সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সম্পর্ক

কঠিন সময়ে বন্ধুর পাশে থাকুন, শুনুন তাঁর কথা
বন্ধুর কষ্ট কমাতে চান, তাহলে এড়িয়ে চলুন প্রচলিত পাঁচটি কথা ও আচরণ

বন্ধু বা প্রিয়জন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেলে পাশে থাকার ইচ্ছা অনেকেরই থাকে। কিন্তু কীভাবে সহায়তা করতে হবে, কোন কথা বলা উচিত আর কোন আচরণ এড়িয়ে চলা দরকার—তা বুঝতে পারেন না অনেকেই। কখনো ভালো উদ্দেশ্যে বলা একটি কথাও বিপর্যস্ত মানুষটির কষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। একজন মনোবিজ্ঞানীর মতে, সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা আসে এমন কঠিন সময়েই। তখন পাশে থাকার ধরনই নির্ধারণ করতে পারে, বন্ধুত্ব ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে, নাকি দূরত্ব তৈরি হবে।   মানুষ সাধারণত বিপদের সময়ে বন্ধুদের পাশে পেলে নিজেকে ভালোবাসা ও সমর্থন পাওয়ার অনুভূতি অনুভব করেন। বিপরীতে, যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন কাছের মানুষদের অনুপস্থিতি গভীর হতাশা ও বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তাই কারও দুঃসময়ে সহায়তা করার অর্থ শুধু সান্ত্বনার কথা বলা নয়; বরং তাঁর অনুভূতি বোঝা, প্রয়োজনের প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং বাস্তবভাবে পাশে থাকা। a মানবিক সম্পর্ক ও মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরির বিষয়ে কাজ করা ওই মনোবিজ্ঞানী এমন পাঁচটি কথা ও আচরণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন, যা অনিচ্ছাকৃতভাবে বিপর্যস্ত বন্ধুর কষ্ট বাড়াতে পারে। প্রথমত, বন্ধুকে কাঁদতে নিষেধ করা উচিত নয়। অনেকেই কাউকে কাঁদতে দেখলে বলেন, ‘কেঁদো না’ বা ‘মন শক্ত করো’। তাঁদের উদ্দেশ্য হয়তো মানুষটিকে দ্রুত স্বাভাবিক করে তোলা। কিন্তু আবেগ প্রকাশ না করলে কষ্ট দূর হয়ে যায়—এ ধারণা ঠিক নয়। বরং কঠিন অভিজ্ঞতা সামলাতে অনেকেরই নিজের অনুভূতি নিয়ে কথা বলা এবং কাঁদার সুযোগ প্রয়োজন হয়। জীবনসঙ্গীকে হারানো মানুষের অভিজ্ঞতা নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা এ বিষয়ে কম কথা বলেছেন, পরবর্তী এক বছরে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার অবস্থা তুলনামূলক খারাপ ছিল। শোক সামলানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে আরেকটি গবেষণায় একজন অংশগ্রহণকারী জানান, একজন নার্স তাঁকে কাঁদতে দিয়েছিলেন, থামানোর চেষ্টা করেননি। তাঁর কাছে এই আচরণই ছিল সবচেয়ে সহায়ক অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। তাই বন্ধুর চোখে পানি এলে তাঁকে থামানোর পরিবর্তে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে। বলা যায়, ‘তুমি মনের কষ্টটা প্রকাশ করছ, এটা ভালো। আমি তোমার পাশে আছি।’ এতে তিনি বুঝতে পারবেন, তাঁর আবেগ প্রকাশ করা কোনো ভুল নয়। দ্বিতীয়ত, ‘তোমাকে শক্ত হতে হবে’—এমন কথা বলাও এড়িয়ে চলা ভালো। কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষকে সাহস দেওয়ার চেষ্টা স্বাভাবিক। কিন্তু সব সময় শক্ত থাকার পরামর্শ দিলে তাঁর দুঃখ, ভয় কিংবা দুর্বলতার অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। এতে তিনি মনে করতে পারেন, নিজের কষ্ট দেখানো উচিত নয়। এর বদলে তাঁর অনুভূতিকে স্বীকৃতি দেওয়া বেশি কার্যকর। যেমন বলা যেতে পারে, ‘তোমার এমন লাগাটা স্বাভাবিক’ অথবা ‘তুমি যা অনুভব করছ, তা নিয়ে অপরাধবোধ করার প্রয়োজন নেই।’ এমন কথা মানুষকে নিজের আবেগ বুঝতে এবং তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, ‘কিছু লাগলে আমাকে জানিও’—এই প্রচলিত কথাটিও সব সময় কার্যকর সহায়তা হয়ে ওঠে না। কারণ, বিপর্যস্ত মানুষটি হয়তো বুঝতেই পারেন না, তাঁর ঠিক কী ধরনের সাহায্য প্রয়োজন। আবার সাহায্য চাইতে গিয়ে অন্যকে বিরক্ত করার ভয় বা সংকোচও কাজ করতে পারে। ফলে আন্তরিক প্রস্তাব পেয়েও তিনি কিছু না বলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ হলো, সাধারণভাবে সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু কাজের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া। যেমন, ‘তোমার বাজার করে দেব?’, ‘তোমার কাপড় ধুয়ে দিতে পারি?’ অথবা ‘বাচ্চাদের কিছু সময় দেখাশোনা করব?’ শোকের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন কাজকর্মে অন্যদের সহায়তা তাঁদের কাছে বিশেষভাবে উপকারী ছিল। এমন নির্দিষ্ট প্রস্তাবে সাহায্য চাওয়ার চাপ কমে এবং বাস্তব প্রয়োজনও পূরণ হয়। চতুর্থত, কাউকে দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া উচিত নয়। কোনো কঠিন ঘটনার কয়েক মাস পরও বন্ধু কষ্টে থাকলে কেউ কেউ বলতে পারেন, ‘এবার এগিয়ে যাও’ বা ‘এখনো এসব নিয়ে ভাবছ?’ কিন্তু দুঃখ, শোক কিংবা মানসিক চাপ কাটিয়ে ওঠার জন্য সবার ক্ষেত্রে একই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। গবেষণার একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কোনো চাপপূর্ণ ঘটনার পর ১১ শতাংশ মানুষ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে পারেন। আবার প্রথম দিকে যাঁদের অবস্থা স্বাভাবিক মনে হয়, তাঁদের ৯ থেকে ১২ শতাংশের পরিস্থিতি পরবর্তী সময়ে আরও খারাপ হতে পারে। অর্থাৎ, বাইরে থেকে কাউকে স্বাভাবিক দেখালেই তাঁর কষ্ট পুরোপুরি কেটে গেছে, এমন ধরে নেওয়া যায় না। নিজের আবেগকে বিচার করা বা সেগুলো নিয়ে নিজেকে দোষারোপ করাও ক্ষতিকর হতে পারে। একটি গবেষণায় যাঁরা নিজেদের অনুভূতিকে নেতিবাচকভাবে বিচার করেছেন, তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মাত্রা বেশি এবং মেজাজের ওঠানামাও বেশি দেখা গেছে। তাই বন্ধুকে তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত নয়। বরং বলা যেতে পারে, ‘তোমার যতটা সময় প্রয়োজন, নাও। আমি পাশে আছি।’ পঞ্চমত, বন্ধুর কঠিন সময়ের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া বা তাঁকে এড়িয়ে চলাও ক্ষতিকর। কখনো কখনো কী বলা উচিত, তা বুঝতে না পেরে মানুষ দূরে সরে যান। কেউ ফোন ধরা বন্ধ করেন, কেউ দেখা হলে এড়িয়ে যান। কিন্তু এতে বিপর্যস্ত মানুষটির মনে হতে পারে, তাঁর কষ্টের কারণে অন্যরা তাঁকে এড়িয়ে চলছেন। ফলে তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেও ভয় পেতে পারেন এবং আরও একাকিত্বে ভুগতে পারেন। মনোবিজ্ঞানীর মতে, কঠিন সময়ে থাকা বন্ধুর খোঁজ নেওয়ার গুরুত্ব অনেক সময় আমরা উপলব্ধি করতে পারি না। অথচ ছোট্ট একটি বার্তাও তাঁকে বুঝিয়ে দিতে পারে যে তিনি একা নন। সামাজিক সমর্থন মানুষের প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই নিখুঁত কথা খুঁজে না পেলেও যোগাযোগ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে খুব সাধারণ একটি বার্তাই যথেষ্ট হতে পারে: ‘আজ তোমার কথা মনে পড়ছিল। তুমি কেমন আছ, জানতে ইচ্ছা হলো।’ এমন বার্তা বন্ধুকে তাঁর পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ দেয়, আবার কথা বলতে না চাইলে তাঁকে চাপও দেয় না। সব মিলিয়ে, কঠিন সময়ে বন্ধুর পাশে থাকার জন্য সব সমস্যার সমাধান জানা জরুরি নয়। বরং তাঁর কথা মন দিয়ে শোনা, আবেগ প্রকাশের সুযোগ দেওয়া, দৈনন্দিন কাজে নির্দিষ্ট সহায়তা করা এবং নিয়মিত খোঁজ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে দ্রুত ভালো হয়ে যেতে বাধ্য না করে তাঁর অনুভূতিকে সম্মান জানানো বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ধর্মীয় চর্চায় নিয়মিত দম্পতিদের যৌ ন জী বন ও দাম্পত্য সন্তুষ্টি নিয়ে গবেষণায় মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য
ধর্মভীরু দম্পতিদের যৌ ন জী বন বেশি সন্তোষজনক: গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ধর্মীয় চর্চায় নিয়মিত থাকা বিবাহিত দম্পতিদের যৌ ন জী বন তুলনামূলকভাবে বেশি সন্তোষজনক। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে নিয়মিত যৌ ন স ম্প র্কের হারও বেশি।   চার্লটসভিলের ইনস্টিটিউট ফর ফ্যামিলি স্টাডিজের ২০২৬ সালের ‘রিলিজিয়ন অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভে’তে ১৮ থেকে ৫৪ বছর বয়সী ৩ হাজার ১২৫ জন বিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী বিবাহিতদের মধ্যে উপাসনালয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী দম্পতিদের ৬২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা সপ্তাহে অন্তত একবার যৌ ন স ম্প র্ক করেন। ধর্মীয় চর্চায় অনিয়মিত বা কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত নন এমন দম্পতিদের মধ্যে এই হার তুলনামূলকভাবে কম।   যৌ ন জী বন নিয়ে সন্তুষ্টির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। উপাসনালয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী ধর্মভীরু দম্পতিদের একটি বড় অংশ নিজেদের যৌ ন জী বনকে ‘চমৎকার’ বা ‘খুব ভালো’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। অন্যদিকে ধর্মীয় চর্চায় কম যুক্ত থাকা বা ধর্মীয়ভাবে অনাসক্ত দম্পতিদের মধ্যে এই সন্তুষ্টির হার তুলনামূলকভাবে কম।