যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটের ১৮ বছর বয়সী দুই যমজ বোন অ্যাঞ্জেলি জেরেজ-মেদিনা ও অ্যালেক্সকা জেরেজ-মেদিনাকে আটক করে দুটি ভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিবাসন আটককেন্দ্রে পাঠিয়েছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের (Asylum) আবেদন প্রক্রিয়ায় থাকা এই দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর আকস্মিক আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
কংগ্রেস সদস্য, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক থেকে শুরু করে ধর্মীয় নেতারা একযোগে তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন।
গত ২৪ জুন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো এলাকায় একটি গ্রীষ্মকালীন পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় আইসিই কর্মকর্তারা এই দুই বোনকে আটক করেন। ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকের পর তাদের একজনকে টেক্সাসের এল পাসো এবং অন্যজনকে লুইজিয়ানার একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। ডেট্রয়েটের ওয়েস্টার্ন ইন্টারন্যাশনাল হাই স্কুলের এই দুই শিক্ষার্থী অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত।
তাদের একজন স্কুলের জেআরওটিসি (JROTC) কর্মসূচির সক্রিয় সদস্য এবং অপরজন বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন দেখছেন। স্থানীয় শিক্ষক ও কমিউনিটি সদস্যদের মতে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধমূলক অভিযোগ নেই এবং তারা স্থানীয় গির্জার বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজেও নিয়মিত অংশ নিতেন।
এই দুই শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব আইসিইর কাছে বিশেষভাবে আবেদন জানিয়েছেন। এছাড়া মিশিগানের একাধিক অঙ্গরাজ্য সিনেটর, প্রতিনিধি, ডেট্রয়েট সিটি কাউন্সিলের সদস্য এবং স্থানীয় এক যাজক যৌথভাবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সচিব ও আইসিইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে অ্যাঞ্জেলি ও অ্যালেক্সকাকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তি দিয়ে তাদের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, জননিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি না হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ শিক্ষার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর এমন কঠোর অভিবাসন অভিযানের প্রতিবাদে ডেট্রয়েট ও বাফেলোতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তবে আইসিই কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটের ১৮ বছর বয়সী দুই যমজ বোন অ্যাঞ্জেলি জেরেজ-মেদিনা ও অ্যালেক্সকা জেরেজ-মেদিনাকে আটক করে দুটি ভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিবাসন আটককেন্দ্রে পাঠিয়েছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের (Asylum) আবেদন প্রক্রিয়ায় থাকা এই দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর আকস্মিক আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস সদস্য, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক থেকে শুরু করে ধর্মীয় নেতারা একযোগে তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। গত ২৪ জুন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো এলাকায় একটি গ্রীষ্মকালীন পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় আইসিই কর্মকর্তারা এই দুই বোনকে আটক করেন। ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকের পর তাদের একজনকে টেক্সাসের এল পাসো এবং অন্যজনকে লুইজিয়ানার একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। ডেট্রয়েটের ওয়েস্টার্ন ইন্টারন্যাশনাল হাই স্কুলের এই দুই শিক্ষার্থী অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত। তাদের একজন স্কুলের জেআরওটিসি (JROTC) কর্মসূচির সক্রিয় সদস্য এবং অপরজন বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন দেখছেন। স্থানীয় শিক্ষক ও কমিউনিটি সদস্যদের মতে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধমূলক অভিযোগ নেই এবং তারা স্থানীয় গির্জার বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজেও নিয়মিত অংশ নিতেন। এই দুই শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব আইসিইর কাছে বিশেষভাবে আবেদন জানিয়েছেন। এছাড়া মিশিগানের একাধিক অঙ্গরাজ্য সিনেটর, প্রতিনিধি, ডেট্রয়েট সিটি কাউন্সিলের সদস্য এবং স্থানীয় এক যাজক যৌথভাবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সচিব ও আইসিইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে অ্যাঞ্জেলি ও অ্যালেক্সকাকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তি দিয়ে তাদের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, জননিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি না হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ শিক্ষার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর এমন কঠোর অভিবাসন অভিযানের প্রতিবাদে ডেট্রয়েট ও বাফেলোতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তবে আইসিই কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ইস্ট সেন্ট লুইসে পড়াশোনা নিয়ে সামান্য পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং তার ১৬ বছর বয়সী প্রেমিক জা’ইমিয়ার ডেভিসের বিরুদ্ধে। পুলিশ এই ঘটনাকে একটি ‘পরিকল্পিত গণগুলিবর্ষণ’ (টার্গেটেড মাস শুটিং) হিসেবে বর্ণনা করেছে। গত রবিবার তিনটি ভিন্ন স্থানে চালানো এই ভয়াবহ হামলায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযুক্ত কিশোরীর মামলাটি বর্তমানে জুভেনাইল আদালতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শোকার্ত বাবা মার্কাস মে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, এক নিমেষেই তিনি তার পুরো পরিবারকে হারিয়েছেন। নিহতরা সবাই ওই কিশোরীর আপন রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মার্কাসের ৭৪ বছর বয়সী মা প্যাট্রিসিয়া মে, ৪৯ বছর বয়সী বোন চেরি মে, ২৪ বছর বয়সী ভাগ্নে ডেভিন মে এবং দুই সৎ সন্তান কোয়েন্টিন থম্পসন (২১) ও শানিয়া থম্পসন (২৫)। প্রসিকিউটরদের দায়ের করা ১২টি অভিযোগের নথিতে জানা গেছে, নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়; অভিযুক্ত কিশোরীর প্রেমিক ডেভিস হত্যার পর বৃদ্ধা প্যাট্রিসিয়ার হাতের বুড়ো আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ হিসেবে মার্কাস মে জানান, স্কুলে নানা ঝামেলা করায় কিশোরীটিকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে বাড়িতেই পড়াশোনা (হোমস্কুলিং) করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিভাবকেরা। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে মা-বাবার সঙ্গে তীব্র বিরোধে জড়ায় সে। এর আগেও কয়েকবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং মায়ের ডেবিট কার্ড চুরির রেকর্ড ছিল তার। ঘটনার কয়েকদিন আগে সে তার মায়ের একটি আগ্নেয়াস্ত্র চুরি করে আবারও বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়, যা নিয়ে থানায় অভিযোগও করা হয়েছিল। এমনকি মেয়েটি আগে একবার এমন গণগুলিবর্ষণের পরিকল্পনা করছে বলে আভাস দিলেও পরিবারের কেউ তা তখন গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। রবিবার সকালে রক্তাক্ত এই তাণ্ডব চালানোর পর পুলিশ ইস্ট সেন্ট লুইসের বিভিন্ন স্থান থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। শানিয়ার মরদেহ একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পেছনে রাখা গাড়ি থেকে এবং কোয়েন্টিনের মরদেহ স্থানীয় জোনস পার্ক থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই পার্কটি থেকেই আরও দুজনকে গুরুতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কয়েক মাইল দূরের একটি আবাসন এলাকা থেকে অন্য দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ইলিনয় স্টেট পুলিশ ধাওয়া করে দুই অভিযুক্ত কিশোর-কিশোরীর গাড়িটি থামায় এবং একটি পার্কের কাছ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস নির্বাচনে অংশ নেওয়া ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেলিসা চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, মুসলিম ভোটাররা অসন্তুষ্ট হতে পারেন এই ভয়ে তিনি সমকামী (এলজিবিটিকিউ+) অধিকারের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলছেন না। অথচ তার নির্বাচনী এলাকায় মুসলিম ভোটারদের সংখ্যা একেবারেই কম। ৩৪ বছর বয়সী মেলিসা চৌধুরী ২০২৪ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর ওয়াশিংটনের নবম নির্বাচনী এলাকা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছেন। তিনি হিজাব পরিধান করেন এবং তার স্বামী মোহাম্মদ জাহিদ চৌধুরী একজন মুসলিম সেনা সদস্য। সম্প্রতি সিয়াটলভিত্তিক স্থানীয় সংবাদপত্র 'দ্য স্ট্রেঞ্জার'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেলিসাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি নিজেকে সমকামী অধিকারের সমর্থক দাবি করলেও তার নির্বাচনী ওয়েবসাইটে এই বিষয়ে কেন কোনো কিছু উল্লেখ করেননি? জবাবে মেলিসা বলেন, "কারণ দুর্ভাগ্যবশত অনেক মুসলিম এই বিষয়টি ওভাবে (ইতিবাচকভাবে) দেখেন না।" ২০২৫ সালের পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ শতাংশ মুসলিম মনে করেন সমকামিতা সমাজে গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত। এদিকে মেলিসার নির্বাচনী এলাকার বেশিরভাগ অংশ যে সিয়াটলে অবস্থিত, সেখানকার মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ মুসলিম। বিপরীতে সিয়াটলে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৭ শতাংশ মানুষ নিজেদের সমকামী বা রূপান্তরকামী হিসেবে পরিচয় দেন। এই সাক্ষাৎকারের পর সমকামী অধিকার কর্মীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মেলিসা। ওয়াশিংটন স্টোনওয়াল ডেমোক্র্যাটসের সভাপতি অ্যান্ড্রু আশিওফু ফেসবুকে লেখেন, "আমাদের সম্প্রদায় ফেলে দেওয়ার মতো নয় এবং সমকামী অধিকার ঐচ্ছিক কিছু নয়। ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থন পেতে চাওয়া যেকোনো প্রার্থীর জন্য এটি মৌলিক বিষয়।" এর জবাবে মেলিসা ফেসবুকে দাবি করেন, সমকামীরা তার কাছে নিরাপদ। তিনি আরও জানান যে তার নিজের বোনও সমকামী সম্পর্কে আছেন এবং তার একজন প্রতিবন্ধী লেসবিয়ান বন্ধুও রয়েছে। তবে এই জবাবের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অ্যান্ড্রু আশিওফু বলেন, "তিনি অন্যদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন এবং বলছেন তার সমকামী বন্ধু আছে। এটা কোনো বর্ণবাদীর ‘আমার কৃষ্ণাঙ্গ বন্ধু আছে’ বলার মতোই বিষয়।"