পবিত্র হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ‘ওকুফে আরাফাহ’ পালনে মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখিত নয়) সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লি। মিনা থেকে যাত্রা করে তারা আরাফাতে পৌঁছে দিনভর ইবাদত, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মশগুল থাকেন।
সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করছেন। জিলহজ মাসের নবম দিনে ফজরের পর থেকেই তাঁরা নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান নিতে শুরু করেন।
গতকাল মিনায় অবস্থান শেষে হজযাত্রীরা সকালে আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হন। পবিত্র এই প্রান্তরে পৌঁছে তাঁরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইবাদত ও আত্মসমীক্ষায় সময় কাটান। হাজিদের কণ্ঠে বারবার উচ্চারিত হয় তালবিয়া, তাকবির ও দোয়া।
আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকে হজের মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই দিনটিকেই হজের পরিপূর্ণতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ধরা হয়।
দুপুরের দিকে আরাফাতের মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে। এরপর হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে কসর আদায় করবেন, যা হজের বিশেষ একটি বিধান।
হাদিস অনুযায়ী, আরাফাতের দিনে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করেন। এই বিশ্বাস থেকেই হাজিরা দিনটিকে ইবাদত ও প্রার্থনার মাধ্যমে অতিবাহিত করেন।
ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে বিদায় হজের সময় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরাফাতের ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। সেখানে ন্যায়বিচার, মানবসমতা ও পারস্পরিক অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আরাফাতের ময়দানের অন্যতম স্থান ‘জাবাল আর-রাহমাহ’ বা রহমতের পাহাড়, যেখানে বহু হাজি দোয়ার জন্য সমবেত হন। বিশ্বাস করা হয়, এটি আদম ও হাওয়ার পুনর্মিলনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান।
হজযাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা সহায়তা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং জরুরি সেবা।
এ বছর উচ্চ তাপমাত্রার কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের পর্যাপ্ত পানি পান, ছাতা ব্যবহার এবং রোদ এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিয়েছে।
সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তাঁরা মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করবেন এবং রাতটি ইবাদত ও বিশ্রামে কাটাবেন। ফজরের পর শয়তানকে প্রতীকীভাবে পাথর নিক্ষেপের জন্য সাতটি পাথর সংগ্রহ করবেন।
পরবর্তী ধাপে ১০ জিলহজ মিনায় ফিরে কোরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং ইহরাম পরিবর্তনের মাধ্যমে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
ইসলামে মক্কা ও মদিনা কেবল ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্থান নয়, বরং ইবাদত ও দোয়া কবুলের বিশেষ বরকতময় নগরী হিসেবে পরিচিত। কোরআন ও হাদিসে এই দুই পবিত্র নগরীর নির্দিষ্ট কিছু স্থান ও সময়ের উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অত্যধিক বলে বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে উল্লেখিত ১০টি বিশেষ স্থান তুলে ধরা হলো- ১. মসজিদুল হারাম মক্কার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মসজিদুল হারামে এক রাকাত নামাজ অন্য মসজিদে এক লাখ রাকাতের সমান বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। ইবাদতের এই মহা মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দোয়ার গুরুত্বও অত্যধিক। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪০৬) ২. তাওয়াফের সময় কাবা শরিফকে ঘিরে তাওয়াফের সময় দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে নবীজি (সা.) দোয়া করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৮৯২) ৩. মুলতাজাম কাবা শরিফের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানকে মুলতাজাম বলা হয়। এখানে নবীজি (সা.) বুক লাগিয়ে দোয়া করেছেন বলে বর্ণিত হয়েছে। সাহাবিরাও এই স্থানে দোয়া করতেন। (বাইহাকি, শুয়াবুল ইমান, হাদিস: ৩৭৬৭) ৪. সাফা ও মারওয়া হজ ও ওমরাহর গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাফা-মারওয়া সাঈ। নবীজি (সা.) সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে মুখ করে দীর্ঘ দোয়া করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮) ৫. আরাফার দিন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান হজের অন্যতম প্রধান রুকন। হাদিসে এসেছে, আরাফার দিনের দোয়া সবচেয়ে উত্তম দোয়া। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৮৫) ৬. মুজদালিফা আরাফাত থেকে ফেরার পর হাজিরা মুজদালিফায় রাত যাপন করেন, যা ‘মাশআরুল হারাম’ নামে পরিচিত। এখানে ফজরের পর দীর্ঘ সময় দোয়া করার বর্ণনা রয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮) ৭. মিনা প্রান্তর মিনায় জামারাতে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের পর দোয়া করা সুন্নত। নবীজি (সা.) প্রথম ও মধ্যম জামারাতে পাথর নিক্ষেপের পর দীর্ঘক্ষণ দোয়া করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৫২) ৮. জমজমের পানি জমজম কূপের পানি ইসলামে বরকতময় নেয়ামত হিসেবে বিবেচিত। হাদিসে বলা হয়েছে, জমজম যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, আল্লাহ তা পূরণ করেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩০৬২) ৯. মাকামে ইবরাহিম কাবা নির্মাণের সময় হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দাঁড়ানোর পাথরকে মাকামে ইবরাহিম বলা হয়। এখানে নামাজ আদায় ও দোয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১২৫) ১০. রিয়াজুল জান্নাহ ও মসজিদে নববি মদিনায় নবীজি (সা.)-এর রওজা ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানকে রিয়াজুল জান্নাহ বলা হয়, যা বিশেষ ফজিলতের স্থান হিসেবে পরিচিত। পুরো মসজিদে নববিতেই ইবাদত ও দোয়ার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩৩৫)
পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও সমৃদ্ধ করতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সৌদি আরব। মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ (মসজিদুল হারাম) এবং মদিনার মসজিদে নববীতে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক বহুভাষিক ‘ইন্টারক্টিভ স্মার্ট স্ক্রিন’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত এই স্ক্রিনগুলো হজযাত্রীদের ডিজিটাল গাইড হিসেবে কাজ করবে। সৌদি আরবের ‘প্রেসিডেন্সি অফ রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স’ জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো হাজিদের কথা চিন্তা করে এই স্ক্রিনগুলোতে ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ভাষা যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হজযাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় তথ্য, কোরআনের ডিজিটাল সংস্করণ এবং হজের বিভিন্ন নিয়মাবলী সম্পর্কে জানতে পারবেন। স্মার্ট স্ক্রিনের বিশেষত্ব: ১. নির্ভুল নির্দেশনা: হজযাত্রীরা যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে এই স্ক্রিন থেকে সরাসরি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতে পারবেন। ২. সহজ নেভিগেশন: বিশাল এলাকায় হারিয়ে যাওয়া রোধে এবং যাতায়াতের সঠিক পথ খুঁজে পেতে এই ডিজিটাল ম্যাপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ৩. ডিজিটাল লাইব্রেরি: স্ক্রিনগুলোতে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে হাজিরা মোবাইলেই ডাউনলোড করতে পারবেন বিভিন্ন দরকারি ইসলামিক বই ও দোয়া। ৪. নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা: মক্কার নারী প্রার্থনা এলাকাগুলোতেও আলাদাভাবে এই স্মার্ট স্ক্রিনগুলো স্থাপন করা হয়েছে যাতে নারী হজযাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তথ্য সেবা পেতে পারেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে পুরো হজ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তিগত বিপ্লব আনা হয়েছে। এর ফলে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার পাশাপাশি হজযাত্রীরা কোনো সাহায্যকারী ছাড়াই নিজের ভাষায় সবকিছু বুঝে নিতে পারবেন।
স্বামী-স্ত্রীর অধিকার ও পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়ত স্পষ্ট ভারসাম্য রক্ষা করেছে। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, পুত্রবধূর জন্য শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমত করা সরাসরি ‘ফরজ’ বা আইনগত বাধ্যবাধকতা নয় এবং এটি না করলে তিনি গুনাহগার হবেন না। তবে দাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্য ও স্থায়িত্বের স্বার্থে নৈতিক ও দ্বীনী দৃষ্টিকোণ থেকে এই দায়িত্বটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। শরীয়ত অনুযায়ী, বাবা-মায়ের খেদমত ও ভরণ-পোষণের মূল দায়িত্ব সরাসরি সন্তানের (স্বামীর) ওপর বর্তায়। ফলে স্বামী তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক বাবা-মায়ের খেদমতে বাধ্য করতে পারেন না। তবে সুখী দাম্পত্যের ভিত্তি কেবল ‘ফরজ’ বা আইনি মানদণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এটি গড়ে ওঠে পারস্পরিক ত্যাগ ও সহানুভূতির ওপর। স্বামী যেমন স্ত্রীর জন্য অনেক কাজ করেন যা তার ওপর ফরজ নয়, তেমনি স্ত্রীরও উচিত স্বামীর বাবা-মাকে নিজের বাবা-মায়ের মতো সম্মান করা। হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) ও মুফতি মুহাম্মদ আব্দুস সালাম চাটগামীর ফতোয়া অনুযায়ী, মানবিক সহানুভূতি ও উত্তম আচরণের (হুসনে মু‘আশারাত) দাবি হিসেবে পুত্রবধূর উচিত শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা। বিশেষ করে শাশুড়ি ও শ্বশুরের হৃদয় জয় করা দাম্পত্য জীবনের প্রশান্তির অন্যতম চাবিকাঠি। তবে সেই খেদমত অবশ্যই স্ত্রীর সক্ষমতা এবং শরিয়তের সীমানার মধ্যে হতে হবে। একইভাবে সংসারে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে শ্বশুর-শাশুড়িরও বিশেষ ভূমিকা পালনের নির্দেশ রয়েছে। তাদের কর্তব্য হলো পুত্রবধূকে কন্যার মর্যাদা দেওয়া, তাকে সম্মান করা এবং তার সুখ-দুঃখে শরিক হওয়া। উভয় পক্ষ যদি কেবল অধিকারের দাবি না তুলে পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও ত্যাগের মনোভাব পোষণ করে, তবেই একটি সুন্দর ও আদর্শ পরিবার গঠন সম্ভব।