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিয়মিত প্রার্থনা বা ধর্মীয় চর্চার সঙ্গে বিবাহিত দম্পতিদের যৌ ন জী বন নিয়ে সন্তুষ্টির সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর সঙ্গে যৌ ন স ম্প র্কের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি সব ক্ষেত্রে একইভাবে দেখা যায়নি।   বিয়েকে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী অঙ্গীকার হিসেবে দেখার সঙ্গেও নিয়মিত ও সন্তোষজনক যৌ ন স ম্প র্ক এবং সামগ্রিক দাম্পত্য মানের ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে।   তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এই ফলাফল থেকে সরাসরি বলা যায় না যে ধর্মীয় চর্চাই বেশি যৌ ন স ম্প র্ক বা দাম্পত্য সুখের কারণ। গবেষণাটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক এবং এতে অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। বয়স, কত বছর ধরে বিয়ে হয়েছে এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত পার্থক্যও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দম্পতিরা যখন নিজেদের বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক চর্চার জায়গায় একসঙ্গে সময় কাটান, তখন তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মানসিক ঘনিষ্ঠতা বাড়তে পারে। উপাসনালয়ে যাওয়া, প্রার্থনা কিংবা নিজেদের বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া অনেক দম্পতির সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে।   দাম্পত্য জীবনে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে বিশেষজ্ঞরা মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট থেকে কিছুটা দূরে থেকে স্বামী-স্ত্রীর একান্ত সময় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। নিজেদের অনুভূতি, মানসিক ঘনিষ্ঠতা এবং যৌ ন সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের আকস্মিক ইতি
ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের আকস্মিক ইতি, চার সন্তানের মা শিভন জিলিসের দাবি

ইলন মাস্কের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি নির্বাহী শিভন জিলিস। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে জিলিস দাবি করেন, কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা ছাড়াই তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। মাস্কের সঙ্গে জিলিসের চার সন্তান রয়েছে।   জিলিস লেখেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদের অবস্থায় চলে যাওয়া তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পর্ক শেষ হওয়ার আগে তিনি এ ধরনের কোনো পরিবর্তনের আভাস পাননি। তবে বিচ্ছেদের কারণ কী, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।   মাস্ক ও জিলিসের চার সন্তানের মধ্যে ২০২১ সালে যমজ সন্তান স্ট্রাইডার ও অ্যাজুর জন্ম নেয়। এরপর ২০২৪ সালে তাদের কন্যা আর্কাডিয়া এবং ২০২৫ সালে ছেলে সেলডনের জন্ম হয়। জিলিস তার পোস্টে সন্তানদের নিয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, তাদের চার সন্তানই তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের উৎস।   বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি জিলিস মাস্কের সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেন। সেখানে ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি কথোপকথনে মাস্ককে জিলিসের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে দেখা যায়। একই কথোপকথনে একটি অনুষ্ঠানে তাকে নিজের সঙ্গী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর প্রসঙ্গও আসে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পর্কের আকস্মিক সমাপ্তির কথা জানানোয় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর জিলিস এক্সে লিখেছিলেন, “নতুন দিন, নতুন জীবন।” তখন তিনি ওই পোস্টের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। পরে সম্পর্কের বিচ্ছেদের কথা প্রকাশ করার পর আগের পোস্টটি নতুন করে আলোচনায় আসে। মাস্ক তাকে এক্সে অনুসরণ করা বন্ধ করেছেন বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিচ্ছেদের পরও মাস্কের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সন্তানদের যৌথভাবে দেখাশোনা করার আশা প্রকাশ করেছেন জিলিস। তিনি বলেন, মাস্কের প্রতি তার গভীর যত্ন ও শুভকামনা রয়েছে। তবে সম্পর্ক কেন শেষ হলো, সে বিষয়ে মাস্ক বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রকাশ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে বিচ্ছেদের পেছনের কারণ আপাতত অজানা।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
