বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল-এর শিক্ষকদের উদ্যোগে পরিচালিত ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ আবেদন গ্রহণ চলছে। সম্পূর্ণ অর্থায়নে পরিচালিত আট সপ্তাহের এই অনলাইন নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীরা অংশ নিতে পারবেন। বিশেষ সুবিধা হলো, এ প্রোগ্রামে আবেদন করতে আইইএলটিএস বা অন্য কোনো ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষার স্কোর বাধ্যতামূলক নয়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকদের উদ্যোগে চালু হয়। এর লক্ষ্য হলো সামাজিক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মেধাবী তরুণদের নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলা এবং নিজ নিজ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তাদের প্রস্তুত করা।
প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এবং মোট আট সপ্তাহব্যাপী পরিচালিত হবে। এতে তিনটি মডিউলের মাধ্যমে নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং বাস্তব দক্ষতা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগে এই কর্মসূচির নাম ছিল ‘ক্রসরোডস ইমার্জিং লিডারস প্রোগ্রাম’।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী সামাজিক বা আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত কিংবা সম্প্রতি এসব ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, এমন শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া আবেদনকারীকে পরিবারের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী হতে হবে।
প্রোগ্রামে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাসে অংশ নেওয়া, বিশ্বমানের একাডেমিক ও ক্যারিয়ার উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ, ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ থাকবে।
এছাড়া উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।
আগ্রহীদের আগামী ১০ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল-এর শিক্ষকদের উদ্যোগে পরিচালিত ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ আবেদন গ্রহণ চলছে। সম্পূর্ণ অর্থায়নে পরিচালিত আট সপ্তাহের এই অনলাইন নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীরা অংশ নিতে পারবেন। বিশেষ সুবিধা হলো, এ প্রোগ্রামে আবেদন করতে আইইএলটিএস বা অন্য কোনো ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষার স্কোর বাধ্যতামূলক নয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকদের উদ্যোগে চালু হয়। এর লক্ষ্য হলো সামাজিক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মেধাবী তরুণদের নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলা এবং নিজ নিজ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তাদের প্রস্তুত করা। প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এবং মোট আট সপ্তাহব্যাপী পরিচালিত হবে। এতে তিনটি মডিউলের মাধ্যমে নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং বাস্তব দক্ষতা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগে এই কর্মসূচির নাম ছিল ‘ক্রসরোডস ইমার্জিং লিডারস প্রোগ্রাম’। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী সামাজিক বা আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত কিংবা সম্প্রতি এসব ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, এমন শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া আবেদনকারীকে পরিবারের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী হতে হবে। প্রোগ্রামে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাসে অংশ নেওয়া, বিশ্বমানের একাডেমিক ও ক্যারিয়ার উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ, ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ থাকবে। এছাড়া উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। আগ্রহীদের আগামী ১০ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণার সুযোগ, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশের কারণে প্রতিবছর লাখো শিক্ষার্থী দেশটিতে পড়াশোনা করতে যান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা পাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এফ-১ ভিসা হলো যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেওয়া একটি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা। স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা ভাষা শিক্ষাকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ভিসাধারীরা সেমিস্টার চলাকালে ক্যাম্পাসের ভেতরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। ছুটির সময় নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগও রয়েছে। কারা আবেদন করতে পারবেন এফ-১ ভিসার জন্য আবেদনকারীর অবশ্যই এসইভিপি অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিত থাকতে হবে। ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠান থেকে ফরম আই-২০ প্রদান করা হয়, যা ভিসা আবেদনের অন্যতম প্রধান নথি। এ ছাড়া আবেদনকারীকে টিউশন ফি, আবাসন এবং অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হয়। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, স্কলারশিপের কাগজপত্র অথবা স্পনসরের আর্থিক নথি সাধারণত এ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় আইইএলটিএস, টোয়েফল অথবা সমমানের পরীক্ষার মাধ্যমে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ চায়। পাশাপাশি আবেদনকারীকে বোঝাতে হয় যে পড়াশোনা শেষ হলে তিনি নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রাখেন। যেভাবে আবেদন করবেন ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আই-২০ ফরম সংগ্রহ করতে হবে। এরপর অনলাইনে SEVIS I-901 ফি পরিশোধ করতে হবে এবং রসিদ সংরক্ষণ করতে হবে। পরবর্তী ধাপে অনলাইনে DS-160 ভিসা আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। সেখানে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ছবি আপলোড করতে হয়। ফরম জমা দেওয়ার পর কনফার্মেশন পেজ সংরক্ষণ করা জরুরি। এরপর যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে ভিসা আবেদন ফি পরিশোধ করে সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ করতে হয়। সাক্ষাৎকারে যেসব কাগজপত্র লাগবে সাক্ষাৎকারের সময় বৈধ পাসপোর্ট, আই-২০ ফরম, ডিএস-১৬০ কনফার্মেশন পেজ, সেভিস ফি পরিশোধের রসিদ, ভিসা ফি