ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ঢাকা-১১ আসনের ফলাফল ও ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে কারচুপি, ভয়ভীতি এবং ফলাফল পরিবর্তনের যে সংস্কৃতি দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি নির্বাচনের দিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেন।
নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন, বাড্ডা আদর্শনগর বিদ্যা নিকেতন কেন্দ্রে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বরকতের অবৈধ প্রবেশ এবং অবস্থান নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভোটের দিন বিভিন্ন গণমাধ্যমের লাইভ প্রতিবেদনে স্পষ্ট দেখা গেছে, অন্য দলের পোলিং এজেন্টদের নির্ধারিত আসনে বসে কিছু ব্যক্তি সরাসরি বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং নাম উচ্চারণ করছিলেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে নাহিদ বলেন, “প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী আমি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলের কাগজে সেই ব্যবধান রহস্যজনকভাবে এবং হঠাৎ করেই কমিয়ে ফেলা হয়েছে। ভোর পাঁচটা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে বলে জোরালো অভিযোগ রয়েছে।” তিনি আরও জানান, বিএনপি প্রার্থীর ক্যাডার বাহিনী বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার ও এজেন্টদের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার সময় যে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছিল, তা ছিল সুপরিকল্পিত।
নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এ ধরণের চাক্ষুষ অনিয়ম ও কারচুপি করে তাঁকে দমানো যাবে না। জনগণের পবিত্র রায়কে যারা প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত জনগণই তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে তরুণ এই নেতার এমন কঠোর অবস্থান বর্তমানে রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
বাংলাদেশের রাজনীতির দুই শীর্ষ মেরুর মধ্যে এক ঐতিহাসিক বৈঠকের সূচনা হয়েছে। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবন ও কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনের নিরঙ্কুশ জয়ের পর দুই নেতার এই সরাসরি সাক্ষাৎকে আগামীর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে জামায়াত আমিরের বাসভবন এলাকায় এক অন্যরকম উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে দুই দলেরই বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক সমবেত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গতকাল শনিবারই বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল যে— বিএনপি প্রধান তারেক রহমান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করবেন। আজ জামায়াত আমিরের সাথে এই বৈঠকের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামো এবং জাতীয় ঐক্যের এক জোরালো বার্তা ফুটে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে। দুই নেতার এই একান্ত আলাপে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আগামী সরকারের গতিপথ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের পদত্যাগ এবং দেশ ছাড়ার খবরটি এখন টক অব দ্য সোশ্যাল মিডিয়া। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তার আকস্মিক বিদেশ যাত্রাকে কেন্দ্র করে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠলেও, অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন তিনি নিজেই। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি তুলে ধরেছেন নেপথ্যের কারণ। বিতর্কের মুখে ফয়েজ আহমদের ব্যাখ্যা: নেদারল্যান্ডস প্রবাসী এই অর্থনীতিবিদ ও গবেষককে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সরগরম ছিল ফেসবুক। নেটিজেনদের একাংশ তার দেশত্যাগকে ‘পালিয়ে যাওয়া’ হিসেবে মন্তব্য করলেও, তিনি বলছেন ভিন্ন কথা। তার দাবি অনুযায়ী, তিনি যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় নিয়েছেন। এমনকি গত ১০ ফেব্রুয়ারি সহকর্মীদের সাথে আনন্দঘন পরিবেশে ডিনার ও গানের মাধ্যমে তাকে বিদায় জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পারিবারিক কারণ নাকি অন্য কিছু? নিজের পোস্টে তিনি দুইটি বিষয়ের অবতারণা করেছেন। একদিকে বলছেন এটি ছিল ‘অফিসিয়াল ফেয়ারওয়েল’, অন্যদিকে বলছেন এটি একটি ‘জরুরি পারিবারিক ছুটি’। সন্তানের স্কুলে মিটিং এবং স্ত্রীর চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরতে হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকার পর এখন তাদের সময় দেওয়াটাকেই তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। অনিয়মের অভিযোগ ও তার অবস্থান: দায়িত্ব পালনকালে ওঠা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়েও তিনি মুখ খুলেছেন। নিজের অবস্থানে অনড় থেকে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দাবি করেছেন, তিনি কোনো ধরনের অন্যায়ের সাথে যুক্ত ছিলেন না। নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব পালনের পরেই তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। গত ৫ মার্চ ২০২৫-এ নিয়োগ পাওয়া এই বিশেষ সহকারীকে নিয়ে তৈরি হওয়া এই ধোঁয়াশা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘গোপন’ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি দলটির রাজনৈতিক কৌশলকে ‘ইহুদি স্টাইল’ এবং ‘মোনাফেকি’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া হুশিয়ারি দেন। রাকিবুল ইসলাম রাকিব তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশে আর কোনো গুপ্ত বা গোপন রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না। জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরের প্রতিটি ইউনিটের কমিটি জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। আমরা যাচাই করে দেখতে চাই—নিজেদের ‘ভিন্ন গ্রহের ফেরেশতা’ দাবি করা এই সংগঠনের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর ব্যক্তিগত বা সামাজিক কোনো সমস্যা আছে কি না।” ছাত্রদল সভাপতি অভিযোগ করেন যে, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী বা সমর্থক ব্যক্তিগত সমস্যায় পড়লে ছাত্রশিবির সুপরিকল্পিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘মব’ তৈরি করে এবং শীর্ষ নেতাদের নামে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেয়। তাঁর দাবি, শিবির সরাসরি সামনে না এসে তাদের ‘বি-টিম’ ও ‘সি-টিম’ ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিএনপিকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে। রাকিব আরও লেখেন, “বিএনপির নেতাকর্মীদের সব দায়ভার দলকে নিতে হলেও, জামায়াত-শিবির তাদের কর্মীদের পরিচয় যুগের পর যুগ গোপন রাখে। এর ফলে তাদের কর্মীরা ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিভিন্ন অপরাধে জড়ালেও দল হিসেবে তাদের কোনো দায় নিতে হয় না। এই ধরনের ইহুদি স্টাইলের ও প্রতারণামূলক রাজনীতির কারণেই দেশের আলেম সমাজ তাদের ‘মুনাফেক’ বলে আখ্যায়িত করে।” দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ‘গুপ্ত’ রাজনীতির অবসান ঘটানোর শপথ নিয়ে রাকিব বলেন, লক্ষ লক্ষ কর্মীকে আড়ালে রেখে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করার এই অপকৌশল আর সহ্য করা হবে না। অচিরেই এই বিষয়ের একটি চূড়ান্ত রাজনৈতিক সুরাহা করা হবে বলেও তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন। ছাত্রদল সভাপতির এই পোস্টটি ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।