বিয়েকে এড়িয়ে নয়, বরং স্থায়ী সম্পর্কের দিকেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে জেন জি
জেন জি-ই বিয়েতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী, বলছে নতুন গবেষণা

বিয়ে ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক থেকে তরুণ প্রজন্ম ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে—এমন ধারণা অনেকদিন ধরেই প্রচলিত। তবে নতুন এক গবেষণায় সেই ধারণার সঙ্গে মিলছে না জেন জির বাস্তব ভাবনা। বরং অন্য যেকোনো প্রজন্মের তুলনায় জেন জির মধ্যেই বিয়ের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে।   ম্যাচ গ্রুপের ২০২৬ সালের Singles in America গবেষণায় অংশ নেওয়া জেন জির ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতে বিয়ে করতে চান। গবেষণাটি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির কিনসে ইনস্টিটিউটের গবেষকদের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। এতে মার্চ ও এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ৫ হাজার অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন।   গবেষণায় দেখা গেছে, সব বয়সী অংশগ্রহণকারীর ৭৬ শতাংশ বিশ্বাস করেন, রোমান্টিক ভালোবাসা আজীবন স্থায়ী হতে পারে। ৭৪ শতাংশ মনে করেন, কিছু সম্পর্ক যেন ‘হওয়ারই কথা’ এবং ৬১ শতাংশ বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক মানুষের জন্য একজন আদর্শ সঙ্গী বা ‘সোলমেট’ রয়েছে।   দীর্ঘদিন ধরে তরুণ আমেরিকানদের মধ্যে বিয়ের আগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে আর্থিক চাপ, বাড়ির উচ্চমূল্য এবং সম্পর্কের পরিবর্তিত ধারণাকে দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু নতুন গবেষণার ফল বলছে, বিয়ের প্রতি আগ্রহ কমার চেয়ে বরং বিয়েতে পৌঁছানোর পথটিই জেন জির কাছে বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।   ডেটিং অ্যাপ ফ্লেজের প্রতিষ্ঠাতা ভ্যাল ক্লিমভের মতে, জেন জি আসলে গুরুতর সম্পর্ক চায়। তবে বর্তমান ডেটিং সংস্কৃতি তাদের সেই সম্পর্কে পৌঁছে দেবে কি না, তা নিয়ে তাদের আস্থা কম।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জেন জি আগের প্রজন্মের তুলনায় কম ডেট করেছে। ফলে সম্পর্কের প্রতি তাদের আগ্রহ অনেক ক্ষেত্রে আরও সচেতন ও বাছাই করা। একই সঙ্গে ডেটিং অ্যাপ, ‘সোয়াইপ কালচার’ এবং অনিশ্চিত সম্পর্ক বা ‘সিচুয়েশনশিপ’-এর প্রতি একধরনের ক্লান্তিও তৈরি হয়েছে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু উত্তেজনা বা আকর্ষণের চেয়ে মানসিক স্থিরতা ও সামঞ্জস্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেক অবিবাহিত মানুষ। প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৯ শতাংশ জানিয়েছেন, এমন কারও প্রেমে পড়েছেন যাকে শুরুতে তারা আকর্ষণীয় মনে করেননি। ভালো কথোপকথন, অভিন্ন আগ্রহ ও একই ধরনের মূল্যবোধ পরে আকর্ষণ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন তারা।   অন্যদিকে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘শান্তি ও মানসিক নিরাপত্তা’কে ‘আবেগ ও উত্তেজনা’র চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন অবিবাহিতরা।   অর্থনৈতিক বিষয়ও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় ৭১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, অর্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস বাড়ায়। ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা বিয়ের আগে প্রিনাপচুয়াল এগ্রিমেন্ট বা সম্পত্তি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে আগাম চুক্তি করতেও রাজি।   কাউন্সেলর আলেক্সান্দ্রা ক্রোমারের মতে, বর্তমান উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ও জেন জির বিয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর একটি কারণ হতে পারে। বাড়ি কেনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন খরচ—সবকিছুর চাপের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, দুইজনের আয় থাকলে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য অর্জন তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।   তবে বিয়ের প্রতি আগ্রহ বেশি হলেও এর অর্থ এই নয় যে জেন জি দ্রুত বিয়ে করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা হয়তো আগের প্রজন্মের তুলনায় দেরিতে বিয়ে করবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে পারে।   গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ২৪ বছর বয়সে বিয়ে করতে চাওয়া আর ৩০ বছর বয়সের মধ্যে সত্যিই বিয়ে করা—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। তাই জেন জির বিয়ের প্রতি আগ্রহ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের হার বাড়াবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
