যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটাতে মুখ খুলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই চুক্তি কোনো গোপন প্রক্রিয়ায় হয়নি বরং দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিতেই তা সম্পাদিত হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচনের আগেই আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের সাথে কথা বলেছে এবং তারা এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সুতরাং, এটি অন্ধকারে করা হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।"
চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি 'এন্ট্রি' ও 'এক্সিট' ক্লজের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, চুক্তিটি এখনো কার্যকর (নোটিফিকেশন) হয়নি এবং সরকার চাইলে যেকোনো সময় এটি রিভিউ করার সুযোগ রাখে। এছাড়া মাত্র ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পথও খোলা রয়েছে।
ড. রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির ভাষা ও শর্তাবলি ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তির মতোই অভিন্ন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা বাংলাদেশকে কোনো বন্ধ ঘরে ঠেলে দিইনি।"
বাণিজ্যিক সুবিধার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আলোচনা শুরু হয়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর জুলাই মাসে এটি চূড়ান্ত হয়। বিশেষ করে আমেরিকান কটন দিয়ে তৈরি পোশাকে 'জিরো রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ' সুবিধা আদায় বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি বড় বিজয়। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই চুক্তি বর্তমান সরকারের 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতির সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) গঠন করেছে। বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২০ সদস্যের এই কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নিকারে স্থানীয় সরকার, অর্থ, স্বরাষ্ট্র, শিল্প ও আইন মন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়া জনপ্রশাসন, ভূমি, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, সমন্বয় ও সংস্কার, আইন ও বিচার বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিবও কমিটির সদস্য হয়েছেন। নিকার নতুন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তর স্থাপন, পুনর্গঠন এবং নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব বিবেচনা করবে। এছাড়া নতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও থানা গঠন বা স্থাপনের প্রস্তাব এবং সেগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ সম্পর্কিত বিষয়ও কমিটি দেখবে।
নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলায় পাহাড়ের কোলঘেঁষা লেংগুরা ইউনিয়নের গোপালবাড়ি চেংগ্নী গ্রামে জমে উঠেছে ১৮১ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘চেংগ্নী মেলা’। হাজং সম্প্রদায়ের দোলপূজাকে কেন্দ্র করে দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, যুগ যুগ ধরে হাজং সম্প্রদায়ের মানুষ এই পূজার আয়োজন করে আসছেন। সময়ের ধারায় ছোট পরিসরের ধর্মীয় আয়োজনটি আজ একটি বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই মেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থানীয় মানুষের স্মৃতি, বিশ্বাস ও আনন্দের নানা গল্প। এটি এখন কেবল একটি মেলা নয়, বরং এই অঞ্চলের এক জীবন্ত ইতিহাস। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বুধবার (৪ মার্চ) থেকে শুক্রবার (৬ মার্চ) পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী চলবে মূল মেলা। এই মেলা ঘিরে রঙিন আলোকসজ্জা এবং কাপড়ের নান্দনিক সাজসজ্জায় পুরো এলাকা নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে ইতোমধ্যেই রকমারি দোকানপাট নিয়ে বসেছেন দোকানিরা। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মেলার মূল আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাঁশ ও কাঠের তৈরি দৃষ্টিনন্দন গ্রামীণ আসবাবপত্র। নানা ধরনের লোকজ শিল্পকর্ম ও রঙিন তৈজসপত্র। শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলা ও খেলনার দোকান ও সব গ্রামীণ খাবারের পসরা। ময়মনসিংহ থেকে মেলায় আগত দর্শনার্থী দিলোয়ার হোসেন বলেন, পাহাড় ও সবুজ প্রকৃতির অপূর্ব সমন্বয় দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। মেলার প্রাঙ্গণ থেকে দূরে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের নয়নাভিরাম দৃশ্যও উপভোগ করা যায়। কলমাকান্দা সদরের বাসিন্দা শেখ শামীম বলেন, এ মেলা এখন আর শুধু চেংগ্নী গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে সবান্ধবে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কারও কাছে এটি ধর্মীয় অনুভূতির স্থান, কারও কাছে প্রকৃতি উপভোগের সুযোগ, আবার কারও কাছে গ্রামীণ মেলার হারিয়ে যাওয়া আনন্দের স্মৃতি রোমন্থন। মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রণব হাজং বলেন, দোলপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর আয়োজিত এ মেলা এবার ১৮১তম বছরে পদার্পণ করেছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের নিরাপত্তা ও মেলার সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছেন। মামুন রণবীর নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
ইরান আশা করছে, বাংলাদেশ ওআইসি ও জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) সদস্য দেশ হিসেবে ইরানের ওপর আগ্রাসী হামলার সরাসরি নিন্দা জানাবে। বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রত্যাশার কথা জানান ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ এবং একই সঙ্গে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা ও জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন–এর সদস্য। সেই হিসেবে একটি আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি নিন্দা বা প্রতিবাদ জানানো হবে—এমনটাই আমরা প্রত্যাশা করি, বলেন তিনি। জলিল রহিমী জাহানাবাদী দাবি করেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। তাঁর ভাষ্য, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি রয়েছে। আমরা অন্য কোনো দেশের কাছ থেকে লজিস্টিক সহায়তা চাই না। তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু চাই, একটি মুসলিম দেশ আক্রান্ত হলে অন্য মুসলিম দেশগুলো তার প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন প্রকাশ করুক। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রদূত। তবে বর্তমানে কতসংখ্যক বাংলাদেশি ইরানে অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁর কাছে নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত জানান, তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। কোনো ধরনের সহযোগিতা চাওয়া হলে বা বিষয়টি সরকারকে অবহিত করা হলে যথাযথ ও সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা ইরানি বা বিদেশি—এভাবে পার্থক্য করি না। আমাদের দেশে বর্তমানে যারা অবস্থান করছেন, তাঁদের যেকোনো সমস্যায় সমানভাবে সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।