রসিদ, পাসপোর্ট আকারের ছবি, শিক্ষাগত সনদ ও নম্বরপত্র, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং প্রয়োজনে স্কলারশিপ বা স্পনসরশিপের কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। সাক্ষাৎকারে কী ধরনের প্রশ্ন করা হয় কনস্যুলার কর্মকর্তা সাধারণত কেন নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় নির্বাচন করেছেন, পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করবেন, পড়াশোনা শেষে কী পরিকল্পনা রয়েছে এবং নিজ দেশে ফেরার কারণ কী, এসব বিষয়ে প্রশ্ন করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সত্য ও সঠিক তথ্য দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মুখস্থ উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে নিজের পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরলে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ভিসা অনুমোদনের পর করণীয় ভিসা অনুমোদনের পর কোর্স শুরুর ৩০ দিনের বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা যায় না। তাই ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর সময়সূচি দেখে টিকিট বুক করা উচিত। একই সঙ্গে আবাসনের ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয়কে আগমনের সম্ভাব্য সময় জানিয়ে রাখা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর দেশটিতে পৌঁছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি প্রয়োজন। এছাড়া পড়াশোনার অংশ হিসেবে কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (সিপিটি) এবং কোর্স শেষ হওয়ার পর অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি)-এর মাধ্যমে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। সাধারণত ওপিটির মেয়াদ ১২ মাস এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে অতিরিক্ত ২৪ মাসের বর্ধিত সুবিধা পেতে পারেন। নতুন ভিসা নীতি নিয়ে যা জানা দরকার সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ভিসা সংক্রান্ত কিছু সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার এফ-১ ভিসার মৌলিক নিয়মে কোনো চূড়ান্ত পরিবর্তন কার্যকর করেনি। ফলে বর্তমানে প্রচলিত আবেদন প্রক্রিয়া, Duration of Status (D/S) ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিদ্যমান নিয়মই বহাল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এফ-১ ভিসার আবেদন আগেভাগে শুরু করা, সব তথ্য নির্ভুলভাবে প্রদান করা, পর্যাপ্ত আর্থিক নথি প্রস্তুত রাখা এবং সাক্ষাৎকারের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়াই ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। পাশাপাশি আবেদনকারীদের সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করা উচিত।
ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ। স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধ বা অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত গ্রাহকদের জন্য সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে যোগ্য ঋণগ্রহীতারা সুদের হারে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত ছাড় পাবেন। মার্কিন শিক্ষা বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন সুবিধাটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে এবং ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধে গ্রাহকদের আরও উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই সুবিধা সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। শুধুমাত্র ২০১২ সালের ১ জুলাই বা তার পর নেওয়া যোগ্য ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের গ্রাহকেরাই অতিরিক্ত সুদ-ছাড়ের আওতায় আসবেন। অটো-পে হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ঋণগ্রহীতার ব্যাংক হিসাব থেকে নির্ধারিত তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তির অর্থ কেটে নেওয়া হয়। ফলে কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব বা ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। একই সঙ্গে ঋণ খেলাপির সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের বোঝা অনেক পরিবারের জন্য বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের চাপের কারণে অনেক গ্রাহক সময়মতো কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় অনেক ঋণগ্রহীতার জন্য আর্থিক স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। মার্কিন শিক্ষা বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, করোনা মহামারির আগে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন গ্রাহকদের প্রায় ৮০ শতাংশ অটো-পে ব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করতেন। তবে মহামারির পর সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বর্তমানে মাত্র প্রায় ৪০ শতাংশ গ্রাহক এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এই হার পুনরায় বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন প্রণোদনা চালু করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, অটো-পে ব্যবস্থায় বেশি মানুষকে যুক্ত করা গেলে ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিকতা বাড়বে এবং প্রশাসনিক ব্যয়ও কমবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যারা ইতোমধ্যে অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত রয়েছেন, তাদের জন্য নতুন করে কোনো আবেদন বা আলাদা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নতুন সুদ-ছাড়ের সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে যারা এখনও অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত নন, তারা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এ ব্যবস্থায় নাম নিবন্ধন করে ভবিষ্যতে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণ খাতে বকেয়া ঋণের পরিমাণ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে ঋণগ্রহীতাদের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সময়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নতুন উদ্যোগ নিয়ে থাকে। সর্বশেষ এই সুদ-ছাড় কর্মসূচিও সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন নীতির ফলে লাখো শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী তাদের ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও আর্থিক সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: মার্কিন শিক্ষা বিভাগের ঘোষণা