রণধীর জয়সওয়াল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ছবি সংগৃহীত।
বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায় ভারত: রণধীর জয়সওয়াল

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন করে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী পথে এগিয়ে নিতে চায় ভারত। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে নয়াদিল্লি।    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ অবস্থানের কথা জানান। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে তিনি ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন।   জয়সওয়াল বলেন, ভারতের লক্ষ্য বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলক দিকে এগিয়ে নেওয়া। অমীমাংসিত বা আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে—এমন দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়েও বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে কথা বলতে নয়াদিল্লি প্রস্তুত।   এ বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর নিয়োগে ভারতের আনুষ্ঠানিক সম্মতি বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে।   এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা চলছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। তবে সফরের সময়সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।   বর্তমানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরেও দুই দেশের সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের কোনো বৈঠক হবে কি না—এমন প্রশ্নে জয়সওয়াল জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে তখন নিশ্চিত কোনো তথ্য ছিল না; নতুন কিছু হলে জানানো হবে।   দুই দেশের প্রতিরক্ষা যোগাযোগও আলোচনায় এসেছে। ভারতের যোধপুরে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় ‘তরঙ্গ শক্তি’ বহুজাতিক বিমান মহড়ায় বাংলাদেশ অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এই অংশগ্রহণকে সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায় কি না—এমন প্রশ্নেও জয়সওয়াল ভারতের ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী’ সম্পর্কের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।    বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর কথা বলা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ১৩ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, ঢাকা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে একটি কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় এবং মতপার্থক্যগুলো কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে।   সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কূটনৈতিক যোগাযোগে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সংলাপের মাধ্যমে মোকাবিলা এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ দুই পক্ষের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। 

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
প্রবাসজীবনে বদলে যায় সম্পর্কের যোগাযোগ
বিদেশে গেলেই কি সম্পর্কের দায় শুধু প্রবাসীর - অভিজ্ঞতা জানালেন শিকাগোপ্রবাসী ভারতীয় নারী

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর দেশে থাকা স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে সম্পর্কের যোগাযোগ কীভাবে বদলে যেতে পারে, তা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন শিকাগোপ্রবাসী ভারতীয় নারী কানিশকা জাসোরিয়া। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছর থাকার সময়ে নিকট পরিবারের সদস্যদের বাইরে মাত্র দুজন তাকে ফোন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—বিদেশে থাকা মানুষদেরই কেন প্রায়ই “সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাওয়া” বা “ডিট্যাচড” হিসেবে দেখা হয়?   সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন কানিশকা। ভিডিওতে তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার পর অনেক সময় দেশে থাকা মানুষজন অভিযোগ করেন যে প্রবাসীরা আর আগের মতো যোগাযোগ রাখেন না। কিন্তু তার নিজের অভিজ্ঞতায়, যোগাযোগের উদ্যোগ সবসময় একপক্ষ থেকে আসেনি। ভিডিওটির ওপর “রিয়েলিটি অব এনআরআই” লেখা ছিল এবং ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “বেইজড অন ট্রু ইভেন্টস”। বিষয়টি হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও টাইমস নাউও প্রতিবেদন করেছে।   