ধর্ম

মরক্কোতে মুসলিম শাসনের সূচনা যেভাবে, ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ২৩:৪৮
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো ইসলামি ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো ইসলামি ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ দেশ মরক্কো শুধু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই নয়, ইসলামি ইতিহাস ও সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও সুপরিচিত। আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত দেশটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সভ্যতার উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছে। তবে সপ্তম শতাব্দীতে ইসলামের আগমন মরক্কোর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

 

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, আরবি ভাষায় মরক্কোকে ‘আল-মাগরিব’ বলা হয়, যার অর্থ ‘দূরতম পশ্চিম’। ইসলাম আগমনের আগে এই অঞ্চল বারবার, ফোনেশীয়, রোমান, ভ্যান্ডাল ও বাইজেন্টাইনদের শাসনের অধীনে ছিল। বিশেষ করে বাইজেন্টাইন শাসনের শেষ দিকে স্থানীয় বারবার জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন ও বৈষম্য বেড়ে যায়।

খোলাফায়ে রাশেদার যুগের পর উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা হজরত মুয়াবিয়া (রা.) মুসলিম রাষ্ট্রকে প্রশাসনিকভাবে বিভিন্ন প্রদেশে ভাগ করেন। সে সময় উত্তর আফ্রিকার দায়িত্ব দেওয়া হয় মুসলিম সেনাপতি হজরত উকবা ইবনে নাফে (রা.)-কে এবং মিসরের শাসনভার ছিল হজরত আমর ইবনে আস (রা.)-এর হাতে।

 

ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, রোমান ও বাইজেন্টাইনদের নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে উত্তর আফ্রিকার বারবার জনগোষ্ঠী মুসলিম শাসকদের কাছে সহায়তা চায়। এরপর খলিফা মুয়াবিয়া (রা.) উকবা ইবনে নাফে (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি সুসজ্জিত বাহিনী উত্তর আফ্রিকায় পাঠান।

দীর্ঘ অভিযানের পর ৬৮৩ খ্রিস্টাব্দে উকবা ইবনে নাফে (রা.)-এর নেতৃত্বে মরক্কোতে মুসলিম বাহিনী প্রবেশ করে এবং সেখানে মুসলিম শাসনের সূচনা হয়। এরপর মরক্কো উমাইয়া খিলাফতের অধীনে ইফ্রিকিয়া প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়।

 

ইতিহাসবিদদের মতে, মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর স্থানীয় জনগণকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার কোনো প্রমাণ নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সূত্রে পাওয়া যায় না। বরং মুসলিম প্রশাসনের ন্যায়বিচার, সুশাসন, মানবিক আচরণ এবং ইসলামের সহজ-সরল জীবনব্যবস্থায় আকৃষ্ট হয়ে অনেক বারবার স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেন।

এর ফলে মরক্কোতে ইসলাম দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং বারবার জনগোষ্ঠী মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। পরবর্তী সময়ে উত্তর আফ্রিকা ও আন্দালুসে মুসলিম সভ্যতার বিকাশেও মরক্কোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

মরক্কো শুধু মুসলিম শাসনের জন্যই নয়, জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবেও ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ফেস শহরে ফাতিমা আল-ফিহরি প্রতিষ্ঠা করেন আল-কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়, যাকে বিশ্বের প্রাচীনতম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এছাড়া বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম পর্যটক ও ভ্রমণকারী ইবনে বতুতা-র জন্মও মরক্কোর তাঞ্জিয়ার শহরে। তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণগ্রন্থ ‘আর-রিহলা’ মধ্যযুগীয় বিশ্বের ইতিহাস ও ভূগোল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

বর্তমানেও মরক্কো ইসলামি ঐতিহ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশ হিসেবে পরিচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

ধর্ম

View more
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো ইসলামি ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত
মরক্কোতে মুসলিম শাসনের সূচনা যেভাবে, ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়

