যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্নায়ুযুদ্ধের চরম মুহূর্তে ইরান নিলো এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত! জেনেভায় রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাঝেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারের লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ আংশিক বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে তেহরান।
মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ খবর জানায়। তবে দু দেশের মধ্যে কথার লড়াই এখনো চলছে।
তেহরানের উপর চাপ বাড়ানোর জন্য উপসাগরে একটি যুদ্ধ বাহিনী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সমস্যা সমাধানের জন্য তেহরানে ‘শাসক পরিবর্তন’ সবচেয়ে ভালো হতে পারে। জবাবে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মঙ্গলবার বলেছেন, তার সরকার উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।
এমন আবহেই জেনেভায় শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক। ওমানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন ডনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী জ্যারেড কুশনার। ইরানের পক্ষে ছিলেন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে কড়া নিরাপত্তায় অনুষ্ঠিত হয় এ বৈঠক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল মনে করে, ইরান এমন এক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় যা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। তবে ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তথ্য: রয়টার্স।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্নায়ুযুদ্ধের চরম মুহূর্তে ইরান নিলো এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত! জেনেভায় রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাঝেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারের লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ আংশিক বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ খবর জানায়। তবে দু দেশের মধ্যে কথার লড়াই এখনো চলছে। তেহরানের উপর চাপ বাড়ানোর জন্য উপসাগরে একটি যুদ্ধ বাহিনী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সমস্যা সমাধানের জন্য তেহরানে ‘শাসক পরিবর্তন’ সবচেয়ে ভালো হতে পারে। জবাবে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মঙ্গলবার বলেছেন, তার সরকার উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। এমন আবহেই জেনেভায় শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক। ওমানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন ডনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী জ্যারেড কুশনার। ইরানের পক্ষে ছিলেন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। জাতিসংঘে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে কড়া নিরাপত্তায় অনুষ্ঠিত হয় এ বৈঠক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল মনে করে, ইরান এমন এক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় যা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। তবে ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তথ্য: রয়টার্স।
লন্ডনভিত্তিক বৈশ্বিক নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরামর্শক হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের নতুন সূচক প্রকাশ করেছে। আগের তুলনায় বাংলাদেশের পাসপোর্ট দুই ধাপ এগিয়ে ৯৩তম স্থানে অবস্থান করছে। এর আগে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৫তম। সর্বশেষ সূচকে সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, আর তৃতীয় স্থানে সুইডেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সূচকটি নির্ধারণ করা হয় একটি দেশের নাগরিকরা কতগুলো দেশে ভিসা ছাড়া বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যাতায়াত করতে পারেন তার ওপর ভিত্তি করে। বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে ৩৭টি দেশে এ সুবিধা উপভোগ করতে পারেন। ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের পাসপোর্ট শক্তিশালী অবস্থানে আছে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ। পঞ্চম স্থানে যৌথভাবে নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা ও পর্তুগাল। ষষ্ঠ স্থানে আছে হাঙ্গেরি, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া, আর সপ্তম স্থানে অস্ট্রেলিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও যুক্তরাজ্য। এই সূচক বিশ্ব নাগরিকত্বের শক্তি ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগের প্রতিফলন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে।
ইরানের বর্তমান ইসলামি সরকারের পতন এবং পরিবর্তনের দাবিতে গত শনিবার বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ পালিত হয়েছে। নির্বাসিত সাবেক শাহজাদা রেজা পাহলভির আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোতে রাজপথে নেমে আসেন লাখো মানুষ। ‘গ্লোবাল ডে অফ অ্যাকশন’ বা বৈশ্বিক প্রতিবাদ দিবসের এই কর্মসূচিতে মিউনিখ, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং টরন্টোতে জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল জার্মানির মিউনিখ, যেখানে আনুমানিক ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের সমাবেশে ভাষণ দেন রেজা পাহলভি। অন্যদিকে, কানাডার টরন্টোতে রেকর্ড সংখ্যক ৩ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়াও তেল আবিব, লিসবন, সিডনি এবং লন্ডনের মতো শহরগুলোতেও সরকারবিরোধী ছোট-বড় অসংখ্য বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিউনিখে দেওয়া ভাষণে রেজা পাহলভি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিবাজ, দমনমূলক এবং শিশুহত্যাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। দেশের অভ্যন্তরে আন্দোলনরত নাগরিকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন: "দেশের ভেতরে সাহসী ও সংগ্রামী স্বদেশীদের প্রতি আমার প্রথম বার্তা হলো আপনারা একা নন। আজ এই লড়াইয়ে পুরো বিশ্ব আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, একটি মুক্ত ইরানে তারা বিশ্বকে প্রমাণ করে দেবেন তারা কত বড় এবং মহান জাতি। লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন তার কন্যা নুর পাহলভি। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, খুনিদের সাথে যেন কোনো পরমাণু আলোচনা চালিয়ে যাওয়া না হয়। ইরান প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরানে সরকার পরিবর্তন হওয়া হবে "সবচেয়ে ভালো ঘটনা"। রেজা পাহলভি সম্পর্কে তিনি বলেন, পাহলভিকে বেশ অমায়িক মনে হলেও ইরানের অভ্যন্তরে তার নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসমর্থন কতটুকু, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। ইরানের অভ্যন্তরে ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে ১০০টিরও বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নিয়েছে।