অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ ঘিরে পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি আলোচনায় থাকা ইরান নারী ফুটবল দল শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন। মাঠের লড়াই ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের এক নাটকীয় অধ্যায় পেরিয়ে বুধবার তুরস্ক সীমান্ত দিয়ে ইরান–এ প্রবেশ করেন তারা। এ সময় হাজারো মানুষ ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেয়।
অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজিত এশিয়ান কাপে অংশ নিতে গিয়ে দলটি শুরু থেকেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন খেলোয়াড়রা। এমনকি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রবাসী ইরানিদের একটি অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খেলোয়াড়দের অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে শেষ পর্যন্ত তারা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “আমাদের খেলোয়াড়দের প্ররোচিত করে আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তারা সাহসিকতার সঙ্গে দেশে ফিরেছে।”
বুধবার গুরবুলাক-বাজারগান সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরার সময় নারী-শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ তাদের স্বাগত জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংবর্ধনার ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এক বার্তায় বলেন, “এই মেয়েরা মাতৃভূমির সাহসী সন্তান। তারা সব বাধা জয় করে দেশে ফিরেছে।”
তবে দলের সবাই ফিরলেও দুজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে গেছেন। তারা স্থানীয় ক্লাব ব্রিসবেন রোয়ার–এ যোগ দিয়ে অনুশীলন শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানী তেহরান–এর ভালিয়াসর স্কয়ারে ফুটবলারদের জন্য বড় ধরনের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক উত্তেজনার এই সময়ে তাদের দেশে ফেরা ইরান সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ ঘিরে পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি আলোচনায় থাকা ইরান নারী ফুটবল দল শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন। মাঠের লড়াই ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের এক নাটকীয় অধ্যায় পেরিয়ে বুধবার তুরস্ক সীমান্ত দিয়ে ইরান–এ প্রবেশ করেন তারা। এ সময় হাজারো মানুষ ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেয়। অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজিত এশিয়ান কাপে অংশ নিতে গিয়ে দলটি শুরু থেকেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন খেলোয়াড়রা। এমনকি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রবাসী ইরানিদের একটি অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খেলোয়াড়দের অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে শেষ পর্যন্ত তারা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “আমাদের খেলোয়াড়দের প্ররোচিত করে আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তারা সাহসিকতার সঙ্গে দেশে ফিরেছে।” বুধবার গুরবুলাক-বাজারগান সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরার সময় নারী-শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ তাদের স্বাগত জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংবর্ধনার ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এক বার্তায় বলেন, “এই মেয়েরা মাতৃভূমির সাহসী সন্তান। তারা সব বাধা জয় করে দেশে ফিরেছে।” তবে দলের সবাই ফিরলেও দুজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে গেছেন। তারা স্থানীয় ক্লাব ব্রিসবেন রোয়ার–এ যোগ দিয়ে অনুশীলন শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানী তেহরান–এর ভালিয়াসর স্কয়ারে ফুটবলারদের জন্য বড় ধরনের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক উত্তেজনার এই সময়ে তাদের দেশে ফেরা ইরান সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সান্তোসের হয়ে রোববার (১৫ মার্চ) করিন্থিয়াসের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র ম্যাচে মাঠে নামলেও নেইমার জুনিয়র তার চেনা রূপে খেলতে পারেননি। পুরো ম্যাচে উপস্থিত থাকলেও ব্রাজিলিয়ান তারকা তার পরিচিত ছন্দে চোখে পড়েননি। চলতি মাসে ব্রাজিল জাতীয় দল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি আজ সেই দলের ঘোষণার কথা ঘোষণা করবেন। তবে নিজে পারফরম্যান্স ও ফিটনেস নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন নেইমার। ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় দলে ফিরতে ও বিশ্বকাপে খেলতে তাঁর প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি এখন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। নেইমার বলেছেন, “আমি আবারও জাতীয় দলে ফিরতে চাই এবং বিশ্বকাপে খেলতে চাই। কিন্তু সত্যি বলতে, এটি এখন আর আমার হাতে নেই। আমি দলে থাকি বা না থাকি, ব্রাজিলের জন্য আমার সমর্থন সবসময় থাকবে।” কার্লো আনচেলত্তি আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছেন, শতভাগ ফিটনেস ছাড়া কাউকেই বিশ্বকাপের জন্য দলভুক্ত করা হবে না। ইনজুরির কারণে নেইমার গত ম্যাচে খেলতে পারেননি এবং সেই সময় গ্যালারিতে বসেই কোচের কাছ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। করিন্থিয়াসের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নেইমার ছিলেন নিষ্প্রভ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে চোটের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো হয়নি নেইমারের। ক্লাবের হয়ে মাঠে ফিরে আসলেও মাঝেমধ্যে ছোটখাটো চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। ডিসেম্বরে হাঁটুর অস্ত্রোপচার হওয়ায় তার খেলার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে জোড়া গোল করলেও ধারাবাহিকতার অভাবে নেইমারের বিশ্বকাপের ভাগ্য এখন অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে অংশগ্রহণকারী দল ও আয়োজন ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা নিয়ে মুখ খুলেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) চেয়ারম্যান Jay Shah। তিনি বলেছেন, কোনো একক দল নয়—সব দলের সমন্বয়েই আইসিসি গঠিত, তাই কোনো দলই আইসিসির চেয়ে বড় নয়। শনিবার মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত India Business Leader Awards 2026 অনুষ্ঠানে ক্রিকেটে বিশেষ অবদানের জন্য ‘আউটস্ট্যান্ডিং কন্ট্রিবিউশন টু স্পোর্টস’ সম্মাননা পান জয় শাহ। সেখানেই তিনি বিশ্বকাপ আয়োজনের সময়কার চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যের বিষয় তুলে ধরেন। এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে দল পাঠাতে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ সরকার এবং ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করে Bangladesh Cricket Board (বিসিবি)। তবে আইসিসি সে প্রস্তাব গ্রহণ না করে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে। এ ঘটনায় ‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে’ উল্লেখ করে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান সরকার। পরে লাহোরে Pakistan Cricket Board (পিসিবি), বিসিবি ও আইসিসির বৈঠকের পর পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। এই অচলাবস্থার প্রসঙ্গ টেনে জয় শাহ বলেন, “টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অনেকেই আলোচনা করছিলেন—কোন দল খেলবে, টুর্নামেন্ট কীভাবে আয়োজন করা হবে। তবে আইসিসি একটি সমন্বিত সংস্থা; কোনো একক দল সংস্থার চেয়ে বড় নয়।” তিনি আরও জানান, এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দর্শকসংখ্যা আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। একযোগে সর্বোচ্চ প্রায় ৭২ লাখ মানুষ ম্যাচ উপভোগ করেছেন। অনুষ্ঠানে তিনি ভারতীয় দলকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোনোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, “শিখরে পৌঁছাতে বছরের পর বছর সময় লাগে, কিন্তু সেখান থেকে নিচে নামতে সময় লাগে মাত্র কয়েক মাস। তাই কঠোর পরিশ্রম ধরে রাখতে হবে।”