উত্তর আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ দেশ মরক্কো শুধু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই নয়, ইসলামি ইতিহাস ও সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও সুপরিচিত। আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত দেশটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সভ্যতার উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছে। তবে সপ্তম শতাব্দীতে ইসলামের আগমন মরক্কোর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।   ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, আরবি ভাষায় মরক্কোকে ‘আল-মাগরিব’ বলা হয়, যার অর্থ ‘দূরতম পশ্চিম’। ইসলাম আগমনের আগে এই অঞ্চল বারবার, ফোনেশীয়, রোমান, ভ্যান্ডাল ও বাইজেন্টাইনদের শাসনের অধীনে ছিল। বিশেষ করে বাইজেন্টাইন শাসনের শেষ দিকে স্থানীয় বারবার জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন ও বৈষম্য বেড়ে যায়। খোলাফায়ে রাশেদার যুগের পর উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা হজরত মুয়াবিয়া (রা.) মুসলিম রাষ্ট্রকে প্রশাসনিকভাবে বিভিন্ন প্রদেশে ভাগ করেন। সে সময় উত্তর আফ্রিকার দায়িত্ব দেওয়া হয় মুসলিম সেনাপতি হজরত উকবা ইবনে নাফে (রা.)-কে এবং মিসরের শাসনভার ছিল হজরত আমর ইবনে আস (রা.)-এর হাতে।   ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, রোমান ও বাইজেন্টাইনদের নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে উত্তর আফ্রিকার বারবার জনগোষ্ঠী মুসলিম শাসকদের কাছে সহায়তা চায়। এরপর খলিফা মুয়াবিয়া (রা.) উকবা ইবনে নাফে (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি সুসজ্জিত বাহিনী উত্তর আফ্রিকায় পাঠান। দীর্ঘ অভিযানের পর ৬৮৩ খ্রিস্টাব্দে উকবা ইবনে নাফে (রা.)-এর নেতৃত্বে মরক্কোতে মুসলিম বাহিনী প্রবেশ করে এবং সেখানে মুসলিম শাসনের সূচনা হয়। এরপর মরক্কো উমাইয়া খিলাফতের অধীনে ইফ্রিকিয়া প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়।   ইতিহাসবিদদের মতে, মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর স্থানীয় জনগণকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার কোনো প্রমাণ নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সূত্রে পাওয়া যায় না। বরং মুসলিম প্রশাসনের ন্যায়বিচার, সুশাসন, মানবিক আচরণ এবং ইসলামের সহজ-সরল জীবনব্যবস্থায় আকৃষ্ট হয়ে অনেক বারবার স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেন। এর ফলে মরক্কোতে ইসলাম দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং বারবার জনগোষ্ঠী মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। পরবর্তী সময়ে উত্তর আফ্রিকা ও আন্দালুসে মুসলিম সভ্যতার বিকাশেও মরক্কোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   মরক্কো শুধু মুসলিম শাসনের জন্যই নয়, জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবেও ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ফেস শহরে ফাতিমা আল-ফিহরি প্রতিষ্ঠা করেন আল-কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়, যাকে বিশ্বের প্রাচীনতম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম পর্যটক ও ভ্রমণকারী ইবনে বতুতা-র জন্মও মরক্কোর তাঞ্জিয়ার শহরে। তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণগ্রন্থ ‘আর-রিহলা’ মধ্যযুগীয় বিশ্বের ইতিহাস ও ভূগোল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।   বর্তমানেও মরক্কো ইসলামি ঐতিহ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশ হিসেবে পরিচিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ২৩:৪৮
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র পাঁচ হাজার মুসলিম, তবু কেপ ভার্দেতে ধীরে ধীরে শক্ত হচ্ছে ইসলামের ভিত্তি

ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীকে ছেড়ে কতদিন প্রবাসে থাকা জায়েজ? যা বলছে ইসলামী শরিয়ত

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে শুটিংয়ের সময় ইসলাম গ্রহণ করলেন হলিউড অভিনেতা

ছবি: সংগৃহীত
ওমান উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ওমানের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হামলার পর জাহাজটি নিরাপদে তার গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে এবং এতে কোনো ক্রু সদস্য আহত হননি।   যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানায়, ওমান উপকূলের পোর্ট বো এলাকার কাছ থেকে প্রায় ছয় নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানকালে ট্যাঙ্কারটিকে লক্ষ্য করে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এটি জাহাজটির সামনের অংশে আঘাত হানে।   যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় জানায়, হামলার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং জাহাজের সকল নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত করে যে, হামলার কারণে সমুদ্রে কোনো তেল বা রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি।   প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ট্যাঙ্কারটি তার নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ঘটনার পর আন্তর্জাতিক নৌ কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি ওই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৯:৪
ফাইল ছবি

খুশির রঙে এলো ঈদুল আজহা, ত্যাগ ও মানবিকতার বার্তায় উদ্‌যাপিত হচ্ছে মুসলিমদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব

আরাফাতের ময়দান সৌদি আরবের জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়ের কাছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালনের সময় প্রার্থনায় মগ্ন হাজিরা। ছবি: এএফপি

আরাফাতের খুতবায় মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের আহ্বান জানালেন ইমাম আল-হুদাইফি