কানিশকার ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বছরে পরিবারের বাইরে যে দুজন তাকে ফোন করেছিলেন, তাদের কথোপকথনের ধরনও ছিল আলাদা। একজন জানতে চেয়েছিলেন, পরিবার ছাড়া তিনি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জীবন সামলাচ্ছেন এবং ঋণের মতো বাস্তব বিষয় কীভাবে মোকাবিলা করেছেন। অন্যজন প্রশ্ন করেছিলেন, কাউকে না জানিয়ে কেন তিনি বিদেশে চলে গেছেন। তার বক্তব্য, এই দুটো ফোনের বাইরে নিয়মিত যোগাযোগের অভিজ্ঞতা তার হয়নি।   এই অভিজ্ঞতা থেকেই কানিশকা প্রশ্ন তুলেছেন, যখন যোগাযোগের চেষ্টা দুই পক্ষ থেকে সমানভাবে না আসে, তখন শুধু বিদেশে চলে যাওয়া ব্যক্তিকেই কেন “ডিট্যাচড” বলা হবে। তার বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—দূরত্ব তৈরি হলে সম্পর্ক ধরে রাখার দায়িত্ব শুধু বিদেশে থাকা ব্যক্তির ওপর থাকা উচিত নয়; যোগাযোগে দুই পক্ষেরই ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।   ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন ব্যবহারকারী নিজেদের প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কানিশকার বক্তব্যের মিল খুঁজে পেয়েছেন। কেউ বলেছেন, বিদেশে যাওয়ার পর সম্পর্কের বাস্তবতা বদলে যায়; আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দুই পক্ষেরই চেষ্টা প্রয়োজন।   তবে কানিশকার বক্তব্যকে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট হিসেবেই দেখা উচিত। হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা দাবিগুলো তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি। কানিশকার লিংকডইন প্রোফাইলেও শিকাগো, ইলিনয়েসে তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়।   উৎস: হিন্দুস্তান টাইমস, কানিশকা জাসোরিয়ার ইনস্টাগ্রাম

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
বয়স্ক পুরুষের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস অনেক সময় তরুণীদের আকর্ষণের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রী ও সংসার থাকার পরও বয়স্ক পুরুষের প্রেমে কেন পড়েন তরুণীরা

কোনো পুরুষ বিবাহিত এবং তার স্ত্রী-সন্তান ও সংসার রয়েছে, বিষয়টি জানার পরও তার প্রতি কোনো তরুণীর আকর্ষণ তৈরি হতে পারে। এমন সম্পর্ককে শুধু বয়সের ব্যবধান দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। ব্যক্তিত্ব, মানসিক সংযোগ, মনোযোগ, সামাজিক অবস্থান, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা একসঙ্গে কাজ করে এ ধরনের আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।   তবে শুরুতেই মনে রাখা দরকার, সব তরুণী বয়স্ক বা বিবাহিত পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হন না। আবার বয়সে বড়-ছোট হওয়ার বিষয়টিও কোনো সম্পর্কের প্রকৃতি বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। গবেষণাতেও এমন কোনো একক কারণ পাওয়া যায়নি, যার মাধ্যমে এ ধরনের সম্পর্ককে সবার ক্ষেত্রে একইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।   বয়স্ক পুরুষের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস অনেক সময় তরুণীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। জীবনের কোনো অনিশ্চিত বা কঠিন সময়ে স্থির, অভিজ্ঞ ও আত্মবিশ্বাসী কাউকে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য মনে হতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা, সামাজিক পরিচিতি কিংবা জীবনের প্রতি পরিণত দৃষ্টিভঙ্গিও কারও কাছে আকর্ষণের কারণ হতে পারে।   বয়সের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও কখনো যুক্ত হতে পারে। ২০২৫ সালে ‘সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিলেশনশিপ থেরাপি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তরুণী ও বয়স্ক পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা ও স্থিতিশীলতার ধারণার ভূমিকার কথা উঠে আসে। তবে গবেষণাটির নমুনা সীমিত এবং অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় এর ফলাফলকে সব ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যায় না।   