বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও, উচ্চকক্ষ (Upper House) কীভাবে গঠিত হবে—তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে গণভোট ও সংস্কার কাঠামো অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, অন্যদিকে বিএনপি চাইছে নিম্নকক্ষের আসন অনুপাত অনুযায়ী উচ্চকক্ষের সদস্য নির্ধারণ করতে।
দ্বিকক্ষ সংসদ: নতুন বাস্তবতা - ২০২৬ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ—নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ—প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষে থাকবে ১০০ জন সদস্য। আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এই কক্ষের ভূমিকা থাকবে গুরুত্বপূর্ণ, তবে এককভাবে আইন পাস করার ক্ষমতা থাকবে না। অধিকাংশ বিল দুই কক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে।
গণভোট ও সংস্কার প্রস্তাব: ভোটের ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্ব - জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয়ের মধ্য দিয়ে সাংবিধানিক সংস্কারের পথ সুগম হয়। সংস্কার কাঠামোর মূল প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হবে রাজনৈতিক দলগুলোর মোট প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হারের ভিত্তিতে—যা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত।
গণভোট-পরবর্তী আলোচনাতেও এই ধারণাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে সংসদে জনগণের সামগ্রিক ভোটের প্রতিফলন নিশ্চিত হয়।
বিএনপির অবস্থান: নিম্নকক্ষের আসনসংখ্যার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ - তবে শুরু থেকেই এই পদ্ধতির বিরোধিতা করে আসছে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা। দলটির যুক্তি, উচ্চকক্ষ গঠন হওয়া উচিত নিম্নকক্ষের নির্বাচনী ফল অনুযায়ী, অর্থাৎ সংসদে প্রাপ্ত আসনের সংখ্যার ভিত্তিতে।
বর্তমান নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোয়, তাদের এই অবস্থান আরও জোরালো হয়েছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও দ্বিকক্ষ সংসদের কথা থাকলেও, গঠনপদ্ধতিতে তারা আসনভিত্তিক প্রতিনিধিত্বকেই প্রাধান্য দিয়েছে।
বাস্তব হিসাব: ভোটের অনুপাত বনাম আসনের অনুপাত - নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী—
এই ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠিত হলে একাধিক রাজনৈতিক দল সেখানে প্রতিনিধিত্ব পাবে। তবে যদি নিম্নকক্ষের আসন অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হয়, তাহলে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে, কারণ দলটি ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি আসনে জয়ী হয়েছে।
সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ - রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চকক্ষের গঠনপদ্ধতি নির্ধারণে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার কাঠামো ও নির্বাচনের বাস্তব ফলাফলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। এ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য না হলে সাংবিধানিক জটিলতা ও নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথগ্রহণের দিন নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং পতাকাবাহী গাড়িতে করে শপথস্থলে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তবে শপথ অনুষ্ঠান শেষে তারা একই গাড়িতে নিজ নিজ বাসায় ফিরলেও, সে সময় গাড়িতে কোনো পতাকা থাকবে না। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপদেষ্টাদের শপথ-সংক্রান্ত প্রটোকল ও দায়িত্ব বিষয়ে এ তথ্য জানান। প্রেস সচিব বলেন, উপদেষ্টারা সবাই বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন এবং তারা দেশের গর্বিত সন্তান। দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তারা সর্বোচ্চ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি আরও জানান, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) অভিযোগ করেছেন, তাকে একাধিক অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। সেখানে তিনি কয়েকটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন, যেগুলোতে বিভিন্ন অজ্ঞাত নম্বর থেকে আসা কলের তথ্য দেখা যায়। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ১৩ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুর হুমকি পাচ্ছেন এবং প্রকাশ করা স্ক্রিনশট তার একটি উদাহরণ মাত্র। এ ঘটনায় তিনি তারেক রহমান-কে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তোলেন, এটি কি তাদের ঘোষিত ‘নারীবান্ধব ও নিরাপদ’ বাংলাদেশের চিত্র। পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, প্রত্যেক মুসলমানেরই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত এবং তিনি নিজেও ৩১ জুলাই ২০২৪ থেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত আছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও তার ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে তিনি শাহবাগ থানা-য় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।
ঐতিহ্য ভেঙে এবার এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় এখানেই অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। গতানুগতিক বঙ্গভবনের চার দেয়াল পেরিয়ে কেন এই ঐতিহাসিক স্থানকে বেছে নেওয়া হলো, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। কেন এই স্থানটি এতো তাৎপর্যপূর্ণ? ঐতিহাসিক গুরুত্ব: জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং ‘জুলাই ঘোষণা’ ও ‘জুলাই সনদের’ মতো বিপ্লবের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই প্রাঙ্গণে। আবেগের জায়গা: স্থানটি রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত সংবেদনশীল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এই দক্ষিণ প্লাজা। রাজনৈতিক সদিচ্ছা: আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বিএনপি নিজেই এই স্থানে শপথ অনুষ্ঠানের বিষয়ে তাদের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিতেই এই সিদ্ধান্ত। এক নজরে শপথের সময়সূচী: সকাল ১০:০০টা: নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ। সিইসি এই শপথ পরিচালনা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকাল ১১:৩০টা: বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন। বিকেল ৪:০০টা: নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এক নতুন বাংলাদেশের যাত্রার সাক্ষী হতে যাচ্ছে সংসদ ভবনের এই আঙিনা।