি–ফ্রন্টাল কর্টেক্সকে সক্রিয় করে, যা ঘুমের পথে বাধা সৃষ্টি করে।
স্নায়ুবিজ্ঞানীরা ঘুমের জন্য কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন: ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ রাখা, নিয়মিত রুটিনে ঘুমানো ও ওঠা, ৪–৭–৮ শ্বাসক্রিয়া অনুশীলন করা এবং দুপুরের পর ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা।
ঘুম শুধু বিশ্রামের মাধ্যম নয়, এটি মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য অত্যাবশ্যক। সঠিক অভ্যাস ও মন শান্ত রাখার মাধ্যমে ‘ওয়্যারড–টায়ার্ড’ চক্র ভাঙা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন— একটি নির্দিষ্ট রুটিন, সকালে সূর্যের আলো গায়ে মাখা এবং ঘুমানোর আগে নিজেকে শান্ত রাখার অভ্যাসই হলো ভালো ঘুমের মূল চাবিকাঠি। কিন্তু বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভালো ঘুমের জন্য নানা ধরনের শর্টকাট বা কৌশল বা 'ট্রেন্ড' ছড়িয়ে পড়েছে। এসব টিপসের কোনটি আসলেই কার্যকর আর কোনটি শুধুই গুজব, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা বেশ কঠিন। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব ট্রেন্ডের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক হেলথ সিস্টেমের স্লিপ সার্ভিসের পরিচালক ডেভিড ওয়ার্কেনটিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন চারটি জনপ্রিয় ট্রেন্ড পর্যালোচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি ভালো ঘুমের জন্য নিজের কিছু কার্যকরী পরামর্শও দিয়েছেন। ওয়ার্কেনটিন বলেন, "ঘুমের বিষয়টি মূলত ধারাবাহিকতা, মানুষের শারীরিক বায়োলজি এবং আচরণের ওপর নির্ভর করে। তাই ট্রেন্ডিং কোনো কৌশলের চেয়ে মৌলিক নিয়মগুলো মেনে চলাই সবসময় বেশি কার্যকর।" মুখে টেপ লাগানো গত কয়েক বছর ধরে মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমানোর একটি চল বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। দাবি করা হয়, এর ফলে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়, নাক ডাকা কমে এবং ঘুমের মান বাড়ে। তবে ডেভিড ওয়ার্কেনটিন এই পদ্ধতি নিয়ে বেশ শঙ্কিত। তিনি বলেন, এর ফলে শ্বাসরোধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে যারা স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগছেন বা সিপিএপি (CPAP) মেশিন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। এছাড়া রাতে যাদের অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বা বমির বমি ভাব থাকে, তাদের জন্যও মুখে টেপ লাগানো বিপজ্জনক। ওয়ার্কেনটিন এই পদ্ধতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এর পক্ষে কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এর বদলে তিনি সকালে একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, ছুটির দিনসহ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠাটা জরুরি। ঘুম থেকে ওঠার প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ৩০ মিনিট সকালের প্রাকৃতিক আলো গায়ে মাখানো ঘুমের যেকোনো ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করে। ঘুমানোর আগে চর্বিযুক্ত খাবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দাবি করেন, ঘুমানোর ঠিক আগে নির্দিষ্ট কিছু চর্বিযুক্ত খাবার খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে, যা ভালো ঘুমে সাহায্য করে। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন ওয়ার্কেনটিন। তিনি জানান, ঘুমের ক্ষেত্রে এই ধরনের খাদ্যাভ্যাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এর পরিবর্তে তিনি ঘুমানোর আগে নিজেকে শান্ত রাখার একটি রুটিন মেনে চলার পরামর্শ দেন। ঘুমানোর আগে বই পড়া, হালকা স্ট্রেচিং বা কম উত্তেজনার টিভি অনুষ্ঠান দেখা যেতে পারে। ঘুমানোর পরিবেশ অন্ধকার, শান্ত এবং ঠান্ডা হওয়া জরুরি। সেই সঙ্গে ঘুমানোর আগে যেকোনো ধরনের অ্যালকোহল বা নেশাজাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। প্রাকৃতিক মেলাটোনিন বা মকটেল সম্প্রতি ইন্টারনেটে একটি বিশেষ পানীয় বা ‘মকটেল’ ভাইরাল হয়েছে, যা খেলে চমৎকার ঘুম হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। টার্ট চেরি জুস, ম্যাগনেসিয়াম পাউডার এবং প্রিবায়োটিক সোডা বা স্পার্কলিং ওয়াটার মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। ওয়ার্কেনটিন এই পানীয়ের বিষয়ে ইতিবাচক হলেও কিছু সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এতে অতিরিক্ত চিনি থাকা যাবে না এবং মেলাটোনিন হিসেবে চেরি জুসের পরিমাণও বেশি হওয়া উচিত নয়। এটি অনিদ্রার স্থায়ী কোনো সমাধান নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন। মূলত দূরপাল্লার ভ্রমণের পর জেট ল্যাগ কাটাতে এটি কাজে লাগতে পারে। যেকোনো নতুন উপাদান গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। ওয়ার্কেনটিন জানান, ঘুমের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হতে হবে। একজন মানুষের কতক্ষণ ঘুম প্রয়োজন, তা তার জেনেটিক্স বা শারীরিক গঠনের ওপর নির্ভর করে। এটি সাধারণত ৬ থেকে ৯ ঘণ্টার মধ্যে হতে পারে। তাই জোর করে আট ঘণ্টা ঘুমাতেই হবে— এমন