অনেক সময় বয়সের চেয়ে মানুষের আচরণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একজন পুরুষ যদি নিয়মিত খোঁজ নেন, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনেন, প্রশংসা করেন কিংবা কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান, তাহলে তার প্রতি ধীরে ধীরে আবেগ তৈরি হতে পারে। শুরুতে বন্ধুত্ব বা পরিচিতির সম্পর্ক থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগের ফলে সেটি অন্য ধরনের অনুভূতিতে পরিণত হতে পারে।   বিবাহিত পুরুষের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তার সংসার ও পারিবারিক দায়িত্ব থাকার কারণে নতুন সম্পর্কটি অনেক সময় গোপনীয়তার মধ্যে গড়ে ওঠে। নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগ, গোপন সাক্ষাৎ কিংবা একে অপরের কাছে এমন কিছু বিষয় ভাগ করে নেওয়া, যা অন্যদের সঙ্গে করা হয় না, সম্পর্কের আবেগকে আরও গভীর করে তুলতে পারে। তবে এটিকে কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সূত্র হিসেবে দেখা ঠিক নয়।   বয়সের ব্যবধানযুক্ত সম্পর্ক অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। ২০২৪ সালে ইউরোপের ২৯টি দেশের প্রায় ৩৬ হাজার দম্পতির তথ্য বিশ্লেষণ করে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, পুরুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে তার সঙ্গীর বয়স কিছুটা কম হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। আবার ২০২৫ সালের আরেকটি বড় গবেষণায় প্রথম দেখার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই নিজেদের তুলনায় কিছুটা কম বয়সী সঙ্গীর প্রতি আকর্ষণের প্রবণতা পাওয়া যায়।   মার্কিন ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণাগুলোতেও দেখা যায়, সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়সের পছন্দ একেবারে একরকম নয়। অনেক নারী নিজেদের চেয়ে সামান্য বেশি বয়সী পুরুষকে পছন্দ করতে পারেন, তবে এর অর্থ এই নয় যে নারীদের স্বাভাবিক বা সহজাত পছন্দ কেবল বয়স্ক পুরুষ।   এ ধরনের সম্পর্কে মানসিক ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদা, নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রশংসার মতো বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সামাজিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিনের পরিচয় থেকেও কখনো আবেগ তৈরি হয়। শুরুতে পরামর্শ নেওয়া বা বন্ধুত্বের মতো সম্পর্ক থাকলেও সময়ের সঙ্গে সেটি বদলে যেতে পারে।   তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দায়িত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিবাহিত পুরুষ নিজের বৈবাহিক অবস্থান গোপন করলে কিংবা অন্য ব্যক্তির আবেগকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ফলে এ ধরনের সম্পর্কের জন্য শুধু তরুণীকে দায়ী করা একপাক্ষিক বিশ্লেষণ হবে। সম্পর্ক তৈরিতে সংশ্লিষ্ট উভয় ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ও আচরণই বিবেচনা করা প্রয়োজন।   বয়সের ব্যবধান নিজে কোনো সম্পর্ককে সফল বা ব্যর্থ করে না। তবে বয়সের পাশাপাশি অর্থ, সামাজিক অবস্থান ও জীবন-অভিজ্ঞতার বড় পার্থক্য থাকলে সম্পর্কে ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্ন উঠতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার পারিবারিক তথ্যভিত্তিক একটি গবেষণায় বয়সে বড় দম্পতিদের বৈবাহিক সন্তুষ্টি সময়ের সঙ্গে তুলনামূলক দ্রুত কমে যাওয়ার প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২২ সালের একটি গবেষণায় বয়স ও ক্ষমতার পার্থক্য তরুণ সঙ্গীর ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় তাই শুধু বয়সের ব্যবধান নয়, সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ, সম্মতি, প্রত্যাশা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে সম্পর্কের একজন যদি আগে থেকেই বিবাহিত হন, তাহলে তার পারিবারিক দায়িত্ব ও অন্য সঙ্গীর প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।   সব মিলিয়ে, স্ত্রী-সন্তান ও সংসার থাকা কোনো বয়স্ক পুরুষের প্রতি একজন তরুণীর আকর্ষণ তৈরি হওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। ব্যক্তিত্ব, মানসিক সংযোগ, মনোযোগ, জীবন-অভিজ্ঞতা, সামাজিক ও আর্থিক পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত প্রত্যাশার সমন্বয়ে এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের সম্পর্ককে শুধু বয়স বা ব্যক্তিগত পছন্দ দিয়ে বিচার না করে এর পেছনের পরিস্থিতি ও সম্পর্কের পারস্পরিক আচরণকে বিবেচনা করাই বেশি বাস্তবসম্মত।   সূত্র: ইত্তেফাক, সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিলেশনশিপ থেরাপি, দ্য গার্ডিয়ান

