সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হকের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। নিয়োগসংক্রান্ত অন্যান্য শর্ত পৃথক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে, ১০ জনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন ও রেহানা আসিফ আসাদ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এদিকে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
এর আগে বুধবার সকাল ১১টায় নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে তারা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করবেন।
এদিকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গেজেটে বলা হয়, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি এবং তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে এবং প্রশাসনিক ও নীতিগত দায়িত্ব এখন নবগঠিত মন্ত্রিসভার ওপর বর্তাবে। প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের নিয়োগ সংক্রান্ত পৃথক গেজেটেও রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য সদস্যরা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথ সুগম করে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে অবস্থান নেয়।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান–এর শপথ গ্রহণকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। নিরঙ্কুশ নির্বাচনী জয়ের পর দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের শুভেচ্ছা বার্তা দুই দেশের সম্পর্কের সম্ভাব্য নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে অভিনন্দন জানানোয় বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে গুরুত্ব পেয়েছে। খবর প্রকাশ করেছে দ্য ডন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় দুই দশক পর সরকার গঠন করে দলটি নতুন বাস্তবতায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদের অভিনন্দন বার্তা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা তৈরির কূটনৈতিক ইঙ্গিতও বহন করছে। জয়ের পরপরই অভিনন্দনের ঢল শপথের পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং নির্বাচনে বিএনপির ‘নির্ণায়ক বিজয়’-এর প্রশংসা করেন। প্রেসিডেন্ট সচিবালয়ের বার্তায় বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। পৃথক বার্তায় শাহবাজ শরিফ বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে সহযোগিতা বাড়াতে এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে তিনি তার ‘ভাই’ তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষা ব্যক্তিগত উষ্ণতা ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের সম্ভাবনা—দুটিকেই সামনে এনেছে। নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিলেন, যখন দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাত পুনরুদ্ধার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর উত্তরসূরি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–র সন্তান হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট অস্থিরতায় তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন—এই তিনটি বিষয় নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসেন পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’-এর সাক্ষী হতে পেরে পাকিস্তান সম্মানিত। নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য শুভকামনাও জানান তিনি। ঢাকা সফরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পায়। সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বার্তাগুলোতে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, একাডেমিক বিনিময়, যুব উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সহযোগিতা শুধু দ্বিপাক্ষিক নয়, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে ভারত থেকেও তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে, যা নতুন সরকারের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তানের উষ্ণ বার্তা ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা—এই সমীকরণই নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বড় পরীক্ষা হতে পারে। কূটনৈতিক মহলের মতে, শাহবাজ শরিফের ‘ভাই’ সম্বোধন শুধু সৌজন্যমূলক শব্দ নয়; এটি দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক বোঝাপড়া ও কৌশলগত যোগাযোগের ইঙ্গিত বহন করে। এখন দেখার বিষয়—এই কূটনৈতিক উষ্ণতা বাস্তবে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় কতটা প্রতিফলিত হয়।
নতুন সরকার গঠনের পর দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে অফিস করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকেই সচিবালয়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সাজসজ্জা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ের ২ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিভিন্ন কক্ষ ধুয়ে-মুছে পরিস্কার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, সম্মেলন কক্ষ ও করিডোরে চলছে আসবাবপত্র বিন্যাস, নথিপত্র গোছানো এবং কারিগরি সরঞ্জাম পরীক্ষার কাজ। পাশাপাশি পুরো সচিবালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ফুলের টব ও বাগান সাজানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনেই ব্যস্ত কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বুধবার সকাল ১০টায় তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ দপ্তরে প্রথম অফিস করবেন। দুপুর ১টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক এবং বিকেল ৪টায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও বুধবার থেকে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। অনেক মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রীদের বরণে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হবেন এবং চলমান প্রকল্প ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাথমিক ব্রিফিং নেবেন। অধিকাংশ মন্ত্রী গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলেও জানা গেছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এর মাধ্যমে দেশ পরিচালনায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। এক বিশেষ অভিনন্দন বার্তায় চীনা প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদার। তিনি বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৫১ বছরে দুই দেশ সর্বদা একে অপরকে সমানভাবে সম্মান ও গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। চীন সরকার বাংলাদেশের নতুন সরকারকে মসৃণভাবে শাসনব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে পূর্ণ সমর্থন জানায়। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে লি কিয়াং বলেন, দীর্ঘদিনের এই বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিতে এবং উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার মাধ্যমে সকল ক্ষেত্রে বিনিময় বৃদ্ধি করতে চীন প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মিলে দুই দেশের সম্পর্ককে একটি নতুন স্তরে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি, যাতে উভয় দেশের জনগণের জন্য আরও বড় সুফল বয়ে আনা সম্ভব হয়।