হজ পালনের আগে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর মসজিদুল হারামের কাবার দরজা স্পর্শ করতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মুসল্লিরা। ছবি: রয়টার্স

কাবা শরিফ কেন কালো কাপড়ে ঢাকা থাকে, ভেতরে কী আছে

আরাফার ময়দানে মোনাজাতের দৃশ্য
মক্কা ও মদিনার যে ১০ স্থানে দোয়া কবুল হয়

ইসলামে মক্কা ও মদিনা কেবল ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্থান নয়, বরং ইবাদত ও দোয়া কবুলের বিশেষ বরকতময় নগরী হিসেবে পরিচিত। কোরআন ও হাদিসে এই দুই পবিত্র নগরীর নির্দিষ্ট কিছু স্থান ও সময়ের উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অত্যধিক বলে বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে উল্লেখিত ১০টি বিশেষ স্থান তুলে ধরা হলো-   ১. মসজিদুল হারাম মক্কার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মসজিদুল হারামে এক রাকাত নামাজ অন্য মসজিদে এক লাখ রাকাতের সমান বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। ইবাদতের এই মহা মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দোয়ার গুরুত্বও অত্যধিক। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪০৬)   ২. তাওয়াফের সময় কাবা শরিফকে ঘিরে তাওয়াফের সময় দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে নবীজি (সা.) দোয়া করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৮৯২)   ৩. মুলতাজাম কাবা শরিফের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানকে মুলতাজাম বলা হয়। এখানে নবীজি (সা.) বুক লাগিয়ে দোয়া করেছেন বলে বর্ণিত হয়েছে। সাহাবিরাও এই স্থানে দোয়া করতেন। (বাইহাকি, শুয়াবুল ইমান, হাদিস: ৩৭৬৭)   ৪. সাফা ও মারওয়া হজ ও ওমরাহর গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাফা-মারওয়া সাঈ। নবীজি (সা.) সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে মুখ করে দীর্ঘ দোয়া করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮)   ৫. আরাফার দিন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান হজের অন্যতম প্রধান রুকন। হাদিসে এসেছে, আরাফার দিনের দোয়া সবচেয়ে উত্তম দোয়া। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৮৫)   ৬. মুজদালিফা আরাফাত থেকে ফেরার পর হাজিরা মুজদালিফায় রাত যাপন করেন, যা ‘মাশআরুল হারাম’ নামে পরিচিত। এখানে ফজরের পর দীর্ঘ সময় দোয়া করার বর্ণনা রয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮)   ৭. মিনা প্রান্তর মিনায় জামারাতে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের পর দোয়া করা সুন্নত। নবীজি (সা.) প্রথম ও মধ্যম জামারাতে পাথর নিক্ষেপের পর দীর্ঘক্ষণ দোয়া করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৫২)   ৮. জমজমের পানি জমজম কূপের পানি ইসলামে বরকতময় নেয়ামত হিসেবে বিবেচিত। হাদিসে বলা হয়েছে, জমজম যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, আল্লাহ তা পূরণ করেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩০৬২)   ৯. মাকামে ইবরাহিম কাবা নির্মাণের সময় হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দাঁড়ানোর পাথরকে মাকামে ইবরাহিম বলা হয়। এখানে নামাজ আদায় ও দোয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১২৫)   ১০. রিয়াজুল জান্নাহ ও মসজিদে নববি মদিনায় নবীজি (সা.)-এর রওজা ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানকে রিয়াজুল জান্নাহ বলা হয়, যা বিশেষ ফজিলতের স্থান হিসেবে পরিচিত। পুরো মসজিদে নববিতেই ইবাদত ও দোয়ার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩৩৫)

Unknown প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ১৮:৮
আরাফাতের ময়দানের পাশের জাবাল আল-রাহমাহ বা রহমতের পাহাড়ে হাজিরা। অতিরিক্ত গরমে একটু শীতল পরশ পেতে এ সময় অনেকে পানি ছিটানো পাখার নিচে অবস্থান নেন । ছবি: রয়টার্স

আরাফাতের ময়দানে সমবেত লাখো হাজি, ইবাদত ও দোয়ার মধ্য দিয়ে পালিত হজের সবচেয়ে পবিত্র দিন

ছবি: সংগৃহীত

জিলহজের প্রথম দশ দিনে যেসব আমলে রয়েছে বিশেষ ফজিলত

ছবি: সংগৃহীত

মুখমণ্ডল কি পর্দার অন্তর্ভুক্ত? শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যাখ্যা

0 Comments