চিন্তা বাদ দেওয়া উচিত। কফি পান করে ছোট ঘুম বা 'ন্যাপুচিনো' এটি শুনতে কিছুটা অদ্ভুত মনে হলেও অনেকেই ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ছোট ঘুম বা 'ন্যাপ' নেওয়ার ঠিক আগে এক কাপ কফি পান করছেন। ক্যাফেইন শরীরে কাজ শুরু করতে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় নেয়, তাই ঘুম ভাঙার পরপরই শরীর সতেজ অনুভূত হয়। একে বলা হচ্ছে 'ন্যাপুচিনো'। ওয়ার্কেনটিন বলেন, কৌশলগতভাবে এটি একটি বুদ্ধিদীপ্ত উপায় হলেও, নিয়মিত ভালো ঘুমের বিকল্প এটি হতে পারে না। যদি এটি করতেই হয়, তবে দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে করার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া রাতে ঘুমানোর অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন বা কফি জাতীয় পানীয় পুরোপুরি বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। ওয়ার্কেনটিনের আরেকটি কার্যকর পরামর্শ হলো— বিছানায় শুয়ে যদি ২০ মিনিটের মধ্যে ঘুম না আসে, তবে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়া উচিত। অন্য কোনো কাজ করে তারপর আবার বিছানায় ফেরা উচিত, যাতে আমাদের মস্তিষ্ক বিছানাকে 'জেগে থাকার জায়গা' হিসেবে ভুল না করে।
প্রতিদিন ১০০টি পর্যন্ত চুল পড়া স্বাভাবিক হলেও এর বেশি চুল পড়া উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চুল পড়া রোধ করতে কেবল প্রসাধনী নয়, বরং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। নিয়মিত প্রোটিন ও শাক-সবজি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং গঠন সুন্দর থাকে। চুলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্যাপসিকাম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা পুষ্টি উপাদান চুলের সজীবতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। সালাদ বা বিভিন্ন খাবারে নিয়মিত ক্যাপসিকাম রাখলে চুল পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। ডিম প্রোটিন ও বায়োটিনের অন্যতম প্রধান উৎস, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। অনেকে চুলে ডিমের প্যাক ব্যবহার করলেও চিকিৎসকরা এটি খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। নিয়মিত ডিম খেলে ভেতর থেকে চুলের পুষ্টি নিশ্চিত হয় এবং চুল শক্ত হয়। সামুদ্রিক ও দেশি মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ডি-এর ভাণ্ডার। মাছের এসব উপাদান চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং অকালে চুল ঝরে যাওয়া রোধ করে। এছাড়া মাছে থাকা ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম চুলের গুণগত মান উন্নত করতে সাহায্য করে। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের সহজলভ্য উৎস হলো মসুর ডাল, যা চুলের গোড়া মজবুত করতে বিশেষভাবে কাজ করে। এছাড়া মিষ্টি আলুতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন ও অন্যান্য খনিজ উপাদান চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সুস্থ ও ঘন চুল পেতে ডায়েটে এসব খাবার নিয়মিত রাখা প্রয়োজন।
দাম্পত্য সম্পর্কের বাইরে অন্য কারো সঙ্গে প্রেমে জড়ানো বা পরকীয়া বর্তমান সময়ে এক জটিল সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এর ফলে সুন্দর সংসার মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যাচ্ছে। পুরুষদের পাশাপাশি অনেক নারীও বিয়ের পর পরকীয়ায় আকৃষ্ট হচ্ছেন। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, নারীদের এই পথে পা বাড়ানোর পেছনে সাধারণত আবেগীয় ও মানসিক কারণগুলোই বেশি কাজ করে। লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের পরকীয়ায় জড়ানোর পেছনে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো: অতীতের স্মৃতি: অনেক নারী পরিবারের চাপে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করেন। এমন ক্ষেত্রে তারা তাদের প্রথম প্রেম বা অতীত সম্পর্ক ভুলতে পারেন না এবং সুযোগ পেলেই প্রাক্তন সঙ্গীর দিকে ঝুঁকে পড়েন। মানসিক একাকীত্ব: দাম্পত্য জীবনে স্বামী যদি স্ত্রীকে যথেষ্ট সময় না দেন বা তাদের মধ্যে অর্থবহ কোনো কথা না হয়, তবে স্ত্রীর মনে একাকীত্ব বাসা বাঁধে। এই শূন্যতা পূরণের জন্য তিনি অন্য কারো প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন। একঘেয়েমি ও অবহেলা: সম্পর্কের শুরুর দিকের আকর্ষণ হারিয়ে গেলে কিংবা স্বামীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ভালোবাসা ও মনোযোগ না পেলে নারীরা বিরক্ত হয়ে ওঠেন। তখন অন্য কেউ সামান্য মনোযোগ দিলেই তারা সেদিকে প্রভাবিত হন। চাহিদার অপূর্ণতা: মানসিক ও আবেগীয় চাহিদার পাশাপাশি শারীরিক চাহিদাও দাম্পত্যের একটি বড় অংশ। সঙ্গী যদি স্ত্রীর এই প্রয়োজনগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তবে নারীরা অনেক সময় বাইরে বিকল্প খুঁজতে শুরু করেন। প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতা: স্বামী যদি আগে পরকীয়া করেন বা স্ত্রীকে প্রতিনিয়ত অবজ্ঞা ও অসম্মান করেন, তবে অনেক নারী এর প্রতিশোধ হিসেবে নিজেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। তারা সঙ্গীকে বুঝিয়ে দিতে চান যে অবহেলিত হওয়া কতটা কষ্টের।