আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকার, সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি উপলক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা আয়োজন করা হয়েছে। নারী অধিকার, সমতা এবং নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দিতে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও সম্মাননা প্রদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশেষ অবদান রাখা নারীদের অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও ও প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করছে। এ বছর প্রচারাভিযানের মূল বিষয় হলো গিভ টু গেইন, যা নারী-পুরুষের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেয়।
এ বছরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia–কে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা দেওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি Mohammed Shahabuddin এবং প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা বিশ্বের সব নারীর প্রতি শুভেচ্ছা ও সম্মান জানিয়েছেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবে দিবসটি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। বেলা ১১টায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে Shama Obaed–এর। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক Momtaz Banu–কে সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
Dhaka Reporters Unity–এর উদ্যোগে সকাল ১০টায় র্যালির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। রমজান মাসের কারণে অবশিষ্ট অনুষ্ঠান ঈদুল ফিতরের পরে আয়োজন করা হবে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস নারী শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ১৮৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্য, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অমানবিক কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করেন। পরে ১৯০৯ সালে নারী অধিকার নিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী Clara Zetkin প্রতি বছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন।
পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে United Nations ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় এবং বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালনের আহ্বান জানায়। বাংলাদেশে স্বাধীনতার আগে থেকেই ৮ মার্চ পালিত হয়ে আসছে এবং বর্তমানে দেশজুড়ে দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকার, সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি উপলক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা আয়োজন করা হয়েছে। নারী অধিকার, সমতা এবং নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দিতে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও সম্মাননা প্রদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশেষ অবদান রাখা নারীদের অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও ও প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করছে। এ বছর প্রচারাভিযানের মূল বিষয় হলো গিভ টু গেইন, যা নারী-পুরুষের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেয়। এ বছরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia–কে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা দেওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি Mohammed Shahabuddin এবং প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা বিশ্বের সব নারীর প্রতি শুভেচ্ছা ও সম্মান জানিয়েছেন। জাতীয় প্রেসক্লাবে দিবসটি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। বেলা ১১টায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে Shama Obaed–এর। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক Momtaz Banu–কে সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। Dhaka Reporters Unity–এর উদ্যোগে সকাল ১০টায় র্যালির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। রমজান মাসের কারণে অবশিষ্ট অনুষ্ঠান ঈদুল ফিতরের পরে আয়োজন করা হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস নারী শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ১৮৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্য, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অমানবিক কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করেন। পরে ১৯০৯ সালে নারী অধিকার নিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী Clara Zetkin প্রতি বছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে United Nations ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় এবং বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালনের আহ্বান জানায়। বাংলাদেশে স্বাধীনতার আগে থেকেই ৮ মার্চ পালিত হয়ে আসছে এবং বর্তমানে দেশজুড়ে দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে।
কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও বাংলাদেশে এখনো কোনো সংকট দেখা দেয়নি। শনিবার (৭ মার্চ) কুমিল্লা স্টেডিয়াম জিমনেসিয়ামে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি কুমিল্লা জেলা শাখার পরিচিতি সভা, ইফতার ও দোয়ার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, দেশে আগামী এক মাসের চাহিদা পূরণ করার মতো জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী চালানবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এ কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঈদ উপলক্ষে মার্কেটগুলোতে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা না করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন কঠিন সময় পার করছে। তাই বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে সবাইকে হিসাব করে চলতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অপচয় রোধে সচেতন হওয়া জরুরি। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। দেশের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তিনি পেয়েছেন। এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কুমিল্লার মানুষের মুখ উজ্জ্বল করতে পারেন। কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মো. মোস্তাক মিয়া, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সংগঠনের মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া এবং কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল খন্দকার। এছাড়া সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মঞ্জুরুল আলম ভূইয়া মঞ্জুরের পরিচালনায় কুমিল্লার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। আলোচনা শেষে দোকান মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলাল উদ্দিন কুমিল্লা জেলার নবগঠিত কমিটির নেতাদের পরিচয় করিয়ে দেন।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতার প্রভাব এসে পড়েছে দেশেও। রাজধানীজুড়ে পেট্রোল পাম্পে বাড়ছে ভিড়, দেখা দিচ্ছে উদ্বেগ। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির সংকট এড়াতে আগামী রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শুক্রবার রাজধানীর পরীবাগের একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় মজুত ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাত ঘিরে ত্রিমুখী উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এরই প্রভাবে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে, তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুত না করে প্রয়োজন অনুযায়ী কিনতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশের বাজারে তেলের দাম যেন হঠাৎ করে না বাড়ে সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে দাম সমন্বয়ের বিষয়টি দেখা হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে অনেকের প্রশ্ন—রেশনিং পদ্ধতি চালু হলে কীভাবে তেল বিক্রি হবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব কতটা পড়বে?