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের ২১ বছর পর নিজের স্ত্রীকে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিলেন স্বামী

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবির নগর জেলায় এক ব্যতিক্রমী পারিবারিক ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২১ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে নিজের স্ত্রীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে তার প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন এক ব্যক্তি। শুধু বিয়ের আয়োজনই নয়, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্ত্রীকে বিদায়ও জানান তিনি।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে পরিবার ও স্থানীয় গ্রামপ্রধানের বরাত দিয়ে জানানো হয়, দেবরি গ্রামের বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী বুদ্ধিরাম নিষাদ এবং ৩৭ বছর বয়সী ফুলমতি প্রায় ২১ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। তাদের সংসারে পাঁচ সন্তান রয়েছে। বড় সন্তানের বয়স ১৮ বছর।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে ২৬ বছর বয়সী অবধেশ নামে এক যুবকের সঙ্গে ফুলমতির পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে এলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত বিরোধ শুরু হয়।   একপর্যায়ে প্রায় দুই মাস আগে ফুলমতি বাড়ি ছেড়ে অবধেশের সঙ্গে চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে তিনি আবার বাড়িতে ফিরে এলেও দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন আর স্বাভাবিক হয়নি। প্রতিদিনের পারিবারিক অশান্তি বাড়তেই থাকে।   পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় বুদ্ধিরাম শেষ পর্যন্ত ভিন্নধর্মী একটি সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, যেহেতু তার স্ত্রী অবধেশের সঙ্গেই জীবন কাটাতে চান, তাই তিনি জোর করে তাকে আটকে রাখতে চাননি। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার আশরাফপুর গ্রামের একটি শিবমন্দিরে ফুলমতি ও অবধেশের বিয়ের আয়োজন করা হয়।   স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পুরো সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বুদ্ধিরাম। বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি নিজেই স্ত্রীকে বিদায় জানান।   সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বুদ্ধিরাম বলেন, ২১ বছর আগে ভালোবেসে সংসার শুরু করলেও এখন তার স্ত্রী আর তার সঙ্গে থাকতে চান না। প্রতিদিনের অশান্তি ও কলহের মধ্যে জীবন কাটানোর পরিবর্তে তিনি এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে সবাই নিজের মতো জীবনযাপন করতে পারেন।   এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বুদ্ধিরামের সিদ্ধান্তকে বাস্তববাদী বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পারিবারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।   তবে এ ঘটনায় কোনো আইনি জটিলতার তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের পুরো প্রক্রিয়া স্থানীয়দের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ পরীক্ষা করে দেখছে ভারত: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য (প্রত্যর্পণ) আনুষ্ঠানিক অনুরোধটি পরীক্ষা করে দেখছে ভারত সরকার। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, আইনি ও অভ্যন্তরীণ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অনুরোধটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি উঠছে বাংলাদেশে। আজ (১৭ এপ্রিল, ২০২৬) সংবাদ সম্মেলনে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "আমরা সমস্ত বিষয়গুলো খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোর অধীনেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।" তবে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা বা টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী দিল্লি। জয়সওয়াল জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যেই বর্তমান সরকারের সাথে গঠনমূলক সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। একদিকে যেমন আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রতার প্রশ্ন। তবে ভারত স্পষ্ট করেছে যে, তারা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করতে চায়। শীঘ্রই দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ নিয়ে সরকারি পর্যায়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০